এক দেখায় পর্ব ৬২
সুরভী আক্তার
নতুন এক ভোরের সূচনা । আজকের সকালটা অন্যদিনের মতোই , তবে অন্য দিনের তুলনায় অনুভুতির দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা । ভোরের আগে ঘুম ছুটেছে রুহির । পাখিদের কিচিরমিচির ডাকের সাথে বেলকনি দিয়ে আসা তীর্যক আলোর রশ্মি চোখের উপর পড়তেই ঘুম ছুটে গেছে । তখনও সে বন্দি শাহরিয়ার শান্তর শক্ত বাঁধনে ।
শান্তর উন্মুক্ত লোমহীন বক্ষের মাঝে আবদ্ধ সে । পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো রুহি । অলসতায় চোখ বুজে নিলো আবার । শরীরের উষ্ণতা অনুভবে ক্লান্তি জাগলো । আলসেমি লাগলো চোখ খুলতে । পরিস্থিতি তখনো খেয়ালে নেই ।
হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো রুহি । পারলো না । অন্য কারোর শক্ত বাঁধনে পিষে আছে সে । মুখ কুঁচকে সম্পুর্ন চোখ খুললো এবার । কয়েক বার পলক ফেললো । আশপাশ মস্তিষ্কে ধরা দিতেই ছ্যাঁত করে উঠলো রুহি ।
মাথা তুলতেই ঘুমন্ত শান্তর নরম চেহারা খানা নজরে ঠেকলো । যে এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ।
অকস্মাৎ মুখ ফাঁক হয়ে আসলো রুহির । টনক নড়লো এবার । কালকের ঘটনা ধ্যানে আসতেই চোখ বুজে ফেললো লজ্জায় । রাঙা হয়ে উঠলো পুরো মুখশ্রী । ফের শান্তর বুকের মাঝে মিশলো গুটিয়ে গিয়ে । দাঁত চেপে বালিশের কাছটা খামচে ধরলো । এই মুহূর্তে নিজেকে মাটির অতলে মিশিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে ।
লালিত মুখ খানা রক্তিম আভায় ছেয়ে গেছে ওর । এক হাতে নিজেই নিজের মুখ ঢেকে ধরলো রুহি । বক্ষের কম্পনের সাথে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া অস্বাভাবিক । ফের ধড়ফড় করছে নারী সত্বা । সময় নিয়ে মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিলো রুহি । গাল ব্লাস করছে নিজে নিজে । একলা একলা মিইয়ে যাচ্ছে সে ।
রুহি কম্পিত চোখ তুললো শান্তর দিকে । ঢোক গিললো পরপর । গলা ভিজিয়ে নিলো ।
এক হাত আবদ্ধ শান্তর বাঁধনে । বাম হাত টা বন্দি নেই । রুহি ধীরে সন্তর্পণে বাম হাত টা এগিয়ে দিলো শান্তর দিকে । নাক টানলো শান্তর । চুলের ভাঁজে আঙ্গুল গুঁজে টানলো চুল গুলো । ঘুমন্ত শান্তর প্রতিক্রিয়া নেই । একটু মুখ কুঁচকে আবার গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো সে । রুহি হাত সরিয়ে নিলো । একটু মাথা তোলার চেষ্টা করলো । বেশি তুলতে পারলো না । বুক থেকে আলগা হয়ে শান্তর থুতনিতে ঠোঁট ছোঁয়ালো সে । লাজুক হাসলো অতঃপর । চোখ নামিয়ে বিড়বিড় করলো হাঁসফাঁস করে….
“ লাভ ইউ মি. শাহরিয়ার শান্ত ।
নাউ আই এম ইউর মিসেস ।
মিসেস শাহরিয়ার শান্ত ।
বলেই ফিক করে হাসে রুহি । শান্তর প্রশস্ত বুকে মাথা এলিয়ে চোখ বুজে নেয় । শ্বাস ফেলে দীর্ঘ প্রশান্তির । রুহি সরে আসতেই মুচকি হাসে শান্ত । চোখ বুজেই হাতের বাঁধন শক্ত করে আরো । আলতো ঠোঁট নাড়িয়ে বলে….
