হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২২
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়ে উঠা আলিশান মির্জা ভবনের সামনে এসে বাইক থামল কৃশানের। বাইক থামতেই কৃশানের দুকাঁধ আকড়ে ধরে রাখা হুমায়রার হাত জোড়া আলগা হলো। সাবধানতা বজায় রেখে নেমে দাঁড়াল সে। পরপর কৃশানও বাইক স্ট্যান্ড করে সামনে হাঁটা ধরল। পিছন পিছন ধীর পায়ে চলল হুমায়রা।
বাড়ির মূল ফটকে কৃশানের পা পড়তেই ভিতর থেকে ভেসে আসলো ইয়াসমিন বেগমের কণ্ঠ,
“ সারারাত কোথায় ছিলি তুই? নেশার সাথে সাথে এখন কি আবার বাইরে রাত….”
“ আসসালামু-আলাইকুম আম্মু। ”
পিছন থেকে চেনা জানা মিষ্টি কণ্ঠের সালাম কর্নপাত হতেই থেমে গেলেন ইয়াসমিন বেগম। হুমায়রাকে দেখতেই মুখে হাসি ফুটলো তার। কণ্ঠে খানেক বিস্ময় নিয়ে সালামের উত্তর করলেন,
“ ওয়ালাইকুম আসসালাম, তুমি কখন এলে? আর কার সাথে আসলে..? ”
“ এই মাত্রই এলাম। আপনার ছেলের সাথেই এসেছি। ”
অবিশ্বাস্য চোখে ছেলের পানে চাইলেন ভদ্রমহিলা। ততক্ষণে কৃশান নিজের রুমের কাছে চলে গেছে। তিনি সন্দিহান কণ্ঠে জানতে চাইলেন,
“ ও কি কাল তোমাদের বাসায় ছিল? ”
“ জ্বি। ”
“ ওহ সেটা বলে দিলেই তো হতো। টাকার কথা ছাড়া মুখ দিয়ে আর কোনো কথাই বের হয় না নবাবজাদার! ”
উত্তরে কিছু বলল না হুমায়রা। পা বাড়াল রুমের উদ্দেশ্যে।
রুমে প্রবেশ মাত্রই দেখতে পেলো কৃশান উবর হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে। নিঃশব্দে এগিয়ে এসে বোরকা আর হিজাব খুলে নির্ধারিত স্থানে রাখল। পরপর রুম ছেড়ে বেরহুমায়রার সে।
ভ্যাপসা গরমে গা জ্বালা করার মতো অবস্থা। রাস্তাঘাট যেন সদ্য আগুনে পোড়া লোহার পাত! খালি পায়ে কারও সেথায় পা রাখার সহুমায়রার
ভার্সিটির গেট থেকে বেরিয়ে রাস্তার কাঠফাটা রোদে এসে দাঁড়াল চার বন্ধু। আজকে সকালের আড্ডায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি কৃশান। ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে। যার দরুণ ঠিকটাইমে ক্লাসেই উপস্থিত হতে পারেনি সে।
ইদানিং কৃশানের এমন অনুপস্থিতিতে তার ওপর সন্দেহের পাল্লা ভারী হয়ে আসছে বাকি তিন বন্ধুর। পদে পদে সন্দেহের চোখে তাকে পরখ করছে তারা।
“ গতকাল এমন তাড়াহুড়া করে কোথায় গিয়েছিলি? ”
সাইফুলের প্রশ্নে কোনো ভাবাবেগ দেখা গেল না কৃশানের মাঝে। সে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল প্রশ্নটার জন্য। হাতে থাকা সিগারেটে একটা টান বসাল। উড়ন্ত ধোঁয়ায় পানে তাকিয়ে বলল,
“ গিয়েছিলাম একটা কাজে। ”
“ কি কাজ? ”
“ জানানোর মতো হলে জানিয়েই যেতাম। ”
চোখ ছোট ছোট করে তাকাল সকলে। রবি জানতে চাইল,
“ কি এমন কাজ যে আমাদের বলা যাবেনা! ”
“ পার্সোনাল, বেশি কথা বললে আজকে সবার চায়ের টাকা তুই দিবি। ”
