Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭
সুরভী আক্তার

হাসি চাপলো মেঘা । মুখে হাত রেখে সংবরণ করলো নিজেকে । রৌদ্রের দিকে তাকাতেই থমকানো ভাবমূর্তি পাল্টালো রৌদ্র । শিথিল মুখো ভঙ্গিমা শক্ত করে ধমকে বললো….
” ইউ সিলি ,,,
হাসছিস কেনো এভাবে ?
মেঘা শুধুই উচ্চারণ করলো ভেঙ্গিয়ে….
” ইউ আর সো ফানি ।
বলেই পাশ কাটালো রৌদ্র কে । নিচের দিকে ধাপ বাড়াতে বাড়াতে মেকি স্বরে সুর টেনে দীর্ঘ স্বরে বললো….
“ আপনারে সুন্দর বলে ,
সুন্দর সে নয় ‌।
লোকে যারে সুন্দর বলে ,
সুন্দর সেই হয় ।
আহম্মক বনে গেলো রৌদ্র । অগত্যা কিছু না বুঝলেও এক মুহুর্ত পর আন্দাজ করলো কিছু একটা । ও নিজেকে সুন্দর বললো , তাই এই মেয়েটা হাসলো এভাবে ? ওকে , ওর সৌন্দর্য কে তাচ্ছিল্য করলো এই মেয়ে টা । রৌদ্র সবটা বুঝেই কিড়মিড় করলো নিজের মাঝে । ততক্ষণে মেঘা দোতলায় নেমেছে । হাত মুঠো করে হাতের সিগারেটের প্যাকেট টা মেঘার যাওয়ার পথের দিকে ছুড়ে মারলো রৌদ্র । ক্ষিপ্ত সত্ত্বাকে নিবারণ করার চেষ্টা করলো বড় বড় শ্বাস ফেলে ।
আজব , কি শুরু করেছে এই মেয়ে ? ওকে দেখলেই এমন অদ্ভুত কেনো লাগে রৌদ্রের ? ক্ষুব্ধতা দেখাতে গিয়েও বারবার থেমে যায় কেনো রৌদ্র ? নিজের উপর চরম বিব্রত রৌদ্র । অত্যাধিক বিরক্ত সে ।

রাতে খাবার টেবিলে বসেও রৌদ্রের দেখা মেলে নি আর । বাজে এখন দশটা । রৌদ্র ওর বন্ধুদের সাথে বসেছে আড্ডা খানায় । আগেকার সব কিছু পাল্টেছে । ওদের আড্ডার আসর বদলেছে ‌। বন্ধুরা কমে গেছে । এই পাঁচ বছরে এখন যে যার কাজে ব্যস্ত । নিজেদের জীবন নিয়ে লেগে পড়েছে সবাই । রৌদ্র আর ওর বন্ধুদের একটা গ্যাং ছিলো । সেই দল‌ ভেঙে গেছে রৌদ্র চলে যাওয়ার পর থেকেই । এখন ফিরে এসেছে রৌদ্র । এসেছে থেকে আবার শুরু হয়েছে । তবে সবাই এখন আর এক জোট নেই । বদলে গেছে । রৌদ্র কে আলাদা করে সময় দেওয়ার মতো বৃথা সময় নেই কারোর কাছে । আর বখাটে পনা নেই সবার মাঝে । রৌদ্র দেশে ফিরেই তিন জনকে কাছে পেয়েছে । সৌভিক , রোহান আর তুহিন । রৌদ্রের বেশি কাছের সৌভিক আর রোহান । তবে দেশ ছাড়ার পর ওদের সাথেও দূরত্ব বেড়েছে । যোগাযোগ একেবারে ছিলো না বললেই চলে । দেশে ফেরার পর পুনরায় কন্টাক্ট হয়েছে ওদের সাথে ।
সৌভিক, রোহান , তুহিন আর রৌদ্র এই মুহূর্তে একটা বারের বাইরে বসে । এতক্ষণ রৌদ্র একাই ছিলো ভেতরে । এরা তিন জন আসতেই বাইরে বেরিয়েছে ও । বসেছে ওরা । রৌদ্রের অবস্থা স্বাভাবিক । রোহান ওকে পুরোপুরি দেখে প্রশ্ন করলো….

” রুডি , ড্রিঙ্ক করিস নি আজও ?
উত্তর করলো না রৌদ্র । সৌভিক নীরবতা দেখে বললো…
” রুডি , কি হলো ! আজ কোন দিকে চাঁদ উঠেছে বলতো ? আজ নয় , গত ক’দিন ধরে চাঁদ বোধহয় উল্টো দিকেই উঠছে । এটা কি শুধু গত ক’দিন ধরে , নাকি ক বছর ধরে ? তোকে এতোটা চেঞ্জ দেখবো ভাবিনি । পাঁচ বছরে অনেকটা বদলে গেছিস । পজিটিভলি বদলেছিস অবশ্য, এটা দেখে আই এম তো অবাক ।
রৌদ্র গা ছাড়া ।
ওরা একা একাই বকবক করলো । হাঁটুতে কনুই ভর দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে মাটি পানে চেয়ে আছে রৌদ্র । নির্লিপ্ত সে । ওরা বন্ধুরা একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করলো । রৌদ্রের সাথে দূরত্ব বেড়েছে ওদের । ওরা কিছুতেই সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলতে পারছে না এই কদিনের চেষ্টার পরও । সৌভিক বিয়ে করেছে । আর কোনো প্রসঙ্গ না পেয়ে রৌদ্রের মনযোগ আকর্ষণের জন্য নিজের বিয়ের কথা তুললো সে ….

