অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৫
নুরিয়া ইসলাম
খোঁপার চুল ধরে টান পড়তেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গেল ইনায়া। রুখসানা বেগমের কঠিন, দৃঢ় মুঠো তার প্রতিটি চুল ছিঁড়ে নিতে চাইছে যেন। চিৎকার করে কাঁদতেও ভুলে গেল সে, শুধু এক নীরব, তীব্র আর অসহনীয় কষ্ট অনুভব করল নিজের মাঝে ।
ওই দিকে মারিয়া রুখসানা বেগমকে থামানোর জন্য তাদের পিছু পিছু ছুটছে। পরিস্থিতি এমন চরম রূপ নেবে, তা সে কল্পনাও করেনি। রুখসানা বেগমের উন্মত্ত রূপ দেখে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দ্রুত রুখসানা বেগমের হাত ধরে বলল,
—”চাচি, থামুন! প্লিজ! এভাবে ওর গায়ে হাত তুলবেন না! শান্ত হোন!”
কিন্তু রুখসানা বেগম মারিয়ার কোন বাধায় গ্রাহ্য করলেন না। আরো জোরে চুলের মুঠি টেনে ইনায়াকে টেনে নিয়ে চললেন দরজার দিকে। তিনি মারিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“বাড়ির বউ বাড়ির বউয়ের মতো থাক! তুমি কী জানো না এই পাপের শাস্তি কী হতে পারে? এই কলঙ্কিনীকে এক্ষুনি এই পরিবার থেকে বিদায় করতে হবে! এই সন্তান সমাজের জন্য অভিশাপ!”
ইনায়ার চোখের কোণ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল, কিন্তু তার মুখে কোনো শব্দ ছিল না। সে যেন পাথর হয়ে গিয়েছিল, অসহায়ের মতো নিজেকে টেনে নিয়ে যেতে দিচ্ছিল। যখনই তারা প্রধান দরজার কাছে পৌঁছাল, ইনায়া হঠাৎ নিজের সর্বশক্তি দিয়ে রুখসানা বেগমের হাত ছাড়িয়ে মেঝেতে বসে পড়ল। দু’হাতে পেট চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
—”না! চাচি, আপনি যা খুশি বলুন, যা খুশি করুন, কিন্তু আমার সন্তানকে অবাঞ্ছিত বলবেন না! হ্যা আমি নির্দিধায় স্বীকার করছি আমি একজন মুসলিম হয়ে একজন বিধর্মীকে ভালোবেসেছি।
ইনায়ার কথা শুনে রুখসানা বেগম ঘৃণায় মুখ কুঁচকে বলে উঠলেন,
— “ভালোবাসা! ছিঃ! বিধর্মীর সঙ্গে তোর আবার কিসের ভালোবাসা! এই ভালোবাসা কেবল পাপ, ইনায়া! আর এই পাপের ফসল তুই তোর গর্ভে ধারণ করেছিস।
এই বলে তিনি ইনায়ার চুল আরো শক্ত করে চেপে ধরলো। তার এই অপ্রত্যাশিত আক্রমণে ইনায়া ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো। তার চোখ ফেটে জল আসলো, কিন্তু সে কোনো প্রতিবাদ করতে পারলো না। রুখসানা বেগম তাকে
টানতে টানতে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। মারিয়া রুখসানা বেগমকে বারংবার থামানোর চেষ্টা করছে ।
—“চাচি, আপনি কী করছেন? ছাড়ুন ইনায়াকে! ওর শরীর খারাপ লাগছে!” মারিয়া রুখসানা বেগমের হাত ধরে টেনে ধরলো।
মারিয়ার কথায় রুখসানা বেগমের রাগ আরও বেড়ে গেল। তিনি মারিয়াকে জোরে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলেন। মারিয়া ছিটকে গিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল।
—“দূর হ আমার সামনে থেকে! তোদের দুজনেরই একইরকম নষ্ট স্বভাব! তোরা সব ক’টা মিলে এই শেখ বংশের নাম ডুবিয়েছিস!”
