Home অসমাপ্ত তুমি অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৩+১৪

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৩+১৪

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৩+১৪
sanara

সকালে…
সামিরা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাশতা করে বাসার নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল রিদ্রের জন্য।
হঠাৎ রিদ্র গাড়ি নিয়ে সামিরার সামনে থামল। সামিরা কিছু না বলে রিদ্রর পাশের সিটে বসল।
— “আজকে আমাকে আপনার সাথে কলেজে নিয়ে যাচ্ছেন কেন?” সামিরা প্রশ্ন করলো।
রিদ্র বলল,
— “গেলেই দেখবে।”
সামিরা আর কিছু বলল না। কিছুক্ষণ পর কলেজের সামনে গাড়ি থামল। সামিরা গাড়ি থেকে নামল, তখন রিদ্র সামিরার হাত ধরে কলেজে প্রবেশ করাল।
সামিরা লজ্জা পেয়ে বলল,
-“আরে, কি করছেন? সবাই তো দেখছে!”
রিদ্র গম্ভীর হয়ে বলল,
— “দেখুক আই ডোন্ট কেয়ার”.

কলেজের সবাই রিদ্র ও সামিরার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। সিমি এখনো কলেজে আসেনি।
রিদ্র সামিরাকে নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করল। সবাই বিস্ময়ে বড় বড় চোখ করে তাকালো।
একজন ছাত্রী দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল— “স্যার, এই মেয়েটা আপনার হাত ধরে রেখেছে কেন?”
রিদ্র ভ্রু কুচকে বলল,
— “সে আমার হাত ধরে নি, বরং আমি তার হাত ধরেছি।”। আর আজ “আপনাদের আজ কিছু কথা বলার ছিলো। সামিরা আমার ওয়াইফ। আমাদের বিয়ে অনেক দিন আগে হয়েছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী সপ্তাহে হবে। সবাইকে ইনভাইট করা হলো।”
সামিরা তার সিটে গিয়ে বসল, রিদ্র ক্লাস শুরু করল।
হঠাৎ আরেকজন ছাত্রী জিজ্ঞেস করল,

— “স্যার, আপনার বিয়ে কি অ্যারেঞ্জ নাকি লাভ মেরেজ?”
— “লাভ মেরেজ।”
সামিরা নিজেই অবাক—কারণ সে নিজেও জানত না তার বিয়ে লাভ মেরেজ হয়েছিল।জোর করে বিয়ে করে ছিলো রিদ্র।
রিদ্র ক্লাস শেষ করল। সামিরা সামনে গিয়ে বলল,
— “ছুটির পর আমার অফিস রুম আসবে।আমি তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিবো।”
সামিরা বলল,
-“আচ্ছা।”
অফিস রুমে…
সামিরার ছুটি হয়ে গেলে সে রিদ্রর অফিসে এল। কিন্তু রিদ্র সেখানে নেই। সামিরা সোফায় বসল।
টেবিলের ওপর রিদ্রের ফোন পড়ে আছে। সামিরা ফোন হাতে নিল। ফোন অন করতেই দেখল, তার ছবি ওয়ালপেপার। সামিরা মুচকি হাসল। লক খুলে ইন্সটাগ্রামে রিলস দেখতে লাগল।
হঠাৎ সিমি অফিসে প্রবেশ করল।

— “এই মেয়ে, তোমার হাতে রিদ্রর ফোন কেন?”বলেই সিমি ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।
সামিরা ফোন সরিয়ে নিলো আর বলল,
— “আপনার সমস্যা কি?”
সিমি রেগে বলল,
-“মানে… তোমার হাতে একজন টিচারের ফোন কেন থাকবে?”
হঠাৎ রিদ্রর গম্ভীর কন্ঠ ভেসে এলো।
-“এখানে কি হচ্ছে?”
সিমি রেগে বলল,
– “রিদ্র দেখো, সামিরা তোমার ফোন হাতে নিয়েছে।”
রিদ্র বলল,
– “তো?”
সিমি বলল,

