Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৬

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৬

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৬
সুহাসিনী

রাহি:”যত্তোসব ঢং”
মুখ বাকালো রাহি। রাহির কথায় পাত্তা না দিয়ে প্রেম গম্ভীর স্বরে বলল,
“একটু পর অন্ধকার হয়ে যাবে,তাড়াতাড়ি চলো।”
“অন্ধকার হলে কি হয়েছে,আপনি কি অন্ধকারে চোখে দেখেন না?”
“সোজা কথা তোমার মুখ দিয়ে বের হয়না না?”
“নাহ্ হয় না, কোনো সমস্যা?”
“আর একটা বাড়তি কথা বললে এখনি ফেলে চলে যাবো”
“আচ্ছা আর কথা বলব না, চলুন।”
তারা চলে গেলো।আশা আড়ালে দাঁড়িয়ে তাদের দুজনের চলে যাওয়া দেখলো।

প্রেম সাথে করে কোনো গার্ড আনেনি।নিজেই ড্রাইভ করে এসেছে।প্রেম একটা খালি রাস্তায় বড় একটা রককাঞ্চন ফুল গাছের কাছে গাড়ি দার করালো।রাহি ভ্রু কুঁচকে বললো,
“আপনার পার্টি কি তবে এই গাছের উপরে বা নীচে হবে এমপি সাহেব?”
প্রেম চোখ গরম করে তাকাতেই রাহি বললো,
“আসলে এখানে কোনো মানুষ দেখছি না তো আবার তেমন কোনো ঘরবাড়িও নেই।আচ্ছা আর কথা বলব না।”
রাহি ঠোঁটে আঙুল ধরলো। প্রেম কপালের এক পাশ স্লাইড করতে করতে শান্ত কণ্ঠে বললো,
“যাও ওই গাছের নিচে গিয়ে সুন্দর করে দাঁড়াও ফটো তুলবো।”
রাহির চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।এই লোক তার ফটো তুলে দিতে চাচ্ছে নিজে থেকে এটা যেনো সে কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না।সে প্রেমের কপালে হাত রাখতে চাইলেও কিন্তু খাটো হওয়ায় পারল না। চিন্তিত কণ্ঠে বললো,

“আপনার কি জ্বর এসেছে নাকি? আসুন তো দেখি।”
“চুপচাপ যেটা বলেছি সেটা করো।নয়তো সকালের ঘটনার শাস্তি হিসাবে এখানে এই সন্ধ্যার আগে আগে ফেলে চলে যাবো।”
রাহি ভয়ে বললো,
“এই না না,যাচ্ছি।”
রাহি গিয়ে গাছের নিচে দাঁড়ালো।গাছের ডাল রাহির কাধ পর্যন্ত ঝুলে আছে ।রাহি সেটা নিয়েই অনেক সুন্দর সুন্দর কয়েকটা পোজ দিলো।প্রেমও ফটাফট ক্লিক করলো।
ছবি তোলা শেষে প্রেম রাহির কাছে এগিয়ে গিয়ে গাছের ডাল থেকে একটা রক্ত কাঞ্চন তুলে নিয়ে রাহির হিজাবের উপর দিয়েই কানের কাছে আটকে দিলো।রাহি মাথা নিচু করে ফেললো।সে যতটা আনরোমান্টিক ভেবেছিল তার এমপি সাহেবকে তিনি ততটাও না।
এরপর রাহিকে কোলে তুলে গাড়িতে বসিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল।

গাড়ি এসে থামলো একটা ডুপ্লেক্স বাড়ির সামনে।প্রেম গাড়ি থেকে নেমে রাহির দিকের দরজা খুলে দিলো।রাহি আজকে প্রেমকে যত দেখছে তত অবাক হচ্ছে।
রাহি গাড়ি থেকে নেমে প্রেমের পিছু পিছু ভেতরে ঢুকল। বাড়ির ড্রয়িং রুমটা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।
রাহি চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে সবকিছু।ভেতরে প্রেমের বয়সী অনেক ছেলে মেয়ে রয়েছে।প্রেমকে দেখে কিছু ছেলে এগিয়ে এসে হাগ করলো, অনেকে আবার এসে হাত মিলালো। কিছু মেয়ে এসেও প্রেমের সাথে হেসে কুশল বিনিময় করলো।এই ব্যাপারটি রাহি ঠিক হজম করতে পারলো না।মনে মনে কিছুটা রাগ হলো।
মেয়ে গুলো এসে কথা বলেছে এটাতে তার কোনো সমস্যা নেই কিন্তু প্রেম কেনো ওই মেয়েগুলোর সাথে হেসে ঢলাঢলি করে কথা বলবে।রাগে রাহি নিজের নাকের ডগায় পরপর দুবার আঙুল চালালো।
দুটো মেয়ে এসে রাহিকে বললো,

“হাই কিউটি,নামকি তোমার?তোমাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না?কার সাথে এসেছো?”
রাহি কি বলবে বুঝতে পারছে না।এমনিতেই অপরিচিত জায়গা,তার উপর অপরিচিত দের থেকে এমন প্রশ্ন। রাহি কিছুটা থতমত খেয়ে গেলো।মাথা নিচু করে নরম স্বরে বলল,
“জ্বি আমার নাম রুনাইছা রাহি।”
“অনেক সুন্দর নাম তোমার কিউটি গার্ল।কার সাথে এসেছো বললে না তো।”
রাহি কিছু বলার আগেই পেছন থেকে প্রেম গম্ভীর স্বরে বলল,
“ও আমার গেস্ট।”
মেয়ে দুটোর মধ্যে থেকে একজন প্রেমকে বলল,
“ওহ্,রাহি কে হয় তোমার?”
রাহি নিশ্চুপ।মনের ভেতরে ঝড় চলছে।সে জানে প্রেম কোনভাবেই সবার সামনে স্বীকার করবে না যে সে প্রেমের বউ।এতে প্রেমের ক্যারিয়ারের ঝুঁকি আছে।রাহির চাই না তার জন্য প্রেমের কোনো ক্ষতি হোক।
প্রেম বললো,

