আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৮
ইসরাত জাহান দ্যুতি
আজকে নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের রউফ টিলায় সন্ত্রাসীদের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে ইয়াসিফ রাঙামাটি সদর জোনের বিশ পুলিশ সদস্যদের নিয়ে৷ ওই সময়ই পার্শ্ববর্তী আরেকটি অবস্থান থেকে সেনা টহলের ওপর গুলিবর্ষণ করা হলে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। সেনাবাহিনী পালটা গুলিবর্ষণ করলে হামলাকারীদের মধ্যে দুইজন নিহত হয়।
আহত সেনা সদস্যকে প্রথমে রাঙামাটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হলে সেখান থেকে তাকে হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইয়াসিফ নিজেও কিছুটা আহত হয়েছিল ওদের দলটিতে। এতসব ঝামেলার মাঝে যার ফোনে আজ কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারেনি। সকালের পর থেকে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার কাশেম বেশ অনুরোধ গলায় বলে চলেছে ওকে সেই সন্ধ্যা থেকে, ‘আজকে আমার বাসায় চলেন, স্যার। এই পা নিয়ে একা একা বাংলোতে কে দেখবে আপনাকে? একটা কাজের লোকও তো নেই।’
কিন্তু ইয়াসিফ রাজি নয় কোনোক্রমেই, ‘আপনি আমাকে নিয়ে চিন্তা করছেন, এটাই অনেক। আমি আসলে নিজের বেডরুম ছাড়া অন্যখানে ঘুমাতেই পারি না৷ আর এসব ইনজুরিতে তো নতুন পড়ছি না৷ আরও কতবার আন্ডারকভার অপারেশন করতে গিয়ে হয়েছে! তার তো হিসাবও নেই৷ একাই নিজেকে সামলে নেব সব সময়ের মতোই। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, স্যার।’
এরপর আর কথা বাড়ল না ওদের৷ কাশেম সাহেব নিজ গাড়িতে উঠে পড়তেই ইয়াসিফও ওর স্পোর্টস গাড়িতে চড়ে বসল। ঘণ্টা দুই চালিয়ে তারপর বাংলোতে পৌঁছতে হবে এখন। ইতোমধ্যে রাত ন’টা বাজে৷ গুলি লাগা আহত পা’টা নিয়ে আবার কতদিন ভুগতে হবে কে জানে? ব্যথায় বোধ হয় গায়ে আজ জ্বর লেগে যাবে। সেই চিন্তা করতেই করতেই গাড়ি চালু করল৷ গ্লাভ বক্সে সারাদিন পড়ে থাকা ফোনটা বের করে নিয়ে অন করতেই দেখল বাসার মানুষ থেকে আসা পঞ্চাশ প্লাস কলস৷ টিভিতে খবর দেখেই বোধ হয় এতবার কল করেছিল। আগে তাদের চিন্তামুক্ত করার জন্য কল করল মা’কে। পাঁচ মিনিটের মতো কথা শেষেই তারপর অন্যান্য নাম্বারগুলো থেকে আসা মেসেজ, কল চেক করে নিলো৷ তার মধ্যে রুমানের দেওয়া মেসেজটা মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য রাস্তার পাশে গাড়িটা ব্রেক করল৷
জনমানবশূন্য রাস্তার ডান পাশে পাহাড় আর বাম পাশে বিশাল খাদ৷ পাহাড়ের উপর থেকে ছুটে আসা শিরশিরে বুনো বাতাসের ঘ্রাণ পেতে ইচ্ছাও হলো আবার৷ তাই দরজাটা খুলে মোবাইলটা হাতে নিয়ে যন্ত্রণাগ্রস্ত পা’টা গাড়ির বাইরে নামিয়ে দিয়ে বসল সে। রুমানের মেসেজটা পড়া শেষেই ওকে কল করে কথা বলে জেনে নিলো দীপ্তর হাল আর হদিস। আপাতত যেখানে, যেভাবে আছে সেভাবেই রাখতে বলে জানাল— কাল সকালবেলা আলোচনা করবে দীপ্তকে নিয়ে৷ এবার চার বছরের জন্য জেল খাটিয়েই ছাড়বে ওরা৷ তাতে যতরকম মামলা দেওয়া যায় ততরকমই দেবে৷ নকল প্রমাণ তৈরি করা তো আর ইয়াসিফের জন্য বিশেষ কিছু না৷ নির্বাচন করাও ঘুচিয়ে দেবে দীপ্তর বাপকে।
কথা শেষে এবার সে কল দিলো নাওফিলকে। রিসিভ হতেই নাওফিল জিজ্ঞেস করে উঠল, ‘অপারেশন ছিল আজকে তোর?’
