আবির ভাই পর্ব ৩০
উর্মিলা মজুমদার
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। পদ্মাপাড় গ্রামের আকাশ আজ বড় বেশি তুষ্ট। মেঘেরা দল বেঁধে আকাশের এক কোণে মিটিং করছে। বর্ষাকালের সন্ধ্যার একটা আলাদা রূপ আছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর সোঁদা মাটির গন্ধ। মেঘ গ্রামে পৌঁছাল। তখনও তার দুচোখ বেয়ে শ্রাবণের ধারা নামছে। সারাটা পথ সে কেঁদেছে। গাড়ি থেকে নেমে সে ঝড়ের বেগে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ল। ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে ছিলেন ছোটো আব্বু। খান বাড়ি আগেই খবর পাঠিয়ে দিয়েছিল—মেঘ আসছে।
মেঘকে এই অবস্থায় দেখে ছোটো আব্বু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন। তিনি দাঁড়িয়ে মেঘকে জড়িয়ে ধরলেন। মেঘ বাবার বুকের ওপর মাথা রেখে ভেঙে পড়ল। ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, “আব্বু! ও আব্বু!”
একজন বাবা সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ যখন তিনি তাঁর মেয়ের চোখের পানি দেখেন। তিনি মেঘের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন, “কী হয়েছে আম্মা? এত কাঁদছ কেন?”
মেঘের কান্নার কোনো উত্তর নেই। খানিক বাদেই সেখানে হাজির হলেন ছোটো আম্মু। মেয়ের এই বিধ্বস্ত চেহারা দেখে তাঁর বুকটা কেঁপে উঠল। তিনি মায়া মাখা হাতে মেঘের চোখের পানি মুছে দিলেন, তাকে সোফায় বসিয়ে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে বললেন, “আগে এই পানিটুকু খা মেঘ। তারপর আমাদের খুলে বল। খান বাড়িতে কেউ কি তোকে কিছু বলেছে?”
মেঘ ঢকঢক করে পানিটুকু খেল। তারপর নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে ম্লান হাসল। এক পাহাড় সমান বিষাদ হাসি। সে ধরা গলায় বলল, “না আম্মু, কেউ কিছু বলেনি। আসলে অনেক দিন তোমাদের দেখি না তো, খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল। তাই চলে এলাম।”
ছোটো আম্মু মেয়ের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বিড়বিড় করে বললেন, “বেশ করেছিস মা। নিজের বাড়িতে আসতে আবার কারণ লাগে নাকি? এখন চল, মুখ-হাত ধুয়ে নে। আমি তোর প্রিয় খিচুড়িটা চড়িয়ে দিই।”
ছোটো আম্মু মায়াভরা চোখে মেঘের দিকে তাকালেন। তারপর ঝুঁকে পড়ে মেয়ের কপালে আলতো করে একটা চুমু খেলেন। মেঘ নিজের রুমে গিয়ে ঢুকল। কতদিন পর এই চেনা ঘর, চেনা বিছানা! এর মধ্যেই পাখির সাথে এক দফা দেখা হয়ে গেল। পাখি মেঘের কাজিন। দুজনের দেখা হওয়া মানেই কথার তুবড়ি ছোটা, কিন্তু আজ মেঘের কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। তার মন পড়ে আছে অন্য কোথাও।
রাত তখন দশটা।
আকাশ হতে বৃষ্টি নেমেছে। যাকে বলে একেবারে ‘ঝুম বৃষ্টি’। পদ্মাপাড় গ্রামের মেঠো পথগুলো এখন কাদার নহর। এই আঁকাবাঁকা গলি দিয়ে একটা ধবধবে সাদা মার্সিডিজ বেঞ্জ হাপাতে হাপাতে ঢুকছে। গাড়িটার দফারফা অবস্থা। শহরের রাজপথে যে গাড়ি আভিজাত্য ছড়িয়ে বেড়ায়, আজ এই কাদা-জলে তার সমস্ত ‘ইজ্জত’ ধুলোয় মিশে গেছে।
গাড়িটা মেঘদের বাড়ির সামনে এসে থামল। দরজা খুলে দ্রুত বেরিয়ে এলেন আবির ভাই। তাঁর পরনের সাদা শার্ট ভিজে সপসপে। তিনি দ্রুত বাড়ির ভেতর ঢুকলেন। ড্রয়িং রুমে বসে ছোটো আব্বু কোনো একটা পুরনো বই পড়ছিলেন। হঠাৎ আবির ভাইকে দেখে তিনি আকাশ থেকে পড়লেন। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে বললেন, “আরে আবির! তুমি এই রাতে? এই বৃষ্টির মধ্যে? কী ব্যাপার, এসো এসো!”
