৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪২
সারা চৌধুরী
শুভ্র গিয়ে দরজা খুলতেই দেখে অন্তু দাঁড়িয়ে আছে।শুভ্র ইশারায় ভ্রু নাচাতেই অন্তু বলে উঠলো আব্বু আর চাচ্চু বাসাই এসেছে। আপনাকে এক্ষুনি নিচে যেতে বলেছে।
-“আচ্ছা যাচ্ছি তুমি যাও..!
-“আচ্ছা ছোট ভাইয়া..!
অন্তু চলে গেলো শুভ্র আবার ভিতরে এসে দরজা আটকে সারার কাছে চলে এলো।সারা বিছানার কিনারে বসে পা দোলাচ্ছে।শুভ্র সারার পাশে এসে বসলো সারা শুভ্রর দিকে তাকালে শুভ্র সারার মুখশ্রী নিজের দু হাতের আজলায় এনে কপালে একটা হভীর চুমু খাই তারপর বলে উঠে…
-“পিচ্চি পাখি আমি চাইনা এসব কারনে তুমি আরো অসুস্থ হয়ে যাও।আমি আজ এই সমস্যার সমাধান করে ফেলবো..!
-“কোন সমস্যা…?
-“আব্বু আর চাচ্চু ফিরেছে এখন কি হবে আশা করি তুমি জানো..?
-“একটা সত্যি কথা বলবেন..?
-“হুম বলো…?
-“অহনা আপুকি আসলেই আপনার স্ত্রী,, আর অরু তো আপনার মেয়ে..?
-“তোমার কি মনে হয়…?
-“আমাকে তো অরুলে দেখার জন্যই এত টাকা খরচ করে কিনে এনেছিলেন আপনি কিন্তু..
শুভ্র সারার মুখে হাত চেপে ধরে।মুহুর্তেই মুখের ভাব ভঙি বদলে গেছে ছেলেটার।শুভ্র নিজের হাসি মুখ খানা গম্ভীর করলো মুহুর্তেই তার পর গম্ভীর শান্ত কন্ঠে বললো…
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
-“আমি যেনো আর কোনোদিন না শুনি আমি তোমাকে কিনে এনেছি, ইউ আর মাই ওয়াইফ,, মাই অনলি মাইন,, আর বউকে কেনা যায় না।
শুভ্রর এমন কন্ঠের সাথে সারা পরিচিত না।সারার শরীরের পশম গুলো দাঁড়িয়ে যায়।যেনো হীম শীতল ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেলো ভিতর দিয়ে।সারা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে উঠলো..
-“কিন্তু..?
-“কি কিন্তু..এটাই বলবে যে আমি তো অরুকে দেখার জন্য এসেছিলাম তাহলে অরুর আম্মু ফিরেছে এখন আমার কি হবে..?
শুভ্রর কন্ঠ শুনে সারা চমকায় কেমন জানি শোনাচ্ছে কন্ঠটা।সারার গলা দিয়ে শব্দ বেরোচ্ছে না।সারা মাথা নাড়িয়ে হ্যা সুচক উত্তর দেই।শুভ্র ঠিক সারার মুখোমুখি হয়ে শান্ত দৃষ্টিতে সারার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে..