রুখসানা বেগম চিৎকার করতে করতে ইনায়াকে টেনে নিয়ে গেলেন বাড়ির ড্রইংরুমের দিকে, যেখানে শানাওয়াজ শেখ এবং সামীর শেখ সকালের খবরের কাগজ পড়ছিলেন।
রুখসানা বেগমের এমন অসংযত আচরণ আর চিৎকার শুনে সবাই দ্রুত ড্রইংরুমে ছুটে এলো। শানাওয়াজ শেখ খবরের কাগজ থেকে চোখ তুলে রুখসানাকে এভাবে ইনায়াকে টেনে আনতে দেখে হতবাক হলেন।
—“রুখসানা, কী হচ্ছে এসব? মেয়েটার হাত ছাড়ো! কীসের এত শোরগোল?” শানাওয়াজ শেখের কণ্ঠে স্পষ্ট বিরক্তি ফুটে উঠলো।
রুখসানা বেগম ইনায়াকে প্রায় ছুঁড়ে ফেলে দিলেন সবার সামনে। ইনায়া মাটিতে পড়ে গিয়ে পেটে হাত দিয়ে বসে পড়ল। তার মুখ ফ্যাকাশে, আর চোখেমুখে তীব্র আতঙ্ক জ্বলজ্বল করছে।
—“দেখুন বাবা, দেখুন আপনার আদরের নাতনি কী করেছে!”
শানাওয়াজ শেখ অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে ছেলের বউয়ের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন,
—”কী করেছে সে?”
রুখসানা বেগম হাত নেড়ে উত্তেজিত হয়ে বললেন,
—”কী করেনি বাবা তাই বলেন! আপনার এই আদরের নাতনি কুমারী বয়সে মা হয়েছে! তাও আবার ওই খ্রিষ্টান ছেলের সন্তানের।”
এই কথাগুলো শুনে ঘরের ভেতর এক চরম নীরবতা নেমে এলো। শানাওয়াজ শেখের হাত থেকে খবরের কাগজটা পড়ে গেল। সামীর শেখের মুখটাও ভয়ে শুকিয়ে গেল। তানভির আর পরিবারের অন্য সদস্যরা স্তম্ভিত হয়ে ইনায়ার দিকে তাকাল।
—“কী বলছো তুমি রুখসানা! তুমি জানো তুমি কী বলছো?” শানাওয়াজ শেখ উঠে দাঁড়ালেন, তার কণ্ঠস্বর কম্পিত হয়ে উঠলো।
রুখসানা বেগম দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,
— “হ্যাঁ বাবা, আমি সত্যি বলছি! ওর পেটে ওই খ্রিস্টান এরিকের সন্তান! আমি নিজের কানে শুনেছি মারিয়া আর ওর কথা , আর তার হাতে আমি প্রেগন্যান্সি কিটটা দেখেছি!”
মারিয়া ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছিল। সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললো,
—“আসলে, দাদু। ইনায়া…” সে এর বেশি কিছু বলতে পারলো না।
শানাওয়াজ শেখ ধীর পায়ে ইনায়ার কাছে গেলেন। তার মুখটা পাথরের মতো কঠিন হয়ে আছে তীব্র রাগে। তিনি ইনায়ার দিকে তাকিয়ে শান্ত অথচ তীব্র কণ্ঠে বললেন,
—“দিদিভাই, রুখসানা যা বলছে তা কি সত্যি?”
ইনায়া মাথা নিচু করে রইল। তার ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু কোনো কথা বেরোলো না তার মুখ থেকে। তার নীরবতা রুখসানা বেগমের অভিযোগকে আরও দৃঢ় করে তুললো। তার চোখ থেকে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ল।
শানাওয়াজ শেখ চোখ বন্ধ করলেন কিছুক্ষণের জন্য, তিনি ভাবতেও পারেননি তার নাতনি এমন কিছু করতে পারে। তার দীর্ঘদিনের গড়া সম্মান, পারিবারিক ঐতিহ্য সব যেন এক মুহূর্তে গুঁড়িয়ে যাওয়ার পথে। তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে কঠিন স্বরে বললেন,
—“এইভাবে আমাদের মুখ ডোবালি তুই! এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তোকে।
জীবনে এই প্রথমবার, শানাওয়াজ শেখ আক্রোশে ইনায়ার গায়ে হাত তুললেন। তাঁর থাপ্পড়ের তীব্রতা ঘরের নীরবতা খান্ খান্ করে ভেঙে দিল। আকস্মিক চড়ের আঘাতে ইনায়ার মাথা ঘুরে গেল, সে তলিয়ে গেল মেঝেতে। তার গালে পাঁচটি আঙ্গুলের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ফুটে আছে।
রক্তবর্ণ চোখে এবং দাঁতে দাঁত চেপে শানাওয়াজ শেখ তার উপর ঝুঁকে দাঁড়ালেন, ইনায়াকে উদ্দেশ্য করে কর্কশ স্বরে বলে উঠলেন,
—“উত্তর দাও! তুমি কী সত্যিই ওই খ্রিষ্টান ছেলের পাপের বীজ তোমার গর্ভে ধারণ করেছো। তুমি কী জানো না মুসলিম মেয়েদের উপর কি কি বিধান দেওয়া আছে। এইগুলো জানা সত্বেও তুমি কিনা একজন খ্রিস্টানের সাথে জেনা করেছো! এটা শুধু অবৈধ নয়, ইনায়া! এটা ‘হারাম’! তুমি আমার বংশীয় পবিত্রতাকে আঘাত করেছো! ”
তিনি ক্রোধে কাঁপতে কাঁপতে ঘরের চারদিকে পায়চারী করতে লাগলেন।
—আমি শানাওয়াজ শেখ! এই সমাজে আমার ইজ্জত সবার উপরে! তুই এইসব নোংরামি করার আগে একবারও ভাবলি না তোর এই কাজের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে? তোর এই কাজের জন্য আমার এতদিনের মান-সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে যাবে? এতকাল যাদের চোখ তুলে তাকানোর সাহসও ছিল না, আজ তোর জন্য তারা এই শেখ পরিবারের দিকে আঙ্গুল তুলবে!”
