Home এক দেখায় এক দেখায় পর্ব ৫৫ (২)

এক দেখায় পর্ব ৫৫ (২)

এক দেখায় পর্ব ৫৫ (২)
সুরভী আক্তার

রুহি ঝটকা মেরে শান্ত কে দূরে সরালো । চোখ থেকে ঝড়ঝড়িয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে । কেঁদে উঠলো মেয়েটা । বললো ক্রন্দনরত স্বরে….
” আসবেন না আমার কাছে ! কেনো এসেছেন এখন ? বিয়ে দেখতে এসেছেন আমার ? বিয়ে খাবেন ? নিচে পাত্র পক্ষ অপেক্ষা করছে । আমি সেজেছি ওদের সামনে যাওয়ার জন্য ! যাবো আমি ! এটাই দেখতে এসেছেন ?
শান্ত পিছিয়ে গেলেও ফের আগের অবস্থানে এসে একই ভাবে জড়িয়ে ধরলো রুহিকে । রুহি ছুটতে চাইলো । ছোড়াছুড়ি করলো হাত পা । ক্ষিপ্ততায় দূরে ঠেললো শান্ত কে । এবার কাজ হলো না । শান্ত কে দূরে সরানো গেলো না । বরং আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল শান্ত । রুহির উত্তেজিত অবস্থা দেখে বললো ঠোঁট ভিজিয়ে….
” সরি জান , আই এম রিয়েলি ভেরি সরি ! ভুল হয়ে গেছে আমার ! এমন কিছু হবে আমার আন্দাজেও ছিল না বিশ্বাস করো । আমি আর কক্ষনো এমন ভুল করবো না সত্যি বলছি । এক সেকেন্ডেই ফোন ধরবো এবার । ফোন না করলেও ধরবো । প্লিজ, এবারের মতো সরি…
রুহি শান্ত হলো ছোটাছুটি ছেড়ে । স্থির হয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো । এক নিমিষেই শক্ত হাতে ঝট করে গলা জড়িয়ে ধরলো শান্তর । কেঁদে উঠে বিড়বিড় করলো…

” আমি যাবো না নিচে । কারোর সামনে যাবো না আমি । ওনারা আমাকে দেখতে এসেছেন । আমি যাবো না । আমি ভালোবাসি আপনাকে । আপনাকে ছাড়া কাউকে মানতে পারবো না আমি । কেউ আমাকে দেখবে না আপনি ছাড়া । ওনাদের তাড়িয়ে দিন বাড়ি থেকে । সবাইকে বলুন আপনি আমাকে ভালোবাসেন । বিয়ে করবেন । আমি বিয়ে করবো আপনাকে । আমার জীবনে আর কেউ জায়গা পাবে না আপনি ছাড়া । আই লাভ ইউ । আর কক্ষনো ত্যাড়ামি করবো না । রুড বিহেভ করবো না আপনার সাথে । খুব নরম করে কথা বলবো । যা বলবেন তাই শুনবো । শুধু সবাইকে বোঝান প্লিজ । কেউ আমার কথা শুনছে না । ওরা জানে না আমি আপনাকে ভালোবাসি । আমাকেও ভালোবাসেন তো আপনি ? তাহলে সবাইকে জানিয়ে দিন এটা । বলুন আপনি আমাকে বিয়ে করবেন … বলুন সবাইকে…
রুহি ফিকড়ে উঠলো । সব কথা নীরবে শুনে মুচকি হাসলো শান্ত । কান্নার তোপ বাড়ছে রুহির । শান্ত ওকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো । গলায় মুখ গুজে বললো ফিসফিসিয়ে…

