Home অসমাপ্ত তুমি অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৯+১০

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৯+১০

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৯+১০
sanara

দুই মিনিট পর সামিরা রিদ্রকে ছেড়ে বড় বড় করে নিঃশ্বাস নিতে লাগল। আর সামিরার এই অপ্রত্যাশিত অ্যাটাকে রিদ্র বাঁকা হাসি দিল।
— “তোমার মিষ্টি কিসটা খেতে কিন্তু দারুণ মজা লেগেছে।”বলেই রিদ্র আবার মুচকি হাসল।
সামিরা গরম চোখে তাকাতেই রিদ্র মজা করে যোগ করল,
— “তাহলে আজ থেকে প্রতিদিন ঝাল খাবো, আর তুমি এসে নিভিয়ে দেবে।”এ কথা বলেই সে চোখ টিপল।
লজ্জায় সামিরার মুখ একেবারে টকটকে লাল হয়ে গেল। রিদ্র তার সেই মুখখানি দেখেই আরও মুচকি হাসল।
— “আচ্ছা, আমি এখন যাচ্ছি। তুমি পড়ায় মন দাও।” বলেই রিদ্র উঠে দাঁড়াল, দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
সামিরা দরজা বন্ধ করল বটে, কিন্তু পড়ায় আর মন বসাতে পারল না। বারবার সেই মুহূর্তটাই মাথায় ঘুরতে লাগল

— ঠোঁটের স্পর্শ, রিদ্রর চোখের আগুন… সবকিছু।
অন্যদিকে রিদ্রও বাসায় ফিরে বিছানায় শুয়ে আছে। সামিরার চোখে যে ভয় আর ভালোবাসা একসাথে দেখেছে, সেটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছে না।
সকাল..
সকালে ব্রেকফাস্ট না করেই কলেজে চলে এলো সামিরা। আজ আর সানিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি, সানিয়া তার আগেই এসেছে।
— “ইফতি আসেনি নাকি আজ?” সানিয়া জানতে চাইল।
— “আমি জানি না।” সামিরা ছোট করে উত্তর দিল।
হঠাৎ করেই চোখে পড়ল— ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে রিদ্র কারও সাথে গল্প করছে। না, গল্প নয়… সিমির সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।
সামিরার বুকের ভেতর আবার আগুন ধরল। চোখ লাল হয়ে উঠল রাগে।
কিছুক্ষণ পর রিদ্র ক্লাসে এসে ক্লাস নিতে লাগল,
রিদ্র হঠাৎ তার স্নিগ্ধপরীকে দেখতে পেল। সামিরা একদমই তাকাচ্ছে না তার দিকে। এই উদাসীনতা রিদ্রকে অস্থির করে তুলল।
কিছুক্ষণ পর ইংরেজি ক্লাস শেষ হলো। সবাই বেরিয়ে যাওয়ার সময় রিদ্র সামিরার সামনে দাঁড়াল।

— “আপনি আমার অফিসে আসুন। একটা জরুরি প্রশ্ন বুঝিয়ে দেব।” কথাটা কড়া গলায় বলে রিদ্র চলে গেল।
সামিরা দাঁত চেপে রাগ সামলে তার অফিসে ঢুকল।
অফিস রুমে সামিরা ঢুকেই বলল,
— “সিমির সাথে আপনার এত কি হ্যা?”
রিদ্র ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, — “সিমি তোমার ম্যাম, সামিরা।”
সামিরা দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
— “অও! সিমি ম্যামের সাথে আপনার কি সম্পর্ক?”
রিদ্র এবার রাগী গলায় গম্ভীরভাবে বলল,
— “কোনো সম্পর্ক নেই। আর থাকলেও তাতে তোমার এত মাথাব্যথা কেন?”
সামিরা রেগে উঠল,