” রুডি , ইউ নো । নাউ আই এম ম্যারেইড । অবশ্য তোর মতো আমিও বদলে গেছি কিছুটা । এখন আর নেশায় নেশা করি না । আমার বউকে দেখেছিস ? চল দেখা করাই তোর সাথে । আমি ওকে বলেছি তোর কথা ।
রৌদ্র নিরেট কন্ঠে জবান ফোটালো এবার….
” তুই আমার বউকে দেখেছিস ?
আকস্মিক শক্ত প্রশ্ন । নড়েচড়ে উঠলো সৌভিক আর রোহান । একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করলো ওরা । বউ বলতে , ঐ পাঁচ বছর আগের ঐ মেয়েটা ? যেটাকে ফোর্স করে বিয়ে করেছিলো রৌদ্র ! সৌভিক ঢোক গেলে , থতমত স্বরে বলে না বোঝার ভান ধরে….
” বউ মানে ?
” বউ মানে বউ । বিয়ে করলে তো বউই হয় । আমি যেই মেয়েটাকে বিয়ে করেছিলাম । ঐ মেয়েটা , ঐ ইভারা । ওর বিষয়ে কি জানিস তোরা ? আমি চলে যাওয়ার পর এই পাঁচ বছরে ওকে দেখেছিস কখনো ?
রোহান উত্তরে বললো ফট করে…

” কতবার দেখলাম আদ্রের সাথে ।
অমনি খিচে উঠলো রৌদ্র । নিষ্প্রভ মুখশ্রী ঠিকড়ে উঠলো । উচ্চারণ করলো কন্ঠ পিষে…..
” আদ্রের সাথে মানে ?
রোহান স্বাভাবিকের ন্যায় এবারো উত্তর করলো….
” হুম । ও তো তোদের বাড়িতেই থাকে ‌। এতো দিন হলো বাড়ি ফিরেছিস , দেখিস নি ওকে ? পাঁচ বছর ধরে ও কাবির ম্যানসনেই আছে । তুই চলে যাওয়ার পর আমরা তো আর তোদের বাড়ি মুখোও হই নি কখনো । ওদিকটায় যাওয়া হতো না আর ।
তবে মাঝে মাঝে দেখি ওকে । তোর ছোট বোন আর আদ্রের সাথে । ভার্সিটিতে পড়ে বোধহয় । আদ্রও তো ঐ ভার্সিটির লেকচারার ।
একটু থেমে আবার বললো কন্ঠ খাদে নামিয়ে….

” তুই দেখিস নি ওকে ?
” দেখেছি ।
সৌভিক ইতস্তত স্বরে বলল….
” ওকে তুই বউ বলছিস ? সিরিয়াসলি ? আই মিন , তোর নিজের বউ ?
রৌদ্র ক্ষুব্ধ দৃষ্টি তাক করতেই থেমে গেলো সৌভিক । রেগে বললো রৌদ্র..
” নিজের বউ বলবো না তো তোর বউ বলবো ? রাবিশ…
আর কি কি জানিস ওর বিষয়ে ? কি হয়েছিলো এই পাঁচ বছরে ? ও আমাদের বাড়িতে থাকে কেনো ?
” এসব আমাদের জিজ্ঞেস করছিস কেনো ? তোর ফ্যামিলি ভালো জানে এসব ! তারা বলে নি তোকে ?
” তারা কবে গুরুত্ব দিয়েছে আমায় ? নিজে থেকে ওরা কিছু না বললে কে শুনতে যাচ্ছে ওদের কাছে ? আমার অতো ঠেকা পড়ে নি , যে ঐ স্টুপিড টার সম্পর্কে আগ বাড়িয়ে কিছু জানতে যাবো ওদের কাছে ।
তোদের যেটা জিজ্ঞেস করেছি,জেনে থাকলে সেটা বল ? কে ও ?
সৌভিক গলা ঝাড়লো । শ্বাস ফেলে ঢোক গিলে উত্তর করলো দোনামোনা করে….

