Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৯

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৯

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৯
সুরভী আক্তার

আদ্রের এমন লজ্জাহীন কথায় শিশির অস্থিরতায় চোখ নুইয়ে ফেলে । পরক্ষনে চিবুক নামায় গলায় । লাজে আরো বেশি রক্তিম হয়ে ওঠে নাজুক শ্যামলা মুখখানি । ঠোঁটের কোণে ভিড় জমায় অপ্রস্তুত উৎকণ্ঠিত হাসি ।
প্রফেসর লোকটা ওর এমন নাকাল অবস্থা খুব কাছ থেকে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করে । কপালের কাছে কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে…
” কবে আদব শিখবে, বেয়াদব ? স্বামীকে কষ্ট দিতে নেই , জানো না ? কোথায় পাবে এমন স্বামী ? যে এতোটা ধৈর্যশীল হবে তোমার সম্মতির অপেক্ষায় ! ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি যে বড্ড ! কবে ঘটবে এই ক্লান্তির অবসান ? কবে বাসবে ভালো ?
অধৈর্যতা কন্ঠে । শিশিরের কান‌ গরম হয়ে আসে । ঘাম গড়ায় শিরদাঁড়া বেয়ে । ছিপছিপে নারী তনু কাঁপে । আদ্রের ও অভিন্ন অবস্থা । কপালের ধারে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম ।
শিরা উপশিরা গুলো ফেঁপে উঠেছে অবাধ্য নিয়ন্ত্রণে । ঢোক গেলে শিশির । ধীরে চোখ তোলে । বলে নিভে আসা স্বরে…..

” খুব শীঘ্রই ।
চট করে চোখ খুললো আদ্র । আবছা বুঝেছে । ফট করে প্রশ্ন ছুড়লো ছোট্ট…..
” হু ?
শিশির মুখ নামিয়ে লাজুক হাসলো ।
” কিছু না । শাড়ি ঠিক করতে হবে , সরুন ।
” ঠিক করে কি হবে ? আমার তো এলোমেলো করতে ইচ্ছে করছে আরো বেশি !
আদ্রের ঠোঁট চাপা স্বর । শিশির চোখ তুলে তাকালো । ওষ্ঠপূটে দাঁত বসিয়ে হাসছে লোকটা । তার বুকে ধাক্কা দিয়ে আওড়ালো শ্যামলিনী…..
” অসভ্য !
” একটু অসভ্যই না হয় হলাম ,, ক্ষতি কি ? বউ হও তো ! তোমার কাছে অসভ্যতা করাটা হলফ করে অর্জন করেছি, মিসেস আদ্রিয়ান । জায়েজ আছে এটা । নাযায়েজ নয় । এবার তো একটু ভালোবাসো ‌। বাসতে দাও আমাকেও ।
শিশির আড়ষ্টতায় নুইয়ে পড়ে পুরোপুরি । চোখ মুখ নামিয়ে এক করে । লোকটাকে ঠেলে দূরে সরায় । জড়িয়ে আসা ভেজা স্বরে বলে……

” ভার্সিটিতে আপনি আমার টিচার ! মি. আদ্রিয়ান কাবির আদ্র , ভুলে যাবেন না এটা ।
” আচ্ছা ? তাহলে তুমি কেনো ভুলে যাও , যে বাড়িতে তুমি আমার বউ ?
” ভুলে তো যাই না ।
” মনেও তো রাখো না । এ কেমন অবিচার ?
” সুবিচার কি ?
” বোঝাতে হবে ?
“……….
” একটু খানি ভালোবাসলে তাতেই হবে । অবিচার ঠেকিয়ে এই বিরাট সুবিচার দিয়ে উদ্ধার করো আমায় ।
,,,,,,,
শাফাহ্ আর মেঘা বসে আছে এককোণে । এতক্ষণ কান ঝালাপালা করে দিয়েছে বাড়তি সব মেয়েগুলো । সবার আগ্রহ আদ্র আর শিশির কে নিয়ে । এক প্রশ্ন , শিশির সত্যিই কি আদ্রের বউ ? কবে বিয়ে হয়েছে , কিভাবে ? উত্তর করতে করতে চোয়ালে ব্যথা ধরেছে । শেষে কড়া দুখানি কথা শুনিয়ে বাকিদের বিদায় করেছে শাফাহ্ । ফারিন বেশ কাঁচুমাচু । সে একটা প্রশ্ন ও করে নি । ওর হয়ে বাকিরাই প্রশ্ন করেছে । ও কেবলই একপাশে চুপটি করে দাঁড়িয়ে উত্তর শুনে গেছে ।
ফাঁকা হতেই চেয়ারে পিঠ এলিয়ে দম ফেললো শাফাহ্ । মেঘার মন অন্যথায় । ইয়াশের খোঁজ নেই এখনো । বেজায় টেনশন ধরেছে একবিংশীকে । শুকিয়ে ছোট হয়ে গেছে মুখখানা ।
ক্ষণিকের মধ্যেই পাশে কারোর উপস্থিতি অনুভব করলো । বেখেয়ালে ঘাড় কাত করে ইয়াশ কে দেখা মাত্রই ধক্ করে উঠলো একবিংশী । দাঁড়িয়ে গেলো চকিতে । ভেতরে ঢুকলো কি করে ইয়াশ ? আসলোই বা কখন ?

