Home উন্মাদনা উন্মাদনা পর্ব ২৩

উন্মাদনা পর্ব ২৩

উন্মাদনা পর্ব ২৩
কায়নাত খান কবিতা

“ খাট ভাঙ্গবে না তো? নিচে আয়!”
অভীর কথাগুলো আনন্দীর কানে ঢুকছিল না, যেন বিষাক্ত কোনো ধোঁয়ার মতো ধীরে ধীরে তার ভেতরটা দখল করে নিচ্ছিল। বুকের গভীরে জমে উঠছিল ঘৃণা, অপমান আর অসহায় রাগের তীব্র এক মিশ্রণ।
মানুষ এতটা নোংরা হতে পারে!এই সত্যটা এখনও পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে না সে। মাঝে মাঝে মনে হয়, অভী মানুষ না।মানুষের চামড়া পরে ঘুরে বেড়ানো কোনো বিকৃত অন্ধকার।
চারপাশটা হঠাৎ অসহ্য লাগতে শুরু করল আনন্দীর। বাতাস পর্যন্ত ভারী। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল।
অথচ অভী ঠিক আগের মতোই স্বাভাবিক। ঠোঁটের কোণে অলস হাসি ঝুলিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর মোলায়েম স্বরে বলল,

“আহা গো সোনা আমার… বড্ড শুকাইয়া গেছো।”
কথাটার ভেতরে যতটা আদর ছিল, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি ছিল বিকৃত অধিকারবোধ।অভীর সেই হাসিটা দেখে আনন্দীর শরীর ঘিনঘিন করে উঠল। মনে হলো, লোকটার ভেতরে কোনো অনুভূতি নেই। নেই অনুশোচনা, নেই অপরাধবোধ। যেন কারও কান্না, কারও ভাঙন,এসব তার কাছে নিছক খেলনা।
হঠাৎই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না আনন্দী। জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে এলো তার গলা দিয়ে।
“দয়া, মায়া, ভালোবাসা—কিছুই কি নাই আপনার মধ্যে?”
অভী একটু থামল। তারপর মাথাটা হালকা কাত করল। চোখে অদ্ভুত শূন্যতা। যেন প্রশ্নটা সে বহুবার শুনেছে, কিন্তু কখনও গুরুত্ব দেয়নি।
পরক্ষণেই ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,
“আমারে তো কেউ কোনোদিন ভালোবাসেই নাই… ভালোবাসা আসবো কোন থেইকা?”
কথাগুলো বলার ভঙ্গিতে কষ্ট ছিল না। ছিল কেবল ঠান্ডা উদাসীনতা। যেন বহু আগেই সে নিজের ভেতরের শেষ কোমল অংশটুকুও মেরে ফেলেছে।
আনন্দীর চোখে তীব্র ঘৃণা জমে উঠল।
“আপনি ভালোবাসার অযোগ্য, অভী।”
কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল অভী। তারপর খুব ধীরে হাসল। সেই হাসিতে রাগ নেই, অপমান নেই,বরং ভয়ংকর এক স্বীকারোক্তি আছে।

“ঠিক।”
শব্দটা শেষ হতেই আচমকা আনন্দীর কবজি শক্ত করে চেপে ধরল সে।সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে আনন্দী প্রস্তুত হওয়ার সুযোগই পেল না। এক টানে তাকে নিজের খুব কাছে এনে ফেলল অভী। দু’জনের মাঝখানের দূরত্ব মুহূর্তেই শূন্য হয়ে গেল।আনন্দীর বুক ধক করে উঠল। শরীরের ভেতর অস্বস্তির একটা ঠান্ডা ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল। মনে হচ্ছিল, শ্বাস আটকে যাচ্ছে।তবুও মুখে কিছু প্রকাশ করল না সে।আজ ভয় পেলে চলবে না।
ঠিক তখনই তার চোখ চলে গেল কাপড়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখা ফোনটার দিকে।স্ক্রিন নিভে আছে, কিন্তু ক্যামেরা চলছে।কাপড় খুলতে গিয়ে খুব সতর্কভাবে ভিডিও অন করে রেখেছিল আনন্দী।
তার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ আরও বেড়ে গেল।
কারণ এই মুহূর্তে অভীর প্রতিটা শব্দ, প্রতিটা স্পর্শ, প্রতিটা বিকৃত হাসি।সবকিছু বন্দি হয়ে যাচ্ছে প্রমাণ হিসেবে।আর হয়তো এই প্রথমবার, শিকার হয়েও আনন্দীর মনে হলো,খেলাটা পুরোপুরি অভীর নিয়ন্ত্রণে নেই। অভীকে ধরা এতো সহজ নয়।
কারণ অভীর বিরুদ্ধে তার হাতে কোনো প্রমাণ নেই। আর এই পৃথিবীতে সত্যের চেয়ে প্রমাণের দাম অনেক বেশি। মানুষ যা দেখেনি, তা বিশ্বাস করে না; আর যা বিশ্বাস করে না, তা নিয়ে বিচারও করে না। আনন্দী সেটা খুব ভালো করেই জানে। তাই আজ সে নিজের ঘৃণাকে গিলে ফেলেছে। নিজের ভেতরের প্রতিবাদকে শিকল পরিয়েছে।

