অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩১
Maha Aarat
লিভিং রুমে পিনপতন নীরবতা।একপাশে মিসেস মাইশা,অন্যপাশের কোণার সোফায় গম্ভীর হয়ে বসে আছেন নিহাল সাহেব।
সাফওয়াত টেবিলে হেলান দিয়ে দূ পকেটে হাতগুজে জড়ো বস্তুর ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে যেনো এখানের মান অভিমানের পালা শেষ হলে সে তাড়াতাড়ি বাঁচতে পারে।
নীরবতা মাড়িয়ে হালকা গলা খাঁকারি দিলেন রায়ান।তাঁর আচরনে তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন নীরবতার বুকচিরে পাশের জনের মুখ থেকে কথার বোল ফোটুক।আড়চোখে বাবার দিকে একবার ভীরু নজরে তাকালো এশা।আসার পরপরই যে বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাতে তাঁর জমানো সাহস ফুস করে পালিয়েছে।বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে কেবল মায়ের আকুতিতে।সেই মা ও এখন চুপ করে আছেন।বাবাকে ভীষণ ভয় পায় সে।কীভাবে শুরু করবে!
‘আমি এখানে কোনো ড্রামা এটেন্ড করতে আসিনি।আই হ্যাভ টু গো।’
বাবার পায়ে পড়ে কান্না বিজড়িত এশার বিধ্বস্ত অবস্থা বুকে লাগলো রায়ানের।বউ কষ্ট পেলেও তাকে কখনো এভাবে কাঁদতে দিবে না এটা তিনি এখানে দাঁড়িয়েই সিদ্ধান্ত ফাইনাল করে নিলেন।
বাবার থেকে কোনো রেসপন্স না পাওয়ায় বুকটা আরো ভারী হয়ে এলো এশার।বুকের ভেতর যেনো কালবৈশাখীর তান্ডব চলছে।একটা ভুল না হয় সে করে ফেলেছে।ক্ষমা করে দিলে কি খুব অপরাধ হবে?মায়ের কোলে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখে রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।এ মেয়েটা সারাদিন শুধু ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদতে পারবে।কাজের কাজ কিছুই করতে পারবে না।
ধীরসুরে রায়ান বললেন, ‘আঙ্কেল শেষবারের মতো ক্ষমা করে দিন।আর কখনো ভুল করলে একদম ত্যায্য করে দিবেন।আইনিভাবেও কাট করে দিবেন।আমি সাহায্য করবো।বাট শেষবারের মতো একটা সুযোগ দিন।’
মায়ের চোখেমুখেও আকুতি।মুখে না বললে উনার টলমলে চোখ যেনো ইশারা করে বলছে শেষ একটা সুযোগ দেওয়া যায় না?
‘কতোগুলো মানুষের সামনে আমাকে ছোট করেছো!তেমনি মিস্টার মাহমুদকেও।আর কখনো তাদের সাথে চোখ মিলিয়ে কথা বলার সাহস হবে?তোমাকে বেশী স্নেহ করতাম সেই শোধটুকু কানায় কানায় পূর্ণ করে দিলে অপমান দিয়ে।’
এশা নিরুত্তর।চোখের অশ্রু ছাড়া তাঁর মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হয়নি আজ।রায়ান কথার সমাপ্তি টানতে বললেন , ‘থাক না আঙ্কেল পুরনো কথা।সব ভুলে ক্ষমা করে দিন।আমরা একসাথে থাকলে, নিজেদের সমাধান নিজেরা করে নিলে সমাজ কি বললো তাতে কি আসে যায়?’
বাবার পক্ষ থেকে আর কোনো উত্তর পাওয়া গেলো না।শার্টের পাশ টেনে চশমা মুছে ধুপধাপ আওয়াজ তুলে বেরিয়ে গেলেন তিনি।
মিসেস মাইশা এবার মুখ খুললেন।মেয়েকে কোল থেকে সরিয়ে রায়ানের উদ্দেশ্যে বললেন , ‘তুমি আর কিছু বলবে?’
