আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৩ (২)
ইসরাত জাহান দ্যুতি
লিভিংরুমটার বেলকনি আর শোবার ঘরের বেলকনি সংযুক্ত করা। বিশাল এই বারান্দা হয়েই লিভিংরুমেও প্রবেশ করা যায় আর শোবার ঘরেও।
দীধিতি বেরিয়ে যাওয়ার পরও নাওফিল গুম ধরে বিছানায় কয়েক মিনিট বসে থাকে। তারপর হঠাৎ ঘর ছেড়ে বেলকনি হয়ে লিভিংরুমে আসে দেখার জন্য, বউটা এখানে এসেছে না কি নিচে গেস্টরুমে চলে গেছে? ক্রিস্টাল গ্লাসের ওয়াল লাইটটা জ্বেলে দিতেই দেখতে পায়, বুকের মধ্যে কুশন জড়িয়ে ধরে বড়ো সোফাতে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে সে। চোখের ওপর আলো পড়লেও চোখ মেলল না। নাওফিল লাইটটা তখন নিভিয়ে দিয়ে এসে বসে ওর মাথার কাছে। কিয়ত্কাল নিশ্চুপ বসে থেকেও দীধিতির থেকে কোনো আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া না পেয়ে কোমল স্বরে জানায়, ‘স্যরি, ওভার রিয়্যাক্ট করার জন্য।’
কথাটা শুনে একটু সময় পর দীধিতি উঠে বসে। দৃষ্টি ঝুঁকিয়ে রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বলে, ‘যেভাবে আজ আমাকে ইন্টিমেসি নিয়ে কটাক্ষ মন্তব্য করলে তুমি! ভেবে দেখেছ সেটা কী পরিমাণ লজ্জা আর অপমানজনক? আমি চেয়েছিলাম শারীরিক, মানসিক, দু’ভাবেই নিজেদের মাঝে সবটা স্বাভাবিক করতে।’
-‘আমি বুঝতে পেরেছি।’
-‘তাহলে অপমান কেন করলে?’ চকিতেই চেঁচিয়ে উঠে তাকাল দীধিতি ওর দিকে।
নাওফিল আগের মতোই কোমলতা নিয়ে বলল, ‘উচিত হয়নি, রিয়েলি স্যরি৷ চলো, ঘরে গিয়ে শোবে।’
-‘কোথাও যাব না আমরা। কোনো কথা আর পেন্ডিং রাখা চলবে না। এটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। এক্ষুনি সব ক্লিয়ার হবে আমাদের মাঝে।’
-‘অবশেষে এটা যখন বুঝতেই পেরেছ তখন কথা কাল হলেও সমস্যা নেই। এখন অনেক রাত, ঘুমাতে হবে আমার। কাল অফিস যাব সকালে।’
-‘কীসের অফিস? তুমি না জব ছেড়ে দিয়েছ?’
-‘আবার নিয়েছি।’
-‘ওহো, মন্ত্রীর নাতি! আবার এমপির ছেলে! চাকরি তো ব্যাপারই না যে কোনো সময় ম্যানেজ করা। ভুলেই গিয়েছিলাম।’
-‘হুঁ, সামনে থেকে আর ভুলবে না। এখন ঘরে চলো।’
-‘ঘরে চলো ঘরে চলো করছ কেন এত? আচ্ছা তোমার ক্ষমতার ব্যবহার করতে বাধে না! তুমি তো ওয়েল এডুকেটেড, কোয়ালিফাইড ছেলে। নিজ যোগ্যতায় কখনও জব ট্রাই করতে মন চায়নি?’