“ লাভ ইউ ঠু মিসেস শাহরিয়ার শান্ত ।
সকাল নয়টা । কাল বিয়ের পর সকলের ঘুমোতে ঘুমোতে দেরি হয়ে গেছে । আজ উঠতে উঠতেও দেরি হয়ে গেছে । ছেলে মেয়েরা ওঠে নি এখনো । বাড়ির বড়রা টেবিলে বসেছে ব্রেকফাস্ট করতে । কাল পর্যন্ত বিষন্ন ছিলো সকলেই । তবে আজ সব ভাবনার মোড় ঘুরিয়েছে । খাবার টেবিলে বেশ আড্ডা জমেছে বড়দের । হাসি প্রগাঢ় সকলের ঠোঁটে । ওসব বড়দের কথা বার্তা । ছোটরা নেই ।
ঘুম থেকেই ওঠে নি কেউ । রাফি উঠলো সবে । ফ্রেশ হয়ে করিডোর পেরোতে পেরোতে বর্তমান মিহির ঘরের দরজায় এক মুহুর্ত থমকালো । ভেতর থেকে দরজা লাগানো । তার মানে মিহি এখনো ঘুমে । লিনা আর মিরা আছে ওর ঘরে । রাফি সোজা নিচে নামার জন্য এগোলো । চোখে এখনো ঘুম । ঘুমের রেশ কাটে নি । তবুও উঠেছে । কাল রাত থেকেই মাথা ঝিমঝিম করছে । এই মুহূর্তে উইথ আউট সুগার কড়া করে এক কাপ কফি প্রয়োজন । রাফি নিচে নামতে চাইলো , তবে উপর থেকে নিচে বড়দের সবাই কে দেখে সেখান থেকেই গলা উঁচিয়ে ডাকলো…
“ আম্মু , এক কাপ কফি দেবে ?
হেনা বেগম নিজেও সকলের সাথে ব্রেকফাস্টে বসেছেন । তিনি চকিতে উপরে তাকালেন । করিডোরে সিঁড়ির পাশে ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন….
“ উঠেছিস ? ব্রেকফাস্ট করবি না ? নিচে আয়…
“ এখন কিছু খাবো না । জাস্ট এক কাপ কফি প্রয়োজন । পাঠিয়ে দাও একটু ! নয়তো নিচে গিয়ে আমি নিজেই নিয়ে আসছি !
“ তোকে আসতে হবে না । রুমে যা । আমি নিয়ে আসছি ।
মায়ের সায় পেয়ে উল্টো ফিরে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো রাফি । মিহির ঘর পেরিয়ে দুই কদম এগোতেই খট করে শব্দ হলো দরজা খোলার । চকিতে পা থামালো রাফি । ঝট করে পিছু ফিরলো উৎসাহ নিয়ে ।
আশায় ছিলো হয়তো মিহি । কিন্তু নয় । লিনা দরজা খুলেছে । খুলেই বাইরে পা রাখতেই সামনাসামনি রাফি কে দেখলো লিনা । অমনি চোখ থমকালো । এক মুহুর্ত পর অস্বস্তিতে চোখ সরিয়ে নিল মেয়েটা । অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছে সে । রাফি কয়েক মুহূর্ত স্বাভাবিক নয়নে তাকিয়ে থেকে বাঁকা চোখে ঘরের ভেতরে তাকালো । তবে কিছু দেখতে পেলো না । লিনা আড়চোখে তা পরখ করে জোর পূর্বক হেসে বলল মিনমিন স্বরে…
“ মিহি এখনো ওঠে নি ভাইয়া ।
এই কথাটার জন্য বোধহয় প্রস্তুত ছিল না রাফি । থতমত খেলো সে । দৃষ্টি ফিরিয়ে ঘন পলক ফেললো । ঠোঁট ভিজিয়ে বললো…
“ ওও ।
তুমি তো উঠেছো । নিচে যাও , ব্রেকফাস্ট করছে সবাই । খেয়ে নাও গিয়ে ।
বলেই বড় বড় ধাপ ফেলে নিজের ঘরে ঢুকলো রাফি । লিনা কিছুক্ষণ জড়বুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে রইল । রুদ্ধ গলায় ঢোক গিলে নিচে নামলো লিনা । হেনা বেগম কফি নিয়ে বেরিয়েছেন কিচেন থেকে । অর্ধেক খাবার প্লেটে রেখেই উঠেছেন । লিনা কে নিচে নামতে দেখে লতা বেগম হেনা বেগম কে থামিয়ে বললেন….
