অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২০
রুপা
পুষ্প নিজের পেটের অসহ্য ব্যাথা আর কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না। সে আর কোনো কিছু না ভেবেই দুহাতে জড়িয়ে ধরল আর্যকে; শক্ত করে খামচে ধরল আর্যর টি-শার্ট। তার ভেতরের কান্না যেন আর কোনো বাধা মানছে না। হয়তো জীবনের প্রথম এই কঠিন পরিস্থিতিতে কাউকে এভাবে নিজের এত কাছে পাশে পেয়ে সে মুহূর্তের জন্য ভুলেই বসেছে সামনের মানুষটা কে—যাকে সে সবসময় যমের মতো ভয় পায়! নিজের হুঁশে থাকলে পুষ্প কি কোনোদিন আর্যকে এভাবে জড়িয়ে ধরত? তীব্র যন্ত্রণায় পুষ্পর শরীর যেন আস্তে আস্তে অবশ হয়ে আসছে, সে আর নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পেরে ঢলে পড়ল আর্যর চওড়া বুকে। ওদিকে আর্যর নিজের ভেতরে তখন এক অন্যরকম ঝড় চলছে। সে আর কোনো কিছু না ভেবে পুষ্পকে এক ঝটকায় পাঁজাকোলা করে নিজের কোলে তুলে নিল; তারপর দ্রুত পায়ে নিজের রুমে ঢুকে গিয়ে পা দিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
এদিকে নিশি ঘর থেকে বের হয়েছিল পানি খাওয়ার জন্য। মাঝরাতে হঠাৎ তীব্র পানির তৃষ্ণা পাওয়ায় সে ঘুম থেকে ওঠে; কিন্তু নিজের রুমে পানি না থাকায় সে করিডোরে চলে আসে। করিডোরে আসতেই আবছা আলোয় তার চোখ যায় সামনের দিকে—সেখানে দুজনকে ওভাবে জড়িয়ে ধরে থাকতে দেখে নিশি থমকে দাঁড়াল। সে ভালো করে খেয়াল করে দেখল, আর্য বুকের মাঝের মেয়েটাকে খুব যত্নে পরম আদরে আগলে রেখেছে। দূর থেকে মেয়েটার মুখ দেখা যাচ্ছে না ঠিকই, তবে নিশির বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলো না যে মেয়েটা আর কেউ নয়—পুষ্প! যাকে আর্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়ে করেছে।
আর্য পুষ্পকে পাঁজাকোলা করে নিজের রুমে নিয়ে ঢুকতেই নিশি তীব্র হিংসায় ভেতরে ভেতরে জ্বলে উঠল। তাহলে কি সে সিমরানের মুখে যা শুনেছে, তা সম্পূর্ণ ভুল? আর্য কি মেয়েটাকে তবে বউ হিসেবে মেনে নিয়েছে? সে সিমরানের মুখে যা শুনেছিল, আর্যর আচরণের সাথে তো তার বিন্দুমাত্র মিল পাচ্ছে না! আর্য তো মেয়েটার যথেষ্ট পরিমাণে খেয়াল রাখছে; এমনকি মেয়েটার একটু কষ্ট দেখলেই আর্য অদ্ভুতভাবে অশান্ত আর রেগে যাচ্ছে!
নিশি আর নিতে পারল না, তার মাথায় যেন রক্ত চড়ে গেল। আর্য যদি এই মেয়েটাকে মেনে নেয়, তবে সে নিজে কিছুই করতে পারবে না—তার অবচেতন মন এই সত্যটা খুব ভালো করেই জানে। কারণ আর্য নিজের জিনিস খুব ভালো করে আগলে রাখে কাউকে চোখ তুলে তাকাতে দেয়না নিজের কোনো জিনিসে। তবুও তার অহংকারী মন এই বাস্তবতাকে কিছুতেই মানতে নারাজ। সে যে করেই হোক আর্যকে নিজের করেই ছাড়বে! আর্যকে সে ভালোবাসে, আর্য সব দিক দিয়েই পারফেক্ট, আবার সে নিজেও সবদিক থেকে পারফেক্ট; তাই আর্যকে শুধু তার সাথেই মানায়! ওই গেঁয়ো মেয়েটার সাথে আর্যকে কোনোভাবেই মানায় না। নিশি নিজের ভেতরে তীব্র হিংসার আগুনে জ্বলতে জ্বলতে হনহন করে আবারও গেস্ট রুমের দিকে চলে গেল।
এদিকে আর্য পুষ্পকে কোলে করে নিজের রুমে নিয়ে এসে সযত্নে খাটের ওপর বসিয়ে দেয়। সে নিজে পুষ্পর ঠিক পাশে বসে পুষ্পর ফর্সা মুখটা নিজের দুই হাতের আজলায় তুলে নেয়; তারপর নরম গলায় জিজ্ঞেস করে কী হয়েছে, সে কাঁদছে কেন? পুষ্প কোনো উত্তর দেয় না, সে পেটের অসহ্য ব্যথায় কুঁজো হয়ে নিজের পেটটা দুহাতে চেপে ধরে। পুষ্পর এই অবস্থা দেখে আর্য আরও বেশি অস্থির হয়ে ওঠে, সে বারবার জিজ্ঞেস করতে থাকে কী হয়েছে তার।
পুষ্প দাঁতে দাঁত দিয়ে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে, তবুও ব্যথার চোটে তার মুখ থেকে মাঝে মাঝেই এক-একটি ক্ষীণ গোঙানির শব্দ বের হয়ে আসছে। আর্য হয়তো এবার পুষ্পর শারীরিক অবস্থা দেখে কিছুটা আন্দাজ করতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সে আসলে করবেটা কী? সে পুষ্পর মুখটা আবারও নিজের দুহাতে আলতো করে ধরে চোখের কোণে জমে থাকা চোখের পানি মুছে দিল; তারপর কণ্ঠস্বর যতটা সম্ভব নরম করে জিজ্ঞেস করল—
– “বেশি ব্যথা করছে?”