ওমনিই চুপসে গেল ছেলেগুলো। না চাইতেও মুখ বন্ধ রাখতে হলো। পুরোটা রাস্তা আর এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন করল না কেউ। যে যার মতো অন্য প্রসঙ্গের কথা চালিয়েই বাসায় চলে গেলো।
আসরের নামাজ শেষ করে জায়নাজাম ছেড়ে উঠল হুমায়রা। নামাজঘর থেকে বেরোতেই দেখা মিলল ইকরার। মিনিট দুয়েক হবে সে নামাজ শেষ করে বেরিয়েছে। হুমায়রার অপেক্ষাতেই ছিল। ইকরার কোলে মিঠুকে দেখে প্রথমেই তাকে কোলে নিয়ে নিল হুমায়রা। পরপর নিত্যদিনের নিয়ম মাফিক দুই বান্ধবী মিলে হাঁটা দিল বাগানের উদ্দেশ্যে।
“ তা আজকে হঠাৎ নফল নামাজ আদায় করলি যে? দুপুরে দেখলাম।তোকে তো হাজার বলেও বাড়তি সালাত আদায় করানো যেত না! কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নাকি প্রাপ্তির খুশিতে সখি? ”
বাগানের গাছগুলোতে পানি দিতে দিতে ইকরার উদ্দেশ্যে হাসি মুখে প্রশ্ন ছুঁড়ল হুমায়রা। বাড়িতে আসার পর আজকে যোহরের ওয়াক্তের পর ইকরাকে নফল নামাজ আদায় করতে দেখেছে হুমায়রা। প্রতিদিন সবাই বের হয়ওয়ার পর একমাত্র হুমায়রাই নামাজঘরে উপস্থিত থাকত। তবে আজ সঙ্গি হিসেবে ইকরাকে পেয়েছে। এতে সে ভীষণ খুশি।
হুমায়রার প্রশ্ন শুনে কিঞ্চিৎ হাসলো ইকরা। বলল,
“ প্রাপ্তির খুশিতে রে সখি। ঐদিন নানু বাড়ি থেকে আসার সময় যখন উনাকে দেখেছিলাম সেদিনই আমি সৃষ্টিকর্তার নিকট তার মতো একজন স্বামী চেয়েছিলাম। আর দেখ বাড়িতে এসে জানতে পারলাম স্বয়ং তাকেই আল্লাহ তায়ালা আমার জন্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন! চিন্তা করা যায়? আমারতো আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করে মনই ভরছে না। ”
ভিতরের খুশি যেন ইকরার চোখে মুখেই উপচে পড়ছে। হাসি ঠোঁট থেকে সরছেই না মেয়েটার। বান্ধবীর পুলকিত চেহারার পানে চেয়ে মুচকি হাসল হুমায়রা। বলল,
“ সৃষ্টিকর্তার চিন্তা ধারা সর্বদাই আমাদের কল্পনার বাইরে এবং তা সর্বোত্তম। ”
“ তুই তো এখনও উনাকে দেখিসই নি! দেখবি? ”
“ তোমার ভালো পুরুষকে তুমিই মন ভরে দেখো প্রিয় সখি। আর আমি দেখবো আমার বখাটে স্বামীকে। ”
“ হায় রাব্বা, আমার বখাটে ভাইয়ার প্রেমে দেখছি একেবারে হাবুডুবু খাচ্ছ! তা কবে থেকে এতো গভীর প্রেম হলো? ”
দুষ্টু হাসি ঠোঁটে রেখে জানতে চাইল ইকরা। কথা বলার মাঝেই এক পা এক পা করে হুমায়রার দিক এগোতে লাগল। যেন সামনের রমণী একজন বড়ো আসামি, আর তাকে জেরা করতে নিজের পদক্ষেপ এগিয়ে নিচ্ছে সে। দৃশ্যটা লক্ষ্য করতেই চোখ ছোটো ছোটো হয়ে গেল হুমায়রার। অজান্তেই পেছাতে লাগল মেয়েটা। বলল,
“ কি আজব, এভাবে আমার দিকে এগোচ্ছিস কেন? আর আমার স্বামীকে আমি বিয়ের আগে থেকেই ভালোবাসি। কেবল তাকে নিজের পবিত্র ভালোবাসা দিব বলে কখনো কারও অপবিত্র অনুভূতিতে নিজেকে সামিল করিনি। ”