— *“তো মানে? সে তোমার স্টুডেন্ট, সে কেন তোমার ফোন হাতে নেবে?”
রিদ্র গম্ভীর গলায় বলল,
— “কারণ সে আমার ওয়াইফ।”।
সিমি অবাক হয়ে বলল, -“মানে??”
রিদ্র বিরক্ত হয়ে বলল,
– “মানে, সে আমার ওয়াইফ। আমাদের বিয়ে অনেক দিন আগে হয়েছে, আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান আগামী সপ্তাহে হবে। আমরা আপনাকে ইনভাইট দিচ্ছি অবশ্যই আসবেন। বলেই রিদ্র সামিরার হাত ধরে অফিস রুম থেকে বের হয়ে গেল।

রিদ্র সামিরার হাত ধরে গাড়ীতে উঠাল। পাশের সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট করতেই সামিরা হঠাৎ প্রশ্ন করল—
— “আচ্ছা, আমাদের বিয়ে কি আসলে আগামী সপ্তাহে?”
রিদ্র বলল,
— *“হ্যাঁ।”
সামিরা বলল,

— “আমার মা-বাবার কাছে তো বিয়ে প্রস্তাব নিয়ে যাননি।”
রিদ্র বলল,
– “কে বলেছে যাইনি?”
সামিরা বলল,
-“কখন গিয়েছেন?”
রিদ্র বলল,
– “তুমি বাসায় গেলে জানবে। আর শুনো, তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে। বিকেলে রেডি হয়ে থেকো, আমি তোমাকে নিতে আসবো।”
সামিরা বলল,
— “আচ্ছা।”
গাড়ি সামিরার বাসার সামনে এলো।
— “আচ্ছা, আসি। আপনি সাবধানে যাবেন।”বলেই সামিরা বাসার ভেতরে চলে গেলো।

বাসায় এসে সামিরা বড় শক খেল। কারণ গতকাল রিদ্রর বাবা এবং রিদ্র তার বিয়ে প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল।
— “আমার কাছে ছেলেটা ভালো লেগেছে… আর তোরা দুজন একে অপরকে ভালোবাসিস আমাকে আগে বলবি না?” আলেয়া বেগম বললেন সামিরাকে।
সামিরা অবাক হয়ে বলল,
— “উনি গতকাল এসেছিলেন? আমি তো সানিয়ার বাসায় গিয়েছিলাম।”
আলেয়া বেগম বললেন,
– “হুম, আমি জানি। তুই সানিয়ার বাসায় গিয়েছিস। আর আগামীকাল এনগেজমেন্ট হবে তোদের। রিদ্রন্ম তোর জন্য হালকা গোলাপি শাড়ি দিয়ে দিয়েছে।”
সামিরা বলল,
— “রিদ্রন্ম কে?”
আলেয়া বেগম আমতা আমতা করে বলল,

— “ওহ! সরি, রিদ্র হবে।আচ্ছা, তুই ফ্রেশ হয়ে আয়।” বলেই আলেয়া বেগম চলে গেলেন নিজের রুমে।
সামিরা ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হলো, খাবার খেলো এবং কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিল।
বিকেল..
সামিরা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে এলো। সে সাদা হাটু সমান টপস এবং সাদা জিন্স পরলো, কোমর সমান চুল খোলা রেখল। মুখে হালকা পাউডার এবং ঠোঁটে নুড লিপস্টিক। ফাইনালি, সে রেডি হয়ে গেল।
হঠাৎ ফোনে কল রিদ্রর।
রিদ্র বলল,
– “আমি তোমার বাসার নিচে আছি, তুমি নিচে চলে এসো জলদি।”.

