Home অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৬

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৬

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৬
রিদিতা চৌধুরী

তাজওয়ানকে রাস্তার মাঝখানে ওইভাবে অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে রেখে রিদি দ্রুত জায়গাটা ত্যাগ করল। তার হৃৎস্পন্দন এখনো স্বাভাবিক হওয়ার নাম নিচ্ছে না। রাগে ও উত্তেজনায় তার হাতের তালু ঘামছে, কিন্তু সেই সাথে এক অদ্ভুত তৃপ্তি—তাজওয়ানের মতো একটা পশুকে উচিত শিক্ষা দিতে পেরে আজ শান্তি লাগছে। তবে মুহূর্ত পরেই এক গভীর টেনশন তাকে ঘিরে ধরল; সৌহার্দ্য যদি জানতে পারে সে তাজওয়ানের সাথে কথা বলছে, হোক সেটা ভালো বা খারাপ উদ্দেশ্য—তবে সে রিদির খবর করে ছাড়বে! এই ভয়ে তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
রিদি নিজের সমস্ত ভাবনা-চিন্তা ঝেড়ে ফেলে সামনে পা বাড়াতেই দেখল, বাড়ির গাড়িটা দ্রুতগতিতে এসে তার সামনে থামল। ড্রাইভার চাচা কিছুটা ইতস্তত বোধ করে কাঁচুমাচু মুখে বললেন, “আমার একটু লেট হয়ে গেল ছোট মামনি। তোমার কলেজের সামনে থেকে খুঁজে এলাম, তোমাকে পেলাম না—ভয় পেয়ে গেছিলাম আমি!”

রিদি ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে গাড়িতে উঠে বসল। শান্ত কণ্ঠে বলল, “ঠিক আছে চাচা, চলুন। আমি ভেবেছিলাম আপনি আসবেন না; দেরি হয়ে গেছে যেহেতু, না আসতেন—আমি একা যেতে পারতাম!”
রিদির কথা শেষ হতেই ড্রাইভার দ্রুত বলে উঠল, “না মা, ছোট স্যার বারবার বলে দিয়েছেন তোমার বের হওয়ার আগেই যেন আমি কলেজের গেটে থাকি। উনি জানতে পারলে ভীষণ রেগে যাবে!”
ড্রাইভারের কণ্ঠে সৌহার্দ্যের প্রতি এক অদ্ভুত ভয়ের ছাপ। রিদি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে টেনশন করতে বারন করল। ড্রাইভার ভদ্রলোক একটু স্বস্তি নিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল, বাড়ির উদ্দেশ্যে!
লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফের একটি সুউচ্চ ভবনে নিজের অফিস কক্ষে বসে আছে সৌহার্দ্য। লন্ডনের সময় অনুযায়ী তখন সকাল ৯টা বেজে ৩০ মিনিট। ব্যবসার জরুরি কিছু জটিল ইস্যু নিয়ে রিভানের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিল সৌহার্দ্য । কিন্তু হুট করেই তার ফোনে আসা একটি মেসেজের ‘টুং’ শব্দে মুহূর্তের মধ্যে নিস্তব্ধতা নেমে এল।

ফোনটা হাতে নিয়ে ভিডিওটা প্লে করতেই সৌহার্দ্যের চোয়াল শক্ত হয়ে কাঠ হয়ে গেল। ভিডিওটি দেখে রাগে তার সমস্ত শরীর থরথর করে কাঁপছে, যেন কোনো জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি ভেতরে দলা পাকিয়ে আছে! তার চোখজোড়া মুহূর্তেই টকটকে লাল রক্তবর্ণ ধারণ করল। মিটিংয়ের মাঝে সৌহার্দ্যকে এমন পৈশাচিক রূপ ধারণ করতে দেখে রিভান চরম ভড়কে গেল। কী হলো বুঝলো না ছেলেটা, ভয়ে জিজ্ঞেস করার সাহসও হচ্ছে না!
নিজের ভাবনার অতল থেকে বেরিয়ে সৌহার্দ্য রাগে গর্জে উঠল, “প্রাইভেট জেট রেডি কর! আগামী ১৫ মিনিটের মধ্যে টেক-অফের পারমিশন নে। হারি আপ অ্যান্ড গো!”
রিভান ভয়ে আমতা আমতা করে বলল, “কিন্তু ভাই মি…”