” ও অনাথ !
অমনি ভাঁজ পড়লো রৌদ্রের টান টান কপালে । কুঁচকে আসলো ভ্রু । খানিক সোজা হয়ে অস্ফুটে বলল গলা খানিক নরম করে…
” অনাথ মানে ?
আরো একটা শ্বাস ফেললো সৌভিক । নিজে যা যা জানে , তা থেকেই বললো…
” তুই সেদিন রাগের বশে কাজটা মোটেও ঠিক করিস নি রৌদ্র । তোকে আটকাতেও পারিনি আমরা । তুই চলে যাওয়ার পর জানতে পেরেছি কিছু মিছু , ঐ মেয়েটা মেবি অনাথ । কেউ নেই ওর পরিবারে । ও সেদিন বলেছিলো মনে নেই , যে ওর দাদু মনি অসুস্থ । আমরা একটু আধটু যতটুকু শুনেছি , তাতে ওর দাদু মনি ছাড়া ওর আর কেউ ছিলো না । আর পরে ওর দাদু মনি মারা গেছে হয়তো । তাই তোর বাবা আর বাবাই ওকে তোদের বাড়িতেই রেখেছে । তুই চলে যাওয়ার পর দিন থেকেই ও তোদের বাড়িতে থাকে । আর এই পাঁচ বছর ধরে ও তোদের বাড়িতেই আছে । এর চেয়ে আর বেশি কিছু জানা নেই আমাদের । এই কদিনে ওর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েও থেমে গেছি , ভেবেছিলাম রেগে যাবি । তাই কিছু বলি নি ।
রৌদ্র নীরবে শুনলো । সৌভিক থামতেই স্তব্ধ হলো আশপাশ । চারজনের মুখ পুরো বন্ধ । রৌদ্র ঠাঁয় বসে রইলো কিছুক্ষণ । অতঃপর শক্ত চোয়ালে আকস্মিক প্রশ্ন করলো ভারী গলায়…..

” আদ্রের সাথে কতবার দেখেছিস ওকে ?
” বেশ কয়েকবার দেখেছি ।
” গুনে বল‌ কতবার দেখেছিস ?
রোহান কপাল কুঁচকালো । হিসেব কষলো । এই পাঁচ বছরে কতবার দেখেছে তা কি হিসেব আছে নাকি ? আর দেখেছেই তো হঠাৎ করে এক পলকের জন্য । তবুও খানিক হিসেব নিকেশ করে আন্দাজে বললো রোহান…
” হবে হয়তো চল্লিশ পঞ্চাশ বার ।
ঝট করে উঠে দাঁড়ালো রৌদ্র । নিচে একটা উইস্কির বোতল ছিলো পায়ের কাছে । সেটা হাতে তুলে ছিপি খুললো । অতঃপর ঢকঢক করে অর্ধেক বোতল খালি করলো এক নিঃশ্বাসে । মুখ থেকে বোতল সরিয়ে সেটা ছুড়ে মারলো সামনের দিকে । মার্বেল পাথরের মেঝেতে পড়ে ঝরঝর করে ভেঙে টুকরো টুকরো হলো বোতল টা । ভেতরের বাকি হারাম তরল পদার্থ টুকু ছিটকে পড়লো এপাশ ওপাশ । অকস্মাৎ কান্ডে চমকালো সৌভিক, রোহান আর তুহিন । রৌদ্র নিজের মাঝে বিড়বিড় করলো চিবিয়ে….
” এবার ঐ স্টুপিড গুনে গুনে পঞ্চাশ টা থাপ্পর খাবে আমার কাছে ।
কন্ঠেই মিলিয়ে গেলো ওর বিড়বিড় কথা গুলো । কেউ শুনতে পেলো না । দম্ভভরে পা চালিয়ে বন্ধুদের আসর ত্যাগ করলো সে । এদিকে মূর্ত বনে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে রইল বাকিরা ।

সকাল এখন আটটা ।
কাল রাতে বাড়িতে ফিরে কারোরই হোদিস পায় নি রৌদ্র । ও ফিরতে ফিরতে ঘুমিয়ে গেছে সকলে, একমাত্র রুবিনা কাবির ব্যাতীত । তিনি ছেলের প্রতিক্ষায় ছিলেন । কিন্তু ছেলে বাড়ি ফিরে তাকে গ্রাহ্যই করল না । কোনো রুপ কথা না শুনে, কিছু না বলে ঘরে ঢুকে মায়ের মুখের উপর ধাম করে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়লো ।
এখন সকাল হতেই উঠে পড়েছে । সে উঠেছে সাতটার দিকে । লম্বা শাওয়ার নিয়েছে আটটা পর্যন্ত । অতঃপর নিচে নেমেছে ।
মেঘা,শাফাহ্ , আহিয়ান , আর শুভ্র ব্রেকফাস্টের টেবিলে । তোফায়েল কাবির আর তৌসিফ কাবির সোফায় বসে । ছেলে মেয়েদের খাওয়া হলে তারাও খেয়ে দেয়ে বেরোবেন অফিসে । শুভ্র আগে যাবে ।
আদ্র এখনো নিচে নামে নি । নিচে নামতে নামতে টেবিলের প্রত্যেক জনকে সরু চোখে গুনে নিলো রৌদ্র । আদ্রের অনুপস্থিতি নজর কাড়লো বেশি ।
এদিকে রামিশা কাঁদছে । সিরাত ওকে থামাতে থামাতে নিচে নামছে । সিঁড়ির দিক থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পেয়ে সবাই চকিতে তাকালো সিঁড়ির দিকে । কান্নার শব্দ শুনে রৌদ্র ও দাঁড়িয়ে পড়েছে সিঁড়ির নিচে । সিরাতের সাথে সাথে রৌদ্রকেও দেখলো সবাই ।
আহিয়ান খাওয়া ফেলে তড়িঘড়ি করে উঠলো । এগিয়ে যেতে যেতে বললো….

