অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫২
Maha Aarat
কিছু কিছু আঘাত খুব তিক্ত।চঞ্চলা,আবেগী মনটাকে বিষিয়ে দেয় তীব্রভাবে।সেই আঘাতে বারংবার মৃত্যু হয় এক মনের,হৃদয় আহত হয় কষ্টের তীর্যক বেত্রাঘাতে।
গভীর রাত!আকাশে ঘন কালো মেঘ জমেছে,শীতল আবহাওয়া যেনো বিষিয়ে তুলেছে উত্তপ্ত কিছু দক্ষিণা বাতাসের কবলে।বারান্দার পর্দাটা ছুটাছুটি করছে,ঝালর বাতিগুলো দূলছে ধীর গতিতে।কিছুটা ঠান্ডা লাগা সত্ত্বেও মনের ভেতর যেনো কঠিন উত্তাপ বইছে।চাদর টা খুলে রেখে ওরনার ভেতর থেকে খোঁপা করা চুলগুলো ছেড়ে দেয় আইরা।চোখের দৃষ্টিতে আনমনে ভাসছে পুরনো কিছু স্মৃতি।মনে পড়ছে প্রথম সাক্ষাৎসহ রঙ্গিন কিছু সময়।আইরার বিরক্ত লাগছে,বিরক্তির মাত্রাও বাড়ে যখন আম্মু এসে অহেতুক প্রশ্নগুলো করেন।
সে নিশ্চয়ই বোঝা হয়ে যাবে না বাবার ফ্যামিলিতে থাকলে?বাবা ভাইয়ের তো যথেষ্ট আছে তাকে বহন করার।আর খুব বেশী অসুবিধা হলে সে নিজেকে নিজেকে গুছিয়ে নিবে।তবুও অহেতুক প্রশ্নগুলো থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক।
পায়ের শব্দ পেতেই আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আইরা।আম্মু এসে অস্থিরভাবে তাকে ধরে বেঁধে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কি হয়েছে?ঝগড়া হয়েছে দূজনের?মাহের কেনো ফোন তুলছে না।হাফসার ফোন ও বন্ধ।আর মাহের কাল ওভাবে চলে গেলোই বা কেন?বাসায় কেন আসলো না?আইরা,উত্তরগুলো জানা প্রয়োজন আমার।’
আইরার বাহু ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করছিলেন আম্মু।অথচ সে একেবারে নীরব স্বরে উত্তর দেয়, ‘আম্মু,
আমি এখন বুঝতে পারছি আমার জীবনে যতগুলো সিদ্ধান্ত আমি নিজ থেকে নিয়েছি দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছি তাঁর বেশীরভাগ গুলোই ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো।এখনকার টাও তাই।’
আম্মুর চোখেমুখে আতঙ্ক যেনো আরোও চারগুণ বাড়ে।আইরার দিকে মলিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আচমকা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিলেন।চোখ বুজে মা’র বুকে সুখ পেতে ব্যর্থ হয় সে।এক প্যাকের সুখের মূল্য যে বড্ড চড়া!
‘কষ্ট পেলে তুমি হাত পা ছড়িয়ে কান্না করো।এখন এতো নীরব কীভাবে?তুমি ভালো ছিলে না?এমন পাথর হয়ে গেলে কেন?’
