এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৫
সুহাসিনী
প্রেম পার্টি অফিসে নিজের বরাদ্দ রুমের এক পাশ থেকে আরেকপাশ শুধু পায়চারি করছে। আর রাগে গজগজ করতে করতে বলছে,
“ওই ৫ ফুট ২ ইঞ্চির বাচ্চার এত বড় সাহস আমাকে অস্বীকার করে। এই প্রেমকে স্বীকার করে। কলিজা ছিড়ে ফেলবো একদম।আমার অবাধ্য হয় কত বড়ো কলিজা ওর দেখব আমি।”
একা একাই বিড়বিড় করছে এসব। অফিসে আসার পর এখনও কোনো কিছুতে মন বসাতে পারেনি তখনকার ঘটনা মনে করে।
কিছুক্ষণ পর লিয়ন রুমে আসলো,প্রেমকে পাইকারি করতে দেখে বলল,
“কি হয়েছে ভাই?আমাদের তো সংসদে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। চলুন”
“তোর সংসদের মায়রে বাপ। বালের সংসদ ফংসদে যাবো না আমি।গাড়ি বের করে স্কুলে যাবো ।”
“ভাই আপনি এই বয়সে আবার স্কুলে ভর্তি হবেন কেনো?আপনি তো এখন এমপি হয়ে গেছেন। আপনার কি স্মৃতি চলে গেলো নাকি ভাই।”
লিয়নের এমন বোকা কথায় প্রেম আবার চটে গেলো।রাগ গিরগির করতে করতে বলল,
“সর সামনে থেকে বা*ইনচুদ।তোর পাছায় আগুন জ্বালিয়ে দিবো আর একটা কথা বললে।আমি আমার বউয়ের কাছে যাবো।”
“ভাবি তো এখন স্কুলে,এখনো তো স্কুল ছুটি হয়নি।”
“ছুটি হয়নি হবে।এখনই স্কুলে কল দিয়ে বল স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে।যা যা বলা লাগে স্কুল ছুটি হওয়ার জন্য তাই বল।আমি গেলাম।”
প্রেম চলে গেলো।লিয়ন হাবার মতো তাকিয়ে আছে।নিজে নিজেই বললো,
“শালা সবার সামনে বউকে শিকার করবে না আবার কিছু হলেই আমার বউ বউ করে লাফাবে। আস্তো ক্যাঙ্গারু।”
লিয়ন স্কুলে কল দিয়ে সব ব্যবস্থা করে দিলো।তারপর সংসদে চলে গেলো সেদিকটা সামাল দিতে।
রাহির স্কুল ছুটি হয়ে গেছে।গেটের বাইরে এসে দেখলো তার জন্য কোনো গাড়ি আসেনি।আসবেই বা কেনো,এখন তো স্কুল ছুটি হওয়ার কথা ছিল না।
রাহি বিরক্ত হয়ে সামনে হাঁটা ধরলো।তার পক্ষে এখন এখানে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব না। সে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার মেয়ে না।
রাহি হাঁটছে।সে অনেকক্ষণ যাবৎ লক্ষ্য করছে তার পিছু পিছু একটা ছেলে তাকে ফলো করছে।রাহি এবার পিছু ফিরে ছেলেটাকে বললো,
“কে ভাই আপনি? গু খেতে আমার পিছন পিছন আসছেন কেনো?”
“এতো সুন্দর মেয়ের মুখের ভাষা এতো খারাপ হয় কীভাবে। যাই হোক,চলো না একটু পার্কে ঘুরে আসি।”
“ওই বেটা তোর তো সাহস আছে বলতে হবে।একজন এমপির বউকে তুই পার্কের লোভ দেখাচ্ছিস।তোর কি আমাকে বাচ্চা মনে হয়।তোর মতো কাইল্লার সাথে আমি যাবো পার্কে?”
ছেলেটা গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“তোমার মতো বাচ্চার বিয়ে হয়ে গেছে তাও আবার কোনো এমপির সাথে হাসালে সুন্দরী।আমি কিন্তু দেখতেই শুধু কালো,তোমার সবকিছু যেমন সাদা আমার মনটাও তেমন সাদা।”
বলেই ছেলেটা কেমন কুৎসিত হাসলো।রাহিকে বাচ্চা বলায় সে রেগে যায়,সাথে বাজে মন্তব্য করায় রাস্তা থেকে একটা ইটের টুকরো তুলে ছেলেটার ঠিক গোপনাঙ্গ বরাবর মারে।
ঢিলটা একদম সঠিক জায়গায় লাগাতে ছেলেটা ব্যথায় কুকিয়ে যায়।রাহি শক্ত কণ্ঠে বললো,
“কিরে এখনও কি আমাকে বাচ্চা মনে হচ্ছে?বাচ্চারা বুঝি এমন ভাবে মারতে পারে।”
“এই মেয়ে দাড়া তুই ।আজকে তোর খবর আছে।”
বলেই ছেলেটা রাহিকে ধরতে যায়।কিন্তু রাহি তার আগেই আর একটা ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারে।এবারের ঢিলটা গিয়ে লাগে ছেলেটার মাথায়।সঙ্গে সঙ্গে মাথা ফেটে রক্ত বের হয়ে আসে। রাস্তায় কিছু লোক এগিয়ে আসে এদিকে।
রাহিকে জিজ্ঞেস করলে রাহি সব বলে।তারপর ছেলেটাকে ব্যান্ডেজ করে পুলিশে দেওয়া হয়।
রাহি এসবে বেশি পাত্তা না দিয়ে সামনে হাটতে থাকে।
প্রেম জ্যামে আটকে গেছিল।রাহিকে একা হাঁটতে দেখে গাড়ি দার করিয়ে মাস্ক পরে নেমে আসে।
প্রেমকে এখানে দেখে রাহির ভ্রু কুঁচকে যায় আবার কিছুটা ভয়ও পাচ্ছে।যদি ওই ছেলেটার সাথে ঝামেলার কথা জেনে যায় তাহলে তো তার হবে।
প্রেম রাহির কাছে এগিয়ে এসে তাকে কোনো কথা বলতে না দিয়ে কোলে তুলে গাড়িতে ছুঁড়ে মারে এক প্রকার।রাহি কিছু বলল না।কোলে উঠতে তার ভালোই লাগলো।
প্রেম গাড়ি স্টার্ট দিয়ে রাহিকে কাঠ কাঠ গলায় বলল,
“একা বেরোতে না করেছিলাম। বের হলে কেনো?আমার অবাধ্য না হলে শান্তি লাগে না তোমার?”
