অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৬
Sathi
__ কি হলো, চুপ হয়ে গেলে কেন?
__ না, এমনি।
বলেই চুপ হয়ে যায় সেতু। তার মাঝেএক ধরনের অস্বস্তি, যেন কিছু বলতে গিয়ে আবার নিজেকে আটকে ফেলেছে।
“জেহেফিল বাকা চোখে তাকায়। ঠোঁটের কোণে হালকা এক দুষ্টু হাসি। ইঁদুরটার মনে কী চলছে সে ভালোই জানে। গাড়ি একটু ধীরে করে। সেতু কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঠা*স করে এক চুমু দিয়ে দেয় ওর গালে।
“সেতু তখন অন্য মনস্ক ছিল। ছোটবেলার কিছু স্মৃতি ভাবছিল। সেই স্মৃতির ভেতরেই ডুবে ছিল সে। হঠাৎ জেহেফিলের এমন কান্ডে রাগে অগ্নিকুণ্ড হয়ে তার দিকে ফিরে তাকায়।
__ এইসব কী? যখন তখন ঠা*স ঠা*স চুমু কেন দেন?
” সেতুর কথায় জেহেফিল মজা পেয়ে ভ্রু তুলে তাকায়।
__ ঠা*স ঠা*স করে চুমু আবার কিভাবে দিই, অর্ধেক বউ?
__ এই যে এখন দিলেন। একদম আমাকে চু*মু দিবেন না।
__ তো কী হয়েছে না দিলে? তুমি কি ভাবছো তোমাকে চু*মু না দিয়ে আমি থাকতে পারবো না? বাকুয়াস। আমি সব পারি। নিজেকে এত ইম্পর্ট্যান্ট ভাবার কিছু নেই।
“কথাটা বলেই সেতুর দিকে তাকিয়ে দেখে সে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে। সেই দৃষ্টি যেন সরাসরি তার বুকের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় দেখে জেহেফিল ঢুক গিলে। সেতু কিছু বলার আগেই হঠাৎ ঝুঁকে নাকে একটা চু*মু দিয়ে সামনে ফিরে যায়।
__ এখন আমার দোষ নেই। তুমি এইভাবে তাকিয়ে আছো কেন? এমনভাবে তাকালে কি কেউ চু*মু না খেয়ে পারবে?
__ ওহহ, তাই না।
বলতে বলতে সেতু নিজের সর্বশক্তি দিয়ে জেহেফিলের চুল টেনে ধরে।তাড়াতাড়ি করে গাড়ি থামিয়ে জেহেফিল গম্ভীর স্বরে বলে।
__ ১০০টা চুমু খেতে না চাইলে চুল ছাড়ো।
জেহেফিলের বলতে দেরি সেতুর ছাড়তে দেরি নেই। যেন আ*গুনে হাত পড়েছে এমন ভাবে দ্রুত হাতে ছেড়ে দেয়। নাক মুখ কুঁচকে সেতু তাকিয়ে থাকে। আর জেহেফিল বাকা হেসে আবার গাড়ি স্টার্ট দেয়।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি এসে থামে এক নির্জন জায়গায়, একটা পুরোনো কিন্তু সুন্দর বাংলো বাড়ির সামনে।
চারিপাশে তাকিয়ে সেতুর বু*ক ধড়ফড় করে ওঠে। চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা। দূরে কেবল বাতাসে গাছের পাতার শব্দ। আশেপাশে মানুষের চিহ্নও নেই।ভয়ার্ত চোখে জেহেফিলের দিকে তাকাতেই দেখে সে নিজেও ভ্রু কুঁচকে তাকে দেখছে।
__ এটা আমার একটা বাংলো। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করবো, তাও তোমার শরীরে এক ফোঁটা আঁ*চড় পড়তে দেবো না।
__ এমন জায়গায় কেন নিয়ে এসেছেন? অন্য কোথাও পারতেন।
__ তুমি কি চাচ্ছো বাড়ির সবার সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দিই? তাহলে চলো, বাড়িতে যাই।
সেতু তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ে।
__ না না। আমি কেন পরিচিত হবো! ঠিক আছে নামুন, আমি গাড়ি পরিষ্কার করে দিচ্ছি।
“বলেই সেতু নামতে গেলে জেহেফিল হাত বাড়িয়ে তাকে আটকে দেয়।গাড়ি থেকে পানির বোতল নিয়ে এগিয়ে দেয় সেতুর দিকে।
__ এই নাও। এত নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই। পানি খাও, শান্ত হও।
বলেই বোতলটা সেতুর হাতে দেয়।কিছু না বলে সেতু বোতল নিয়ে ধীরে ধীরে পানি খেতে শুরু করে। তার হাত সামান্য কাঁপছে। সেতুকে পানি খেতে দেখে জেহেফিলের ঠোঁ*টে অদ্ভুত এক হাসি ফুটে ওঠে।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ সেতুর মাথা কেমন যেন ঘুরতে শুরু করে।চোখ ফিটফিট করে জেহেফিলের দিকে তাকায়।
কিছু বলার আগেই জেহেফিল বলে ওঠে.