” ভাইয়া ! তুমি ?
অস্ফুট স্বর জবানে ‌। ইয়াশের ভঙ্গিমা বরাবরের ন্যায় দাম্ভিক । বোঝা মুশকিল । সে সোজাসুজি মেঘার হাত ধরলো । বললো শক্ত কন্ঠে…..
” চল ।
মেঘা তাড়াহুড়ো করে শুধোয়…..
” ভাইয়া, কোথায় ছিলে কাল থেকে ? তুমি জানো , কতবার ফোন করেছি তোমায় ? বন্ধ ছিলো তোমার ফোন । কেনো ?
” আগে চল , পরে বলবো ।
মেঘার হাত ধরে বাইরের দিকে পা বাড়ায় সে । শাফাহ্ ভ্যাবাচ্যাকা খায় । উঠে দাঁড়িয়ে তড়িঘড়ি পায়ে নিজেও পা মেলায় ।
” আরে , কোথায় যাচ্ছেন মেঘাকে নিয়ে ? ইভেন্ট শেষ হয় নি এখনো ।
উত্তর নেই । আর না পরোয়া ।
ওকে ফেলে নিজের বোনকে নিয়ে চলে যাচ্ছে এই লোক ? শাফাহ্ কিড়মিড় করে পিছু নেয় । মেঘা কে গাড়িতে বসায় ইয়াশ । নিজে বসে ড্রাইভিং সিটে । শাফাহ্ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে তড়িঘড়ি করে বাগড়া দিয়ে বলে…..

” আরে শুনুন না , যাচ্ছেন কোথায় ? আমাকে ফেলে যাচ্ছেন কেনো ? এখানে একলা কি করবো আমি ? আমিও যাবো ।
উত্তরের আশা না করে নিজে থেকেই উঠে বসলো পেছনে । ইয়াশ বিভ্রান্ত হয় । রেগে মেগে আগুন হয়ে তাকায় ফ্রন্ট মিররের দিকে । শাফাহ্ বাঁচালের মতো আগ বাড়িয়ে আবার বলে,,,
” আচ্ছা যাচ্ছেন টা কোথায় , সেটা তো বলুন ।
ইয়াশ দাঁত খিচলো । ধমকালো বজ্রকণ্ঠে….
” শাট আপ ,,,
চুপসে যায় শাফাহ্ । মেঘা অবাক হয় । ইয়াশ রেগে আছে ? আজ পর্যন্ত ওর রাগ দেখে নি সে । শাফাহ্ গুটিয়ে গিয়ে মেঘার সিটের দিকে চেপে বসে । গাল ফুলিয়ে কন্ঠ চিপে বলে……
” দেখেছিস , বলেছিলাম না উনি ধমকেছেন আমায় । বিশ্বাস করিস নি তখন , এখন হলো বিশ্বাস ? দেখ , কি বদরাগী ভাই তোর ।
ইয়াশের কানে পৌঁছাতেই ইয়াশ ভস্ম করা চোখে তাকায় । যেনো চোখের আগুনে ঝলসে দেবে ।
ওর এমন রাগী দৃষ্টিতে গলা শুকিয়ে আসে শাফাহ্’র । ফ্যাল ফ্যাল করে হেসে নিজেকে শুধরে আমতা আমতা করে,,,,

” না না , আপনাকে কিছু বলি নি । আপনি খুব ভালো । সেটাই বলছিলাম । বদরাগী না , ঠান্ডা রাগী আপনি ।
রাগ সামলে গাড়ি স্টার্ট করতে করতে বিপরীতে হিসহিসিয়ে উঠলো ইয়াশ…..
” টকেটিভ লেভি….
” গাড়ি কার ভাইয়া ?
” আমার !
ইয়াশ গাড়ি কিনেছে ? মেঘা বাকি প্রশ্ন করার ঔদ্ধত্যতা দেখালো না আর ।