কথাগুলো ইকরা ঠিকমতো শুনেছে কিনা সন্দেহ। সেদিকে তার খেয়ালই নেই। সে তাকিয়ে আছে বাড়ির দরজা ঠেলে এগিয়ে আসা কৃশানের দিকে। মাথায় ঘুরছে অন্য ধান্দা। কৃশান তাদের কিছুটা কাছাকাছি আসতেই গলা খানেক উঁচিয়ে বলল,
“ কি বললি? আবার বল শুনতে পাইনি। ”
” বলেছি- কেবল তাকে নিজের পবিত্র ভালোবাসা দিব বলে কখনো কারও অপবিত্র অনুভূতিতে নিজেকে সামিল করিনি। আমি সবসময়ই তাকে ভালোবেসে এসেছি ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও তাকেই ভালোবেসে যাবো। ”
কিছুটা জোর গলায়ই উত্তর করল হুমায়রা। ইকরার কদমের সাথে তাল মিলিয়ে পেছাতে পেছাতে তার দিকে মুখ করে কথা বলছে সে। পিছনের কিছু দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। সহসা কারও শক্ত বুকে পিঠ ঠেকতেই থমকে গেল মেয়েটা। সাথে সাথেই চলন্ত কদম থামল। বুঝতে বাকি রইল না কার সাথে পিঠ ঠেকেছে তার। পরিচিত ব্যক্তিকে চিনতে মোটেও পিছু ফিরতে হলো না।
রাগী দৃষ্টিতে ইকরার দিক তাকাল হুমায়রা। মেয়েটা ইচ্ছে করে ঘটিয়েছে কান্ডটা। এইদিকে নিজের কাজে সফল হয়ে মুখ চেপে হাসছে ইকরা।
এর মাঝেই হুমায়রাকে উল্টো ঘুরিয়ে তার দিক ফেরাল কৃশান। তৎক্ষনাৎ মানুষটার কড়া কথা শুনার প্রস্তুতি নিল হুমায়রা।
” কাকে ভালোবাসিস তুই! ”
অপ্রত্যাশিত শব্দগুলো কর্ণপাত হতেই চমকাল হুমায়রা। চোখ তোলে তাকাল এক জোড়া কালো মণি বিশিষ্ট তীক্ষ্ণ চোখে। সেখানে স্পস্ট ভেসে উঠছে কঠোরতা। চিন্তায় পড়ে গেল মেয়েটা। মানুষটা তাহলে একটু আগের বলা কথাগুলো শুনে নিয়েছে! এখন কি উত্তর দেবে সে? বলে দিবে যে আপনাকে ভালোবাসার কথাই বলছিলাম? যেহেতু সামনের ব্যাক্তি তার স্বামী হয় সুতরাং বলাই যায়। তাই বলে তো এভাবে সরাসরি বলে দেয়া যায়না। আর এমনিতেও মানুষটা তাকে সহ্য করতে পারে কিনা এটাই সন্দেহ।
হুমায়রাকে কোনো উত্তর দিতে না দেখে রেগে গেল কৃশান। ধমকে বলল,
“ কিরে কথা বলছিস না কেন? ”
আবারও ভাবনার জগতে ডুব দিল রমণী। সময় নিয়ে উত্তর দিল,
” আছে একজন। ”
“ কি বললি? ”
কন্ঠ একেবারে শৃঙ্গে উঠে গেছে কৃশানের। পরপরই শুনতে পেল একই উত্তর,
“ আছে একজন।
বলেই ভোঁ দৌড় দিল মেয়েটা। চোখের পলক টাও ঠিকমতো ফেলতে পারেনি কৃশান। এর মাঝেই হুমায়রাকে পালাতে দেখে চেঁচিয়ে উঠল সে,
“ এই তোর সাহস তো কম না! আমার থেকে পালাচ্ছিস তুই? ”
হুমায়রার পিছু পিছু সেও ছুটল। তাদের কান্ড দেখে হেসে কুটিকুটি খাচ্ছে ইকরা। সামনের দৃশ্যর দিক এক ধ্যানে তাকিয়ে রইল। বিকেলের নেতিয়ে পড়া শুকনো ফুলগুলো মাটিতে বিছিয়ে আছে। আর সেই ফুলের উপর দিয়ে হাসতে হাসতে দৌড়াচ্ছে এক স্নিগ্ধ রমণী। পিছনে বড়ো বড়ো কদমে এগোচ্ছে তার রাগান্বিত স্বামী- হায় আল্লাহ, কি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য!
