হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২১
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
গভীর রাতের অদ্ভূত নিস্তব্ধতা তখন ধরণীর প্রতিটি কোণকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। কোলাহল পূর্ণ পরিবেশ বিলীন হয়েছে নিদ্রারাজ্যে। চাঁদের ম্লান আলো ক্ষণে ক্ষণে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে জানালার পর্দা ভেদ করে। সহসা ঘুমের মধ্যে বুকের উপর এক জোড়া নরম হাতের উপস্থিতি টের পেলো কৃশান। কারও তপ্ত নিঃশ্বাসের তালে মৃদু মৃদু দোলে উঠছে তার বুকের ঘন লোমগুলো।
তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখজোড়া হালকা কুঞ্চিত হলো। নিভু নিভু চোখে চাইতেই নিজের সাথে আবিষ্কার করল গভীর ঘুমে তলিয়ে থাকা এক ঘুমন্ত পরীকে। তার বুকে মুখ গুঁজে বেশ আরামে ঘুমিয়ে আছে হুমায়রা। দুনিয়ার সব শান্তি যেন এখানেই খুঁজে নিয়েছে সে। ঘুমের ঘোরে তার হিজাব প্রায় খুলে গেছে। কপাল ও গলায় উড়ে উড়ে পড়া কগাছি অবাধ্য কেশরাশি যেন এক অন্যরকম মোহ সৃষ্টি করছে মেয়েটার মাঝে।
যেই মোহের মাধুরীতে নিজেকে মুহূর্তেই হারিয়ে ফেললো কৃশান। হুমায়রাকে নিজের থেকে সরানোর চেষ্টা করল না। উল্টো মিটমিটে আলোয় ঘুমন্ত হুমায়রার কোমল দেহখানা জড়িয়ে নিল নিজের সাথে। ফের পাড়ি জমাল ঘুমের দেশে। নিমিষেই গুচে গেল তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব।
নিস্তব্ধতা চিরে ধরণীর বুকে প্রতিধ্বনিত হলো ফজরের আজানের শব্দ। আজানের শব্দ কর্ণপাত হতেই খানিক নড়ে উঠলো হুমায়রা। ওমনিই নিজেকে অনুভব করল কোনো শক্ত বাঁধনের মধ্যে। মনে হচ্ছে কেউ তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাকে নিজের সাথে আগলে রেখেছে। গলার কাছে ক্ষণে ক্ষণে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছে কারও তপ্ত নিঃশ্বাস। রয়েসয়ে ঘুম ঘুম চোখ জোড়া মেলে তাকাল সে। দেখতে পেলো এক সুঠামদেহী মানবকে। তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে, গলার মসৃণ ত্বকে মুখ গুঁজে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে কৃশান। ঘুমে নিভু নিভু চোখ জোড়া এবেলায় বড়ো বড়ো হয়ে গেলো হুমায়রার। পলক ফেলতে ভুলে বসল। অপলক চিত্তে চেয়ে রইল মানুষটার পানে। এভাবেই কিছুক্ষণ থম মেরে রইল হুমায়রা। পরপর নামাজের জন্য দেরী হয়ে যাচ্ছে দেখে আস্তে করে কৃশানের থেকে নিজেকে ছাড়াতে চাইল। তবে মানুষটার শক্ত বাঁধনের থেকে ছাড়াতে সক্ষম হলো না। বার কয়েক ব্যার্থ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে মৃদু স্বরে ডাকল,
“ শুনছেন…? ”
কোনো উত্তর পাওয়া গেল না অপর পক্ষ থেকে।
“ শুনছেন..? ”
হালকা ধাক্কা দিয়ে ডাকল হুমায়রা। এবেলায় ঘুম খানেক হালকা হলো কৃশানের। বিরক্তিতে ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেলো ছেলেটার। এর মাঝেই আবারও কর্নপাত হলো সেই স্বর,
“ শুনতে পাচ্ছেন.? একটু ছাড়ু… ”
কথা সম্পূর্ন করতে পারল না হুমায়রা। মাঝপথেই শুনা গেল ঘুমন্ত মানবের মোহগ্রস্ত কণ্ঠ,
“ একটু ঘুমাতে দে না হুজুরনী! কালকে সারারাত ঘুমাতে পারিনি তোর জন্য। ”