“না লাগে না।আপনি যেমন আমাকে কষ্ট না দিয়ে থাকতে পারেন না তেমন আমিও আপনার অবাধ্য হয়ে থাকতে পারি না।”
“আমার তর্ক পছন্দ না ।”
“তো আমি কি করবো?মুখে টেপ লাগিয়ে বসে থাকবো?”
প্রেম প্রতিউত্তরে কিছু বলল না।শুধু তপ্ত একটা নিঃশ্বাস ফেললো।
কিছুক্ষণ পর বাড়ির সামনে এসে রাহিকে নামিয়ে দিয়ে বলল,
“আমি সংসদে যাচ্ছি, সন্ধ্যায় রেডি থেকো একটা পার্টিতে নিয়ে যাবো তোমাকে।”
রাহি খুশি হয়ে যায়।কিছু বলতে যাবে তখন তার চোখ পড়ে দোতলায় বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তাদের দেখতে থাকা আশার দিকে।আশাকে দেখে রাহি একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে প্রেমের গালে টুপ করে চুমু খেলো যা আশার চোখ এড়ালো না।রাহি প্রেমকে বললো,
“আপনাকে যতটা খারাপ ভেবেছিলাম আপনি ততটা খারাপ না এমপি সাহেব।আমি সময় মতো তৈরি হয়ে থাকবো।”
রাহি চলে গেলো।গাড়িতে রেখে গেলো অনুভূতি শূন্য হয়ে পাথরের মতো বসে থাকা প্রেমকে। রাহির এমন স্পর্শে প্রেম কেমন যেন হয়ে গেছে।অন্য দুনিয়ায় হারিয়ে গেছে।
কিছুক্ষণ পর প্রেমের ধ্যান ভাঙে শান্তর ডাকে,
“এভাবে পাথর হয়ে আছিস কেনো ভাই আমার?”
“নাথিং”
প্রেম গাড়ি স্টার্ট দিল।তৎক্ষণাৎ শান্ত গাড়িতে উঠে বসলো।প্রেম ভ্রু কুচকে তাকালে বোকার মতো হেঁসে বললো,
“একটু নামিয়ে দে না ভাই আমার।এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে শালার পেন্টের জন্য।”
প্রেম আর কথা বাড়ালো না।
বিকাল পাঁচটা,এখনো সন্ধ্যা নামেনি।
রাহি সুন্দর করে সেজে রেডি হয়ে গেছে। পরণে লাল বর্ণের গাউন।মাথায় সুন্দর করে হিজাব বাধা ।ঠোঁটে হালকা করে লিপস্টিক আর চোখে হালকা কাজল।এর বাইরে তেমন কোনো সাজ নেই।এতেই যেনো রাহিকে সদ্য ফুটে উঠা গোলাপের মতো লাগছে।
আয়েশা এসেছে রাহিকে রুমে।রাহিকে দেখে মাসাআল্লাহ্ না বলে থাকতে পারল না।
“তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে রাহি।আমি নিজেই তো চোখ সরাতে পারছি না তাহলে ভাবো আমার ভাইয়ার কি হবে।”
লজ্জায় রাহির গাল দুটো আরও লাল হয়ে গেলো।
প্রেম তাদের কথার মাঝেই রুমে ঢুকলো। রাহিকে দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলো।চোখের পলক পড়ছে না।
আয়েশা প্রেমের অবস্থা দেখে হেসে গলা খাকরি দিয়ে বলল,
“আমাকে সাইট দাও ভাইয়া।আমি কাবাবের হাড্ডি হতে চাই না।”
কারো কথা যেনো প্রেমের কান দিয়ে ঢুকছে না।ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আয়েশা মুচকি হেসে সাইট কাটিয়ে চলে গেলো।
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৪
রাহি তখন থেকে মাথা নিচু করেছে তো করেছেই তোলার নামই নেই।সে সচরাচর এতো লজ্জা পাই না কিন্তু আজ কেনো যেন প্রেমের চোখে চোখ রাখতে তার খুবই অস্বস্তি হচ্ছে।
প্রেমের ফোনে লিয়ন অনবরত কল দিয়ে যাচ্ছে।ফোনের আওয়াজে প্রেমের ধ্যান ভাঙ্গে।প্রেম লিয়নকে পরে ফোন করছি বলে ওয়াশরুমে রেডি হতে চলে গেলো।
দশ মিনিটে রেডি হয়ে বেরিয়ে আসলো প্রেম।সে পড়েছে কালো শার্ট, প্যান্ট।কালো শার্টের উপর কালো কোর্ট। পুরাই জেন্টলম্যান। ফর্সা গায়ে কালো রং জ্বলজ্বল করছে।
রাহি প্রেমকে দেখে জোরেই বলে উঠলো,
“মাশাআল্লাহ,আমার জামাই এতো সুন্দর, হাইইই।”
প্রেম কেমন নাক ছিটকালো।
