হৃদয়ের সঙ্গোপনে পর্ব ৮
তোয়া নিধী দোয়েল
-শু**বাচ্চা! মেয়ে জাতিকে সম্মান করতে জানস না তাহলে জন্ম নিছস কেনো? যে মেয়ে জাতির গর্ভ থেকে জন্ম নিছস সেই মেয়ে জাতির সম্মানে আঘাত করতে কলিজায় বাধে না? আজ তোর কলিজা আমি বের করে কুত্তা দিয়ে খায়াবো।
তীব্র ক্ষোভ নিয়ে, নিরাময় হাসপাতালের পাশে ব্রিজের উপর এক সুদর্শন পুরুষ,একটা ছেলের পিঠের উপর বসে; চুল ধরে মাথা ব্রিজের সাথে জোরে জোরে আঘাত করছে! ছেলেটার মুখ রক্তাক্ত হয়ে গেছে। রক্ত ছিটকে ছিটকে ছেলেটার মুখে হাত শার্টে লাগছে ;তবু ও সে থামছে না। আশে পাশে মানুষের ভিড় হয়ে গেছে। তবে কারো সাহসে কুলাচ্ছে না ছেলেটা কে ধরার। এখানে সব সময় ট্রাফিক পুলিশ থাকে। কিন্তু আজ তাদের দেখা নেয়। নিরাময়ের পেছনে পুলিশ স্টেশন। কিছু লোক ছুটে গেলো সেই দিকে। মেইন রোডে মারামারি হওয়ার চারপাশে গাড়ির জ্যাম লেগে যায়। আশ পাশ থেকে শব্দ আসছে,
-আল্লাহ্! থামেন। আর মাইরেন না।
তুর্কি বাস থেকে নেমে আশে পাশে নজর বুলিয়ে লোকটাকে খুঁজেতে থাকে। কিন্তু, স্ট্যান্ডের লোকজনদের সবাইকে ছুটতে দেখে। সবাই নিরাময়ের দিকে ছুটছে। স্ট্যান্ড থেকে নিরাময় হাসপাতাল বেশি দূরে নয় তাই সবাই খুব জোরে জোরে হেটে যাচ্ছে। তুর্কি কি হয়েছে তাই দেখার জন্য তাদের পেছন পেছন ছুটে।
ভিড় ঠেলে দুইজন পুলিশ এগিয়ে যায় মারামারির স্থলে। দুইজন-ই পুরুষ টাকে টেনে তোলে। একজন পুলিশ আহত ছেলেটাকে তুলতে গেল। ছেলেটার নিশ্বাসের গতি খুব কম দেখে দ্রুত কয়েকজনের উদ্দেশ্যে বলে একে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে। কিন্তু, ওই ছেলে টি গর্জে উঠে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
-ও-কে যে ধরবে তার হাত আমি ভেঙে দেবো।
ছেলেটার গর্জন শুনে যারা সামনে এগোচ্ছিলো তাঁরা পিছিয়ে যায়। ছেলেটার পাশে থাকা পুলিশটি বলে,
-আপনি পাগল হয়ে গেছেন? কি বলছেন আপনি? একে তো অন্যায় করেরেছেন আবার….
ছেলেটি আগুন দৃষ্টি নিয়ে পুলিশের দিকে তাকিয়ে বলে,
-যেখানে অন্যায় হচ্ছে সেখানে আপনাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আর ন্যায়ের জাগায় বিচার করতে এসেছেন?