ওদের গাড়িটা সোজা কাবির ম্যানসনে এসেছে ।
তিনজনে একসাথে বাড়িতে ঢুকলো । দুপুর গড়িয়েছে । মেঘার হাত ছাড়ে নি ইয়াশ , নেমেই ধরেছে আবার । ড্রইং রুমের কাউকে তোয়াক্কা না করে গটগটিয়ে বোনকে নিয়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো সে । এমতসময় রিনরিনে ডাক পড়লো পিছন থেকে…..
” মেঘা !
সিঁড়ির মাঝে থামলো দু’জনেই । কন্ঠ পরিচিত ‌। মেঘা চকিতে তাকায় । হেসে ওঠে খুশিতে…..
” সারা ? তুই ? কখন আসলি ?
সারা অপ্রস্তুত । মেঘার ডাকে ইয়াশের থেকে চোখ সরিয়ে মেঘার দিকে তাকালো । পরক্ষনে চোখ নামিয়ে দীর্ঘ হাঁফ ছেড়ে সামলালো মনের উচাটন । গিললো কয়েক ঢোক । ফের চোখ তুলে হাসার চেষ্টা করলো । এগিয়ে উত্তর করলো……
” একটু আগে এসেছি ।
অতঃপর পূর্ণ দৃষ্টিপাত করলো ইয়াশের পানে । ইতস্তত স্বরে বুলি ফুটালো….
” কেমন আছেন ভাইয়া ?
” ভালো । তুমি ?
” আলহামদুলিল্লাহ ।
” তোমরা কথা বলো । আমি রুমে যাচ্ছি । আর মেঘা , চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে এক্ষুনি আমার কাছে আসবি । ইম্পর্ট্যান্ট কথা আছে তোর সাথে । দেরি যেনো না হয় ।
আর থামলো না । লম্বা লম্বা ধাপে সিঁড়ি উঠলো সে । চোখের আড়াল হতেই মুখ টিপে হাসলো মেঘা । সারার বাহুতে মৃদু ধাক্কা দিয়ে আহ্লাদী সুরে বললো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে….

” কি ব্যাপার সারা মনি ? তড় সয় নি ? অসুস্থতা নিয়েই ছুটে এসেছো ?
” ধ্যাত, বাজে বকবি না ! আমি সুস্থ আছি এখন ।
” আদ্র ভাইয়ার বউ ভাতে আসলি না কেনো তাহলে ?
” জানিসই তো , জ্বর ছিলো ।
এখন ঠিক আছি ।
” ঠিক হয়ে গেছো , তাই না ? ডক্টর কে দেখেই ঠিক হয়ে গেলে ? চিকিৎসার প্রয়োজনই পড়লো না দেখছি ।
সারার মুখখানি রাঙা হয়ে ওঠে । হাঁসফাঁস করে বলে….
” মেঘা , জ্বালাবি না কিন্তু ।
” আচ্ছা । তোকে জ্বালানোর জন্য আছে অন্যকেউ । এখন চল….

শাফাহ্ কে নিচে একা ফেলে ওরা দুটোতে উপরে উঠে গেলো । নিচে ওষ্ঠ উল্টে দাঁড়িয়ে আহত চোখে চেয়ে রইলো শাফাহ্ । সারা কে সহ্য হয় না মেঘার পাশে ।
সময় নিয়ে চেঞ্জ করে গেস্ট রুমের দিকে পা বাড়িয়েছে মেঘা । সাথে সারা আছে । কড়া নেড়ে ঘরে ঢুকলো । নিজেও ফ্রেশ হয়েছে ইয়াশ । লম্বা ডিভানের উপর বসে আছে গুরুভার হয়ে । শক্ত মুখো ভঙ্গিমা । মেঘা উচ্ছ্বাস মাখা হাসি সমেত আলগোছে ওর পাশে বসলো । আহ্লাদী ভাইয়ের আদুরে বোন হয়ে শুধালো……
” কাল থেকে কোথায় ছিলে, ভাইয়া ? বললে না তো !
” বাইরে ।
” কোথায় ?
” আমাদের বাড়িতে !
মেঘা কিছুটা নড়েচড়ে ওঠে । ওদের বাড়িটা এখন তালাবদ্ধ । পাঁচ বছর ধরে ওভাবেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে । না জানি কি হাল হয়েছে ! মেঘা আর কখনো যায় নি ও বাড়িতে । সাহস কুলোয় নি ও মুখো হওয়ার । কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে , সেসব দেখলেই কান্না আসবে । তাই যাওয়া হয় নি আর ।
ইয়াশ বিরতি নিয়ে নরম গলায় শুধালো…..