কৃশানের বড়ো বড়ো কদমের সাথে দৌঁড়ে কুলাতে পারছে না হুমায়রা। এই বুঝি মানুষটার হাতে পড়ে যাবে সে। পড়লে কপালে দুঃখ আছে নিশ্চিত। এর আগেই থামাতে হবে- ভেবেই হুমায়রা দৌড় থামিয়ে দিল। পিছনের তাকিয়ে সন্দিহান কণ্ঠে বলল,
“ আপনি কি জেলাস? ”
বাক্যটা কর্নপাত হতেই পদ যুগল থেমে গেল কৃশানের। কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে হাপাতে থাকা হুমায়রার দিক তাকিয়ে রইল। পরপর তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল,
“ জেলাস! তাও আমি? ভেরি ফানি! ”
“ তাহলে আমার ভালোবাসার মানুষ নিয়ে আপনার কি? আমি যে কাউকেই ভালোবাসতে পারি। ”
“ আমিও যে কাউকেই খু*ন করতে পারি। ”
বলতে বলতেই শার্টের হাতা গুটিয়ে হুমায়রার দিক এগোতে লাগল। ভিতরে ভিতরে কিছুটা ভয় পেলেও তা উপরের স্বাভাবিকতায় ঢেকে রাখল হুমায়রা। সাহস নিয়ে বলল,
“ আপনি যদি আমাকে কিছু করেন তাহলে আমি ভাববো আপনি জেলাস। ”
ভ্রু জোড়া বেঁকে গেলো কৃশানের। পূর্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করল সামনের রমণীকে। বলল,
“ বড্ডো কথা বলতে শিখে গেছিস? আমার সামনে অন্য কাউকে ভালোবাসার কথা বলিস! আবার লুকিয়েও রাখিস! তাড়াতাড়ি বল কাকে ভালোবাসিস নয়তো জান নিয়ে নিব তোর। ”
“ বলবি না সখি। ”
পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে দেখে এগিয়ে এলো ইকরা। পরপর কৃশানের উদ্দেশ্যে বলল,
“ তুমি যেহেতু জেলাসই না তাহলে এতকিছু জেনে তোমার লাভ কি? আগে স্বীকার করো তুমি জেলাস তাহলে বলবো। ”
“ যা বলা লাগবে না তোদের! তোর বান্ধবী যাকে ইচ্ছা তাকেই ভালোবাসুক তাতে আমার কি! ”
বলেই ধুপধাপ পায়ে স্থান ত্যাগ করতে উদ্যত হলো কৃশান। তার প্রস্থান পথে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইল ইকরা।
“ আস্ত একটা খচ্চর! জেলাসিতে জ্বলে যাবে তাও প্রকাশ করবে না। ”
ইকরার মুখ বাঁকানোর মধ্যেই কিছুদূর থেকে কৃশানের কন্ঠ ভেসে আসল। ইকরার নাম ধরে ডাকছে সে,
“ ইকরা.? ”
দুই বান্ধবী চোখ দেখাদেখি করল। ঘটনা কি? আবার কি হলো? তার ভাবনার মাঝেই আবারও ডাক শুনা গেল,
“ এই ইকরা একটু এদিকে আয় তো। ”
“ কেন কি হয়েছে? ”
“ একটা কথা শুনে যা তাড়াতাড়ি আয়! ”
তাড়াহুড়া কন্ঠ কৃশানের। অগ্যতা আসতে বাধ্য হলো মেয়েটা।
