Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৫

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৫

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৫
ইসরাত জাহান দ্যুতি

দৌঁড়ে এসে দীপ্ত পেছন থেকে জাপটে ধরল ওকে একদম শক্ত করে, ‘আরে বাবা! তুমি তো দেখি ভালো দৌঁড় জানো, দীধিতি। কিন্তু তোমার থেকেও আমার পা দু’টো যে বেশি লম্বা, নটি এক্স। এরকম ছোটাছুটিতে তুমি সব সময়ই হারবে আর আমি জিতব।’
-‘লিভ মি, দীপ্ত! আপনি এত বিশ্রী মানসিকতার, ছিহ্! আমি সত্যিই পৃথিবীর সব থেকে বড়ো বোকা। যে মানুষকে সঠিকভাবে চিনতেই পারি না।’ ধস্তাধস্তি চলতে চলতেই চেঁচিয়ে বলল দীধিতি।
দীপ্ত তখন আক্রোশের সঙ্গে ওকে পেছন থেকেই বুকের সঙ্গে আরও শক্তভাবে জড়িয়ে ধরলে কষ্টে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয় দীধিতির। দাঁত খিঁচিয়ে বলে ওঠে দীপ্ত, ‘নাহ, বোকা নও তুমি। তুমি যদি বোকা হও তাহলে ধূর্ত, সুবিধাবাদী, স্বার্থবাদী মেয়ে কে হবে? তুমি আসলে নাওফিলকেও ডিজার্ভ করো না, আর আমাকেও না। তোমার যখন নাওফিলকে ভালো লেগেছে তখন ওর কাছে ঘেঁষাঘেঁষি করেছ। আবার যখন আমাকে ভালো লেগেছে আর ওকে খারাপ লেগেছে, তখন আমার সঙ্গে লাইন মেরেছ। এই একই কাজ চালিয়েই যাচ্ছ তুমি আমাদের দুজনের সঙ্গে৷ এখন আমি খারাপ, নাওফিল ভালো৷’

জিম করা শক্তপোক্ত দেহের দীপ্তকে ঠেলে সরানো কখনই সম্ভব নয় দীধিতির পক্ষে। উপরন্তু সাপের মতো বাহুদ্বয়ের মাঝে পেচিয়ে ধরেছে দীপ্ত ওর শরীর। তবে আপাতত দীধিতি খামোখা জোরাজোরি করে শক্তি অপচয় করা বন্ধ করে শিথিলদেহ করে দাঁড়িয়ে রইল৷ দীপ্ত কথা বলতে বলতে তার একটু উদাসীন হওয়ার অপেক্ষা কেবল এখন। কিন্তু তা হলো না৷ সে যে ভাবনার বাইরে কাজ করতে শুরু করল হঠাৎ! ওকে চমকে দিয়ে প্রেমিকের মতো করে জড়িয়ে ধরে দীধিতির গ্রীবার মাঝে নাক ডুবিয়ে দিলো সে, ‘তুমি তো দেখি দারুণ সফ্ট, দীধিতি! এ ক’দিনেই আগের থেকে আরও বেশি হেলদি হয়ে গেছ? মনে হচ্ছে রাত-দিনে বহুবার ম্যাচ খেলো তোমরা৷ শালা নাওফিল যে চিজ তাতে এক দুই ম্যাচে থামার ছেলে না ও। বাপের যোগ্য ছেলে এক্কেবারে। অস্ট্রেলিয়া ট্রিপে ওর সঙ্গে না গেলে অবশ্য জানতেও পারতাম না, ডেইলি নাইট হি ওয়াইল্ডলি ফা*কড টু হোরস টুগেদার। সেখানে তুমি একা ওকে নিতে পারো তো?’ দীধিতির লাল হয়ে থাকা কঠিন মুখটা দেখে দীপ্ত প্রাণ খুলে হাসল, ‘ওমা তুমি লজ্জা পাচ্ছ, এক্স? এখনই এত লজ্জা পেয়ো না৷ সময় তো সামনে। তখন তোমার লাজুকলতা মুখখানি মনভরে দেখব। এখন চলো, একটু জ্ঞান হারাও তো সুন্দর করে। তিন দু’গুনে ছয় মাস আমার ঘরে তোমার আটকে রাখার চমৎকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।’
শেষ কথায় প্রচণ্ড বিস্ময়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল দীধিতি দীপ্তর মুখপানে। বিস্মিত সে চেহারা দেখে দীপ্ত মুচকি হাসতে হাসতে বলল, ‘শক পেলে, না? ইশ! তুমি ভেবেছিলে তোমাকে এখানে ফেলেই রেপ করব? সেই ভয়ে দৌঁড় দিয়েছিলে? হা হা হা! কী দুষ্টু তুমি!’