পুষ্প মুখে কিছুই বলতে পারল না, তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি টপটপ করে খসে পড়ছে বিছানার চাদরে। আর্যর এই মুহূর্তে নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছে। সে নিজের মনকে হাজার বুঝিয়েও মেয়েটার থেকে দূরে থাকতে পারছে না, পুষ্পর এই চোখের পানি সে কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না। মেয়েটা ব্যথায় কীভাবে কাঁদছে! কিন্তু সে এখন কী করবে? সাধারণ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে এসব বিষয় স্বাভাবিক হলেও, তাদের সম্পর্ক তো আর সাধারণ দম্পতিদের মতো নয়। সে নিজে থেকে এই বিষয়ে খুব বেশি কিছু বললে লজ্জাবতী মেয়েটা হয়তো আরও বেশি জড়োসড়ো হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেবে। এই ভেবে আর্য ভাবল—আম্মুকে ডাকব? কিন্তু এত রাতে, এত বড় একটা ছেলে নিজের বাবা-মায়ের রুমে গিয়ে বউয়ের পিরিয়ডের ব্যথার জন্য মাকে ডেকে নিয়ে আসছে—বিষয়টা কেমন দেখাবে?
আর্য আর সময় নষ্ট না করে তাড়াহুড়ো করে নিজের পকেট থেকে ফোনটা বের করল। তারপর দ্রুত গুগল সার্চ বক্সে গিয়ে টাইপ করতে লাগল—‘পিরিয়ডের সময় কী কী করণীয় এবং এই তীব্র ব্যথা কমানোর উপায় কী কী?’
ফোন দেখে সে তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে বের হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরে ফিরে সে এক কাপ গরম চা নিয়ে এলো; গুগলে সে এটাই দেখেছে যে আদা কুচি দিয়ে চা আর গরম পানির সেঁক দিতে হয়। কিন্তু আর্য এই মুহূর্তে কোথাও কোনো হট ওয়াটার ব্যাগ খুঁজে পায়নি। একটা পেইন কিলার দেওয়া দরকার ছিল, কিন্তু সেটাও এখন তার হাতের কাছে নেই। আর্য এসে পুষ্পকে বিছানা থেকে আলতো করে নিজের কোলে তুলে নিল। তারপর নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আস্তে আস্তে চা-টা খাওয়াতে শুরু করল। অর্ধেক খাওয়ার পর পুষ্প আর খেতে চাইল না। আর্য এবার পুষ্পর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল—চোখ দুটো নোনা পানিতে ভেজা, চোখের পাপড়িগুলো একটার সাথে আরেকটা লেপ্টে আছে। তা দেখে আর্যর বুকের ভেতরটা যেন কেউ আবারও তীব্রভাবে খামচে ধরল! মেয়েটার এই অবস্থা হলে সে নিজে মনে মনে যা ভেবে রেখেছে, সেটা শেষ পর্যন্ত করবে কী করে!
পুষ্প আদা চা খাওয়ার পরে কিছুটা আরাম পায়, তবে সেই আরাম বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। আবারও তার পেটের ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে শুরু করে। পুষ্প এই অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আবারও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। আর্যর এবার নিজেকে নিজের কাছেই ভীষণ অসহায় মনে হতে লাগল; সে কীভাবে এই মেয়েটার ব্যথা কমাবে? আর্য কিছু একটা ভেবে পুষ্পকে আবারও বিছানা থেকে পাঁজাকোলা করে নিজের কোলে তুলে নিল, তারপর সারা রুম জুড়ে আস্তে আস্তে হাঁটতে শুরু করল। ওদিকে পুষ্প তখনও অনবরত ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আর্য এবার পুষ্পর মনটাকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার জন্য অত্যন্ত নরম গলায় বলল—
– “স্টুপিড গার্ল, গান শুনবে?”
