অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১১+১২
sanara
সামিরা দৌড়ে এসে নিজের জায়গায় বসল।
— “কিরে, এত হাপিয়ে আছিস কেন?” (ইফতি, হেসে বলল সামিরাকে।)
সামিরা বলল,
-“না, এমনিই।”
— “এতোক্ষণ কোথায় ছিলি?”সানিয়া জিজ্ঞেস করল সামিরাকে।
সামিরা বলল,
— “শাড়ী ঠিক করতে ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম।” (সামিরা মিথ্যা বলল)
— “ওহ!” সানিয়া, হালকা হেসে বলল।
কিছুক্ষণ পর রিদ্র এল। সে সামিরার পাশে চেয়ার টেনে বসল। সিমি হঠাৎ এসে রিদ্রের পাশের চেয়ারে বসল—
— “আজ তোমাকে সত্যিই সুন্দর লাগছেন, রিদ্র।” সিমি হেসে বলল।
রিদ্র জবাবে শুধু বলল,
— “ধন্যবাদ।”
সিমি আবার বলে উঠলো,
– “আমাকে আজ কেমন লাগছে?
ইফতি সিমির দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
— “ম্যাম, আজ আপনি সত্যিই ঝকঝকে দেখাচ্ছেন।”
সিমি রেগে বলল,
-তোমাকে জিগ্যেস করেছি?
সামিরা বলল, — “ম্যাম, আপনি তো কারো নাম উল্লেখ করেননি।”
সিমি রেগে বলল,
— “এই মেয়ে, তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলছ কেন?”
সামিরা বলল,
– “কি ভাবে কথা বলছি, ম্যাম?”
সিমি রিদ্রকে বিচার দেওয়ার মতো করে বলল,
– “দেখছো রিদ্র সামিরা আমার সাথে কিভাবে কথা বলছে।”
রিদ্র গম্ভীর হয়ে বলল,
— “সামিরা ঠিকই বলেছে। তুমি কি কারো নাম উল্লেখ করেছ?”
সিমি কিছুক্ষণের জন্য চুপচাপ হয়ে গিয়েছে।
তারপর সবাইকে খাবারের জন্য ডাক দেওয়া হলো। কেউ আর কথা বাড়ালো না, সবাই খেতে গেল।
খাবার শেষে সবাই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। সামিরা বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নিল। কিছুক্ষণ পর ফোনে একটি মেসেজ এলো। রিদ্র লিখেছে—
“আজ বিকেল ৪ টায় আমি তোমার বাসার নিচে থাকব, তুমি নিচে এসো।”
সামিরা রিপ্লাই দিল না। এখন তার ঘুম প্রয়োজন। তাই সে ঘুমিয়ে গেল।
সামিরা ঘুম থেকে উঠে দেখলো ৩:৩০ বাজে। জলদি নীল শাড়ী পরে নিল, ঘাঢ় কাজল লাগাল, কোমর সমান চুলগুলো ছেড়ে দিল।
হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো রিদ্র কল করছে।
সামিরা কল ধরে বলল,
— “হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম, আমি আসছি।”
রিদ্র বলল,
-“জলদি এসো।”
সামিরার মা জিজ্ঞেস করল,
— “কোথায় যাচ্ছিস?”
সামিরা বলল,
— “মা, আমি একটু সানিয়ার বাসায় যাচ্ছি।”
সামিরার মা বলল,
– “আচ্ছা, সাবধানে যাস।”
সামিরা হুম বলে নিচে নামল।
রিদ্রর কাছে গিয়ে বলল,
— “এসে গেছি আমি।”
সামিরা দেখল, রিদ্র নীল রঙের পাঞ্জাবি পরেছে।আর রিদ্র সামিরাকে দেখে চোখ সরাতে পারছে না—সামিরাকে অনেক সুন্দর লাগছে।
সামিরা হঠাৎ বলল,
— “সামনের সিটে বসি?”
