অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৪
Maha Aarat
‘এতো এলার্ম কেন বাজছে সকাল সকাল?’
বলেই মোড় ঘুরতেই চোখ পিটপিট করে তাকায় আইরা।পরক্ষণেই নিজের অবস্থান দেখে খুব দ্রুত উঠে বসে সে।বিছানার একেবারে কর্ণারে বালিশ ছাড়া শুয়ে মাহেরের বুকের ওপর পা জোড়া তাঁর।সকাল সকাল এরকম ঘটনা নিশ্চয়ই লজ্জ্বাকর।মাহের চুপচাপ অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।উনার গম্ভীর মুখোবয়ব দেখে আন্দাজ করা দূ:সাধ্য যে উনি কোন মুডে আছেন।উনাকে দেখে মনে হচ্ছে বেশ আগেই ঘুম ভেঙেছে উনার।আর ঘুম থেকে উঠে এমন মারাত্মক চিত্র দেখেই বোধহয় থ হয়ে তাকিয়ে ছিলেন।
‘স্ সরি।’
চোয়াল ঝুলিয়ে বললো আইরা।মাহের উঠতে উঠতে বললেন , ‘আদর করে বুকে এনে শুইয়েছিলাম,তাই।’
সে ব্যস্তকন্ঠে বলতে লাগলো, ‘ন্ না বিষয়টা ওরকম না।আমি আসলে…
‘ওকে।’
মাহের হাতঘড়ি খুঁজছেন।পেয়ে হাতে পরতে গেলেই ভ্রু কুঁচকান।
‘সকাল সকাল এত এলার্ম দিয়ে রেখেছেন আমি ঘুমাতে পারিনি।’
‘অলমোস্ট বারোটা বাজে।উঠো যেতে হবে।’
সে কমফোর্টার শরীরে জড়িয়ে নিতে নিতে বলল , ‘আমি যাব না।’
‘মানে?’
‘একবার এসেছি এখন এত তাড়াতাড়ি যাওয়া সম্ভব না।আপনি নিতে পারবেন না আমাকে।’
‘আমি কি করব?’
‘আপনিও থাকবেন।এখান থেকে আপনার অসুবিধা হবে না,আই হোপ।’
মাহের শুধু একপলক তাকালেন কেবল।আইরা ঘুমে ডুবতে ডুবতে চিন্তা করছিল,রাতে তাঁর মনে হয়েছিল লোকটা একটু বদলাচ্ছেন অথচ সকাল হতে না হতেই তাঁর মস্তিষ্ক তাকে গুঁতো দিয়ে বুঝিয়ে দিলো,কিছু ভাবনা কেবল ক্ষনিকেই সুন্দর।
ছুটির দিনে ঘুমের রেশ বেশীই থাকে।ঘড়িতে সাড়ে এগারোটা অথচ বাসায় এতো মানুষ থাকার পরও বাসা নীরব,শুনশান।বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন আহনাফ তাজওয়ার।একা একা আর কতক্ষণ থাকা যায়।মিসেস আফসানা উনার বোনদের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত।অতএব কথা বলার মতো আর কেউ থাকলো না।মেয়েটা আসার পর থেকে তাঁর সাথে ভালোভাবে কথা অব্দি হয়নি।
তিনি দরজায় নক করতেই মিসেস আফসানা কড়াচোখে তাকালেন।আহনাফ তাজওয়ার চুপিসারে আবার নিজের জায়গায় অসার হলেন।সেন্টার টেবিলে পড়ে আছে গতকালকের পুরনো নিউজপেপার।বিরক্তি নিয়ে সেটা হাতে তুলে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই স্ত্রীর আগমন ঘটে।
‘কিছু কি দরকার?’
আহনাফ তাজওয়ার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলেন না।মিসেস আফসানা বার কয়েক জিজ্ঞেস করেও উত্তর না পেয়ে উঠে যাওয়ার মুহুর্তেই আরহাম ধীরে ধীরে নিচে নেমে এলেন।আব্বুর উদ্দেশ্যে সালাম দিতেই তিনি সম্পূর্ণ মনোযোগ উনার দিকে গেঁথে বললেন , ‘এতো বেলা করে ঘুমাচ্ছে সবাই তাও রোযার দিনে?আলসি আসে না?’