— “সকাল সকাল হেসে হেসে গল্প করেন! আমি সব বুঝি।”
রিদ্র টেবিলে হাত চাপড়াল, চোখে বজ্রপাতের মতো দৃষ্টি ফেলে বলল,
— “তুমি সব বুঝো? না সামিরা— তুমি যতটুকু বুঝো না, ঠিক ততটাই আমি।”
কথাটা বলার সময় তার চোখ ছিল শান্ত, অথচ গভীর। সামিরা কয়েক সেকেন্ড তার সেই দৃষ্টি সামলাতে পারল না। দ্রুত ঘুরে অফিস থেকে বেরিয়ে এল।
বাহিরে এসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিল আর মনে মনে হাসল—
— “প্রহর শেষে আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস, তাহার চোখে দেখেছি, আমার সর্বনাশ…”
সামিরা মুচকি হাসল, তবে তার বুকের ভেতর কেমন যেনো ধুকপুক করছে।

সামিরা ক্লাসে বসতেই হঠাৎ কয়েকজন ভার্সিটির সিনিয়র ভেতরে এল। সাথে সাথেই সবাই উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিল।
সিনিয়ররা বলল, — “আগামীকাল নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে। তোমরা সবাই অবশ্যই আসবে। আর প্রতিযোগিতায় যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারো—নাচ, গান ইত্যাদি।”
কথা বলে তারা চলে গেল।
সানিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলল, — “অই সামিরা, কাল তুই সাড়ি পরে আসবি, আর গানে অংশ নিবি।”
সামিরা বিরক্ত হয়ে বলল, — “আচ্ছা, সাড়ি পরে আসব। কিন্তু গান গাইব না।”

— “আরে বাল! তুইতো দারুণ গান গাইতে পারিস।” (সানিয়া)
— “পারমু না। তোর ইচ্ছা হইলে তুই গা।” বলেই সামিরা চলে গেল বাসায়।
কিন্তু আজকেই ছিল নাম লেখানোর শেষ দিন। সানিয়া চুপিসারে সামিরার নাম লিখে দিল গানের প্রতিযোগিতায়।
.. বাসায় ফিরে সামিরা অবাক হয়ে দেখল, তার বাবা-মা দাদুর বাসা থেকে ফিরে এসেছে। সামিরা ছুটে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরল।
— “কি অবস্থা করেছিস তোর শরীরের? প্রাইভেট ছাড়া তো এখন বেশ মজা করছিস।” (মা)
সামিরা হেসে কিছু না বলে রুমে চলে এল।
হঠাৎ মনে প্রশ্ন জাগল— “আচ্ছা, রিদ্র কি কাল পাঞ্জাবি পরবে?”
ফোনটা হাতে নিয়ে ডায়াল করল।

— “হ্যালো।”রিদ্র বলল। সামিরা বলল, -“হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম”.।
— “ওয়ালাইকুম আসসালাম।”রিদ্র উত্তর দিল।
— “আচ্ছা, আপনি কাল পাঞ্জাবি পরে আসবেন তো?”
রিদ্র বলল, — “না, ফরমাল ড্রেসে আসব।”
সামিরা দাঁত চেপে বলল, — “না! কালো রঙের পাঞ্জাবি পরে আসবেন। এটাই ফাইনাল। আমিও কাল কালো সাড়ি পরব।”
বলেই কল কেটে দিল।
রিদ্র হেসে ফোন নামাল। — “কালো পাঞ্জাবি? না গেলে তো আমার স্নিগ্ধপরী রাগ করবে।” মুচকি হাসল সে।
রাতে..
সামিরা পড়তে বসতেই সানিয়ার কল এল।

— “অই, তোকে একটা কথা বলিনি। আমি তোর নাম গানের প্রতিযোগিতায় লিখে দিয়েছি।”
— “কি-হ্! তুই আমার নাম দিলি? আমি তো গান গাইব না!”
— “দেখা যাবে।” বলেই সানিয়া কল কেটে দিল।
সামিরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল ফোনের দিকে।
সকাল…
সামিরা কালো সাড়ি পরে আয়নার সামনে দাঁড়াল। চোখে হালকা কাজল, ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক, খোলা চুল কোমর ছুঁইছুঁই। একেবারে হূরপরী লাগছে।
মা দেখে মুগ্ধ হয়ে বলল, — “মাশাআল্লাহ! আমার মেয়েটা একেবারে রানীর মতো লাগছে।”
সামিরা মুচকি হেসে বলল, — “আচ্ছা মা, আমি এখন যাচ্ছি।”
কলেজে..
সানিয়া আগেই অপেক্ষা করছিল। ঠিক তখনই ইফতি এসে হাজির।