” কি হয়েছে সিরাত , রামিশা কাঁদছে কেনো ?
” আরে দেখো না , আচমকা কান্না জুড়ে বসলো । থামছে না কিছুতেই !
কিচেন থেকে রুবিনা কাবির হন্তদন্ত হয়ে বেড়িয়ে আসলেন । সিরাত সিঁড়ি বেয়ে নামতেই আহিয়ান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো…..
” আমার কোলে দাও দেখি ।
” আমার কোলেই থামছে না , আর তুমি থামাতে পারবে ওকে ?
সিরাতের কথা শেষ হতেই নরম কন্ঠ ভেসে আসলো….
” আপু , আমাকে দাও ।
সচকিতে সবাই তাকায় রৌদ্রের দিকে । রৌদ্র হাত বাড়িয়ে দিয়েছে । তাজ্জব বনে অবিশ্বাসে চাইলো সকলে । সিরাত সন্দিহান হয়ে শুধালো….
” হ্যাঁ ?
” আমাকে দাও….
ফের একই স্বর । সিরাত হাবলার মতো চেয়ে রইল । রৌদ্র নিজেই সিরাতের থেকে আলতো করে সন্তর্পণে কোলে নিলো রামিশা কে । আদুরে হয়ে বাচ্চার মুখ পানে তাকিয়ে মৃদু হাসলো রৌদ্র । ওষ্ঠ বাড়িয়ে চুমু খেলো । ড্রইং রুমে ওকে কোলে নিয়ে চুপটি করে একটু হাঁটাহাঁটি করার মাঝেই কান্না থামলো রামিশার ।
আরো বেশি তাজ্জব হলো সকলে । রৌদ্রের এতোটা নির্মল খেয়ালি ভাব ঠিক হজম হলো না । তোফায়েল কাবির সহ বাকিরা ভ্যাট ভ্যাট করে তাকিয়ে আছেন । খাওয়া ছেড়ে তাকিয়ে আছে শুভ্র আর শাফাহ্ । মেঘা ব্যাতীত । তবে মেঘার ঠাহরে সবটা পরোক্ষভাবে ধরা দিলো ।
চুপচাপ খেয়ে নিচ্ছে মেঘা । রামিশা থামতেই ওকে ফের সিরাতের কোলে তুলে দিলো রৌদ্র । সিরাত অবাক স্বরে বলল…..

” এভাবে বাচ্চা সামলানো শিখলি কোথা থেকে ?
” বিদেশে ?
তৎক্ষণাৎ উত্তরে শাফাহ্ বোকা বোকা স্বরে বলল ঘাড় ঘুরিয়ে….
” কিভাবে ভাইয়া ‌, বিদেশে কি বেবিদের হোস্টেলে জব করতে । আই মিন বাচ্চা সামলানোর জব করতে সেখানে ?
রৌদ্র ফিক করে হেসে ফেললো । ওর এভাবে হাসিতেও অবাক হলো সকলে । রৌদ্র এগিয়ে এসে একটা আলতো গাট্টা মারলো টুকটুকির মাথায় । ওর পাশের চেয়ারটা টেনে বসতে বসতে বলল…..
” গাব্বু , তুই সেই বোকাই রয়ে গেলি ।
বাচ্চা সামলানোর জব করবো কেনো আমি ? বাচ্চা জন্ম দিয়ে বাচ্চা সামলেছি । ইউ নো , বিদেশে গিয়ে বিয়ে করেছি , দুটো বাচ্চাও আছে আমার । ও গুলোকে সামলাতে সামলাতেই শিখে গেছি ।
বড় বড় চোখে চাইলো শাফাহ্ । রৌদ্রের হেয়ালি ধরতে না পেরে নিজের বোকা হওয়ার পরিচয় দিলো আবার । কথা চেপে রাখতে পারলো না …
” সে কি ভাইয়া । তুমি না ম্যারেইড । মেঘা কে তো তুমি বিয়ে করেছিলে । বিদেশে গিয়ে আবার বিয়ে করেছো তুমি ?
খাওয়া থামালো মেঘা । হাত থমকেছে রৌদ্রের কথাটা কর্নকুহরে প্রবেশ করা মাত্রই । এবার টুকটুকির কথাতে গলায় খাবার আটকালো । তড়িঘড়ি করে গ্লাস তুলে মুখে লাগালো মেঘা ।
সিরাত ওকে আর রৌদ্র কে পরখ করে চড়া কন্ঠে ধমক দিলো তৎক্ষণাৎ…

