এক দেখায় পর্ব ৫
সুরভী আক্তার
চৌধুরী বাড়িতে আজ খুশির জোয়ার নেমেছে। পুরো পাঁচ মাস পর চৌধুরী বাড়ির একমাত্র ছেলে আজ ফিরেছে যে । বাড়ির দুই কর্তী ব্যস্ত সময় পার করছে রান্না ঘরে। ছেলের পছন্দের তালিকায় যতো খাবার আছে সব ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন তারা । বাড়ির দুই কর্তা অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে সোফায় বসে অপেক্ষা করছে ছেলের জন্য । চৌধুরী বাড়ির একমাত্র ছেলে হলো রাফি, রাফির বাবারা তিন ভাই ও এক বোন । বড় ভাই রাশেদ রায়হান চৌধুরী , মেঝো ভাই শরিফ চৌধুরী যিনি গত ১৫ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় মারা যান, ছোট ভাই জুবায়ের চৌধুরী এবং বোন আফসানা বেগম । রাশেদ রায়হান চৌধুরীর একমাত্র জেষ্ঠ পুত্র হলো রুজান রাফি চৌধুরী যে বাড়ির সবার আদরের ছেলে,, সবার চোখের মনি । স্বভাবে বড্ড চুপচাপ এবং গম্ভীর, প্রয়োজনের বেশি কথা বলে না। বিখ্যাত একজন কন্ঠশিল্পী এবং চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির কর্নধার রুজান রাফি চৌধুরী । তবে বাইরে থেকে গম্ভীর হলেও ভিতর থেকে একেবারেই আলাদা। যেখানে কমফোর্ট ফিল করে সেখানে অগনিত কথা বলে। আর ওর এই কমফোর্ট জোন হচ্ছে শান্ত। পুরো নাম শাহরিয়ার শান্ত , রাফির একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড যাকে বলে সঙ্গের সাথী। শান্ত হলো আফসানা বেগম এর ছেলে । রাফি ও শান্ত ছোট বেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছে। রাফি যেখানে শান্ত ও সেখানে। তাইতো পাঁচ মাসের জন্য রাফির সাথে শান্ত ও জাপানে গেছিলো। আর আজকে ওরা দুজনেই দেশে ফিরল । ওদের দেশে ফেরার সুবাদে আফসানা বেগম ও তার স্বামী জাকির হোসেন আজকে চৌধুরী বাড়িতে এসেছেন।
রাফি, শান্ত এবং রুহির জন্য সবাই Living room এ বসে অপেক্ষা করছিলো । এর মাঝেই তিন জনে একসাথে বাড়িতে প্রবেশ করে। অনেক দিন পর ছেলেকে দেখা মাত্রই আফসানা বেগম দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন । অভিমানী স্বরে বলেন…
– এতো দিনে আসার সময় হলো তোর ? মায়ের কথা একটা বারও মনে পড়েনি তাই না? এতো দিনে মায়ের কথা মনে পড়লো বুঝি ?
মায়ের কথায় শান্ত মজার ছলে বলল…
– আম্মু,, আমার এখন ও তোমার কথা মনে পড়েনি বুঝলে ? যদি তোমার কথা মনে পড়তো তাহলে সবার আগে তোমার কাছেই যেতাম । আমার তো এই বাড়ির লোকদের কথা মনে পড়ছিলো তাইতো সবার আগে এখানেই এসেছি।
তারপর রুহির দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল..
” যার কথা মনে পড়েছে তার কাছেই তো এসেছি আম্মু, কি করে বোঝাই তাকে। সে তো রেগে পুরো রেগে বোম হয়ে আছে।
ছেলের বিড়বিড় কথা শুনতে পেলেন না আফসানা বেগম । তিনি শান্তর বাহুতে হালকা আঘাত করে বললেন…
” পাজি ছেলে একটা। মায়ের কথা মনে পড়ে না তোর ?
এরপর রাফির দিকে ফেরেন তিনি । নিস্প্রভ তাকিয়ে বলেন…
” তুই কেমন আছিস বাবা ?
” আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি ফুপি ,, তুমি কেমন আছো?
” এইতো বাবা আছি আলহামদুলিল্লাহ।
ফুপির সাথে কথা শেষ করে একে একে সবার সাথে কুশল বিনিময় করে রাফি ,, শেষে বাবার কাছে আসে..