অভীর প্রতিটা অন্যায়, প্রতিটা বিকৃত আচরণে নীরব সম্মতি দেওয়ার অভিনয় করছে সে। যেন সবকিছু স্বাভাবিক। যেন ভয় পায় না। অথচ ভিতরে ভিতরে সে শুধু একটা সুযোগ খুঁজছে।একটা ভয়ভীতি মাখা টেক্সট, একটা হুমকিভরা কল, একটা অসাবধানী স্বীকারোক্তি। এতটুকুই যথেষ্ট। তাহলেই মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষটাকে প্রকাশ করা যাবে।কিন্তু অভী অদ্ভুতভাবে নিঃশব্দ।না কোনো কল,না কোনো মেসেজ,না কোনো চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা,যেন সে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
এই নীরবতাই আনন্দীকে আরও বেশি অস্থির করে তুলছিল। কারণ ভয়ংকর মানুষগুলো চিৎকার করে না, তারা চুপচাপ অপেক্ষা করে। ঠিক শিকারির মতো।

তাই আজ যখন আচমকা অভী তার সামনে এসে দাঁড়ালো, আনন্দীর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো।
লোকটা যেন কোথাও ছিলই না এতদিন। অথচ আজ, একেবারে হঠাৎ করে, অন্ধকার রাস্তার মোড়ে কিংবা ভিড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়া কোনো দুঃস্বপ্নের মতো উদয় হলো সে। ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত আধা-হাসি। চোখে অদ্ভুত স্থিরতা। যেন সে সব জানে। আনন্দী কী ভাবছে, কী লুকাচ্ছে,সব।
আনন্দীর আঙুল অজান্তেই ফোনের দিকে সরে গেলো। বুকের ভিতর ধুকপুক শব্দ বাড়ছে। তবুও মুখে কিছু প্রকাশ করলো না সে। কারণ এই খেলায় ভয় দেখানো যাবে না। ভয় দেখালেই হেরে যেতে হবে।
অভীর আঙুলগুলো যখন ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ সীমানা অতিক্রম করতে শুরু করল, ঠিক তখনই আনন্দীর ভেতরে কোথাও একটা বন্ধ দরজা হঠাৎ খুলে গেল।
স্মৃতিগুলো কখনও কখনও খুব নিষ্ঠুর হয়। মানুষ যতই ভুলে থাকতে চায়, ঠিক সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তেই তারা ফিরে আসে।সেই দিনের মতো।রেহমানের গাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনা।তারপর হাসপাতালের সাদা আলো, ওষুধের গন্ধ আর অবশ হয়ে থাকা সময়।
ফেরার পথে গাড়ির ভেতর অদ্ভুত এক নীরবতা জমে ছিল। যেন দু’জন মানুষ নয়, পাশাপাশি বসেছিল দুইটা ক্লান্ত ছায়া। রাস্তায় সোডিয়াম বাতির আলো বারবার কাঁচে পড়ে মিলিয়ে যাচ্ছিল। আর সেই আলো-অন্ধকারের মাঝেই হঠাৎ আনন্দীর চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল।প্রথমে সে শব্দহীনভাবে কাঁদছিল।

তারপর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠলো।রেহমান স্টিয়ারিং থেকে চোখ সরিয়ে তাকায় আনন্দীর দিকে
কিছুক্ষণ চুপ থেকে গাড়িটা রাস্তার পাশে থামিয়ে দেয় সে।
“কাঁদছো কেন?”
আনন্দী তাড়াতাড়ি মুখ ফিরিয়ে নেয়। জানালার বাইরে তাকিয়ে শুকনো গলায় বলে,,
“এ… এমনি।”
রেহমানের ভ্রু কুঁচকে যায়।চোখদুটো হঠাৎ তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে।
“আবার মিথ্যা বলছো? স্টুপিড!”
ধমকটা খুব জোরে ছিল না। কিন্তু আনন্দীর ভেতরে জমে থাকা বাঁধটা ভাঙার জন্য যথেষ্ট ছিল।
সে হঠাৎই আরও জোরে কেঁদে উঠেছিল। বুক কেঁপে কেঁপে উঠছিল তার। যেন এতদিন ধরে আটকে রাখা সব শব্দ একসাথে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
রেহমান কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল। তারপর ড্যাশবোর্ড থেকে পানির বোতল নিয়ে তার দিকে এগিয়ে দেয়।