রিদ্র বলল,
– “হ্যাঁ।”
রিদ্র ড্রাইভিং সিটে বসল। সামিরা পাশে গিয়ে বসল।
— “আচ্ছা, আমরা কোথায় যাচ্ছি?”।সামিরা জিজ্ঞেস করল।
রিদ্র বলল,
— *“সারপ্রাইজ।”
গাড়ি চলতে থাকে। সামিরা বাইরে দৃশ্য উপভোগ করছে। হঠাৎ রিদ্র গাড়ি থামিয়ে নিজে নেমে সামিরাকে নামতে বলল।
সামিরা নামল। সে দেখল একটি লেক। রিদ্র সামিরাকে নিয়ে লেকের সামনে দাঁড়াল। হঠাৎ রিদ্র হাটু বাজিয়ে বসে একটি গোলাপ তুলে বলল—
“আমি জানি না কিভাবে শুরু থেকে শেষ করবো। আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস আমি ছোট বেলায় হারিয়েছি—সেটা হলো আমার মা। কিন্তু আমি তোমাকে আর হারাতে চাই না। ব্যাটারি ছাড়া যান্ত্রিক জিনিস যেমন অচল, ঠিক তেমনই তোমাকে ছাড়া আমিও অচল। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি সামিরা। আমি তোমাকে নিয়ে একটি রাজ্য তৈরি করে সেই রাজ্যের রানী করে রাখবো। হবে কি আমার রানী?”
সামিরা বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।
— “আপনি আমাকে ভালোবাসেন, রিদ্র?”
রিদ্র বলল,
– “হুম, আমার চেয়েও বেশি।”
সামিরা লাজুক হেসে রিদ্রের হাত থেকে গোলাপ নিল।আর বলল,
— “আমিও খুব ভালোবাসি আপনাকে, রিদ্র। আপনি অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথা বললে আমি সহ্য করতে পারব না।”
— “হুম।”
রিদ্র উঠে সামিরাকে জড়িয়ে ধরল। সামিরা রিদ্রকে আগলে ধরল।
— “আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না, সামিরা।” রিদ্র বলল।
সামিরা জবাবে শুধু বলল,
— “কখনো না।” মুচকি হেসে।
সামিরা আর রিদ্র আজ খুব খুশি। দুজন দুজনকে ভালোবাসি বলতে পেরেছে।
হঠাৎ রিদ্র বলল,
-“খুব খিদে লেগেছে, সামিরা। চলো কিছু খেয়ে আসি।”।
সামিরা হেসে বলল,
— “ঠিক আছে, আমি রাজি।”
রিদ্র একটি সুন্দর রেস্টুরেন্টে গাড়ি থামালো। সামিরার মনে হলো খাবারের দাম একটু বেশি। রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতেই সবাই তাদের স্বাগত জানালো।
রিদ্র সামিরাকে পাশের চেয়ারে বসাল। আর জিগ্যেস করল,
— “কী খাবে বলো?”
সামিরা বলল,
– “আপনার যা ইচ্ছে তাই অর্ডার করুন।”
রিদ্র বলল,
— “তুমি করো।” বলেই রিদ্র মেনু সামিরার হাতে দিল।
সামিরা মেনু দেখল—সব খাবারের দাম অনেক বেশি। সবচেয়ে কম দামের ফ্রেন্স ফ্রাই দেখে সে সেটাই অর্ডার করল।
— “আমি ফ্রেন্স ফ্রাই নেব, আপনি অর্ডার করুন।”
রিদ্র ওয়েটারকে ডাকল— “জী স্যার”?