” কেমন আছো আব্বু ?
রাশেদ রায়হান চৌধুরী ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন বুকে । মোলায়েম কন্ঠে বলেন…
” আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি। তোমাকে অনেক ক্লান্ত লাগছে, যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও আগে, তারপর বাকি কথা হবে।
পিছন থেকে হেনা বেগম অর্থাৎ রাফি ও রুহির মা রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে বললেন…
” ক্লান্ত হবে না তো কি,, বাসায় এসেই সবার আগে বোনের খোঁজ চালিয়েছে ,আর যখন শুনলো রুহি বাসায় নেই, তখন ডিরেক্ট ওকে আনতে চলে গেছিলো । বাসায় আসার পর নিজের ঘরে পর্যন্ত যায়নি এখনো ।
মায়ের কথায় রুহি এগিয়ে এসে গর্বিত প্রফুল্লতার সহিত বলল ….
” আমার ভাইয়া আমাকে সবার থেকে বেশি ভালোবাসে বুঝলে , পৃথিবীর Best ভাইয়া হচ্ছে আমার ভাইয়া ।
আফসানা বেগম পাশ থেকে বললেন…
” শুধু কি রাফি Best ভাইয়া,, আর আমার শান্ত ? ও তো তোকে চোখে হারায় , ও বুঝি তোর Best ভাইয়া নয় ?
মায়ের কথায় শান্ত শুকনো কাশি দিতে দিতে বলল…
” আ…আমি যাই, গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেই ।
বলেই চটজলদি উঠতে থাকলো সিঁড়ি বেয়ে। উঠতে উঠতে বিড়বিড় করে বলল…
” বাপরে আমি নাকি ওর Best ভাইয়া,,ভাবা যায় আর একটু হলেই ওর বাচ্চার মামা হয়ে যাচ্ছিলাম।
অন্যদিকে মিহি বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে বাবার ঘরের দিকে পা বাড়ায় । সাবিনা বেগম টেবিলে রাতের খাবার গোছাচ্ছিলেন । মিহি ঘরে গিয়ে দেখে ওর আব্বু ঘরে নেই। বেলকনিতে উঁকি দিতেই দেখতে পায় ওর বাবা Rocking chair এ বসে গল্পের বই পড়ছেন , ব্যালকনির গ্রিল ভেদ করে আসা হালকা বাতাসে মাথার অর্ধ পাকা চুল গুলো ঢেউ খাচ্ছে। অফিসের কাজ শেষে বাসায় আসার পর যখন একা লাগে তখন আজমাল হোসেন ব্যালকনির এই দোলান-কেদারায় বসে গল্পের বই পড়েন । মিহি বাবাকে দেখে আলতো হেসে এগিয়ে যায় ,এগিয়ে গিয়ে পায়ের কাছে বসে আব্বুর হাঁটুতে মাথা রাখে। আজমাল হোসেন মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে গল্পের বই বন্ধ করে পাশে রাখেন । তারপর মেয়ের মাথায় আলতো হাত রাখেন । ইদানিং নিজের অফিসের ব্যস্ততা এবং মিহির পড়াশোনার জন্য বাবা-মেয়ের আগের মতো একই সাথে সময় কাটানোই হয় না।
আজমাল হোসেন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেন…
“;কি হয়েছে মা ? তোমাকে এতো ক্লান্ত দেখাচ্ছে কেনো?
মিহি অভিমানি স্বরে বলল..
” আব্বু, তুমি আজকাল আমাদের একটুও সময় দাও না । খুব বেশি ব্যস্ত থাকো তুমি। এতো বেশি ব্যস্ততার মাঝে নিজের খেয়ালও ঠিক মতো রাখো না। এতো বেশি কাজ করে কি হবে শুনি?
” আমি যা করছি সব তো তোমার জন্যই করছি। তুমি ছাড়া আমাদের আর কে আছে বলো ?
