অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৩৯
রুপা
সকালের রোদের মিষ্টতা কেটে তাতে বেড়েছে রোদের প্রখরতা। রোদের তেজ থাকলেও একদম অতিষ্ঠ হওয়ার মতো গরম পড়েনি। সময় এই হবে হয়তো নয়-দশটা। আশুলিয়ার বেশ কিছুটা ভেতরে ফার্মহাউসের ভেতরে পুষ্পর অবস্থা বেশ শোচনীয়! আর্য যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পুষ্পর ঘুম ভেঙে যায়। পিটপিট করে চোখ খুলে নিজেকে অচেনা জায়গায়, অচেনা বিছানায় আবিষ্কার করে তড়িঘড়ি করে উঠে বসে রমণী। ভীত চোখে চারপাশে নজর বুলিয়ে দেখে নেয় সে।
মনের মধ্যে তীব্র ভয় দানা বাঁধে—তাকে কি আগেরবারের মতো আবারও কেউ কিডন্যাপ করেছে? কিন্তু তার যতটুকু মনে পড়ে, সে তো সরকার সাহেবের রুমেই গিয়েছিল আর ওখানেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাহলে তাকে সেখান থেকে কে কিডন্যাপ করবে? কীভাবে করবে? প্রশ্নটা মাথায় আসলেও নিজেকে অচেনা জায়গায় আবিষ্কার করায় সে প্রশ্নটা ভয়ের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। তাকে এখানে কে নিয়ে এসেছে? ফুফুমণি কোথায়? নিশ্চয়ই তাকে খুঁজছে! সরকার সাহেবই বা কোথায়? উনি কি তাকে খুঁজবেন, নাকি খুশি হবেন? সে হারিয়ে যাওয়ায় আর্য খুশি হবে—ভাবনাটা মাথায় আসতেই রমণীর চোখ ফেটে উপচে পড়ল নোনা পানি।
ভয়ে এদিক-সেদিক তাকাতে লাগল, কোথায় আছে বোঝার চেষ্টা করছে, হয়তো আশেপাশে কেউ আছে কি না খোঁজার চেষ্টা করছে। হঠাৎ রমণীর চোখ যায় বারান্দার দিকে; দরজা বন্ধ হলেও থাই গ্লাসের বাইরের ভিউ সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেটা দেখে রমণী খাট থেকে নেমে এগিয়ে গিয়ে দেখতে লাগল কাউকে দেখা যায় কি না। ভাবনা ছিল, কাউকে দেখলে সাহায্য চাইবে; কিন্তু বাইরে তাকাতেই উল্টো ভয় জেঁকে বসল!
বাইরে ঘন জঙ্গল—যতদূর চোখ যায়, শুধু ঘন সবুজ গাছপালা। দিনের আলোতেও কী রকম অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে! বড় গাছের ছায়ায় অন্ধকার দেখা যাচ্ছে সবকিছু। রমণীর মনে ভয় বাড়তে লাগল—কোথায় নিয়ে এসেছে তাকে? কেন নিয়ে এসেছে? ভয়ে এবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সে, মেঝেতে বসে পড়ল দুই হাতে হাঁটু জড়িয়ে ধরে, চোখের পানি ফেলতে লাগল। সে কি আর বাড়িতে ফিরতে পারবে না? ফুফুমণি, সিমরান আপু, বাড়ির সবার সাথে কি আর দেখা হবে না? সরকার সাহেবকে আর দেখতে পাবে না সে?
কলেজে আসার পর থেকে মন খারাপ করে বসে আছে সারা। আজ নিয়ে দুই দিন পুষ্প কলেজে আসছে না। কেন আসছে না, কী হয়েছে—কিছুই বুঝতে পারছে না। পুষ্পর কাছে ফোনও নেই যে কল করবে। দুটো ক্লাস শেষ হয়ে গেছে, স্যার এসে পড়িয়ে চলে গেছেন, কিন্তু সারার কোনো মনোযোগও নেই সেদিকে। এর মধ্যে ক্লাসে প্রবেশ করে স্নিগ্ধ। সবাই দাঁড়িয়ে সালাম দিল, কিন্তু এতেও সারার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না।
তার কাছে সবকিছু শূন্য লাগছে। পুরো ভর্তি ক্লাসরুমে তার নিজেকে একলা, নিঃসঙ্গ মনে হচ্ছে। আগে তার নির্দিষ্ট কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল না থাকলেও সে সবার সাথে হেসেখেলে, গল্প করে দিন কাটাত; কিন্তু পুষ্পর সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পরে ক্লাসে আর কারোর সাথেই সে কথা বলে না। সারা এ নিয়ে কয়েকটা মেয়ে ফিসফাস করলেও তা গায়ে মাখে না; কে কী বলল, তাতে তার কিছু যায় আসে না। সে শুধু পুষ্পর সাথে কথা বলতে চায়, তার সাথে থাকতে চায়।
এই জন্য তো পুরো কলেজে যেই মেয়েকে ঘিরে তার দিন কাটত, যে তাকে হাসাত, সেই মেয়ে না আসায় পুরো ক্লাসরুমে নিজেকে একা মনে হচ্ছে। হঠাৎ পাশের একটা মেয়ের ধাক্কায় ধ্যান ভাঙল সারার। সে মেয়েটার দিকে উদাসীন দৃষ্টিতে তাকাতেই মেয়েটা চোখ দিয়ে ইশারা করে বলল—
– “কিরে, কী হয়েছে তোর? স্যার তোকে সেই কখন থেকে ডাকছেন, ধ্যান কোথায় তোর?”
