Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৮

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৮

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৮
কায়নাত খান কবিতা

—আমি ছাড়া বাইরের জগৎটা নিষিদ্ধ তোমার জন্য জান!”
নিজ হাতে ক্যান্ডকাফ লাগিয়ে অপরের পাশের লকটি অরিনের হাত লাগিয়ে দেয় কিংশুক। যেন বিন্দু মাত্র চোখের আড়াল হলে ও অরিন তাকে ছেড়ে চলে যাবে।
হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে আধ শোয়া হয়ে অরিনের মুখ বরাবর তাকিয়ে থাকে কিংশুক। তার দৃষ্টি যেন আটকে আছে রয়েছে এক মহে। এ মহো থেকে বের হওয়া সারাজীবনের জন্য অসম্ভব।
ঘুমন্ত অরিনের গালে স্লাইড করতে থাকে কিং। থেকে থেকে চু’মু ও খায় সে। পরক্ষণেই কিংশুকের চোখ চলে যায় অরিনের ওষ্ঠ যুগলে। কিংশুকের অ্যাডম’স অ্যাপল উঠানামা করে। সে নিজের হাতের পানে তাকায়।কয়েক মূহুর্তের ব্যবধানে আবার ও হ্যান্ডকাফ খুলে সাইডে রেখে দেয়। এবং পাশের ডয়ার হতে চেতনানাশক স্প্রে নিয়ে অরিনের মুখে কয়েকবার স্প্রে করে দেয়।

— ড্যাডি নিডস ইউ বেবি গার্ল।”
জ্ঞান হীন অরিনকে খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করে কিংশুকের। এতোটা কাছে, যতটা কাছে আসলে আর কেউ তাদের আলাদা করতে পারবে না।তাদের মাঝে আর এক চুল পরিমাণের ও ব্যবধান থাকবে না।
অরিনের গলা হতে ওড়নাটি ফ্লোরে ফেলে দেয় কিং। তারপর মুখ গুঁজে দেয় অরিনের উন্মুক্ত কন্ঠদেশে। টুকরো টুকরো চু’মুতে ভরিয়ে ফেলে অরিনের উন্মুক্ত গলা।
— সরি, জান। আজকে একটু বেশিই মত্ত হবো। কাল থেকে জ্যান্টম্যান হয়ে যাবো প্রমিস।”
দু-হাতে অরিনের ছোট্ট বদনখানা নিজের আয়ত্তে নিয়ে ফেলে কিং। তারপর একটু একটু করে নিজের সর্বোচ্চ ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে থাকে অরিনকে। রাত যত গভীর হতে থাকে, কিংশুকের ভালোবাসা ঠিক ততই প্রবল হতে থাকে। সে না পারে নিজেকে কন্ট্রোল করতে। আর না পারে অরিনের থেকে দূরে থাকতে। রাতের গভীরতার সাথে তাল মিলিয়ে কিংশুকের ভালোবাসার গভীরতা ও যেন আরো গভীর হতে থাকে।
অন্তিম মিলনের মুহুর্তে কিংশুক তার মুখ জ্ঞান হীন অরিনের কানের কাছে নিয়ে যায়।

— তোমার নিঃশ্বাস, তোমার ধ্যান, পুরো তুমি টায় আমার জান”
অরিনের ওষ্ঠে নিজের ওষ্ঠ ডুবিয়ে দেয় কিং। মাঝে মাঝে অরিন নেড়েচেড়ে উঠলে ও। পুরোপুরি জ্ঞান তার সারা রাতে ও ফিরে না। যার পুরোপুরি সুযোগ লুফে নেয় কিং। জ্ঞান হীন বউকে ভালোবাসার সাগরে ভাসিয়ে আবার ও ভালো মানুষের ঘুমিয়ে পরে কিং। যেন কিছুই হয়নি তাদের মাঝে।

– ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় যখন পুরো ধরনী আলোকিত। ঠিক তখন ও কিংস ম্যানশনের একটি কক্ষে আলোর কোনো ছিটেফোঁটা ও নেই। কারণ কিংশুক চায় না তার বউ বাইরের জগৎটাকে ভালো বাসুক। তাই অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকে কিংস ম্যানশনের মাস্টারবেড রুমটি। যান্ত্রিক লাইট না জালানো অব্দি মনে হয় না এই অন্ধকার ঘুচবে বলে।
পিট পিট করে চোখের পাতা নড়তে থাকে অরিনের। পুরো শরীরে অসহ্য ব্যাথায় ক্লান্তি এবং মাথা ভারের দাপটে চোখ খুলতে ও কষ্ট হয় তার। তারপর ও একটু একটু করে চোখ খুলতে থাকে সে। পুরোপুরি চোখ খুলতেই নিজেকে আবিষ্কার করে কিংশুকের বুকে। তাও নগ্ন শরীরে। অরিনের স্পষ্ট মনে রয়েছে তার পরনে কূর্তি ছিলো। তাহলে এখন এভাবে? পরক্ষণেই তার হাত চলে যায় কিংশুকের বুকে। তার শরীরে ও কোনো বস্ত্র নেই। অরিনের বুঝতে বাকি থাকে না তার জ্ঞান হীন অবস্থার বেশ ভালোই সুযোগ লুফে নিয়েছে কিংশুক।

চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সে। মনটাকে আরো শক্ত করে ফেলে।
সমস্ত ক্লান্তিকে ছুটি জানিয়ে অরিন যখনই উঠতে যায়, তার হাতে হেঁচকা টান পরে। কোনো রকমে ল্যাম লাইট জ্বালিয়ে নিজের এবং কিংশুকের পানে তাকায় অরিন। তাদের হাত দুটো এক লকে হ্যান্ডকাফ দিয়ে লক করা। কপালে বিরক্তির ভাঁজ পরে যায় তার। এটা ও কী আদোও কোনো জীবন? এর থেকে তো জেলে থাকা ঢের ভালো।
বালিশের চারপাশে হাত দিয়ে বেশ কিছু ক্ষভ খুঁজাখুঁজি করে ও চাবির হুদিস পায় না অরিন। তারপর এখানে ওখানে, যতটুকু সম্ভব হাত চালিয়ে খুঁজতে থাকে চাবি। চাবি খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ হাতে হেঁচকা টান পরে অরিনের। উপরে পরে যায় কিংশুকের বুকে।

—কী সমস্যা বউ?এতো নড়ো কেন?”
কিংশুকের কথার প্রতি উত্তরে কী বলবে কিছু বুঝতে পারে না অরিন। আমতা আমতা করে বলে
— আমি ওয়াশরুমে যাবো কিং।”
কিংশুক চোখ মেলে তাকায়। তারপর উঠে বসে অরিনকে নিয়ে । বসে বলে, – চলো জান”
কপাল কুঁচকে তাকায় অরিন।
–চল মানে?”
কিংশুক বলে, – ওয়াশরুমে যাবে না?”
— সে তো আমি যাবো, আপনি কোথায় যাচ্ছেন?”
– কেন ওয়াশরুমে।”
অরিনের চোখ কপালে উঠে যায়। ধৈর্যের শেষ সীমানায় চলে আসে সে। তারপর ও অশান্ত মনটাকে শান্ত করে ফেলে সে। এখন রাগলে নিজেরই ক্ষতি হবে। আর কিছুই নয়।

–আমার হাত খুলুন। আমি একাই যাবো। “
— পাগল না-কি?”
— কিং প্লিজ! আমি ফ্রেশ হবো।”
— আমার সামনে হতে সমস্যা কোথায় জান?”
কিছু মানুষ থাকে না? যারা বুঝে ও না বুঝার ভ্যান ধরে। কিংশুক ও ঠিক তেমনই। সে ঠিকই বুঝতে পারে অরিন কী চায়। কী বলতে চাচ্ছে সে, কিন্তু তারপর ও একা ছাড়তে চায় না। এটা কী আদোও কোনো অবসেশন? না-কি আনহেলদি অবসেশন?
— আমি পেট পরিষ্কার করবো।”
– কর, আমি কী না করেছি? চল!”
কিংশুক উঠে অরিনকে নিয়ে ওয়াশরুমে যেতে থাকে। শরীর শক্ত করে দাড়িয়ে পরে অরিন। পাগলামির একটা লিমিট থাকে। কিন্তু কিংশুক আজকে সেটা ও ক্রস করে ফেলেছে।

– কী হলো জান? যাবা না?”
— আমি একা যাবো!”
— নাহ।”
— আপনি সাথে গিয়ে কী করবেন?”
— তোমাকে দেখবো।”
— কী দেখবেন? পটি করা?”
বেশ রেগেমেগে যায় অরিন। তার ধৈর্যের বাদ এবার ছুটে চলে যায়।
— এমন কী আছে যেটা তোমার আমি দেখিনি?”
— তাই বলে ওয়াশরুমে যাবেন?”
— গেলে প্রবলেম কোথায়?”
— গিয়ে কী ফ্লাশ করবেন কমোড?”
— দরকার হলে করলাম।”
— গু খান ভাই।”
– ছিঃ”