“ও আমার কাজিন।”
আর কেউ কিছু বলল না।প্রেম কিছুক্ষণ থেমে আবার বলল,
“ওকে তোমাদের সাথে নিয়ে যাও।আমার সাথে থেকে এনজয় করতে পারবে না।তবে সাবধান ওর যেনো কোনো অসুবিধে না হয়।”
মেয়ে দুটো রাহিকে নিয়ে অন্য দিকে চলে গেলো।তাদের মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে রাহিকে তাদের পছন্দ হয়েছে।হবেই না কেনো,এমন একটি পুতুলের মতো মিষ্টি মেয়েকে যে কেউ পছন্দ করবে।
রাহিও এতক্ষনে প্রেমের ব্যাচমেট দের সাথে মিশে গেছে।এটা ছিল প্রেমের কলেজের একটা রিইউনিয়ন পার্টি।
রাহি দাঁড়িয়ে মেয়েগুলোর সাথে হেসে হেসে কথা বলছিল।তার তো খেয়ালই নেই যে দু জোড়া চোখ এক কোণে দাঁড়িয়ে তার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
হঠাৎ পেছন থেকে পুরুষালি কণ্ঠ রাহিকে ডাকে,

“আরে রাহি,তুমি এখানে?কার সাথে এসেছো? প্রেম নিয়ে এসেছে?”
রাহি পেছনে ঘোরে দেখে শান্ত। রাহি হেসে জবাব দেয়,
“হুমম ভাইয়া, উনার সাথেই এসেছি।”
শান্ত আর কিছু বলল না।সেও জানে প্রেমের বিয়ের বিষয়টা বাইরে রিভিল করা নিষেধ।
শান্তর সাথে আরেকজন ছেলেও ছিল।সে শান্তকে ফিসফিস করে বলল,
“ভাই এই ডলটা কে?প্রেমের কি হয়?”
শান্ত কি বলবে বুঝল না।রাহি ছেলেটার কথা শুনতে পেয়ে মুচকি হেঁসে জবাব দিলো,
“আমি উনার কাজিন হয় ভাইয়া।”

আর কিছু বলল না।প্রেম কেমন চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে রাহির দিকে। রাহিও চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্রেমকে খুঁজছে।রাহি প্রেমকে পেয়েও যায়। প্রেমকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু নাচায় রাহি।
প্রেম চোখ নামিয়ে নিয়ে লম্বা একটা নিঃশ্বাস ফেললো। তখনই একটা মেয়ে কোথা থেকে এসে জাপটে ধরলো প্রেমকে।প্রেম মুহূর্তেই হকচকিয়ে গেলো।রাহি চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে। কান গরম হয়ে গেছে তার,মনে হচ্ছে কান দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে।
মেয়েটা ন্যাকি স্বরে বলল,
“কেমন আছো প্রেম?কতদিন ধরে সামনাসামনি দেখি না তোমাকে। জানো প্রতিদিন আমি টিভির সামনে বসে অপেক্ষা করি কখনও তোমাকে নিউজ এ দেখাবে।”
প্রেম উত্তর দিবে তো দুর মেয়েটাকে এক হ্যাঁচকা টানে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ধাক্কা মারল।সে এমন ভাব করছে যেনো তার শরীরে কেউ নর্দমার ময়লা ঢেলে দিয়েছে।
মেয়েটার নাম মুনমুন।মেয়েটা কলেজ থেকেই প্রেমকে পছন্দ করত কিন্তু প্রেম পাত্তা দিত না।মেয়েটার খুব গায়ে পড়া স্বভাব।
প্রেম শক্ত কণ্ঠে বললো,

“বিহেভ ইউর সেলফ মুনমুন।তোমাকে আগেও সাবধান করেছি এখনো করছি আমার থেকে দূরে থাকো, এতে তোমারই লাভ।”
প্রেম অন্যদিকে চলে গেলো।রাহি ভেতরে ভেতরে রাগে গজগজ করছে।কিন্তু কাউকে বুঝতে দিচ্ছে না।রাহি তার সাথে থাকা মেয়েদের বললো,
“অপুরা তোমরা থাকো আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসছি।”
একটা মেয়ে বললো,
“আমি তোমার সাথে যায় চলো। একা একা তো চিনবে না।”
“সমস্যা নেই,আমি পারব।আমার জন্য তোমরা মজা করা বন্ধ করো না প্লীজ।এতে আমার খুব খারাপ লাগবে।আমি যাবো আর আসব।”
রাহি চলে গেলো।কেউ আর কিছু বলল না।সবাই নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলো।রাহি মুনমুন এর কাছে গিয়ে সুন্দর করে ফিসফিস করে বলল,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৫

“আপু আপনাকে প্রেম ভাই ডাকছে।উনি ওই দিকটার একটা রুমে আছে।একা যেতে বলেছে।কেউ যেন জানতে না পারে।”
মুনমুন খুশি হয়ে গেলো। কোনো কিছু না ভেবেই ছুটলো প্রেমের খোঁজে।রাহি কুটিল হেসে মনে মনে বললো,
“যাও বাছাধন যাও,তোমার প্রেম তোমাকে প্রেম দেওয়ার জন্য ওয়েট করছে।এবার বুঝবে কতো ধানে কতো চাল। আমার স্বামীকে টাচ্ করার জন্য উপহার তো তোমার প্রাপ্য মিস ডাইনি।”
সেও মুনমুনের পিছু পিছু গেলো।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৭