-‘হুঁ, ঝামেলায় ছিলাম তাই।’
-‘ঠিকঠাক আছিস তো? না কি গুলিটুলি খেয়েছিস?’
-‘গুলির প্রচুর দাম। অত দামী খাদ্য শরীরে সয় না আমার। আসল কথাই ফিরি। রুমানের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার৷ আমি এক সপ্তাহের মাঝে ঢাকা ফিরছি৷ ফিরে এসে তোর দোস্তকে শুধু পিঠে না, পেটেও মারব। ওর ক্যারিয়ারই ধবংস করে দেব আমি৷ সাথে ওর বাপের এমপি নির্বাচন করার সাধও।’
-‘রুমানকে বল আমাকে জানাতে ওকে কোথায় রেখেছে।’
নাওফিলের এমনতরো জিদ্দি কথা শুনে অকস্মাৎ ধমকে বসল ইয়াসিফ, ‘আমার কথার ওপর কথা বলবি না, ইডিয়ট! প্রতিবার তুই একেক অকাজ করবি আর তার ঠেলা সামলা দিতে গিয়ে তোর বাপের হাগু টাইট হয়ে যেতে চায়। সবকিছুই তোর খেলা লাগে, তাই না? দাদা তোকে নির্বাচন করাবে বলে কত আশা নিয়ে সব পরিকল্পনা করছেন! সেই নির্বাচনের আগে একদম ইমেজ কালার করার চেষ্টা করবি না। তোর ফাজলামো অকাজে এতকাল সঙ্গ দিলেও এখন আর দেব না আমি।মিহাদকেও পাশে পাবি না তুই। স্মরণ কই? ফোনটা ওকে দে এখন। সকালে জরুরি একটা কথা বলার জন্য কল করেছিলাম ওকে। কিন্তু রিসিভ করেনি।’
-‘তুই কল করেছিলি ওকে? ক’টার দিকে?’
-‘দশটা বোধ হয়। ওর কাছে দে ফোন।’
-‘ওর সাথে কী কথা তোর?’
-‘তা তোর কাছে কৈফিয়ত দেব? যাকে বলার তাকেই বলব। দে ফোন!’ শেষে আরেকবার ধমক বসাল সে নাওফিলকে।
ট্যারেসেই ওরা বসে আছে দু’জন। নাওফিলের বুকের সাথে মিশে ছিল দীধিতি। ফোনটা সে কানে ধরে ‘হ্যালো ভাইয়া’ বলতেই ইয়াসিফ জিজ্ঞেস করল, ‘কী খবর, স্মরণ? কেমন আছ?’
-‘খুবই ভালো। আপনি কেমন আছেন?’
-‘আমিও আলহামদুলিল্লাহ। সকালে তোমাকে কল, মেসেজ করেছিলাম কয়েকবার। ছিলে না বোধ হয় ফোনের কাছে।’
বিব্রত হয়ে পড়ল দীধিতি। বউ মানুষ বেলা অবধি ঘুমানোর কথা তো আর বলা সম্ভব নয়।
-‘হ্যাঁ ভাইয়া। তারপর তো কলব্যাক করেছিলাম। কিন্তু আপনি বোধ হয় তখন বিজি হয়ে গিয়েছিলেন।’
-‘আচ্ছা রাখো সেসব কথা৷ জরুরি কথাটা হলো— তোমার শ্বশুর সাহেব ঢাকায় এখন। আমাদের উত্তরার বাড়িতে গিয়ে থাকছে। ঢাকায় থাকাকালীন বড়ো কাকু জাদের বাসায় আসে না। দুজনের মাঝে বিশাল এক ভুল বোঝাবুঝির দেওয়াল আছে, বুঝলে? সেই দেওয়ালের ভাঙন এতদিন আমরা কেউ-ই করতে পারিনি। কিন্তু আমরা যেটা পারিনি সেটা তুমি পারবে ইন শা আল্লাহ। তোমাদের বিয়েটা যেভাবে হয়েছে তাতে সব থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছে বড়ো কাকু। আগে থেকেই তো ছেলে বাপের সম্পর্ক গুটিয়ে রাখা ছিল। এখন আরও বেশি হয়ে গেছে। বড়ো কাকু সব সময় জাদকে নিয়ে টেনশনে থাকে। ওদের কাছাকাছি আনার দায়িত্বটা নাও তুমি। ছেলে, ছেলেবউ থাকতে সে কেন আলাদাভাবে থাকবে? তোমরা ছোটো, তাই সব রাগ অভিমান দূরে রেখে তোমরাই আগে কথা বলবে। এতে তোমাকে নিয়েও বাড়ির সদস্যদের মনে সুন্দর ধারণা তৈরি হবে। যত যা-ই বলি, এটা তো অস্বীকার করা যায় না যে বিয়েটা ওভাবে করে তোমরা বাড়ির লোকের সাথে অন্যায় করেছ। আমি তোমাকে কী করতে বলছি তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, স্মরণ?’