পাগলের মতো হাসতে হাসতে দীপ্ত প্যান্টের পকেট থেকে ক্লোরোফর্ম মাখা রুমালটা যখন বের করল৷ ওর এক হাতের বাঁধন থেকে মুক্তি পেতেই দীধিতি আর দেরি করল না৷ দীপ্ত তার মাথাটা ওর কাঁধের কাছে ঝুঁকিয়ে রেখেছিল বলে মাথার পেছন দিয়েই তীব্র বেগে দীপ্তর মুখে আঘাত করল ও। অবিলম্বেই তারপর দীপ্তর ডান পায়ের পাতাতে জোরে পাড়া দিয়ে তার হাঁটুতেও ভীষণ জোরে দু’বার লাথি কষল। কাবু হয়ে গেল দীপ্ত তাতেই। দীধিতিকে ছেড়ে দিয়ে নুইয়ে পড়ে কাতরে উঠল সে। তখনই আবার হাঁটু দিয়ে দীধিতি তার নাক বরাবর আঘাত করল। ব্যথায় আহ্ শব্দে দীপ্ত নাক চেপে চিৎকার করে উঠতেই তার চুলের মুঠি চেপে ধরে এবার তার চোখ নিরিখ করে মুষ্ট্যাঘাত করল দীধিতি৷ আরও কয়েক ঘুসি বসাল চোয়ালেও৷ ডান হাতের আঙুলে দীধিতির আংটি ছিল বলে এবড়োখেবড়ো হয়ে কেটে-কুটে গেল দীপ্তর মুখটা। পুরোপুরি আহত হয়ে দীপ্ত করিডরে পড়েই গড়াগড়ি খেতে থাকল তখন৷ ক্লোরোফর্ম জড়ানো রুমালটা তুলে নিয়ে তার সামনে বসে দীধিতি চাপাস্বরে বলতে থাকল, ‘বুদ্ধি আপনার ভারি ভালো, দীপ্ত৷

আসলেই আমি আপনাকে ব্যবহার করেছিলাম। কেন জানেন? আপনার পাশে আমাকে দেখে নাওফিলের মাঝে আমার জন্য সিরিয়াসনেস, হার্ডনেস দেখতে পাই কি না সেটাই পরীক্ষা করার ছিল। পুরুষদের জেলাসি আবার মেয়েদের চেয়েও ভয়াবহ হয় কি না! এই যেমন আপনিই উদাহরণ। আমার প্রথম আর শেষ চাওয়া এবং প্রথম লক্ষ্যই ছিল শুরু থেকে আমার স্বামী। সেখানে আপনি কোথাকার কে, কত বড়ো হনু, তা দেখার সময় কই আমার? মাত্র পনেরো দিনেই আপনি আমার জন্য উন্মাদ হয়ে যাবেন জানলে ওই সামান্য দু’চার মিনিটের সৌজন্য আচরণটুকুও করতাম না ফোনে। না জানি সিরিয়াস রিলেশনে গেলে কী অবস্থা হত? আমি সত্যিই স্বার্থবাদী এখানে৷ তবে সুবিধাবাদী না। আর পরিপূর্ণ ধূর্ত এখনও হতে পারিনি। হলে কি আর বোকার মতো আপনাকে ভেতরে আসতে দিতাম? কিন্তু আপনিও আমার মতোই আধা বোকা, আধা চালাক৷ একেবারে রিস্ক নিয়ে বাসায় ঢুকে কিডন্যাপ করতে চলে এলেন? প্ল্যান করার পূর্বে ভাবলেন না আপনার এক্স বেস্ট ফ্রেন্ড তার ঘরের কোনায় কোনায় সিসি ক্যামেরা ফিট করে রেখেছে?