নাওফিল প্রশস্ত ঠোঁটে হাসে, নিঃশব্দে। আলো-আঁধারির মাঝে বসে দুজনই দুজনকে দেখতে থাকে সে সময়৷ ওকে হাসতে দেখে দীধিতি বলে, ‘আমি আশা করেছিলাম তুমি লজ্জা পাবে। কিন্তু…’
-‘কিন্তু তুমি তোমার প্রত্যাশা অনুযায়ী আমার থেকে কখনই এক্সপ্রেশন পাও না বলে মনেমনে খুব বিরক্ত হও। বিরক্তিটা আমাকে ঘিরেই হয় না কি তোমার নিজের ওপরই, সেটা বলতে পারছি না যদিও।’
-‘তোমার ওপরই হই৷ নিজের ওপর হব কেন? আমি তোমাকে আগেও বলেছি রহস্য রহস্য ব্যাপারটা আমার সহ্য হয় না। আর তুমি মানুষটাই সব কিছুতে রহস্য করতে ভালোবাসো। রাগও হয় এজন্য আমার। এই যে এক সপ্তাহ ধরে আমি নীল চোখ নিয়ে ঘুরছি। তোমার বন্ধুরা, প্রতিবেশীরা আজ তা দেখে লেন্স ব্যবহার করেছি ভেবে তোমার সামনেই কতবার করে প্রশংসা করল আমার লাভলিনেস নিয়ে। অথচ তুমি এতগুলো দিন দেখেও আনরেসপন্সিভ, আনইনট্রেস্টেড। তোমার বদলে অন্য কেউ হলে কি জিজ্ঞেস করত না কিছুই এটা নিয়ে?’
-‘অবশ্যই করত। আমিও তো জিজ্ঞেস করেছি।’
-‘কখন করলে? মিথ্যে বলো কেন?’
-‘আমি হুটহাট, অযথা মিথ্যে বলি না। জিজ্ঞেস করেছি মনেমনেই৷ আর অপেক্ষা করেছি তুমি নিজে থেকে কখন জানাবে, যেটা এখনও আমি জানি না তোমার সম্পর্কে। নিজে থেকে জিজ্ঞেস করিনি যদি তুমি ফোর্স ফিল করো তাতে? তোমাকে প্রেশারাইজ করে কিছু শুনতে চাইনি বলেই জিজ্ঞেস করিনি।’
গাম্ভীর্যতা নিয়ে নাওফিল কথাগুলো বললেও দীধিতির হঠাৎ হাসি চলে এলো, ‘মনেমনে তো আমিও তো জবাবগুলো দিয়েছি। তার বেলায়?’
ভ্রু’দুটো কুঞ্চিত করে তাকাল তখন নাওফিল। দীধিতি মিটিমিটি হাসছে দেখে সহসা একরোখা গলায় বলে উঠল, ‘তুমি যাবে কি যাবে না ঘরে?’
-‘তুমি আবার আমাকে অকারণে মেজাজ দেখাচ্ছ?’ কপট রাগ ভাব দীধিতির চেহারায়।
-‘মেজাজ মাথার চুলের ডগায় নাচছে আমার এখনও৷ ঘুমানোর আগে যেগুলো বলেছিলাম ঘুম ভেঙেই দেখি তার কোনো কথায় তুমি স্মরণে রাখোনি৷ তাহলে মেজাজ কি চটবে না আমার? তুমি এখনও খোলামেলাভাবেই চলাফেরা করছ। আমি তখন কথাগুলো কত সিরিয়াসনেস নিয়ে বললাম! তা তুমি কেন সিরিয়াসলি নিলে না বলো?’