কান্নাগুলো মুঠো ভরে পেটের ভেতর বাক্সবন্দি করে রাখে সে।উদাস স্বরে আওড়ায়, ‘দূর থেকে দেখলে আমাদের চোখে যা সুন্দর লাগে,কাছে আনলে অনেক সময় সেটা কুৎসিতও হতে পারে।’
কাঁচের গ্লাস ভেদ করলে চোখে ভাসে মস্তো বড় স্থাপত্য।চারিদিকে কোলাহল আর ব্যস্ততায় মোড়া শহরে যেনো শান্তির বাতাস নেই।বুকের ওপর যেনো এক অদৃশ্য ভারী পাথর নিজ ইচ্ছেমতো জায়গা করে নিচ্ছে অথচ বাহির থেকে তাকে এতো শান্ত দেখে হাফসা হতবিহ্বল।
সে একটু হলেও বুঝতে পারছে আইরার এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মাহেরের জন্য যেনো এক বড়সড় ধাক্কা।তিনি এখনো বোধহয় মেনে নিতে পারছেন না নয়তো মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভাইকে এভাবে চুপচাপ থাকতে দেখে কিছু বলতে গিয়েও ভেবে নিচ্ছে হাফসা।মাহেরের গতকালকের পুরো রাতটুকু জেগে বেলকনিতে কাটিয়ে দেওয়ার সাক্ষী ছিল সে নিজেই।
গুটি গুটি পায়ে পাশাপাশি দাঁড়ালো ভাইয়ের।মাহের দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাঁর দিকে ঘুরে বললেন, ‘খিদে লেগেছে।’
‘লাঞ্চ রেডি করা।’
কাঙ্ক্ষিত উত্তরটা পেয়েও কেন জানি আগালেন না মাহের।উনার খিদে লাগেনি,হাফসার সামনে অস্বস্তি কাটানোর সেটা একটা অজুহাত মাত্র।
‘ভাইয়া।’
‘উমম।’
‘আফওয়ান।আমাকে ক্ষমা করে দাও।’
হাফসার কন্ঠ দূর্বল।মাহের তৎক্ষনাৎ তাঁর দিকে মনোযোগী হয়ে বললেন, ‘কি হয়েছে বোন?’
হাফসা অকপটে উত্তর দেয়, ‘আমার একটু আঘাতে তুমি যেমন উতলা হও,আপনজন ছেড়ে আসা মেয়েটার জন্য কেন হোওনা?আইরার দূ:খ পাওয়ার সম্পূর্ণ দায়ভার আমার।আমি তোমাকে জোর করেছিলাম।’
নাহ!তাঁর ভাইয়ের কোনো ভাবাবেগ নেই তাঁর প্রতি।হাফসা কথা বাড়ায় না আর।খাবার রেডি করে দিয়ে চুপচাপ রুমে চলে যায় সে।
মিশরে তখন সন্ধ্যা সাতটা।মসজিদ থেকে ফিরে রুমে এসে ক্লান্ত দেহে সোফায় ধাম করে বসলেন আরহাম।দিনে আটঘন্টা ক্লাস,আর রাতের অসম্পূর্ন ঘুম শরীরটাকে একেবারে নিস্তেজ বানিয়ে রেখেছে।কি দরকার ছিল দূই দূইটা কলিজার টুকরো বউ রেখে দূর দেশে এসে পড়ে থাকতে!
ফোন বের করে প্রথমেই আম্মুর নাম্বারে কল দিলেন।কলটা ওপাশ থেকে হয়তো কেটে গেলো।তারপর হাফসার ফোনে কল দিতেই বুঝলেন রিং হচ্ছে না।ডিরেক্টলি কানেক্ট হতে চেয়ে বুঝলেন, ফোন অফ।ক্লান্তির পারদটুকু যেনো টুকটুক করেই সীমানা ছাড়ালো আরহামের।আম্মুর ফোনে পরপর তিন চারটা কল দিতেই তিনি কথা বললেন।হাফসার কথা জিজ্ঞেস করে আশানুরূপ কোনো উত্তর না পেয়ে উঠে দাঁড়ালেন আরহাম।বুকের ভেতরটা এমনিই ধুকপুক করছে।তাঁর ওপর এই মানুষটার ফোন বন্ধ শুনে কেমন অনুভূত হয়?
আম্মুর পরে মাইমুনার সাথে স্বল্প আলাপ শেষেই মাহেরকে কল দিলেন।নাহ,তারা ভাইবোনের কোনো খোঁজ নেই।আশ্চর্য তো!