-‘হ্যাঁ ভাইয়া। আমি নিজেও আসলে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছিলাম বাড়ির কারও সাথে কল করে কথা বলব কি না! কিন্তু সাহস পাচ্ছিলাম না আসলে।’
-‘সাহস দেখাতে হবে। রাগ করবে প্রথমে, একটু কটু কথাও বলবে। কিন্তু তারা কখনই অস্বীকার করতে পারবে না তুমি শেখ বাড়ির নাতবউ। দাদা আর দাদী অপেক্ষায় আছেন তুমি নিজে থেকে কথা বলবে তাদের সাথে। তাই কালই কথা বলবে সবার সঙ্গে। আগে কল করবে তোমার শ্বশুরকে। প্রচুর রিকুয়েষ্ট করবে সে যেন তোমাদের বাসায় আসে। তুমি তার জন্য রান্নাবান্না করে রেখেছ।’
-‘নিশ্চয়ই। থ্যাঙ্কস ভাইয়া, এত খোলাখুলিভাবে কথাগুলো বলার জন্য৷ নয়ত অনেক কিছুই আমি বুঝতেও পারতাম না। আমার আম্মুর সাথে আমার সম্পর্কটাও গুটিয়ে রাখার মতোই। এসব ব্যাপারে তাই তার থেকে জানার মতো বা বোঝার মতো সুযোগই আসেনি৷ আমি জ্ঞান লাভের পর থেকে নিজের মতো আলাদা দুনিয়া তৈরি করে নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। তাই আর পাঁচটা মেয়ের মাঝে যেসব বাস্ততবা আর বুঝ থাকে, আমার মাঝে তা নেই।’
-‘আমি তা জানি, জাদও জানে। তার জন্যই বললাম এভাবে। তুমি কখনই এসব ভেবে মন খারাপ করবে না৷ আমরা তিন ভাই আছি সব সময় তোমার পাশে। তোমাকে সব রকম পরিস্থিতি সামলানোর জন্য প্রস্তুতও করে দেব। ভালো থেকো দু’জন। খুব জলদিই দেখা হবে তোমাদের সাথে আমার।’
নাওফিলের সাথে আর কথা বলে সময় নষ্ট করল না। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত বেজে যাবে এগারোটার বেশি। কিন্তু ক্লান্তিতে ইয়াসিফের ইচ্ছা করছে গাড়িতেই ঘুমিয়ে যেতে।
পা ভেতরে তুলে নিয়ে গাড়ির দরজা বন্ধ করার পূর্বেই আচমকা কেউ এসে দরজার কাছে হুড়মুড়িয়ে বসে পড়ল, আর্তনাদ গলায় অনুরোধ করল, ‘স্যার! ও স্যার! আমারে নিয়া যান আফনের লগে। এক্কেরে খুশি কইরা দিমু আইজকা রাইতে। বেশি ট্যাহা দিয়া লাগব না। আমি এহান্তে ঢাহা যামু। হেই ভাড়াডা সুমান ট্যাহা দিলেই হইব।’
পায়ের একদম গুলি লাগা জায়গাতেই মেয়েটা চেপে ধরেছে। ব্যথার চোটে পারল না ইয়াসিফ শুধু মেয়ে বলে লাথিটা কষতে। নয়ত এক লাথিতে বুকের ছাতি ভেঙে ফেলত পুরুণ হলে। তবে হাত দিয়ে ধাক্কাটা দিতে দেরি করল না৷ আকস্মিক ধাক্কায় একদম রাস্তার মধ্যে জাপটে পড়ল মেয়েটা। সে সময়ই ওর ঢেকে রাখা মুখটার এক পাশ উন্মোচন হয়ে গেল। ইয়াসিফ তখন পা চেপে ধরে যন্ত্রণায় মুখটা সঙ্কুচিত করে ফেলেছে। গালি দিতে মেয়েটার দিকে তাকাতেই মুখের ভঙ্গিমা বদলে যেতে থাকল ধীরেধীরে। মেয়েটাও উঠে পড়ে ওর পায়ের কাছে এসে বসল আবার, ‘স্যার গো! ফালাইয়া যায়েন না আমারে৷ কয়ডা ট্যাহা আমার দরকার ঢাহায় যাওনের লাগি।’
-‘তুই কই থেকে এসে জুটলি? নাম কী তোর? তোর ভাষা শুনে তো মনে হয় না তুই এখানের বাসিন্দা?’ রূঢ়ভাবে বলে উঠল ইয়াসিফ।