মেয়েটার কথা শুনে সারা যেই না পেছন ফিরে তাকায় দেখলো তার একদম সামনে স্নিগ্ধ দাঁড়িয়ে আছে তার দিকে অদ্ভুত গম্ভীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হয়তো বোঝার চেষ্টা করছে তার বউয়ের কি হয়েছে কিন্তু কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। সে কিছু বলবে তার আগেই সারা বলে উঠলো–
– “সরি স্যার শুনতে পায়নি!
সারার মুখে এতো সহজে সরি শুনে বেশি অবাক হয় স্নিগ্ধ মনে মনে ভাবতে লাগলো এতো সহজে এই ত্যাড়া ঝগরুটে মেয়ে সরি বলল তাও আবার তাকে যেখানে দোষ হলেও সিকার করতে চাই না সেখানে এতো সহজে সরি? হজম করতে কষ্ট হচ্ছে তবে সারার মলিন মুখটা দেখে আবার চিন্তা হতে লাগলো আবার শরীর খারাপ করেনি তো? সে এবার অকপটে জিজ্ঞেস করল
– ‘আর ইউ সিক?
যদিও কণ্ঠটা বেশ গম্ভীর রাখার চেষ্টা করে, কিন্তু তাতেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে উদ্বেগ ও অস্থিরতা। সারা কিছু বলল না, শুধু বলল—
– “স্যার, আমি আজকে ক্লাসটা করতে পারব না।”
কথাটা বলেই স্নিগ্ধর উত্তরের অপেক্ষা না করে বেরিয়ে গেল সে। স্নিগ্ধ এবার আরও চিন্তিত হলো—নিশ্চিত তার বউয়ের কিছু হয়েছে, কিন্তু কী হয়েছে! সে আর ক্লাসে মন বসাতে পারল না, তবুও হুট করে তো আর ক্লাসরুম থেকে বেরোনো যায় না। কোনোমতে ঘড়ির কাঁটা ঘণ্টা পার হতেই গম্ভীর পায়ে বাইরে বেরিয়ে এল সে। বাইরে এসে অস্থির চোখে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল—কোথাও তার তেঁড়া বউটাকে দেখা যায় কি না!
সারা কলেজের মাঠের একপাশে একটা গাছের ছায়ায় বসে আছে। সে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে গেছিল, যাতে পুষ্পর গার্ডিয়ানের নাম্বারে কল করে খোঁজ নিতে পারে। অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো কোনো দিনই প্রিন্সিপালের কাছে যেত না একটা মেয়ের খোঁজ করতে, কিন্তু সারা গেছে শুধু বান্ধবীর খোঁজ পেতে; কারণ পুষ্পর পরিচিত কেউ নেই কলেজে, তাই খোঁজ নেওয়ার একমাত্র উপায় প্রিন্সিপাল স্যার। কিন্তু কল করে জানতে পেরেছে, পুষ্প কিছুটা অসুস্থ, তাই কলেজে আসেনি। যদিও শেহনাজ সরকার ইচ্ছে করেই সত্যিটা লুকিয়েছিলেন; উনি যতটুকু সারাকে চিনেছেন, তাতে জানেন মেয়েটা পুষ্প বলতে অজ্ঞান! তাই পুষ্পকে কেউ কিডন্যাপ করতে চেয়েছিল—বিষয়টা জানতে পারলে সারা অযথা চিন্তা করবে, তাই তিনি সত্যিটা জানাননি।
পুষ্পর শরীর খারাপ—এ কথা জানতে পেরে সারার মন আরও খারাপ হয়ে গেল। এই কিছুদিন আগে হাত পুড়ল, তারপর আবার শরীর খারাপ হওয়ায় দুদিন আসেনি, এখন আবার শরীর খারাপ! আল্লাহ কেন শুধু তার বান্ধবীটাকেই এত অসুস্থতা দেয়? সে তো কারো কষ্ট চায় না, সবার ভালো চায়, তাহলে তার বান্ধবীর ভালো কেন হয় না? না জানি কতটা অসুস্থ হয়েছে! কিছু খেতে পারছে কি না, কে জানে? সারার মন এবার ছটপট করতে লাগল—একবার বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ পুষ্পকে দেখে আসার জন্য, কিন্তু সে যাবে কী করে? সে তো পুষ্পর ফুফুর বাসার ঠিকানাই জানে না!