__ দেখি, ওঠো। এইভাবে তাকাচ্ছ কেন? কাজ না করার বাহানা তাই না?
__ না… আসলে মাথাটা কেমন ঘুরছে।
__ কী? এইদিকে এসো।
বলেই জেহেফিল তাকে কাছে টেনে নেয়।সেতু আর নিজেকে সামলাতে পারে না। আস্তে করে চোখ বন্ধ করে ফেলে।চোখ বন্ধ করতে দেখে জেহেফিল স্বস্তির একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে।তারপর সেতুকে কোলে তুলে নিয়ে ধীরে ধীরে বাড়িটার দিকে হাঁটতে শুরু করে বাড়ির দিকে।
“সেতুকে কোলে নিয়ে জেহেফিল সোজা বাড়ির ভেতরে ঢুকে যায়। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের রুমে চলে আসে।সাবধানে সেতুকে বেডে শুইয়ে দেয়।
তারপর নিজে পাশে বসে পড়ে।আস্তে আস্তে করে সেতুর মাথার স্কার্ফ খুলে ফেলে দেয়।সেতুর কোনো খবর নেই। সে গভীর অচেতন ঘুমে ডুবে আছে।
“জেহেফিল বেশ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকে। সেই দৃষ্টিতে অদ্ভুত এক হিসাবি ভাব।নিজের মোবাইলটা নিয়ে রুমের এক কোণে সেট করে। এমনভাবে রাখে যাতে পুরো বেডের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায়।সব ঠিক করে নিয়ে আবার বেডের কাছে ফিরে আসে।সেতুর উড়না টেনে নিয়ে নিজের চোখ বেঁধে ফেলে।তারপর ধীরে ধীরে সেতুর শ*রী*রের সম্পুর্ণ কাপড় খুলতে শুরু করে।পাশাপাশি নিজের শার্টও খুলে ফেলে।পাশে থাকা ব্ল্যাঙ্কেট টেনে দুজনের ওপর ঢেকে দেয়। এমনভাবে যে শুধু মুখ দুটো স্পষ্ট দেখা যায়, যা মোবাইলের ক্যামেরায় ধরা পড়ছে।
“প্রায় অনেকক্ষণ নিজের মতো করে সব শেষ করে জেহেফিল আবার সেতুর শ*রী*রে কাপড় জড়িয়ে দেয়।নিজেও আবার শার্ট পরে নেয়। সব কাজ শেষ করে চোখ খুলতেই হঠাৎ থেমে যায়।দেখে সেতুর গলা দিয়ে সামান্য র*ক্ত গড়িয়ে পড়ছে। এক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে। তারপর আবার ঝুঁকে গিয়ে শব্দ করে চু*মু খায়।সেতুর শ*রী*রের সাথে এত কিছু হয়ে যাচ্ছে, সে কিছুই জানে না।গভীর ঘুমে ডুবে আছে সে।জেহেফিল উঠে মোবাইলে ভিডিওটা সেভ করে।তারপর কাউকে কল দিয়ে এখানে আসতে বলে।কথা বলা শেষ করে আবার সেতুর পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে। কিন্তু চোখ বন্ধ হয় না।একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেতুর দিকে। মনে মনে যেন অনেক হিসাব কষছে।তারপর ধীরে ধীরে সেতুর কাছে ঝুঁকে ঠোঁ*টের উপর ঠোঁ*ট বসিয়ে দেয়।
“২ ঘণ্টা পর”
ফিটফিট করে সেতু চোখ খুলতেই দেখে চোখের সামনে সাদা সিলিং।তাড়াতাড়ি করে উঠে বসতে যায়।ঠিক তখনই একটা মেয়ের কণ্ঠ ভেসে আসে।