তিনি ঘরের ভেতর দিকে তাকিয়ে হাঁক ছাড়লেন, “মেঘের আম্মু, দেখ তো কে এসেছে! আমাদের আবির।”
ছোটো আম্মু ঘর থেকে বেরিয়ে থমকে দাঁড়ালেন। তাঁর চোখেমুখে বিস্ময়। “কে এসেছে? ওমা, আবির যে! এই বৃষ্টিতে ভিজে একসার হয়ে গেলে তো বাবা!”
আবির ভাই এক গাল হাসার চেষ্টা করলেন, যদিও সেই হাসিতে আড়াল করা অস্থিরতা স্পষ্ট। কুশলাদি বিনিময়ের সময় নেই তাঁর কাছে। তিনি গায়ের বৃষ্টির পানি ঝাড়তে ঝাড়তে ব্যাকুল গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “ছোটো আম্মু, মেঘ কোথায়? ওকে তো দেখছি না।”
ছোটো আম্মু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “মেঘ তো পুকুর ঘাটে গেছে।”
আবির ভাই আঁতকে উঠলেন, “পুকুর ঘাটে? এই বৃষ্টির মধ্যে ওকে বাইরে যেতে দিলেন?”
ছোটো আম্মু ম্লান হাসলেন, “কী করব বলো? মেয়েটা আজ কেমন জানি হয়ে আছে। নাক ফুলিয়ে বসে ছিল। বেশি বাধা দিলে হয়তো আস্ত বাড়িটাই মাথায় তুলত। তাই আর কিছু বলিনি। কিন্তু তুমি হঠাৎ এই সময়ে।”
আবির ভাই আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করলেন না। “ছোটো আম্মু, আমি ফিরে এসে সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি,” বলেই তিনি তড়িৎ বেগে আবার বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে গেলেন।
যেখানে গাড়িটা পার্ক করা হয়েছে, তার ঠিক পাশেই সেই পুকুর ঘাট।
আষাঢ়ের আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছে। এই বৃষ্টির কোনো আগামাথা নেই, কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই। পুকুরঘাটের শানবাঁধানো বেঞ্চিতে বসে ছিল মেঘ। পরনে সাদা রঙের একটা সেলোয়ার-কামিজ। বৃষ্টির তোড়ে কামিজটা শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। ওর মাথার চুলগুলো খুব যত্ন করে খোঁপা করা। মেঘের চোখের পানি আর বৃষ্টির পানি মিলেমিশে একাকার । হঠাৎ ও ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। যে মানুষটাকে ও ধ্রুবতারার মতো বিশ্বাস করেছিল, সেই মানুষটা ওকে এমনভাবে ধোঁকা দিল? প্রতারণার নীল বিষ মেঘের সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। ঠিক তখনই মেঘ টের পেল ওর মাথায় আর বৃষ্টি পড়ছে না। চারপাশে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ আছে, কিন্তু ওর মাথার ওপরটা নিথর। ও চোখ মুছে ওপরের দিকে তাকাল। দেখল একটা ছাতা ধরে আবির ভাই স্থির হয়ে বসে আছেন। মানুষটা কি আকাশ থেকে পড়ল? এই গ্রামে, এই বৃষ্টির রাতে তার উপস্থিত হওয়াটা যুক্তিতে মেলে না।
মেঘের বুকের ভেতর একটা দুরুদুরু শব্দ শুরু হলো। সেই পুরনো কাঁপুনি। কিন্তু পরক্ষণেই একরাশ ঘৃণা এসে সেই জায়গাটা দখল করে নিল। ও ঝট করে দাঁড়িয়ে পড়ল। আবির ভাই গম্ভীর হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছেন। আবির ভাই মুখ খুললেন। মেঘের চোখের দিকে তাকিয়ে ধমকের সুরে বললেন, ‘এই গ্রাম থেকে তোকে আমিই শহরে নিয়ে গিয়েছিলাম মেঘ। কিন্তু তুই আমার অনুমতি ছাড়া কেন এখানে চলে আসলি? পালানোর স্বভাব তো তোর ছিল না।’
মেঘের ঠোঁটের কোণে বিষাক্ত হাসি ফুটে উঠল। চিৎকার করে বলল, ‘আপনার মতো ধোকাবাজ আর ঠকবাজের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আমি বোধ করি না। আমি মেঘ, কারও কেনা গোলাম নই!’
