ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১৩
লাইরা আয়নাত
অ্যাশ ক্যাসেলের গার্ডেন গ্র্যান্ড পার্টি চলছে তাদের পার্টি টা আজ একদম নেক্সট লেভেলে উঠে গেছে। চারপাশে ঝলমল করছে রয়্যাল ভাইব, ক্রিস্টাল শ্যান্ডেলিয়ারের সফট গোল্ডেন লাইট গোটা গার্ডেন কে স্বপ্নের মতো সাজিয়ে দিয়েছে। আজকের পার্টিতে বিভিন্ন নামী-দামী রয়্যাল ফ্যামিলির প্রিন্স আর প্রিন্সেসদের জমজমাট মেলা, কেউ ওয়াইন গ্লাস হাতে আলাপ আলোচনা করছে, কেউ সফট মিউজিকে স্লো ডান্স করছে, আর কেউবা ক্যামেরার সামনে পারফেক্ট পোজ দিচ্ছে।
কিন্তু এই গ্ল্যামারাস ক্রাউড, লাউড বিট আর ফেক স্মাইলের ভিড়, কোনোটাই ইনায়াতকে একটুও টানছে না। তার কাছে এসব জাস্ট টোটাল ওয়েস্ট অফ টাইম। সে চুপচাপ পার্টি স্কিপ করে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে ব্যালকনির এক কর্নারে। নরম ভেলভেট সোফায় বেশ একটা চিল মুডে রিল্যাক্স করে বসে আছে সে। প্রাইভেসি মেইনটেইন করার জন্য ব্যালকনির চারদিকে ভারী সিল্কের পর্দা টানানো, বাইরে থেকে কেউ ভেতরে কী হচ্ছে দেখতে পাবে না। ইনায়াতের মাইন্ডসেট ক্লিয়ার,
“এই সব ফালতু সোশ্যাল গ্যাদারিংয়ে টাইম ওয়েস্ট করলে আমার চলবে না। আমাকে নিজের পজিশন আরও স্ট্রং করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, আয়াজের থেকে অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল ডিভোর্স নিতে হবে।”
কোলে ল্যাপটপটের স্ক্রিনে একটা ফাইল খুব মনোযোগ দিয়ে চেক করছে ইনায়াত। ঠিক তখনই নিচের লাউড স্পিকার থেকে ভেসে আসে একটা রাশিয়ান ভাইরাল একটা সং। লাউড বিট, সফট মেলোডি, আর সেই সুরে ইনায়াতের মুডটা ইনস্ট্যান্ট অন হয়ে যায়। মাথা দুলিয়ে, গলা চড়িয়ে গুনগুন থেকে একদম ফুল ভলিউমে গাইতে শুরু করে ইনায়াত:
Polevykh tsvetov venocek
পলেভিখ ৎসভেতভ ভেনোচেক
v utrenney rose tsvetok
ভ উত্রেন্নেয় রোসে ৎসভেতোক
Solov’ya zapyev svistochek sok
সলোভিয়া জাপিয়েভ সভিসতোচেক সোক
Beryozovyy glotok
বেরিয়োজোভিয় গ্লোতোক
Tishiny poslushat’ volyu
তিশিনি পোসলুশাত ভোলিউ
po tropinke v les gustoy
পো ত্রোপিনকে ভ লেস গুস্তোয়
Poboltat’ s beryozkoy vdovol’
পোবোলতাত স বেরিয়োজকোয় ভদোভোল
pro nevo i pro lyubov’
প্রো নেভো ই প্রো ল্যুবোভ
Matushka-zemlya, belaya beryozonka
মাতুশকা-জেমলিয়া, বেলায়া বেরিয়োজোনকা
Dlya menya, Svyataya Rus’
দলিয়া মেনিয়া, সভিয়াতায়া রুস
dlya drugikh, zanozon’ka
দলিয়া দ্রুগিখ, জানোজোনকা
Matushka-zemlya
মাতুশকা-জেমলিয়া
oy, belaya beryozonka
ওয়, বেলায়া বেরিয়োজোনকা
Dlya menya, Svyataya Rus’
দলিয়া মেনিয়া, সভিয়াতায়া রুস
Dlya drugikh, zanozon’ka
দলিয়া দ্রুগিখ, জানোজোনকা
ইনায়াত নিজের মনে মাথা দুলিয়ে গান গাইছে আর ফাইলে চোখ বুলাচ্ছে। ঠিক তখনই ব্যালকনির স্লাইডিং ডোরের কাছে এসে দাঁড়ায় আয়াজ। বেশ কিছুক্ষণ ধরেই সে দরজায় হেলান দিয়ে দূর থেকে ইনায়াতের এই আনমনা হয়ে গান গাওয়াটা নোটিশ করছে। চাঁদের আলোয় ইনায়াতের ফেসটা অসম্ভব মায়াবী লাগছে। আয়াজ একটু এগিয়ে এসে তার স্বভাবসুলভ ফান মুডে বলে ওঠে,
“আরে মিস সিঙ্গার! আপনি নিচে পার্টিতে যাননি কেন? এখানে একা একা কনসার্ট চলছে নাকি?”
