Home অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ২৯

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ২৯

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ২৯
রিদিতা চৌধুরী

চট্টগ্রামের পাহাড়ি সকাল। জানালার পর্দা চুইয়ে ভোরের মৃদু আলো এসে পড়েছে রিদির চোখের পাতায়। দূর পাহাড়ের ঝরনার অস্ফুট গুঞ্জন আর পাখির কলকাকলিতে ভাঙল তার ঘুম। বালিশের পাশে রাখা ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখল সকাল সাতটা। গত কয়েকটি দিন রিদির জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো; তাই আজ ঘুম ভাঙার পরও বুকের ওপর যেন এক পাথরচাপা ভারী কষ্ট অনুভব করল সে।
​এখানে আসার পর থেকে রিদির সকালের নিয়ম হলো ছাদে যাওয়া। আট তলার ছাদ থেকে ভোরের চট্টগ্রামকে অপূর্ব লাগে, আর ভোরের ঠান্ডা বাতাস যেন মুহূর্তেই মনের সব জমানো বিষাদ ধুয়ে মুছে দিতে চায়। আজও পা টিপে টিপে ছাদে গিয়ে রিদি দাঁড়াল। কিন্তু চারপাশটা ভালো করে চোখ বুলাতে গিয়েই থমকে গেল সে—পাশের ছাদে ব্যায়াম করছে সৌহার্দ্য।

​রিদির মনে হলো সে ভুল দেখছে। চোখের পাতা কয়েকবার কচলে আবার তাকাতেই দেখল, সৌহার্দ্য ঠিক ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। স্থির, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। নিজের চোখকে যেন বিশ্বাসই করতে পারল না সে; তৃতীয়বার তাকাতেই দেখল সৌহার্দ্য ওর দিকে উড়ন্ত চুমু ছুড়ে মারল। রিদি স্তব্ধ, বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ। তাকে সামলে নেওয়ার সুযোগটুকুও না দিয়ে সৌহার্দ্য চোখের ইশারায় কিছু একটা বুঝিয়ে জিজ্ঞেস করল—‘হবে নাকি সুইটহার্ট?’

​রিদির রাগে গাল লাল হয়ে উঠল। পরক্ষণেই ঝংকার দিয়ে উঠল সে, “লুচ্চা পুরুষ! পরনারীর দিকে এভাবে বাজে ইঙ্গিত করতে লজ্জা করছে না আপনার?”
​সৌহার্দ্য রিদির দিকে আদ্যোপান্ত একবার ভালো করে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল, “উহুঁ, আপনাকে দেখে কেন যেন একদম নিজের আপন বউ বউ ফিল পাচ্ছি। আর আমার লজ্জা-শরমের বালাই একটু কমই, তা তো জানেনই ম্যাডাম!”
​রিদি কিছু বলতে যাবে, তার আগেই সৌহার্দ্য চোখ টিপে দুষ্টু হাসিতে যোগ করল, “যাবেন রুম ডেটে?”
​রিদির গাল লজ্জায় আর রাগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল। আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না সে, দুপদাপ পা ফেলে নিচে নেমে গেল। সৌহার্দ্য ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল তার যাওয়ার পথে। বিড়বিড় করল, “স্টুপিড!”
পাশ থেকে ​পানির বোতলটা খুলে সবে মুখে দিতে যাবে, অমনি একরাশ ময়লা এসে পড়ল ঠিক তার মুখের ওপর। উৎকট গন্ধে চোখ-মুখ খিঁচে নিল সে। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে সামনে তাকাতেই দেখল, রিদি হাতে একটা ময়লার ঝুড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ঠোঁটে এক চিলতে বিজয়ী হাসি। সৌহার্দ্য কিছু বলবে, সেই সুযোগটুকু না দিয়েই রিদি দ্রুত ছাদ থেকে নিচে দৌড়ে পালাল।