রাগ আর বিরক্তির মিশেলে খুবই অগোছালো এক অনুভূতি হলো আরহামের।ফোন অফ রেখে হিটার অফ করে কমফোর্টার জড়িয়ে শুয়ে পড়লেন তিনি।উমায়েরের ওপর মাঝে মাঝে বড্ড বেশী অভিমান হয় উনার।একটা মানুষ চিন্তা করতে করতে পাগল হয়ে যাবে,অথচ তাঁর কোনো কিছু যায় আসে না।এতো নীরব কেন আপনি!
বাবার বাড়ি এসেছে দিন দূয়েক হলো এশার।অথচ রায়ানের অফিসে ঠিকই কন্টিনিউসলি হাজিরা দিতে হচ্ছে।এ নিয়ে এশা মুখ ফুলালে রায়ান বরাবরই সহ্য করে গিয়েছেন।কিন্তু কাল রাতে যে ঝড় গিয়েছে এরপরে আর সাহস হয়নি বউয়ের সামনে দাঁড়ানোর।রাগের সীমা ছাড়িয়ে আজ সে বলেছে,নেক্সট টাইম আমি বাবার বাড়ি আসলে আপনিও আসবেন না বেহায়ার মতো।সকালে কাপড়চোপড় নিয়ে সোজা বাসায় চলে যাবেন।আমি একমাস থেকে পরে শান্তিতে আসবো।
নিচু হয়ে দাঁত দিয়ে নখ খুঁটতে খুঁটতে বোকাভঙ্গিতে রায়ান উত্তর দিলেন, ‘তুমি এমনভাবে বলতে পারো না!’
‘কেন?লজ্জ্বা লাগে?’
রায়ানও অমন লাজুক ভাব নিয়ে উত্তর দিলেন, ‘হুমম।’
‘ইসস!এতো লজ্জ্বা এজন্য মেয়েদের পিছুপিছু ঘুরতেন।আমাকে না কি নাচানো টা নাচালেন।ব্যাগ গুছিয়ে রাখবো।আজ চলে যাবেন।’
‘তুমিও চলো!”
‘আমার বাবার বাড়ি এটা!আমি কেন যাবো?’
‘আমার বউয়েরও বাবার বাড়ি এটা আমি কেন যাব?’
‘আপনার বউয়ের।আপনার তো না।’
‘আমার বউ মানে আমি।আমি মানে আমার বউ।’
এশা দাঁত কিড়মিড় করতে করতে হজম করে নিলো।এ লোকটা তাকে ইচ্ছে করে ক্ষেপাচ্ছেন!
রায়ান তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে আম্মুকে ডাকতে ডাকতে বললেন, ‘আম্মু শুনছেন!’
মিসেস মাইশা কিচেন থেকে ছুটে এসে উত্তর দিলেন, ‘বলো বাবা!’
‘আমি কি চলে যাব?’
‘কেন?কেন যাবে?’
‘আমি কি শ্বশুরবাড়ির বোঝা হয়ে যাচ্ছি আম্মু?’
আম্মু এবার আন্দাজ করে নিতে পারলেন কিছুটা।এশার রুমের দিকে কড়া দৃষ্টি রেখে রায়ানের প্রশ্নের উত্তর দিডে দিতে এগোলেন সেদিকে।
বিছানায় আধশোয়া হয়ে ফোনে ব্যস্ত এশা।আম্মুর হঠাৎ ধমকে হুলস্থুল করে উঠলো।
‘রায়ানকে কি বলেছো তুমি?’
পিছনে দাঁড়িয়ে তাকে বত্রিশ পাটি দাঁত বের করা মানুষটার দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো সে।ধীরসুরে বলল, ‘আ্ আমি তো কিছু বলিনি আম্মু।’
‘তুমি না বলায় রায়ান কষ্ট পেয়েছে।তোমাকে আমার চেনা আছে।এমন কথা বলবে আর তো..