__ ম্যাম, তাড়াহুড়া করছেন কেন? আপনার শ*রীর ভালো না।
“বলেই মহিলাটা এগিয়ে এসে সেতুকে ধরে আবার শুইয়ে দিতে চাইলে সেতু তাকে থামিয়ে দেয়।ভ্রু কুঁচকে মহিলাটার দিকে তাকায়।দেখে সে ডাক্তারের পোশাক পরে আছে।তবে তাকে ম্যাম কেন বলছে?কি মনে করে নিজের দিকে তাকায় সেতু। সব ঠিক আছে… তবে স্কার্ফটা কোথায়?মহিলাটা বোধহয় সেতুর মনের ভাব বুঝতে পেরেছে। তাই লম্বা শ্বাস ফেলে বলে।
__ ম্যাম, আমি আপনার স্কার্ফ খুলেছি। আসলে জেহেফিল স্যার আমাকে কল করেছেন। আমি একজন ডাক্তার। আপনি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় আমাকে ডেকেছেন দেখার জন্য।
__ কী হয়েছে আমার?
ডাক্তারের কথা শেষ হওয়ার আগেই সেতু প্রশ্ন করে।
ডাক্তার একটু চোখ সরিয়ে নিয়ে বলে।
__ আপনার শ*রীর* প্রচুর দুর্বল। আপনি খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করছেন না। তাই দুর্বলতার কারণে অজ্ঞান হয়ে গেছেন।
“কথাটা শেষ হতেই কট করে দরজা খোলার শব্দ হয়।সেতু তাকিয়ে দেখে, জেহেফিল। তার সারা শ*রীর ভিজে, যেন সবে গোসল করে এসেছে।গম্ভীর স্বরে বলে।
__ তুমি যাও এখন।
জেহেফিলের কথায় ডাক্তার চলে যায়।জেহেফিল ধীরে ধীরে সেতুর কাছে আসে।ভেজা শ*রী*রের কারণে বেডে না বসে দাঁড়িয়েই বলে।
__ শ*রীর এত দুর্বল কেন? খাবার ঠিকমতো খাচ্ছ না কেন?
তীক্ষ্ণ কণ্ঠে প্রশ্নটা করে।সেতু তাকায়। আসলে সে দুই দিন ধরে ঠিকমতো কিছু খায়নি। মায়ের ভয়ে।
তবে সেই ভয়ের কারণ তো জেহেফিলই। ভাবতেই রাগে ফেটে পড়ে সে।এক লাফে উঠে জেহেফিলের সামনে গিয়ে বলে।
__ তার জন্য দায়ী আপনি! আপনার ভয়ে আমি খাবার খাচ্ছি না। আম্মুদের সামনে যাচ্ছি না। তাই ডাইনিং টেবিলেও যেতে পারছি না।
__ আমার ভয়ে?
অবাক কণ্ঠে বলে জেহেফিল।সেতু আরও ক্ষেপে যায়।
__ হ্যাঁ, আপনার ভয়ে। ঐদিন যে মিথ্যে বলে আমার নামে কুটনামি করেছেন, সেইদিন থেকে ভয়ে আম্মুর সামনে যাই না।
__ কোনো মিথ্যে কুটনামি ছিল না। চু*মু তো খেয়েছো।
অতঃপর আবার একেবারে স্বাভাবিক গলায় বলে।
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৫
__ ওকে, এখন টেনশনের কিছু নেই। আমি শাশুড়ি আম্মুকে আজ বলে আসবো, বকা না দেওয়ার জন্য।
“বলেই জেহেফিল সেতুর জবাবের অপেক্ষা না করে ওয়াশরুমে চলে যায়।পিছনে সেতু হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।মনের মধ্যে আবার ভয় ঢুকে যায়।আম্মুর কাছে যাবে মানে।