রায়ান মেকি হেসে বললেন , ‘জ্বি।’
‘বলো।’
মেদহীন ভুড়িতে হালকা হাত বুলিয়ে বললেন , ‘তেমন কিছু বলবো না।ওই দূপুরের খাবারের সময় চলছে তো।এখন আর কি বলবো।’
মা নিচুমুখে মুচকি হেসে চলে যেতেই এশা কটমট নজরে তাকিয়ে বলল, ‘শেইম অন ইউ।খিদে লেগেছে ডিরেক্টলি বলে ফেলতেন খাবার চান।এভাবে নির্লজ্জ্বের মতো চাওয়ার মানে কি?’
‘কোনো মানে নেই।ডিরেক্টলি বলতে লজ্জ্বা পাচ্ছিলাম তাই ইনডিরেক্টলি বলেছি।আপনি গিয়ে সাহায্য করলে খাবারটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।’
এশা মুখ ফিরিয়ে প্রস্থান করলো।এই লোকটাকে নিয়ে তাকে আরেকটু ভাবতে হবে।এখনি এমন আচরন।আর বিয়ের পর তো!
যোহরের সালাতটুকু আদায় করে মাএ জায়নামাজ তুলে রাখলো এশা।অমনি দরজায় নক হয়।বুঝে উঠার আগেই রায়ান ভেতরে ঢুকে বললেন, ‘ওয়াশরুমটা কোনদিকে?’
‘হুটহাট রুমে ঢুকলেন কেন?আশ্চর্য তো!’
‘নক করলাম তো।শুনেন নি?’
‘তাই বলে এভাবে?আমি আপনার গায়রে মাহরাম এখনো।সো দূরত্ব বজায় রাখুন।’
‘আজ এক শুক্রবার।আগামী শুক্রবার আসবো ফিরানিতে।সো মাহরাম হতে বেশী দেরি নেই।সরুন।’
নাহ!এশাকে এখনও অনেকদূর ভাবতে হবে।এই লোকটা তাঁর বর হলে কতো আশ্চর্য কিছু দেখতে হবে হিসেব নেই।
এই শহর তাঁর বড্ড অচেনা।চলন্ত বাহনের সাথে নিংড়ে উঠা ধূলিকণা যেনো তাঁর ফুসফুসে উড়তে থাকে ।নিকাবের আড়ালে ঢেকে থাকা চক্ষুকোটরও দৃষ্টি এড়ায় না দুষ্ট লোকের।
বিকেলের আকাশ তেজ হারালেও হারায় না বাহনের কড়া হর্ণ।শীতের শিশির বিন্দুর মতো উড়তে থাকা ধোঁয়া যেনো তাঁর শোষিত বাতাসকেও দূষিত করে ফেলে।এ শহর বড্ড বেমানান।আসলেই কি তাই।জন্মভূমির চেয়ে সেরা কিছু হয়?
তার শহর তো ছিল শান্ত,নীরব।নিয়নের আলোর সাথে দূষিত শহরের ব্যস্ততা তো তাঁর শহরে ছিলো না।তার শহরে সন্ধ্যে হলেই আওয়াজ কমে যেতো।শৃঙ্খল সব সারি সারি দোকানপাটে ভীড় কমতে থাকতো।দূপুরের কড়া রোদ্দুরে যখন এ শহর হঠাৎ জনমানবহীন নিষ্চল হয়ে যায় তখন তার ভয়ের পদধ্বনি গুনতে হতো না।তাঁর শহরে সে দিব্যি হেঁটে যেতো।চেনা শহর,আনাচে কানাচের অলিগলি কত দেখেছে সে,তবুও সবকিছু যেনো নতুনের আবহে তাঁর চোখে ধরা দিতো।
বিকেল হলে অলিগলির মাঠগুলো যেখানে শিশুর হইরই খুশিতে মেতে থাকতো,এখানে সেরকম থাকে না।এখানের শিশুদের আড্ডা শুরু হয় রাত বিরেত।কোনো লোকালয়ে নয়তো দূষ্টু পানির চুমুকে।বাইকের চাকায় ধূলো উড়িয়ে শহর সাজায় তাঁরা।মদ্যপ হয়ে গান বাজনা আর উচ্ছৃঙ্খলায় মেতে থাকা শিশু এ শহরের ভবিষ্যৎ।
আদওয়ার মনে পড়ে অতীতের এক তিক্ত চ্যাপ্টার।ইমান ভাইকে সে ভীষন ভরসা করতো।বাবার বন্ধুর ছেলে হওয়ার সুবাদে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের।সে থেকে অদ্ভুত এক টান,অদ্ভুত এক ভালোলাগা থেকে কিশোরী মনে অনুভূতির জোয়ার নেমেছিলো।সেই জোয়ারে গা ভাসিয়েছিলো অপরপক্ষও।