​রিদির চলে যাওয়ার দিকে বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সৌহার্দ্য দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল, “স্টুপিড মহিলা! শ্বশুর আর বউ মিলে আমার সঙ্গে যে নাটক করছো, তার মাশুল তোমাকে দিতে হবে, তা যদি হাড়ে হাড়ে টের না পাইয়ে দিই, তবে আমি সৌহার্দ্য চৌধুরী নই!”
“রুমে পা রাখতেই রিদির কণ্ঠে খিলখিল হাসি ঝরে পড়ল। দুষ্টু চোখের ঝিলিক মেখে সে আদুরে গলায় বলল, ‘অসভ্য পুরুষ, বউ মানবে না আবার নাটক করবে! যত দিন ভালোবেসে বউ বলে মেনে না নিবেন, ততদিন বউ ছাড়া থাকবেন—অসভ্য ডাক্তার!'”
ফ্ল্যাশব্যাক
রিদি চট্টগ্রাম চলে আসার পর সারহান চৌধুরী অনেকবার বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। রিদির এই কঠোর পরিবর্তনের নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে, তা বুঝতে না পেরে দিশেহারা শাহেদা চৌধুরী শেষমেশ সৌহার্দ্যর সাথে কন্টাক করার চেষ্টা করেন। যখন সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তখন তিনি ফারিসকে সব খুলে বলেন—কী সমস্যার কারণে রিদি এমন করছে এবং কেন এত বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে! শাহেদা চৌধুরীর একমাত্র ভরসা ফারিস, কারণ তিনিই জানতেন সৌহার্দ্য কোথায় আছে। ফারিস জানবে , আর সৌহার্দ্য কে জানালে হয়তো জানা যাবে রিদির এই পাগলামির কারেন কি?

ওনি ফারিসের কাছে সব খুলে বলার পর, তার কন্ঠে অস্ফুট আশঙ্কা আর ফুফির আর্তনাদ শুনে ফারিসের মনে এক গভীর সন্দেহের দানা বাঁধে। সে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
​রিদি ততদিনে নতুন করে গুছিয়ে নিয়েছে নিজেকে। পরীক্ষার খুব বেশি সময় বাকি নেই বলে চট্টগ্রামেই ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করে দিয়েছে। সেদিন ক্লাস শেষে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার মুখেই ফারিসের মুখোমুখি হলো সে। ফারিস এক চিলতে সৌজন্যমূলক হাসি হেসে শান্ত গলায় বলল, “তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই, বড় ভাই হিসেবে আমাকে একটু সময় দেওয়া যাবে কি?”
​রিদির ইচ্ছে না থাকলেও ফারিসকে সে মানা করতে পারল না। মাথা নেড়ে সায় জানাতেই ফারিস তাকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসল। অনেকক্ষণ নীরব থেকে ফারিস বলল, “আমাকে বলা যায় এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণটা? এটা কিন্তু বাচ্চাদের খেলা না, রিদি!”
​রিদি কোনো প্রতিউত্তর না করে মোবাইলটা বের করে একটা ভিডিও ফারিসের সামনে ধরল। যদিও সে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছিল, কিন্তু সে এখন নিরুপায়। একে একে সবাই কারণ জানতে চাচ্ছে, তাই কাউকে না কাউকে উত্তরটা তাকে দিতেই হতো।

​ভিডিওটা দেখে ফারিস মোটেও অবাক হলো না। সে খুব ভালো করেই জানত এমন কিছু একটা হবে। শাহেদা চৌধুরীর কাছে যখন রিদির অস্বাভাবিক আচরণের কথা শুনেছিল, তখনই সে আইডিয়া করে নিয়েছিল সবটা।
​ফারিসের নীরবতা দেখে রিদি বলল, “ভাইয়া, আপনি এখনো বলবেন, কেন এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি? কোন মেয়ে কি জেনে-শুনে একজন রেপিস্টের সাথে সংসার করবে?”
​রিদির মুখে ‘রেপিস্ট’ শব্দটা শুনে ফারিস ভীষণ রেগে গেলেও নিজেকে শান্ত করে রিদির দিকে তাকাল। ধীর স্থির গলায় বলল, “এটা সত্যি না, চোখের দেখার বাইরেও অনেক কিছু আছে রিদি! তোমার কি মনে হয় সৌহার্দ্য এমন কিছু করতে পারে?”
​রিদি খানিক সময় নীরব থেকে এক ব্যাথাতুর হাসি দিয়ে বলল, “তাহলে আপনি বলুন ভাইয়া, ভিডিওর লোকটা আপনার ভাই না? তাহলে আমি মেনে নেব!”
কিন্তু ​ফারিস কোনো রকম ভনিতা না করে গমগমে স্বরে বলল, “সেটা সৌহার্দ্য।”
​ফারিসের কথা কানে যেতেই রিদি মলিন হেসে বলল, “তাহলে কি বুঝাতে এসেছেন? আমার আর কিছু শোনার নাই, যাই আমি।”
​সে চলে যেতে নিলে ফারিস বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে বলল, “এই জন্যই বলে, মেয়ে মানুষ বোঝে কম, চিল্লাই বেশি!”