সামিরা বাসা থেকে বের হয়ে নিচে নেমে এলো। সামিরাকে দেখে রিদ্র হালকা ঝাপসা ক্রাশ খেল।
রিদ্র ফরমাল পোশাকে—কালো ব্লেজার, সাদা শার্টের দুটি বোতাম খোলা, কালো প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সামিরা রিদ্রদ্র কাছে গিয়ে বলল,
-কেমন লাগছে আমাকে?
রিদ্র বলল,
-সবচেয়ে সুন্দর!
রিদ্র মুচকি হাসি দিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসল।
সামিরা বলল,
— “আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
রিদ্র বলল,
– “সারপ্রাইজ।”

হঠাৎ রিদ্র গাড়ি থামালো। সে গাড়ি থেকে নেমে সামিরাকে নামতে বলল। সামিরা নেমে দেখল—ইট এবং কাঁচ দিয়ে তৈরি বিশাল ২০ তলার অফিস। অফিসের নাম—”Ridronmo Ahmed Khan ”
সকালের কথা মনে হলো। সামিরার মা রিদ্রকে “রিদ্রন্ম” বলেছিল।
রিদ্র সামিরার হাত ধরে অফিসে প্রবেশ করলো। সবাই তাকে “Hello Sir” এবং সামিরাকে “Hello Mam” বলে অভিবাদন জানালো। অনেক মেয়ে রিদ্রকে ড্যাবড্যাব করে দেখছে, সামিরা কিছু বুঝতে পারছে না।
রিদ্র সামিরাকে নিয়ে লিফটে উঠল।
সামিরা বলল,

— “আমরা এখানে কেন?”
রিদ্র উত্তর দিল না।
লিফট ১৫ তলায় খুলল। তারা একটি বড় কেবিনে প্রবেশ করল। রিদ্র মেইন চেয়ারে বসল, সামিরাকে পাশে চেয়ারে বসাল।
সামিরা আবার জিগ্যেস করল,
— “আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে কেন?”
রিদ্র বলল,
– “বারে, তোমার জামাইর অফিসে তুমি আসবে না তো আর কে আসবে? ”
সামিরা বলল,
– “মানে? এটা আপনার?”
রিদ্র বলল,
– “হ্যাঁ। আমি বাংলাদেশের টপ বিজনেসম্যান, এই অফিসের প্রেসিডেন্ট “রিদ্রন্ম আহমেদ খান”।
সামিরা আশ্চর্য হয়ে বলল,
– “আপনার নাম রিদ্রন্ম?”
রিদ্র বলল,

-“হুম। সবার কাছে নাম লুকিয়ে রেখেছিলাম।”
সামিরা জিগ্যেস করল,
— “আপনি এই অফিসের প্রেসিডেন্ট হলে কলেজের ইংলিশ লেকচারার হলেন কেন?”
রিদ্র বলল,
– “তোমাকে পাওয়ার জন্য।”
সামিরা বলল,
— “মানে? আপনি আমাকে কবে থেকে ভালোবাসেন?”
রিদ্র বলল,
— “জানতে চাও?”
সামিরা বলল,
– “হ্যাঁ।
রিদ্র বলা শুরু করলো,

— “আমি যখন অনার্স শেষ করি, তখন মাস্টার্সের জন্য USA-তে স্কলারশিপ পাই। আমি বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। তখন আমার বাসার পাশে একটি এতিমখানা দেখলাম। সেখানে একটি মিষ্টি মেয়ে ছোটদের চকলেট দিচ্ছিল। তার হাসি এবং চোখ আমাকে থমকে দিল। প্রথম মুহূর্তে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। সেই মেয়ে আর কেউ না, তুমি।”
সামিরার চোখে অশ্রু টলমল করতে লাগল। সে রিদ্রকে জাপটে ধরল, কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে বলল,

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১১+১২

— “যে মানুষটা আমাকে এতো বছর ধরে ভালোবেসে এসেছে, তাকে আমি এতো কষ্ট দিলাম… ভালোবাসি অনেক অনেক ভালোবাসি আপনাকে রিদ্র।”
রিদ্র সামিরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
— “আমিও অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাকে।”

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৫+১৬