Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৯ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৯ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৯ (২)
সুরভী আক্তার

দিগন্ত চিরে সূর্যালোকের দেখা মিলছে । আকাশ মেঘলা আজও । মেঘ জমেছে । কেবল বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়াই বাকি । কালো মেঘের ফাঁক গলিয়ে ধীরে ধীরে উঁকি দিচ্ছে সূর্যি । মিষ্টি তার দহন ।
কাবির পরিবারের সবাই বসেছে ব্রেকফাস্টের টেবিলে । আহিয়ান এখনো নিচে নামে নি । অফিস আছে তার । রামিশা কে রুবিনা কাবিরের কোলে দিয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠলো সিরাত । করিডোরে রৌদ্রের সাথে রাস্তা কাটাকাটি হয়েছে । সিরাত খানিক ভ্যাবাচ্যাকা খেলো ভাইকে দেখে । সকাল সকাল শাওয়ার নিয়ে উদ্যম অবস্থাতেই ঘর ছেড়েছে রৌদ্র । এমনি দিন হলে ভেজা শরীরে টিশার্ট জড়ায় । নতুবা টাওয়েল ঝোলায় গলায় । আজ হিতে বিপরীত । কেবলই ট্রাউজার পড়নে । পেটানো শরীর উন্মুক্ত । সিরাত কপাল কুঁচকে দেখলো । রৌদ্রের গম্ভীর মাথা নিচু ভঙ্গিমা দেখে আগ বাড়িয়ে কিছু বললো না ।
পাশ কাটিয়ে নিজ ঘরে ঢুকলো সে । ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে তড়িঘড়ি করে হাতে ঘড়ি পেঁচাচ্ছে আহিয়ান । লেট হয়ে গেছে । দেখেই বিচলিত মনে হচ্ছে । সিরাত মুচকি হেসে বললো….

” রেডি হওয়া হয় নি এখনো ?
” হয়েছে ।
” নিচে চলো । সবাই অপেক্ষা করছে তোমার ।
আহিয়ান ব্যাগ হাতে নিলো । দ্রুত কদমে এগিয়ে এসে টুপ করে সিরাতের কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো । তাড়াহুড়ো করে বললো….
” আজ সময় নেই সিরাত । দেরি হয়ে গেছে অলরেডি । আমি অফিসের ক্যান্টিনে খেয়ে নেবো । আসি…
” সে কি ! দেরি হয়ে গেছে বলে খাবে না ?
আহিয়ান তড়িঘড়ি করে বেরোতে বেরোতে জবাব দিলো….
” উঁহু , খাওয়া হবে না সিরাত । খেতে গেলে দেরি হয়ে যাবে ।
” আরে শোনো তো । এতো তাড়াহুড়ো করছো কেনো ? একদিন দু-চার মিনিট লেট হলে কিচ্ছু হবে না ।
আহিয়ান শুনলে তবেই তো ।
বড় বড় ধাপ ফেলে ঘর ছাড়িয়ে সোজা নিচে নামলো সে । পিছু পিছু হন্তদন্ত হয়ে নামলো সিরাত । বেরোনোর আগে মেয়ের কাছে গেছে তার বাপ । রুবিনা কাবিরের কোলে থাকতেই মেয়েকে আদুরে চুমু খেলো সে ।
সবার উদ্দেশ্যে দেরি হয়ে গেছে , এই বাহানা দিয়ে তড়িঘড়ি করে বেরোতে গেলে ডাকলো সিরাত । স্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে এক মুহুর্ত থামলো আহিয়ান । সিরাত চটজলদি দুটো স্যান্ডউইচ মুড়িয়ে নিলো টিস্যুতে । আহিয়ানের দিকে ছুটে গিয়ে ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল…..

