Home হৃদয় রাঙানো প্রেম হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪৬

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪৬

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪৬
সিনথিয়া ইসলাম সীমা

হুমায়রার চেহারায় সিরিয়াস ভাব! সেখানে স্পষ্ট অনুশোচনা আর ভয়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে। কৃশান আরেকদফা ধমকে উঠল,
“ কিরে কথা বলছিস না কেন? ”
“ আসলে……”
মেয়েটার গলায় কথা আটকে যায়। অসম্পূর্ণ বাক্য বিনিময় করতে সক্ষম হয় না। কৃশানের মেজাজ বিগড়ায়। শব্দ করে দুহাতের অস্পর্শ বন্ধনে খাটের সাথে আটকে ধরে হুমায়রা কে। শান্ত অথচ শক্ত কণ্ঠে বলে,
“ ফাজলামো করিস না হুমায়রা। আ’ম ড্যাম সিরিয়াস এবাউট ইউ! ”
সংকীর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় রমণী। ক্ষীণ স্বরে উত্তর করে,

“ আমাকে ক্ষমা করে দিন দয়া করে। আসলে আপনার থেকে দূরত্ব থাকা কালীন আমি একজনের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি! তার নাম……”
কথা সম্পূর্ণ করতে পারেনা সে। পথিমধ্যেই তাকে থামিয়ে দেয় কৃশান। ঠান্ডা কণ্ঠে হুমকি দেয়,
“ হুমায়রা মিথ্যে বলিস না! মেরে ফেলব কিন্তু একদম। ”
“ মিথ্যে নয় আমি সত্যিই তাঁকে ভা…..”
কানের কাছে উচ্চ শব্দে বাক্যটুকু শেষ করতে সক্ষম হলো না হুমায়রা। আঁতকে উঠে পাশে তাকাতেই বুক সুদ্ধ ছেৎ করে উঠল তার। কাজকরা খাটের শক্ত কাঠে সজোরে ঘুষি বসানোর দরুন কৃশানের হাতের প্রতিটা আঙুল ইতিমধ্যে টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করেছে, মনে হচ্ছে আরেকটু হলে চামড়া ভেদ করে যেন রক্ত বের হবে সেখান থেকে! অপ্রত্যাশিত ঘটনায় মেয়েটা চমকে তাকায় মানুষটার মুখপানে। অস্বাভাবিক মুখশ্রী তার, অত্যধিক রাগে কপালের প্রতিটা রগ ভাসমান হয়ে উঠেছে, রক্তচক্ষু জোড়া দৃষ্টিগোচর হতেই খানেক কেঁপে উঠে হুমায়রার শীর্ণ কায়া। বিচলিত সত্তা আপনা আপনিই এসে ছুঁতে নেয় স্বামীর হাত খানা। ওমনিই এক ঝটকায় তার থেকে হাত ছাড়িয়ে নেয় কৃশান। পরপর কোনারূপ কথা বার্তা হীন বিছানা থেকে নেমে সোজা দরজার দিক হাঁটা ধরে। হুমায়রা তব্দা খায়! ব্যস্ত কন্ঠে বলে উঠে,

“ এই এই কোথায় যাচ্ছেন আপনি? সম্পূর্ণ কথাটা তো শুনে যান। আমার ভালোবাসার মানুষের নাম না শুনেই এভাবে ফায়ার হয়ে কোথায় যাচ্ছেন? ”
একটু থেমে কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া না পেয়ে ফের বলল,
“ আমি “ফেরারি মানবের” মাঝে হারিয়েছি। তার লিখার মাঝে আবারও নতুন করে হারিয়েছি আমি! ”
বেপরোয়া গতিতে চলন্ত পদ যুগল এবেলায় এসে থেমে যায় কৃশানের। নিজের অতি গোপনীয় পরিচয় টা রমণীর মুখে শুনতেই তৎক্ষনাৎ পিছু মুড়ে তাকায় সে। ভ্রূ কুঁচকে বলে,