” আম্মু, আব্বু , ভাইয়া আর দাদু মনির কবরস্থানে গেছিলাম । তুই যাস না কতদিন ?
মেঘা চোখ নামায় । ইতোমধ্যে ঝাপসা হয়ে এসেছে দুচোখ । বলে ধরে আসা কান্না গিলে….
” যাই নি অনেকদিন হয় !
ইয়াশ পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বললো না । আড়চোখে সারা কে দেখলো । ওর সামনে বলতে চাইলো না কিছু ।
সেকেন্ড কয়েকের মাথায় মেঘা সামলে নেয় নিজেকে । চঞ্চলা হয়ে উঠে । সারা কে টেনে পাশে বসায় । বলে উৎকন্ঠায়……
” ভাইয়া জানো,,, সারা কদিন ধরে খুব অসুস্থ । তুমি না ডক্টর হয়েছো । বিশাল বড় কার্ডিওলজিস্ট । এসবের জন্যই তো এতো দিন একলা থেকেছো কত দূরে । আমাকেও ফেলে রেখে চলে গেছিলে । দেখি কত বড় ডক্টর হয়ে ফিরেছো তুমি ? সারা কে দেখে বলতো , ওর কি হয়েছে ?
ইয়াশ ভ্রু কুঁচকে নিলো । ভার গলায় বললো প্রশ্ন সূচকে…..

” আমি কেনো ,, তোর বান্ধবীর কি হার্টে প্রবলেম ?
মেঘা মুখ টিপে হাসে । গলা ঝেড়ে বলে……
” বড্ড ব্যথা হার্টে !
” তাহলে তো ইমিডিয়েট ট্রিটমেন্ট করতে হবে । এভাবে উপর উপর দেখে তো বোঝা যাবে না । এতো কম বয়সে হার্টে ব্যাথা জন্মায় কিভাবে ?
মেঘার সাথে তাল মিলিয়ে ইয়াশ ও কৌতুক করলো । সারা চোখ তুলে বলে লজ্জা ঢেকে…..
” ভাইয়া আপনিও এই পাগলকে সায় দিচ্ছেন ?
ইয়াশ হাসলো । প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে আলতো স্বরে শুধালো….
” কি হয়েছে তোমার ?
” তেমন কিছু না । জ্বর ছিলো একটু !
” এখন সুস্থ ?
” হু ।

সারা মেয়েটা কেমন শুকিয়ে গেছে । আগে বেশ গুলুমুলু ছিলো । ইয়াশ ওকে দীর্ঘ পলকে পরখ করলো । ছোট বেলা থেকেই মেয়েটাকে চেনা । বড্ড ভালো একটা মেয়ে । মেঘার খুব আপন । ইয়াশের ও বেশ পছন্দের । সেটা কেবলই ছোট বোনের মতোই ।
ইয়াশ উঠে দাঁড়ালো । টেবিলের পাশে ল্যাগেজ রাখা । সেখান থেকে কিছু একটা বের করে নিয়ে আসলো । একটা মাঝারি আকারের গিফট বক্স বোধহয় । পূনরায় নিজের জায়গায় বসে মিষ্টি হেসে বক্স টা বাড়িয়ে দিলো সারার দিকে …..
” এটা তোমার জন্য ,, নিয়ে এসেছিলাম ।
সারা অবাক হতে ভোলে না । এক রাশ অবিশ্বাস নিয়ে তাকায় । মেঘা গদগদ হয়ে ওঠে । ছোঁ মেরে বক্স টা ছিনিয়ে নিয়ে বলে….
” সত্যিই ভাইয়া ? সারার জন্য ? কি আছে এতে ?
” খুলে দেখ ।