আমাকে নিয়ে আপনি চলে যেতে পারলেও ধরা তো ঠিকই খেতেন। আবারলে আপনার ভাগ্যও মন্দ।আপনি কি আর জানতেন আমাকেও এত হালকাভাবে নিয়ে বাঁশ খাবেন? চৌদ্দ বছর বয়সে হাতে গান নিয়ে শুট করতে শিখেছি আম্মুর থেকে৷ আব্বু বেঁচে থাকলে আরও অনেক কিছু শিখতে পারতাম। তিনি বেঁচে থাকতে আম্মুকে যেমন ট্রেনিং দিয়ে গেছেন
ঢাকায় এসে একার মতো চলতে হবে ভেবে সেল্ফ ডিফেন্স করতে শিখেছিলাম চার বছর আগে। কতগুলো সেল্ফ ডিফেন্স গ্যাজেটসও কিনে রেখেছিলাম। কিন্তু গত চার বছরে কখনও কাজে লাগাতে পারিনি আমার এই অমূল্য মারামারি চর্চাটা। যদিও আপনার শক্তি দেখে প্রথমে বেশ ঘাবড়েই গিয়েছিলাম। যাকগে বাদ দিই৷ এবার সুন্দর করে ঘুমিয়ে যান তো দেখি।’
দীপ্ত দীধিতির চমকিত করা এই রূপ দেখে ব্যথা ভুলে স্তম্ভিত অভিব্যক্তিতে দেখতে থাকল ওকে৷ ওর কথাগুলো কানে পৌঁছলেও চমকের ঘোরেই আটকে থাকার ফলে মস্তিষ্ক ধরতে পারল না শেষের কথাখানা। ঠোঁট ছড়িয়ে হাসতে হাসতে দীধিতি সে সময়ই রুমালটা ঠাস করে তার নাকে চেপে ধরল।

বাসায় ঢোকার পূর্বে দীধিতিকে অগণিতবার কল করে করে নাওফিল সাংঘাতিক বিরক্ত হয়ে পড়েছিল। প্রয়োজনের সময় কল রিসিভ না করলে নিজের ফোনের সাথে সেই ব্যক্তির ফোনটাও আছাড় মেরে ভেঙে ফেলার সাধ জাগে ওর। নেহাৎ দীধিতি আজ অসুস্থ! নয়ত সম্পূর্ণ রাগটা বউয়ের ফোনের ওপর দিয়ে নিত সে৷
রান্নাবান্না করা সম্ভব হয়েছে কি না তা জানতেই কল করা। কিন্তু জবাব না পেয়ে বাধ্য হয়ে কিছু খাবার কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নাওফিল। কাজ বুঝে নিতে গিয়ে হুঁশ ছিল না অফিস আসার পর কল করে দীধিতির খোঁজ নেওয়ার৷ ফিরতে ফিরতে একটু টেনশনও হচ্ছিল খুব বেশি জ্বর এলো কি না দীধিতির, এই ভেবে৷
বেলা বাজে এখন দু’টো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিংবেল বাজালে দরজাটা খুলে দিলো রাতুল। তাকে দেখে নাওফিলের মুখভঙ্গিতে আরও বিরক্তি ফুটে উঠল, ‘তুই ক্যান, হতচ্ছাড়া? আমার বউ কই?’
-‘শালা অসুস্থ বউ রেখে অফিস করা মারাও?’ বলতে বলতে দরজার মুখ থেকে সরে নাওফিলকে আসার সুযোগ করে দিলো রাতুল।