পুষ্প তীব্র ব্যথার ঘোরে কিছু খেয়াল করল কি না কে জানে! সে সম্পূর্ণ আনমনেই দুহাতে আর্যর গলাটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আর্য মুহূর্তের জন্য থমকে গেল, চমকে উঠল সে মনে মনে। সাধারণত কোনো মেয়ের স্পর্শ তার ভীষণ বিরক্ত লাগে, চরম রাগ উঠে যায় কেউ তাকে টাচ করলে; অথচ এই মেয়েকে সে নিজে যেচে কোলে তুলে নিয়েছে! এই মেয়ে এখন তার গলা জড়িয়ে ধরে তার একদম বুকে লেপ্টে আছে, কিন্তু তার মনে বিন্দুমাত্র বিরক্তি লাগছে না, রাগ উঠছে না। উল্টো এক অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করছে; মনে হচ্ছে মেয়েটা যা খুশি করুক, শুধু যেন তার এই তীব্র কষ্টটা একটু কমে যায়! আর্য এবার নিজের খালি গলায় গেয়ে উঠল—
“Aankhon mein teri ajab si, ajab si, adaayein hain… ho oooo
Aankhon mein teri ajab si, ajab si, adaayein hain…
Dil ko bana dein jo patang, vo saansein teri
Ooh hawaayein hain!
Dil ko bana dein jo patang, vo saansein teri
Ooh hawaayein hain!”
আর্যর খালি গলার গান ততটাও খারাপ না, বরং মুগ্ধ হয়ে শোনার মতোই চমৎকার। পুষ্পও চোখ বন্ধ করে আর্যর বুক থেকে আসা সেই গানের সুর অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগল, একদম আনমনে।
“Aayi aisi raat hai jo bahut khush-naseeb hai
Chahe jis door se duniya vo mere kareeb hai
Kitna kuch kehna hai phir bhi hai dil mein sawal kahin…
Sapnon mein jo roz kaha hai, vo phir se kahoon ya nahi…
Aankhon mein teri ajab si, ajab si, adaayein hain… ho oooo
Aankhon mein teri ajab si, ajab si, adaayein hain…
Dil ko bana dein jo patang, vo saansein teri
Ooh hawaayein hain!”
গান গাওয়ার মাঝেই আর্য খেয়াল করল পুষ্পর কান্নার শব্দ এতক্ষণে একদম থেমে গেছে। আর্য আর কোনো ঝুঁকি নিল না; সে সেভাবেই পুষ্পকে পরম যত্নে কোলে নিয়ে সারা রুম জুড়ে অনবরত পায়চারি করতে থাকল। পুষ্পকে কোলে নিয়ে ওভাবে হাঁটতে হাঁটতেই একসময় ভোরের শেষ আকাশের বুক চিরে মসজিদের ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি কানে আসে। আর্য এবার অত্যন্ত আলতো করে পুষ্পকে বিছানার চাদরের ওপর শুইয়ে দিল। শুইয়ে দেওয়ার পরও আর্য একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল পুষ্পর গোলগাল, মায়াবী আর নিষ্পাপ মুখটার দিকে। কান্নার চোটে মুখটা লাল হয়ে আছে, চোখের দুকোণে পানি শুকিয়ে হালকা দাগ পড়ে গেছে। আর্য পরম মমতায় নিজের আঙুল দিয়ে সেই শুকিয়ে যাওয়া চোখের পানিটুকু মুছে দিল। তারপর পুষ্পর ঘুমন্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে নিজের মনেই গভীর আবেগে বিড়বিড় করে বলে উঠল—
– “যে বেলায় কাউকে নিজের জীবনে চাই না, বিশ্বাস করে নিজের করে নিতে পারি না… সেই অবেলায় কেন এলে?”