-মিঃ মুখ সামলে কথা বলুন। আমরা আইনের লোক। চাইলে আপনাকে এক্ষুণি এরেস্ট করতে পারি।
ছেলেটা ডানে বামে মাথা নাড়ায়। তারপর পুলিশের দিকে শান্ত দৃষ্টি রেখে বলে,
-আই ডোন্ট কেয়ার হো আর ইউ। আই জাস্ট নো দ্যাট ও আর বাঁচতে পারবে না। আর ওকে যে বাঁচাবে আমি তাকে ও ওর মত হাল করবো।
-না মিঃ, আপনি এই রকম কাজ করতে পারেন না। আপনার কোনো রাইট নেই কাউকে এইভাবে মারার।
ছেলেটা পকেট থেকে টিস্যু বের করে হাত থাকা রক্ত মুছতে মুছতে বললো,
– ওর ভাগ্য ভালো আশে পাশে মারার মত কিছু ছিলো না, বিধায় এই ভাবে মেরেছি। থাকলে এর চেয়ে ভয়ংকর অবস্থা করতাম।
তারপর ঘাড় বাঁকিয়ে তাকায় পুলিশের দিকে। দুইজন পুলিশি তার দিকে ভীষণ অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। ছেলেটা হাতের নোংরা টিস্যু আহত ছেলেটার দিকে ছুঁড়ে মেলে বলে,
-যারা মেয়েদের সম্মান করতে জানে না তাদের পৃথিবীতে বেঁচে থেকে কি লাভ? মায়ের জাতি মেয়ে। আমার মতে ওই সব কু*লা*ঙ্গারকে মাটিতে পুঁতে ফেলা উচিত। ওর কপাল ভালো আমি এখনো ওকে পৃথিবীর আলো দেখাচ্ছি। তবে কিছু সময়ের জন্য।
ভিড়ের মধ্যে একটা মেয়েলি কণ্ঠ স্বর ভেসে আসে
-তাহলে আপনাকে কি করা উচিত? আপনি ও তো মেয়েদের সম্মন করতে জানেন না। আর এখানে এসে নাটক করা হচ্ছে?
চেনা কণ্ঠ স্বর কানে পৌঁছানো মাত্র-ই ছেলেটির কপালের রগ গুলো দপ দপ করে উঠে। এই মেয়ে যদি ফের কোনো বাজে কথা বলে আজ এর শেষ দেখে ছাড়বে।
বুকে ব্যাগ শক্ত করে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে এগিয়ে আসে তুর্কি। একজন পুলিশের সামনে গিয়ে বলে,
-এই লোকটা এক নাম্বারের মিথ্যাবাদী। এখানে এসে নাটক করছে। এতক্ষণ এই লোকটা-ই মেয়েদের সম্মানহানি করার চেষ্টা করেছে।
উপস্থিত সবাই হাঁ করে তাকিয়ে থাকে ছেলেটার দিকে। ছেলেটা ঘাড় বাঁকা করে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে তুর্কির দিকে।
-মিঃ, এই মেয়েটা কি বলছে?
-আরে-এ কি বলবে৷ স্যার, আপনি আমার কথা শুনুন। এই লোকটা আস্ত একটা শয়তান। পুরা-ই মাখন ফলের মত। একটু আগে এই লোকটা আমার সম্মানহানী করার চেষ্টা করেছিলো। আর এখানে এসে নাটক করছে। আপনি…আপনি আমাকে বাঁচান।
দুইজন পুলিশ সহ বাকি সব লোকজন ছেলেটার দিকে প্রশ্ন বোধক দৃষ্টিতে তাকায়। ছেলেটা তুর্কির দিকে বাঁকা চোখে তাকায়। তারপর ধীর পায়ে হেটে তুর্কির মুখোমুখি হয়। তুর্কি ঢোক গিলে। ছেলেটা একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বলে,
-কোনো সিংক্রেট করো না। আশে পাশে অনেক লোক আছে।
ছেলেটার শান্ত কণ্ঠে বলা কথা যেনো তুর্কির সাহস একটু বাড়িয়ে দিলো। তুর্কি ছেলেটার দিকে এক পা এগিয়ে গেলো। উচ্চতায় তুর্কি ছেলেটার থেকে অনেক খাটো। ও ঘাড় উঁচিয়ে ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
-সিংক্রেট করবো না মানে! আপনি আমার সাথে অসভ্য-তা করবেন আর আমি চুপ থাকবো?