আয়াজের গলা শুনেই ইনায়াতের ফোকাস নষ্ট হয়ে যায়। তাকে দেখেই ইনায়াতের চোখেমুখে বিরক্তি ফুটে ওঠে। সে ল্যাপটপটা সাইডে রেখে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। একদম কোল্ড আর ইগনোরিং টোনে ছোট্ট করে বলে, “আপনাকে আমার প্রতিটা কাজের কৈফিয়ত দেওয়ার কোনো প্রয়োজন বোধ করছি না।”
ইনায়াতের এই অ্যাটিটিউড দেখে আয়াজ বিরক্ত হয়ে ‘চ’ সূচক শব্দ করে। পকেটে হাত গুঁজে এক পা এগিয়ে এসে বলে, “দিস ইজ ইওর প্রবলেম ইনায়াত! সবসময় একটা উল্টো উত্তর দিতেই হবে তোমার! সোজা কথায় তো কোনো অ্যান্সার আসেই না।”
ইনায়াত কোনো উত্তর না দিয়ে তাকে পুরোপুরি ইগনোর করে পাশ কাটিয়ে রুমের ভেতর যেতে নেয়। কিন্তু দরজার কাছাকাছি যেতেই সে থতমত খেয়ে থেমে যায়। কারণ ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে আছে প্রিন্সেস অরু।
অরু মূলত আয়াজকে খুঁজতে এসেছিল, আর আয়াজ টেরই পায়নি যে অরু কখন তার পেছনে পেছনে আসছে। আয়াজ ফান মুডে ইনায়াতের পেছন পেছন এসে বলে, “ইনায়াত, চলো না আজকের এই স্পেশাল দিনে আমরা একটা স্পেশাল নাইট স্পেন্ড….
কথাটা সে শেষ করতে পারে না, তার আগেই ওর নজর যায় দরজায় দাঁড়ানো অরুর দিকে। অরু ধীর পায়ে রুমের ভেতর প্রবেশ করে তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। ইনায়াতের ক্যাজুয়াল লুকের দিকে ওপর থেকে নিচে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকায়। তারপর ভীষণ ইনসায়াল্টিং একটা লুক নিয়ে আয়াজকে জিজ্ঞেস করে, “প্রিন্স, তোমার রুমে এ কে? তোমার মেইড নাকি?”
কথাটা শুনে আয়াজের ভীষণ খারাপ লাগে। সে কিছু বলতে যাবে, ঠিক তার আগেই ইনায়াত একদম কোল্ড, শার্প আর ডমিনেটিং ভয়েসে বলে ওঠে,
“সাধারণ মানুষ দেখলেই তাকে মেইড ভাবার যে অ্যালার্জিটা আপনার আছে না ম্যাম, সেটা একটু কন্ট্রোল করুন। আমি আয়াজের মায়ের এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়র মেয়ে, জাস্ট এখানে কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে এসেছি আর তার রুমে একটা কাজে এসেছি। নাথিং এলস।”
কথাটা শুনে আয়াজ একেবারে স্পিচলেস হয়ে যায়! সে শুধু স্থির, অবিশ্বাসী দৃষ্টিতে ইনায়াতের দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটা কত ইজিলি কথাগুলো বলে দিল! আয়াজ তো ভেবেছিল অন্তত অরুর সামনে সে নিজের প্রাইড ধরে রাখতে নিজেকে আয়াজের ‘ওয়াইফ’ হিসেবে ইন্ট্রোডিউস করবে। কিন্তু না, ইনায়াত তাকে পুরোপুরি অস্বীকার করল! অরু কনফিউজড হয়ে আয়াজকে জিজ্ঞেস করে, “সত্যি আয়াজ? ও যা বলছে তাই?”