” আমার কিছু লাগবে না আব্বু। শুধু তোমরা থাকলেই চলবে ।
” আরে বাহ , বাপ মেয়ে এখানে বসে গল্প জুড়ে দিয়েছেন । আর আমি কখন থেকে Dinner রেডি করে বসে আছি । তো আপনারা কি আজকে না খেয়ে থাকবেন নাকি।
এমন কথায় বাবা-মেয়ে দুজনেই চোখ তুলে তাকালো সাবিনা বেগম এর দিকে ।
আজমাল হোসেন মৃদু হেসে বললেন..
” আমাদের গল্পে আপনাকেই miss করছিলাম medam ,,আর এই দেখুন আপনিও চলে আসলেন।
বাবার কথায় মিহি মায়ের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসে । মাকে নিয়ে বাবার করা এই ছোট খাটো মজা গুলো মিহির কাছে অনেক বেশি ভালোলাগে ।
সকাল ৯:০০। মিহি আর রুহি দুই বান্ধবী মিলে কলেজের ক্যাম্পাসে একটা গাছের নিচে চুপচাপ বসে আছে। মিহি রুহিকে অনেকক্ষন ধরে পর্যবেক্ষণ করছে, রুহি সেই তখন থেকে দাঁত দিয়ে নখ খুঁটে যাচ্ছে । এসেছে থেকে কথা বলে নি একটাও । মিহি চোখ সরু করে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে ওর হাবভাব । নিরবতা ভেঙ্গে অবশেষে মিহি বলে উঠলো..
” তোর কি হয়েছে বলতো Pakhi ? তুই আজ এতো তাড়াতাড়ি আমাকে কলেজে আসতে বললি কেনো? আর এসেছি থেকে দেখছি তুই এভাবে চুপচাপ বসে নখ খেয়ে যাচ্ছিস । তোকে কি আজকে বাসায় কিছু খেতে দেয়নি নাকি বলতো ?
রুহি মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল..
” মজা নিচ্ছিস পাখি ? তুই জানিস,,উনি এসে গেছেন ….
রুহির কথা বুঝতে না পেরে মিহি ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে..
” উনি টা আবার কে?
” তোকে যার কথা বলেছিলাম।
রুহির কথায় মিহি লাফিয়ে উঠে রুহির সামনাসামনি বসে । রুহির দুই বাহু আঁকড়ে ধরে উত্তেজিত কন্ঠে বলে..
” সত্যি? উনি এসে গেছেন?
রুহি আলতো ঘাড় কাত করে ক্ষীন স্বরে মনমরা জবাব দেয়…
” হুম ,,
” আরে বুদ্ধু তাহলে তুই এভাবে মনমরা হয়ে আছিস কেনো? তোর তো খুশি হওয়ার কথা।
-” অ্যাহহ…., আমি খুশি হতে যাবো কেনো হ্যাঁ? আমি তো ওনার উপর রেগে আছি । এখনো কথা বলি নি ওনার সাথে । আর বলবো ও না কথা । উনিও বুঝুক আমার রাগ কেমন…
মিহি রুহির নাক টেনে বলে…
“;বুঝলে Janu ,, Pyaar main ye sab hota Hain । আর তুই যেটাকে রাগ বলছিস এটা কিন্তু রাগ নয় এটাকে বলে অভিমান । বুঝলে পাখি..?
” কিসের এতো রাগ অভিমান রে,, আমাদেরকে ও একটু বল ”
মিরার কথায় রুহি এবং মিহি একসাথে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে,, মিরা আর রৌনক ঠিক ওদের পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে। ওদের এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মিহি অপ্রস্তুত হেসে বলে..
” আরে তোরা,,? তোরা কখন এলি ?
ওদের পাশে বসতে বসতে রৌনক বলল…
” এইতো কেবলই আসলাম। তা তোরা এতোক্ষণ কি নিয়ে কথা বলছিলি ?
” ক..কই,, তেমন কিছু না তো । আমরা এমনি কথা বলছিলাম । তাই না পাখি..?
রুহির আপত্তিকর পরিস্থিতি বুঝে মিহি কথা পাল্টাতে বলে..
” এসব কথা বাদ দে । নাদিয়া আর সোহেল কোথায়? ওরা আসেনি?