অথচ একটা দূর্ঘটনা দূই পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভাঙ্গার জন্য যথেষ্ট।কিশোরী বয়স তার।চুলের দূই পার্শ্বে বেণী বেঁধে তিড়িং বিড়িং করে লাফাতো সে।বিকেলে ফড়িং ধরা বা দিঘীর জলে পা ভিজিয়ে রাখা বা শাপলার তোড়া মুঠোতে পুরে আনন্দে আত্নহারা আদওয়ার হুট করে শহর থেকে আসা ইমান ভাইয়ের সাথে পরিচয়।ব্যবসার হিসাব নিকেশ বাদেও বাকি সময়টা একসাথে কাটতো তাদের।ছেলেটার অল্প অল্প কেয়ারিং তার আনন্দকে বাড়িয়ে দিতো বহুগুণ।
ভালোবাসার নতুন জাল বুনার সময়।অথচ এমনি একদিন ফুল ছেঁড়া নিয়ে ইমানের কাজিন ইমরানের সাথে ঝগড়া বাঁধে তার।একপর্যায়ে সে রাগে আঘাত করে বসে আদওয়ার গালে।চিৎকার করার আগেই মুখ চেপে ধরা অথচ দারোয়ানের অনুমান হলো ভিন্ন কিছু।মুহুর্তেই রটে গেলো আদওয়া আর ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক।দূই পরিবারের মজলিসে আদওয়া পুরো সময়টুকু কাঁদছিল অথচ ইমরান টু শব্দ করেনি।একবারও প্রতিবাদ করে বলেনি এসব অভিযোগ মিথ্যা।বরং এই বাচ্চা মেয়ের ওপর তার অনুভূতি গাঢ় হওয়ার একটা সুযোগ পেয়েছিলো সে।
সেদিন বাবার হাতে ধুমাধুম থাপ্পড় খেয়েছে আদওয়া।এককোনায় বসে এর সবটুকু প্রত্যক্ষ করছিলো তার ইমান ভাই।একবারও তার পক্ষ থেকে কোনো করুণা বা দয়াও আসেনি।অশ্রু টলমল চোখে ভেজাদৃষ্টিতে শেষবার ওই প্রিয় চোখে চোখ রেখেছিলো আদওয়া।সেই চোখে কোনো ভালোবাসা দেখতে পায়নি সে।বরং দেখেছিলো চরম নিষ্ঠুরতা,ঘৃণা আর অবিশ্বাস।
অথচ সবার পরে সে একটা বার চাইছিলো তার ইমান ভাই তাকে একটুখানি বিশ্বাস করুক।
সেদিনই তাদের ফিরা।খুব রাত তখন।লম্বা সারির ট্রেনটা ঝিকঝিক শব্দ তুলে ইমান ভাইয়ের বাড়ির পাশ দিয়ে চলে এলো।কতোশত নতুন যাএীর আগমন হয়েছে সেখানে।তবুও বুকে অপমান বোঝাই করে এই পরিবার কখনো আর ফিরে যায় নি আপন ভূমিতে।
এরপর কেটে গেছে তিন বছর।শহরে এসেই বাবার নতুন চাকরি কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত বদলি হতে হয়েছে তিনবার।তাই চাকরি ছেড়ে আবারও ব্যবসা।এইবার এই ইট পাথরের শহরেই শেষ ঠিকানা।বদলেছে গন্তব্য ,বদলেছে মানুষ।এখন তারা নতুন স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে।
আজকাল নিজেকে বেশ গুছিয়ে নিয়েছে সে।দ্বীনে মজলিসে বসে বুঝতে পেরেছে আল্লাহ ছাড়া কেউই আপন নয়।নিজের দূ:খ,চাওয়া বা আনন্দ সব মন খুলে শেয়ার করার মতো সর্বোত্তম বন্ধু সে পেয়ে গেছে।
সময়টা সন্ধ্যের।অসময়ে কারও ফোনকলে সদ্য লেগে আসা চোখগুলো টেনে তুললো সে।কানে ফোন লাগিয়ে ঘুমুঘুমু কন্ঠে হ্যালো বলতেই ভেসে আসে কোনো মেয়েলি অচেনা স্বর।
‘আসসালামু আলাইকুম।কে?’