​বলেই রিদিকে বসতে বাধ্য করে একটি ফাইল তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “ডাক্তারি পড়ছো? এটা দেখলে সবটা ক্লিয়ার হওয়ার কথা। আর তারপরও আমার কথা যদি বিশ্বাস না হয়, তোমার বাবার, ফ্রেশ ডিএনএ শাহবীর শিকদার ওরফে শাহাবীর খানের কাছ থেকে জেনে নিবে!” এখন এর পেছনের কারনটা আমি এখন তোমাকে খুলে বলতে পারবোনা!
​রিদি অবাক হয়ে ফারিসের দিকে তাকিয়ে আছে। শাহবীর তার ভাই মানে? জন্ম থেকে জেনে আসছে সে তার ফুফাতো ভাই, তাহলে তার নিজের ভাই হয় কীভাবে? ফারিস রিদির মনের কথা বুঝতে পারল। তার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল, একদিন না একদিন তো সব জানবেই; সত্যি কখনো সারাজীবন গোপন থাকে না। ফারিস রিদির দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমাকে একটা গল্প বলব, তবে মনকে শক্ত করে শুনবে। কোনো রকম কান্নাকাটি করা যাবে না। ওকে?”
​রিদি মনের ভেতর হাজারো কৌতুহল নিয়ে মাথা নেড়ে সায় জানাল!

_অতীত_
খন্দকার পরিবারের কর্তা এহসান খন্দকারের পাঁচ সন্তানের সংসারে সবার ছোট ছিল রামিশা খন্দকার। আঠারোর টগবগে যৌবনের আলোয় উজ্জ্বল রামিশা ছিল এককথায় রূপবতী। কিন্তু তার রূপের চেয়েও বড় ছিল তার মায়াবী মন। রামিশা তার বেশিরভাগ সময়টাই কাটাত বড় বোন শাহেদা চৌধুরীর বাড়িতে। এর নেপথ্যে মূল কারণ ছিল ছোট্ট সৌহার্দ্য—শাহেদা চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। রামিশাকে ছাড়া সৌহার্দ্য যেন কিছুই বুঝত না, আর রামিশাও বাঘের চোখ হয়ে আগলে রাখত ভাগ্নেকে।
​শাহেদা চৌধুরী সচরাচর অসুস্থ থাকতেন বলে সৌহার্দ্যের দেখভালের পুরো দায়িত্ব একসময় রামিশার কাঁধেই এসে পড়ে। মেজো বোন রায়েদা শেখের বিয়ের পর থেকে তো চৌধুরী বাড়িতেই ছিল তার অর্ধেক জীবন। এই সুবাদেই বোনের সাথে সব জায়গায় যাতায়াত ছিল তার, যার ধারাবাহিকতায় প্রায়ই ডাক পড়ত অভিজাত খান বাড়িতে। কিন্তু কে জানত, সেই জাঁকজমকপূর্ণ খান বাড়িই তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির কেন্দ্র হয়ে উঠবে?

​খান পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেঝজন আরমান খান। তৎকালীন মেয়র আরমানকে দেখলেই যেকোনো তরুণীর দৃষ্টি আটকে যাওয়ার কথা; তার ব্যক্তিত্বে ছিল এক প্রবল আকর্ষণ। কিন্তু সেই সুপুরুষ চেহারার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অন্ধকার অমানুষ—যার চরিত্র ছিল কলুষিত, মন ছিল লম্পট।
​অবুঝ রামিশা সেই মায়াবী রূপের ফাঁদে পড়ে গেল। উঠতি বয়সের আবেগ আর সরলতা দিয়ে সে আরমান খানকে বিশ্বাস করতে শুরু করল। কিন্তু সেই অন্ধ বিশ্বাসই যে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল, তা বোঝার আগেই করে ফেলল মারাত্মক একটা ভুল!