” টুকটুকি , চুপচাপ খাবি ? রৌদ্র মজা করছে । বুদ্ধু , কিচ্ছু বুঝিস না তুই ?
সিরাতের কথা শেষ হতেই মেঘা আচমকা উঠে দাঁড়ালো । মুখ চেপে ধরে এলোমেলো পায়ে বেসিনের দিকে ছুটলো । ভড়কালো সকলে । শুভ্র চেচালো….
” মেঘা, কি হলো….
পেটের সমস্ত খাবার বেসিনে উগড়ে দিলো মেঘা ।
গা গুলিয়ে উঠলো ওর । গলায় খাবার আটকে ছিলো , তড়িঘড়ি করে পানি খেতে গিয়ে আরো বেশি আটকেছে । গা গুলিয়ে উঠেছে । পানির সাথে সাথে পেটের বাকি খাবার টুকু উগলে এসেছে । অস্বস্তিকর অনুভূতিতে চোখ মুখ উল্টালো মেঘা ‌। শাফাহ্ , শুভ্র , আর রুবিনা কাবির ওর পিছু পিছু ছুটলেন । রৌদ্র চেয়ার ছেড়ে উঠতে গিয়েও উঠলো না । হাত মুঠো করে তটস্থ হয়ে ধারালো দৃষ্টি পাত করলো সেদিকে ।
সিরাত এখান থেকেই তৎপর হয়ে চেঁচালো….

” মা , ওর আবার কি হলো ?
” এই মেয়ে , কি হলো তোর ? এভাবে বমি করলি কেনো ?
রুবিনা কাবিরের কথায় মেঘা স্বাভাবিক হলো । কুলকুচি করে চোখে মুখে একটু পানি ছিটিয়ে নিলো ।
” কিছু না মামনি , গলায় খাবার আটকে ছিলো,তাই…
তৌসিফ কাবির এখান থেকেই বললেন….
” দেখে খাবে তো । ঠিক আছো তুমি…
” আমি ঠিক আছি বাবাই ।
টুকটুকি , খাওয়া হয়েছে তোর ? ভার্সিটির জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে আমাদের । আদ্র ভাইয়া কোথায় ?
নিস্তেজ শীতল স্বর মেঘার । চোখ নামিয়ে রেখেছে । ভেজা মুখের সাথে সাথে দৃষ্টি জোড়াও ভেজা । হয়তো পানির ছেটায় ,নয়তো নোনা জলে ।
রুবিনা কাবির সিঁড়ির দিকে তাকালেন..

” আদ্র নিচে নামে নি এখনো ?
ভার্সিটি যাবে না ?
” আমি উপরে গেলাম ।
এটুকুনি উচ্চারণ করেই দ্রুত পায়ে উপরে ছুটলো মেঘা ।
একেবারে ঘরে ঢুকে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো । দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ালো চোখ বুজে । লম্বা লম্বা শ্বাস টানলো বুক ভরে ।
আদ্র নিচে নামলো ও চলে যাওয়ার পর । টেবিলে রৌদ্র একাই বসে বসে খাচ্ছে । আশেপাশে তাকালো আদ্র । মেঘা নিচে নেই । শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটাতে গোটাতে মুখ খুললো আদ্র….
” টুকটুকি,, মেঘ কোথায় ? দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
” মেঘা তো ঘরে গেলো ভাইয়া । এসে যাবে এক্ষুনি । তুমি তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও ।
” খাবো না আমি , দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
অতঃপর গলা বাড়িয়ে মেঘা কে ডাকলো উপরে তাকিয়ে…
” মেঘ,,, হলো তোর ? নিচে আয় ফাস্ট । উই আর অলরেডি লেইট ।
ব্যাগ নিয়ে ধীর পায়ে নিচে নামে মেঘা । চেঞ্জ করেছে । আদ্র ওর শুকনো মুখখানা দেখে কপাল গুটিয়ে ফেললো…
” কি হয়েছে ? মুখ শুকনো দেখাচ্ছে কেনো ?
সিরাত উত্তর করলো পাশ থেকে….
” খেতে গিয়ে খাবার গলায় আটকে বমি করেছে মেয়ে ।
” সে কি , বমি করেছিস ?
মেঘা বিরক্তি প্রকাশ করলো । চোখ তুলেও তাকালো না কোনো দিকে । আদ্রের হাত টেনে ধরে পা বাড়াতে বাড়াতে বললো বিরক্তি মাখা কন্ঠে…..
” চলোতো, ভালো লাগছে না ।