ছেলেটা চোখ ছোট ছোট করে বলে,
-মাইন্ড ইউর ল্যাঙুইজ।
-কিসের ল্যাঙুয়েজ? নিজেকে খুব সাধু ভাবেন? স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আপনি বাসে আমার সাথে অসভ্য-তা করেছেন। আমার.. আমার কোমড়ে হাত দিছেন।
ছেলেটা রাগে কিরমির করে করে উঠে,
-জাস্ট-সেটাপ। আর একটা ফালতু কথা বলে দেখো
-কি করবেন হ্যাঁ? কি করবেন? আমি এখনি সবাই-কে চিৎকার করে বলবো আপনি আমার সাথে কি করেছেন।
-বাড়া-বাড়ি করো না। ফল ভালো হবে না।
-একশো বার করবো। হাজার বার করবো। প্রশ্নটা যখন আমার সম্মানের তখন আমি চুপ করে থাকবো না। আজ আমার সাথে অসভ্যতা করেছেন কাল অন্য একটা মেয়ের সাথে করবেন। তার পরের দিন অন্য একটা মেয়ের সাথে।
-ওওও, আমি হাত ধরে বসিয়েছি বলে গায়ে আগুন লেগে গেছে? অন্যজন যে কোমড় চেপে ধরলো তাতে খুবই আনন্দ হয়েছে তাইনা?
তুর্কি ঢোক গিলে দুই পা পিছিয়ে গেলো। আমতা আমতা করে বললো,
-এএএএকদম নাটক করবেন না। আমি খুব ভালো করে-ই জানি ওইটা আপনি-ই ছিলেন।
ছেলেটা তুর্কির দিকে মুখ বাড়িয়ে বলে,
-যার জন্য চুরি করলাম সেই বলছে চোর! বাহ্! ডু ইউ নো, হি ওয়েন্টেড টু ইন্সাল্ট ইউর ওনার? তুমি যখন চিৎকার করে উঠলে তখন ব্যাপার টা আমি নোটিশ করেছি। যখন সেকেন্ড টাইম আবারো কাজ টা করতে চেয়েছিলো তখন তোমার পেছন থেকে ওর হাতটা আমি ধরেছিলাম। আর আমার জায়গায় তোমাকে বসিয়ে ছিলাম। যেনো লোকটা-কে শায়েস্তা করতে পারি। আর তুমি কি করলে? আমাকে যা-তা বলে অপমান করলে। অসভ্য, বুড়ো ব্ল্যা ব্ল্যা….।
ছেলেটা চোখ বুঝে কথাটা বললো। এর পর তুর্কির দিকে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকিয়ে বললো,
-ওকেএএ, আমার টাচে যখন তোমার এত খারাপ লেগেছে। আমি যখন তোমাকে টাচ করে-ই ফেলেছি আয় সোয়ার, তোমাকে আর কারও টাচ পেতে দিবো না।
তুর্কি আরো কয়েক পা পিছিয়ে যায়। বোধহয় অনেক বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। আল্লাহ্!
-কি…কি… বলতে চাইছেন?
একজন পুলিশ ছেলেটার দিকে এগিয়ে এসে বলে,
-এখানে কি হচ্ছে একটু বলবেন? এই মেয়েটা যা বলছে তা কি সত্যি?
ছেলেটা মিষ্টি করে হেসে তুর্কির দিকে তাকিয়ে বলে,
-ঘরের যুদ্ধ করে থাক না বেগম সাহেবা। কেনো সেটার হাত পা বেঁধে বাইরে আনছেন?
তুর্কি ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। নিশ্বাসের গতি বেরে যায়। ড্যাপ ড্যাপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
-কী… কী….বোঝাতে চাইছেন?