” যেতে যেতে খেয়ে নেবে এ দুটো । আমি জানি অফিসে গেলেও সেই লাঞ্চের আগে আর কিছুই খাবে না তুমি ।
আহিয়ান মুচকি হাসলো । মোড়ানো স্যান্ডউইচ টা হাতে নিয়ে সিরাতের কপোলে আলতো হাত রেখে ঠোঁট নাড়িয়ে বললো মৃদু স্বরে….
” আচ্ছা , বায় । মেয়ের আর নিজের খেয়াল রেখো ।
চলে গেলো সে ।
ওদের দুটোর কান্ড আড়চোখে অবলোকন করলো রৌদ্র । নিচে নেমেই চেয়ার টেনে খেতে বসেছে । কোনো দিকে না তাকালেও এবার চোরা চোখে সামনে তাকালো । টেবিলের এক মাথায় সে । অন্য মাথায় মেঘা । আজ মেঘার আসন পরিবর্তন হয়েছে । তোফায়েল কাবিরের পাশে বসেছে সে । কেবল রৌদ্রের জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ারটাই ফাঁকা ছিলো । আহিয়ানের চেয়ারের পাশে আদ্র বসেছে । আহিয়ান চলে গেছে । ওর চেয়ারটা ফাঁকা থাকলেও সেখানে বসতো না রৌদ্র ।
মেঘা কে দূরে দেখে কপালে বিস্তর ভাঁজ ফেললো সে ‌। মাথা নুইয়ে খাচ্ছে মেঘা । রৌদ্র পাতের দিকে তাকাতেই রুবিনা কাবির একটা ডিমের অমলেট তুলে দিলেন । তা দেখে নাক শিকেয় তুললো রৌদ্র । মুখ সিঁটকিয়ে বললো…..

” উফফফ মম । ডিম দিচ্ছো কেনো ? তুমি জানো না আমি ডিম খাই না ? গন্ধ লাগে ।
” অমলেট তো খাচ্ছিস কদিন ধরে ।
রৌদ্র বিড়বিড় করলো ডিমটা উঠিয়ে রেখে….
” ঐ ইডিয়টের পাতের টা এনে দাও , তাহলে খাবো ।
শুনলো না কেউ । মেঘা এক বারের জন্যও মাথা তুলে তাকায় নি ‌। রৌদ্র নামার সাথে সাথেই ওকে দেখেছে সবাই । ছেলের খোলামেলা বডি দেখে তোফায়েল কাবির খানিক মুখ বিকৃত করলেন । লজ্জা শরম নেই এই ছেলের !

রামিশাকে সিরাতের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে ছেলের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন রুবিনা কাবির । রৌদ্র খাওয়ার মাঝে বাম হাত দিয়ে বারবার ঘাড় ডলছে । মাথা নাড়াচ্ছে । চুলকোচ্ছে বোধহয় । বারংবার ছেলের এমন কান্ড দেখে চোখ সরু করলেন রুবিনা কাবির । রৌদ্র হাত সরিয়ে নিতেই দৃষ্টি তাক করলেন ছেলের কাঁধের দিকে । ঠিক কাঁধের অংশে কিছু নজরে না পড়লেও গলার ভাঁজের নিকট দৃষ্টি আটকালো । কন্ঠ মনির ডান পাশ ঘেঁষে অনেকটা নিচে কালচে মতো কিছু একটা চোখে পড়লো তার ।
পরিষ্কার ভাবে বোঝার জন্য চোখ তীক্ষ্ণ করলেন ভদ্রমহিলা । রৌদ্রের গলার নিকট এটা কি ? অনুমান করলেন , ট্যাটু বলে এটাকে । হ্যাঁ , তাই তো । এটা তো ট্যাটুই ! রৌদ্র ট্যাটু করিয়েছে ? আগে তো ছিলো না গলায় ? কবে করালো ?

বিদেশ থেকে ফেরার পর রৌদ্রের গলার দিকটায় নজর দেওয়া হয় নি । অবশ্য নজর দেওয়ার কথাও ছিলো না সচরাচর শাওয়ারের পর উদ্যম থাকলেও বরাবর গলায় টাওয়েল পেঁচিয়ে চলতো এই ছেলে । তাই আগে লক্ষ্য করার মতো সুযোগ ও ছিলো না । আজ লক্ষ্য করলেন । বিদেশ যাওয়ার আগে রৌদ্রের গলায় এটা ছিলো না । তবে কি ওখানে যাওয়ার পর করিয়েছে ?
কিন্তু ডিজাইন টা অদ্ভুত । খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন রুবিনা কাবির । দেখার মাঝেই ঠিক ঠাহরে আসলো , এটা কেমন কামড়ের দাগের অনুরূপ । ঠিক যেনো কেউ কামড়ে জখম করে দিয়েছে । টানটান চামড়ায় দাগ বসেছে জখমের ন্যায় ।
আর শান্ত থাকতে পারলেন না ভদ্রমহিলা । উদ্বেগ দমিয়ে রাখতে না পেরে ছেলের গলায় হাত রাখলেন । দাগটার উপর এক আঙ্গুল বুলিয়ে প্রশ্ন করলেন ছেলেকে……