এই রাগের আড়ালে সে লুকিয়ে গেল ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বের সেই অস্বভাবী ঘটনা নিয়ে দুশ্চিন্তাটুকু। যে দুশ্চিন্তার অংশ দীধিতিও৷ আর তা থেকেই দীধিতির অবাধ্যতায় মেজাজ হারিয়েছিল। চাইলেও নাওফিল নিজের জীবনের অজানা, অমীমাংসিত কথাগুলো এখনই জানাতে পারবে না দীধিতিকে। প্রথমত, দীধিতি সেসবই বিশ্বাসই করবে না। দ্বিতীয়ত, নাওফিলের বাধা নিষেধও শুনবে না তখন আর।
পনেরো বছর বয়স থেকে যে অপ্রাকৃত, অস্বাভাবিক সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছে সে আর আজও হচ্ছে, তার না সঠিক কারণ জানতে পেরেছে আর না কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তার। রাগ অভিমান যতই থাকুক, দাদী আর দাদা এ কারণে হলেও ওর সঙ্গে যোগাযোগ না করে থাকতে পারেন না৷ কিন্তু জাকির শেখ কখনও বিশ্বাস করেননি নাওফিলের সাথে ঘটা প্যারানরমাল এই কার্যকলাপগুলো। তাই তো তিনি এটাকেও নাওফিলেে মানসিক সমস্যা মনে করে বারবার চিকিৎসার্থে শরণাপন্ন হয়েছেন বড়ো বড়ো সাইকোলজিস্ট আর সাইক্রিয়াটিস্টের। নাওফিলের আচরণ আর মানসিকতা নিয়ে চিন্তায় পড়ে তিনি মনে করেন এক সময়, আয়মানের চিকিৎসা করিয়েছিল সাইক্রিয়াটিস্ট জেরিন। তারপরই ছেলেকে নিয়ে ছুটেছিলেন তিনি অস্ট্রেলিয়াতে। মায়ের কারণেই হয়তবা নাওফিলের মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে ভেবে জেরিনকেও খুঁজে বের করতেও দ্বিধাবোধ করেননি।
নাওফিলের চিন্তায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছে। প্রায় এক বছর নামাজে সে বেশ গাফিলতি করেছে৷ এমনকি নিজের সুরক্ষার জন্য সব সময় সে যতরকম আমল করত, তাও বাদ দিয়ে দিয়েছিল জীবন নিয়ে প্রচণ্ড হতাশায় ভোগার কারণে। কিন্তু তবুও ওই সমস্যার কোনো মুখোমুখি হয়নি। এই যে গাজীপুর থেকে এলো এক সপ্তাহ বাংলো বাড়িতে, তখনও কোনো সমস্যা হলো না। এই নতুন অ্যাপার্টমেন্টে শিফট্ হতেই কেন সমস্যাগুলো শুরু হলো?
আরও একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরছিল নাওফিলের। এই সমস্যাটা তো একান্তই ওর। কিন্তু বছরখানিক আগে সেটা দীধিতির কাছে আসতে চেয়েছিল কেন? তাছাড়া নাওফিলসহ ওর বাকি বন্ধুরাই বা কী করে অশরীরীকে দেখতে পেল? এটা তো সম্ভব নয়।
এই দুটো প্রশ্ন ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে গিয়েছিল সে। এসব নিয়ে অতিরিক্ত ভাবার ফলে সে ঘুমের মাঝেই দীধিতির সাথে প্রথমবার দেখা হওয়ার দিনটা স্বপ্নে দেখতে পেল। আর স্বপ্নেই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরও পেয়ে গেলে কিছুটা। সেটা হলো — নাওফিলের কাছাকাছি কোনো নারী সহজে ঘেঁষতে পারবে না৷ তাহলে ক্ষতিটা ওর পাশাপাশি মেয়েটারও হবে।
সেদিন ওই মুহূর্তেই দীধিতির পিছে অশরীরী সত্তাকে দেখা মাত্রই নাওফিল দাদার শিখিয়ে দেওয়া জিনের ক্ষতি থেকে বাঁচার একটি দোয়া পাঠ করেছিল ‘(আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ইকাবিহি ওয়া মিন শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাজাতিশ শায়তায়নি ওয়া আইয়াহদুরুনা)’ বলেই হয়ত সেদিন বড়ো কোনো বিপদ থেকে নিস্তার পেয়েছিল সবাই। কাগজে লেখা এই দোয়াটি নাওফিল এক সময় সর্বক্ষণ নিজের সাথে রাখত দাদার আদেশে। রাখা ছিল না কেবল সেদিনই। দীধিতি জ্বরের ঘোরে ঘুমিয়ে গেলেই নাওফিল চট করে সেই দোয়াটি কাগজে লিখে তা খুব ভালোভাবে মুড়িয়ে একদম ছোট্ট টুকরো করে রেখে দিয়েছিল দীধিতির সঙ্গে রাখা ছোট্ট ব্যাগটির খুব গহিনে। যাতে সহজে চোখে না পড়ে দীধিতির, ভুলভাল বা কোনো ময়লা ভেবে সেটা ফেলে না দেয়। আর এজন্যই পরবর্তীতে দীধিতি আর কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি।