ওয়া আলাইকুমুস সালাম আমি স্নেহা।’
‘সরি!রং নাম্বার!’
‘তুমি আইরা না?’
‘জ্বি।’
‘আমাকে চিনতে পারছো না?আমি স্নেহা।আজকে যে কথা হলো।’
শোয়া থেকে উঠে বসলো আইরা।মনে পড়তেই বলল, ‘হ্যাঁ মনে পড়েছে।নাম্বার কোথায়…
‘আরে রেজীস্ট্রী খাতা থেকে নিয়েছি।তুমি ঘুমাচ্ছিলে?’
‘হুম।’
‘হোমওয়ার্ক করেছো?’
‘কিসের হোমওয়ার্ক?’
‘বোটানির।’
‘করবো না।আমি আসব না আর।’
‘কেন কেন?’
‘প্রতিবার অপমানিত হই।সবাই হাসে আমাকে নিয়ে।’
‘হেরে গেলে চলবে?তুমিও দেখিয়ে দিবে যে তুমিও পারো।’
‘পারলে তো দেখাবো বলো!’
‘পারবে।কালকে তো ফিগার ড্রয়িং।এঁকে নিয়ে আসো।’
‘জলজ্যান্ত জীব না হয় আঁকা যাবে চোখমুখ দিয়ে।স্কেলিটন কীভাবে ড্রয়িং করবো।’
‘না পারলে কপি করে তুলে নিও।কালকে দেখা হচ্ছে।বায়!’
ভোরের আকাশের আলোর দিকে বিমোহিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হাফসা।সূর্যটা যেন রক্তিম লাল রং ধারণ করেছে। মেঘহীন আকাশ, ফুরফুরে বাতাস এবং ফিনফিনে অনুভূতিতে নিজেকে বেশ আনন্দিত অনুভব করল সে।ভাইয়ার সাথে দারুণ সময় কাটছে তার।তবুও একটু মন খারাপ থেকেই যায়।গতকাল পৌঁছে বা আজকেও উনার একটাও বার্তা আসেনি।উড়ে এসে জুড়ে বসা মন খারাপের জন্য কি এই কারণ যথেষ্ট নয়!
ভাবনার মধ্যেই মেসেজ টিউন বেজে উঠল।সালাম দিয়েই তিনি বললেন, ‘আমি আসতে পারছিনা।মাহের আপনাকে পৌঁছে দিয়ে যাবে। আর আপনার যে জন্য মন খারাপ , আফওয়ান।শোধ হিসেবে এসে না হয় কয়েকটা মার দিয়ে দিবেন।’
বাসায় আসতে আসতে সাড়ে নয়টার কাটা পেরিয়েছে।ড্রয়িং রুমেই ছিলেন আম্মু, আর আরহাম।আরহামের দিকে গোল গোল দৃষ্টিতে তাকালো হাফসা।উনাকে সবসময়ের মতো প্রাণবন্ত লাগছে না কেন!