সৌহার্দ্যের রক্তচক্ষু দেখে থেমে গেল ছেলেটা, আর বলার সাহস পেল না। কোনো রকমে বলল, “ওকে ব্রো” বলেই উঠে চলে গেল। রিভান যেতে সৌহার্দ্য পুরো অফিস রুমটা একটা তাণ্ডবে পরিণত করল, হাতের কাছে যা পেয়েছে সব গুঁটিয়ে দিয়েছে! তবুও যেন রাগ কমাতে হিমশিম খাচ্ছে।
রাত প্রায় শেষের দিকে, তিনটার কাছাকাছি। আসিফ শিকদারের বাড়ির সামনে এসে থামল সৌহার্দ্যের গাড়িটা। গাড়ির ভেতরটা যেন উত্তেজনায় কাঁপছে, সৌহার্দ্য স্টিয়ারিংয়ের ওপর হাত রেখে রাগে ফোঁস ফোঁস করছে। লন্ডন থেকে ভিডিওটা দেখার সাথে সাথেই ও যেমন অস্থির হয়ে ইমারজেন্সি ফ্লাইটে বাংলাদেশে উড়ে এসেছে, তাতে ফারিস খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে যে সৌহার্দ্যের মাথায় এখন রক্ত উঠে আছে। রিভান যখন ওকে ফোনে খবরটা দিল, তখন সৌহার্দ্যের পার্সোনাল পিএ-র কাছ থেকে সব শুনে ফারিস এক মুহূর্ত দেরি না করে এয়ারপোর্টে ছুটেছে—সে জানে সৌহার্দ্যের মাথা যখন গরম হয়, তখন সে কোনো সীমানা মানে না—হয়তো ধ্বংস করে দেয় সব, নয়তো নিজে ধ্বংস হয়ে যায়।
ফারিস গাড়ির ভেতর থেকে সৌহার্দ্যের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর আর সহ্য করতে না পেরে একটু ভয় ভরা কণ্ঠে বলল, “দেখ ভাই, এভাবে সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করিস না, সাপ তোকে দেখে এখন ভয় পাবে, তু…”

কথাটা শেষ করার আগেই সৌহার্দ্য গর্জে উঠে ধমক দিয়ে বলল, “জাস্ট শাট আপ!”
কথাটা বলেই সৌহার্দ্য গাড়ি থেকে নেমে এলো এবং ‘ঠাস’ করে গাড়ির দরজাটা বন্ধ করল—সাথে সাথে পুরো গাড়িটা যেন কেঁপে উঠল। ফারিস নিজের গাড়িটার জন্য আফসোস করতে সৌহার্দ্যকে গালি দিতে দিতে ওর পিছন পিছন নামল।
সৌহার্দ্য গিয়ে দাঁড়াল গেটের সামনে। দারোয়ানের উদ্দেশ্যে ঠান্ডা অথচ ভারী গলায় বলল, “আসিফ শিকদারের সাথে দেখা করব, ব্যবস্থা করুন পাঁচ মিনিটের মধ্যে। বলুন—ডা. চৌধুরী এসেছে।”
দারোয়ান কিছু একটা বলতে গিয়েও সৌহার্দ্যের সেই অগ্নিঝলসানো দৃষ্টিতে জমে গেল। ভয়ার্ত হাতে সে আসিফ শিকদারের কাছে ফোন করল। ফোন রেখে গেট খুলতেই সৌহার্দ্য ভেতরে ঢুকল যেন কোনো প্রলয়ংকরী ঝড়।
আসিফ শিকদার বিরক্ত মুখে দরজা খুলতেই সৌহার্দ্য তাকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে গর্জে উঠল, “আপনার ওই শুয়োরের বাচ্চা ছেলেটাকে বের হতে বলেন! জ্যান্ত পুঁতে ফেলব ওকে আজ আমি!”
আসিফ শিকদার রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, “কেমন বেয়াদবি এটা! মাঝরাতে আমার বাড়িতে এসে বেয়াদবি করার সাহস কী করে হয়?”

