Home আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৪৪+৪৫+৪৬

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৪৪+৪৫+৪৬

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৪৪+৪৫+৪৬
ফারজানা মনি

পাশে থাকা অবয়বের দিকে তাকিয়ে আরিফের দৃষ্টি যেন থমকে গেছে। মুহূর্তেই গতি হারিয়েছে হ্রদ স্পন্দন । মনের ভেতরের নিষিদ্ধ চাওয়া গুলো যেন এলোমেলো ছুটছে। এক মুহূর্তেই যেন নিজের চোখকে আরিফের অবিশ্বাস্য লাগছে। তার মনে হচ্ছে তার পাশের অভয়বটি তার অতি কাছের, অতি চেনা কেউ। কিন্তু তার ভাবনার মানুষটি যে এ সময়, এই রূপে, এইখানে আসার কথা না ।
কে? বলেই প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো আরিফ….
ভালোবাসি হয়নি বলা, তবুও ভালোবাসি ♥️♥️
পাশাপাশি হয়নি চলা, তবুও পাশাপাশি ♥️♥️

বলেই আরিফের দিকে ফিরে তাকালো মিম। এক মুহূর্তেই যেন থমকে গেছে আরিফের হৃদস্পন্দন। বুকের ভেতরের ধুকপুকানী ক্রমশ বাড়ছে। কিছুটা মিনমিনিয়ে বলল: তুমি!!!
মিম তাকিয়ে আছে আরিফের দিকে। কি স্বচ্ছ তার চোখের দৃষ্টি। আরিফের হঠাৎ করেই মনে হলো আকাশের রুপালি চাঁদটা যেন নিচে নেমে এসেছে। চাঁদের মৃদু আলোতে হালকা পিংক কালারের শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে মিম। তার খোলা চুল গুলো কোমর ছাড়িয়ে নিচ পর্যন্ত গড়িয়েছে। যা বাতাসে মৃদু মৃদু দুলছে । শাড়ির আঁচলটা এই মুহূর্তে অবাধ্যের ন্যায় উড়ছে।

কি মোহনীয় সেই দৃষ্টি। আরিফ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে নিল। এই নারীর দিকে তাকালে আরিফ তার মনকে আর কিছুতেই আটকে রাখতে পারবে না। হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করবে এই রমণীর মাঝে।
হঠাৎই মৃদু ধাক্কায় কেঁপে উঠল আরিফ। দু কদম পিছনের দিকে সরে গেল । আকস্মিক ঘটনায় আরিফ হতভম্ব, নিস্তব্ধ। কি ঘটল এই মুহূর্তে তার সাথে!!!
তাল সামলাতে না পেরে ছাদের কার্নিশটি চেপে ধরলো। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই মিমের ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
মিম এখানে অনেকক্ষণ আগে এসেছে। কিন্তু আরিফের কোন ভাবান্তর না দেখে বুঝতে পারলো আরিফ তাকে এখনো ক্ষমা করতে পারেনি। সেই কষ্টে ফুপিয়ে কেদে উঠল মিম। নিজের ভয় জরতাকে সাইডে রেখে আঁছড়ে পড়ল আরিফের শক্তপুক্ত ঢেউ খেলানো বুকে।

আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিন। দুপুরের ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। প্রচন্ড ভয়ের কারণে ভুল করে ফেলেছি। আপনাকে থাপ্পড় মারার মতো কোন ইচ্ছে আমার ছিল না। আপনি প্লিজ রাগ করে থাকবেন না। আপনার এই অভিমান আমার নিঃশ্বাস থমকে দিচ্ছে বারংবার। কেঁদে কেঁদে একদমে পুরো কথাটা বলে থামল মিম।
শরীরটা যেন তার কেঁপে কেঁপে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠছে। যার প্রভাব বিস্তার করছে আরিফের অশান্ত মনে। কিছুক্ষণের মধ্যে ভিজে উঠেছে আরিফের টি শার্টের বুকের পাশটা।
হঠাৎ করেই মিম কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে উঠলো: ♥️ভা-লো-বা-সি♥️
আরিফ নিরন্তর নিথর দেহের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। কথাটা শুনতেই যেন তার বুকটা কেঁপে উঠল। আস্তে আস্তে আওরালো: once more….