রায়ানের ক্ষেপা হাসি দেখে মেজাজ যেনো এবার তুঙ্গে উঠলো এশারও।আওয়াজ তুলে বলল, ‘আমি কি এমন বলে ফেলেছি যে উনি বিচার দিয়েছেন।আমি থাকবোই না আর তোমার বাড়িতে।তুমি থাকো তোমার গোয়েন্দা নিয়ে।’
আম্মু কিছু একটা বিড়বিড় করতে করতে চলে গেলে রায়ান গম্ভীরস্বরে বললেন, ‘কোথায় যাবে?আমি কি এগিয়ে দিব?’
এশার চাপা রাগ আরও তাজা হয়ে উঠলো তখুনি।চুপচাপ ডায়াল থেকে নাম্বার বের করে কাউকে ফোন দিলো সে।কল তুলতেই বলল, ‘বাবা আপনি এসে নিয়ে যেতে পারবেন আমাকে?’
রায়ান কান এগিয়ে আনলেন।ওপাশ থেকে কি উত্তর আসলো শোনা গেলো না।এশা উত্তর করল, ‘জ্বি না সমস্যা না।আমি একা আসব তাই…
ওপাশের ব্যক্তি বোধহয় সম্মত হলেন।ড্রেসিং টেবিলে হেলান দিয়ে চুপ হয়ে রইলেন রায়ান।এশার ফুলানো চেহারায় তাকে এতোটা কোমল লাগছে।ইসস সত্যি সত্যি সে চলে যাচ্ছে ভেবে কিছুটা আফসোস করলেও মুখে বললেন, ‘বা বাহ।মেয়ের ক্ষমতা আছে দেখি।যাও তবে রাতে একা ঘুমাতে পারবে না দেখে আমাকে আবার ফোন করে অনুরোধ করো না,প্লিজ।’
এশা শুধু কটমট দৃষ্টিতে তাকালো।নীরবে হজম করে নিলো ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না বাবা আসলেন।বাবা এসে দেখলেন রায়ান বাসায়।অফিসে এখনো যায়নি সে তাহলে সে নিজেই পৌঁছে দিতে পারতো বউমাকে ভেবে জিজ্ঞেস করলে এশা উত্তর দিলো, ‘তারা জোট হয়ে আমাকে নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছে।আমি থাকবো না আর।’
মিসেস মাইশা নিজেও কিংকর্তব্যবিমূঢ়।মাহমুদ সাহেব রায়ান আর মিসেস মাইশার দিকে তাকালেন একপলক।অতপর এশার দিকে ফিরে বললেন, ‘তাহলে আমরাও তাদের ছাড়া থাকতে পারবো।চলো চলো।’
গাড়ির উঠার পর অব্দিও এশা অপেক্ষা করছিলো তাঁর মা বা রায়ান একবার বাঁধা দিক।অথচ তারা দিব্যি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিদায় দিচ্ছে দেখে ক্রোধের আগুন আরও তরতর করে জ্বলে উঠলো।সে এতোই মূল্যহীন তাদের কাছে!
সন্ধ্যের পরক্ষণ।আম্মু তিলাওয়াত সেরে উঠতেই কলিং বেলের আওয়াজ হয়।একটু ক্ষণের জন্য মনে হলো আরহাম এসেছে।পরক্ষণেই মন:ক্ষুন্ন হলেন তিনি।উনার কলিজার আধখান তো অনেক দূরে।
ডোর খুলে মাহেরকে দেখে একটু চমকালেন তিনি।অতপর সালামের উত্তর দিতে দিতে আসার সুযোগ করে দিলেন।মাহের কুশল আলাপের মাঝ দিয়ে এদিক ওদিক তাকালেন।পরক্ষনেই আম্মুর কথায় মনোযোগী হয়ে বললেন, ‘জ্বি,হাফসা ভালো আছেন।’
‘তুমি বসো আমি আসছি।’
‘জ্বি না আম্মু বসুন।কিছু জরুরী কথা ছিলো।’
আম্মু যেনো এহেন কথারই অপেক্ষায়।কিচেনে সার্ভেন্টদের চোখ ইশারা দিয়ে মাহেরের দিকে মনোযোগী হলেন।
মাহের অনুতপ্ত সুরে এক ধমকায় সরাসরি আলোচনায় গিয়ে বললেন, ‘উনি কিছু বলেছেন?’