সৌহার্দ্য উত্তর দিতে গিয়েও থামল—ভেতর থেকে ভেসে আসা চেঁচামেচির শব্দে রুম থেকে বেরিয়ে এল তাজওয়ান। তাজওয়ানকে দেখা মাত্রই সৌহার্দ্যের ধৈর্য যেন বাঁধ ভাঙল। ক্ষিপ্ত বাঘের মতো সে ঝাঁপিয়ে পড়ল তাজওয়ানের ওপর। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত—কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সৌহার্দ্যের হাতের এলোপাথাড়ি মার তাজওয়ানের ওপর আছড়ে পড়ছে। আসিফ শিকদার চিৎকার করে গার্ডদের ডাকতে চাইলে ফারিসের কঠিন হুমকিতে তার গলার স্বর আটকে গেল। ফারিস এগিয়ে গিয়ে সৌহার্দ্যকে জাপটে ধরার চেষ্টা করল। সৌহার্দ্যের শরীরে যেন এখন অসুর ভর করেছে; ফারিসও হিমশিম খাচ্ছে তাকে আটকাতে। তাজওয়ানের অবস্থা তখন প্রায় খারাপ।
ঠিক সেই মুহূর্তে ফারিস সৌহার্দ্যের কানের কাছে ঝুঁকে মুখ নিয়ে নিচু স্বরে কী যেন বলল। সেই কথাটুকুর জাদুতেই যেন সৌহার্দ্য থমকে গেল। প্রচণ্ড রাগে শরীর কাঁপছে, কিন্তু সে অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসল, পায়ের ওপর পা তুলে। তাজওয়ানের বডিগার্ড ছেলেটার দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে সে শান্ত কিন্তু ভয়ংকর গলায় বলল, “কাল যে ফুলটা দিয়ে এই শুয়োরের বাচ্চা আমার বউকে প্রপোজ করেছে—সেগুলো নিয়ে আয়। কোথায় ফেলেছিস! গো অ্যান্ড হারি আপ!”
ছেলেটা হতবাক। এত রাতে সে ফুল কোথায় পাবে? তাছাড়া সেগুলো তো ডাস্টবিনে ফেলার পর ডাস্টবিনও মনে হয় পরিষ্কার হয়ে গেছে। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সে তোতলামি করে বলল, “কিন্তু স্যার, ওগুলো এতক্ষণ…”

সৌহার্দ্য তার দিকে জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বন্দুকটা তাক করল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “একটা শব্দও খরচ করবি না। না হলে ওই শুয়োরের বাচ্চাটার আগেই তোকেই শেষ করব!”
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছেলেটা আর একটা কথাও বলার সাহস পেল না। ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়ে সুরসুর করে বেরিয়ে গেল।
এদিকে তাজওয়ান রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে আছে, শরীরের প্রতিটি পেশী যেন যন্ত্রণায় বিদ্রোহ করছে, মেঝেতে রক্তের ধারা চুঁইয়ে পড়ছে। আসিফ শিকদার আর ধৈর্য রাখতে পারলেন না, চিৎকার করে গর্জে উঠলেন, “বের হ আমার বাড়ি থেকে, বেয়াদব ছেলে! আমার ছেলে…”
আসিফ শিকদারের কথার মাঝখানে সৌহার্দ্য একরাশ বিরক্তি নিয়ে তাকে থামিয়ে দিল। তার চোখেমুখে কোনো অনুশোচনা নেই, আছে শুধু এক হিমশীতল জেদ। সে বলল, “আপনার বাড়িতে জিলাপি বিলি করছেন না যে আমি খেতে এসেছি। আপনার ওই শুয়োরের বাচ্চাটাকে শান্তিমত শাস্তি না দিয়ে আমার নিজের বাড়িতে গিয়ে বউকে আদর করার মুড আসবে না। শান্ত হয়ে বসুন, আমার কাজ শেষ হলে এমনিতেই চলে যাব। তার আগে বেশি বাড়াবাড়ি করলে, বাপ-ছেলে দুটোকেই জ্যান্ত পুঁতে দিয়ে যাব!”
সৌহার্দ্যের এমন অদ্ভুত শীতল আর অসংলগ্ন কথায় ফারিস নিজের কাশি চেপে রাখতে পারল না। আসিফ শিকদার যেন পাথর হয়ে গেলেন। তার বাড়িতে, তার সামনে দাঁড়িয়ে তার ছেলেকে পিটিয়ে এই ছেলে এত শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলছে যেন তারা কোনো জরুরি ব্যবসায়িক মিটিং করতে বসেছে! বিস্ময় আর রাগে তার শরীর কাঁপছে।