রৌদ্রের বাঁকা চোখ এড়ালো না দৃশ্য টুকু । খেতে খেতে থামলো রৌদ্র । মুখের খাবার চিবিয়ে গিললো । হাতের ভাঁজের অর্ধ স্যান্ডউইচ টা পিষে ফেললো মুঠোতেই । উঠে দাঁড়ালো চোয়াল শক্ত করে । আদ্র আর মেঘা সদর পেরোনোর আগেই গটগট পায়ে এগিয়ে মেঘার হাত হেঁচকা টানে টেনে ধরলো । মেয়েটা টান পেয়ে পিছু ফিরতে না ফিরতেই সপাটে একটা দাপুটে চড় পড়লো বাম গাল বরাবর । আকস্মিক আঘাতে নিজেকে সামলে নিতে হিমশিম খেলো মেঘা । আদ্রের হাত ছাড়িয়ে ছিটকে পড়লো পাশে । ড্রইং রুমের সবাই রৌদ্রের তাৎক্ষণিক কান্ডে তব্দা খেলেন । আঁতকে তাকালেন রৌদ্র আর মেঘার দিকে । আদ্র আর শাফাহ্ মেঘার পাশে থাকার দরুন আকস্মিক কান্ডে হতবাক হলো ওরা । কিছু বুঝে উঠতে পারলো না তৎক্ষণাৎ । মেঘা থাপ্পরের টাল সামলে রৌদ্রের দিকে তাকানো মাত্রই রৌদ্র টেনে ধরলো ওকে । কনুই চেপে হিড়হিড়িয়ে নিজের সন্নিকটে টেনে নিয়ে দাঁত পিষে বললো কিড়মিড় করে….
” এই নিয়ে আমার হাতের দ্বিতীয় থাপ্পর পড়লো তোর গালে ! আর এই পাঁচ বছরে জমা হওয়া আমার পক্ষ থেকে দেওয়া পঞ্চাশ টা থাপ্পরের মধ্যে প্রথম থাপ্পর এটা । গুনে গুনে আরো উন পঞ্চাশ টা থাপ্পর বাকি আছে এখনো । এমন কিছু করবি না আমার সামনে , যাতে থাপ্পরের সংখ্যা আরো বেড়ে যায় । তোর এই সুন্দর ফর্সা গালে আমার হাতের আঘাত একদম মানাবে না । সো , আমাকে বাধ্য করিস না তোকে মারতে ।

কথা শেষ করেই ছিটকে দূরে সরালো মেঘা কে । এবার পেছনে হুমড়ি খেয়ে পড়ার আগেই মেঘা কে সামলে নিলো আদ্র । পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচালো মেয়েটাকে ।
মেঘা হতভম্ব হয়ে গালে হাত চেপে ভরা চোখে চেয়ে আছে । এই মুহূর্তে আর দম্ভ দেখাতে পারলো না । খাটলো না শক্তি । আদ্র ওকে সামলে নিয়েই গাল থেকে মেঘার হাত সরিয়ে গাল খানা দেখলো । দাপুটে হাতের পাঁচটা আঙুল বসে গেছে গালে । ফর্সা টুকটুকে গাল খানা রক্তিম হয়ে উঠেছে । ওর দেখার মাঝেই ভরা চোখ থেকে টুপটাপ পানি গড়ালো মেঘার । হয়তো ব্যাথায় , নয়তো অবিশ্বাসে ।
আদ্র রৌদ্রের উপর রাগ সংবরণ করতে পারলো না । মেঘার থেকে চোখ সরিয়ে ক্ষুব্ধ স্বরে চেঁচিয়ে উঠলো রৌদ্রের উপর….

” রুডি ,, পাগলামোর একটা লিমিট থাকে ? এভাবে হুট করে মারলি কেনো ওকে তুই ?
রৌদ্র উত্তরের সামান্য প্রয়োজন টুকুও বোধ করলো না । যে হাতে মেঘা কে থাপ্পর মেরেছে । সে হাত খানা ঝযঝম করছে । হাতটা ঝাড়া মারলো রৌদ্র । শাফাহ্ চমকে গুটিয়ে গেছে একপাশে । তোফায়েল কাবির চোয়াল নিরেট করলেন এবার । ছেলে বাড়ি ফেরার পর এই দিন গুলো চুপ ছিলেন তিনি । মেঘার উপস্থিতিতেও ছেলের কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখে শান্ত ছিলেন নিজে । আগ বাড়িয়ে কিছু বলেন নি । কাউকে বলতেও দেন নি ।
আজ অবাধ্য ছেলের বখে যাওয়া কান্ড দেখে এই তিন দিনের মাথায় ফের আগের ন্যায় চড়া গলায় ধমকালেন ছেলেকে….
” সময় গড়িয়েছে , বছর পেরিয়েছে , তবুও সেই উশৃঙ্খলই রয়ে গেছো তুমি ! মেঘাকে মারার সাহস কি করে হলো তোমার ? কোন সাহসে ওর গায়ে হাত তুলেছো তুমি ? কেনো মারলে ওকে ?
তার প্রশ্নের উত্তর করার সম্ভাবনা আরো কম । উত্তরের আশায় তৌসিফ কাবির ও রাগান্বিত স্বরে একই প্রশ্ন করলেন….