‘কতো জিজ্ঞেস করলাম।বলে না।তুমি বলো কি হয়েছে?’
আম্মুর অস্থির কন্ঠ!মাহের দম নিয়ে বলতে শুরু করলেন, ‘কিছু মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে।তবে ভুলটা আমার ছিলো।উনার রাগ করে আসাটা অনুচিত নয়।বাট এখন আসবেন আমার সাথে?আমি ক্ষমা চেয়ে নিবো।’
‘জানি না।একেবারে রোবট হয়ে থাকে সারাক্ষন।নিজের প্রতি কোনো কেয়ার নেই,রুম থেকেও বের হয় না সারাদিন।’
মাহের কিছুটা ইতস্তত করে বললেন, ‘আমি উনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?’
‘এক্ষুণি ডেকে দিচ্ছি আমি।’
আম্মু হূলস্থুল করে আইরার রুমের দিকে গেলেন।একজোড়া চোখ চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়ে রইলো দৃষ্টি শেষ সীমান্তে।আম্মু দরজা ধাক্কা দিলেন বেশ কয়েকবার।কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো আওয়াজ নেই।তাঁর ফোনেও রেসপন্স নেই।ফোন রিং হচ্ছে, কিন্তু তোলা হচ্ছে না।আম্মু ফিরে এসে হতাশ সুরে বললেন, ‘খুললো না।’
মাহের নিরস জবাব দিলেন, ‘আচ্ছা।’
‘তুমি রেস্ট করো।তোমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে। এর মাঝে আমি ওকে আবার ডেকে দিব।’
গ্লাসের ফ্রেম পরিষ্কার করে চোখে পড়তে পড়তে উঠে গেলেন মাহের।উপরের ঠিক আইরার রুমের দিকে এক পলক তাকিয়ে আম্মুর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আচ্ছা আসি।’
‘হাফসাকে নিয়ে আসলে না কেন?থেকে যেতে তাহলে।আমি কীভাবে আইরাকে বুঝাবো?’
‘টেক কেয়ার।আব্বুকে আমার সালাম দিবেন।আসি।’
আম্মু নিশ্চুপ হয়ে রইলেন শুধু।সমস্যা টা যেখানে তারা স্বীয় স্বামী-স্ত্রীর।সেখানে বুঝানো ছাড়া আর কিই-ই বা করতে পারেন তিনি।
বেলকনিতে বসে ছিলো সে।বাহিরে বাইকের আওয়াজ শুনতেই চোখ ফেলে নিচে।মাহের ততক্ষণে হ্যালমেট পড়ে নিয়েছেন।বেলকনিতে পর্দা দিয়ে নিজের রুমে ফিরে আসলো সে।প্রথমে ভুল,অবহেলা,ইগনোরেন্স তারপর?তারপর এসে সরি!
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫১
জিদ করে বিয়ে করা যায়,সংসার নয়।এই হালকা বৃষ্টিতে হয়তো জ্বর আসবে উনার।তাতে তাঁর কী?সব চিন্তা ঝেড়ে কমফোর্টার জড়িয়ে শুয়ে পড়লো সে।সারাদিন যন্ত্রণা,কষ্ট আর মন খারাপের পর একটুখানি সময় মস্তিষ্কের পাওনা থেকে যায়।নয়তো পরের দকল টা সামলানো বেশ মুশকিল হবে!