আয়াজ মুখে কোনো উত্তর দেয় না, শুধু একটা ভারী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ে। আয়াজের এই রেসপন্স দেখে ইনায়াত মনে মনে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। অরু এবার খুব নরমালি আর অধিকার খাটিয়ে আয়াজের হাত টেনে ধরে বলে, “চলো পার্টিতে, তোমার সাথে কিছু স্পেশাল কথা আছে। এখানে টাইম ওয়েস্ট করে লাভ নেই।”
ইনায়াতের ঠিক সামনে দিয়েই অরু আয়াজের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। ইনায়াত সেদিকে ফিরেও তাকায় না, কারণ এসব ড্রামায় তার সত্যিই কিছু যায় আসে না। সে ভীষণ উদাসীনভাবে ব্যালকনির রেলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।
কিন্তু দরজার কাছে গিয়েই হঠাৎ আয়াজের পা থেমে যায়। সে অরুর গ্রিপ থেকে এক ঝটকায় নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নেয়। অরুর চোখের দিকে তাকিয়ে একদম সোজা সাপটা, সিরিয়াস টোনে বলে,
“একটু আগে তুমি ওর আইডেন্টিটি জানতে চেয়েছিলে না?”
বলেই সে ইনায়াতের দিকে তাকায়। তারপর কয়েক কদম ফেলে ইনায়াতের কাছে এসে দাঁড়ায়। অরুর দিকে তাকিয়ে দৃঢ় আর পজেসিভ কন্ঠে বলে, “শি ইজ ইনায়াত। ফ্লোরেন্স ইনায়াত। মাই ওয়াইফ। মাই মিসেস। মাই প্রাইড, মাই পিস, অ্যান্ড মাই ফরএভার।”
কথাটা শুনে ইনায়াত এবং অরু উভয়েই তো শকড! অরু নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না যে আয়াজ অলরেডি ম্যারিড। আর ইনায়াত বুঝতে পারছে না, নিজের ক্লাসের পরোয়া না করে আয়াজ হঠাৎ কোন স্বার্থে এই কথাগুলো বলছে!
অরু নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে একটা মেকি হাসি দিয়ে বলে, “হোয়াট আ জোক! দূর, মজা নিও না তো আয়াজ।”
অরুর এই কথা শুনে আয়াজ আর এক সেকেন্ডও ওয়েট করে না। সে সোজা ইনায়াতের দিকে এগিয়ে আসে। একদম কাছে এসে, ইনায়াতের কোমরে হাত রেখে ঠাস করে তাকে নিজের দিকে টেনে নেয়। ইনায়াত কিছু বুঝে ওঠার বা বাধা দেওয়ার আগেই, আয়াজ ইনায়াতের ঠোঁটে একটা সফট কিন্তু প্যাসোনেট কিস করে দেয়! টুপ করে কিসটা করেই ইনায়াতকে নিজের শক্তিশালী বাহুডোরে সযত্নে আগলে বুকের সাথে মিশিয়ে ধরে সে। অরুর দিকে তাকিয়ে একটা ডেভিলিশ স্মাইল দিয়ে বলে,
“দিস ইজ মাই ওয়াইফ! আমাদের বিয়ের অ্যানাউন্সমেন্ট এখনো অফিশিয়ালি দেওয়া হয়নি তো, তাই কেউ জানে না। আর ও নিজেও লাইমলাইট পছন্দ করে না বলে কাউকে বলতে চায় না।”
অরু মনে মনে আয়াজকে প্রচণ্ড পছন্দ করত। নিজের চোখের সামনে এই রোমান্টিক দৃশ্য দেখে একটা যন্ত্রণাদায়ক, ফেক হাসি দেওয়া ছাড়া তার আর কিছুই করার থাকে না।
এদিকে ইনায়াত রাগে রীতিমতো ফুঁসছে! তার পুরো শরীর অপমানে আর ক্ষোভে কাঁপছে। অরুর আড়ালে সে আয়াজের পিঠের শার্ট শক্ত করে খামচে ধরে আছে। সে জাস্ট অরুর যাওয়ার ওয়েট করছে, তারপরই এই বেয়াদবির শিক্ষা সে আয়াজকে দেবে।
অরু নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে মুচকি হেসে বলে, “ওহ হো আই সি। কনগ্র্যাটস!”
কথাটা বলেই সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না, দ্রুত পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। অরু চোখের আড়াল হতেই ইনায়াত আর এক সেকেন্ডও দেরি করে না। সে আয়াজের বুক থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় এবং চোখের পলকে নিজের কনুইটা উঁচু করে সজোরে আয়াজের থুতনিতে একটা হার্ড কিক মারে। রাগে ফেটে পড়ে সে চিল্লিয়ে ওঠে,
“হাউ ডেয়ার ইউ! আপনার এত বড় সাহস কী করে হয় কথায় কথায় আমাকে টাচ করার? কিস করার?”