সৌহার্দ্যের বয়স যখন দশের কোঠায়, তখন একদিন ঘটে যায় এক ভয়াবহ অঘটন। ফারিস আর সৌহার্দ্য ড্রয়িং রুমে বসে ছিল, এমন সময় হঠাৎ রামিশা খন্দকারকে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে এসে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল। ফারিস তখন অন্যমনস্ক থাকলেও, ছোটবেলা থেকেই তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন সৌহার্দ্য ব্যাপারটা খেয়াল করল। সে নিঃশব্দে খালার পিছু পিছু গিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিল। যা দেখল, তাতে তার ছোট শরীরটা শিউরে উঠল—রামিশা ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

​সৌহার্দ্যের তীব্র চিৎকার আর আর্তনাদে পুরো খন্দকার বাড়ির মানুষ ছুটে এল। তার মুখে “খালা মনি গলায় কাপড় পেঁচাচ্ছে”—এই কথাটা শোনার সাথে সাথে সবাই মিলে দরজা ভেঙে রামিশাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনল। সেদিন অল্পের জন্য তিনি বেঁচে গেলেও, তার মুখ থেকে সব কথা শোনার পর পুরো খন্দকার বাড়ি স্তব্ধ হয়ে যায়! এহসান খন্দকার রাগে অন্ধ হয়ে গেলেন। এদিকে চরম অসহায় অবস্থায় পড়লেন সারহান চৌধুরী; একদিকে বন্ধু, অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির লোক। তিনি এহসান খন্দকারকে অনুরোধ করলেন যেন বিষয়টা কথা বলে মিটিয়ে ফেলা হয়। মানুষ মাত্রই তো ভুল করে, সারহান চৌধুরীর ধারণা ছিল—যেহেতু তারা একে অপরকে ভালোবাসত, তাই বসে কথা বলে বিয়ে দিয়ে দিলেই সব সমাধান হয়ে যাবে! এহসান খন্দকারও অনিচ্ছা সত্ত্বেও পারিবারিক সম্মানের কথা ভেবে রাজি হলেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটল আরমান খানকে নিয়ে। সে সব কিছু সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বসল। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বসল উল্টো রামিশা খন্দকারের নামে!
​আরমান খানের মুখোশ খসার সাথে সাথে বেরিয়ে এল তার পৈশাচিক জীবনের আরও এক বীভৎস অধ্যায়। রামিশা খন্দকার যে তার জীবনের প্রথম শিকার ছিলেন না, তা দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে গেল। এই চরিত্রহীন পুরুষটি বহু নারীর জীবনের বিনিময়ে নিজের কামনার তৃপ্তি মিটিয়েছে। তার অন্যতম শিকার ছিল শাহবীরের মা, মালিনা।

​মালিনা ও মালিহা খান ছিলেন শফিক সওদাগরের জমজ দুই মেয়ে। তাদের মা ছিলেন একজন রুশ নারী, যিনি দুই মেয়েকে জন্মের পর ফেলে চলে গিয়েছিলেন। মালিহা আর মালিনা দেখতে হুবহু একই রকম হলেও মালিনার মধ্যে ছিল এক স্বর্গীয় আভা—মায়ের মতো তার নীল চোখ আর বরফের মতো ধবধবে গায়ের রঙ। ঠিক এই রূপেরই পুরোটা পেয়েছে শাহবীর। শফিক সওদাগরের মৃত্যুর পর একা হয়ে যাওয়া বোন মালিনাকে মালিহা তার নিজের কাছে নিয়ে আসে। আর সেখানেই শুরু হয় আরমান খানের পৈশাচিক নজর।
​মালিনাকে নিজের প্রেমে পেলার অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আরমান তার অন্ধকার কৌশল বেছে নেয়। কিছু নোংরা ছবির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে সে দিনের পর দিন মালিনার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। বোনের সংসার আর নিজের ইজ্জতের ভয়ে মালিনা তিলে তিলে ধ্বংস হতে থাকেন তিনি। কিন্তু কয়েক মাস পর যখন সে বুঝতে পারে, তার গর্ভে এক নতুন প্রাণের স্পন্দন, তখন সে বাঁচার শেষ আশা নিয়ে ছুটে যায় আরমানের কাছে। কিন্তু পাষণ্ড আরমান তাকে কেবল অস্বীকারই করল না, বরং হুমকি দিল—বাচ্চাটি নষ্ট করে ফেলার জন্য। সে সাবধান করে দিল, এই কথা যদি জানাজানি হয়, তবে মালিহার সংসার ভেঙে যাবে আর সমাজের চোখে মুখ দেখানোর মতো অবস্থাও মালিনার থাকবে না।