“ লিনার হাতে কফিটা দিন আপা । ও রাফির ঘরে দিয়ে আসবে । আপনি বসুন । বাকি টুকু খেয়ে নিন…
লিনা চমকালো ।
হালিমা বেগম ও সায় মেলালেন লতা বেগমের কথায় ।
“ হ্যাঁ আপা , লিনা কে দাও । ও রাফি কে কফি টা দিয়ে এসে খেতে বসুক । তুমি খাবার শেষ করো আগে ।
হেনা বেগম কথা বাড়ালেন না । লিনার দিকে এগিয়ে বললেন…
“ রাফির ঘরে কফি টা দিয়ে আয় তো মা ।
তুই আয় , আমি তোর খাবার বেড়ে দিচ্ছি আপাতত ।
লিনা হ্যাঁ-না কিছুই বলতে পারলো না । তার আগে ওর হাতে কফির মগটা ধরিয়ে দিলেন হেনা বেগম । রাফির সামনে যেতে অত্যাধিক ইতস্তত বোধ করে লিনা । রাফি আর মিহির সম্পর্কের গভীরতা আন্দাজ করলে ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে আসে । রাফি কে দেখলেই কলজে ধক্ করে ওঠে । চোখ জ্বলে । ও তো সেনসিটিভ ছিলো রাফির প্রতি । আচমকা ভালো লেগে গেছিলো রাফি কে । শুধু মাত্র রাফির জন্যই এ বাড়িতে আসতো ও ।
হয়তো ওর অনুভুতি গুলো আর পাঁচটা মেয়ের মতোই স্বাভাবিক । রাফি কে পছন্দ করা মেয়ের অভাব নেই এই দেশে । তাদের দলে লিনাও আছে । তবে স্বপ্ন অনুভুতি ভাঙ্গলে কষ্ট তো হবেই । লিনার ও হচ্ছে । ভীষণ মন পুড়ছে ।
রাফি যে মিহি কে ভালোবাসে এটা সে মিহির পরিচয় জানার পর থেকেই আন্দাজ করেছিলো । নিশ্চিত হয়েছে এবাড়িতে আসার পর । এখন আফসোস হয়, কেনো আসতে গেলো এ বাড়িতে ? অজানাই ভালো ছিলো । জানার পর কষ্ট হচ্ছে , তা সহ্য হচ্ছে না ।
লিনা খানিক দাঁড়িয়ে থাকলো । ইতস্ততা কাটিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো ধীরে । রাফির ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় টোকা মারলো আলতো হাতে । একবার টোকা মারতেই ঠাস করে দরজা খুললো কেউ । আকস্মিক কান্ডে চমকালো লিনা । দ্রুত পিছু হটলো এক কদম । সামনে ইভান কে দেখে কপাল গুটিয়ে ফেললো । এই লোক সবসময় ঝড়ের মতো হানা দেয় ।
লিনা কে দেখে ফ্যালফ্যালে হাসলো ইভান । ভেতর থেকেই গলা বের করে বললো…
“ হায় মিস লিনা , গুড মর্নিং !
লিনা বিরক্তি স্বরে জবাব দিলো…
“ গুড মর্নিং ।
“ রাফির জন্য কফি নিয়ে এসেছেন ? দিন আমায় ।
কথা না বলে কফির মগটা ইভানের হাতে তুলে দিলো লিনা । বরং ভালোই হলো , রাফির সম্মুখে যেতে হবে না আর । লিনা পা বাড়াতে গেলে ইভান ডাকলো…
“ মিস লিনা ?
ঘাড় ঘুরিয়ে কড়া গলায় উত্তর করলো লিনা…
“ জ্বি !
“ একটা কাজ করবেন প্লিজ !
“ বলুন !
“ আমার জন্য এক কাপ কফি এনে দেবেন , প্লিজ ।
লিনা এবার বিরক্ত হয় না । স্বাভাবিক ভাবেই বলে…
“ আচ্ছা !
“ থ্যাঙ্ক ইউ । আর শুনুন , দু চামচ চিনি দেবেন । আমি আবার কড়া কড়া গিলতে পারি না । মিষ্টি পছন্দ আমার । আপনার মতো মিষ্টি মেয়েও খুব পছন্দ । ঐ খালি আপনার কটকটে জবান টা পছন্দ নয় । একটু মিষ্টি করে কথা বলবেন কেমন ? তাহলে লক্ষি মেয়ে লাগবে আপনাকে । যান , এখন গিয়ে মিষ্টি করে এক কাপ কফি বানিয়ে নিয়ে আসুন ।
কথা শেষ করেই ভিতরে ঢুকে ফের ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিল ইভান । লিনা মূর্ত বনলো এক মুহুর্ত । পরমুহূর্তে কপাল কুঁচকে দুদিকে মাথা নাড়ালো । নিচে নেমে সোজা কিচেনে ঢুকলো । কফি বানানোই ছিলো । লিনা দুই চামচ চিনি সমেত এক কাপ কফি নিয়ে বেরোতেই হেনা বেগম ডাকলেন…
“ কোথায় যাচ্ছিস আবার ? কফি কার জন্য ?
লিনা আমতা স্বরে উত্তর করলো…
“ ঐ ইভান ….
কথা শেষ করার আগেই ইভানের মা ফাহিমা বেগম বলে উঠলেন…
“ ইভানের জন্য ? উঠে পড়েছে ও ?
“ জ্বি আন্টি ।
“ আচ্ছা যাও , দিয়ে এসো ।
লিনা হাঁফ ছেড়ে জায়গা ত্যাগ করতেই ওর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ফাহিমা বেগম মুচকি হেসে লতা বেগমের উদ্দেশ্যে বললেন…
“ আপনার মেয়েটা ভারী মিষ্টি আপা ।
লতা বেগম স্মিথ হাসেন । পুরুষ দের খাওয়া শেষ । তারা বসেছে সোফায় । মহিলারা গল্প গুজবে ধীরে ধীরে খাচ্ছে । ইভানের বাবার দিকে এক পলক তাকিয়ে গলা ঝেড়ে আবার বললেন ফাহিমা বেগম…
“ আপনার মেয়ে টাকে এখন বিয়ে দেবেন না ? না মানে ও তো রুহির বড় । আর বিয়ের বয়স ও হয়েছে । ভাবেন নি মেয়েকে নিয়ে ?