— “কোথায় ছিলি এতদিন?” সানিয়া জিগ্যেস করল ইফতিকে।
ইফতি বলল, -“নানির বাসায় গিয়েছিলাম।”
তাদের বন্ধুত্ব এত ঘনিষ্ঠ হয়ে গেছে যে এখন “তুমি” থেকে ‘তুই’–তে নেমে গেছে।
ঠিক তখন সামিরা এসে পড়ল।
— “কিরে, বাসায় এতক্ষণ কি করছিলি? ইফতি জিজ্ঞেস করল।
সামিরা বলল,
– “ঘুম থেকে উঠতেই দেরি হয়ে গেছে।”
তিনজন একসাথে ভেতরে ঢুকল।
কিছুক্ষণ পর— কলেজ কেঁপে উঠল। রিদ্র এসে প্রবেশ করল।
কালো পাঞ্জাবি, ব্র্যান্ডেড ঘড়ি, চুল স্পাইক করা… সব মেয়ে হা করে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
কিন্তু রিদ্রর চোখ খুঁজল শুধু এক জায়গায়— সামিরার দিকে।
সে একপলক তাকাতেই সামিরা লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল।

. অনুষ্ঠানে..
স্টেজে একে একে সবাই গান, নাচ করছে। হঠাৎ ঘোষক বলল, —“এবার আসছেন সামিরা, গান পরিবেশন করবেন।”
সামিরা চোখ বড় করে সানিয়ার দিকে তাকাল। কিন্তু কিছু করার নেই।
স্টেজে উঠে গান শুরু করল—
“কখনো আকাশ বেয়ে চুপ করে যদি নেমে আসে ভালোবাসা খুব ভরে…”
(বাকি গানটি নিজ দায়িত্বে শুনে নিবেন সবাই)
পুরো গান জুড়েই তার চোখ ছিল রিদ্রর দিকে। রিদ্রও স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
গান শেষে সবাই হাততালি দিল। সামিরা মুচকি হেসে নেমে এলো।
— “ফাটাইছিস গানটা গেয়ে!” সানিয়া বলল।
সামিরা বলল,

– “তোর কি?”
সামিরা রাগ দেখালেও পরে মুচকি হাসল।
সামিরা কিচ্ছুক্ষণ পর ওয়াশরুমে যেতে নিতেই কেউ হাত টেনে অন্ধকার রুমে নিয়ে গেল।
সামিরা ভয় পেয়ে বলল, — “কে?”
— “আমি, রিদ্র।”
ভয় কেটে গেল।
রিদ্র নিচু গলায় বলল, — “তোমার গানটা অসাধারণ হয়েছে। কিন্তু বলোনি কেন অংশ নেবে?”
— “সানিয়া নাম দিয়ে দিয়েছে।”

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৭+৮

সামিরা খেয়াল করল, রিদ্র তার দুই হাত দেয়ালে চেপে ধরেছে। মুখ লজ্জায় লাল হয়ে উঠল।
আর সেই লাল মুখটাই রিদ্রকে পাগল করে দিল। এক ঝটকায় ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিল।
সামিরা অবাক হয়ে তার পাঞ্জাবি আঁকড়ে ধরল। মুহূর্তটা থেমে রইল কয়েক মিনিট।
পরে রিদ্র ধীরে ধীরে তাকে ছেড়ে দিল। সামিরা দৌড়ে বেরিয়ে গেল লজ্জায়।
আর রিদ্র একা দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বলল,
— “শূন্য বিকেলের পূর্ণ তুমি, তোমার হাসিতে মুগ্ধ আমি…”

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১১+১২