ইনায়াতের এই সাডেন আর অ্যাগ্রেসিভ অ্যাটাকে আয়াজ টালমাটাল হয়ে দু’পা পিছিয়ে যায়। থুতনির শক্ত আঘাতে আয়াজের ঠোঁটের এক কোণ কেটে যায়। সেখানে হাত দিতেই সে বুঝতে পারে তাজা রক্ত বেরিয়ে আসছে।
মার খাওয়ার পর নিজের রক্তাক্ত ঠোঁটটা হাত দিয়ে টাচ করে আয়াজ চোখে আগুন নিয়ে সে ইনায়াতের দিকে তাকিয়ে বেশ লাউড ভয়েসে বলে ওঠে, “তোমার উচিত আমাকে প্রোপার রেসপেক্ট দেওয়া। ডোন্ট ফরগেট, আমি একজন ক্রাউন প্রিন্স! তুমি এই সাহস পাও কোথা থেকে যে আমাকে এভাবে হিট করছো? তোমার মতো একটা মেয়েকে আমি নিজের ওয়াইফ হিসেবে রয়্যাল প্রিন্সেসের সামনে ইন্ট্রোডিউস করিয়েছি, আর তুমি আমার সাথে এই কাইন্ড অফ বিহেভ করছো?”
ইনায়াত একটুও প্যানিকড হয় না। সে সোজা এগিয়ে এসে আয়াজের চোখে চোখ রাখে। তার ভয়েসটা একদম কোল্ড, অথচ ব্লেডের মতো শার্প, “আপনি যে-ই হোন না কেন, ঐসব রয়্যাল কোনো বাল আমি কেয়ার করি না! আমার লাইফের রুলস ভেরি সিম্পল যে আমাকে রেসপেক্ট দেবে, আমিও তাকে রেসপেক্ট দেব। আর আপনাকে কে বলেছে আমাকে ওর সামনে ওয়াইফ বলে ক্লেইম করতে? শেইম অন ইউ! একটা বাচ্চার জন্য এই চিপ ড্রামা করতে লজ্জা করে না আপনার? আপনি যে আমাকে বেডে নিয়ে কনসিভ করানোর নোংরা গেম খেলছেন, সেটা কি আমি বুঝি না ভেবেছেন? মিস্টার ক্রাউন, মাই ইন্টেলিজেন্স ইজ শার্প এনাফ। তাই আপনার এই সস্তা প্ল্যান নেভার গোয়িং টু বি সাকসেসফুল। আপনি তো আমাকে আগের মতোই এক্সট্রিমলি হেট করেন ক্যান ইউ ডিনাই দ্যাট?”
আয়াজ নিজের ঠোঁটের কোণ থেকে ব্লাড মুছে ইনায়াতের দিকে এক ওয়াইল্ড হান্টারের মতো লুকে তাকায়। ইনায়াতের প্রতিটা ওয়ার্ডের ধার সরাসরি তার ইগোতে গিয়ে বিঁধে। দাঁতে দাঁত চেপে সে বলে, “ইয়েস, ইউ আর রাইট! আই হেট ইউ! তোমার মতো একজন কনকিউবাইনের মেয়ের সাথে আমার রয়্যাল স্ট্যাটাস ম্যাচ করে না, কোনোদিন করবেও না। দ্যাটস হোয়াই আই হেট ইউ। বাট নাও দ্য সিচুয়েশন ইজ ডিফারেন্ট আমাকে যে করেই হোক কিং হতে হবে। আর এই কিং হওয়ার জন্যই তোমার মতো একটা ক্লাসলেস মেয়ের সাথে বেডে যেতে হবে দিস ইজ দ্য বিগেস্ট রিগ্রেট অফ মাই লাইফ। এতদিন আমি যা কিছু করেছি, এভরিথিং ওয়াজ টু ট্র্যাপ ইউ। বাট তোমার ইগোর চামড়া তো অনেক বেশি মোটা ! আরে ইয়ার, আই অ্যাম সো পারফেক্ট দ্যাট সামটাইমস আই গেট জেলাস অফ মাইসেলফ ইন দ্য মিরর! তুমি প্রিন্সেস অরু-কে দেখেছো তো? হাউ এলিগেন্ট, হাউ বিউটিফুল! সি ইজ অ্যাট লিস্ট সেভেন্টি টাইমস বেটার দ্যান ইউ। বাইরের দেশের রয়্যাল প্রিন্সরা পর্যন্ত ওর একটা গ্লিম্পসের জন্য ক্রেজি হয়ে ঘোরে। প্রিন্সেস অরুর মতো বিউটিফুল লেডি আমার জন্য দিওয়ানা। আর তুমি ইগো দেখাও আমায়? জাস্ট থিংক তুমি যে আমার সাথে সেম রুমে থাকার সুযোগ পাচ্ছো, দ্যাট ইটসেলফ ইজ ইওর গুড লাক!”