“ কি কথা? ”
“ আজকে তোর জামাইয়ের সম্পর্কে একটা সিক্রেট তথ্য পেলাম। আমি ভাবতেও পারিনি এমন হুজুর মানুষ হয়ে তোর জামাই এই কাজ করবে! ”
ভাইয়ের মুখে প্রিয় পুরুষকে নিয়ে এমন আর্তনাদ শুনে আঁতকে উঠল ইকরা। কণ্ঠ খাদে নামিয়ে জানতে চাইল,
“ কেন কি করেছে ভাইয়া! ”
ইকরার চেহারার পরিবর্তন বুঝতেই মনে মনে বাঁকা হাসল কৃশান। বোনের সিরিয়াস মুখ পানে চেয়ে চাপা স্বরে বলল,
“ আগে বল তোর বান্ধবী কাকে ভালোবাসে। ”
ভ্রু কুঁচকে ফেলল ইকরা। সন্দিহান কণ্ঠে বলল,
“ তুমি আমাকে মিথ্যা বলে বোকা বানানোর চেষ্টা করছো? ”
“ তোকে বোকা বানাতে হবে কেন? তুই তো আগেরই বোকা! নাহলে আমার কথা বিশ্বাস করতি। থাক দুদিন পর নিজেই প্রমাণ পাবি তখন বুঝবি। ”
বড়ো আফসোসের স্বরে কথাগুলো বলে চলে যেতে নিল কৃশান। ওমনিই পিছন থেকে আর্তনাদ করে উঠল ইকরা,
“ এই ভাইয়া দাঁড়াও, দয়া করে বলে যাও কথাটা! ”
ওপাশে মুখ করেই ঠোঁট চেপে হাসল কৃশান। সামনে ফিরল আগের মতো সিরিয়াস ভঙ্গিতে।
“ তাহলে বল তোর বান্ধবী কাকে ভালোবাসে? ”
মলিন মুখে কিছুক্ষণ চুপ মেরে রইল মেয়েটা। পরপর বাধ্য হয়েই বলল,
“ তোমার কথাই বলছিল অন্য কাউকে ভালোবাসে না ওঁ। ”
অন্তঃপুট যেন হালকা কেঁপে উঠল কৃশানের। থেমে থেমে বলল,
“ সত্যি বলছিস? ”
“ তো মিথ্যা কেন বলতে যাব? বুঝ হওয়ার পর কোনো ছেলের দিক ফিরেও তাকায়নি ওঁ। ”
পরপর কৃশান কে তাগদা দিয়ে বলল,
“ এখন বলো উনার ব্যাপারে কি তথ্য জেনেছো তুমি? ”
ইকরার মাঝে যতটা তাড়া ততটাই শান্ত দেখা যাচ্ছে কৃশান কে। সহসা ইকরার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠল,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২১
“ সিক্রেট তথ্যটা হলো- তোর স্বামী প্রতিদিন হাগু করে! ”
বলেই শব্দ করে হেসে উঠল কৃশান। এইদিকে ইকরার মুখটা একেবারে দেখার মতো হয়েছে। যে কেউ তার দিক তাকালে হাসতে বাধ্য হবে।
নিজের কাজ শেষ হতেই জায়গা থেকে কেটে পড়ল কৃশান। পিছন থেকে ইকরা রাগী স্বরে বলল,
“ শয়তান একটা! মিথ্যুক! ”
“ আমি কোনো মিথ্যা বলিনি যা বলেছি একেবারে চিরন্তন সত্য। বিয়ের পরেই প্রমাণ পাবি। ”
গেট পেড়িয়ে যেতে যেতেই চেঁচিয়ে বলল কৃশান। তার হাসিমুখটা দেখে গা জ্বলে উঠল ইকরার। দাঁত কটমট করতে লাগল সে।