মেঘা অধৈর্য হয়ে খুলে দেখে । একটা ঘড়ি আছে মূল্যবান । বেশ চকচকে স্বচ্ছ ডিজাইনের । দামি বলে মনে হয় । সারা অবাক বিমুঢ় লোচনে চেয়ে আছে এখনো । মেঘা উল্টে পাল্টে দেখে বেশ মাতামাতি করলো । ঘড়িটা ইয়াশের হাতে দিয়ে সারার হাত টেনে বাড়িয়ে ধরলো । বললো বিচলিত হয়ে…..
” পড়িয়ে দাও তুমি ।
ইয়াশ আঁখি লতা কুঁচকায় ‌। বিব্রত স্বরে বলে….
” আমি কেনো ? ওকে দে , ও পড়ে নেবে !
” কিন্তু এটা পড়ে কিভাবে ? দেখো , ইউনিক মডেল । খুলতে পারছি না । তুমি একবার শিখিয়ে দাও ।
ইয়াশ দেখলো, নতুন মডেলের এটা ।
না করলো না দ্বিতীয় বার । আগ বাড়িয়ে সারার কব্জি টেনে নিলো নিজের দিকে ।
আকস্মিক স্পর্শে চমকালো নমনীয় রমনী । ধক্ করে উঠলো ছোট্ট নারী হৃদয় । মৃদু কেঁপে উঠলো সে । ইয়াশ আলগোছে কব্জিতে বেঁধে দিলো ঘড়িটা ।
রমনীর হৃৎস্পন্দন বেড়েছে অস্বাভাবিক । বেগতিক চলাচল হৃৎপিণ্ডের । ঘড়ি বাঁধা হতেই তড়িঘড়ি করে হাত টেনে সরালো সে । চোখ নামিয়ে শুল্ক ঢোক গিললো ।
কিছু মুহুর্ত মেঘার পকর পকর শোনার পর ইয়াশ নিজেকে ধাতস্থ করে ডাকে…….

” সারা ?
” জি ?
” ডোন্ট মাইন্ড ,, বাট একটু বাইরে যাবে ? মেঘার সাথে আমার কিছু কথা আছে ।
দ্বিমত করলো না সারা । উঠে দাঁড়িয়ে অবিলম্বে ঘর ছাড়লো । ইয়াশ গম্ভীর মুখে সটান বসে আছে । মেঘার হাসি হাসি মুখ খানা কিছুটা মলিন হয় ওর এমন গাম্ভীর্যতা দেখে । কাছ ঘেঁষে বলে নরম গলায়….
” কি হয়েছে ভাইয়া ?
উত্তর না করে আবার উঠে দাঁড়ালো ইয়াশ । ফের ল্যাগেজ থেকে কিছু বের করলো । একহাতে সাদা খাম । অন্যহাতে আরো কিছু একটা । সেটাকে মেঘার সামনে ডিভানের উপর শব্দ করে ফেললো সে । মেঘা চকিতে চায় । পাসপোর্ট একটা । রমনী ছ্যাত করে ওঠে । বুঝেও অবুঝের ন্যায় প্রশ্ন ছোড়ে…..
” এটা কার ভাইয়া ?
” তোর !
তৎক্ষণাৎ ধক্ করে ঢোক গিললো মেঘা । ইয়াশ আবার বলে…..
” বলেছিলি তো , সব গোছগাছ করে রেখেছিস । একুশ তারিখে চলে যাচ্ছি আমরা । সকাল ন’টায় ফ্লাইট ।
নড়েচড়ে পিছিয়ে বসে একবিংশী । একহাত চেপে ধরে অন্যহাতে । পরপর ঢোক গেলে । ইয়াশ পাশে বসে । রাশভারী গলায় শুধোয়….

” কি হলো ?
উত্তরের অপেক্ষায় থাকে না । ব্যাস্ত হাতে খাম থেকে একটা টানটান কড়কড়ে কাগজ বের করে ।
সেটাও রাখে মেঘার চোখের সামনে কাঁচের ডিভানের উপর । মেঘা আধো ভেজা চোখে তাকায় । কাগজটা পুরোপুরি লক্ষ্য না করলেও উপরে ভেসে ওঠা একটা ইংরেজি ওয়ার্ড দেখে কলজে ছ্যাঁত করে উঠলো রমনীর ।
বড় বড় এ্যালফাবেটে লেখা “Divorce” । এই একটা শব্দ , এটা দেখেই মাথা চড়কে ওঠে একবিংশীর । ছলাৎ করে চমকে তাকায় ইয়াশের দিকে । চোখের পানি আটকায় বহু কষ্টে । অস্ফুটে উচ্চারণ করে বাঁধা গলায়…..

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৮

” ভা…ভাইয়া !! এ…এটা কি ?
” ডিভোর্স পেপার !
ইয়াশের নির্বিকার উত্তর । একটা কলম বাড়িয়ে দিয়ে আবার আদেশ…..
” সাইন কর । বাকিটা আমি সামলে নেবো ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৯ (২)