“ কি বললি নামটা? ”
“ ফেরারি মানব ”
কৃশানের চোখ মুখ ছানাবড়া! তার এমন আশ্চর্যিত চেহারা দেখে হাসি পেল হুমায়রার। ঠোঁট চেপে হাসি দমানোর মধ্যেই তার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে বিরক্তি নিয়ে চাইল মানুষটা। ওমনিই খানেক শব্দ করে হেসে ফেলল মেয়েটা। কৃশান ভ্রূ গুটায়। তাঁকে বোকা বানিয়ে এখন হাসছে মেয়েটা! সে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। এতে হাসি আরো খিলখিলে হয় রমণীর! মানুষটাকে এগোতে দেখেও হাসি থামাতে পারেনা সে! তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়না। অকস্মাৎ এক জোড়া পুরু ঠোঁটের আক্রমণে জবান বন্ধ হয়ে যায় মেয়েটার। হাসির তোপে দুলতে থাকা ক্ষীণ দেহটা জমে যায় তৎক্ষনাৎ। কৃশানের গলার কাছের শার্ট টা খাঁমচে ধরে সে।

“ বড্ডো বাড় বেড়িছিস না? তুই যে আমার ক্ষেতের দেশি টমেটো ভুলে গেছিস বোধ হয়? আরেকবার এরকম ফাজলামো করলে একদম সস বানিয়ে ছাড়ব তোকে! ”
খিঁচানো চোখজোড়া আস্তে ধীরে মেলে তাকাল হুমায়রা। এলোমেলো দৃষ্টি নুইয়ে রেখে মিহি স্বরে উত্তর করল,
“ আপনি তো পুরোটা না শুনেই রেগে গেলেন! আবার নিজেকে আঘাতও করে বসলেন! ”
“ তো কি করতাম? নিজেকে আঘাত না করলে যে মেজাজ হারিয়ে আরেকটু হলে তোকেই আঘাত করে বসতাম! ”
“ তো আমাকেই করতেন। মেজাজ তো আমিই বিগড়েছি। ”
“ হু মাথা খারাপ! একটা সময় এই তুলতুলে শরীরটায় আমার শক্ত হাতের আঘাত লেগেছিল- ভাবলেই তো আজো বুক পুড়ে যায়! যদি সময় ফিরিয়ে আনার কোনো উপায় থাকত তবে দুনিয়ার সব নিয়ম অতিক্রম করে হলেও তখনকার ঐ বিদঘুটে সময় টুকু ফিরিয়ে এনে তোকে আঘাতের বদলে আদরে মুড়িয়ে নিতাম আমি! ”
হুমায়রার চোখ বন্ধ। তার চোখে মুখে মানুষটার উষ্ণ অশান্ত নিঃশ্বাস পড়ছে। কপালে কপাল ঠেকিয়ে রেখেছে সে। কিয়ৎক্ষণ চুপ থেকে ফের ধ্বনিত হলো তার কাতর কণ্ঠ,

“ সেদিন গুলোর জন্য আমি বড্ডো স্যরি রে প্রাণপাখি! অগণিত স্যরি !”
হুমায়রা থমকে রয়। শব্দ উচ্চারণ করতে গিয়ে গলা আটকে আসে মেয়েটার। এতোটা সুখও বুঝি সৃষ্টিকর্তা তার নসিবে লিখে রেখেছিল? চোখের কোণে অত্যাধিক সুখের অশ্রুরা ভিড় জমায় ! থেমে থেমে বলে,
“ আপনার দেয়া সুখের কাছে সেই নগণ্য দুঃখরা যে অচিরেই ধুয়ে মুছে গেছে! ”
“ খুব বেশি না, শুধু আমার বেপরোয়া আমি টাকে তুই সবসময়ের মতো আগলে রাখিস। কথা দিচ্ছি- ইনশাআল্লাহ খোদার এই অনিয়মিত বান্দা তোকে ভালোবাসতে কখনো অনিয়ম করবে না! ”
আবেশে হৃদয় জুড়ে যায় হুমায়রার। হাতের বাঁধন খানা আরো দৃঢ় হয়। কৃশানও বেশ শক্ত করে জড়িয়ে রাখে তাঁকে। অতঃপর পারি জমায় নিদ্রারাজ্যে!