” নাদিয়ার একটু জ্বর এসেছে, তাই ও আসেনি আজকে। আর সোহেল এমনিতেই আসেনি ।
মিরার কথা শেষ হতেই মিহি ভ্রু কুঁচকে বলে…
” ও,, আচ্ছা একটা কথা বলতো , কালকে রুহির ভাইয়ার আসার কথা শুনে তোরা ওভাবে পালিয়ে আসলি কেনো ? এমন ভাবে ভেগে আসলি , যেনো পালাতে পারলেই বাঁচিস…! কেনো বলতো ?
” পালিয়ে আসবো না তো কি ? তুই রুহির ভাইয়াকে চিনিস না, ওর ভাই প্রচন্ড রাগী। একবার কলেজের একটা ছেলে রুহিকে tease করেছিলো,, এই খবর পেয়ে রুহির ভাই সেই ছেলেটাকে এমন মার মেরেছিলো যে ছেলেটা পুরো দেড় মাস হাসপাতালে আধমরা হয়ে ভর্তি ছিলো । এরপর থেকে কলেজের কেউ রুহির দিকে চোখ তুলে তাকায় না পর্যন্ত ।
ভয়ে ভয়ে কথা গুলো বলল রৌনক। রৌনকের কথায় রুহি বাঁধ সেজে বলল …
” মোটেও না । আমার ভাইয়া মোটেই রাগী মানুষ নয় । ঐ ছেলেটা সেইদিন আমার গায়ে হাত দিয়েছিলো আর অনেক বাজে কথা বলেছিলো , এইজন্যই ভাইয়া ওকে মেরেছিলো । জানিস ,আমার ভাইয়া আমাকে কতটা বেশি ভালোবাসে । আমার কাছে আমার ভাইয়া নিঃশব্দ পাহারাদার এক আশ্রয়, যে প্রাচীন বৃক্ষের মতো আমাকে সব সময় আগলে রাখে । আমার সবকিছু আমার ভাইয়া ।
মিরা ভ্যাবলার মত তাকিয়ে বোকা বোকা স্বরে বলল..
” যাই বলিস না কেন,, তোর ভাই কিন্তু আমার ক্রাস। কিন্তু উনি তো আমার দিকে ঘুরেও তাকায় না ।
মিরার কথায় রুহি শব্দ করে হেসে উঠলো । মিরা অনেক বার রাফির প্রতি অনুভূতি সম্পর্কে জানিয়েছে রুহি কে । রাফির প্রতি অনেক মেয়েরাই পাগল । পাগল ফ্যানের হিসেব নেই ওর । মেয়েরা বেশি,,রুহি জানে সবটা । আর এটাও জানে রাফি কেমন । রাফি কখনো কোন মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকায় না , পাত্তা দেয় না কাউকে । মেয়েদের সম্মান করে সে । সবার অনুভূতি গুলো কেও সম্মান করে ।
রাফির জীবনের সব তথ্য জানা আছে রুহির । রুহি মেকি স্বরে বলে…
” শুধু তুই কেনো, আমার ভাইয়া কোনো মেয়ের দিকেও ঘুরে তাকায় না কখনো । মাই ব্রাদার ইজ অ্যা জেন্টেলম্যান,, ওকে..!!
ওদের কথার মাঝে মিহি শ্বাস ফেলে বলে…
” আর এদিকে তোর ভাইয়াকে না চেনা আমি 🙂
মিহির কথায় মিরা অবাক ভঙ্গিতে বলে…
” কি বলিস,, তুই Famous রুজান রাফি চৌধুরী কে চিনিস না? সব মেয়েদের crush, emotion , soft corner । বর্তমান সংগীত জগতের star ।
” আমি তো গান তেমন একটা শুনি না, আর social media তে ও অতোটা active থাকি না ,তাই এসব বিষয়ে আমার তেমন বেশি একটা ধারণা নেই । জানার ইচ্ছেও নেই তেমন । আগ্রহ নেই এসব বিষয়ে । এসব বিষয়ে জেনে লাভ কি আমার ?
মিহির কথায় রুহি মিরাকে উদ্দেশ্যে করে বলে…
” আমার pakhi কি তোদের মতো নাকি ? আমার Pakhi সবার থেকে আলাদা আর তাইতো আমি ওকে এতোটা ভালোবাসি ।
” হয়েছে,, এখন চল ক্লাসের সময় হয়ে গেছে ।
রুহি মিহির গদগদ দেখে খানিক ঝাঁজালো কন্ঠে কথাটা বলে মিরা ।
মিরার Jealousy বুঝতে পেরে মিহি রুহিকে আলতো জড়িয়ে ধরে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো..