কথাগুলো বলে তিনি ইনায়ার দিকে ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে তাকালেন। তার মুখের অভিব্যক্তি আরো গাঢ় হয়ে উঠলো।তিনি এক প্রকার ইনায়াকে শাসিয়ে বললেন,
—তুই যদি তোর এই গর্ভের জারজ সন্তানকে নিয়ে এই বাড়ি থেকে এক পা-ও বেরোস, তাহলে মানুষ কী বলবে জানিস? তারা শুধু তোর দিকে নয়, এই শেখ পরিবারের দিকেও আঙুল তুলবে! এটা আমি হতে দিবো না!হয় এই সন্তানকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে— না হয় আদিলকে তোর বিয়ে করতে হবে।
ইনায়া মাটিতে পড়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল, কেবলমাত্র নিজেকে রক্ষা করার শেষ চেষ্টা হিসেবে ফিসফিস করে বলল,
—”দাদু, প্লিজ… আমার সন্তান… সে তো নিষ্পাপ।”
শানাওয়াজ শেখ চিৎকার করে উঠলেন, তাঁর প্রভাবশালী কর্তার কণ্ঠস্বর পুরো বাড়িতে প্রতিধ্বনিত হলো,
—“চুপ! তোর ওই বিধর্মীর ঔরস কখনও নিষ্পাপ হতে পারে না! শরীয়ত এই সম্পর্ককে কবুল করবে না! কিন্তু আমি তোর মতো কলঙ্কিনীকে লোকসমাজে ঠেলে দিয়ে আমার বংশের বদনাম হতে দিতে পারি না! সামীর!”
তিনি থামলেন। থমথমে আওয়াজে সকলকে অবাক করে বলে উঠলেন,
—“সামীর! কালকেই আদিল আর ইনায়ার বিয়ের আয়োজন কর। কাল সকালেই ইনায়ার সাথে আদিলের বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে! যেভাবেই হোক, সুর্যাস্তের আগে কাবিন হবে!
শানাওয়াজ শেখ আবার ঘৃণার চোখে ইনায়ার দিকে তাকালেন, যে তখনও কাঁপছিল রাগে।
—“তোর পেটের এই সন্তানকে আদিলের সন্তান বলেই সমাজ জানবে! সেই খ্রিস্টান ছেলের নামটা যেন আর কখনও এই বাড়িতে কেউ না করে! এটাই তোর শেষ সুযোগ! এই বংশের সম্মান বাঁচানোর ঋণ তোর জীবন দিয়ে শোধ করতে হবে!”