পরদিন সকালে,
সূর্যের তীক্ষ্ম রশ্মি ধরণীতে প্রবেশ করেছে মাত্র। চুলোর সামনে দাঁড়িয়ে রুটি বেলছে হুমায়রা। মনটা অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু বেশিই ফুরফুরে মেয়েটার। প্রভাতের সূচনালগ্ন টা আজ হুমায়রা,কৃশান- দুজনেরই নামাজ কালাম দিয়ে শুরু হয়েছে। আজ থেকেই কুরআন তেলাওয়াত শিখা শুরু করে দিয়েছে কৃশান। পড়ার গতি জানান দিচ্ছে অল্প দিনের মধ্যেই তেলওয়াত সম্পূর্ণ শিখে ফেলতে পারবে সে। মাদ্রাসা, মসজিদে না গেলেও ছোট বেলা ইসলাম শিক্ষা বই পড়ে কুরআনের প্রাথমিক বিষয়গুলো (হরফ,হরকত) সম্পর্কে খানেক ধারণা আছে তার। এজন্য শিখাটা আরো সহজ হয়ে উঠেছে।
ইবাদত শেষে আজকেও দুজন ঘুরতে বেরিয়েছিল ঘুমন্ত শহরে। অতঃপর দীর্ঘ বাইক রাইডিং এর পর মাত্রই বাসায় ফিরেছে । নটার দিকে কৃশান বেরিয়ে পড়বে। এখন হুমায়রার সাথে বসে নাস্তা বানানোতে একটু আধটু সাহায্য করছে সে। এই যেমন, আলো ভাজির জন্য পেঁয়াজ, মরিচ, ধনিয়া পাতা কাটছে ছু*রি দিয়ে। কাজের ফাঁকেই সে প্রশ্ন ছুঁড়ল,

“ ফেরারি মানব যে আমার আইডি অর পেজ এটা তুই জানলি কি করে? ”
“ প্রথমে অর্নার সব কান্ড কারখানা বলে হুমায়রা। ঐদিন থেকেই আমার অনেকটা সন্দেহ হয়েছিল। আর পরদিন যখন আপনি বলেছিলেন মামনি আপনাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছে তখন শিউর হয়ে যাই যে ব্লকে থাকা ফেরারি মানবই আমার বখাটে স্বামী! ”
কৃশান মৃদু হাসে। পৃষ্ঠে বলে না কিছুই। হুমায়রা ও মুচকি হাসে। কিছুক্ষণ দুজন নীরব রয়। মিনিট খানেক যেতেই হুমায়রা বলে উঠে,
“ একটা কথা রাখবেন? ”
“ কি কথা? ”
“ ইকরার নাম্বারটা একটু দিন না। ওর সাথে একটু কথা বলতাম। ”
সময় নিয়ে আবদার ছুঁড়ে সে। পৃষ্ঠে শোনা যায় মানুষটার কাটকাট নিষেধাজ্ঞা,
“ দরকার নেই। ”
“ ওর সাথে কথা বললে কি হবে? বাড়ি থেকে বেরোনোর দিন সকালে একটু কথা বলেছিলাম। তখন শরীরের অবস্থা ভালো ছিল না ওর। এরপর থেকে আজো কথা হয়নি। ”

“ কথা না হওয়াই ভালো। ও বাড়ির কারো সাথে যোগাযোগ করতে চাইনা আমি। ওকে ফোন দিলেই বাকিদের কাছেও আমার তথ্য চলে যাবে। আমি ওদের কাছে চিরকাল ফেরারিই (উধাও) থাকতে চাই। ”
“ইকরা কাউকে বলবে না। আমি নিষেধ করে দিব। ”
“ হুমায়রা…! আমি আর কোনো কথা শুনতে চাইনা এ ব্যাপারে। যদি এতকিছুর পরেও আমার কথা না মানিস তাহলে কিছু করার নেই। আর মানলে কখনো আমার সামনে বাড়ির কারো নাম মুখে আনবি না। ”
দমে গেল রমণী। বিরস মুখে কিছুক্ষণ মানুষটার পানে তাকিয়ে থেকে, চুপচাপ কাজে মনযোগ দিল। মুখে আর টু শব্দটি করল না।
খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ করে, হুমায়রার কপালে চুমু এঁকে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ল কৃশান। বারান্দা দিয়ে মানুষটার প্রস্থান দেখে গেল হুমায়রা। পরপর মিঠুকে পাশে রেখে গতকাল রাতে কৃশানের আনা হাদিসের বই গুলো নিয়ে বসল। অতঃপর দিনের বাদ বাকি নিঃসঙ্গ সময়টুকু হাদিসের বই পরেই কাটানোর সিদ্ধান্ত নিল।

