হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৯
তামান্না ইসলাম শিমলা
“এটা কি করলি তুই এলোকেশী? এতদিনতো নিজেকে সামলাতে পেরেছি, কিন্তু এখন কি করব?”
রাতের শেষ প্রহরেও ঘুম নেই তেহরাবের, সারারাত এভাবেই বিছানায় গড়াগড়ি করে কাটিয়েছে। একটা লোক কি করে এতটা পাগল হতে পারে একটি মেয়ের জন্য? এই পাগলামি কি তনয়াকে একটুও অনুভব করায় না তার প্রতি এই তেহরাবের ভালোবাসার গভীরতা।
তেহরাব না পেরে এবার বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল, আয়নার সামরে গিয়ে নিজেকে দেখল। মুচকি মুচকি হাসছে সে, যেন এখনো সে পরে আছে সেই সময়টাই যখন দুজনার অধর এক অপরের মাঝে মিশে ছিল!
“জান এবার কি করব আমি? তোকে যে আরো কাছে পেতে ইচ্ছে করছে, তুইযে আমার নেশা। তুই নামক নেশায় আসক্ত এই তেহরাব সরকার, উহহ জান!”
তেহরাব ছটপট করছে, কি রেখে কি করবে জানা নেই তার। চোখের সামনে বারংবার একই দৃশ্য, ইশ এবার বুঝি সে পাগলই হয়ে যাবে!
ধুপধাপ পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে তানহা, রাগে মাথা গজগজ করছে। সকাল সকাল সুন্দর ঘুমটা নষ্ট করে পড়তে যেতে হচ্ছে, বা*লের পড়ালেখা। তার কাছে পড়াশোনা জিনিসটা বিরক্তিকর।
তানহার ইচ্ছে তো করছে এখুনি কোথায় চলে যেতে, কিন্তু তার কি আর যাওয়ার জায়গা আছে?
হাঠাৎ পথিমধ্যে পথ আটকে দাঁড়ায় এক ছেলে, তানহা ভ্রু কুঁচকায়। ছেলেটাকে সে ভালো মতোই চেনে, কন্ঠে বিরক্ত প্রকাশ করে বলে,
“কি চায়?”
“তোমাকে!”
“ভাই তোরে কত্তবার কইছি বিরক্ত করবি না, তাও একি কাহিনী।”
“আমার কথা তো শোনো……
“রাস্তা ছাঁড় মিয়া, এমনেই মেজাজ চটে আছে তার উপর নাটক শুরু করছে।”
তানহার এহেম কথায় রিদম খপ করে শ্বাস ছাড়ে, মেয়ে তো না যেন এটম বোমা। কথাটাও ভালো মতো বলতে পারে না,
“আরে মাথা খারাপ আপনের, সড়বেন নিহি মানুষ ডাক দিতাম?”
তানহার রাগান্বিত কন্ঠস্বর শুনে রিদম ভরকে গেল, পথ ছেড়ে দিল। তানহা আর অপেক্ষা না করে চলে গেল গটগট করে, তার মেজাজটাও আজ ভালো নেই। থাকবেই বা কি করে? সকাল সকাল দু গালে থাপ্পড় যে পরেছে তার, কিছুটা দূর এসে মতিন মিয়ার চায়ের দোকানে এসে বসে পরল, সম্পর্কে মতিন তানহার চাচাই লাগে। পাড়াপ্রতিবেশি আরকি!
“কিরে এইনে কি? ইস্কুল নাই?”
তানহা একবার মতিনের দিকে তাকিয়ে অন্যদিক ঘুরে বসে,
“এত কথা বলো না তো, ক্লাস দেরি আছে। সবে আটটা বাজে!”
মতিন হাসল, মেয়েটা প্রায়ই দোকানে আসে, বিশেষ করে মন খারাপ থাকলে। ব্যাগটা পাশে রেখে চুপ করে বসে রইল সে, সাথে ভাবতে লাগল সকালের ঘটনা। বিনা দোষে মায়ের হাতে থাপ্পড় খেতে হলো তাকে, শুধু বলেছিল আজ প্রাইভেটে যাবে না তাই বলে মারতে হয়? হুহ।
বাইকের কর্কশ শব্দে ধ্যান ভাঙে তানহার, মাথা ঘুরিয়ে সামনে তাকাতেই চোখ দুটিতে আকস্মিক উজ্জ্বলতা ফুটে উঠে। হ্যাঁ তার সামনে যে তেহরাব, তেহরাব সরকার!
তেহরাব মাথা থেকে হেলমেট খুলে বাইক থেকে নেমে পরল, এসে বসল দোকানের পাশে থাকা একটি ভাঙা খামের উপর,
“চাচা কঢ়া করে চা দাও তো!”