আরহাম একটু ইতস্তত করে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললেন , ‘বুঝতে পারিনি এতোটা বেজে গেছে।আর কেউ উঠেনি?’
‘না।’
‘এক্সারসাইজ কিছু করো।ফিট লাগবে।’
বাবা ছেলের কথোপকথনের মধ্যেই মাহের নেমে এলেন ধীরে ধীরে।আরহাম তাকে দেখেই ফিক করে হেসে চুপিসারে বললেন , ‘সামলে কিন্তু।’
মাহের ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।উনি কি এখনো বাচ্চা না কি।অথচ আহনাফ তাজওয়ার কে মিটিমিটি হাসতে দেখে একটু লজ্জ্বায় পড়ে গেলেন।
আরহামের মুখে হাত।মাহেরের এভাবে প্রেস্টিজে লাগলো আরহামকে লুকিয়ে লুকিয়ে হাসতে দেখে।আব্বু বোধহয় সবকিছুই নোটিশ করছিলেন।মাহেরের ঢাল হয়ে তিনি বললেন, ‘হাসির কিছু দেখছি না।সে তো সামলাচ্ছে,তুমি পারবে?পারবে না।’
লুঙ্গি পড়ে দূর্ঘটনা ঘটার একটা মজার মেমোরিস আছে মাহেরের ছোটবেলার।আর সেটা মনে করেই হাসি থামাতে পারছেন না আরহাম।মাহেরের নার্ভাস ফিল হচ্ছে ,পাশে শ্বশুরমশাই না থাকলে আরহামকে ইচ্ছেমতো কয়েকটা কেলানি দিয়ে দিতেন।
আহনাফ তাজওয়ার অন্য আলোচনায় গেলেন কিন্তু তবুও আরহামের হাসি থামছে না দেখে এবার বেশ ধমকে বললেন , ‘যাও তুমি লুঙ্গি পরো।তাহলে আর তাকে ক্রিটিসাইজ করতে পারবে না।’
আরহাম হাসি থামালেন এবার।
‘সরি আব্বু।’
‘ইউ ডিজার্ভ পানিশমেন্ট।’
আরহাম যেনো ভালো চিপায় পড়লেন।পরিস্থিতি সামলে নিতে বললেন , ‘আমার তো প্যান্ট আছে।আমি তাকে দিচ্ছি।উই ক্যান শেয়ার।’
‘যা বলেছি সেটা করো।’
মাহেরও এবার তীক্ষ্ণ হেসে মসলাপাতি যোগ করতে বললেন , ‘গুরুজনদের কথা অমান্য করতে নেই।’
আরহামের চোখেমুখে এবার কালবৈশাখের সমস্ত আঁধার যেনো নেমে এলো।নতমুখে বললেন, ‘আমার নেই।’
‘আমার একটা পড়ে আসো।’
‘আমি তো ওয়্যার করতে পারি না।’
‘কীভাবে পরবে তোমার ব্যাপার।তবে এই গেটআপে তোমাদের এক্সারসাইজ করাবো আজ।বসে খেয়ে খেয়ে মেদ বেড়েছে তোমাদের।’
মাহের পেটে হাত দিলেন।সেইম সাইজের শার্টগুলো ইদানীং একটু টাইট’ই হয়।কিন্তু এমন এক্সারসাইজ তিনি করবেন না যাতে মানসম্মানের পাকোড়া হয়ে যায়।আরহাম উঠে গেলে তবেই কথা শুরু করবেন।নয়তো সে বদলা নেওয়ার সুযোগ ছাড়বে না।
আরহাম চলে গেলে মাহের ধীরসুরে বললেন , ‘বলছিলাম আমার একটু অসুস্থ লাগছে।সামনের মাস থেকেই আমি জিম করবো।আমার মনে হয়,আপাতত কোনো এক্সারসাইজের প্রয়োজন নেই আমার।’
আহনাফ তাজওয়ার পূর্ণদৃষ্টিতে তাকালেন।এর মানে টা একটু আগের হিসেব মনে করিয়ে দিচ্ছে, ‘গুরুজনদের কথা অমান্য করতে নেই।’
রুমে আসার পর আইরার চক্ষু চড়কগাছ।চোখ কপালে তুলে সে জিজ্ঞেস করলো, ‘আপনি এ এ অবস্থায়?কেন?’
‘তো?’
‘এটা?’