লতা বেগমের স্বাভাবিক কন্ঠ…
“ ওর বাবা এখনো এসব নিয়ে কথা তোলে নি । দেখি কি করা যায় । মেয়ে কে তো আর এভাবে বসিয়ে রাখা যায় না । সময় হোক , ভালো পাত্র পেলে নিশ্চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে ।
ফাহিমা বেগম প্রগাঢ় হাসলেন । শ্বাস ফেলে বললেন ক্ষিণ স্বরে…
“ আচ্ছা ।
আবার দরজায় কড়া নাড়লো লিনা । এবার কেউ দরজা খুলল না । ভেতর থেকে ইভানের কন্ঠস্বর ভেসে আসলো…
“ ভেতরে এসে দিয়ে যান,মিস লিনা । প্লিজ !!
লিনা বাঁধ সাধলে ইভান আবার একই কথা বলে । রাফির সাঁড়া শব্দ নেই । ব্যালকনিতে রকিং চেয়ারে বসে কফিতে চুমুক দিচ্ছে সে । গার্ডেনে তাকাচ্ছে বারবার । ডেকরেশন আগের ন্যায় আছে । কিছুই খোলা হচ্ছে না । সকাল হতেই সবটা খোলার কথা , কিন্তু ইভেন্টের লোক আসে নি এখনো ।
এদিকে রুমে রাফির অনুপস্থিতিতে এসির ফুল পাওয়ার অন করে একটা কম্ফোর্টার জড়িয়ে শীত শীত ভাব ধরে ফের বিছানায় শুয়েছে ইভান । এখন এই ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভবে গরম গরম কফি খাবে ।
ইভানের পরপর কয়েক বার কাকুতি মিনতি করার পর ধীরে দরজা ঠেললো লিনা । এই প্রথম রাফির ঘরে তার আগমন । দরজা খুলতেই এসির ঠাণ্ডা হাওয়ায় শরীর শিউরে উঠলো । কাপলো লিনা । চোখ ঘুরিয়ে রাফি কে দেখতে পেলো না । ইভান কে কম্বল মুড়িয়ে শুয়ে থাকতে দেখে চোখ সরু করলো । অমনি বরাবরের ন্যায় দাঁত কেলালো ইভান । লিনা বিরক্তি প্রকাশ করলো…
“ আজব তো , এভাবে পুরো দমে এসি অন করে রেখেছেন কেনো ?
“ ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভব করার জন্য ।
“ তাহলে ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভব করুন । ব্যাঘাত ঘটিয়ে কম্বল টেনেছেন কেনো শরীরে ?
দাঁত পিষে কটাক্ষ স্বর লিনার । ইভানের কান্ড আজগুবি থেকে কম কিছু নয় । ইভান সোজাসুজি বলে উঠলো…
“ বউ নেই তো , তাই কম্বল জড়িয়ে রেখেছি । ঠান্ডায় বউ দরকার হয় , জানেন না ? আমার তো বউ নেই , আর এখন ঠান্ডাও নেই । ঠান্ডা কে মিস করছিলাম , তাই এসি অন করেছি । আর বউকে মিস করছিলাম , তাই বউয়ের বদলে কম্বলকে সাইড নায়িকা হিসেবে জড়িয়ে নিয়েছে । বুঝলেন , মিস লিনা ?
লিনা হতবাক হয়ে গোল গোল নয়নে তাকায় । কটমট করে দ্রুত কদমে এগিয়ে ঠক করে কফির মগটা বেড সাইড টেবিলের উপর রাখে । ফোঁস করে বিড়বিড় করে কিছু । ইভান ফিক করে হাসলো । লিনা ক্ষিপ্ত হয়ে পা বাড়াতে গেলে ফিচেল স্বরে বলল…
“ মিস লিনা , আমাকে দোয়া দিয়ে যান । যেনো এবার ঠান্ডায় সাইড নায়িকা কম্বলকে সরিয়ে রিয়েল নায়িকা বউকে নিয়ে ঠান্ডা বিলাস করতে পারি ।
আপনার দোয়া কাজে লাগলে , আপনিও ঠান্ডা বিলাস করতে পারবেন । যদি ঠান্ডা বিলাস করতে চান, তাহলে দোয়া দিয়ে যান ।
লিনা শুনলো কি শুনলো না । ফোঁস করে শ্বাস ফেলে গটগটিয়ে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে । ও বেরোতেই হো হো হেসে উঠলো ইভান । অতঃপর তপ্ত শ্বাস ফেললো ওর যাওয়ার পথে তাকিয়ে ।
লিনা কুঁচকানো মুখে বিড়বিড় করতে করতে ঘর থেকে বেরোলো নত জানু হয়ে । সামনে আকস্মিক কারোর পদ যুগল দেখে তড়িতে ঝট করে চোখ তুললো । মিহি অবাক লোচনে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে । লিনার পানে মূক বনে তাকিয়ে সে । দৃষ্টি সরিয়ে পরমুহূর্তে তাকালো লিনার ফেলে আসা গন্তব্যের পানে । রাফির ঘর থেকে বেরোলো লিনা ? ধক্ করে ওঠে মিহি । তবে প্রকাশ করে না । লিনা স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো । এক গাল হেসে বললো…
“ উঠে পড়েছো মিহি ? নিচে চলো, খাবে না ?