ঠিকানা জানে না, পুষ্পর সাথে দেখা করতে পারবে না—ভাবতেই এবার সারার মন খারাপের সাথে মেজাজটাও খারাপ হয়ে গেল। সে কেমন বান্ধবী, যে বান্ধবীর বাড়ির ঠিকানা পর্যন্ত জানে না এখনো অব্দি! সে যখন নিজের ওপরই চটে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে এল স্নিগ্ধর গম্ভীর অথচ উদ্বেগভরা কণ্ঠ—
– “মিসেস সায়ান, শরীর কি বেশি খারাপ করছে?”
পুষ্প রুমের দরজা খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, কিন্তু দরজা লক করা! পুষ্প প্রথমে নীরবে কাঁদলেও পরে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করেছে—কীভাবে এখান থেকে বের হওয়া যায়, কোনো উপায় আছে কি না। কিন্তু বারান্দার দরজাসহ সব বন্ধ! অনেকক্ষণ টানাটানি করেও খুলতে না পেরে সে আবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। রমণী এখন মাত্রাতিরিক্ত ভয় পাচ্ছে—সে বাড়ি কীভাবে যাবে? সবার কাছে কীভাবে ফিরবে?
পুষ্প যখন খাটের কোণে হেলান দিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল, ঠিক তখনই রুমের দরজা খোলার শব্দ হলো! কিন্তু রমণী কান্নায় আর নিজের ভাবনায় এতটাই মগ্ন ছিল যে খেয়ালই করেনি। লক ঘুরে দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করে আর্য। সবার আগে তার চোখ যায় খালি বিছানায়—পুষ্পকে বিছানায় না দেখে আর্যর বুক ধক করে উঠল! কোথায় গেল তার ফ্লাওয়ার? অস্থির চিত্তে সে পুরো রুমে চোখ বুলাল। হঠাৎ আর্যর কানে এল কারো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ। সেই কান্নার শব্দ অনুসরণ করে এগিয়ে গিয়ে সামনের দৃশ্য দেখে আর্যর বুকে মোচড় দিয়ে উঠল—দুই হাতে হাঁটু জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে পুষ্প!
কেন কাঁদছে তার ফ্লাওয়ার? কী হয়েছে? শরীর খারাপ লাগছে কি? আর্য আর কিছুই ভাবতে পারল না; অস্থির হয়ে এগিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল একদম পুষ্পর নিকটে, আর অস্থির হয়ে ডেকে উঠল—
– “ফ্লাওয়ার!”
পরিচিত কণ্ঠ পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখ তুলে তাকাল রমণী। কান্নার তোপে ফর্সা মুখ লাল হয়ে গেছে, নাকটা একটু বেশি লাল হয়ে গেছে—যেন টোকা পড়লেই রক্ত গড়িয়ে পড়বে! চোখের ঘন লম্বা পাপড়িগুলো একটার সাথে একটা লেপ্টে আছে। পুষ্পর এই অবস্থা দেখে আর্যর বুকে তীব্র হাহাকার করে উঠল। এদিকে অতিরিক্ত ভয়ের মাঝে রমণী পরিচিত মানুষকে দেখে দিকবিদিক ভুলে জাপটে জড়িয়ে ধরল আর্যকে। আর্য হাঁটু গেড়ে পায়ের ওপর ভর দিয়ে বসেছিল, পুষ্পর অতর্কিত হামলায় সে মেঝেতে পড়ে গেল; তবুও নিজেকে সামলে পুষ্পকে দুই হাতে আগলে নিল সে।
এদিকে তীব্র ভয়ে আর্যর গলায় মুখ গুজে আবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল পুষ্প। নিজের সর্বশক্তি দিয়ে দুই হাতে জড়িয়ে রেখেছে সে আর্যকে—যেন ছাড়লেই হারিয়ে যাবে, আবার এখানে সে একা হয়ে যাবে! রমণীর কান্নার আওয়াজ যেন তপ্ত সীসার মতো বিঁধছে কঠোর মানবের কানে। বুকে কালবৈশাখী ঝড়ের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে! সে দুই হাতের বাঁধন আরও কিছুটা দৃঢ় করে রমণীর মাথায় ঠোঁট ছুঁয়ে দিল। রমণীর পিঠজুড়ে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে গম্ভীর কণ্ঠ একদম নরম, আদুরে ও গভীর করে বলল—
– “আমার ফ্লাওয়ার কাঁদছে কেন, জানো? সে কি জানে না, তার সরকার সাহেবের তার ফ্লাওয়ারের কান্না একদম সহ্য হয় না?”