মতিন মিয়া ততক্ষণে চা বানাতে শুরু করে দিয়েছে, এদিকে তেহরাব ফোনে ব্যস্ত। তার আশেপাশে কে আছে তা নিয়ে তার ভাবনা নেই, অথচ তানহাতো হা করে তাকিয়ে আছে তেহরাবের দিকে।
ইশ এই লোকটাকে যে দেখতে সেই প্রেমে পরবে, প্রেমে পরতে বাধ্য৷ এমন সুদর্শন একটি ছেলে তাদের গ্রামে, ইশ ভাবা যায়?
“নাও বাবা তোমার চা!”
মতিন মিয়ার কন্ঠ কানে আসতেই ফোন রেখে চায়ের কাপটা হাত বাড়িয়ে নিয়ে নেই, তখনই আকস্মিক দেখতে পায় তানহাকে। ভ্রু জোরা কুঁচকে যায় তার,
“এই পিচ্চি তুমি এখানে কি করছ? তোমার না প্রাইভেট আছে?”
তেহরাবের কন্ঠে নিজেকে উদ্দেশ্য করা কথা শুনে হকচকিয়ে যায় তানহা, অপর দিকে আপনা আপনি মনটা খুশিতে লাফিয়ে উঠে এই ভেবে যে তেহরাব ভাই তাকে চেনে। তার উপর তার প্রাইভেটের কথাও জানে, ইশ ভাবতেই মনটা নেচে উঠেছে।
এই মেয়ের নিজ মনে হাসি আর আচরণ দেখে তেহরাব চোখ মুখ কুঁচকে নিজের ফোনের দিকে মনোযোগ দেয়, এত কিছু খেয়াল করার সময় বা ইচ্ছা তার নেই।
“আসলে.. হয়েছে কি,, গাড়ি পাচ্ছি না। ভাইয়া আপনি একটু আমাকে নামিয়ে দেবেন?”
হাসি হাসি মুখ করে কথাটা বলে তানহা, তবে তৎক্ষনাৎ জবাব আসে তেহরাবের,
“নাহ!”
তেহরাবের সরাসরি প্রত্যাক্ষানে কিছুটা লজ্জা পেল তানহা, লোকটা এভাবে না করে দিল। তেহরাব ফোন ঘাটছে আর চায়ে চুমুক দিচ্ছে, তানহার দিকে সে আর তাকায় নি।৷ প্রয়োজনও বোধ করেনি!
তানহা কিছু বলতে যাবে তার আগেই তেহরাব চায়ের বিল মিটিয়ে দ্রুত বাইকে উঠে বসে, বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে যায় বালিয়ার রাস্তায়।
তানহার খারাপ লাগল, এত ভাব কেন লোকটা? চোখেন কোনে মৃদু অশ্রু ভাসমান হলো, তবে পরক্ষনেই নিজের মনকে নিজেই শান্তনা দিল এই বলে,
“ভাব আছে বলেই তো তোর ভালো লেগেছে হুহ, এই নাহলে তেহরাব সরকার। পাক্কা রেড ফ্ল্যাগ!”
অতঃপর নিজেও চলে গেল প্রাইভেটের উদ্দেশ্যে, এখানে বসে থেকে আর কিইবা করবে।
তেহরাবের বাইক থামে এক জনবসতহীন এলাকায়, এদিকে মানুষজনের তেমন চলাচল নেই। চারদিকে গাছগাছালি জঙ্গল, বলতে গেলে শুনশান।
একটি পুরোনো হাসপাতাল, অবশ্য এটার কাজ শেষ হয়নি। কয়েক যুগ আগেই এই হাসপাতালের কাজ বন্ধ হয়েছে, তবে এই হাসপাতালটি হলে এই গ্রামের জন্য উপকার হতো। একটি উন্নত গ্রামে পরিনত হতো, আপাতত এই স্থাপনান মালিক এটা দেখিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে টাকা লোন নিয়ে অন্য ব্যবসায় লাগাই।
টানা গোল হয়ে আসা সারিবাই রুম, মাঝ খানে ফাঁকা। সেখানেই বাইক রেখে ভেতরে আসল তেহরাব, বাইকের চাবি আঙুলে ঘুরাতে ঘুরাতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে সে। একটি রুমের সামনে এসে থামল সে, অবশ্য রুমে নেই কোনো দরজা জানালা। সেই কাজটাও তো শেষ হয়নি!
তেহরাব ভেতরে প্রবেশ করল, সবকটা ঘুমে মগ্ন। ফাহিমের কাছে গিয়ে ধাক্কা দিল তেহরাব,
“শা*লা ওঠ!”