” হুম , বিয়ে করবো তোমায় ! ভালোবাসি তো , অনেক বেশি । তোমাকে ভালোবেসে আর কাকে বিয়ে করবো ?
তুমি শান্ত হও , আমি আছি তো , এসেছি আমি । আর কিচ্ছু হবে না । কেউ দেখবে না তোমায় আমি ছাড়া । কারোর সামনে যেতে হবে না ।
আমি এসেছি জান…
রুহি ফুঁপিয়ে থামলো । হেঁচকি উঠে গেছে । চোখের পানিতে গাল ভিজে জবজবে । শান্তর পাঞ্জাবির অংশ ও ভিজে গেছে নোনা জলে । রুহি শান্ত কে ধীরে ছাড়লো । আলগা হতেই শান্ত নিজেও ছাড়লো । চোখ নিচু করে ঠোঁট কামড়ে কান্না চাপতে ব্যাস্ত রুহি ‌। শান্ত আলগোছে ওর মুখখানা মুছিয়ে দিলো ।
রুহি কিছু বলতে যাবে এর আগে দরজায় কড়া নাড়লো কেউ । মেহজাবিনের স্বর । সে ডেকে বললো…

” ভাইয়া , নিচে ওয়েট করছে সবাই ।
রুহি আঁতকে চাইলো । ওয়েট করছে মানে ? কারা ওয়েট করছে ? শান্তর আভাস পেয়ে ঘরে ঢুকলো মেহজাবিন । রুহি সরে দাঁড়িয়েছে । ভেজা চোখ আবারো মুছলো ও । মেহজাবিন ওদের দেখে মুচকি হাসলো , বললো…
” পাত্রের মা বাবা অপেক্ষা করছে নিচে । আজকেই কিছু একটা হতে পারে ভাইয়া ! বউকে নিয়ে যাবো আমি ?
রুহি ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো । কেঁপে কেঁপে বললো….
” কোত্থাও যাবো না আমি ।
” রুহি , নিচে যাও !
শান্তর নরম কন্ঠে রুহি ধক্ করে চাইলো । শিউরে উঠলো পুরো শরীর । কি বলছে এই লোকটা ? পুনরায় ভরাট হয়ে আসলো রুহির অক্ষি যুগল‌‌‌ । নাকের ডগা লালচে কান্নার ফলে । টপটপিয়ে গাল বেয়ে পানি গড়ালো ফের । ঠোঁট উল্টে ধরা গলায় বললো সে…

” আপনি আমাকে যেতে বলছেন ?
” হুম , যাও । নিচে রাফি আছে । আমিও তো আছি তোমার সাথে । কিচ্ছু হবে না । বিয়ে হবে শুধু । তুমি যাকে চাও তার সাথেই বিয়ে হবে । নিচে চলো এখন ।
” আমি যাবো না কোথাও !
” যেতে হবে । না গেলে এই ছিঁচকাদুনে মেয়েটাকে পাত্রের মা বাবা দেখবে কি করে ? কেঁদে কেঁদে যে অবস্থা করেছো চোখ মুখের । মেহজাবিন , দেখে বলতো পাত্রের মা বাবার ওকে পছন্দ হবে কি না ?
হাসলো মেহজাবিন । বললো মেকি স্বরে…
” হবে ভাইয়া ।
” আপি !
রুহির তৎক্ষণাৎ কম্পিত ডাক । মাথা ভনভন করছে ওর ।
রুহি কিছুতেই নিচে যাবে না । শান্ত আর মেহজাবিন ও ওকে কিছু বললো না । অবশেষে হার মানলো রুহি । শান্তর সাথে ফের অভিযান করে মুখ ফিরিয়ে নিলো । মেহজাবিনের সাথে মাথা নুইয়ে নামলো নিচে । চোখে পানি টলটল করছে । কেঁদে ফেলবে এক্ষুনি । চোখ মাথা একেবারে নত রুহির ‌। নিচে নামতেই মিহি ছুটে আসলো । ওরা দুজনে সোফায় বসালো রুহি কে । কারোর কোনো সাড়া শব্দ নেই । আফসানা বেগমের স্বর ভেসে আসলো এবার…