আয়াজের এই টক্সিক, ইনসাল্টিং ওয়ার্ডগুলো শুনে ইনায়াত একটুও হার্ট হয় না। তার চোখে পানি তো অনেক দূরের কথা, হতাশা পর্যন্ত দেখা যায় না। উল্টো সে রিল্যাক্সড অ্যাটিটিউডে আয়াজের একদম ক্লোজ এসে দাঁড়ায়। স্মুথলি আয়াজের শার্টের টাইটা ঠিক করতে শুরু করে। আয়াজের অগ্নিদৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে এক টুকরো স্মার্ক ফুটিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে, “কারো সাথে আমার তুলনা দিবেন না। বিকজ আই অ্যাম আ কুইন টু মাইসেলফ। আর একজন কুইনের তুলনা কখনো কোনো অর্ডিনারি প্রিন্সের সাথে হয় না, মিস্টার অ্যাশ! আর হ্যাঁ, আপনার অরু যদি এতই বিউটিফুল হয়ে থাকে, তবে যান এই সুযোগে ওর সাথে শুয়ে যান! আই ডোন্ট কেয়ার অ্যাবাউট ইট। আর আপনি আমায় জাজ করছেন? শুনুন তাহলে আমি বিশ্বাস করি একটা কথায় তা হলো “এই দুনিয়া আমাকে জাজ করবে, বাট তারা কখনোই আমাকে ডিফাইন করতে পারবে না।” আমি ইনায়াত আমি কারো ইশারায় চলি না, এই ওয়ার্ল্ডের কাউকে ফিয়ার করি না আল্লাহ ছাড়া। আই ফলো মাই ওন পাথ। আই ডোন্ট ফলো রুলস। আই বার্ন দেম, আই ক্রিয়েট নিউ ওয়ান্স, অ্যান্ড আই বিকাম দ্য রুল। আর আমার রুলসে আপনাদের মতো অ্যারোগেন্ট পুরুষরা জাস্ট আ লাইট ডাস্ট! আই থিংক ইউ ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড ভেরি ওয়েল আমি ঠিক কী মিন করলাম। সো নাও রুম থেকে যান, পার্টিতে গিয়ে এনজয় করুন, এখানে ফালতু টাইম ওয়েস্ট করবেন না। আপনার চোখে তো আমি ক্লাসলেস আর আগলি একটা মেয়ে! তাই এই আগলি মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের এই চিপ ড্রামা করার কোনো মিনিং হয় না।”
কথা শেষ করে ইনায়াত পারফেক্টলি আয়াজের ব্লেজারের কোটটা টেনে সেট করে দেয় এবং তার চোখে চোখ রেখে একটা ম্যাজিকাল অথচ সার্কাস্টিক স্মাইল দেয়। আয়াজ রাগে আর ইনসাল্টে জ্বলতে জ্বলতে এক ঝটকায় নিজেকে ইনায়াতের হাত থেকে সরিয়ে নেয়, এবং সাইলেন্টলি রুম থেকে বেরিয়ে যায়। তবে তার ভেতরে অবসেশন কাজ করতে থাকে আ বেবি ইজ আ মাস্ট, যে করেই হোক ইনায়াতকে সে নিজের ট্র্যাপে বাউন্ড করবেই।
আয়াজ চলে যাওয়ার পর ইনায়াত একটা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে খালি দরজার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। মনে মনে ভাবে রয়্যাল ফ্যামিলির মানুষরা আসলেই এমন সেলফিশ হয়। নিজেদের ক্লাস ছাড়া অন্য কোনো মানুষকে এরা হিউম্যান বলেই মনে করে না, জাস্ট নিজের প্রয়োজনে ইউজ করতে চায়। ইনায়াতের ঠোঁটে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে ওঠে। তবে তার মনে কোনো পেইন বা শক নেই। কেনই বা থাকবে? সে নিজেকে ইমোশনালি সো স্ট্রং করে বিল্ডআপ করেছে। সে জানে, লাইফে অনেক সাকসেসফুল হতে গেলে আয়াজের মতো হান্ড্রেডস অফ পিপলের মুখ থেকে এমন কত কথাই না শুনতে হবে! নিজেকে যদি নেক্সট লেভেলে নিয়ে যেতে হয়, তবে এই ধরনের ক্রিটিসিজম আর ইনসাল্টে ভেঙে পড়লে চলবে না।
কিছুক্ষণ পর,,
রয়্যাল ডিনার টেবিলে আয়াজ গম্ভীর মুখে তার স্পেসিফিক ক্রাউন সিটে গিয়ে বসে আছে। রুলস অনুযায়ী আয়াজের ঠিক পাশের সিটটাই ইনায়াতের জন্য ফিক্সড। ইনায়াত যখন শান্ত পায়ে এগিয়ে এসে নিজের সিটে বসতে যায়, ঠিক তখনই সারপ্রাইজিংলি এভা সেখানে চলে আসে। বেশ ডিরেক্ট টোনে সে বলে ওঠে, “ইনায়াত, আমি আজ তোমার এই সিটটায় বসি? এখানে বসলে আমার বেশি কমফোর্টেবল ফিল হয়।”
এভার এই বিহেভ দেখে পাশের সিট থেকে ফেইথ হঠাৎই রেগে শাউট করে ওঠে, “হোয়াট দ্য ফাক! তুমি কেন ওখানে বসবে এভা? দিস ইজ ইনায়াতস সিট!”