-“এখন কিছু বলবো না তবে সব জানতে পারবে আজ,,আর শুনো তুমাকে আমার প্রোয়োজন,, এই আমার অবাধ্য হৃদয়ানুভুতি সামলানোর জন্য তোমাকে প্রয়োজন। সো পিচভি পাখি এসব চিন্তা ভুলে যাও। আব্বুরা নিচে এসেছে নিচে চলো।
ফারুক তালুকদার আর আনিস তালুকদার বাড়িতে ফিরে কোনো মতে ফ্রেশ হয়েছে।তার বসে পড়েছে ড্রগিং রুমে সোফাই।সব সমাধান না করে এক মুঠো খাবার মুখে তুলবেন না।সারা রাস্তা চিন্তায় মগ্ন ছিলো দুই ভাই।ছেলে মেয়েদের এমন অবস্থায় নিজেদের গলা দিয়ে খাবার নামবে না।
আনিতা বেগম আর সুমনা বেগম খাবার ডাইনিং এ সাজিয়ে কড়া লিকারের চা করে সোফার সামনে টি টেবিল এ দিয়ে গেলো দুই ভাইয়ের দুই কাপ।তারপর পর্দার আড়ালে চলে গেলো।যদিও তারা সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে তবে বাইরে দাঁড়িয়ে রইলো।অন্তু কে আনিশাকে তাদের নিকেদের চকলেট এর ব্যাগ দিয়ে রুমে পাঠিয়ে দিয়েছে। ছোট দের এখানে না থাকাই ভালো।দুই মামার বাড়ি ফেরার কথা শুনে শ্রাবন ও উঠে এসেছে বিছানা থেকে।অর্ক আর ফাতিহা অনেক্ষন আগেই সোফাই এসে বসেছে।অর্ক ফারুক আর আনিস কে সালাম করে ভালো মন্দ জিজ্ঞাসা করলো।একটু পর শ্রাবন অহনা ও এলো।আনিতা বেগম অহনাকে এনেছে।
অহনা ফারুক আর আনিসের পা ছিয়ে সালাম করলো।ফারুক তালুকদার একবার মুখ উচিয়ে অহনার দিকে চেয়ে তারপর শ্রাবন কে বসতে বললো।অহনা এক কর্নারে দাঁড়িয়ে আছে পাশে আনিতা আর সুমনা একটু পর শুভ্র আর সারা ও এলো।সারাকে দেখে অর্কের মন খুশি হয়ে গেলো।সাথে আনিস তালুকদার এর ও।ফারুক তালুকদার ও হেসে বুকে জড়িয়ে নিলো সারাকে।
ফারুক তালুকদার সবার দিকে একবার তাকিয়ে হাতে থাকা চায়ের কাপে একটা চুমুক দেই তার পর গলা ঝাড়া দিয়ে বলে উঠে…
-“আমি যা বলবো বা কি বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে সবাই অবগত এখানে যা হবে যা হওয়ার সবার সম্পুর্ন মতামত নেওয়ার পর ই হবে আমার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেও কোনো সাউন্ড করবা না। আমি শেষ করবো তোমরা তখন বলবা।
সবার মাঝে নিরবতা বয়ে গেলো। ফারুক তালুকদার নিজের গম্ভীর্য বজায় রেখে অহনার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো…
-“অহনা…?
অহনা চমকালো,, সাথে সাথে কাপা কাপা কন্ঠে উত্তর দিলো..
-“জ্বি..!
-“শুনো মেয়ে আমি যা বলি,, তুমি এখানে কি কারনে এসেছ,, সব আমি শুনেছি,, আর কি জন্য এসেছ সেটাও শুনেছি তাও একবার শুনতে চাই তোমার মুখে বলো..?
অহনা কেপে উঠলো কি বলবে সে..অহনা চুপ করে রইলো মুখ দিয়ে কথা বের হিচ্ছে না।অহনাকে চুও থাকতে দেখে ফারুক বলে উঠলো…
-“আমি তুমার কথা গুলো শুনবো তার আগে তোমার কিছু ভুল ধারনা ধরিয়ে দেই যদিও তুমি এগুলায় অবগত..
প্রথমত তুমি ভেবেছো আমরা তোমাকে রেখেছি যাতে তুমি পুলিশে না বলো নইতো আমাদের ঝামেলা হবে,, তো মেয়ে শোনো পুলিশে বললে তুমি ফেসে যেতে যদি বলো কেনো আমি বলবো তুমি আন্দাজে প্রমান ছাড়া কথা বলছো।
দ্বিতীয়ত তুমি ভেবেছো মিথ্যা বলে হলেও আমার নাতনিকে নিয়ে যেতে পারবে তাহলে তুমি ভুল,, এই আমি নিজ হাতে এত বড় পরিবার সামলাই আর তুমি আমাকে বোকা বানাতে বা মিথ্যা কিছু বুজাতে পারবে না।
তৃতিয়ত তুমি কারোর সংসার ভাঙতে চাইলেও ভুল ভাবছো,, ভাঙা অনেক দুরের বিষয় আগে সে পর্যন্ত নদীর পানি গড়িয়ে যাক।
এটুকু বলে ফারুক তালুকদার থামে তার পর শুভ্রর দিকে একবার তাকায় তারপর শান্ত দৃষ্টি ফেলে সবার দিকে তাকায়।স্রাবন এর মাথা খারাপ লাগছে আজ হবে ভাবতে পারছে না যদি শুভ্রর সাথে অহনার মিলন হয়ে যায় কিভাবে সইবে সে।ফারুক তালুকদার ঠান্ডা মাথাই বললো..