​ভীতু মালিনা কেবল নিজের ইজ্জত নয়, বোনের সংসার আর নিজের ভিতর অস্তিত্ব টাকে বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে সবকিছু ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। মালিহা খান, আকরাম খান অনেক চেষ্টা করেও তার কোনো খোঁজই পেল না। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, যেদিন খান বাড়িতে আকরাম খানের বোন আরিফা খানের বিয়ের উৎসব চলছে, সেদিন চার-পাঁচ মাসের ফুটফুটে এক সন্তানকে কোলে নিয়ে মালিনা আবার ফিরে এল খান বাড়িতে। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে অনেক আকুতি-মিনতি করেও ভেতরে ঢোকার অনুমতি পেল না সে। ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ তার দেখা হয়ে গেল আকরাম খানের সাথে।

​মালিনার কান্নাভেজা স্বীকারোক্তিতে আরমানের কুকীর্তি শুনে আকরাম খান স্তব্ধ হয়ে যান। তিনি দ্রুত মলিনাকে স্টোর রুমে নিয়ে আরমান খান ও তাদের বাবা এনায়েত খানকে ডেকে পাঠান। বাপের সামনে ভাইয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আকরাম সত্য উদ্ঘাটন করতে চাইলে আরমান সব অস্বীকার করে। আকরাম খান ভাইয়ের গায়ের ওপর হাত তুলতে গিয়েও বাবার বাবার জন্য থেমে যান আকরাম খান। কিন্তু পরিবার ও বোন আরিফার বিয়ের ভবিষ্যৎ এবং খান বাড়ির সম্মানের কথা ভেবে তিনি এক নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মলিনাকে বলেন, “বাচ্চাটাকে কোনো এতিমখানায় দিয়ে দাও। যত টাকা লাগে আমি দেব, বাচ্চাটার সব দায়িত্ব আমি নেব! এমনকি তোমাকে অন্য কোনো ভালো পরিবারে বিয়ে দিয়ে দেব।”
​মালিনা সেদিন কোনো প্রতিউত্তর করেনি। কেবল নিঃশব্দে কেঁদে নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে সে গেট দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল খান বাড়ি থেকে। কারন তার জানা ছিলো, তাদের টাকার আর ক্ষমতার কাছে সে কখনো পেরে উঠবেনা!

​ঠিক সাত-আট মাস পর এক হাসপাতালে মালিনার সাথে আকস্মিক দেখা হয় আরিফা খানের। একি বাড়িতে থাকা কালীন ভালো বন্ধু হয়ে যান তারা!পুরোনো বন্ধুত্বের টানে আরিফা তার নিখোঁজ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মালিনা সব খুলে বলে। সব শোনার পর আরিফা নিজেকেই অপরাধী মনে করতে থাকেন—তার নতুন বিবাহিত জীবনের কথা আর পরিবারের সম্মান, কথা চিন্তা করে, বড় ভাই মালিনাকে এমন এক নিদারুণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। ভেবেই নিজেকে আরো অধরাধী মনে হলো!
মালিনার শরীরে তখন মরণব্যাধি ক্যানসার। মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে আরিফার কাছে তিনি আকুতি জানালেন নিজের সন্তানকে আগলে রাখার। আরিফা খান সেদিন হাসিমুখেই শাহবীরের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। নিজের পরিচয়ে বড় করে তুলেছে ভাইয়ের রক্তকে!
​ঠিক তার দশ বছর পর, শাহেদা চৌধুরীর ছোট বোন রামিশার সাথেও ঘটে গেল একই ঘটনা। কিন্তু বিধাতার বিচার ছিল ভিন্ন। মালিনার ওপর অন্যায় করে আরমান খান পার পেয়ে গেলেও, রামিশার ক্ষেত্রে তাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হলো। এহসান খন্দকার ধর্ষণ মামলা করলেও ক্ষমতার দাপটে আরমান প্রথমে রেহাই পেয়ে যায়। কিন্তু নরপশুটি মুক্ত হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায়, রহস্যময় কোনো আততায়ীর গুলিতে শেষ হয়ে গেল তার পৈশাচিক জীবনের ইতি!