আবির ভাইয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তিনি এক পা এগিয়ে এসে বললেন, ‘কাকে ঠকবাজ বলছিস? মুখ সামলে কথা বল মেঘ। তোর এই ঔদ্ধত্য সহ্য করার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’
বলেই আবির ভাই যখন মেঘের হাতটা শক্ত করে ধরতে গেলেন, ঠিক তখনই ঘটে গেল অভাবনীয় সেই কাণ্ড। বৃষ্টির শব্দকে ছাপিয়ে একটা চড়ের শব্দ হলো ‘পড়াত’।
মেঘের হাতটা থরথর করে কাঁপছে। আবির ভাই স্তম্ভিত। মহাকাশ থেকে কোনো উল্কাপিন্ড এসে সামনে পড়লেও তিনি হয়তো এত অবাক হতেন না। মেঘ নামের শান্ত মেয়েটা তাকে থাপ্পড় মারল? পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য বোধহয় একেই বলে। আবির ভাই গালের ওপর হাত রেখে অপলক তাকিয়ে রইলেন। বললেন, ‘আজ পর্যন্ত কেউ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার পুরো নাম উচ্চারণ করার সাহস অব্ধি পাই নি আর তুই আমাকে থাপ্পড় মেরে দিব্যি আমাকে শাসিয়ে যাচ্ছিস।’
মেঘ আঙুল উঁচিয়ে কাঠখোট্টা গলায় বলল, ‘আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করবেন না আপনি। আপনার হাতের স্পর্শে এখন ঘৃণা লাগে।’
আবির ভাই ধীরে ধীরে গাল থেকে হাত সরালেন। তিনি এক কদম এগিয়ে এসে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, ‘নয়তো কী করবি?’
মেঘ আর্তনাদ করে বলল, ‘নয়তো খুব খারাপ কিছু হয়ে যাবে আবির ভাই! আপনি এখান থেকে এখনই চলে যান…’
চারপাশে বৃষ্টি আরও বাড়ছে। কদমের গন্ধ ভেসে আসছে বাতাস ছিঁড়ে। প্রকৃতির এই উন্মাতাল নৃত্যে। মেঘের কথা শেষ হলো না। তার আগেই অভাবনীয় কাণ্ড ঘটে গেল। আবির ভাই হুট করে একটা হেঁচকা টানে মেঘকে নিজের বুকের ভেতর নিয়ে নিলেন। চারদিকে বৃষ্টির তুমুল শব্দ, পুকুরঘাটে কদমের ঝুরঝুরানি। সবকিছু মুহূর্তের জন্য চুপসে গেল। আবির ভাইয়ের এক হাত মেঘের কোমরে, অন্য হাতটা তার গলার কাছে। পরক্ষণেই মেঘের প্রতিবাদী ঠোঁটদুটো আবির ভাই নিজের দখলে নিয়ে নিলেন।
মেঘ বিমূঢ়। তার যুক্তি কাজ করছে না। যে মানুষটাকে সে একটু আগে থাপ্পড় মেরেছে, সে এমন কিছু করতে পারে এটা কোনো গাণিতিক হিসেবেই মেলে না। মেঘ নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করল। হাতের নখ দিয়ে আবির ভাইয়ের বুকের জামা খামচে ধরল, কিন্তু লাভ হলো না। বৃষ্টি বাড়ছে। বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আবির ভাইয়ের উন্মাদনা। এই উন্মাদনার কোনো নাম নেই, কোনো রঙ নেই।
এক সময় আবির ভাই মেঘকে ছেড়ে দিলেন। মেঘ হাঁপাচ্ছে। ও দীর্ঘক্ষণ কাশতে লাগল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে তীব্র গলায় বলল, ‘আপনার কি একটুও লজ্জা করে না আবির ভাই? ছিঃ! কতটা বেশরম আপনি!’
আবির ভাই বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না। তিনি নিজের ঠোঁটদুটো একবার ঘষলেন। তারপর খুব নিচু স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে বললেন, ‘টেস্টটা মন্দ ছিল না রে মেঘ। বেশ ভালোই তো লাগল।’
মেঘের ভেতরের রাগটা এবার অগ্নুৎপাতের মতো ফেটে পড়ল। সে গর্জে উঠে বলল, ‘ফাজলামির একটা সীমা থাকা দরকার। অবশ্য আমি কাকে কী বলছি? আপনার মতো মানুষের কাছে তো এটাই স্বাভাবিক। একজনের সাথে রোমান্স করবেন আর অন্যজনের নামে কবুল বলবেন এটাই তো আপনার পেশা!’
আবির ভাই এবার একটু হাসলেন। তিনি শান্ত গলায় বললেন, ‘দুনিয়া যদি আমাকে খুনি বলে, তুই কি সেটাই বিশ্বাস করবি মেঘ? তোর নিজের কি কোনো বিচারবুদ্ধি নেই?’