‘দুদিন হচ্ছে এক কাপড়ে আছি।চেইন্জ করবো না?’
‘তাই বলে আব্বুর লুঙ্গি?’
‘কেন?’
আইরা তাকালো না আর।তার নিজেরই সাই লাগছে।প্রথমদিন শ্বশুরবাড়ি এসে শ্বশুরের লুঙ্গি পরার মতো বিব্রতকর পরিস্থিতি দুটো নেই।প্রেস্টিজ আর কিছু থাকলো আর?
‘আপনার আনইজি লাগছে না?’
‘এতক্ষন লাগেনি।এখন লাগছে।’
আইরা কিছুটা অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে বলতে লাগলো, ‘আপনার কাপড় লাগতো আমাকে বলতেন কোথা থেকে আব্বুর লুঙ্গি হায়ার করলেন?’
‘উনার থেকেই।’
মাহের আইরার এবনরমাল বিহ্যাভ নোটিশ করলেন।তাদের ভাই বোনের বিহ্যাভ দেখে মনে হচ্ছে ,তিনি এখনো ছোট।দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন , ‘আই উইল চেইন্জ ইট।’
তাদের আজকেই ফিরতে হলো।মাহের জোরাজোরিতে সে আর আবদার করতে পারলো না।আসার আগে আব্বুর সাথে মাহেরের আলাপ হলো।ভদ্রলোক ভীষণ ফ্রেন্ডলি মাহেরকে আপন করে নিয়েছেন।মাঝে মাঝে মাহের প্রশ্নবিদ্ধ হোন।ইনি কি আসলেই উনার ফাদার ইন লো?না,গেটআপে খুব একটা মনে হয় না।সদ্য যুবকের মতো টানটান শরীর না হলেও মেদহীন শক্তপোক্ত শরীরে এখনও পুরুষালি ভাব।দু একটা দাঁড়ি পাকা না থাকলে আরহাম আর উনাকে বাবা-ছেলে সম্বোধন করা বোধহয় কঠিন হতো।
তাকে চমৎকার করে বলেছিলেন , ‘ইয়াংম্যান,আমার কন্যার হাসি আমার সকল অসুখের উপশম।এখানে আসার পরের হাসিটা আমার সামনে এক্টিং ছিলো,আমি বুঝতে পারি।আমি সে বিষয়ে তোমাকে কিছু বলবো না কারণ এখন তোমরা একসাথে থাকছো,মান অভিমান,সম্পর্কের টানাপোড়ন থাকবেই।কিন্তু কোনো বিষয় বড় করো না।নয়তো তাজা সম্পর্কও একসময় নিষ্প্রাণ হয়ে যাবে।
মিসেস আফসানা দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন।আহনাফ তাজওয়ারের শেষের কথাটা বোধহয় উনার উদ্দেশ্যেই ছিলো।
‘তুমি আবার এসো।আরহামের পানিশমেন্ট বাকি।কয়েকদিনে সে প্র্যাকটিস করে নিবে আর তুমিও।’
আজকের ক্লাসটা আইরার জয়েন করতে হবে মাস্ট।এক্সামের জন্য কিছু ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে,সাথে এতদিনের মিস হওয়া ক্লাসগুলোর নোট কালেক্ট করতেই আসা তাঁর।কথা ছিলো মাহের তাকে বাসায় পোঁছে দিয়ে তারপর হসপিটাল যাবেন।