-“শুভ্র আর অহনা পুরো ঘটনাটা তোমাদের দুজন আর আমাদের দাদুভাই অরুকে নিয়ে। তো এখন আমি চাই তোমরা সত্যি টা বলে সব ক্লিয়ার করে দাও আমার কষ্ট করে ক্লিয়ার করতে হলে এর মাশুল দিতে হবে তোমাদের এখোনো সময় আছে।ফারুক তালুকদার এর শান্ত কন্ঠেও কেপে উঠে পুরো পরিবার।
ফারুক তালুকদার অহনার দিকে তাকাতেই অহনা কেদে ফেলে,,সবাই অহনার দিকে দৃষ্টি ফেললে.. অহনা কাদতে কাদতে ফারুক তালুকদার কে বলে…
-“আমি কিছু চাচ্ছি না শুধু আমার মেয়েকে দিয়ে দেন আমি চলে যাবো আপনাদের সংসারে আমি কোনো ঝামেলা করবো না প্লিজ আমার মেয়েটাকে দিয়ে দেন।
-“বাচ্চার বাবা কে…? শুভ্র তো..? (ফারুক তালুকদার চোখ টেরা করে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন)-
এই প্রশ্নটার জন্য যেনো অহনা প্রস্তুত ছিলো না।এদিকে সবাই অপেক্ষা করছে। সারার মন খারাপ হয়ে গেলো বাচ্চার বাবা শুভ্র শুনে।অর্ক বুঝলো তার বোনের মনের অবস্থা তবে এখন করার কিছু নেই।শুভ্র অহনার মুখের দিকে চেয়ে আছে উত্তর শোনার জন্য। শুধু শুভ্র না বাড়ির সকলে চেয়ে আছে অহনার দিকে। শ্রাবন ও তাকিয়ে আছে অহনার দিকে।শ্রাবনের চোখ লাল। রাগে নাকি কষ্টে জানেনা।
ফারুক তালুকদার বলার জন্য অহনাকে তাড়া দিতেই অহনা কেদে উঠে আবারো বলে…
-“প্লিজ আমার মেয়েটাকে দিয়ে দেন আমি চলে যাচ্ছি।
এবার ফারুক তালুকদার রেগে গেলো কঠিন কন্ঠে এক টা ধমক দিয়ে বলে উঠলো…
-“এই মেয়ে সমস্যা কি বাচ্চার বাবা শুভ্র হলে,,বাবার অনুমতি ছাড়া সন্তান নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই।তো এটা বলতে কি হচ্ছে বলো বাচ্চার বাবা কে অরুর বাবা কে…?
অহনা কেদে চলেছে সবার দৃষ্টি অহনার দিকে।শুভ্রর দৃষ্টি অহনার দিকে থাকলেও এক মুহুর্তের জন্য সারার দিকে তাকালো,, সারার দৃষ্টি মাটিতে হাত দিয়ে হাত কচলাচ্ছে উড়না দিয়ে মাথা ঢাকা,,পানি পড়ছে হয়তো চোখ দিয়ে তা এসে পড়ছে হাতের পাতায়।শুভ্রর মাথা গরম হয়ে গেলো।কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে শুভ্র বলে উঠলো…
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪১
-“ও আর কি বলবে অরু আমার সন্তান না এমন কি কোনোদিন আমাদের বিয়ে ও হয়নি।
শুভ্রর কথা শুনে বাড়ির সকলের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।সাথে সাথে সবাই এক সাথে বলে উঠলো…
-“কিহহহহহহ…?