পুলিশেরা বিরক্ত হয়ে যায় ছেলেটার কার্যকলাপ দেখে। বিরক্ত কণ্ঠে বলে,
-মিঃ হেয়ালি ছাড়ুন। অনেক্ষণ ধরে আপনার এই নাটক দেখে যাচ্ছি। কি বলতে চাইছেন খুলে বলুন। আমাদের অনেক কাজ পরে আছে। আপনাদের নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকলে চলবে না।
-আজ বাসে আসার সময় আমার আর আমার বেগম সাহেবার মধ্যে বাস ভাড়া দেওয়া নিয়ে যুদ্ধ হয়েছে। তাই আমার বেগম রেগে অন্য সিটে বসেছিলো। আর এই শু***।
আমি আর কিছু বলতে চাই না এতে আমার আর আমার বেগম সাহেবার সম্মানহানি হবে। প্লিজ, আপনারা জায়গা ক্লিয়ার করুন। আর এই বেজন্মা কে নিয়ে যান। কিন্তু, কোনো হাসপাতালে যেনো না নেওয়া হয়। সোজা মাটি খুঁড়ে জানাজা দিয়ে টাটা বাই বাই করে দিন।
তারপর তুর্কির দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
-বেগম সাহেবা লেটস গো। উই আর গেটিং লেইট।
লোকটার হাত বাড়ানো দেখে তুর্কি কেঁপে ওঠে। ও যদি সত্যি-টা জানতো তাহলে কোনো দিন ও এই লোকের পেছনে লাগতো না। লোকটার পাশে যে মেয়েটি বসেছিলো সে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে সব দেখছিলো। তাঁর উডবির এই কাজ দেখে চিৎকার করে কিছু বলতে গেলে ছেলেটা এক হাত উচিয়ে থামার নির্দেশ দিলো।
ছেলেটা আবারো বললো,
-ফাস্ট ফাস্ট। যা বলছি তা ভালো মতো করো। তা না হলে এর চেয়ে ভয়ংকর কিছু ঘটে যাবে।
তুর্কির ছোট হৃদয়ে ভয়ে আরো কাঁপতে লাগলো। বেঁচে থাকলে আর কোনো দিন কারো পেছনে লাগবে না। কারো পেছনে লাগা তো দূর ; ও আর এই কলেজেই কখনো পড়বে না। আজ-ই বাড়ি যেয়ে মায়ের সাথে কথা বলতে হবে। তুর্কির সব ভাবনার সুতা এক টানে ছিঁড়ে দেয় লোকটা
-কান্ট হেয়ার?
লোকটা আরো কিছু বলার আগে তুর্কি লোকটার থাবার মত হাতের তালুর উপর ওর ছোট কাঁপা হাতের তালু মিলিয়ে দেয়। লোকটা আলতো স্পর্শ করে ধরে এগোতে থাকে।
-এই শাস্তি টা হচ্ছে আমাকে এতক্ষণ যা-তা বলে অপমান করার জন্য। অসভ্য, বুড়ো ব্ল্যা ব্ল্যা আরও কিছু।
ডোন্ট ওরি বেগম সাহেবা ইটস জাস্ট বিগিনিং।
আমার জেদ সম্পর্কে তোমার ধারণা ও নেই। আমি সহজে ও কোনো বিষয় নিয়ে জেদ ধরি না। কিন্তু, যদি একবার কোনো বিষয় নিয়ে জেদ উঠে, ত্যাড়ামি উঠে, যদি ওই বিষয়ে আমি ভুল ও থাকি কিংবা আমার ক্ষতি হওয়ার আশংকা ও থাকে তবু ও আমি ওই কাজ সম্পূর্ণ করে ছাড়ি।
তুর্কির পা জোড়া অবশ হয়ে আসে। ও আর হাঁটতে পারবে না। এখনি যেনো মাথা ঘুরে পরে যাবে। ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকে। এখনি যেনো ও মাথা ঘুরে পরে যায়; না হয় ওর মৃত্যু হক। কেনো ও এই লোকের পেছনে পড়তে গেলো। লোকটা ভিড় ঠেলে তুর্কিকে সাবধানে বাইরে নিয়ে আসলো। বাইরে আসতেই ওই মেয়েটা থাবা দিয়ে ধরলো
-রাজ আর ইউ ক্রেজি? তুই তুই এটা করলি?