ক্যাফেতে কৃশানের পা পড়া মাত্রই তিন বন্ধু একসাথে বলে উঠল,
“ কৃশান মির্জার আগমণ, শুভেচ্ছার স্বাগতম! ”
ওদের কথায় লাপাত্তা থাকে কৃশান। কোনোরূপ কথা বার্তা হীন নিজের কাজে লেগে পড়ে। ফের শুনতে পায় রবির গলা,
“ মামিকে ছেড়ে অবশেষে আসতে পারলি আমাদের কাছে। বউ পেয়ে বন্ধুদের এভাবে ভুলে না গেলেও পারতি মামা! আজ একটা বউ নেই বলে! ”
“ গতকালই তো তোদের কাছে আসলাম। আবার আজকেই এমন নটাংকি শুরু করেছিস কেন? ”
“ হুম তুই বা*** ! আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি ভালো হয়ে গেছি বলে তোকে কিছু বললাম না। সারাদিন পর একটুর জন্য এসেই আবার নটার আগে ফুড়ুৎ! এটাই তোর আসা? আর আমরা যে তোর উপর রাগ করে ছিলাম সেটাও পাত্তা দিলি না?”

“ রুমের জন্য জিনিস পত্র কিনেছিলাম তাই ওখানে সময় লেগেছে। ”
কৃশানের কথার পৃষ্ঠে এবার সাইফুল বলল,
“ আচ্ছা সবই বুঝলাম। কিন্তু মামির সাথে আমাদের দেখা করাবি কবে সেটা বল? ”
“ ওঁর সঙ্গে দেখা করে তোদের কি কাজ? ”
“ কি কাজ মানে? যার উছিলায় জীবনে আজ এতো পরিবর্তন তার সাথে দেখা করব না? ”
“ দরকার নেই। ও কোনো পরপুরুষের সাথে দেখা বা কথা বলবে না। ”
“ আজ আমাদের একটা বউ নেই বলে এমন করতেছিস মামা? খাড়া শুধু বিয়েটা করে নেই। এরপর থেকে আমারও বউ নিয়ে চাঙ্গে উঠে যাব! আপাতত একটা সেড সং লাগা তো সাইফুল! দুঃখ বিলাস করি। ”
রবির অসহায় স্বরে সামান্যতম মায়াও হলো না বোধ হয় কৃশানের। উল্টো সে কড়া কণ্ঠে বলল,
“ কোনো গান নেই। হয়তো নাশিদ নয়তো মিজানুর রহমানের ওয়াজ লাগা। ”
তিন জন একসাথে বিরক্তি নিয়ে তাকায় তার পানে। সেদিকে লক্ষ্য করে না কৃশান। ছেলেগুলো হতাশার নিশ্বাস ত্যাগ করে। পরপর নিজেরাও মন দেয় কাজে।

আলভি বিদেশে ফির গেছে বিয়ের দুমাস পরপরই। এর আগে তাকে দিয়ে কৃশানের যথা সাধ্য খুঁজ করিয়েছে নাজমিন বেগম ও ইয়াসমিন বেগম। এখন আলভি বাড়িতে না থাকলেও সে খুঁজ থেমে নেই। নিজের ভাইকে দিয়ে পুরো কুমিল্লা শহর খুঁজ করাচ্ছেন তিনি। অথচ ছেলের কোনো সন্ধান কোনোভাবেই মিলছে না। সোফায় মলিন মুখে বসে ছিলেন তিনি। এর মাঝেই তার ভাইয়ের কল আসে। ভদ্রমহিলা তৎক্ষনাৎ কল রিসিভ করেন। ব্যস্ত কন্ঠে জানতে চান,
“ ভাইজান কোনো খুঁজ পেয়েছেন কৃশানের? ”
ওপাশ থেকে ভেসে আসে ব্যার্থ কণ্ঠ,
“ না। আমার মনে হয় কৃশান কুমিল্লা তে নেই। অন্য কোথাও চলে গেছে ও। ”
“ আমি এখন কি করে ওকে খুঁজে বের করব ভাইজান? আমার যে বড্ডো অশান্তি লাগছে! ”
“ শান্ত হো। আমি দেখছি কি করা যায়। চিন্তা করিস না তুই। ”