“সত্যিটা না বলা পর্যন্ত বাড়ি যাওয়ার কথা ভুলে যাও।”
গাড়ির ভেতর আবার নীরবতা নেমে এলো।
শুধু আনন্দীর ভাঙা শ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
অনেকক্ষণ পরে সে চোখ বন্ধ করে থাকে। গভীর একটা নিঃশ্বাস নেয় সে। যেন একটা শব্দ উচ্চারণ করতে তার পুরো শরীরের শক্তি প্রয়োজন হচ্ছে।তারপর খুব ধীরে বলে,
“আমি… ধর্ষি’তা।”
কথাটা শুনে সময় যেন এক মুহূর্তের জন্য সব থেমে যায়।
রেহমানের মুখের রঙ বদলে যায় চোয়াল শক্ত হয়ে উঠে তার। হাতের শিরা স্পষ্ট ফুটে উঠছিলো। পরের মুহূর্তেই সে স্টিয়ারিংয়ে সজোরে ঘুষি মারে।ধাতব শব্দে আনন্দী কেঁপে উঠে আনন্দী।
রেহমান কিছু বলছিল না। কিন্তু তার চোখে জমে উঠছিল ভয়ংকর এক রাগ। সেই রাগের ভেতর অসহায়তাও ছিল। যেন একজন মানুষ নিজের বিশ্বাস ভেঙে যেতে দেখছে সামনে দাঁড়িয়ে।
আনন্দী থেমে থেমে সব বলতে শুরু করে। ২০২২ সাল থেকে এই অব্দি।
প্রতিটা শব্দ যেন তার শরীর ছিঁড়ে বের হচ্ছিল।
প্রতিটা স্মৃতি বলতে গিয়ে তার গলা কেঁপে উঠছিল।
সব শোনার পর রেহমান দীর্ঘসময়ের জন্য চুপ যায় । তারপর নিচু স্বরে বলে,
“আইনের ওপর একটু ভরসা রাখতে পারতে না? মর’তে গেলে কেন?”
আনন্দী ধীরে চোখ তুলে তাকায় তার দিকে। চোখদুটো তখন বেজায় লাল, ভেজা। কিন্তু ভেতরে জমে ছিল তীব্র ক্ষোভ।

“আপনার আইন আজ আমাকে নোংরা মেয়েদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে।”
ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে আনন্দী।এরপর আবার ও বললো,
“এ কেমন আইন? যেখানে প্রমাণ থাকার পরও টাকার কাছে সব হার মানে? আমার মতো কত আনন্দী প্রতিদিন মরে যাচ্ছে… আপনার আইন কোথায় থাকে তখন? বিচার কোথায়? কেন দোষিকে সমাজ কিছু বলে না? কেন আমাদের মতো মেয়েদের সমাজে ঠাই হয় না? এটা কেমন আইন? উলঙ্গ আইন আপনাদের! অন্ধ আইন। টাকা খোর আইন।”
কথাগুলো সরাসরি গিয়ে আঘাত করেছিল রেহমানের অহংকারে।কারণ আইন তার কাছে শুধু চাকরি ছিল না।ছিল বিশ্বাস।ছিল নিজের অস্তিত্বের সবচেয়ে শক্ত জায়গা।আর আজ সেই জায়গাতেই প্রশ্ন ছুঁড়ে মারছে একটা অসহায় মেয়ে।রেহমান চোখ নামিয়ে নিল কিছুক্ষণ। যেন নিজের রাগটাকে গিলে ফেলছে। তারপর নিয়ন্ত্রিত গলায় জিজ্ঞেস করল,

“কে করেছে?”
আনন্দীর ঠোঁট কেঁপে উঠল। অনেকটা সাহস জুগিয়ে বলে উঠলো,
“অভী চাঁদ।”
নামটা শুনে রেহমানের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
“পুরান ঢাকার… দাদা সাহেবের পালিত ছেলে?”
আনন্দী ধীরে মাথা নাড়ল।রেহমান চুপ হয়ে গেল। চোখে তখন অদ্ভুত হিসেব। যেন বহু পুরোনো কোনো অন্ধকার ফাইল হঠাৎ খুলে গেছে তার মাথার ভেতর।
তারপর খুব ধীরে বলে,
“অভীকে দুনিয়া যেমন জানে… সে আসলে ঠিক তার উল্টো।”
আনন্দী বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে তাকায়।রেহমান এবার তার দিকে পুরোপুরি ঘুরে বসে নিচু স্বরে বলল,
“একটা কাজ করতে পারবে?”