আরহামের সাথের স্বল্প আলাপ শেষে মাহের বিদায় নিতে যাচ্ছিলেন এমন সময় কানে আসে, ‘আর খাবো না আম্মু আমি গেলাম।দেরী হলে আবার এঙ্গরিম্যান পানিশমেন্ট দিবেন।এত রাগী স্যার পুরো ডিপার্টমেন্টকে কাঁপিয়ে…
ম্ ম মানে দেরি হলে তো পানিশড হতে হ্ হবে।’
স্যারকে ঠিক কাঙ্খিত মুহুর্ত সামনাসামনি দেখে কথাগুলো সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলো সে।দ্রুতপায়ে বেরিয়ে গেলেও মাহের একবারও চোখ তুলে তাকালেন না।তবে মুখ ফসকে বেরোনো কথাগুলো উনার কানে ঠিকই পৌঁছে গেলো।
বোনকে বিদায় দিয়ে বেরিয়ে যেতেই আরহাম হাফসার হাতে আলতো স্পর্শ করলেন।হাঁড় কাঁপানো শীতের মতো নরম হাতখানা যেনো কনকনিয়ে কেঁপে উঠল।
তাকে রুমে নিয়ে এসে বললেন ,
‘আমি সামনাসামনি হলেই শুধু আপনার ফোবিয়া।মাহের এর সামনে তো এমন কাঁপেন না।এ রোগের কি ট্রিটমেন্ট আছে বলুন!’
হাফসা উনার চোখে চোখ রাখতে পারলো না।তবে অনুভব করছে ওর হাতটা পুড়ছে।লোকটার শরীরে এতো জ্বর?
থেমে থেমে কোনোমতে আরহামের কপালে হাত রাখলো সে।আরহাম চমৎকৃত হলেন তার এমন স্পর্শে।ওর হাতে নিজের হাত রেখে বললেন, ‘এমন অসুস্থতার নিয়ামত আমার বারবার আসুক,যে নিয়ামতে আপনার সান্নিধ্য পাওয়া যায়।’
ক্লাসে এসেই হোমওয়ার্ক চেক করতে চাইলেন স্যার।আইরা এই কিছু সময়ে বুঝে গেছে আজকেও তাকে নিয়ে সবাই হাসবে।সবাই কেমন চালাকি করে চাপ মেরে নিয়ে এসেছে আর সে এঁকেছে পায়রার ট্যাং,মুরগীর ট্যাং।এছাড়া আজকে সকালের ইন্সিডেন্ট,সব মিলিয়ে অবস্থা সুবিধার নয়।আজকেও কপালে তিন নাম্বার দূ:খের প্যাকেট আছে।যা হোক হবে,এটা দেখিয়ে আর কোনো লজ্জ্বাজনক পরিস্থিতিতে সে পড়তে চায় না।
একে একে সবার ড্রয়িং গুলো খুব মনোযোগ দিয়ে চেক করছেন স্যার।একেবারে শেষ সময় তার ডেস্কের সামনে এসে নোটস না পেয়ে থমথমে গলায় জিজ্ঞেস করলেন , ‘হোমওয়ার্ক মিসিং ,রাইট?
আইরা নিরুত্তর।পুনরায় তার দিকে সেইম প্রশ্ন আসতেই ভয়ে মাথা নত করলো।শুনতে পেলো, ‘ইউ মাস্ট বি পানিশড্…
‘এ্ এনেছি হোমওয়ার্ক।’
পানিশমেন্ট এর ভয়ে কথা আটকে রাখতে পারলো না সে।ড্রয়িং টা চুপিচুপি বের করে সামনে রাখলো।সাথে সাথে আড়চোখে দেখলো এই লোকটা খুব সাবধানে নিজের হাসিটুকু গিলে নিলেন।
স্যারের এমন এক্সপ্রেশনে কয়েকজন উঁকি মেরে দেখতে চাইলো তার ড্রয়িং।সেটা হয়তো টের পেয়েই স্যার চট করে সেটা আড়াল করে নিলেন।স্যারের দিকে আর তাকালো না সে।ছিহ!ক্লাস টু থ্রীর বাচ্চারাও হয়তো এর থেকে ভালো পারে।
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৩০
ক্লাসে আর কোনো বাড়তি আলাপ হলো না আর।শুধু বললেন, ‘আমি আপনাদের ড্রয়িং করতে বলেছিলাম ,চাপ তুলে আঁকতে বলিনি।বাট এর বাইরে যে কয়জন নিজে থেকে চেষ্টা করেছেন সেগুলো ফানি হলেও খারাপ ছিল না।আই হোপ নেক্সট টাইম ডুপ্লিকেট করবেন না।’
মাহের বেরিয়ে যেতেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আইরা।আজকের মতো বাঁচা গেছে!