নাওফিলের দুশ্চিন্তার কারণ নিজের চেয়েও বেশি এখন দীধিতি। ওর মন বলছে যেহেতু, স্ত্রী সঙ্গ ওর জন্য আর নিজের স্ত্রীর জন্যও বিপজ্জনক। তাই যে কোনো সময় ওর মতো দীধিতিও কোনোভাবে সমস্যায় পড়তে পারে। তাই ভেবে রেখেছে, আজ ফজরেই মসজিদের ইমামের সঙ্গে কথা বলবে ও এ বিষয়ে। তার সঙ্গেও কথা হয় না বহুদিন। খুব বেশি বাড়াবাড়ি না হলে দাদাকে জানাবে না সে।
দীধিতি সত্যিই ভাবেনি, নাওফিলের তখনের বলা উপদেশগুলো খুব গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। নাওফিল রাগান্বিত না হলে হয়ত ও কখনই গুরুতর ভাবত না কথাগুলো। ভুলটা উপলব্ধি করে পরিস্থিতির মোড় বদলাতে মন ভার করে বলল, ‘আমি খুব খারাপ স্বপ্ন দেখেছি তখন বেলকনিতে ঘুমিয়ে। সেই স্বপ্নের রেশ কাটতে না কাটতেই তুমি অত রুডলি কথা বললে, তাই গাউনটা পরার কথা খেয়ালে ছিল না তখন। স্যরি।’
দীধিতি অনুতপ্ত হওয়ায় নরম হলো নাওফিলও, ‘কী স্বপ্ন দেখেছ?’
স্বপ্নের বিবৃতি দিতেই নাওফিল চোখের চাউনিতে অভিব্যক্তি অদ্ভুত বুঝিয়ে তাকিয়ে থাকে দীধিতির দিকে। সেই অভিব্যক্তি দেখে দীধিতি অসন্তুষ্ট হয়, ‘অমন করে দেখছ কেন? স্বপ্নটা কোনো বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে তোমার মনে হচ্ছে না?’
-‘আমি ফাইনাল ডেসটিনেশনের পাঁচটা মুভি দেখেই যতটা না থ্রিল পেয়েছি, তার চেয়ে বেশি পেলাম তোমার স্বপ্নের গল্প শুনে। রাত-বিরেতে ঘুম ভেঙে এত দারুণ সিনেমা সিনেমা থ্রিলার ড্রিম শোনার জন্য হলেও আমার তোমাকেই চাই, ডিয়ার বেটার হাফ!’
দীধিতি প্রতিক্রিয়া জানাবার পূর্বেই নাওফিল প্রশ্ন ছুঁড়ল, ‘দেখোনি মুভিগুলো?’
কাঁচুমাচু মুখ করে দীধিতি বলল, ‘আজকে গাড়িতে বসে বোরিংনেস দূর করতে ফেসবুকে দেখেছিলাম মুভির এরকম একটা অংশের ভিডিয়ো।’
-‘বেশ ভালো কথা। তারপর তো দেখলাম ঘুমালেও কিছুক্ষণ। তো ঘুমানোর আগে তুমিও ভাবছিলে ব্রিজ পাড় হওয়ার সময়, যদি আমাদের গাড়িটাও ব্রিজ ভেঙে পানিতে পড়ে যায়? তাই তো?’
দীধিতি আর মুখ খোলার চেষ্টা করল না। সে যে কত বড়ো বোকার হদ্দ, তা বারবার করে প্রমাণ করতে কে বলে নাওফিলের সামনে? মানেমানে উঠে পড়ে ঘরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। কিন্তু এগোতে পারল না তীব্র ঝটকায়। নাওফিল ওকে নিজের ডান উরুতে আকস্মিক হেঁচকা টানে বসিয়ে উন্মুক্ত কাঁধে ঠোঁট ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে প্রেম আবিষ্ট কণ্ঠে উপদেশ দিলো, ‘থ্রিলার, অ্যাকশন, ফ্যান্টাসি, এসব আনরোমান্টিক কনসেপ্টের বদলে অ্যাডাল্ট রোমান্টিক কনসেপ্ট দেখার অভ্যাস করো। তাহলে স্বপ্নে আর ভয়, দুশ্চিন্তা তেড়ে আসবে না। বরং ঘুম ভালো হবে আমাকে নিয়ে আদর সোহাগ চলা স্বপ্ন দেখে।’
নগ্ন কাঁধ আর পিঠে নাওফিলের পুরুষালী ওষ্ঠদ্বয়ের উষ্ণ আর্দ্রমন্দ্রিত ছোঁয়ায় রোমাঞ্চিতা দীধিতি মৃদুস্বরেই টিপ্পনী করে বলে উঠল, ‘এখন আর ঘরে যেতে হবে না?’