মিহি হাসিতে তাল মেলানোর চেষ্টা করে । সুপ্ত স্বরে উচ্চারণ করে…
“ তুমি যাও আপু । আমি আসছি ।
মিরা পেছনেই ছিলো । ওকে নিয়ে নিচে নেমে গেছে লিনা । মিহি থম মেরে ওখানেই কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল নিষ্প্রভ হয়ে । ঢোক গিলে তড়িতে নিজের ঘরে ঢুকলো ।
এক ছুটে ব্যালকনিতে গিয়ে থামলো । দরজার কাছে দাঁড়িয়ে পাশের ব্যালকনিতে দৃষ্টি পাত করলো সর্বপ্রথম । রকিং চেয়ারে পায়ে পা তুলে বসে আছে রাফি । এক হাতে ফোন , অন্য হাতে কফির মগ । ক্ষিয় কাল বাদ বাদ মগে চুমুক বসাচ্ছে । মিহি ঢোক গেলে আবার ।
মিহির উপস্থিতি মুহূর্তেই রাফির চিত্তকে নাড়িয়ে তুলেছে । আকস্মিক স্থিথ হাসে রাফি । ঘাড় ফিরিয়ে সোজাসুজি তাকায় মিহির চোখের পানে । সদ্য ঘুম থেকে উঠেছে মিহি । চোখ ফোলা এখনো । মুখশ্রীতে ঘুমের ছাপ । রাফি শ্বাস ফেললো গাঢ় । আবেদনময়ীর পানে অপ্রতীভ তাকিয়ে থেকে হীম শীতল কন্ঠে বলল…
“ শুভ সকাল , ম্যাডাম !
মিহি কথায় কান না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে…
“ আপনি , এখানেই ছিলেন ?
রাফি বুঝলো না । বললো অবুঝের মতো…
“ হ্যাঁ ?
“ আপনি এখানেই বসে ছিলেন ?
“ হুম !
“ কখন থেকে !
“ প্রায় আট মিনিট থেকে । কেনো ? আমি এখানে বসে আছি জানলে , আগেই আসতেন আমার কাছে ?
রাফির টিটকারী স্বর । মিহি মুখ শুকনো করলো । বললো..
“ ঘরে কে ?
“ ইভান !
“ লিনা আপু আপনার ঘরে কি করছিলো ?
রাফি কপাল কুঁচকে ফেললো । ইভানের কথা মনে পড়তেই বললো….
“ ইভান কে কফি দিতে এসেছিল বোধহয় !
মিহি মাথা নোয়ায় । রাফি উঠে দাঁড়ালো পকেটে ফোন ঢুকিয়ে । কফির মগটা রেখে এগিয়ে এসে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়ালো । মিহি কে ডাকলো নিজের কাছে । মিহি এগোতেই রাফি দূরত্ব বজায় রেখেই নরম কন্ঠে শুধালো…
“ কি হয়েছে ব্লোসোম ?