ফাহিম টিপটিপ করে চোখ খুলে তেহরাবকে দেখতে পায়, কিছুক্ষণ সময় নিয়ে আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাঁড়ায়৷ পাশে থাকা আরো কয়েকজনকে ডেকে তুলে, কিছু সময়ের মধ্যেই সবাই স্বাভাবিক হয়ে উঠে দাঁড়ায়।
“ভাই ওইযে ওই দুইজন, আমার মনে হয় এরা সোহেলেরই লোক।”
রনির কথা শুনে তেহরাব তাকায় হাত পা বাধাঁ অবস্থায় পরে থাকা দুজন রোগা পাতলা ছেলের দিকে। তেহরাব বিরক্তি নিয়ে ফাহিমকে বলে,
“এদের ব্যবস্থা পরে করছি, গাঁজার প্যাকেট গুলো কোথায়? আর অস্ত্র? “
তেহরাবের কথা শুনে ফাহিম ঘরের এক কোণে পরে থাকা লাল রঙের পুটলিটা খুলে দেয়, তেহরাব সেখানে গিয়ে দাঁড়ায়। কেজি দুয়েকের মতো গাঁজা আর দুটো পিস্তল সাথে কয়েকটি ধারালো অস্ত্র।
ফাহিম উঠে দাঁড়ায়,
“কি করবি এবার?”
তেহরাব ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে থাকে, কি করবে এটাই তো ভাবার বিষয়। কিছু সময় চুপ থেকে বলে,
“ এখন কিছুই করব না, সামনে নির্বাচন। আপাতত ওদের নেতাকে দরকার, তোরা সিউর এরা সোহেলের লোক?”
তেহরাবের প্রশ্নে পাশে থাকা একটি ছেলে তৎক্ষনাৎ জবাব দেয়,
“আমার তাই মনে হয়, কারন ভাই আগের বারেও কিন্তু বিশাল গন্ডগোল করছিল ওরা। অবশ্য তাও জিতবার পারে নাই!”
তেহরাব নিশ্চুপ, আপাতত হিসাব মেলাতে হবে। আন্দাজে কিছু করা যাবে না, এমন সময় তাদের মাজে একজন বলে উঠে,
“ভাই আওয়ামী লীগের পুলাপান গুলা কিন্তু কালকেও ঝামেলা করল, আর এই দুইটারেও কালকেই পাইলাম। ভাগ্যিস কালকে রনি বটতলা গেছিল, নাহয়লে পাইতাম কেমনে!”
জুয়েলের কথায় তেহরাব রনির দিকে তাকায়, ছেলেটা গর্বিত মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না, তেহরাবের প্রশ্নে দ্রুত হাসি মুখটা মলিন হয়ে গেল।
“তুই বটতলা কি করছিলি? আমার জানা মতে ওখানে গাঞ্জাখোররা যায়।”
রনি কি বলবে বুঝতে পারছে না, শুধু মাথা চুলকে বোকা বোকা হাসল। তেহরাব গরম গলায় বলে,
“ নেশা করা ছাড় এবার, অল্প বয়সে বিয়ে করেছিস। বউ পোলাপান নিয়ে ভাব!”
রনি মাথা নিচু করে ফেলে, রিনরিনিয়ে বলে,
“ভাই খাই না বিশ্বাস করেন, ওই মাঝে মাঝে। আর কালকে যদি না যাইতাম তাইলে কব ওগো ধরতে পারতাম?”
তেহরাব ক্ষীণ হাসে, এরা সুধরাবার নয়!
“যায় হোক ফাহিম, তোর বাবাকে কল দে। এখানকার পুলিশদের ভরসা নেই, সত্যি যদি সোহেলদের লোক হয় তবে এদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। আর ভিডিওটা আছে তো?”
ফাহিম মাথা নাড়ে, গত রাতে সবটা ভিডিও করে রেখেছিল। তবে দুজনের এক জনেও জানে না এর পেছনে কে আছে, যতদুর বলেছে কেউ নাকি তাদের দুজনকে ব্যাগ দুটো নিয়ে বটতলায় যেতে বলেছে। আর সেখানে এক লাল গেঞ্জি পরা লোক এসে এগুলো নিয়ে যাবে, এই কাজের জন্য দুজনকে পাঁচ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছে। এখন বাকিটা পুলিশ খুঁজে বের করুক, তবে আর যায়হোক তাদের এলাকায় এসব প্রবেশ করা যাবে না।
“আব্বুকেই আগে জানায় তবে, সেই এখানকার পুলিশদের অর্ডার করবে যা করার।”
তেহরাব মাথা নাড়ে, অতঃপর একটি পিস্তল নিজের হাতে তুলে নেয়।
ফাহিম ভ্রু কুঁচকায়,
“কি করছিস?”