কোনো উপায় না দেখে আসিফ শিকদার রাগে গজগজ করতে সারহান চৌধুরীর কাছে ফোন লাগালেন। ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই তিনি চড়া গলায় বলে উঠলেন, “কী বেয়াদব ছেলে জন্ম দিয়েছেন আপনি? আমার বাড়িতে এসে, আমার সামনে আমার ছেলেকে পিটিয়ে আবার আমাকেই হুমকি দিচ্ছে!”
মাঝরাতে ছেলের নামে এমন অভিযোগ শুনে সারহান চৌধুরী বিরক্তির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেলেন। ছেলে তো লন্ডনে থাকার কথা, দেশে কখন এল? সারহান চৌধুরী বিরক্তিতে মুখটা কুঁচকে নিলেন। সেই ছোটবেলা থেকেই এই ছেলের নামে নালিশ শুনতে শুনতে তিনি ক্লান্ত; ভেবেছিলেন বড় হলে শান্ত হবে, অথচ সে বড় হয়ে আরও বেশি অশান্তি নিয়ে ফিরছে।

সারহান চৌধুরী নিজের সমস্ত বিরক্তি গিলে নিয়ে নিস্পৃহ গলায় বললেন, “ওহ্, এইটুকু করেছে? যাক, খুশি হলাম। আপনাকে পিটিয়ে আমার মান-সম্মান নষ্ট করেনি—এর জন্য ওকে আমার হয়ে একটা ধন্যবাদ দিয়ে দিয়েন। আর শিকদার সাহেব, এটার জন্য মাঝরাতে আমার ঘুমটা না ভাঙালেও পারতেন!”
বলে তিনি ঠাস করে ফোনটা কেটে দিলেন, ফোনের ওপাশে আসিফ শিকদার তখন বিস্ময়ে স্তব্ধ।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর বডিগার্ড ছেলেটা ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে আনা সেই পচা, দুর্গন্ধময় ফুলগুলো নিয়ে ঘরে ঢুকল। ঘরের বাতাস মুহূর্তেই ভারি হয়ে উঠল পচাগলা গন্ধে, সবাই নাক চেপে ধরল। কিন্তু সৌহার্দ্য নির্বাক, পাথরের মতো বসে আছে; ওর রাগের পারদ এখন এমন এক পর্যায়ে যে বাইরের এই নোংরা গন্ধ ওর মস্তিষ্কে কোনো প্রতিক্রিয়াই তৈরি করছে না।
ফারিস আর টিকতে পারল না। গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়ায় সে ঝুঁকে এল সৌহার্দ্যের কানের কাছে। চাপা গলায় মিনতি করে বলল, “ভাই, এটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না? অনেক মেরেছিস, এবার বাদ দে…”

বাকি কথাটুকু গলার কাছেই আটকে গেল ফারিসের। সৌহার্দ্যের সেই জ্বলন্ত, শীতল দৃষ্টির দিকে তাকাতেই সে বুঝে গেল, এখন কোনো যুক্তিই কাজ করবে না। সৌহার্দ্য ইশারায় বডিগার্ডকে নির্দেশ দিল তাজওয়ানকে টেনে সোফায় বসাতে। ছেলেটা কাঁপা কাঁপা হাতে তাজওয়ানকে সোফায় এনে বসাল। রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত তাজওয়ান যন্ত্রণায় কুঁকড়ে থাকলেও সৌহার্দ্যের দিকে চোখ তুলে চাইল অগ্নিদৃষ্টিতে।
সৌহার্দ্য রিভলবারটা তাজওয়ানের দিকে তাক করল। হিসহিসিয়ে উঠল ওর কণ্ঠ, “দৃষ্টি নামা। নয়তো চোখ দুটো উপড়ে তোর বাপের খেলার দাবার গুটি বানিয়ে দেব, শুয়োরের বাচ্চা!”
এরপরই তাজওয়ানের দিকে তাকিয়ে বিরক্তিভরা গলায় হুকুম করল, “খাওয়া শুরু কর। আমার হাতে সময় খুব কম। আজ তিনদিন বউটাকে দেখি না, মনটা কেমন বউ-বউ করছে। তোর মতো একটা জঞ্জালের পেছনে সময় নষ্ট করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই আমার। হারি আপ!”