রমণী শুনল কি না কে জানে! এত আদুরে কথাগুলো—সে তো ব্যস্ত চোখের পানিতে তার সরকার সাহেবের টি-শার্ট ভেজাতে! কিন্তু সেটা যে কঠোর মানবের সহ্য হচ্ছে না! সে তো আছেই, তবে সে থাকতে তার ফ্লাওয়ার কেন কাঁদবে? তার ফ্লাওয়ার চাইলে পুরো দুনিয়া কাঁদবে, সে কাঁদাবে! আর্য এবার পুষ্পকে নিজের থেকে ছাড়াতে চাইল, রমণীর মুখটা নিজের সামনে আনতে চাইল; কিন্তু রমণী না ছাড়ছে আর্যকে, না আর্যর গলা থেকে মুখ তুলছে! তার মনে তীব্র ভয় দানা বেঁধেছে—সে একটু ছাড়লেই আবার আর্য হারিয়ে যাবে, সে আবার এই শুনসান বাড়িতে একা হয়ে যাবে! এই ভয়টাই তো তাকে এমন করেছে যে, সে যাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়, তার বুকে আশ্রয় নিতে দুবারও ভাবেনি!
আর্যর ভালো লাগার সীমামাত্রা ছাড়িয়ে গেছে—এই যে তার ফ্লাওয়ার তাকে ছাড়ছে না, সে ছাড়াতে চাইলেও ছাড়ছে না, এতে তার দারুণ ভালো লাগছে! অন্যরকম ভালো লাগা, রুহকে প্রশান্তি দেওয়ার মতো ভালো লাগা যাকে বলে। কিন্তু সেই প্রশান্তি দীর্ঘস্থায়ী হলো না রমণীর কান্নার কারণে। আর্যর সবচেয়ে খুশি হওয়ার কারণ যেমন রমণীর ঠোঁটের হাসি, ঠিক তেমনি রমণীর অশ্রুসিক্ত চোখ হচ্ছে তার হৃদয় ব্যথিত হওয়ার কারণ। রমণীর অশ্রুসিক্ত চোখ তার বুকে অন্যরকম এক প্রলয়ংকরী ঝড় তোলে; সে ঝড় বাইরে প্রকাশ না করলেও ভেতর থেকে তাকে তছনছ করে দিতে সক্ষম!
আর্য যখন বুঝতে পারল তার ফ্লাওয়ার তাকে ছাড়তে নারাজ, সে আর ছাড়াতে চাইল না। সেভাবেই পুষ্পকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে রেখে পুষ্পর দুই পা ধরে নিজের কোমর জড়িয়ে নিল। সেভাবে হেঁটে বারান্দার দিকে এগিয়ে গেল। নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে স্লাইড ডোর ওপেন করে একদম বারান্দার রেলিং ঘেঁষে দাঁড়াল। প্রকৃতির মনমাতানো ঠান্ডা হিমেল বাতাস ছুঁয়ে দিচ্ছে দুজনকে। পুষ্পর কান্না কমে আসলেও পুরোপুরি থামেনি, মাঝে মাঝেই সে নাক টানছে। আর্য এবার এক হাতে পুষ্পর কোমর জড়িয়ে ধরে অন্য হাতে রমণীর পিঠজুড়ে বিচরণ করতে লাগল, হাত বুলিয়ে শান্ত করার প্রয়াস চালাল। আর্য নরম গলায় জিজ্ঞেস করল—
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৩৮
– “কাঁদছো কেন, ফ্লাওয়ার?”
রমণী উত্তর দিল না, সে একইভাবে আর্যর গলা জড়িয়ে ধরে মুখ গুঁজে পড়ে রইল। আর্যও জোর করল না, বরং পুষ্পকে শান্ত হওয়ার সময় দিয়ে নিজে পুষ্পকে কোলে নিয়ে বারান্দায় হাঁটতে লাগল। বেশ কিছুক্ষণ পরে পুষ্প শান্ত হলো, তবে সে যে আর্যর কোলের ওপর আছে, তা বুঝতে পেরেই লজ্জায়-আড়ষ্টতায় হাঁসফাঁস করে উঠল! সে এখন বুঝতে পারছে, সে ভয়ে কী করে ফেলেছে! হঠাৎ তার মনে অন্য প্রশ্ন উদয় হলো—সরকার সাহেব এখানে কী করছেন? প্রশ্নটা মনে এলেও সে জিজ্ঞেস করল না, বরং এখন সে কোল থেকে নামতে পারলেই বাঁচে! কিন্তু লজ্জায় মুখ দেখাবে কী করে? আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে ফট করে বলে বসল—
– “আমি ফুফুমণির কাছে যাবো। আমাকে ফুফুমণির কাছে দিয়ে আসুন।”