” রৌদ্র , তোর গলায় এটা কি ?
সহসা ফিচেল হাসির দেখা মিললো বেপরোয়া ছেলের ওষ্ঠ পূটে । যেনো এই প্রশ্ন আর এই মুহূর্তেরই অপেক্ষায় ছিলো সে । মোক্ষম সময় এসে গেছে । রুবিনা কাবিরের প্রশ্ন শুনে খাওয়া ফেলে বাদবাকিরা তাকালো রৌদ্রের দিকে । পরক্ষনে ইশারা অনুযায়ী রৌদ্রের গলার দিকে । রৌদ্র হাসি ঠেলে দূরে সরায় । না বোঝার ভঙ্গিতে বলে….
” কোনটা মম ?
” এই যে গলার নিচে !
সিরাত এগোলো…..
” কোথায় কি আম্মু ?
” এই দেখ , ওর গলার নিচে এটা কি । কেমন অদ্ভুত দাগ । যেনো কেউ কামড়েছে ।
সিরাতের সাথে সাথে চোখ কুঁচকে তাকায় সকলে । রুবিনা কাবির আবার বলেন…..
” কি হলো ? এটা কি , কিসের দাগ এটা ? এটাকে ট্যাটু বলে তো , তাই না ?
মেঘা এ পর্যন্ত চায় নি । আগ্রহ থাকলেও চোখ তুললো না । কেবল শুনেই বোঝার চেষ্টা করলো । রৌদ্র সবার উপস্থিতি উপেক্ষা করে । এবেলায় সোজাসুজি দৃষ্টি তাক করে একবিংশীর দিকে । রুবিনা কাবিরের কথা ফুরোতেই নিজের গলায় হাত রাখে রৌদ্র ‌। প্রত্যুত্তরে গলা চড়িয়ে সোজাসাপ্টা উত্তর করে…..

” এটার কথা বলছো ? ইটস্ মাই ঠু পার্সোনাল । দেখে ফেলেছো ? এটা তোমার বউমার দেওয়া ফার্স্ট লাভ বাইট ,, মম ।
মেঘা পানির গ্লাস মুখে চেপে ধরেছিল । এক ঢোক গেলা মাত্রই রৌদ্রের কথা কর্নকুহরে ঠাস করে প্রবেশ করলো । অমনি মুখের বাকি পানি টুকু আর নামলো না গলা দিয়ে । পিক করে থতমত খেয়ে বের করে দিলো মুখ হতে । পানি গুলো ছিটকে পড়লো শাফাহ্’র গায়ে । কথার টাল সামলাতে না পেরে খাবার নাকে মুখে উঠতেই কাশতে আড়ম্ভ করলো সে ‌। চোখ মুখ খিচে খুক খুক করে কেশে যাচ্ছে ।
শাহিনা কাবির দ্রুত এগিয়ে আসলেন । মেঘার মাথা আর পিঠে হাত বোলালেন আলতো করে । ক্ষণিকের মধ্যে থামলো মেয়েটা । চোখে পলক ফেলতে ফেলতে আজ এই প্রথম রৌদ্রের দিকে তাকালো । বাকিরাও আহম্মক বনে গেছে । মেঘা সামলে উঠেছে , এটা দেখে তড়াৎ করে আবার সকলে রৌদ্রের দিকে দৃষ্টিপাত করলো । ছেলের প্রতিক্রিয়া নেই ‌। সবার মধ্য থেকে সে গা ছাড়া ভাবে খাচ্ছে । এক্ষুনি কথার মাধ্যমে বজ্রপাত ঘটালো , অথচ তার বিন্দুমাত্র প্রভাব নেই ওর মাঝে । তোফায়েল কাবির মুখ শক্ত করলেন । গলা ঝাড়লেন তিনি । ছেলের কথা গায়ে মাখলেন না এতো সহজে ।
পরিস্থিতি বেগতিক । সিরাত ইতস্তত করে দোনামোনা করলো । নিচু হয়ে বললো….