” রৌদ্র , মেঘাকে মারলে কেনো তুমি ?
” ইচ্ছে হয়েছে , তাই মেরেছি !
” ইচ্ছে হলেই তুমি যার তার গায়ে হাত তুলবে ?
বাপের কথায় গলা ঝাড়লো রৌদ্র….
” যার তার গায়ে তো হাত তুলিনি । নিজের বউয়ের গায়ে হাত তুলেছি । আমার বউকে মেরেছি আমি । কার কি এসে যায় এতে ? যত খুশি তত মারবো ওকে । ওকে মারার জন্য আমার আলাদা করে সাহস জোগানোর কোনো প্রয়োজন নেই ।
এক মুহুর্তে স্তব্ধ হলো হলরুম । নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেলো আশপাশ । রৌদ্রের চোখে মুখ ক্ষিপ্ততা ঠিকড়ে পড়ছে । তামাটে চেহারার রং, আকৃতিতে বদল এসেছে ।
আকস্মিক এমন কর্মকান্ডের যথার্থতা বুঝলেন না কেউ । আর মেঘা কে বউ হিসেবে জোর খাটিয়ে বলা কথাটার মর্মও কারোর মস্তিষ্কের শিকড়ে পৌঁছালো না ।
তোফায়েল কাবির রেগেমেগে বললেন….
” বউ ? কাকে বউ বলছো তুমি ? মেঘা কে ? মেঘা তোমার বউ ?
আরো কিছু বলার আগেই গজগজ করে পিছন ফিরে চার ধাপ এগিয়ে সদর পেরিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে গেলো রৌদ্র ।

সবার বিমূর্ত চেহারা ফেলে গেলো পেছনে । মেঘার চোখ থেকে পরপর কয়েক ফোঁটা পানি গড়ালো । আদ্র রাগতে গিয়েও রাগ দেখানোর মতো ফুরসৎ পেলো না আর । রৌদ্র চলে যেতেই পূর্ণ মনযোগ দিলো মেঘার দিকে । মেয়েটা কে সোজাসুজি দাঁড় করিয়ে চোখের পানি আলগোছে মুছিয়ে দিলো !
” মেঘ ,, লেগেছে খুব । আই এম সরি মেঘবুড়ি । রৌদ্রের হয়ে আমি সরি । রৌদ্র….
মেঘা কিছু শুনলো না আর । আদ্রকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না । চোখ মুছতে মুছতে ছুট লাগালো সিঁড়ির পথে । আদ্র আর সিরাত ডাকলো ওকে ।
মেয়েটা সাড়া দিলো না আর ।
ড্রইং রুমে সবার অবস্থা স্তব্ধ , তবে ভেতর ভেতর প্রকম্পিত । তোফায়েল কাবির চোখ মুখ খিচে গিজগিজ করলেন রাগে । কন্ঠ তুঙ্গে তুলে স্ত্রী কে ধমকালেন..
” ছেলে, ছেলে, ছেলে, এই করে করে সারাটা দিন পড়ে ছিলে তো ? এখন দেখো , ফিরে এসেছে তোমার অসভ্য বেপরোয়া ছেলে । এবার সামলাও ওকে ।
এর হিসেব তো ওকে দিতেই হবে । শুধু বাড়ি ফিরুক,মেঘা কে মারার জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে ওকে ।
আজ আর ভার্সিটি যাওয়া হলো না । আর্দ্র চোখে ইশারা করতেই গুটি গুটি পায়ে সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে মেঘার কাছে নিজেদের ঘরে উঠলো শাফাহ্ ।

তপ্ত দুপুরের পর বিকেল । বিকেলের মিঠে হাওয়া বইছে ধরনীতে । তবে এই হাওয়া কাবির পরিবারের ছোট কর্তার মাথা ঠান্ডা করতে অক্ষম । তপ্ত মেজাজে ড্রয়িং রুমে আট্ হয়ে বসে আছেন তোফায়েল কাবির । আজ অফিসেও যাননি তিনি । তৌসিফ কাবির গেছিলেন , দুপুরের পর ফিরে এসেছেন । ভাই রেগে আছে তার । রৌদ্রের অপেক্ষায় আছে । রৌদ্রের থেকে অনেক হিসেব নিকেশ জানা শোনা বাকি । বলাও বাকি !সেই যে সকালে এ বাড়ির বেপরোয়া ছেলে হম্বিতম্বি করে বেরিয়ে গেলো । এখনো অবধি তার দেখা মেলেনি আর । ফেরেনি রৌদ্র । সেভাবেই বেরিয়ে গেছে তো গেছে । এখনও অবধি কোথায় আছে খোঁজ নেই । বাড়িটা সকাল থেকেই গুমোট হয়ে আছে । মুখে কুলুপ এঁটেছে সবার । কেউ আগ বাড়িয়ে কথা তুলছে না ।
এদিকে মেঘা বরাবর বড্ড অভিমানী ।
থাপ্পর খেয়েছে রৌদ্রের কাছে । আর অভিমান করেছে আদ্রের উপর । করবে না তো কি ? এই পাঁচ বছরে আদ্রই তো ওর সব । ধ্যান জ্ঞান জুড়ে , শাফাহ্’র পর আদ্রকে বন্ধু হিসেবে পেয়েছে ও । সিরাত তো আসলো আরও দুই বছর পর । সব আহ্লাদ,আবদার , চাওয়া, পাওয়া, সবটাতেই আদ্র মেঘার নিকট সবকিছুর দাওয়াই । মেঘার আরেক বেস্ট ফ্রেন্ড ।