বোনকে সান্ত্বনা দিয়ে কল রেখে দেন তিনি। ইয়াসমিন বেগম সোফায় বসে থাকেন থমথমে মুখে। তখনি সেখানে উপস্থিত হয় জিনিয়া। ছোট শাশুড়ির মুখখানা দেখে খারাপ লাগে। অনুতপ্ত তায় মিইয়ে যায় ভিতর সত্তা। এগিয়ে আসতেই তাকে দেখে গটগট পায়ে স্থান ত্যাগ করেন ইয়াসমিন বেগম। জিনিয়া তার প্রস্থানের দিক তাকিয়ে রয় অপরাধী মুখে। মেয়েটা এখন পুরোপুরি বুঝতে পারে- তার জন্যই এতো সুন্দর পরিবারটায় ভাঙন ধরেছে। আজকাল ইয়াসমিন বেগম নাজমিন বেগমের সাথেও ঠিকমতো কথা বলেন না। নিজের মতো থাকেন। আর জিনিয়ার সাথে তো কেউই কথা বলেনা। নাজমিনও বেগমও তাকে এখন আগের মতো ভালোবাসে না। আপাতত একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে থাকে মেয়েটা। এই নিঃসঙ্গতা তাকে বুঝায়- তার অহংকারই তাকে সবার থেকে দূরে করে দিয়েছে। সে এখন ক্ষণে ক্ষণে অনুতপ্ত হয়। তবে কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগই পায়না। মন থেকে চায়- কৃশান হুমায়রা ফিরে আসুক। বাড়িটা আবারও হাসিখুশি তে পরিপূর্ণ হোক। ওরা এলেই ওদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে সে। আসলে হুমায়রা তার বিপরীত সত্রা হওয়ায় প্রথম দিকে বেশ অসহ্য লাগত তার। সে যতটা স্টাইলিশ, আধুনিক হুমায়রা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এসব কিছু পরিহার করত সে। যার দরুন জিনিয়ার রাগ লাগত মেয়েটাকে। কিন্তু এখন সেই রাগ আর নেই। বরং সে পণ করেছে হুমায়রা কখনো ফিরে এলে তাকে পুরোপুরি নিজের ছোট বোনের মতো আপন করে নেয়ার চেষ্টা করবে। তবে সেই দিন আদৌ আসবে কিনা সন্দেহ।

মাগরিবের সালাত শেষে রুমে বসে তাসবিহ জপছে ইকরা। এর মাঝেই এক গাঁদা ফল নিয়ে রুমে প্রবেশ করেন ফরিদা বেগম। বাচ্চাটা পেটে আসার পর থেকেই ছেলে বউয়ের প্রতি অত্যাধিক যত্নশীল হয়ে গেছেন তিনি। এ কটা মাসে কাজের মধ্যে সামান্য হাত লাগানোরও সুযোগ দেননি মেয়েটাকে। উল্টো নিজের হাতে যত্ন করে সারাদিন এটা ওটা খাইয়ে দেন। প্লেটে বেশ কয়েক রকমের ফল কেটে ইকরার নিকট এগিয়ে আসেন তিনি। বলেন,
“ তোমাকে দেখি না বলে খাওয়ানই যাওয়া! না খেলে ভিতরের সত্তা টার পুষ্টি পাবে কোথা থেকে শুনি? ”
“ সারাদিন তো খেয়েই কাটে আম্মাজান! আর কত খাব? ”
“ এ সময়ে বেশি বেশি খেতে হয়। নয়তো পরে মা – বাচ্চা দুজনেরই অনেক সমস্যা হয়। আর তুমি তো পাখির দানার মতো দু লোকমা ভাত খাও। এগুলো করলে হবে নাকি?
একটু থেমে বলে,
“ তাড়াতাড়ি ফলগুলো খেয়ে শেষ করো। আমি এসে যেন দেখি প্লেট খালি। ”
“ আম্মাজান এখন খেতে পারব না। পেট ভরা। ”
“ আমি কোনো কথা শুনতে চাইনা। ”
বলেই চলে যান তিনি। ইকরা ঠোঁট উল্টে সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। পরপরই তৃপ্তিময় হাসে। মায়ের কথা মনে পড়ে আপনা আপনিই। তবে নিজেকে সামলে নেয় সে। অতঃপর খাওয়ায় মনযোগ দেয়।

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪৫

গতকালের মতো আজো একই সময়ে বাসায় ফিরে কৃশান। সাথে করে হাদিসের বই আর ফুল আনতে ভুলেনা। হুমায়রা অবাক হয়। কিছু বলার আগেই মানুষটা তার কপালে ঠোঁট ছুঁয়ায়। ওমনিই স্থির হয়ে যায় রমণী। কথা বাড়ানোর আর সুযোগ পায়না। অতঃপর নিয়ম মাফিক কাটতে থাকে সময়। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে চলে যায় দিনের পর দিন।

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here