মিম:♥️ ভী-ভী-ষ-ন ভা-লো-বা-সি ♥️
আরিফ আবারো বলল : A-g-a-i-n…
এবার যেন তার কন্ঠ টাও কাঁপা কাঁপা শুনা যাচ্ছে।
মিম এবার কিছুটা সাহসের সাথেই বলে উঠলো: ♥️ভালোবাসি.. ভীষণ ভালোবাসি… অনেক অনেক ভালোবাসি ♥️ প্লিজ পরিস্থিতি যেমনই হোক কখনো আমাকে ছেড়ে যাবেন না♥️
পরিস্থিতির কথাটা ভাবতেই মীমের বুকটা যেন ভয়ে দুরু দুরু কাঁপছে। আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আরিফকে।
এবার আরিফও সকল রাগ অভিমান ভুলে শক্ত করে বাহু ডোরে আলিঙ্গন করলো নিজের প্রেয়সিকে। আকাশের চাঁদের দিকে ফিরে তাকিয়ে আরিফ একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। আজ অনেকগুলো দিন পর তার মনে বয়ে চলেছে প্রশান্তির হাওয়া।
আকাশের চাঁদটা যেন আজ ভিন্ন উদ্দেশ্যে উদয় হয়েছে।
চাঁদের যেনো একান্ত অবিলাস আরিফ ও তার প্রেয়সীর ব্যাকুল প্রেমের সাক্ষী হওয়া।

ঘড়ির কাটায় সকাল দশটা। কিন্তু মিম আর আইরিন এখনো ঘুমিয়ে। সচরাচর তারা এত ঘুমায় না কখনো। তাছাড়া খান বাড়ির একটা বহু পুরনো রীতি হলো বাড়ির সকল সদস্যরা ভোরে ওঠে ফজরের নামাজ পড়বে। মিমও বাড়িতে প্রতিদিন ওঠে। কিন্তু গতকাল রাতে আরিফের চিন্তায় ঘুম না আসা এবং গভীর রাতে ছাদে আরিফের সাথে দেখা করতে যাওয়ায় , মিম ও আইরিনের ঘুমোতে প্রায় মধ্যরাত হয়ে যায়। যার ফলস্বরূপ সকালে এখন পর্যন্ত ঘুম ভাঙ্গেনি দুজনে।
মিম.. এই মিম.. বলেই দরজা ধাক্কাচ্ছে মেঘ। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নেই। মেঘের দরজা ধাক্কানো শুনে এবার বন্যা আর জান্নাতও এলো। বাহিরের এত শোরগোল শুনে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠল মিম। উঠে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো সকাল ১০ টা বাজে। মিম তো অবাকের চরম পর্যায়ে। আল্লাহ… বলেই মিম হা করে বসে আছে।
হঠাৎ আবার বাহির থেকে ডাক শোনা যাচ্ছে। আইরিন… এই আইরিন… ওঠ..। এবার মিমও আইরিনকে ডাকতে শুরু করল। কিন্তু আইরিন মিমের ডাকে কোনরকম সারা না দিয়ে অন্য পাশে ঘুরে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।
মিম এবার রাগে আইরিনের গায়ে জোরে একটা চিমটি কাটলো। আ-উ-চ… বলেই আইরিন লাফিয়ে উঠলো। মিমের হঠাৎ চিমটি এবং বাহিরের দরজা ধাক্কানো শুনে আইরিন ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে? মিম দুষ্টুমির সুরে বলল: ডাকাত পড়েছে বাহিরে…

ও.. মা..গো..
মিম.. আমায় বাঁচা.. আমি এত তাড়াতাড়ি মরতে চাই না..
আমার যে এখনো প্রেম, বিয়ে, সংসার , দুই হালি বাচ্চা জন্ম দেওয়া বাকি। মিম হতবার চোখে তাকিয়ে থেকে আইরিনের মাথায় একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল: তোর এই শখ মনে হয় এই জনমে আর পূরণ হবে না। আইরিন ভয়ে ভয়ে বলল: কে..নো.. ডাকাত কি আমাদের এখনি মেরে দিবে?
মিম একটু রাগী কন্ঠে বলল: নাহ.. তবে ডাকাত না মারলেও একটু পর বাড়ির লোকের মার খেয়ে অবশ্যই মরবো।
আইরিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দাঁত কেলিয়ে বলল: যাহ দুষ্টু ভাবি.. বাড়ির লোক আমাদের কেন মারবে? তারা তো আমাদের ভালোবাসে। বলেই আইরিন আবার শুয়ে পড়লো।
কিরে তোরা কি এবার ঘুম থেকে উঠবি নাকি তোদের ভাইদের ডাকবো? মাহমুদা খানের কন্ঠে এবার মিমের টনক নড়তেই মিম জোরে বলল: আসছি ফুপ্পি.. বলেই আইরিনকে আবারো ডাকলো। বলল: এই আইরিনের বাচ্চা জলদি ওঠ.. ভুলে গেছিস রাতের কথা?