মেঘা একরোখা । এতদিনে এটা সবার জানা হয়ে গেছে । মেঘার যেটা চাই , সেটা যেকোনো মূল্যেই হোক ওর চাই । আর যেটা চাই না , যেটা থেকে মন উঠে যায় , সেটার দিকে ভুলক্রমেও ফিরে তাকায় না ও ।
আদ্র ওর রাগ ভাঙাতে পারে নি এখনো অবধি । কথা বলার সুযোগই পায় নি । দুপুর অবধি যতবার মেঘার কাছে গেছে , মেঘা ততবার ফিরিয়ে দিয়েছে ওকে ।
আদ্র নিজেও ভার্সিটিতে যায় নি আজ আর । শেষ সময়ে এসে এমন একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বিপত্তি ঘটবে , তা কে জানতো ?
মেঘা সেই যে দোর লাগিয়েছে, এ অবধি নিজে থেকে খোলে নি । দুপুরের খাবার ও খায় নি । শাফাহ্ বেরিয়ে খাবার নিয়ে ঘরে গেছিলো । সে খাবার এখনো অবধি সেভাবেই পড়ে আছে । ছুঁয়েও দেখে নি মেঘা ।
গোসল সেরে ঘুমিয়েছে দুপুরের পর । এখন পড়ন্ত বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ মুহূর্ত । পেটে দানাপানি পড়ে নি আজ আর । সকালে যেটুকু খেয়েছিলো, সেটুকু উগলে বের করে দেওয়ার পর পেট এখন ফাঁকা । চুইচুই করছে পেট । ঘুমিয়েছে দেখে আদ্র আর ডাকে নি ওকে । ডাকতে গিয়ে ফিরে এসেছে একবার ।

ড্রইং রুমে বসে আছেন তোফায়েল কাবির আর তৌসিফ কাবির । আদ্র ঘর থেকে নিচে নামলো । সদরের দিকে তাকালো একপলক । রৌদ্রের অপেক্ষায় বাড়ির সবাই । আদ্র নিজেও বিব্রত ওর উপর । রৌদ্রের চিন্তা খেয়ালে আসতেই কপালে আপনা আপনি ভাঁজ পড়লো ওর ‌। বিরক্তি কাটাতে পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে ডাইনিংয়ে একটা চেয়ার টেনে বসলো । তোফায়েল কাবির আর তৌসিফ কাবির থাকায় তাদের মাঝে বসলো না আর । দূরত্ব বজায় রেখে এদিকটায় বসলো ।
খেয়াল ফেরালো ফোনের স্ক্রিনে । কিছুক্ষণ পর শাফাহ্ নামলো উপর থেকে । মুখ ভার ওর । বাড়ির পরিস্থিতি গুমোট । এমনটা ভালো লাগে না মোটেও ।
মেঘাটাও সেই থেকে মুখে টু শব্দও করে নি । শাফাহ্ বোর হচ্ছে চরম । নিচে নেমেই আদ্রের পাশে চেয়ার টেনে ধপ করে বসলো । ফোন থেকে চোখ তুলে তাকালো আদ্র । অমনি ওষ্ঠ উল্টে আহত চোখে চাইলো শাফাহ্ । টেবিলের উপর হাত রেখে মাথাটা এলিয়ে দিলো সেখানে । আদ্রের দিকে দৃষ্টি গেঁড়ে বললো নিচু স্বরে….

” ভাইয়া , ভালো লাগছে না কিছু ।
চলো না বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি । ভীষণ বোর হচ্ছি আমি ।
” মেঘ উঠেছে ?
” উঁহু ।
” কোথায় যাবি ?
” যেখানে খুশি , একটু ঘুরে আসি চলো প্লিজজজ । আমি মেঘাকে ডেকে নিচ্ছি ।
” আজ না । ঘুরতে যাওয়ার মতো সিচুয়েশন নেই আজ । কাল‌ নিয়ে যাবো । এখন মেঘের কাছে যা তুই ।
” ও তো ঘুমোচ্ছে , আমি ওর কাছে গিয়ে কি করবো ?
” তাহলে যেতে হবে না । এখানে বসে বসে আমার এই দামড়া মার্কা রুপ দেখতে থাক ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬

আদ্রের কথায় এতক্ষণে ফিক করে হেসে উঠলো শাফাহ্ । আদ্র আড়চোখে ওর হাসি টুকু দেখে নিজেও খানিক ঠোঁট প্রসারিত করলো । ওদের দুটোর হাসির মধ্যেই রৌদ্রের আগমন । সদর দরজা খোলা ছিলো । রৌদ্র গটগট পায়ে সদর পেরিয়ে সোজা সিঁড়ির দিকে এগোতে গেলে তোফায়েল কাবিরের নজরে পড়লো সে । অমনি উঠে দাঁড়ালেন তোফায়েল কাবির । পেছনে হাত গুটিয়ে মুখশ্রীর গম্ভীরতা দ্বিগুণ করলেন । ভরাট রাশভারী গলায় বলে উঠলেন…..
” দাঁড়াও…..

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৮