” এসব কি বলছিস রৌদ্র ? এখানে বাড়ির সবাই আছে ।
” সো হোয়াট ?
রুবিনা কাবির বলেন…..
” রৌদ্র , এটা তো ট্যাটু ।
” হু । তোমার বউমার দেওয়া বাইট । তোমার ছেলে যত্ন করে নিজের শরীরে গেঁথে নিয়েছে ‌। সি , লুক লাইক বাইট ।
মেঘা থতমত খায় । কথা টুকু বলেই মেঘার দিকে তাকায় রৌদ্র । দুজনার চোখাচোখি হয় এবার । মেঘা কিংকর্তব্য বিমূঢ় । বিপরীতে রৌদ্রের ফিচেল মুখাবয়ব ।
মেঘার চোখে চোখ রেখে ভ্রু নাচায় সে । শুভ্র আদ্র আহম্মক । ভ্যাট ভ্যাট চোখে পলক ফেলতে ফেলতে একেক বার একেক জনকে পরখ করলো ওরা । সবশেষে নিজেদের দিকে তাকিয়ে দু ভাই ভ্রু নাচালো ।
হচ্ছে টা কি এসব ? রৌদ্রের মাথা ঠিক আছে । নাকি নেশায় আছে এখনো ? ভুজুং ভাজুং বকছে সব । সিরাত তোফায়েল কাবির আর তৌসিফ কাবিরকে আড়চোখে পরখ করে ধীরে বললো…..

” রৌদ্র , চুপচাপ খা । মজা করার জায়গা নয় এটা ।
” মজা করছি না আপু । আ’ম সিরিয়াস । তোমরা জানতে চাইলে , তাই তো জানালাম । নতুবা, পার্সোনাল কথা এভাবে শেয়ার করতাম নাকি ? আমার ও তো লজ্জা বলে কিছু একটা আছে, নাকি ? ট্রাস্ট মি , এটা আমার বউয়ের দেওয়া দাগ । বেশ পছন্দ হয়েছিলো । মানে ওর কোদালের মতো দাঁত গুলোর ছাপ বসে গেছিলো এখানটায় । ইচ্ছে হলো সারাজীবন বয়ে বেড়াই এটাকে । তাই ঐ দাগের উপর সেম ভাবে ট্যাটু করিয়ে নিয়েছি । ভালো করেছি না ?
সিরাত এবার ভ্যাবাচ্যাকা খায় । কি নির্লজ্জ ছেলে । বাপ মা , বাবাই মনি, বড় ভাই , বোন , ভাবি , ছোট বোন , সবাই এখানে । আর এই ছেলে মজা করে হলেও এভাবে সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে নির্লজ্জের মতো এতগুলো কথা বলছে ? মজা ছাড়া এটা আর কিই বা হতে পারে ? এটা আদৌও সম্ভব নাকি । বউ বলতে মেঘা ! মেঘা রৌদ্রের গলায়… । না না , এটা হতে পারে না । সিরাত বেশি ভাবতে পারলো না । রৌদ্রের কথাটা সিরিয়াসলি নিলো না কেউই ।
চোখ নামিয়ে ঢোক গিললো সে । শুভ্রর হাসি পেলো । বড়দের সামনে হাসতে পারছে না । জোর পূর্বক চেপে রেখেছে । আর রাখতে পারলো না । সবার আহম্মক ভাবমুর্তি দেখে ফিক করে মুখ চেপে ধরে হাসলো একটু ।
অমনি রৌদ্র তাকালো ।

” হাসছো কেনো ব্রো ? সিরিয়াসলি , আ’ম সিরায়াস । বিশ্বাস না হলে আমার বউকে জিজ্ঞেস করে দেখো ।
” বউ মানে ?
রুবিনা কাবিরের কাঠ প্রশ্ন । তাৎক্ষণিক দৃঢ় জবাব রৌদ্রের…
” বউ মানে বউ । আমার বউ । রুডভিক কাবির রৌদ্রের বউ । ইডিয়ট ঘাড় ত্যারা বউ । থাপ্পর মেরে সোজা করে বিয়ে করা বউ । কেবলই আমার বউ ‌। কাবির পরিবারের বেপরোয়া ছেলের ইডিয়ট বউ ।
” রৌদ্র…..
মাথা ঠিক আছে তোমার ! নির্লজ্জের মতো সব বিষয়ে মজা করবে না । কাকে বউ বউ করছো তুমি ?
বাপের প্রশ্ন , রৌদ্র জবাব দিয়ে বৃথা জবানের খরচ করলো না । বাপের সাথে যে তার সখ্যতা নেই । কথা নেই আজ কত বছর । কেবলই আছে উহ্য অভিমান‌,আর পুষে রাখা রাগ । যে রাগ জমতে জমতে দু’জনের মাঝেই পাহাড় স্বরূপ হয়েছে ।
উঠে দাঁড়ালো রৌদ্র । মেঘা কাল বলেছিলো না , সবার সামনে ওকে বউ বলে দাবি করতে ? তাই করলো সে । দাবি করলো বউ বলে । তবে নাম নেয় নি একটা বারও । দাবি করে নিজের সৎ সাহস প্রমাণ করার ছিলো , তাই করেছে ও । নিজের বউকে বউ বলেছে সবার সামনে ।
তৌসিফ কাবির উঠে দাঁড়ালেন । রৌদ্র কে থামিয়ে ঠান্ডা স্বরে বললেন….