বিরক্তির সঙ্গে এবার মেজাজ খারাপও দেখা গেল নাওফিলের চেহারায়। গলা থেকে টাইটা খুলতে খুলতে মনেমনে দীধিতিকে ‘বালের তুলোমার্কা বউ’ বলে গালিই দিয়ে বসল তাই। খুব বাজে লাগে ওর, স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যাপারগুলো একান্ত না থাকলে৷ একদম অপছন্দই করে সে এসব নিয়ে ভাই, বন্ধুদের সাথে খোলামেলা আলোচনা আর হাসিমজা করা৷ যার জন্য প্রথম দিনেই দীধিতিকে জানিয়ে দিয়েছিল, ‘নির্লজ্জের মতো বান্ধবীদের করা প্রশ্নগুলোর কিন্তু একদম উত্তর দেবে না বলে দিলাম। তোমার আমার রোমান্টিক মোমেন্ট কেমন ছিল তা গল্প করার জন্য আমি তুমিই যথেষ্ট।’
দীধিতি তা মান্য করেছে কি না জানা নেই। কিন্তু মুখে না বলেই যে বউ তার প্রকাশ করে দিচ্ছে নেতিয়ে পড়ে থেকে। নাহ, এ বউ তার মান ইজ্জত এভাবে প্রতিদিন খেতে থাকলে সত্যিই সে আর ছোঁয়াছুঁয়িই করবে না।
খাবারের ব্যাগগুলো ডাইনিং টেবিলে রেখে রাতুলকে ফেলেই হনহন করে উপরে উঠে গেল। রাতুল চিন্তিত মুখ করে পিছুপিছু গেল তার।
লিভিংরুমে বন্ধুদের সমাবেশ। শিহাব অনুপস্থিত শুধু। খুব গম্ভীর মুখ করে তিনজন বসে আছে। নাওফিলকে দেখেই আলোচনা থামিয়েছে ওরা। তা খেয়াল না করে নাওফিল রুমানকে জিজ্ঞেস করল, ‘তোর বউ কই?’

-‘তোর বউয়ের কাছে।’
-‘ডাক দে। আমি ঘরে যাব।’
-‘তো যা। তুই গেলেই তো বেরিয়ে আসবে।’
নাওফিলের ভালো লাগছে না ওদের উপস্থিতি। দীধিতি অসুস্থ না হয়ে পড়লে এই মেজাজ খারাপটা হত না। মধ্যাহ্নভোজ সেড়ে দুপুরটা বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দেওয়া যেত ব্যাচেলর সময়গুলোর মতো। ওদিকে ঐশী নির্ঘাত খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে এতক্ষণে কথা বের করে নিয়েছে বোধ হয় দীধিতির কাছে। সেসব নিয়েই ঘরের ভেতর ফাজলামি চলছে নিশ্চিত।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গলায় শব্দ তুলে ঐশীকে জানান দিলো নাওফিল নিজের উপস্থিতি৷ দীধিতির সঙ্গে বিছানায় বসে ঐশী তখন দীপ্তর ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলছিল। নাওফিল এসেছে টের পেতেই সে গলা ছেড়ে বলে উঠল, ‘ভেতরে আসেন, ভাইয়া। আমি লিভিংরুমে যাচ্ছি।’
বেলকনি হয়ে ঐশী বেরিয়ে গেল আর নাওফিল তখন প্রবেশ করল। দীধিতিও বিছানা ছেড়ে নেমে বেলকনির দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে নাওফিলের কাছে এসে দাঁড়াল। হাতে তখন সকালের সেই চিরকুটটা। যেটা বিছানা গোছাতে গিয়ে পেয়েছে ও। তারপর থেকেই টেনশন হচ্ছে, নাওফিল কীভাবে রিয়্যাক্ট করবে ভেবে। ওকে যে সে সতর্ক থাকতে বলে যাবার পরও আজ এত বড়ে একটা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল, তার জন্য কি নাওফিল রেগে যাবে না খুব?
নাওফিল ভ্রু, কপাল কুঁচকে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে দীধিতিকে দেখছে। রক্তিম নাকের ডগায় আর ঠোঁটের ওপরে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে ওর। মুখটা কেমন শুকনো শুকনো। জিজ্ঞেস করল ওকে, ‘জ্বর ছাড়েনি?’