আসিফ শিকদার ছেলের এমন বীভৎস অবস্থা দেখে আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলেন না। রাগে তার শরীর থরথর করে কাঁপছে, চোখের কোণ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে। তিনি গর্জে উঠলেন, “এই বেয়াদব গুন্ডা ছেলে, তোর সাহস কী করে হয় আমার বাড়িতে এসে, আমার সামনে আমার ছেলের সাথে এই সব করার?”
সৌহার্দ্য একরাশ বিরক্তি নিয়ে আসিফ শিকদারের দিকে তাকাল। তার কণ্ঠস্বরে কোনো কম্পন নেই, বরং এক ধরনের শ্লেষ মেশানো ঠাণ্ডা মেজাজ। সে বিরক্ত হয়ে বলল, “শুধু ‘বেয়াদব’ বলে লজ্জা দেবেন না, দূর সম্পর্কের শ্বশুর মশাই। আমি একদম পিএইচডি করা বেয়াদব, বেয়াদবিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া! হার্টের সমস্যা থাকলে বরং ওষুধটা খেয়ে নিন। কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যে নিজের চোখের সামনে ছেলের বুক ফুটো হতে দেখার জন্য আপনার নিজের হার্ট সচল থাকাটা খুব দরকার।”

কথাটা বলেই সৌহার্দ্য তাজওয়ানের বুক বরাবর রিভলবারটা তাক করল। রাগে তার প্রতিটা নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছে, যেন আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভার মতো ফুঁসছে সে। দাঁতে দাঁত চেপে হুঙ্কার দিল, “তিন পর্যন্ত গুনব। এর আগেই শুরু কর! আমার ধৈর্য অনেক কম, না হলে বুক ঝাঁঝরা করে দেব। পরে কী হবে সেটা পরে দেখা যাবে—তোর তো ভালোই জানা আছে আমার রেকর্ড খুব একটা সুবিধার নয়! সো ফার্স্ট—গো এহেড!”
সৌহার্দ্যের কথা বলার ভঙ্গিটা ছিল বিকারগ্রস্ত—যেন তাজওয়ানের মুখের সামনে কোনো সুস্বাদু খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সেই পচা ফুলের তীব্র উৎকট গন্ধে ফারিসের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তাজওয়ান খাওয়ার আগেই সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না, বমি করে পুরো ড্রয়িং রুম ভাসিয়ে দিল। সৌহার্দ্য সেদিকে তাকিয়ে চরম বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে নিল।

আসিফ শিকদার তখন রাগে থরথর করে কাঁপছেন। তার চোখের সামনেই সব ঘটছে, কিন্তু ধুরন্দর ছেলে দুটোর হাতে তার নিজেরই এমন সব গোপন প্রমাণ রয়েছে যে তিনি চাইলেও কিছু করতে পারছেন না। দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বললেন, “তোদের সময় ফুরিয়ে এসেছে, ঠিক সময়ে দেখে নেব!”
ইতিমধ্যে তাজওয়ান নিরুপায় হয়ে অল্প কিছু পচা গোলাপের পাপড়ি গিলতেই দুর্গন্ধে বমি করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। তাজওয়ান অচৈতন্য হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়তেই সৌহার্দ্য স্থির, ধীর পায়ে উঠে দাঁড়াল। তাজওয়ানের সামনে গিয়ে ঠিক সেই হাতটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ল, যে হাত দিয়ে সে রিদির পবিত্রতা স্পর্শ করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। বিকট শব্দে কাঁপল ড্রয়িং রুম। ফারিস হচকচিয়ে উঠল—এতবার বোঝানোর পরেও সৌহার্দ্য আজ সব সীমানা পার করে দিল! কিন্তু সৌহার্দ্য নির্বিকার, তার চোখেমুখে বিন্দুমাত্র অনুশোচনার চিহ্ন নেই।