প্রফেশনাল লাইফে তাদের সম্পর্কটা পাবলিক হওয়া মানেই মাহেরের প্রেস্টিজে স্পট লাগা।তাই আজকাল প্রাইভেসি টা একটু ডিপ হয়েছে।কথা ছিলো দূই ক্লাস শেষ হওয়ার পরপরই সে বাইরে গিয়ে দাঁড়াবে।মাহের আগে থেকে অপেক্ষা করবেন।তারপর দূজনে একসাথে ফিরবেন।অথচ তপ্ত রোদে সে দাঁড়িয়ে আছে মিনিট দশেক হলো প্রায়।কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছে উনার কোনো পাত্তা নেই।ব্যাগ হাতড়ে ফোনটা বের করতে গিয়ে তার মনে হলো আড়চোখে কেউ একজন তাকে দেখছে।আইরা ষষ্ঠইন্দ্রীয়ের বিশেষ ক্ষমতায় ঠাহর করে নিলো সেই লোকের অবস্থান।আইরার একহাত বামে,সে লোকটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আইরার সমস্ত শরীর কেঁপে উঠলো অজানা কোনো আতঙ্কে।বিষাক্ত অশুভ দৃষ্টির ভেতরে আটকা পড়া সে।এই মাঝদূপুরে রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা নেহাতই কম।আইরা সরে দাঁড়ালো ,কাঁপা কাঁপা হাতে স্ক্রিনে ডায়াল করল মাহেরের নাম্বার।অমনি তার মনে হলো,পাশের লোকটা তাঁর দিকেই এগিয়ে আসছে।এবার ভয়টা ক্রমশ বাড়লো তার।রিং হচ্ছে কিন্তু ফোন তুলছেন না তিনি।
আইরার মনে হলো,এই ইনসিকিউরড জায়গা থেকে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়াই উত্তম।সে উদ্দেশ্যে পা বাড়াতে গিয়ে মনে হলো,কেউ একজন বেড়ি দিয়ে পিচের সাথে বেঁধে রেখেছে তার পা।ভয়ে কণ্ঠনালি কেঁপে উঠছে তার।কন্ঠনালি থেকে কোনো শব্দ বের করতে অক্ষম সে।মাহেরের ফোনে তখনো রিং হচ্ছে কিন্তু রেসপন্স নেই।এ পর্যায়ে কান্না আসছিল তার।মাঝবয়সী লোক,অথচ তার চোখেমুখে লালসাময় নগ্ন দৃষ্টি।তার পাশ দিয়ে মানুষ হেঁটে যাচ্ছে সে পারছে না মুখফুটে একটু সাহায্য চেয়ে নিতে।কাঁধের ব্যাগটা শক্ত করে ধরে উল্টোঘুরে দাঁড়ালো সে।আব্রুর আড়ালে তার কম্পন কেউ ঠাহর করতে পারবে না কিন্তু হেঁচকির মাত্রা আন্দাজ করা সহজ।
হুট করেই কাঁধে স্পর্শ লাগতেই চমকে তৎক্ষনাৎ সরে গেলো সে।দৃষ্টি তুলে যখনি মাহেরকে দেখল তার শুষ্ক হৃদয়ে প্রাণ ফিরে এলো যেনো।
‘সরি দেরি হয়ে..
কথা শেষ না করেই আটকান মাহের।নিকাবের ছোট্ট ফাঁকে তার ভেজাচোখ দেখে চমকালেন তিনি।তৎক্ষনাৎ জিজ্ঞেস করলেন , ‘আর ইউ ওকে?এনি প্রবলেম?’
আইরা কান্নামাখা অথচ ভয়ার্ত চোখে মাহেরের পিছনে দৃষ্টি ফেললো।দেখলো লোকটা এখনো আগের মতোই তাঁর দিকে তাকিয়ে।ভয়ে,শঙ্কায় মাহেরের হাত চেপে ধরে কেবল বলল, ‘চ্ চলুন।’
মাহের থামালেন তাকে।চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করলেন , ‘আমি দেরি করায় তুমি কাঁদছো না।তাহলে কি জন্য কাঁদছো?’