সিচুয়েশন হট হতে দেখে আয়াজ হুট করেই এভার সাইড নিয়ে বলে ওঠে,”ফেইথ, হোয়াই আর ইউ সো হাইপার? এভা যখন বসতে চাইছে, বসুক না এখানে। এতে কার কী প্রবলেম?”
মূলত আয়াজ চাচ্ছে ইনায়াতকে সবার সামনে একটু হিউমিলিয়েট করতে, ভেতরে ভেতরে একটু হার্ট করতে।
আয়াজের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে এভা আবারো ইনায়াতকে কিছুটা প্রভোকিং টোনে আস্ক করে, “কী হলো, বসব ইনায়াত?”
টেবিলে প্রেজেন্ট সবাই ভাবছে এবার বোধহয় একটা বড় সিন ক্রিয়েট হবে। কিন্তু সবাইকে সারপ্রাইজ দিয়ে ইনায়াত অত্যন্ত নরমালি এভার বাহুতে আলতো করে হাত রাখে। মুখে কোনো অ্যাঙ্গার না দেখিয়ে একটা সুইট স্মাইল দিয়ে বলে,”আরে ফেইথ, এত হাইপার হওয়ার কী আছে! এভা, ইউ সিট হিয়ার। বারবার এভাবে পারমিশন কেন চাচ্ছো? অ্যান্ড লিসেন, একটা কথা বলি তোমায়।”
এই বলে ইনায়াত খানিকটা বেন্ড হয়ে এভার কানের কাছে নিজের মুখটা নিয়ে যায় এবং সফট হুইস্পারে বলে, “আজকের পার্টিতে তোমার লুকটা সেই ছিল এভা। ইউ ওয়ার দ্য অ্যাবসোলিউট ডেফিনিশন অফ ‘বিউটি উইথ হটনেস’! সিলভার গ্লিটারিং অফ-শোল্ডার গাউনটায় তোমার লুকটা পুরো পার্টিতে জাস্ট আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। তোমার ফিগার? জাস্ট আনরিয়েল, টু হট টু হ্যান্ডেল! ব্যালকনি থেকে যখনই নিচে তাকিয়েছি, তোমার ওই ড্রপ-ডেড গর্জাস রূপ আর কিলার হটনেস ছাড়া আমার চোখে আর কিছুই পড়েনি।”
সত্যি বলতে, এভাকে আজকের পার্টিতে রিয়েলি গর্জিয়াস লাগছিল। আর ইনায়াত কখনো অন্য কোনো মেয়ের বিউটি দেখে জেলাসি ফিল করে না, বরং সে মন থেকে তাদের জেনুইন কমপ্লিমেন্ট দিতে পছন্দ করে।
ইনায়াতের মুখ থেকে এমন চমৎকার একটা প্রেইজ শুনে এভার সমস্ত ইগো এক মোমেন্টে মেল্ট হয়ে পানি হয়ে যায়। সে ব্লাশ করে খুশিতে মুচকি হাসতে শুরু করে। এভার মুখে এই লাজুক হাসি দেখে ইনায়াত নিজের ঠোঁটের কোণে একটা মিস্টেরিয়াস স্মার্ক ফুটিয়ে তোলে। এরপর কোনো রকম হেজিটেশন ছাড়াই রিল্যাক্সড মুডে গিয়ে সোজা আয়াজের অপোজিট সিটে বসে পড়ে।
ডিনার টেবিলের বাকি সবাই তো ভেবে বসেছিল যে নিজের সিট হারিয়ে ইনায়াত হয়তো আপসেট হবে, কিংবা রেগে ফেটে পড়বে। বাট হিয়ার দ্য সিন ইজ কমপ্লিটলি অপোজিট! এরা দুজনে আর্গুমেন্ট করা তো দূর, উল্টো হাসাহাসি করছে, আর ইনায়াতের কমপ্লিমেন্টে এভা ব্লাশ করছে! একটা মেয়ের মুখে নিজের রূপের প্রশংসা শুনে এভা নিজের ভেতরের সব অ্যাঙ্গার ভুলে গেছে।
আয়াজ পুরো ম্যাটারটা দেখে বেশ কনফিউজড হয়ে পড়ে। সে তো এভাকে এই বসতে অ্যালাউ করেছিল ইনায়াতকে একটু হার্ট করার জন্য, বাট এখন দেখছে ইনায়াত একদম চিল মুডে হেসে হেসে ডিনার করছে, আর এভা খুশিতে ডগমগ হয়ে ব্লাশ করছে! আয়াজ আর টলারেট করতে না পেরে টেবিলের নিচ দিয়ে এভাকে ফিসফিসিয়ে আস্ক করে, “কী রে, ও তোকে কানের কাছে এমন কী বলেছে?”