আরমান খানের মৃত্যুর পর খন্দকার পরিবার অনেক চেষ্টা করেছিল রামিশার পেটের সন্তানটিকে নষ্ট করে ফেলার জন্য। কিন্তু বিধাতার লিখন অলঙ্ঘনীয়—যাকে তিনি এই পৃথিবীতে পাঠাতে চেয়েছেন, তাকে সরানোর সাধ্য কার? চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দিলেন, গর্ভের সন্তানের বয়স তিন মাস পেরিয়ে গেছে; এই মুহূর্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে রামিশার নিজের জীবনই বিপন্ন হতে পারে। অগত্যা ভয়ে খন্দকার বাড়ির কেউ আর সেই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পেল না। সবাই সিদ্ধান্ত নিল, সন্তানটি জন্মানোর পর তাকে কোনো এতিমখানায় দিয়ে দেওয়া হবে।

​সেই সময় সৌহার্দ্যের বয়স প্রায় দশ শেষের পথে। সে আর দশটা সাধারণ বাচ্চার মতো ছিল না, অনেক বড়দের মতো গভীর বোধশক্তি ছিল তার। খালা মনির ওপর ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে সৌহার্দ্যের মনের ভেতর এক অজানা আতঙ্ক বাসা বেঁধেছিল। তার সবসময় মনে হতো, খালাকে একা ছেড়ে দিলেই বুঝি আবার সেই অন্ধকার নেমে আসবে। তাই এক সেকেন্ডের জন্যও সে রামিশার পাশ ছাড়ত না। একটি ছোট্ট শিশু হয়েও সে যেন খালার ছায়ার মতো আগলে রাখত।
​রামিশা প্রায়ই পেটের বাচ্চাটিকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতেন। সেই মুহূর্তে সৌহার্দ্য তার ছোট্ট নরম হাতগুলো দিয়ে পরম মমতায় রামিশার পেটে হাত বুলিয়ে দিত। অদ্ভুত এক আত্মবিশ্বাসে সে বলত, “খালা মনি, তুমি বুচিটাকে নিয়ে একদম চিন্তা করো না। ওটা এখান থেকে বের হবে, আমি ওটাকে বিয়ে করে নেব!”
​সৌহার্দ্যের সেই নিষ্পাপ কথাগুলো শুনে রামিশার চোখের কোণে অশ্রু থাকলেও, ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠত।
সেদিন ছিল রামিশা খন্দকারের ডেলিভারির দিন। লোকলজ্জা আর লোকজানাজানির ভয়ে খন্দকার পরিবারের কেউ হাসপাতালে ভিড় জমায়নি। সাথে ছিল কেবল মেজো বোন রায়েদা শেখ আর ছোট্ট সৌহার্দ্য। সৌহার্দ্যকে কোনোভাবেই হাসপাতাল থেকে দূরে রাখা সম্ভব ছিল না, সে তার খালামনিকে আগলে রাখার জেদ ধরে বসে ছিল।

​দীর্ঘ যন্ত্রণার পর যখন রামিশা ত্রকটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিল। প্রসবের ধকল শেষে যখন তাকে বেডে স্থানান্তর করে চিকিৎসক কিছু জরুরি ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দিলেন। রায়েদা শেখর হাতে তিনি সৌহার্দ্যকে রামিশার কাছে রেখে ওষুধের খোঁজে বের হলেন। কিন্তু হাসপাতালের সেই নির্জন কেবিনে হঠাৎই যেন নিয়তির কালো ছায়া নেমে এল। রামিশা খন্দকারের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। বিছানার পাশে থাকা ছোট্ট শিশু রিদির কান্নার রোল হাসপাতালের নীরবতাকে চিরে চিরে ফেলছিল।
​এগারো বছরের বালক সৌহার্দ্য তখন দিশেহারা। খালামনির এমন ছটফটানি দেখে তার ছোট্ট বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠছিল। একদিকে মুমূর্ষু খালামনি, অন্যদিকে রিদির আর্তনাদ—সে কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। তবুও সেই চরম মুহূর্তেও সে মাথা ঠান্ডা রাখল। নিজের ভেতর এক অদ্ভুত সাহস সঞ্চয় করে সে রিদিকে পরম আদরে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল। রিদিকে শান্ত করার জন্য আদুরে গলায় গুনগুনিয়ে কী যেন বলে, এক দৌড়ে সে ছুটল চিকিৎসকের খোঁজে।