তোর বুদ্ধিতে তোর ভাইকে ইমপ্রেস করতে গিয়ে শাড়ি পরে এখন আমি ফাঁসির আসামী হয়ে যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি ওঠ হারামি। এগুলা গুছাতে হবে, নাহলে আজ আর রক্ষা নেই।
মনে হচ্ছে পিঠের হাড় আজ আর একটাও আস্ত থাকবে না। রাতে মিমকে পরিয়ে দেওয়া আইরিন এর শাড়ি ব্লাউজ গুলো এখনো রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কথাটা মাথায় আসতেই আইরিন লাফিয়ে উঠে বসলো।
মিম… জলদি সব গোছা… বলেই আইরিন তাড়াহুড়া করে গোছাতে থাকলো সব। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো অন্য জায়গায়। মধ্যরাতে অতিরিক্ত পাকনামি করতে গিয়ে তাড়াহুড়ায় আলমারির চাবি টা যে কোথায় রেখেছে দুজনের একজনের ও মনে নেই।
আলমারি ছাড়া এসব অন্য কোথাও তুলে রাখাও যাবে না। মিম আইরিন বাহিরে বের হওয়ার পরেই হয়তো জান্নাত এসে পুরা রুমটা গুছাবে। অন্য কোথাও রাখলে ধরা খাবে নিশ্চিত। দুজন হন্য হয়ে খুঁজতে লাগলো চাবির গোছা। এলোমেলো ছোটাছুটির ধরুন মিমের সাথে আইরিন এর মাথা খেলো জোরে এক ধাক্কা। মিম আ… বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো। কিন্তু আইরিন সেখানে মনস্থির না করে তার মনোযোগ দিল মিমের পিছনে চুলে লেগে থাকা চাবির গোছার দিকে।
মধ্যরাতে রুমে ফিরে চাবির গোছা টা হয়তো বিছানা থেকে কোথাও তুলে রাখেনি। বিছানায় রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল দুজন। যার ফলে এখন মিমের লম্বা এলোমেলো চুলে চাবিগুলো পেচিয়ে আটকে আছে।
আইরিন তাড়াহুড়া করে সেই চাবি খুলতে গিয়ে মিমের কত চুল ছিড়লো কে জানে। মিম তো একটু কাঁদো কাঁদো মুখে বলে ই দিল যে, মাত্র এক রাত হয়েছে ভাবি বানিয়েছিস এখনই ভাবির চুল ধরে মারছিস?

অবশেষে মিম আর আইরিন নাস্তার টেবিলে এসে বসলো। কিরে এত ক্ষণ লাগলো রুম থেকে বের হতে.. রাগী কণ্ঠে বলে উঠলেন মাহমুদা খান। আইরিন আমতা আমতা করে বলে উঠলো: ইয়ে.. মানে আম্মু..
মাহমুদা খান: থাক তোকে আর মানে মানে করতে হবে না। কতক্ষণ থেকে সবাই বসে আছে তোদের অপেক্ষায়। এবার নাস্তা সেরে নে।
আইরিন মিন মিনিয়ে বলল: মিম আমরা এই যাত্রায় বেঁচে গেছি।
মিম: হুম।
কিরে এমনিতেই এত লেট করে বের হলি। এখন আবার দুজন কি ফিসফিস করছিস? মিমের বরাবর সামনের চেয়ারে বসে বলে উঠলো মেঘ।
মীম : না আপু কিছু না।

এবার সকলেই খাওয়া শুরু করল। তানভীর দেখে দেখে বন্যার প্রয়োজনীয় খাবার তার প্লেটে দিচ্ছে। পাশ থেকে আদি বলে উঠলো: ভাইয়া আমাকেও একটু দাও.. আমিও তো বউ মনির মত ছোট।
আদির কথা শুনে সকলেই হেসে দিল। তানভীর কিছু না বলে আদির প্লেটে ও খাবার তুলে দিল।
মেঘ একটু খেয়েই বারবার আবিরকে বলছে সে আর খাবে না। কিন্তু আবির তো ছাড়ার পাত্র নয়। সে কিছুতেই মেঘকে পুরো খাবার শেষ না করে উঠতে দিবে না। জোর করে, নানান কথা বলে খাওয়াচ্ছে মেঘকে।
আসিফ ,আরিফ, মিম, আইরিন তারা যার যার মত খাচ্ছে। মাহমুদা খান ও জান্নাত সবাইকে নাস্তা পরিবেশন করছে।