এভা তখন চরম হ্যাপিনেসের সাথে আয়াজকে চুপ করে দিয়ে বলে ওঠে “ওসব আমাদের মেয়েদের পার্সোনাল ম্যাটার! ইউ উইল নট আন্ডারস্ট্যান্ড দিস।”
আয়াজ একটা দীর্ঘ ছাড়ে। সে একবার ইনায়াতের দিকে তাকায় পরনে তার ব্ল্যাক টি-শার্ট আর ব্ল্যাক ট্রাউজার, হেয়ারস্টাইলটা একদম ক্যাজুয়াল হাফ-বান। তারপর আয়াজ সাইলেন্টলি নিজের ডিনারে ফোকাস করে। ঠিক তখনই থিয়া ইরিটেশন নিয়ে বলে ওঠে, “ইনায়াত, তুমি প্লিজ একটু আর্লি বা পরে খেয়ে নিও। আমার আসলে তোমার সাথে সেম টেবিলে বসে ডিনার শেয়ার করতে খুব আনকমফোর্টেবল লাগে।”
টেবিলের বড়দের সামনেই থিয়া কথাটা বেশ ক্লিয়ারলি বলে দেয়। আয়াজের ড্যাড থিয়াকে ধমক দিয়ে কিছু একটা বলতে যান, কিন্তু তার আগেই ইনায়াত একদম নরমালি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ফেসে একটা পিসফুল স্মাইল ফুটিয়ে বলে, “আন্ডারস্ট্যান্ডেবল, তোমাদের এমন কালচারে হ্যাবিট নেই। ইটস ওকে, আমি ট্রাই করব নেক্সট টাইম থেকে আর একসাথে জয়েন না করতে।”
কথাটা বলেই ইনায়াত ডাইনিং টেবিল ছেড়ে সামনে নিজের এটিটিউট নিয়ে হাঁটতে থাকে কোললি। ওদিকে টেবিলের বড়রা সবাই থিয়ার দিকে বেশ ফিউরিয়াস হয়ে চেয়ে আছেন। কিন্তু সবাইকে পুরোপুরি শকড করে দিয়ে আয়াজও তার ডিনার স্কিপ করে উঠে দাঁড়ায় আর ইনায়াতের পিছু নেয়। আয়াজ ইনায়াতের পেছনে পা ফেলতে ফেলতে কিছুটা লাউড টোনে ইনায়াত কে মানাতে বলে, “কোথায় যাচ্ছো তুমি? যার ইচ্ছে হবে না সে টেবিল লিভ করবে, তুমি কেন যাবে?”
সবাই পুরো স্পিচলেস! আই মিন, এটা ইমাজিন করা যায়? যাকে এখনও এই হাউজের ‘মিসেস’ হিসেবে একসেপ্ট করা হবে কি না তা নিয়ে ডাউট আছে, তার জন্য স্বয়ং ক্রাউন প্রিন্স এভাবে ডিনার ছেড়ে উঠে গেল!