“ আপনার ঘরে আজ থেকে আর কেউ যাবে না কোনো দিন ! আপনি সবাইকে বারন করে দেবেন । অনুমতি ব্যতীত যেনো ঘরে কেউ না ঢোকে ! আপনার ঘরে সুন্দর একটা স্মেল আছে , সেটা আমার খুব ভালো লাগে । আমি চাই না সেই স্মেলের ভাগীদার অন্য কেউ হোক । সেটা উপভোগ আর অনুভব করার অধিকার শুধু আমার । আর শুধু আমিই অনুভব করবো সেটা । আপনার বডি স্মেল ও এটাচ আছে । সেটাও আমার ভালো লাগে । সেটার অধিকারও শুধু আমার । আপনি সবাইকে দূরে রাখবেন সেই অধিকারে ভাগ বসানো থেকে । কোনো মেয়ে তো দূর , কোনো ছেলেও যেন আপনার ঘরে আর না ঢোকে …
মাথা নুইয়ে একদমে সব কথা শেষ করে হাঁফ নিলো মিহি । রাফি নির্বাক হয়ে চেয়ে শুনলো ওর কথা গুলো । এক ধ্যানে কথা শেষ করেছে মিহি । রাফি সুক্ষ্ম নেত্রে তাকিয়ে থেকে মুচকি হেসে ফেললো । বললো…
“ আপনার অধিকারে ভাগ বসানোর জন্য কেউ আসবে না কোনোদিন । আপনার যে অধিকার সেটা আর কারোরই নেই । অনুমতি পায় সবাই , কিন্তু অধিকার পায় কজনে ? অন্যরা আমার ঘরে আসার অনুমতি পেয়েছে । আর আপনি পেয়েছেন দখলদারি ! আমার ঘরের , মনের , জীবনের , সব কিছুর দখলদারি । আপনার আগমন আমার জীবনে বৃষ্টির মতো , যা সবকিছু ধুইয়ে নিয়ে চলে গেছে । কিন্তু বৃষ্টির সেই রেশ কাটে নি আমার । মনে গেঁথে গেছে । আপনি স্বয়ং রুজান রাফি চৌধুরীর মনে গেঁথে গেছেন ম্যাডাম । যেখানে আর অন্য কেউ নেই । কোথায় কে থাকলো সেটা আপনাকে দেখতে হবে না , আপনি আমার কোথায় আছেন সেটা অনুভব করুন । তাহলে সেই স্থানে আর কাউকেই দেখতে পাবেন না । বুঝলেন ম্যাডাম ?
নোয়ানো মাথা খানা আরো বেশি নুইয়ে যায় মিহির । চিবুক ঠেকে গন্ডদেশে । রাফির কথা গুলো বোঝার চেষ্টা করলো না । বরং নিজের কথার উপেক্ষা বুঝে অভিমান করলো । ভ্রু যুগল অত্যাধিক কুঁচকে কপালে ভাঁজ ফেললো ।
রাফি শীতল হাসলো তা দেখে । ডান হাতের তর্জনী দিয়ে আলতো স্পর্শে চিবুক খানা উঁচিয়ে ধরলো মিহির । মিহি ঝট করে মুখ সরিয়ে নিলো । রাফি এবার বললো হার মেনে….
“ আচ্ছা , আপনি যা বলবেন তাই । অনুমতি ব্যতীত কেউ আমার ঘরে প্রবেশ করবে না । এবার খুশি ?
আলতো তাকিয়ে পরমুহূর্তে মুচকি হাসলো মিহি । ঘাড় ঝাঁকিয়ে সম্মতি বোঝালো । রাফি শুধোয়…
“ ব্রেকফাস্ট করেছো ?
ঘাড় ঝাঁকিয়ে না বোঝায় মিহি । রাফি বলে….
“ তাহলে গিয়ে ব্রেকফাস্ট করে নাও জলদি । ও বাড়িতে নিয়ে যাবো তোমায় । এক্ষুনি বেরোবো , তুমি খেয়ে এসো আগে !
“ আপনিও খান নি । চলুন একসাথে খাবো ।
“ যাও , আমি আসছি ।
“ উঁহু , আমার সাথে যাবেন । চলুন ….
রাফি খানিক হাসে ।
দুজনে নিচে নামে অতঃপর । টুকটাক খেয়ে নেয় একটু । টেবিল ছেড়ে ওঠার আগেই মিহির দিকে তাকিয়ে চাপা স্বরে বলল রাফি…
“ খেয়ে নাও ফাস্ট । তাড়াতাড়ি উপরে এসো ।
বলেই টেবিল ছেড়ে উঠতেই রাশেদ রায়হান চৌধুরী ছেলে কে ডাকেন নিজের কাছে । রাফি সেদিকে এগোতেই ইভানের বাবা ইমতিয়াজ আহমেদ ক্ষিয় হেসে বললেন….
“ বোনের পালা তো শেষ হলো বাবা । এবার তো তোমার পালা । তা আবার কবে আসছি চোধুরী বাড়িতে ? যদি এখন থেকে জানতে পারি , তাহলে সুবিধা হতো আরকি !
রাফি উত্তরে থমকায় । ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দৃষ্টি নামিয়ে নেয় । রাশেদ রায়হান চৌধুরী খানিক হাসলেন । হালিমা বেগম বলে উঠলেন পাশ থেকে….
“ এখনো তো মিহি আছে , তা ভাইজান – আগে মিহি না রাফি ? মানে , ঘরে একটা বউ এনে তারপর মিহির বিয়ে দিলে হয় না ! রুহিও চলে গেল , এবার মিহি চলে গেলে বাড়িটা পুরো ফাঁকা হয়ে যাবে ।
রাশেদ রায়হান চৌধুরী প্রসঙ্গ পাল্টে বললেন ছেলের উদ্দেশ্যে….
“ তুমি কি বেরোবে এখন ?
“ জ্বি আব্বু ! ও বাড়িতে যাবো এখন । কিছু বলার ছিলো ?