” তুমি যা বলছো , ভেবেচিন্তে বলছো তো ? বউ মানছো মেঘা কে ? এভাবে অধিকার দেখিয়ে দাবি করছো যে ?
” মানলেও বউ , না মানলেও বউ । বিয়ে করেছি , তাই ও আমার বউ । ওর দেওয়া বাইট গলায় নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছি , আর কিভাবে বোঝাবো ?
মেঘা এতক্ষণ ধরে সহ্য করে আসলেও আর পারলো না । কিসব গলার বাইট , কামড়ের দাগ , ট্যাটু , এসব কোথা থেকে আসলো ? আর ঐ বা কখন বাইট দিলো ও লোকটাকে । মেঘার কান রি রি করে ওঠে । লজ্জায় মুড়িয়ে যায় মেয়েটা । বড় কথা তোফায়েল কাবির এখানে । তিনি উপর উপর শান্ত রেখেছেন নিজেকে , ভেতর ভেতর হয়তো ফুঁসছেন ।
মেঘা সহসা দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে ধমকে বলে…..
” ইউ রাইনো মুখো । হোয়াট রাবিশ ? কিসব ফাউ প্যাঁচাল শোনাচ্ছেন তখন থেকে । নির্লজ্জ , বেহায়া , অসভ্য , মিথ্যেবাদী লোক । গজব পড়ুক আপনার লাগামহীন মুখের উপর । মিথ্যে কথা বলতে জবানে বাঁধে না একটুও ?

রৌদ্র ফিরে চায় । চোখাচোখি করে কেবলই হাসে মাথা দুলিয়ে । গা ছাড়া ভাবে হেলে দুলে উঠে যায় উপরে ।
সবার অবস্থা স্তব্ধ , তব্দা খেয়ে বসে আছে । লজ্জা জনক পরিস্থিতি এখানটায় । মেঘার ইচ্ছে করলো পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে যেতে । যেনো অলৌকিক কিছু ঘটুক এই মুহূর্ত টায় , আর সে সবার দৃষ্টিগোচর হয়ে পালিয়ে যাক কোথাও । চোখ নামিয়ে দাঁত চেপে হাত কচলালো সে । বিড়বিড় করে শত শত গালিগালাজ করলো ঐ রাইনো মুখো টাকে ।
বুঝতে বাকি রইলো না , সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে আছে ‌। সকলে কি ভাবছে কে জানে ? ঐ রাইনো মুখো মিথ্যে বলেছে , এবার এটা বোঝাবে কি করে সবাইকে ? থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ সবার মাঝে । মেঘা চেয়ার সরিয়ে পিটপিট করে পাশে তাকালো । তোফায়েল কাবির ও তাকিয়েছেন একই সময় । ভদ্রলোকের সাথে দৃষ্টি মিলতেই ধক্ করে উঠলো মেয়েটা । লজ্জা,জড়তায় পিছু ফিরে এক ছুট লাগালো ।
ওকে যেতে দেখে এবার আদ্র উঠে দাঁড়ালো ধীরে । পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মুখ খুললো নীরবতা ভেঙে….

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৯

” আমার খাওয়া শেষ ।
টুকটুকির বাচ্চাাাাা , খাওয়া হয় নি ? ওঠ ,, আর কতো খাবি ?
শাফাহ্ ফ্যাল ফ্যাল করে হাসে । আদ্রের সাথে পা মিলিয়ে চটজলদি প্রস্থান করে সকলের সামনে থেকে ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here