নাওফিলের প্রলম্বিত চুমু চলতেই চলতেই ফাঁকে জবাব দিলো, ‘নাহ। কারণ, মনে হচ্ছে সোফাতেও মন্দ হবে না।’
-‘ভালোও হবে না। কারণ, আমি ভালো মন্দ কিছুই হতে দেব না। অপমান ভুলিনি একটুও।’
-‘রাগ করে সোহাগ শুরু করলেও আমি কিন্তু সত্যিই নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে পড়েছিলাম। তাই তো দেরি সইছিল না বলেও রিয়্যাক্ট করে ফেলেছিলাম।’
দীধিতি বাধা না দিলেও আগ্রহও দেখাল না। অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তুকে টেনে এনে এ মুহূর্তেই বলে দিলো, ‘আমার চোখের নীলবর্ণ মিথ্যে নয়, নাওফিল৷ বরং আমার চুলের কালো বর্ণটা মিথ্যে। আমি নীল চোখ, সোনালী চুলের শেতাঙ্গ রেজা হক স্মরণ। দীধিতি নামটা আমার মাম্মামের দেওয়া ছিল। কেউ কখনও এ নামে ডাকেনি আমায়। স্বয়ং মাম্মামও না। কিন্তু নামটা আমার পছন্দ ছিল বলেই ঢাকাতে এসে এ নামেই নিজেকে চেনাই।’
আলগোছে নাওফিল তখন ওর গ্রীবাদেশ ছেড়ে মুখ তুলল। ভারী কণ্ঠ থেকে বিড়বিড় স্বরে পুনঃউচ্চারণ হলো ওর, ‘সোনালী চুল!’
দীধিতি তাও শুনতে পেলো নাওফিলের বিড়বিড় করে বলা। স্বীকারোক্তি দিলো তাই, ‘হুঁ, আমার চুলের বর্ণ সোনালী। কিন্তু আম্মুর আদেশে আমাকে ছোটোবেলা থেকেই এই দুটো নিজস্ব বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে রাখতে হচ্ছে।’
নাওফিল চিন্তামগ্ন ওদিকে, তা লক্ষ করল না দীধিতি। কিন্তু নাওফিল ঠিকই ওর কথাগুলো শুনে চিন্তিত সুরেই আদেশ দিলো, ‘এরপর থেকে আর লুকোবে না।’ তারপরই চিন্তার ঘোর থেকে বেরিয়ে কড়া গলায় বলল, ‘দীধিতি নাম যদি তোমার মাম্মামের দেওয়া হয়, তাহলে আমি আর এ নামে ডাকতে চাই না৷ আমার, তোমার পরিচিতরাও আর কেউ ডাকতে পারবে না। তোমার পালক বাবার আকিকা দেওয়া নাম স্মরণ যেহেতু, স্মরণ নামেই তোমাকে চিনবে সবাই।’
-‘কিন্তু তোমার মুখে দীধি শুনতে আমার ভীষণ ভালো লাগে, নাওফিল!’ কণ্ঠে যেন অনুরোধ দীধিতির।
আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৩
জিনের ক্ষতি থেকে বাঁচার ওই দোয়াটির উপকারিতা : আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) সাবালক ছেলেদের দোয়াটি শেখাতেন এবং দোয়াটি লিখে তাদের গলায় ঝুলিয়ে দিতেন, যেন তারা দুষ্টু জিনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর বিষয় থেকে রক্ষা পায়।