“ হুম ।
ফিরে এসো , তারপর বলবো ।
“ আচ্ছা ।
রাফি পা সরাতেই আবার ডাকলেন রাশেদ রায়হান চৌধুরী…
“ রাফি ?
“ জ্বি আব্বু !
“ মিহি কেও নিয়ে যেও সাথে করে ।
“ হুম নিয়ে যাবো ।
উপরে উঠলো রাফি । মিহি কান খাড়া শুনলো সব কথা গুলো । অতঃপর তড়িঘড়ি করে খাওয়া শেষ করলো । মিরা বাড়িতে ফিরবে এক্ষুনি । মিহি উপরে উঠে তৈরি হয়ে নিলো ঝটপট । রাফি এর মধ্যেই তৈরি । বারবার পায়চারি করছে ঘরের দরজার সামনে । মিরাও তৈরি । ও বেরোবে মিহি আর রাফির সাথে । কাল বেকার বেকার এ বাড়িতে থাকতে গেলো , কাল ফিরলেই হতো । বারবার আফসোস করছে মিরা । মিহি তৈরি হয়ে দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরোলো । পেছন পেছন মিরা । ইভান ফের ঘুমিয়েছে । ওকে আর ডাকে নি রাফি । ঘরের দরজার সম্মুখে মিহির মুখোমুখি হলো রাফি । অমনি হাসলো মিহি । বললো তাড়া দিয়ে..
“ চলুন , আমি রেডি ।
মিরা কে দেখে কপাল কুঁচকে শুধোয় রাফি…
“ ও কোথায় যাবে ?
“ যাওয়ার পথে ওকে বাড়িতে নামিয়ে দেবেন । চলুন এখন দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
মিহি এক মুহুর্ত দাঁড়ালো না । তর সইছে না ওর । বাড়ি থেকে মিহির পিছু পিছু বেরোলো মিরা । গেটের বাইরে বেরোলো ওরা । রাফি গাড়ি নিয়ে বাইরে বেরোতেই মিহি মিরা কে বললো…
“ পেছনে ওঠ তুই ।
মিরা দরজা খোলার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াতেই রাফি থামালো…
“ দাঁড়াও ।
থামলো মিরা । মিহি ভ্রু উঁচিয়ে শুধালো…
“ কি হলো ?
রাফি উত্তর না করে কালো চশমার গ্লাস ভেদ করে মিরার দিকে তাকিয়ে বলল হাতের ইশারা করে….
“ ঐ যে রিকশা টা দেখছো , ওটাতে যাও । টাকা দেওয়া আছে । তোমাকে সহি সালামতে বাড়িতে পৌঁছে দেবে । আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে । তোমাকে সাথে নিলে সময় নষ্ট হবে । তার চেয়ে তুমি রিকশায় যাও । সমস্যা হবে না তো ?
রাফির সোজাসুজি কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খায় মিরা । থতমত স্বরে বিড়বিড় করে….
“ হ্যাঁ , না ….
“ হ্যাঁ নাকি না ? সমস্যা আছে ?
“ না , নেই ।
“ তাহলে যাও ।
মিহি , ওঠো গাড়িতে ।
মিহি মিরার দিকে তাকায় । বলে নরম কন্ঠে…
“ যেতে পারবি ?
“ হুম । তোরা যা…
মিহি কথা না বাড়িয়ে দরজা খুলে তড়িতে উঠে বসলো গাড়ির ফ্রন্ট সিটে ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছালো ওরা । এখন ঘড়ির কাঁটা এগারো টা ছুঁই ছুঁই করছে । রাফির আগে গাড়ি থেকে নেমে এক ছুটে বাড়িতে ঢুকলো মিহি । শান্ত দের বাড়িতে তেমন আত্মীয় নেই । মোটামুটি ফাঁকাই বলা চলে । ড্রইং রুমে গুটি কয়েক মানুষ । সোফায় বসে সকলে । কিচেনে রান্নার আয়োজন চলছে । আফসানা বেগম কিচেনেই আছেন । মিহি বাড়িতে ঢুকেই উঁচু গলায় ডাকলো….
“ ফুপি ?
কিচেন থেকে বেরিয়ে আসলেন আফসানা বেগম । মিহি কে দেখে এক চিলতে হেসে বললেন…
“ আরে মিহি । এসেছিস , রুহি কখন থেকে তোর কথা বলছিলো । ওর কাছে যা আগে । পাগল হয়ে যাচ্ছে মেয়েটা । একটু আগে ফোন করেছিল বাড়িতে , যেই শুনেছে তোরা আসছিস । সেই পাগলামো বেড়েছে ওর ।
“ রুহি কোথায় ফুপি ?
“ ঘরেই আছে , যা !
“ ভাইয়া ?
পাশ থেকে একজন চাপা গলায় মশকরা করলো…
“ কে , শান্ত ?