রিদ্র বলল,
-আমাদের জন্য দুই প্লেট কাচ্চি নিয়ে আসুন।”
সামিরা বলে উঠলো,
-“আমি কাচ্চি খাবো না।”
রিদ্র চোখ রাঙিয়ে বলল,
-“তোমাকে এটাই খেতে হবে।”।
সামিরা আর কথা বলার সাহস পেল না। দুজনের জন্য কাচ্চি এসে গেল।
খাবার শেষে গাড়িতে বসল।
সামিরা বলল,
— “উফ, বেশি খেয়ে ফেলেছি।”
রিদ্র বলল,
– “একদিন বেশি খেলে কিছু হবে না।”
সামিরা বলল,
– “হাহ! আপনাকে বলেছে ! বেশি খেলে মানুষ মারা যায়। আপনি জানেন না?”
রিদ্র বলল
– “হ্যাঁ, জানি।”।
কথা বলতে বলতে গাড়ি সামিরার বাসার সামনে এলো।
সামিরা গাড়ি থেকে নেমে বলল,
— “কালকে দেখা হবে, জামাইজান।”
রিদ্র মুচকি হাসল।
সামিরা ঘরে এসে ফ্রেশ হয়ে নিল। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় পড়তে বসল না, খুব ক্লান্ত লাগছে। তাই সে ঘুমিয়ে গেল।
সকালে…
সানিয়া ও সামিরা একসাথে কলেজে এসেছে। সামিরার আজ কেনো যেনো ভালো লাগছে না। ক্লাসে বসলেই হঠাৎ পেট ব্যাথা শুরু হলো।
ঠিক তখন রিদ্র ক্লাসে প্রবেশ করলো। সামিরার ব্যাথা বেড়ে গিয়ে সে অনেক জোরে ডাক দিল। — “রিদ্র…”
রিদ্র দ্রুত সামিরার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল,
— “কি হয়েছে, সামিরা?”?
সামিরা অনেক কষ্টে বলল,
– “আমার অনেক পেট ব্যাথা করছে।”
হঠাৎ রিদ্র দেখল সামিরার জামায় রক্তের দাগ। সে যা বুঝল, তাৎক্ষণিকভাবে সকলকে অবাক করে দিয়ে সামিরাকে পাজাকলে তুলে কলেজের বাইরে নিয়ে গেল।এবং রিদ্রর গাড়িতে সামিরাকে বসিয়ে দিল। সামিরা চুপচাপ বসে রইল।
রিদ্র গাড়ি চালিয়ে একটি ফার্মেসির সামনে গাড়ি থামালো।
রিদ্র গাড়ি থামিয়ে সামিরাকে বলল,
— “একটু আসছি।”
রিদ্র ফার্মেসি গিয়েই প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে এল। রিদ্র গাড়িতে বসে সামিরার হাতে প্যাডের প্যাকেট দিল।
সামিরা লজ্জায় বলল,
— “ধন্যবাদ।”
রিদ্র বলল,
– “বাসায় গিয়ে দুধ, ডিম, পুষ্টিকর খাবার খাবে।”
সামিরা বলল,
– “আচ্ছা।”
গাড়ি সামিরার বাসার সামনে এসে থামলো।
— “আসছি।” বলে সামিরা বাসায় চলে গেল। রিদ্র ও গাড়ি নিয়ে তার গন্তব্যে গেল।
সামিরা ঘরে চলে এলো। রিদ্র তার বাসায় ফিরে গেল। সন্ধ্যায় সামিরা কিছুক্ষন পড়লো। রাতে খাবার খেয়ে রুমে এসে দেখলো, রিদ্র কল করছে।
সামিরা কল ধরে,
— “হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। ”
রিদ্র বলল,
– “ওয়ালাইকুম আসসালাম। আগামীকাল তোমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকব। কলেজে তোমাকে নিয়ে যাব।”
সামিরা বলল,
অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৯+১০
-“কেন?”
রিদ্র বলল,
— *“দরকার আছে। অনেক রাত হয়েছে, ঘুমাও, আল্লাহ হাফেজ।”
কল কেটে যায়। সামিরা আর কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে গেল।