হঠাৎই মিমের কানে বাজলো এক অন্যরকম সুর। মিম হকচকিয়ে গেল। কি ম্যাডাম, ঘুম হয়েছে? মিম পাশে তাকিয়েই দেখল তার পাশের চেয়ারে আরিফ বসে আছে।
আরিফকে দেখে মিম বিশাল এক চমক পেল। দুরুদুরু বুক নিয়ে মিম বুঝতে পারছে না খাবে নাকি উঠে যাবে বা এই মুহূর্তে তার কি করা উচিত..
কোন কিছু বুঝতে না পেরে মিম উঠে যাওয়ার সিদ্ধান্তটাই নিল। কিন্তু আরিফ মনে হয় তা আগে থেকেই জানতো। আর জানবে নাইবা কেন? সে তো জানে তার মিম কতটা লাজুক।
মিম যেই না উঠে যাবে.. ঠিক সেই সময় ই আরিফ টেবিলের নিচ দিয়ে মিমের হাতটি চেপে ধরল। মিম পড়লো আরো বিপাকে। যে মানুষটি পাশে থাকলেই ভেতরের দুকপুকানি বেড়ে যায়। সেই মানুষটি যদি তার হাত ধরে রাখে তাহলে মিম কিভাবে স্থির থাকবে..
এত ভাবনার ভিতরে হঠাৎই খেয়াল করল মাহমুদা খান তার প্লেটে আরো খাবার দিচ্ছে। মিম বাধা দিল কিন্তু মাহমুদা খান কিছুই শুনলো না।
একদিকে মা খাবার দিচ্ছে আর অন্যদিকে ছেলে হাতের আঙ্গুলের ভেতর আঙ্গুল ঢুকিয়ে বসে আছে। মিম পরলো চরম বিপাকে। আরিফকে দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না সে টেবিলের নিচে মিম কে এতো জ্বালাচ্ছে। সবার খাওয়া-দাওয়া শেষ পর্যায়ে। মিম আস্তে আস্তে বলল: ছাড়ুন.. আমি উঠবো..
কিন্তু আরিফের চেহারায় কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। সে না শোনার ভান করে খাবার খেয়ে যাচ্ছে।
আইরিনের খাবার খাওয়া শেষ হওয়ায় মিমের অন্য হাত ধরে টান দিয়ে বলল: কিরে খাওয়া শেষ বসে আছিস কেন? চল..

এবার আরিফ মিমের হাতটি আলগা করে দিল। মিমও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ছুটে ত্যাগ করলো ডাইনিং রুম।
দুপুরে কড়া রোদকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতিতে ধরা দিল পড়ন্ত বিকেল। খান বাড়ির বাকি সদস্যরা দুপুরবেলা এসেছে। আলী আহমেদ খান একটু পরেই সবাইকে নিয়ে খান বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
মাহমুদা খান অনেক করে বলল: ভাইজান … আজকের রাতটা আপনারা সবাই থেকে যান।
কিন্তু আলি আহমেদ খান ও মোজাম্মেল খান কাজের বাহানায় থাকতে নারাজ। তারা মাহমুদা খানকে জানালো আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সকলেই রওনা হবে ।
আবির আলী আহমেদ খানের সামনে এসে বলল: আব্বু তোমরা সবাইকে নিয়ে বাসায় যাও..
আলী আহমেদ খান: কেন? তুমি কোথায় যাবে?
আবির: আমি মেঘকে নিয়ে একটু নার্সিংহোমে যাবো।
আবিরের কথা শুনে মালিহা খান, হালিমা খান ও আকলিমা খান এগিয়ে আসলো। জানতে চাইলো মেঘের শরীর ঠিক আছে কিনা..

মেঘ: হুম.. আমি ঠিক আছি।
পাশ থেকে আবির বলে উঠলো: তোমরা এত টেনশন করো না প্লিজ। আমি ওকে নিয়ে ব্লাড গ্রুপ টেস্ট করাতে যাব। ওর রক্তের গ্রুপটা জানা থাকা আমাদের প্রয়োজন।
মোজাম্মেল খান: ঠিক আছে.. তোমরা সাবধানে যেও। আমরাও আর কিছুক্ষণ পর বের হব।
আবির মোজাম্মেল খানকে সম্মতি জানিয়ে মেঘের কাছে গিয়ে বলল রেডি হয়ে নিতে।
মেঘ চলে গেল রেডি হতে। বন্যাও গেল মেঘের পিছু পিছু ।
আলী আহমেদ খান সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো: তোমরাও যাও.. সবাই রেডি হয়ে নাও। আবির মেঘ বের হওয়ার পর আমরাও বেরিয়ে যাব।
এ কথা শুনে সকলেই নিজস্ব জিনিসগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্য রুমের দিকে চলে গেল।
যথারীতি মিমও যাচ্ছিল আইরিনের রুমের দিকে। কিন্তু হঠাৎই মিমের ১ হাত টান দিয়ে অন্য এক রুমে নিয়ে গেল কেউ।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৪১+৪২+৪৩

রুমের এত অন্ধকার পরিবেশ দেখে মিম ভয়ে যেইনা চিৎকার দিবে, আরিফ মিমের মুখ এক হাতে চেপে ধরে কানের সামনে এসে ফিসফিসিয়ে বলল: ভয় পেয়ো না আমি…

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৪৭+৪৮+৪৯