” দেখি মা ‌, মাথা টা তোল তো !
রুহি ঠোঁট উল্টালো নিজের মাঝে ‌। আফসানা বেগম আবার একই কথা বললেন । শুনলো না রুহি ‌। শেষমেষ আফসানা বেগম উঠে গিয়ে রুহির পাশে বসলেন । চিবুক ধরে মুখখানি তুললেন রুহির ‌। অমনি রুহি কান্না ভেজা সজল মুখখানি নজরে আসলো । ছলছল চোখে ঠোঁটের কোণা কামড়ে তাকালো রুহি ‌। আফসানা বেগম বললেন…
” একি , মেয়ে দেখি কেঁদে কেটে একাকার ‌। কাঁদছিস কেনো মা ? কি অবস্থা করেছিস চোখ মুখের ! উমম , তবুও সুন্দর লাগছে ‌। আমার বেশ পছন্দ হয়েছে ‌। তাহলে বিয়ে পাকা । এই মেয়েকেই বউ করছি আমার ছেলের !
রুহি তব্দা খেলো । চাইলো বড় চোখে । আশপাশে তাকালো এতক্ষণে । কেউ নেইতো বাড়ির লোক ব্যাতীত ! পাত্র পক্ষ কোথায় ? আর ফুপিই বা কি বললো ? বুঝলো না রুহি । আফসানা বেগম সহ বাকিরা রুহির অবস্থা দেখে ঠোঁট চেপে হাসি সংবরন করলেন । বললেন আফসানা বেগম…
” আমার ছেলে টাকে পছন্দ ? যদি বিয়ে দেই ওর সাথে , আপত্তি করবি না তো ?
আশ্চর্য হওয়ার মাত্রা বাড়লো রুহির । প্রশ্ন সূচকে বললো অস্ফুটে…

” হ্যাঁ ?
” শান্ত নাকি তোকে ভালোবাসে , তুই ও ওকে ভালোবাসিস বললো ও !
রুহির ঝট করে শান্তর দিকে চায় । অমনি ঠোঁট কামড়ে ভ্রু নাচায় শান্ত । ফের আফসানা বেগমের দিকে চায় রুহি । আফসানা বেগম বলেন….
” আগে বললেই পারতিস , তোরা একে অপরকে ভালোবাসিস । তাহলে আজ আর অন্যদের ঘটকালি করতে হতো না আমায় । নিজের ছেলের বউয়ের ঘটকালি নিজেই করছি , কি লজ্জা-কি লজ্জা ।
ভাইয়া , আমার বউ মাকে এখন আমার হাতে তুলে দাও । খুব পছন্দ হয়েছে ওকে আমার । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে বউ বানিয়ে ঘরে তুলতে চাই আমি…
হতবাক রুহি বোকার ন্যায় একেক বার একেক জনের দিকে তাকাচ্ছে । মাথায় এলোমেলো সবকিছু । বোধগম্য হচ্ছে না এখনো ।
রাশেদ রায়হান চৌধুরী বললেন…

” রুহি কে নিয়ে ঘরে যাও মেহজাবিন ।
আমাদের আলাদা করে কথা আছে এখানে ।
শান্ত উদগ্রীব হয়ে বললো…
” আমাদের বিয়ের কথা পাকা করবেন মামু ? কবে বিয়ে দেবেন ?
চোখ রাঙালেন আফসানা বেগম ‌। রুহি ,মিহি, মেহজাবিন, জেনি,ওরা সকলে উপরে উঠেছে । ঘরে গিয়ে তাজ্জব বনে ধপ করে বিছানার উপর বসলো রুহি । বললো অবিশ্বাসে…
” পাখি , এটা কি হলো রে ?
” তোর বিয়ে ঠিক হলো !
” কি করে হলো ?
” ভাইয়া সবাইকে সবটা জানিয়ে দিলো । তাই হলো…
রুহি তড়িতে চায়.. উঠে দাঁড়ায় এক ঝটকায় । মিহির দুই বাহু আঁকড়ে ধরে বলে উত্তেজিত অবিশ্বাস্য স্বরে…
” তার মানে এখন ওনার সাথে আমার বিয়ে হবে ? সবাই সবটা মেনে নিয়েছে । ফুপিও মেনে নিয়েছে ? লিনা আপুকে নিজের বউমা বানাবেন না ফুপি , আমাকে বানাবেন ?
মিহি আর মেহজাবিন একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো । রুহির অবস্থা টুকু বুঝতে পারছে ওরা । মেহজাবিন হাসি প্রসারিত করে রুহির বাহু জড়িয়ে বললো…