​কিন্তু বিধি বাম! যখন ডাক্তাররা কক্ষে এসে পৌঁছালেন, ততক্ষণে সব শেষ। রামিশা খন্দকার পৃথিবীর সকল মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। অথচ কী নির্মম পরিহাস, ততক্ষণে ছোট্ট রিদি সৌহার্দ্যের বুকের ওম আর উষ্ণতায় নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে। সে জানেও না—তার জন্মলগ্নেই সে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষটিকে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছে।
রামিশার মৃত্যুর মর্মান্তিক সংবাদ পেয়ে খন্দকার বাড়িতে যখন শোকের ছায়া নেমে এল, তখন ছুটে এল খন্দকার পরিবারের সবাই। সেই ভীড়ের মাঝে আকরাম খান এবং তার স্ত্রী মালিহা খানকেও দেখা গেল। রামিশার নিথর দেহের পাশে যখন একদিকের পরিবারের সবাই শোকাতুর, অন্যদিকের পরিবারের কর্তারা যখন ব্যস্ত বাচ্চাটিকে নিয়ে কী করা যায়—কাকে এই ‘অবাঞ্ছিত’ শিশুর দায়িত্ব দেওয়া যায়—সেই বাকবিতণ্ডায়, তখন এক কোণে ছোট্ট রিদিকে বুকে আগলে বসে ছিল সৌহার্দ্য।

​সবার উচ্চকণ্ঠের আর্তনাদ আর তর্ক-বিতর্ক যখন ঘর কাঁপিয়ে তুলছিল, তখন রিদি নির্বিকার। সে সৌহার্দ্যের কোলের ওপর শুয়েই পরম নিশ্চিন্তে তার দিকে তাকিয়ে ফিকফিক করে হেসে উঠল। যেন সে পৃথিবীর সমস্ত কঠিন বাস্তবতাকে তুচ্ছ করে তার এই পৃথিবীতে আসার আনন্দটুকু জানান দিচ্ছে।
​সবাইকে উপেক্ষা করে বাচ্চাটির এমন নির্মল হাসি দেখে সৌহার্দ্যের ছোট্ট মনে এক অদ্ভুত বিরক্তি আর অস্থিরতা খেলে গেল। সে ভ্রু কুঁচকে, পরম আদুরে অথচ গম্ভীর কণ্ঠে রিদির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “বুচি, তুই হাসছিস? আর এদিকে তোকে কোথায় ফেলে দিবে, সেটা নিয়ে কি ফন্দি আঁটছে—সেটা ওরা তোকে বুঝতে দিচ্ছে না, আর তুই আমার কোলে বসে হাসছিস?! স্টুপিড মেয়ে একটা!”
​সৌহার্দ্যের সেই আধো-আধো অথচ দৃঢ় কথাগুলো যেন এক গভীর মমতার বহিঃপ্রকাশ ছিল। সে জানত না, এই নিষ্পাপ শিশুটিকে সে ঠিক কতটা আগলে রাখতে পারবে। ঠিক সেই মুহূর্তেই বড়দের তর্কের অবসান হলো। আকরাম খান রিদির দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। তিনি ঘোষণা করলেন, এই শিশু এখন থেকে তার নিজের পরিচয় পাবে, নিজের সন্তানের মতো করেই তিনি রিদিকে বড় করবেন।
এদিকে নিঃসন্তান ​মালিহা খান যেন পৃথীবীর বুকে একটুরো স্বর্গ পেয়েছেন, তিনি দ্রুত এগিয়ে এসে সৌহার্দ্যের কোল থেকে পরম মমতায় রিদিকে নিজের কোলে তুলে নিলেন। সৌহার্দ্য শূন্য কোল নিয়ে বিষণ্ন চোখে তাকিয়ে রইল!