মেঘ জেদের বশবর্তী হয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, করব। হাজার বার করব।’
আবির ভাই এক পা এগিয়ে এলেন। মেঘের একদম চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘শোন মেঘ, আমি যদি সত্যিই কোনোদিন খুন করি, তবে তোকেই খুন করব। যেদিন আমি জানতে পারব যে তুই আমার নোস, সেদিন পৃথিবী থেকে তোকে সরিয়ে দেওয়ার অধিকারটা আমিই নেব। বুঝলি?’
মেঘ তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। বলল, ‘পটাতে পারেন ভালোই। অভিজ্ঞতার ঝুলিটা বোধহয় বেশ ভারি আপনার।’
আবির ভাই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘উহুম, তেমন একটা অভিজ্ঞতা নেই রে। থাকলে বারবার তোর কাছে অপরাধী হতে হতো না। আমি এক গোলকধাঁধায় আটকা পড়ে গেছি।’
মেঘ আর কথা বাড়াতে চাইল না। এই বৃষ্টির ভেতর ঝগড়া করার কোনো মানে হয় না। সে ভিজে জবজবে হয়ে গেছে, শরীর কাঁপছে। মেঘ যখন পা বাড়িয়ে চলে যেতে উদ্যত হলো, ঠিক তখনই পেছন থেকে আবির ভাইয়ের কণ্ঠস্বর ভেসে এল। মেঘের কানে তীরের মতো বিঁধল।
আবির ভাই বললেন, ‘মেঘ, আই নিড ইউ। আই ওয়ান্ট ইউ ইনটেন্সলি, ডিপলি, ফরএভার, অ্যান্ড অনলি ফর মি।’
মেঘ থমকে দাঁড়াল। ও ঘুরে দাঁড়িয়ে চিতার মতো তেড়ে এল আবির ভাইয়ের দিকে।
ঝাঁজালো গলায় মেঘ বলল, ‘আপনার কোনো কথাই আমি আর বিশ্বাস করি না। আপনার প্রতিটা শব্দই এক একটা ধোঁকা। আপনি জানতেন না যে আপনার বিয়ে ছোটবেলা থেকেই প্রেমা আপুর সাথে ঠিক হয়ে আছে? এই সত্যটা জানার পরও কোন সাহসে আপনি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন? কেন লুকালেন আমার কাছে?’
আবির ভাই অদ্ভুত শান্ত। তিনি নির্বিকার গলায় বললেন, ‘হ্যাঁ, জানতাম। কিন্তু বিষয়টাকে আমি কোনোদিন বড় করে দেখি নি। প্রেমা আমার ছোটবেলার সঙ্গী হতে পারে, কিন্তু জীবনের সঙ্গী হওয়ার কথা আমি ভাবিনি। তাই তোকে জানানোটা খুব একটা প্রয়োজন বোধ করি নি।’
মেঘ তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। ওর গলার স্বর কান্নার ভারে ধরে এল, ‘চমৎকার যুক্তি! এখন দয়া করে আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। আপনার ওই বড় বড় লজিক শোনার রুচি আমার আর নেই।’
আবির ভাই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর নিচু স্বরে বললেন, ‘তোর কি একটুও বিশ্বাস হচ্ছে না রে মেঘ?’
’না, হচ্ছে না।’
’তাহলে আমাকে একটা শেষ সুযোগ দে। অন্তত তোকে বিশ্বাস করানোর জন্য হলেও আমার কিছু সময় প্রয়োজন।’
কথাটা শেষ করেই আবির ভাই টলতে শুরু করলেন। যেন তাঁর পায়ের নিচের মাটিটা হঠাৎ সরে গেছে। মেঘ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখল আবির ভাই শানবাঁধানো ঘাটের ওপর ঢলে পড়ে যাচ্ছেন। মেঘ এক ঝটকায় দৌড়ে গিয়ে তাঁকে ঝাপটে ধরল।
আবির ভাই পর্ব ২৯
আবির ভাইয়ের শরীরটা আগুনের গোলার মতো তপ্ত। এই বৃষ্টিতেও সেই উত্তাপ মেঘের হাতে চাবুকের মতো লাগছে। ভিজে ভিজে জ্বরটা নিশ্চয়ই আবার হানা দিয়েছে। মেঘ আতঙ্কিত গলায় চেঁচিয়ে উঠল, ‘ও আবির ভাই! কী হয়েছে আপনার? শুনছেন? আমার কথা শুনছেন?’
আবির ভাই অর্ধনিমীলিত চোখে একবার তাকালেন। বিড়বিড় করে বললেন, ‘মেঘ, তোর এই আকুল করা ডাকটা শোনার জন্য হলেও আমি আবির সাত জনম জন্ম নিতে রাজি আছি। মরার আগে এই সুরটা কানে নিয়ে মরলে মন্দ হয় না।’