তেহরাব পিস্তলটার আপাদমস্তক দেখে ফিচেল হাসে, অতঃপর ফেলে দেয় আগের যায়গায়।
ফাহিমের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ এই পিস্তলের থেকেও প্রখর শক্তিশালী অস্ত্র আমাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে, উহু! তেহরাব সরকারকে উন্মাদ বানিয়ে ছেড়েছে।”
ফাহিম কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে তাকিয়ে থাকে তেহরাবের দিকে, তেহরাব আরো কিছু বিড়বিড় করতে করতে বেরিয়ে যায়।
সবে মাত্র কলেজে এসেছে তনয়া, দৃষ্টি মেলে খুঁজছে এক চেনা মুখ। তবে ক্লাসে তো দেখা মিলল না, ক্লাস থেকে বেড়িয়ে চলে আসল লাইব্রেরীর দিকে। যাক তার ধারনায় ঠিক, মেয়েটা এখানেই আছে, তনয় দ্রুত এগিয়ে গিয়ে প্রীতির পাশের চেয়ারে বসে।
“এখানে কি করছিস? ক্লাস করবি না?”
তনয়ার প্রশ্ন আদেও প্রীতির কানে গেল কিনা কে জানে, কারন প্রীতি নিশ্চুপ। গভীর ভাবনা বা চিন্তায় মগ্ন সে, আপাতত নিজের অতি প্রিয় বান্ধবীর ফেকাসে মুখটা মোটেও ভালো লাগছে না তনয়ার কাছে।
প্রীতির বাহুতে মৃদু ধাক্কা দিল তনয়া, মেয়েটা হকচকিয়ে উঠল।
“কি হয়েছে তোর? এখানে কি করছিস? কি এত ভাবছিস? “
প্রীতি মনমরা হয়ে বলে,
“নাহ তেমন কিছু না!”
তনয়ার ভ্রু জোরা কুঁচকে যায়, তার বেস্টু তার কাছে কথা লুকাচ্ছে?
“ কিছু না মানে কি? হুহ? বলবি কি না কি হয়েছে?”
প্রীতি কিছু বলার আগেই তার নজর পরে তনয়ার ফোলা ঠোঁটের দিকে, লাল হয়ে আছে। কপাল কুঁচকাল তার, তনয়ার গাল ধরে নিজের দিকে ঘুরাল। ভ্রু কুঁচকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করল,
“তোর ঠোঁটে কি হয়েছে?”
তনয়া নিজের ঠোঁটে হাত দেয়, তার আবার ঠোঁটে কি হবে?
“কই কি হয়েছে?”
প্রীতি কোমরে হাত দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“তোর ঠোঁট ফোলা কেনো? আর এত লালই বা হয়ে আছে কেন?”
তনয়া নিজেও ভ্রু কুঁচকাল, তার ঠোঁট ফোলা? কেন? ভাবতে গিয়ে হঠাৎ মনে পরে যায় গতরাতের কথা, দ্রুত ঠোঁট চেপে ধরে সে। শুকনো ঢোক গিলে নিজেকে নিজে গালি দিতে থাকে, ইশ এটা সে কি করল? কি করে পারল?
গতরাতে সে কেন সাড়া দিল তেহরাবের স্পর্শে? কেন আটকাল না? নিজের উপর প্রচুর রাগ হলো তনয়ার, ছিহ এখন কি বলবে? তাও ভালো তার মা খেয়াল করেনি!
“কি এত ভাবছিস তনু? ঠোঁটে কি হয়েছে? আবারও ইনফেকশন নাকি?”
তনয়া প্রীতির দিকে তাকাল, মেয়েটাকে চিন্তিত দেখাল। ঠোঁট থেকে হাত নামিয়ে বলল,
“হ্যাঁ হয়ত তাই হবে, কালকেও তো ঠিক ছিল!”
তনয়া মৃদু হাসল, প্রীতিও আর কিছু বলল না৷ মেয়েটা বিশ্বাস করেছে বোধহয়!
“আচ্ছা চল ক্লাসে যায়!”
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৮
প্রীতির কথায় তনয়াও সায় জানাই, এখন ইংরেজি ক্লাস। মানে সাহিল স্যারের, তবে ক্লাসে যাওয়ার আগেই নিচ থেকে গন্ডগোলের শব্দ ভেসে আসল তাদের কানে। ক্লাস রুমে না গিয়ে এসে দাঁড়াল বারান্দায়, নিচে কিছু মানুষ গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্যাররাও আছো সেখানে, দুজনেই এদিক ওদিক তাকাল। কিন্তু বিষয়টা বুঝতে পারল না,
“চল নিচে গিয়ে দেখি কি হয়েছে!”
তনয়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই প্রীতি তাকে টানতে টানতে নিচে নিয়ে গেল। এই কলেজে তো তেমন একটা ঝামেলা হয় না, আজ হঠাৎ কি হলো?