তিনি দৃঢ় পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন, একটি কঠোর ফতোয়া জারি করে। পিছনে পড়ে রইল শুধু ইনায়ার মৃদু আর্তনাদ এবং পরিবারের স্তব্ধতা, যা প্রমাণ করছিল, সম্মান রক্ষার এই চরম খেলায় আবেগ সম্পূর্ণভাবে পরাজিত।
শেওনায়াজ শেখ তাঁর নিজের ছোট্ট ঘরটায় বসে মনোযোগ দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। তাঁর ঠিক পাশেই মেঝেতে একটি পুরোনো চায়ের কাপ অবহেলায় পড়ে ছিল, আর তা থেকে হালকা ধোঁয়া তখনও কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরে উঠছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে এরিক দরজায় কোনো প্রকার অনুমতি নেওয়ার তোয়াক্কা না করে, সেটি ঠেলে ভেতরে ঢুকল। সোফায় বসা শেওনায়াজের দিকে একপলক তাকিয়েই, এরিক দ্রুত পায়ে হেঁটে গিয়ে নিজের জায়গা করে নিল তারই পাশের সোফাটিতে।
শেওনায়াজ শেখ এরিককে দেখামাএ হাতে থাকা খবরের কাগজটি সশব্দে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সোজা হয়ে বসলেন। এরিকের চোখে চোখ রেখে কর্কশ কন্ঠে বললেন,
—আমার পরিবারের সম্মান নষ্ট করে কোন সাহসে তুমি আমার সামনে এসেছো। তুমি কি এই শেওনায়াজ শেখের ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত নও।
শেওনায়াজ শেখের এমন অপ্রত্যাশিত তীব্র বাক্যবাণে এরিকের চোখে-মুখে কোনো বিশেষ পরিবর্তন এল না, বরং তার দৃষ্টিতে স্থির ঔদ্ধত্য ফুটে উঠল। শেওনায়াজের ক্রোধ ও ক্ষমতা প্রদর্শনের মুখেও সে অবিচল রইল। তার বসার ভঙ্গিটি সামান্যও বদলাল না, যেন সে এই পরিস্থিতির জন্য পূর্বপ্রস্তুত ছিল। তার ঠোঁটের কোণে এক অস্পষ্ট, তাচ্ছিল্যের হাসি খেলা করে গেল।সে নিজেকে সংযত রেখে খুব শান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল,
—আপনার সামনে আসার যথেষ্ট কারণ আছে।আপনি কোন সাহসে আমার বউকে আবার বিয়ে দেওয়ার কথা বলেন এটা জেনে যে সে আমার সন্তানের মা হতে চলেছে।
এরিকের কথা শুনে শেওনায়াজ শেখ নিজের এক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে থমথমে গলায় বলে উঠলেন,
—বউ! কীসের বউ!অবৈধ সম্পর্কে হালালের বৈধতা খুঁজতে এসেছো। তাছাড়া সমাজের চোখে এ সম্পর্ক এমনিতেই পরিত্যাজ্য।একজন ধর্মপ্রাণ পুরুষ হিসেবে, আমি কোনোভাবেই একজন খ্রিস্টান ও একজন মুসলিমের মধ্যে বিয়ে দিয়ে এই ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক সংঘাতকে প্রশ্রয় দিতে পারি না।
—তাছাড়া তুমি একজন খ্রিষ্টান হয়ে আমার নাতনির শারীর স্পর্শ করেছো তাতে তোমার কি মনে হয় এই সমাজ তার পবিএতার দিকে আঙ্গুল তুলবে না।কোন কলঙ্কীনি নারী হয়ে সমাজে বেঁচে থাকার চেয়ে একজনের অর্ধাঙ্গীনি হয়ে বেঁচে থাকা অধিক সম্মানের।
শেওনায়াজ শেখের এই কথাগুলি এরিকের স্থির ঔদ্ধত্যকে মুহূর্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর ক্রোধের আগুনে পরিণত করল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, পেশিগুলো ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সোফার হাতলের ওপর রাখা তার হাতটি মুষ্টিবদ্ধ হলো রাগে। ঠোঁটের কোণের সেই তাচ্ছিল্যের হাসিটা নিভে গিয়ে সেখানে জমা হলো তীক্ষ্ণ বিরক্তি।
—”আই ডোন্ট গিভ আ ফ্লাইয়িং ফাক অ্যাবাউট ‘সোসাইটি’ অর ইয়োর লজিক।আমি আমার বউয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছি কোন বাজারি মেয়ের সাথে নয় যে সমাজ আমার বউয়ের চরিত্রের সার্টিফিকেট দেবে।আপনি বা আপনার সমাজের কোন অধিকার নেই আমার ভালোবাসা আর অঙ্গীকারের ফলকে কলঙ্কীতা বলার!
মিস্টার শেওনায়াজ শেখ এরিককের কথা শুনে রেগে বলে উঠলেন,
—তোমার এই উগ্র আচারণের জন্য কখনো আমি আমার নাতনিকে তোমার হাতে তুলে দিবো না।
মিস্টার শেওনায়াজ শেখের কথা শুনে এরিক একটা ডেভিল হাসি দিয়ে বললো,
অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৪ (২)
—”হু কেয়ারস! ”
কথাটি বলেই এরিক সোফা থেকে দাঁড়িয়ে মিস্টার শেওনায়াজ শেখের উদ্দেশ্য এক প্রকার
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলে উঠলো,
—আমিও দেখবো মিস্টার শেওনায়াজ শেখ, এই এরিক অ্যাসফোর্ড বেঁচে থাকতে কীভাবে আপনি আমার বউয়ের দ্বিতীয় বিয়ে দেন।
কথাটি বলে এরিক আর এক মুহুর্ত সেইখানে দাঁড়ালো না সোজা বেরিয়ে গেল রুম থেকে এই দিকে এরিক চলে যেতেই শেওনায়াজ শেখের কপালে গভীর চিন্তার ছাপ ফুটে উঠলো।