ও তো ঘরেই আছে । সকাল থেকে ঘর হতে বেরোয় নি । নতুন বিয়ে করেছে , বউয়ের আঁচলের তলায় লুকিয়ে আছে লজ্জায় । যাও , যাও,দেখে এসো ।
মিহি ছুটলো সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে । এখানে কেউই মিহি সম্পর্কে অবগত নন । কপাল কুঁচকে এতক্ষণ সবাই তাকিয়ে দেখলো মিহি কে । ও চলে যেতেই এক ভদ্র মহিলা বলে উঠলেন আফসানা বেগম কে উদ্দেশ্য করে ….
“ মেয়েটা কে ভাবি ? আগে তো দেখি নি । বিয়ের দিন ও দেখলাম আর আজও ।
আফসানা বেগম উত্তর করলেন স্বাভাবিক ভাবেই…
“ আমার মেঝো ভাইয়ার মেয়ে ।
“ মানে ?
যিনি মারা গেছেন তার মেয়ে ? কিন্তু তার মেয়ে তো বড় । আর ওকে তো চিনি । মেহজাবিন না কি নাম ? দেখেছি ওকে অনেক বার ।
“ হুম । মেহজাবিন বড় । আর ও মিহি । আমার মেঝো ভাইয়ার ছোট মেয়ে ।
“ ও আচ্ছা । ভারী মিষ্টি মেয়ে । তবে মেহজাবিন আর রুহির তুলনায় গায়ের রং একটু চাপা ।
রাফি ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে কথা টুকু শুনলো । অমনি কপাল কুঁচকে ফেললো ও । থমকে দাঁড়িয়ে এক রাশ বিরক্তি নিয়ে দাঁত পিষলো ।
আফসানা বেগম রাফি কে দেখে এদিক থেকে মন সরালেন । শীতল হেসে বললেন…
“ রাফি , বাবা ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো ? ভেতরে আয় ।
রাফি এসে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকালো । রুহি নেই । মিহিও না । রাফি গাড়ি পার্ক করে ভেতরে আসতে আসতে উপরে উঠে গেছে ও । ড্রইং রুমে এসবের ভিড় থেকে আফসানা বেগম রাফিকে পাশের রুমে যেতে বললেন ।
“ তুই পাশের রুমে যা । আমি জুস দিচ্ছি ।
রাফি কথা মতো পাশের রুমের দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে পকেট থেকে ফোন বের করলো । কল লাগালো শান্তর নাম্বারে ।
এদিকে মিহি হাঁসফাঁস করে দরজায় নক করলো । ওপাশ থেকে দরজা খুলছে না কেউ । মিহি গলা উঁচিয়ে ডাকলো এবার…
“ ভাইয়া,ভাবি .. দরজা টা খুলবে এবার ?
এই সকাল বেলা দরজা লাগিয়ে কি করছো তোমরা ? ভাইয়া…?
এবার খট করে দরজা খুললো । রুহি দরজা খুলেই হুড়মুড়িয়ে জড়িয়ে ধরলো মিহি কে ।
“ পাখিইইই , জান আমার । কেমন আছিস ?
হেসে ফেললো মিহি । শক্ত করে রুহি কে জড়িয়ে ধরে বললো…
“ আমি ভালো আছি ভাবি জান । এমন ভাবে জিজ্ঞেস করছিস যেনো কত বছর পর দেখলি আমায় ।
রুহি মিহি কে ছাড়লো । ঘরে ঢুকলো ওরা । শান্ত খাটের উপর শুয়ে পায়ের উপর পা তুলে নাচাচ্ছে । পড়নে একখানা লুঙ্গি আর সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি । মিহি ওকে দেখেই ফিক করে হেসে উঠলো মুখ চেপে । শান্ত মিহি কে দেখা মাত্রই লাফিয়ে উঠে বসলো…
“ আরে শালিকা যে ? কি খবর শালিকা ? কেমন আছো ?
“ আমি ভালো আছি ভাইয়া । তুমি ?
শান্ত লাজুক ভঙ্গিতে বলে…
এক দেখায় পর্ব ৬১
“ আমি ভালো না থেকে যাবো কই ? আমারি তো সবে ভালো থাকার দিন ।
মিহি মিটিমিটি হাসছে । রুহির পড়নে নতুন শাড়ি । সকালেই পড়েছে এটা । মাথায় আঁচল টেনে রাখা ছিলো এতক্ষণ । এখন পড়ে গেছে মাথা থেকে । অদ্ভুত সুন্দর লাগছে রুহিকে । বউ বউ আভা চেহারায় । দারুন মিষ্টি লাগছে । নজর আটকাচ্ছে । তবে এতো সৌন্দর্য দেখেও পেট ফেটে হাসি আসছে মিহির । ও কোনো রকমে ঠোঁট কামড়ে হাসি আটকে রেখেছে ।