” হুম , তোকেই বউমা বানাবেন নিজের ছেলের । তার একমাত্র ছেলের একমাত্র বউমা হবি তুই । বিয়ে হবে তোদের !
” আ..আপি ? সত্যিই ?
” হুম !
” তাহলে আমাকে যারা দেখতে আসলো , তারা ?
” তারা চলে গেছেন ।
রুহি হাঁফ ছাড়ল । ঢোক গিললো ও । বুক থেকে বিশাল পাথরের ভর নামলো মনে হচ্ছে । ও নিজের মাঝে বিড়বিড় করলো…
” এখন কি হবে ?
মিহি ওর দিকে ঝুকলো তৎক্ষণাৎ । বললো ঝট করে…
” কি আবার হবে ? বিয়ে হবে তোদের । নিচে বিয়ের ডেট ঠিক করা হচ্ছে হয়তো । এরপর তোর শান্ত ভাইয়ার বিয়ে হবে,পাখি । ভাবতে পারছিস ? বিয়ে হবে তোর ? ইশশ্ ,সো এক্সাইটেড…
রুহি লাফিয়ে উঠলো । মিহি চমকালো আকস্মিক । রুহি ওকে ফের আঁকড়ে ধরলো । বুক ধড়ফড় করছে ওর । এখন অজানা খুশিতে । ভালো লাগার জাগরণ ঘটছে । হাঁসফাঁস অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে ভেতর ভেতর । যা প্রকাশিত হচ্ছে বাইরেও । জোরে জোরে শ্বাস টেনে মিহি কে ধরে ঘূর্ণায়মান চক্কর কাটতে লাগলো রুহি । চিৎকার করে উঠলো পাখিইইইই বলে । হেসে ফেললো মেহজাবিন । রুহি উদ্বিগ্ন, উত্তেজিত । সামলানো দায় নিজেকে । মিহি কে ছেড়ে লাফাতে শুরু করলো ও । আজ শাড়ি পড়নে , এটা খেয়াল আছে কার ? আজ একটুও অস্বস্তি হচ্ছে না । শাড়ি পড়েই কেমন লাফাচ্ছে দেখো । ছটফট করছে রুহি । হাত পা ছড়াছড়ি করে উড়াধুরা নাচতে লাগলো ও । সাথে জেনি যোগ দিয়েছে । সে না বুঝেই । আপি নাচছে , তারমানে নিশ্চয়ই খুশির কিছু ঘটেছে । আপির খুশির পাল্লা ভারী করলো ও । রুহি মিহি কে টেনে নিয়েছে নিজের সাথে । পাগল হয়ে যাচ্ছে ও খুশিতে । মিহি ওর খুশিতে তাল মেলাচ্ছে , যাতে খামতি না থাকে একটুও । মেহজাবিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে ওদের তিনটের কান্ড । নিজের বিয়ের খুশিতে নিজেই নাচছে । কি কান্ড ! হাসলো মেহজাবিন । ওর ও যোগ দিতে ইচ্ছে করলো , কিন্তু বাঁধা এতে । নিজের পেটে আলতো হাত রেখে মুচকি হেসে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো মেহজাবিন ।
রুহি,মিহি,আর জেনি চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছে । ধুমধাম শব্দ হচ্ছে ওদের নাচের তালে তালে । রুহি বলছে লাফাতে লাফাতে…