-‘ছেড়েই গেছে। ঘাম ঝড়ছে শরীর থেকে।’
-‘হাফ বেলার জ্বরেই তো চেহারা বদলে ফেলেছ। ঠান্ডাও লেগে গেছে না কি?’
-‘হুঁ, ভোরবেলায় গোসলের জন্য বোধ হয়। চুল শুকিয়ে ঘুমালে ঠান্ডাটা লাগত না।’
-‘ওষুধ খেয়ে দিয়েছ?’
-‘খেয়েছি।’
দীধিতি চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছে না একদম। নাওফিলের চেহারায় স্পষ্ট গাম্ভীর্যতা। আবার কথাও বলছে কেমন করে যেন৷ বিরক্তি না কি রাগ নিয়ে? ঠিক বুঝতে পারছে না ও।
শার্টের হাতার বোতাম খুলতে খুলতে নাওফিল ক্যাবিনেটের কাছে গেলে দীধিতি বলল, ‘তুমি একেবারে গোসলে ঢুকে যাও এখন। সবার সাথে গোসল করে পরে কথা বোলো। তোমার জামা কাপড় বের করে রাখছি আমি। তোমার করা শেষ হলে আমি যাব।’
-‘জ্বর ছাড়ছে মাত্র। আবার গোসলের কী দরকার?’
-‘খুব দরকার।’ মৃদুস্বরে বিড়বিড় করে বলল দীধিতি। যাতে শুনতে না পায় নাওফিল। কিন্তু ওর ঠোঁট নড়তে দেখেই নাওফিল যে বুঝে নিতে পারল কথাটা। শার্টটা বিছানাতে রেখে ওর কাছে এসে দাঁড়িয়ে শুনতে চাইল, ‘এত দরকার কেন? স্বপ্ন টপ্নে কিছু হয়েছে না কি আবার আমাদের?’ বলেই দীধিতির ঠোঁটে মনোযোগ দিলো।
এত সময় বাদে এবার দীধিতি নাওফিলের চোখে চোখ রাখল। তাকে নিজের ঠোঁটের দিকে বারবার তাকাতে দেখে শিরশির করে উঠল সারা দেহে। গতরাতের প্রতিটা মুহূর্ত কল্পনায় এলো তখন।

-‘আমার মাইন্ড ডার্টি না। যে দিনের বেলা ওসব চিন্তা করে ঘুমাব।’
-‘ওসব চিন্তা তো রাতের বেলার জন্য, তাই না?’
দীধিতি তখন লাজুক হলেও কথার পিঠে কথা চালিয়ে গেল, ‘রাত দিন কখনই করি না আমি। কালকের ব্যাপারটা আলাদা ছিল।’
-‘আচ্ছা তাই? কিন্তু তুমি খুব সুন্দর সিডিউসড করতে পারো, জানো? আমি নিজেকে কতবার সামলাতে গিয়েও ব্যর্থ হলাম।’
-‘তোমাকে সিডিউসড করতে পারলে ঘুমিয়ে পড়তে পারতে না তুমি। নিজেই যে প্রতিদিন চাও তা কি আমি বুঝতে পারি না? রাগ করে ছিলে বলে কিছু প্রকাশ করোনি এতদিন।’
নাওফিল একটু হেসে ওর খুব কাছে এসে নিম্ন ঠোঁট ছুঁয়ে বলল, ‘এখানে তো আমার চুমুর চিহ্ন থেকে গেছে৷ তোমার বান্ধবী কিছু বলেনি দেখে?’
-‘সত্যি?’ বলেই দীধিতি আয়নার সামনে এসে দাঁড়াল। রক্ত জমে একটু কালচে হয়ে আছে। দীপ্তর জন্য ঐশী আজ এসব খেয়ালই করেনি। করলে কি আর কিছু না বলে ছেড়ে দিত?
নাওফিলের মুখটা হঠাৎ কেমন থমথমে হয়ে উঠল। দীধিতির কাছে আসার পরপরই খুব চেনা এক পারফিউমের ঘ্রাণ নাকে এসে লেগেছে ওর।

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৪

এই ঘ্রাণের একই পারফিউম ওদের সাত বন্ধুর ছিল৷ এবারের আগেরবার দীপ্ত লন্ডন থেকে থেকে ফিরে ছ’টা পারফিউম ওদেরকে উপহার দিয়েছিল৷ নাওফিল পারফিউম ব্যবহার খুব কম করে৷ বাকিরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে বলে ওদের সবারটা অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে৷ ঘ্রাণটা সুন্দর বলে ওরা দীপ্তকে আবারও এনে দিতে বলেছিল। কিন্তু ভুলে যাওয়ার কারণে এবার আনেনি দীপ্ত৷ থেকে গিয়েছিল কেবল ওর পারফিউমটাই। যেটা অস্ট্রেলিয়া যাবার পূর্বেই ফেলে দিয়ে গেছে ও। তাহলে হঠাৎ করে দীধিতির গা থেকে এই ঘ্রাণটা এলো কেমন করে? ঐশী ব্যবহার করছে কি? কিন্তু জেন্টস পারফিউম কেন ব্যবহার করবে সে? আর এটা তো বাংলাদেশে ইমপোর্টও হয় না। তাহলে?

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here