আসিফ শিকদার পাগলপ্রায় হয়ে তেড়ে আসতে চাইলে সৌহার্দ্য রিভলবারটা সোজা ওনার দিকে তাক করে ধরল। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে একটা ভিডিও ক্লিপ ওনার চোখের সামনে মেলে ধরে শীতল গলায় বলল, “এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে, কিংবা থানা-পুলিশের কথা ভাবলে—সাথে সাথে এই ভিডিওটা আমেরিকাতে আপনার প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে চলে যাবে। চরিত্র খারাপ হলেও বউকে যে আপনি প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন, তা আমার অজানা নয়। বুড়ো বয়সে বউ হারাতে না চাইলে চুপচাপ থাকবেন!”
আসিফ শিকদার তখন বিধ্বস্ত, অপমানে আর আতঙ্কে নীল হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। সৌহার্দ্য সেখানে আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। দুপদাপ পায়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। ফারিস নিজের আতঙ্ক আর অস্থিরতা সামলে দ্রুত তার পিছু পিছু ছুটল।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরও সৌহার্দ্যের ভেতরে আগ্নেয়গিরির লাভা যেন কিছুতেই ঠাণ্ডা হচ্ছে না। ড্রাইভিং সিটে বসে শক্ত করে স্টিয়ারিং ধরে রেখেছে সে, প্রতিটা মোড়ে রাগের মাথায় স্টিয়ারিংয়ে এমনভাবে বাড়ি দিচ্ছে যেন কোনো জীবন্ত শত্রুকে আঘাত করছে। রিদির হাতের ওপর তাজওয়ানের ওই নোংরা স্পর্শের কথা মনে পড়তেই সৌহার্দ্যের মাথার ভেতর রক্ত টগবগ করে ফুটছে।
ফারিস পাশে বসে অদ্ভুত দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাচ্ছে। সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না, এত কাণ্ড করার পরও সৌহার্দ্যের রাগ একচুলও কমল না কেন? পরিবেশটা হালকা করার জন্য ফারিস হঠাৎ সুর করে গেয়ে উঠল, “পোলা তো নয় সে তো, সে তো আগুনেরই গোলা… সারহান চৌধুরী বানিয়েছে একখান!”
সৌহার্দ্য বিরক্তি আর জ্বলন্ত দৃষ্টি নিয়ে তাকাতেই ফারিস হঠাৎ গম্ভীর ও ভাবুক হওয়ার ভান করে বলল, “আমি আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি, ভাই! তোর যদি একটা ছেলে হয়—তোর মতো একটা ভেজাল প্রোডাক্ট—আর সেই ছেলে যদি আমার মেয়ের পেছনে পড়ে, তবে আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে? ওই শ্বশুরের বেয়াদব মেয়েটা না বুঝে তোর ছেলেকে নিজের জামাই বানাবে বলে ঠিক করে নিয়েছে। এই পকেট সাইজের ঝড়টা এখন আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে! আমি তো আমাদের হবু শ্বশুর-জামাইয়ের সম্পর্কের কথা ভেবেই শিউরে উঠছি!”