রুমে এসে ইনায়াত একদম কাম ফেস নিয়ে পানি খায়। আয়াজও রুমে প্রবেশ করে তার সাথে কিন্তু ইনায়াত তাকে “কেন এলেন আপনি” টাইপ কোনো কোশ্চেনই করে না। একটু পরেই আয়াজের প্যারেন্টস তাদের রুমে আসেন। থিয়াও বাধ্য হয়ে এসে ইনায়াতের কাছে অ্যাপোলজাইজ করে যায়। আর এটাই হলো আসলে আয়াজের রয়্যাল পাওয়ার তার একটা সিঙ্গেল স্টেপ পুরো সিচুয়েশন স্পয়েল করে দিতে পারে, আবার পারফেক্টলি ফিক্সও করে দিতে পারে।
এনিওয়ে, সব ড্রামা শেষ হলে ইনায়াত নিজের মতো ঘুমানোর জন্য সোফার দিকে যায়। আয়াজও আর তার সাথে কোনো ইগো নিয়ে আর্গুমেন্ট বাড়ায় না। তবে এবার ইনায়াত নিজেই তাকে বলে, “আয়াজ, আপনার সাথে আমার একটা আর্জেন্ট টক আছে।”
আয়াজ তখন বেডে শুতে যাচ্ছিল। কথাটা শুনে সে সোজা হয়ে বসে আর শার্প একটা লুক নিয়ে জিজ্ঞেস করে, “কী কথা?”
ইনায়াত একটা হেভি সাই রিলিজ করে বলে, “আমার মনে হয় আমাদের ডিভোর্স নিয়ে নেওয়া উচিত। কজ, আমরা কেউ কারও জন্য পারফেক্ট নই।”
আয়াজ এটা শুনে বেশ স্ট্রিক্ট ভয়েসে বলে, “এটা যদি পসিবল হতো, তাহলে তোমাকে আমি ওয়েডিং নাইটেই ডিভোর্স দিয়ে দিতাম। আমাদের ফ্যামিলিতে এই ট্র্যাডিশন নেই। আর আমি যদি ওয়েডিংয়ের শুরুতেই তোমাকে ডিভোর্স দিই, তাহলে এরিক চলে আসবে ক্রাউন পজিশনে। আমি আমার পজিশন লুজ করতে মোটেও রেডি নই।”
ইনায়াত কথাটা শুনে অ্যানয়েড হয়ে শুয়ে পড়তে যায়। তখনই আয়াজ বলে, “তবে আমার কাছে একটা ওয়ে আছে।”
ইনায়াত মুখ ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করে, “হোয়াট?”
আয়াজ ইনায়াতের দিকে তাকিয়ে একদম ক্লিয়ার টোনে বলে, “তুমি আমাকে একটা বেবি দাও। আমি কিং হয়ে যাই, তারপর তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেব। আর তুমি চাইলে ফিউচারে মিসেস হয়েও থেকে যেতে পারো।”
ইনায়াত এটা শুনে ইনস্ট্যান্টলি রিঅ্যাক্ট করে। সে আয়াজকে স্ট্রেটকাট বলে দেয়, “আপনি এসব স্বপ্নেও ভাববেন না! রয়্যালদের সাথে কোনো টাইপ রিলেশন আমি রাখতে চাই না। আর আমি ডেফিনেটলি চাই না আপনার কাছে আমার ভার্জিনিটি লুজ হোক, আর না চাই আপনার মতো হাই-ক্লাস মানুষের বেবি ক্যারি করতে।”
আয়াজ এটা শুনে কপালে ভাঁজ ফেলে ভ্রু কুঁচকায়। “ভার্জিনিটি মিনস? তুমি এই এইজেও ভার্জিন নাকি?”
ইনায়াত অন্যদিকে ফেস টার্ন করে বেশ প্রাউডলি বলে, “আমি এতটা চিপ নই যে বিয়ের আগেই অন্য কারও বেডে চলে যাব।”
ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১২
আয়াজ কথাটা শুনে মনে মনে বেশ হ্যাপি হয়। কারণ তাদের কালচারে ভার্জিনিটিটা ওতটা ম্যাটার করে না ইউজুয়ালি থার্টিন-ফোর্টিন বছর বয়েসি মেয়েরাই আর ভার্জিন থাকে না। তবে ইনায়াতকে একটু টিজ করার জন্য আয়াজ হালকা হাসে, “সিরিয়াসলি? তুমি আসলে এতটাই বোরিং যে তোমার প্রতি কারও কোনো ইন্টারেস্টই আসবে না তাই ভার্জিন এই এইজেও!”
ইনায়াতও ছেড়ে দেওয়ার মতো মেয়ে নয়। সে কাউন্টার শট দিয়ে বলে, “আর আপনি এতটাই স্যাটিসফাইং যে এই বোরিং মেয়ের সাথেই ‘ঐটা’ করার সপ্ন দেখেন!”