ফারিসের মুখ থেকে সব শুনে রিদি যেন স্তব্ধ হয়ে
গেল, সে কান্না করতেও ভুলে গেল। সে কি তবে পিতৃপরিচয়হীন সন্তান? তার বাবা তাকে পরিচয়টুকু দিতে অস্বীকার করেছে? সে তো তাও চাচার পরিচয়ে খান বাড়িতে আদর-যত্নে বড় হয়েছে, কিন্তু তার ভাই? খান বাড়ির পরিচয়টুকু তাকেও দেওয়া হয়নি? এই জন্যই কি শাহবীরকে তার সবসময় এত আপন মনে হতো?
​রিদি এখন আর শব্দ করে কাঁদছে না, কিন্তু তার দুই চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। সবটা জেনে তার চেনা পৃথিবীটা যেন মুহূর্তের মধ্যেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
রিদির ভাবনার জগতে ফারিস সান্ত্বনার পরশ হয়ে এল। আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই রিদি হেঁচকি তুলে কেঁদে বলে উঠল, “এই জন্য সবাই আমাকে এত ঘৃণা করে ভাইয়া?”
​ফারিসের বুকটা কেঁপে উঠল, তবুও নিজেকে শান্ত রেখে সে বলল, “তারা তোমাকে ঘৃণা করে যারা তোমাকে ডিজার্ভ করে না, আর বাকি সবাই তোমাকে ভালোবাসে!”
​এতক্ষণে ফারিসের দেওয়া সান্ত্বনায় রিদি কিছুটা স্থির হলো, কিন্তু নিজের আচরণের কথা মনে পড়তেই নিজেকে ভীষণ ছোট মনে হতে লাগল। সৌহার্দ্যকে কত কী শুনিয়েছে, এমনকি চড়ও মেরেছে! কিন্তু হঠাৎ কিছু একটা মনে আসতেই ফারিসের দিকে তাকিয়ে সে জিজ্ঞেস করল, “আমার বাবার পরিচয়ের কি ওনি আমাকে মেনে নেয় না ভাইয়া?”

​ফারিস একটা হাসি দিয়ে বলল, “একদমই না, সৌহার্দ্য এমন একজন মানুষ যে কখনো মানুষকে অন্যের চরিত্র দিয়ে বিচার করে না!”
​রিদি ফারিসের দিকে তাকিয়ে বলল, “তাহলে ওনি কেন আমার সাথে এমন করছে!”
​ফারিস রিদির প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলল, “কেন করছে সেটা ওই ভেজাল প্রোডাক্টই বলতে পারবে! তবে তোমাকে একদম শক্ত থাকতে হবে, যে সিদ্ধান্ত নিয়েছ তাতে অটল থাকো।”
​রিদি ফারিসের কথা ঠিক বুঝতে পারল না, ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই ফারিস বলল, “তোমাকে কিছু বুঝতে হবে না, কিন্তু সৌহার্দ্য নিজের ইগো না ভাঙা পর্যন্ত একদমই ওকে পাত্তা দিবে না! বাকিটা আমি আর মামা—আই মিন, তোমার শ্বশুর আব্বু মিলে করে নেব, ওকে?”​রিদি শুধু মাথা নেড়ে সায় দিল।

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ২৮

​সেদিন ফারিস আর সারহান চৌধুরী মিলে এক কৌশলী পরিকল্পনা করল। তারা একটা ডিভোর্স পেপার তৈরি করল, আর সেখানে রিদির জায়গায় ফারিস নিজেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে স্বাক্ষর করে দিল।
​কিন্তু সৌহার্দ্য তো সৌহার্দ্য! প্রথমে ডিভোর্স পেপারটা দেখে রাগে উত্তাল হয়ে উঠলেও, পরে নিজের বউয়ের স্বাক্ষরটি ভালো করে খেয়াল করতে গিয়েই সে সবটা বুঝে গেল। রাগে দাঁত মুখ খিচে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, ফারিসের বাচ্চা তোকে শুধু একবার হাতের কাছে পাই……

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৩০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here