সৌহার্দ্য এতক্ষণ ফারিসের আবোল-তাবোল কথাগুলো হজম করছিল, কিন্তু এবার আর পারল না। খুব শান্ত অথচ বরফের মতো শীতল গলায় বলল, “গাড়ি থেকে নাম তো। সামনে পাথর জাতীয় কিছু দেখা যাচ্ছে, যা, সরিয়ে দিয়ে আয়।”
ফারিস সিটে আরও ভালো করে চেপে বসে বাঁকা হাসি দিয়ে বলল, “তুই আমাকে সুজনের মতো বলদ পেয়েছিস? যা, আর কোনো কথা না, এখন শান্ত হয়ে গাড়ি চালা। তোর বউ অপেক্ষা করছে, ছক্কা খেলবি…”
ফারিসের কথা শেষ হওয়ার আগেই সৌহার্দ্যের চোখজোড়া রাগে এমনভাবে জ্বলে উঠল যে, ফারিস নিমেষেই চুপ হয়ে গেল।
ভোর ছয়টার কাছাকাছি। রুমে ঢুকতেই সৌহার্দ্যের দৃষ্টি আটকে গেল বিছানায়—রিদি শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে, পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে আছে সৌহার্দ্যের একটা শার্ট। কিন্তু রিদির হাতের দিকে তাকাতেই সৌহার্দ্যের বুকের ভেতরটা যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল; তাজওয়ানের ওই নোংরা স্পর্শের কথা মনে পড়তেই তার শান্ত হতে চাওয়া রাগটা আবার দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। কোনো কথা না বলে, থমথমে মুখে শার্টটা খুলে একটা ওভারসাইজ টি-শার্ট পরে নিল সে। তারপর রিদির থেকে উল্টো দিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে পড়ল, কিন্তু তার অস্থিরতা যেন ঘরময় ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রায় দশ মিনিট পর—বাতাসে যখন সৌহার্দ্যের চিরচেনা ‘ক্রিড অ্যাভেনটাস’-এর সেই তীব্র, অভিজাত সুবাস রিদির নাকে এল, সে পিটপিট করে চোখ মেলল। চোখের সামনে সৌহার্দ্যকে দেখেই রিদি যেন ভুত দেখার মতো চমকে গেল! এক সপ্তাহ পর ফেরার কথা, অথচ সে তিনদিনেই চলে এল! রিদির মনটা খুশিতে ডগমগ করে উঠল। সে দ্রুত কাছে গিয়ে পিছন থেকে সৌহার্দ্যকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। কিন্তু সৌহার্দ্য কঠোর হাতে রিদির হাতটা সরিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, “ছাড়ো, বিরক্ত না করে ঘুমাতে দাও।”
রিদি বিভ্রান্ত। তার সব আনন্দ মুহূর্তেই থমকে গেল। সে বুঝতে পারল না হঠাৎ এমন রুক্ষ আচরণের মানে কী। অভিমানী রিদি এবার সৌহার্দ্যের গায়ের ওপর দিয়ে ঘুরে অন্য পাশে গেল, জোর করে সৌহার্দ্যের হাত সরিয়ে তার বুকের ভেতর মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলল, “রেগে আছেন কেন? কী করছি আমি? নাকি লন্ডন গিয়ে নতুন কাউকে পেয়ে গেছেন?”

সৌহার্দ্য আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। রিদিকে নিজের নিচে ফেলে ওর, দু’গাল নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরে, জ্বলন্ত দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে হিসহিসিয়ে বলল, “তোকে বলছি না আমার অবাধ্য হবি না? তাহলে কেন হস বারবার? হোয়াটস ইউর প্রবলেম? আমার কথা শুনতে তোর সমস্যা কোথায় হয়? নাকি আমাকে না রাগিয়ে তোর শান্তি লাগে না?”
কথাগুলো শেষ করেই সৌহার্দ্য রিদিকে ছেড়ে এক ঝটকায় খাট থেকে নিচে নেমে এল। খাটের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে সে মেঝের ওপর বসে পড়ল। সে খুব চেষ্টা করছে নিজের ভেতরের এই দাবানল নেভাতে, কিন্তু রিদির ওই অবুঝ মুখটা তাকে আরও জ্বলিয়ে খাচ্ছে। তার মস্তিষ্কে কেবলই ঘুরছে সেই দৃশ্য—তাজওয়ান সামনে রিদি ঘণ্টা ধরে রিদি বসে ছিল? কেন রিদি তার সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করল? ওগুলো না করলে তো তাজওয়ানের সাহস হতো না রিদির হাত ধরার! যে মেয়েটার পাশে একটা মাছি পর্যন্ত বসলে সৌহার্দ্যের সহ্য হয় না, তার হাত অন্য কেউ স্পর্শ করেছে—এই চিন্তাটাই যতবার মাথায় আসছে তাকে ততই রাগের চরম সীমায় নিয়ে যাচ্ছে।
রিদি সৌহার্দ্যের রাগের আসল কারণটা বুঝতে পারল। কোনো কথা না বাড়িয়ে সে খাট থেকে নিচে নেমে এল এবং সৌহার্দ্যের কোলে গিয়ে বসল। সৌহার্দ্যের ঢিলেঢালা টি-শার্টের ভেতর মুখটা গুঁজে দিয়ে সে মিনমিনিয়ে বলল, “এমন করছেন কেন, রাগি বর? আমি তো…”