” চলো Pakhi ক্লাসে যাই ।
বলেই একসাথে উঠে, হাত ধরে ক্লাসের দিকে হাঁটা লাগায় দুজনে । পিছু পিছু উঠে যায় মিরা আর রৌনক ।
কলেজ শেষে কোচিং এবং কোচিং শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে ৫:৩০ বেজে যায় রুহির । আজকে আর বাড়ির গাড়িতে নয় বরং রিকশায় করে মিহিকে ওর বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে নিজে বাসায় এসেছে রুহি । এরমধ্যে রাফি রুহিকে কল করে জানতে চেয়েছিলো ওকে আনতে যেতে হবে কি না,, তবে রুহি রাফিকে আসতে বারন করে দিয়েছিলো । বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিলো রুহি,, হঠাৎ ওর সামনে বাঁধ সেধে দাঁড়ায় শান্ত। শান্তকে দেখে রুহি কপাল কুঁচকে ওকে এড়িয়ে নিচে নামতে গেলে আবারো শান্ত ওর সামনে এসে পথ রোধ করে দাঁড়ায় শান্ত । এবার রুহি বিরক্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করে…
” কি সমস্যা আপনার ? এভাবে আমার পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?
” তোমার কি সমস্যা ? কি হয়েছে বলতো? আমাকে এভাবে Ignore করছো কেনো ? আর কতোবার Sorry বলবো ,, এইবারের মত ক্ষমা করে দাও। সত্যি বলছি আর এমনটা হবে না I promise ।
শান্তর কথায় পাত্তা না দিয়ে রুহি ওর মাকে ডাকতে ডাকতে শান্তকে পাশ কাটিয়ে নিচে চলে যায় । রুহির এহেন কান্ডে শান্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুহির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলে…
” এই ভাই-বোন দুজনে এতো জেদি ক্যান রে বাবা । কোনো কথা সহজে বুঝেও না বলেও না । আমি পরছি মহা জ্বালায় । কারে সামলাবো আমি,জানি না আরেকটা আবার ক্যান জরুরি তলব করছে,যাই গিয়ে দেখি আগে।
বলেই ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে রাফির রুমের দিকে পা বাড়ায়। ঘরে ঢুকে দেখে রাফি খাটে আধশোয়া হয়ে একনজরে নিজের ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে, যেনো চোখের পলকই পড়ছে না। শান্ত এগিয়ে রাফির পাশে গিয়ে শুয়ে পরে । তবুও হেলদোল দেখা গেল না রাফির । সে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ফোনের দিকে । শান্ত গলা ঝেড়ে ডাকে….
” কি রে ভাই ,, এতো জরুরি তলব করলি যে, কি হয়েছে বলতো?
শান্তর কথায় তড়িঘড়ি করে ফোনটা বন্ধ করে উঠে বসে রাফি । ভুত দেখার মত চমকে উঠলো সে ।
– তুই ? এসেছিস ? আসলে জরুরি দরকারে তোকে ডাকলাম । কাল থেকে আমি নতুন করে অফিস জয়েন করছি । আর তুইও আমার সাথে থাকবি । কাল থেকে অফিসে যাবো ।
” আমি তো তোর সাথে থাকবোই ,, এতে বলার কি আছে ? আর এটাই তোর কাছে জরুরি কথা মনে হলো ?
রাফি খানিক চুপ থেকে বললো…
” আ.. শোন,,
” হুম,,বল
” না,,কিছু না । অনেক দিন পর ঢাকায় আসলাম চল একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি ।
এক দেখায় পর্ব ৪
শান্ত দ্বিমত করলো না ।
দুই বন্ধু মিলে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো সহসা । বরাবরের মতো আজকে রাফি ড্রাইভ করলো না বরং শান্তকে নিজে থেকেই ড্রাইভ করতে দিলো । এতে খানিক অবাক হলো শান্ত । রাফি কখনোই ওকে গাড়ি চালাতে দেয় না । আজ নিজে থেকেই দিলো ?
খটকা লাগলো শান্তর চঞ্চল মনে । বাঁকা হাসলো সে ।