লোকটা তুর্কির হাত ছেড়ে দিয়ে বললো,
-ওয়াটার বটল টা দে।
-রাজ।
-কিছু বলেছি বোধহয়?
মেয়েটা আর কোনো কথা না বাড়িয়ে ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে দেয়। লোকটা যে হাত দিয়ে তুর্কির হাত ধরেছিলো সেই হাত তুর্কির মুখ বরাবর নিয়ে পানি ঢেলে ধুয়ে নেয়। তারপর বোতল ফালিয়ে দিয়ে একটা রিকশা ডেকে এনে তুর্কির কে উঠিয়ে দেয়। রিকশা ছাড়ার আগে তুর্কিকে বলে দেয়,
– মাই আইস উইল আলোয়েস বি অন ইউ। ওকে। বায়!
রিকশা চলে যেতে মেয়েটা বলে,
-রাজ, তুই এটা করতে পারোছ না। তুই তুই জানিস তুই কি করেছিস?
রাজ নামে ছেলেটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে ,
-ইয়েস আই নো হোয়াট আই ডিড। মেয়েটা টিনিজার। বুদ্ধি কম। নিজের সম্মান নিজে উড়াচ্ছিলো। ওই খানে অনেক মানুষ ছিলো ওখানে। আর আমাদের সমাজ ভিন্ন। ভিন্ন তাদের চিন্তা ভাবনা। যখনি জানবে, মেয়েটা কোনো হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়েছে; তখন তাঁর হয়ে প্রতিবাদ না করে তাকে ছি ছি ধিক্কার জানাবে। অন্য নিজরে দেখবে। কেউ কেউ অপবাদ ও দিবে।পক্ষান্তরে অপরাধী শাস্তি পাবে না। যার ফলে সে এই রকম কাজ বার বার করবে। হ্যাঁ(শব্দ করে শ্বাস ছেড়ে) তাই তাদেকে তাদের ভাষা দিয়ে বুঝিয়ে দিলাম। আর মেয়েটাকে বাঁচিয়ে দিলাম।
-হ্যাঁ, বুঝলাম। কিন্তু তুই ওকে ওই নামে কেনো ডাকছিলি?
মৃদু হেসে ছেলেটা জবাব দেয়
-এই ভাবেই তো বাঁচালাম। যখন তারা ধারণা করে নিলো মেয়েটা আমার ওয়াইফ; তখন তাদের আর কোনো অভিযোগ রইলো না এই বিষয় নিয়ে। বরং পাপী কে শাস্তি পেতে দিলো। আই থিংক দিস ইস এনাফ ফর ইউ টু আন্ডারস্ট্যান্ড দ্যা হোল স্টোরি। প্লিজ লিভ মি এলং।
-রাজ।
-প্লিজ।
হৃদয়ের সঙ্গোপনে পর্ব ৭
বাড়ি এসে তুর্কি ব্যাগ ফেলে জগ থেকে পানি ঢেলে ঢকঢক করে খায়। ওর সারা শরীর কাঁপছে। আল্লাহ্! কেনো ও লোকটার পেছনে লাগতে গেলো। তখন তাহলে লোকটা কোনো সুযোগ নিতে ওর পেছনে হাত দেয় নি। ওই আগন্তুকের হাত ধরার জন্য পেছনে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো। ইসসস! ও যদি এটা বুঝতো তাহলে কোনো দিন ও এই রকম করতো না। ও পায়চারী করতে করতে ভাবে, লোকটা ওর সম্মান বাঁচিয়েছে ঠিকই কিন্তু, ও যে অপমান গুলো করেছে তার প্রতিশোধ ঠিক-ই নিবে। এর থেকে বাঁচার উপায় কি? মানিকগঞ্জ তো ভুলে ও আর যাওয়া যাবে না। যদি আবার কোনো ভাবে দেখা হয়ে যায় ওই লোকটার সাথে। না কিছুতেই না। ও নখ কামড়াতে কামড়াতে ভাবতে থাকে কিছু একটা প্ল্যান তো বের করতে-ই হবে। এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য।