কথাটা শেষ করতে দিল না সৌহার্দ্য। সে বিরক্ত হয়ে কঠোর গলায় বলল, “সর আমার থেকে! আমার কথা শুনবি না, যখন কাছেও আসবি না!” কিন্তু মুখে সরে যেতে বললেও, সৌহার্দ্য এক হাত রিদির কোমরে শক্ত করে জড়িয়ে আছে—যেন তাকে কোনোভাবেই দূরে যেতে দেবে না।
রিদি মুখ কুঁচকে, অভিমানী কণ্ঠে বলে উঠল, “একশোবার আসব, হাজার বার আসব! আমার বর—আমি না আসলে কোন শাকচুন্নি আসবে?”
বলেই সে টি-শার্টের ভেতর থেকে মুখটা বের করে সৌহার্দ্যের মুখে টুপ করে একটা চুমু খেয়ে নিল। সৌহার্দ্য একটু নড়েচড়ে বসল, পরক্ষণেই ধীর অথচ গভীর কণ্ঠে বলল, “ফিল পাইনি, আবার দাও।”
রিদি কোনো বিরক্ত না হয়েই এক মুহূর্ত দেরি না করে সৌহার্দ্যের অপর গালে একটা চুমু খেল। সৌহার্দ্য তখনো একই সুরে বলল, “আবার।”
রিদি এবার আলতো হেসে তার কপালে আলতো করে চুমু খেল। সৌহার্দ্য চোখ বন্ধ করে রিদিকে বুকের সাথে জাপটে ধরল, তার কণ্ঠস্বর তখন গমগম করছে, “এইবার লাস্ট। আর কোনোদিন আমার অবাধ্য হবে না, ওকে?”

রিদি কোনো কথা না বলে মাথা নেড়ে সায় দিল। সৌহার্দ্য তাকে নিজের হৃদপিণ্ডের স্পন্দনের সাথে মিশিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করল।
দুপুর প্রায় বারোটা। সারহান চৌধুরীর রুমের বাতাস যেন থমথমে হয়ে আছে। তিনি তীক্ষ্ণ ও বিচারক সুলভ দৃষ্টি ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে, আর সৌহার্দ্যের চোখেমুখে ফুটে আছে একরাশ বিরক্তি। কিছুক্ষণ স্থির বসে থেকে সৌহার্দ্য উদাসীন গলায় বলল, “আমার চেহারা দেখা শেষ হলে যেতে পারি?”
ছেলের এই অবজ্ঞাময় সুর সারহান চৌধুরীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিল। তিনি রাগে ফেটে পড়ে গর্জে উঠলেন, “আমার মান সম্মান ডুবিয়ে কি শান্তি পাও তুমি? কেন মাঝরাতে আসিফ শিকদারের ছেলেকে মেরেছো? তুমি লন্ডনে কাজ ফেলে এসেছো ওই ছেলেকে মারতে?”

সৌহার্দ্যের চোয়াল রাগে শক্ত হয়ে গেল। সে ফুঁসতে ফুঁসতে জবাব দিল, “শুধু মেরেছি শুকরিয়া করো, কুত্তার বাচ্চাকে তো জ্যান্ত কবর দেওয়া উচিত, মাদা…” কথাটা বলতে গিয়েও যেন নিজেকে কোনোমতে নিয়ন্ত্রণ করল সে।
সারহান চৌধুরী চিৎকার করে উঠলেন, “বেয়াদব ছেলে! এত অধঃপতন তোমার কবে হলো? কার সামনে কথা বলছো ভুলে গেছ তুমি?”
সৌহার্দ্য কোনো অনুশোচনা ছাড়াই উঠে দাঁড়াল। তার চোখে তখন এক তীব্র জেদ। বাবার চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে সে তিক্ত মেজাজে বলল, “যবে থেকে ওই স্টুপিড দেড় ব্যাটারিটাকে আমার কপালে জুটিয়ে দিয়েছো, তবে থেকে!!”

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৫

ছেলের এমন ঔদ্ধত্য দেখে সারহান চৌধুরী হতভম্ব। তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন, “আস্ত একটা বেয়াদব তুমি; আমি দোয়া করি তোমার ছেলেও তোমার মতো হয়, তখন বুঝবে তু…”
বাবার কথা শেষ হওয়ার আগেই সৌহার্দ্য ঘুরে দাঁড়াল। তার মুখে তখন এক নিষ্ঠুর শ্লেষ। সে শান্ত অথচ ধারালো গলায় বলল, “শকুনের দোয়ায় গরু মরে না! তেমন তোমার দোয়ায়ও আমার ছেলে ওরকম হবে না!” বলেই সে আর এক মুহূর্ত দেরি করল না!
সারহান চৌধুরী হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন!

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here