“ বর্তমান”
অভীর স্পর্শ গুলো আরো গভীর হতে শুরু করে। পুরো শরীর শক্ত হয়ে যেতে থাকে আনন্দীর। ভেতরে ভেতরে চিৎকার করে উঠছিল প্রতিটা স্নায়ু।তবুও সে নিজেকে থামাল।এখন পিছিয়ে গেলে চলবে না।
আজ ভয় পেলে সব শেষ।ঠিক তখনই হঠাৎ অভী থেমে গেল।কয়েক সেকেন্ড নীরবে তাকিয়ে রইল আনন্দীর চোখের দিকে। তারপর আচমকা খুব নিচু স্বরে হেসে উঠল।সেই হাসিটা শুনেই আনন্দীর বুকের ভেতর কেমন ঠান্ডা হয়ে গেল।
“বোকাচন্দ্র…”
অভীর আঙুলগুলো আনন্দীর ঠোঁটের চারপাশে বিচরণ করতে শুরু করে।
“তোর শরীরে কয়টা তিল আছে, সেই হিসাবও আমার আছে।”
সে আরও একটু ঝুঁকে আসে আনন্দীর দিকে। চোখদুটো ভয়ংকর স্থির।
“আর তুই প্ল্যান করবি… আর আমি টের পাবো না?”
মুহূর্তেই আনন্দীর শরীর থেকে যেন সব রক্ত সরে যায়।তার চোখ হঠাৎ ফোনটার দিকে চলে যায়। খুব ক্ষণিকের জন্য। কিন্তু সেই এক ঝলকই যথেষ্ট ছিল।
অভীর ঠোঁটের কোণের হাসিটা এবার ধীরে ধীরে চওড়া হতে থাকে।সেটা কোনো মানুষের হাসি ছিল না।
ছিল শিকারির হাসি।যে অনেক আগেই ফাঁদ বুঝে ফেলেছে, কিন্তু ইচ্ছে করেই শিকারটাকে পালানোর ভান করতে দিচ্ছিল।আনন্দীর গলা শুকিয়ে আসে।

“ এমনে কাপড়ের ভাঁজে ফোন লুকিয়ে রাখলে ভালো ভিডিও হইবো?”
মুহূর্তেই আনন্দীর মুখের নকশা বদলে যায়। চোখ দুটো বিস্ফারিত, ঠোঁট কাঁপছে রাগ আর অপমানে। আর ঠিক তার সামনেই দাঁড়িয়ে অভী হো হো করে হাসতে থাকে। সেই হাসির শব্দ যেন দেয়ালে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
আনন্দীর বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে পানিতে। সে আর নিজেকে সামলাতে পারে না। কাঁপতে কাঁপতে কেঁদে ওঠে।
“ তোর মতো জানো’য়ারের জাহান্নামে ও ঠাই হবে না।”
“ তোর কষ্টে বুকটা ফাইট্টা যাইতাছে রে। আয় গলা ধইরা কান্দি।”
অভীর হাসিগুলো আনন্দীর কানে বজ্রপাতের মতো আছড়ে পড়তে থাকে। প্রতিটা শব্দ যেন তার ভেতরটা কাঁপিয়ে দিচ্ছে। হাতে ধরা ফোনটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে অভী ঠোঁট বাঁকায়।
“ক্যামেরা ভালো না। আমাকে বলতি, ভালো ফোন কিনে দিতাম।”
আনন্দীর চোখ লাল হয়ে ওঠে। “আপনি একটা জানোয়ার।”
অভী বিন্দুমাত্র রাগ করে না। বরং অদ্ভুত শান্ত গলায় বলে

“কোনো সন্দেহ নাই। মাঝে মাঝে ভাবি, কতটা খারাপ কপাল হলে আমার মতো লোকের পাল্লায় পড়তে হলো তোকে।”
কথাগুলো শুনে আনন্দীর বুকটা আরও ভারী হয়ে আসে। সে আর কিছু বলে না। শুধু নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে। চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে একের পর এক।

উন্মাদনা পর্ব ২২

অভী বিরক্তির ভান করে মাথা নাড়ে। “যাহ বা’ল। এখনো কিছু করলামই না, তার আগেই কাঁদোস ক্যান?”
আনন্দী কাঁপা গলায় বলে, “কাঁদছি নিজের ভাগ্যের ওপর। ভাগ্য কতটা খারাপ হলে একটা জানো’য়ারকে সহ্য করতে হয়…”
কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকে অভী। তারপর হঠাৎ করেই মিথ্যে মমতা মাখানো স্বরে বলে ওঠে,
“আহা গো, সোনা আমার.”

উন্মাদনা পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here