” পাখি রে , আমার বিয়া , আমার বিয়া…
কি আনন্দ আকাশে বাতাসে….
হাসি থামছে না মেহজাবিনের । হাসতে হাসতে ধীরে খাটের উপর বসলো ও । এদিকে দরজার বাইরে থম মেরে দাঁড়িয়ে আছে শান্ত আর রাফি । ওদের অমন কান্ড দেখে দরজায় ঝুঁকে পড়লো শান্ত । দরজায় ভার ছাড়লো নিজের । রাফি হাঁ বনে দেখছে ওদের আনন্দ টুকু । চোখে পলক পড়ছে না শান্তর । সামনে অবিশ্বাস্য কিছু দেখছে মনে হচ্ছে । শান্ত ঢোক গিললো । চোখের আকৃতি বৃহৎ ওর । ও অবিশ্বাস্য নয়নে তাকিয়েই রাফি কে বললো মিনমিন করে……
” রাফি ব্রো … তোর বোনটা এমন বিয়ে পাগলি হলো কবে থেকে রে ? দেখ, আমার সাথে বিয়ে হওয়ার খুশিতে কেমন ধেই ধেই করে নাচছে । চোখেও শান্তি লাগে রে এমন দৃশ্য দেখতে । এতো দিন জানতাম আমি বিয়ে পাগল । তোর বোন টা যে এমন বিয়ে পাগলি , এটা কে জানতো ? জান আমার মুখ খোলেনি এতো দিন । আগে বললেই পারতো বিয়ে করার এতো সখ , তাহলে এতো দিন আর সিঙ্গেল থাকতে হতো না কাউকেই । জানটু আমার লজ্জা বতী । বিয়ে করার জন্য বুক ফেটেছে কিন্তু মুখ খোলেনি । হায় হায় , এই বিয়ে পাগলি বউটারে বিয়ের পর কোথায় রাখবো আমি ?
রাফি অবলিলায় তাকালো । এই ছেলেটার অভ্যাস গেলো না । ফোঁস করে শ্বাস ফেললো রাফি । গলা খাঁকারি দিলো ও । অমনি থামলো নৃত্য রত রমনীরা । রুহি ভাইয়াকে দেখেও একটুও ইতস্ততা করলো না । বরং এক ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো রাফি কে । হাসলো রাফি । রুহি আচমকা বললো আদুরে গলায়…..

” আই লাভ ইউ ভাইয়া…
” ওওও তেরি ,, এটা আবার কেমন কথা ? বিয়ে করবে আমায় , বিয়ে ঠিক হলো আমার সাথে , বুকে সাহস জুগিয়ে সবাইকে বিয়ের কথা জানালাম আমি , পাত্র পক্ষকে তাড়ালাম আমি , চৌধুরী মামু কেও মানালাম আমি , আর লাভ ইউ কিনা ভাইয়া কে ?
রুহি থমকালো । শান্ত কে দেখে আচমকা কেমন ধক্ করে উঠলো । শান্তর চোখে চোখ পড়তেই ছলকে উঠলো মেয়েটা । এক মুহুর্ত তাকিয়ে থেকে পরমুহূর্তেই চোখ সরালো অদ্ভুত ইতস্ততায় । গলা শুকিয়ে আসছে । ঠোঁটের কোণে লাজুক আভার দেখা মিলছে । দুরু দুরু করছে বুক খানা । রুহি ছাড়লো রাফি কে । চোখ নামিয়ে নিল । রাফি শীতল কন্ঠে বলল…
” কেঁদেছিস খুব ? চোখ মুখের কি অবস্থা হয়েছে ?
ঠোঁট উল্টালো রুহি । রাফি আবার বললো…
” ফ্রেশ হয়ে নে ‌। এভাবে ভালো দেখাচ্ছে না..
পাশ থেকে মেকি স্বরে ফোড়ন কাটল শান্ত…
” একেবারে ছিঁচকাদুনে দেখাচ্ছে এভাবে , তাই না পরী ?
মিহি, মেহজাবিন হেসে উঠলো । রুহি কপাল কুঁচকে তাকালো । বিরক্তি বা রাগ নিয়ে নয় , শীতল চোখে । রুহির চোখে চোখ ঠোঁট কামড়ে রেখেই চোখ মারলো শান্ত । মেহজাবিন বললো এবার…

এক দেখায় পর্ব ৫৫

” আচ্ছা ভাইয়া , আমি না কনফিউজড !
” কেনো ব্যাহনা ?
” রুহি, মিহি তো আমার ছোট ! সম্পর্ক তো উল্টে যাচ্ছে ! এবার আমি ওদের কি বলে ডাকবো ?
শান্ত তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো..
” সম্পর্ক তো আসলেই উল্টে যাচ্ছে ব্যাহনা ! তোকে কি বলে ডাকবো এবার ? বড় আপু ! ও মা , তুই না আমার একমাত্র বউয়ের একমাত্র বড় বোন ! কি বলবো তোকে ? থুরি , তুই তো বলা যাবে না ! সালাম নেবেন আফা , কি বলে ডাকবো আপনাকে ?

এক দেখায় পর্ব ৫৬