অরিনকে বেশি মাত্রায় রাগিয়ে হাত খুলে দেয় কিং। হাতের লক আনলক হতেই গটগটিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পরে অরিন। কিংশুক ও বিছানায় গিয়ে আরাম করে শুয়ে ফোন হাতে নেয়। তারপর ওয়াশরুমের সিসিটিভি অন করে চুপচাপ দেখতে থাকে তার বউ একা একা কী করতে চায় তাকে ছাড়া।
দরজা লক করে চুপচাপ ঝর্ণার পানির নিচে বসে নিরবে কাঁদতে থাকে অরিন। কাল রাতে ও যে তার সাথে বা’জে কিছু হয়ে গেছে সেটা ঘুম থেকে উঠেই নিজের পানে তাকিয়ে বুঝতে পারে সে। তাই বলে কেউ জ্ঞান হীন থাকা অবস্থার সুযোগ নিলো। তাও এতো বা’জে ভাবে। নিজের মাথা নিচু করে নিজের গলার বেশ কিছু অংশ ভালো ভাবে দেখে সে। নতুন কাম’ড়ের দাগ। তাও অসংখ্য। এটা কী কোনো মানুষের কাজ?

ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদতে থাকে অরিন। নিজের মনটা একটু হালকা করতে চায় সে। কিন্তু তার এই কান্না আরেক জনের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে পরে। কিংশুক চোয়াল শক্ত করে তার কান্নারত ফুটেজ দেখতে থাকে। তাহলে কী তার ছোঁয়াতে অসন্তোষ অরিন?
উঠে সোজা ওয়াশরুমে চলে যায় কিং। ডোর লক থাকায়, বাইরে থেকে চাবি দিয়ে আনলোক করে তারপর ভিতরে প্রবেশ করে সে। অরিন তখন ও পানির মাঝে বসে থাকে। কে এলো, কে গেলো সে দিকে কোনো ধ্যান নেই বললেই চলে তার।
কিংশুক ওয়াশরুমে ঢুকে সোজা অরিনের সামনে দাড়িয়ে পরে। মাথা তুলে তাকায় অরিন কিংশুকের পানে।

— ঘেন্না লাগে আমার ছোঁয়া?
চোখ বন্ধ করে কিংশুকের কর্কশ বানি গুলো শুনতে থাকে অরিন।
— অনেক ঘৃণা লাগে আপনি কাছে আসলে।”
অরিনের সোজাসাপটা কথা কিংশুকের রাগের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তার চোখের দৃষ্টিটাই বদলে যায়।যেন যুক্তি আর বিবেক দুটোই মুহূর্তের জন্য লোপ পায়।কাল রাতের দেওয়া অতি আদরের চোটে দূর্বল হওয়া অরিনের শরীরটার কথা একবারও না ভেবে সে অরিনকে ধরে সোজা কোলে তোলে এবং দ্রুত পায়ে বাথটবের দিকে নিয়ে যায়।
পরক্ষণেই তার হাত স্যান্ডকাফ দিয়ে বেঁধে লক করে কোল্ড পানির শাওয়ার অন করে দেয় হিমশীতল পানিতে জোর করেই তাকে ধরে রাখে কিং। এমনিতেই দুর্বলতায় কাঁপতে থাকা অরিনের শরীর সেই ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না। তার ঠোঁট কাঁপতে থাকে, চোখ ভিজে আসে।

– আপনি… আপনি কেন আমার সঙ্গে এমন করছেন”
বেশ ঠান্ডা ভাবে কিংশুক বলে, — তুই ভালো করেই জানিস কেন”
– আপনার মতো একটা জানো’য়ারের সাথে আমি থাকবো না। মরে গেলেও না।”
এই কথাটুকুই যথেষ্ট ছিল, কিংশুক আর নিজেকে সামলাতে পারে না। মুহূর্তের মধ্যেই রাগের ঝাপটা নেমে আসে। এক তীব্র চ’ড় এসে পড়ে অরিনের গালে। ভারসাম্য হারিয়ে বাথটবেই পড়ে যায় অরিন। কিংশুক ও কিছু না বলে হিম শীতল পানির মাঝে অরিনকে রেখে বাইরে চলে যায়। এভাবে প্রায় ২ ঘন্টা অব্দি হিম শীতল করা পানিতে পড়ে থাকে অরিন।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৭

চারপাশটা হঠাৎ অন্ধকার হয়ে আসে তার চোখে।
শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়, কণ্ঠে আর কোনো শব্দ ভেসে আসে না। আস্তে আস্তে তার নিঃশ্বাস ও ভারি হয়ে যায়। আজকেই মনে হয় তার শেষ দিন।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৯