হালকা কুয়াশার চাদরটা সরিয়ে ভোরের আলো সবেমাত্র পৃথিবীর বুকে চোখ মেলেছে। রাতের অন্ধকারকে বিদায় জানিয়ে পুব আকাশে লাল রাঙা সূর্যমামার মৃদু উঁকিঝুঁকি। গাছের পাতায় পাতায় তখনো জমে আছে স্নিগ্ধ শিশিরবিন্দু, যা ভোরের প্রথম আলোয় জ্বলজ্বল করছে। চারপাশ থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া যেন আলতো ছুঁয়ে দিয়ে যাচ্ছে অবশ প্রকৃতিকে, জাগিয়ে তুলছে এক নতুন স্পন্দনে। সেই স্নিগ্ধতার মাঝেই নীরবতা ভেঙে ডানা মেলল পাখিদের কলকাকলি। কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠল চারপাশ। এ যেন কোনো দক্ষ শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে প্রতিটি সকাল এক নতুন আশার গল্প বুনে দিয়ে যায়।
সকাল বাজে সাড়ে সাতটা। মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমিয়েই বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে আর্য; তারপর প্রতিদিনের রুটিনমাফিক জিম ওয়ার্কআউট সেরে নেয়। এরপর রুমে এসে শাওয়ার নিয়ে ঝটপট অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হতে থাকে সে। আজ তাকে অফিসে একটু তাড়াতাড়িই যেতে হবে; সকাল নয়টায় মিটিং শেষ করে ফাইনাল ডিল সাইন করতে হবে। আর্যর পরনে প্রতিদিনের মতো ‘বস’ ব্র্যান্ডের নেভি ব্লু স্যুট, ভেতরে পরা কুচকুচে কালো শার্ট—যেটার ওপরের অংশের দুটো বোতাম খোলা, যেখান দিয়ে উঁকি দিচ্ছে লোমযুক্ত পুরুষালি চওড়া বুক। আর্য পুরোপুরি রেডি হয়ে নিজের পছন্দের পারফিউম স্প্রে করে নিল। সবকিছু ঠিকঠাক করে নেওয়ার পর সে একপলক বিছানায় বিড়ালছানার মতো গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকা পুষ্পর দিকে তাকিয়ে দেখল।
যে মেয়ে প্রতিদিন আজানের ধ্বনি কানে আসার সাথে সাথে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে, সে আজ এত বেলা পর্যন্ত ঘুমোচ্ছে, এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি! উঠবেই বা কী করে, ঘুমিয়েছে তো আজানের ঠিক আগমুহূর্তে! আর্য ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে বিছানার পাশে দাঁড়াল। পুষ্পর ফর্সা মুখে লেপ্টে থাকা কিছু অবাধ্য চুল পরম মমতায় আলতো করে তার কানের পিঠে গুঁজে দিল সে। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রয়োজনীয় সব ফাইলপত্র সাথে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে পড়ল। যাওয়ার সময় অবশ্য বাড়ির কাজের লোককে কড়া ভাষায় বলে গেছে—পুষ্পর যা যা প্রয়োজন, সবকিছু যেন সে হাতের কাছেই পেয়ে যায়।
পুষ্পর যখন ঘুম ভাঙল, তখন ঘড়িতে বেলা দশটা বাজে। সে আড়মোড়া ভেঙে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল। খাটের চাদর আর বালিশগুলো খুব সুন্দর করে গুছিয়ে রাখল নিজের জায়গায়। এরপর গোসল সেরে বারান্দায় ভেজা কাপড়গুলো মেলে দিয়ে আয়নার সামনে এসে দাঁড়াল সে। মাথার তোয়ালেটা খুলে নিজের ভেজা চুলগুলো আলতো করে মুছে নিতে নিতে আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকাল পুষ্প। আর তাকানোমাত্রই ষোড়শী রমণীর চোখের সামনে একে একে ভেসে উঠতে লাগল গতকাল রাতের প্রতিটি মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি! তার ব্যথায় ওভাবে কাতড়ানো, আর্যর অমন অস্থির হয়ে তার খেয়াল রাখা, তাকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিয়ে গান গেয়ে শোনানো—সবকিছু মনে পড়তেই পুষ্পর দুই গাল লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে গেল। এক তীব্র অস্বস্তি আর আড়ষ্টতা এসে ঘিরে ধরল তাকে।
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৯
তার এই ব্যক্তিগত মান্থলি প্রবলেমের কথা এখন ‘সরকার সাহেব’ পুরোপুরি জেনে গেছেন! সে এখন কোন মুখে ওনার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে? এসব হাজারো দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝে রমণীর মনে হুট করে উদয় হলো আরেক নতুন প্রশ্ন—সরকার সাহেব তো তার ছোঁয়া সহ্য করতে পারেন না, এমনকি তার ছোঁয়া জিনিস পর্যন্ত ছুঁয়ে দেখেন না; তাহলে কাল রাতে তিনি তাকে ওভাবে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন কেন? পুষ্প নিজের ভেতরের এই অবুঝ প্রশ্নের কোনো সঠিক জবাব খুঁজে পেল না। অনেক ভেবেও কোনো উত্তর মেলাতে না পেরে সে তাড়াহুড়ো করে নিজের ওড়নাটা খুব সুন্দর করে মাথায় জড়িয়ে নিল। রুম থেকে বের হওয়ার জন্য পা বাড়াতে নিলেই হঠাৎ তার তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলো। রাতের সেই তীব্র ব্যথার রেশ এখনো পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে; এই কঠিন ব্যথাটা আগামী চারদিন এভাবেই থাকবে। পুষ্প কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে গুটিগুটি পায়ে আস্তে আস্তে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