মেয়েটা সরল স্বীকারোক্তিতে জানাল, ‘আমি মেরিনা। থাহি তো ঢাহায়। এইহানে এক বান** আইজ ভোরে নিয়া আইছিল আমারে, অগো বন্দুগোসহ অরে মজা দেওয়ানের লাগি। ট্যাহা দিতি চাইছিল মেলা, আবার সাতে রাঙামাডি দেহাও হইব আমার। হেই লোভে পইড়া আইছিলাম৷ কিন্তু কুত্তার ছাওগুলান আমার সুরত দেইহা কাম না কইরা সন্দার সুমায় লাত্থি মাইরা ঘর থিকা বাইর কইরা দিছে। এক টাহাও দেয় নাই হাতে৷ আমার কাছেও অত টাহা নাই ঢাহা ফিরত যাওনের। তারফর সেই সন্দারতে ঘুরতাছি রাস্তায় রাস্তায়। ক্যামনে কী যামু বাইত, হেই চিন্তাই আমি কাস্টুমার খুঁজা ধরলাম। কয়ডা পাইলামও। মাগার কফালডাই ফুডা আমার। হেরাও আমার সুরত দেইহা ভাগছে।’
-‘নাটক করছিস আমার সাথে? এক চরে গাল ফাটিয়ে দেব! তোর সুরতে কী সমস্যা? আমি তো এই অন্ধকারেও তোর ফকফকা মুখ দেখতে পাচ্ছি। পুরুষলোকের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া চেহারা তোর। পরিষ্কার না দেখেও টের পাচ্ছি আমি। তাও মিথ্যা বলে যাচ্ছিস অনর্গল! মতলব কী তোর সত্যি বল! সোজাসুজি না বলে একটা লাথি মেরে খাদে ফেলে চলে যাব! আমাকে যেনতেন মাল ভেবে ফাঁদে ফেলতে ছুটে আসছিস, না? রাত-বিরেতে খুনখারাবি করা আমার কাছে ডালভাত৷ তাই ভালো চাইলে তাড়াতাড়ি স্বীকার কর উদ্দেশ্য কী তোর?’
রুক্ষ ভাষায় বলা ইয়াসিফের কথাগুলো শেষ হতেই ওকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা বাচ্চাদের মতো হি হি করে হেসে উঠল, ‘আফনের মতো হগ্গলেই পেত্তমে আমারে পরী ভাইবা কাছে আহে। তারফর পেত্নী দেইহা দৌঁড় দেয়। হি হি হি! আফনেও এহন ডরাইবেন। তাও আফনেরে দেহাবার চাই আমার পরীর লাহান মুকখানা। আফনের ফোনের লাইট আছে না? ওইডা জ্বালায়ে আমার মুক্ষে ধরেন।’
সন্দিগ্ধ আর কৌতূহলী মন নিয়েই ইয়াসিফ ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট অন করে মেরিনার মুখের ওপর ধরল। অমনি মেরিনা মাথার কাপড় ফেলে দিতেই ওর কলঙ্ক থাকা চাঁদমুখটা বেরিয়ে এলো। মুখের বাঁ পাশটা বিভৎসভাবে পোড়া, চোখটা প্রায় বুজেই গেছে, ভ্রু নেই, এবড়োখেবড়ো মুখের চামড়াগুলো। ইয়াসিফ স্তম্ভিত চোখে চেয়েই রইল ওই মুখপানে। খেয়াল হলো, গলার ওই পাশটাও পুড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছিল এই সুন্দর মুখটাই৷
নিজের ব্যথা বোধ হয় গায়েব হয়ে গেছে ইয়াসিফের। বাসায় ফিরে তাকে বিশ্রাম নিতে হবে, সে কথাও বেমালুম ভুলে বসেছে সে। মর্মাহত চোখে মেরিনার পোড়া মুখটা দেখতে দেখতে মৃদুস্বরে শুধাল, ‘কীভাবে হলো তোর সাথে এই অন্যায়?’
মেরিনার হাস্যরত মুখখানিতে মলিনতা নেমে এলো ধীরেধীরে, জিজ্ঞেস করল ওকে, ‘হুনবেন স্যার আমার জেবনের কাহিনি?’
আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৭ (২)
-‘শোনা।’
মেরিনা যেন খুব খুশি হলো। তাই শাড়ির আঁচলটা দ্রুত মাথায় তুলে দিয়ে ইয়াসিফের পায়ের কাছেই গুটিয়ে বসল।
নাওফিল আর স্মরণ আজকের পর্বে পুরোপুরি নেই বলে পাঠকরা যদি ঠিকমতো রিয়্যাক্ট আর মন্তব্য না করেন, তবে বুঝে নেব আপনারা শুধু ওদের রসায়ন জানতেই আগ্রহী। তাহলে আর গল্প বড়ো করে লাভ নেই। পয়তাল্লিশ পর্বের মাঝেই গল্পের সমাপ্তি দিয়ে দেব।