আইরার ভয় কিছুটা নিভলো এবার।মাহেরের আড়ালে লুকিয়ে কেবল বলল, ‘আ্ আপনার পিছনের লোকটা এতক্ষণ…
‘এতক্ষন…
‘লোকটা খারাপভাবে তাকাচ্ছিলো আমার ভয়…
মাহের পিছু ফিরলেন।উনার পেছনে একজন লোকই দাঁড়িয়ে।কালোমতো ,রুগ্ন শরীর।এলোমেলো চুল আর ছাঁপ দাঁড়ি।মাহের কিছু না বলেই এগিয়ে আসলেন।কোনো কিছু না বলেই আচমকা আক্রমণ করে বসলেন।একটা থাপ্পড় দিতেই মুখ থুবড়ে পড়ে গেল লোকটা।আচমকা ঘটনায় আইরাও কিংকর্তব্যবিমুঢ়।মাহের থামলেন না।লোকটার কলার চেপে ধরতেই আরও দূয়েকজন জড়ো হলো।মাহেরের নীরব মুখে এমন আগুন কখনো দেখেনি আইরা।লোকটার মুখ বরাবর কয়েকটা ঘুসি দিতেই কিছু লোক জড়ো হয়ে ছাড়িয়ে নিলো।
আইরা টেনে আনলো মাহেরকে।উনার এমন উগ্র আচরণ আশাই করেনি সে।গাড়িতে উঠে বলল, ‘এমন করলেন কেন।যদি কোনো সমস্যা হতো।’
মাহের চুপচাপ হয়ে আছেন।উনার কপালের রগগুলো ফুলে আছে এখনো।চোখে যেন অগ্নিদৃষ্টি।চোখমুখে কঠিন ভাব।আইরা চুপ হয়ে গেলো,আর প্রশ্ন করলো না।কিন্তু তার চোখ থেকে সরছে না সেই ভয়াবহ দৃষ্টি।
বাসায় আসার পরেই মাহের লম্বা শাওয়ার নিলেন।আইরা এক কাপড়েই চোখবুঁজে শুয়ে রইলো কাউচে।তার এখনো অস্থির লাগছে।মাহের শাওয়ার শেষে বেরিয়ে আসলেও বাইরে যাওয়ার কোনো তাড়া না দেখে জিজ্ঞেস করলো,
‘আপনি তো বেরোবেন?’
‘যাচ্ছি না।’
আইরা খুশি হতে পারলো না।অন্যদিন হলে বোধহয় হতো।মাহের তার মুখোমুখি হয়ে বললেন , ‘ব্যাপারটা কোথা থেকে শুরু হয়েছে? ‘
আইরা প্রথমে মনে করতে চাইলো না এই বীভৎস দূর্ঘটনা।মাহেরের অনুরোধে সম্পূর্ণ টা বলতে বলতে তার হেঁচকি উঠে গেলো।আব্রুতে আবৃত থাকা মেয়ের জন্য গায়রে মাহরামের নগ্ন দৃষ্টির চেয়ে ভয়াবহ কিছুই নেই বোধহয়।কিছুই নেই।
এ পর্যায়ে তাকে বড্ড দূর্বল মনে হলো।এক হাতে নখ খুঁটতে খুঁটতে বাচ্চাদের মতো হেঁচকি তুলে তুলে কেঁদেই চলেছে সে।মাহেরের মনে হলো এই ইনোসেন্ট বেবিগার্লের চোখেমুখে কান্না একদমই মানায় না। সে তো একটা জীবন্ত ফুল।আর এ মুহুর্তে তাকে স্বান্তনা দেওয়ার আর কেউ নেই।
মাহের এগিয়ে এলেন।বিনা দ্বিধায় মাথায় হাত রাখলেন।বললেন , ‘এক্সট্রিমলি সরি।আমার দেরী হওয়ার জন্য তুমি হার্ট হয়েছো।এরকমটা হয়েছে আমার জন্যই।সরী।’
আইরার মনে হলো,উনার এক শীতল স্পর্শেই তাঁর দূ:খ রাতারাতি ঝরে পড়লো।অন্তত এই মুহুর্তের জন্য নিজেকে এত সুখী ভাবতে ভুলে গেলো না সে।
“হয়েছে তো।কেঁদো না আর।সে তো তাঁর পানিশমেন্ট পেয়েছে।ওই হায়েনার বাচ্চা তো দুশ্চরিত্রের।আমি তোমার সেইফটি নিশ্চিত করবো।কেউ তোমাকে ছুঁয়ে দেখারও সাহস ও করতে পারবে না।তোমাকে টাচ করার রাইট শুধু আমার।’
আইরা ফুঁপিয়ে উঠলো।তার চোখে ভেসে উঠলো সেই নগ্নদৃষ্টি!
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৩
“কেঁদো না আর,বাচ্চা।তোমার সাথে যদি কোনো দূর্ঘটনা হওয়ার থাকে, সেটা আমাকে দিয়েই হবে।সো, বি নরমাল।”
মাহের এই প্রথম তার চোখে গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন।আইরা পিটপিট করে তাকিয়ে রইলো।সেই গভীর দৃষ্টি বুঝতে গিয়ে লজ্জ্বায় নুয়ে পড়লো সে।ভেজা চুলে টাওয়াল চালাতে চালাতে মাহের মুচকি হেসে চুপচাপ প্রস্থান করলেন।