ক্ষণিকের জন্য ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠলো হুমায়রার নরম সরম কায়া। মানুষটার ঘুম জড়ানো কণ্ঠ আর কথা বলার দরুণ তার পুরুষালী ঠোঁটের স্পর্শ গলায় লাগতেই পায়ের তলা সুদ্ধ শিউরে উঠলো। নড়চড় একেবারে বন্ধ হয়ে গেলো মেয়েটার। হৃদয়ে জাগ্রত হলো মৃদু কম্পন।
শুষ্ক ঢোক গিলে নিজেকে ধাতস্ত করল হুমায়রা। পরপর মনে পড়ল কৃশানের বলা শেষ কথাটা,
“ তার জন্য কালকে সারারাত ঘুমাতে পারেনি মানে? রাতে যে বলল- সে না থাকায় বেশ শান্তিতে নাকি ঘুমিয়েছে! তাহলে কি ওটা মিথ্যে বলেছিল? আসলে মানুষটা ঘুমায়নি? কিন্তু কেন? তার কথা মনে পড়ে বুঝি? ”
সে সন্দিহান কণ্ঠে কৃশানের থেকে জানতে চাইল,
“ আমি তো ছিলাম না তাহলে আমার জন্য আপনার ঘুম হলো না কিভাবে? ”
কিছুক্ষণ নীরব রইল পরিবেশ। পরপর পুনরায় শুনা গেল কৃশানের অস্পষ্ট স্বর,
“ আজকাল বড্ডো পীড়া দিচ্ছিস তুই, দূরে থেকেও আমার মাঝে মিশে থাকিস। আমার অস্তিত্বে তোর অবাধ্য বিচরণ কোনোভাবেই থামাতে পারিনা আমি! ”
কণ্ঠের মাঝেই তার ঘুমের রেশ ফুটে উঠছে। যার দরুণ কণ্ঠ বারবার নিভে যাচ্ছে। শেষের কথাগুলো একেবারে শুনতেই পেল না হুমায়রা। আর এমনিতেও কথা বলার সময় কৃশানের ঠোঁট যখন বারবার তার গলা স্পর্শ করছিল এতেই জমে বরফ হয়ে গেছে মেয়েটা। অগ্যতা আর কথা বাড়াল না। অচেতন প্রাণীর মতো চুপ মেরে রইল। তবে বেশিক্ষণ থাকতে পারল না। নামাজের সময় শেষ হয়ে যাবে। তাই আবারও নিঃশব্দে উঠার চেষ্টা করল। ওমনিই ধমকে উঠলো কৃশান,
“ মার খাবি কিন্তু! ”
চমকে উঠল হুমায়রা। অসহায় চিত্তে ঘুমন্ত স্বামীর পানে চেয়ে রইল। মিনমিন করে বলল,
“ নামাজের সময় চলে যাবে দয়া করে ছাড়ুন আমায়। ”
বলতে বলতেই কৃশানের হাতটা সরানোর চেষ্টা করল। টনক নড়ল ছেলেটার। তৎক্ষনাৎ চোখ মেলে নিজের উপস্থিতি অনুমান করতেই এক লাফে শুয়া থেকে উঠে বসল। থতমত খেয়ে গেল হুমায়রা। পল্লব ঝাপটে ঝাপটে বুঝতে চাইল মানুষটার অভিব্যাক্তি।
অন্যদিক ফিরে ঘাড় ডলছে কৃশান। পরমুহূর্তেই নিজের কান্ডের কথা মনে পড়তে চোখ বুজে আওড়াল,
“ শিট! ”
আস্তে বলায় শব্দটা কর্ণপাত হলো না হুমায়রার। কিছুক্ষণ কৃশানের দিক তাকিয়ে বিছানা ছেড়ে নেমে পড়ল সে। কোনোরূপ বাক্য বিনিময় ছাড়াই চলে গেল নামাজের উদ্দেশ্যে।
নামাজ শেষ করে রুমে প্রবেশ করতেই কৃশানকে খাটে হেলানরত অবস্থায় মোবাইল স্ক্রোল করতে দেখা গেল। কাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তির আগমন উপলব্ধি করতেই কৃশান মোবাইল থেকে চোখ সরাল। বলল,
“ তাড়াতাড়ি রেডি হ, বাড়িতে যাব। ”
“ এতো সকালে..? ”
“ হুঁম, কোনো সমস্যা তোর? ”
কৃশানের সেই আগের রূপ দেখতেই মুখটা বাংলার পাঁচের মতো হয়ে গেল হুমায়রার। একটু আগেই তো ভালো ছিল মানুষটা। এখন আবার কি হলো? কি অদ্ভুত এক স্বামী পেল সে? এক্ষনি ভালো! আবার এক্ষনি খিটখিটে!
“ আমার কোনো সমস্যা নেই। আপনি তো রাতেও খেলেন না। মামনি এতো করে বলার পরেও। সকালেও না খেয়েই চলে যাবেন? ”
“ নিজের বাসাতেই খাইনা এখানে খাবো? তাও আবার যেখানে একজন মানুষের খাবার মিলে না! ”
চোখ ছোটো ছোটো হয়ে গেল হুমায়রার। প্রশ্নসূচক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,
“ কোন মানুষের খবার মিলে না! ”
“ তোর! ”
সোজাসাপ্টা জবাব কৃশানের। আঁতকে উঠল হুমায়রা। লোকটা কি বুঝতে পেরে গেল সব? মামনিকে না আবার কিছু বলে বসে! উনার তো কথা মুখে আটকায় না। পরে তার মামনি সবকিছুর জন্য তাকে দোষারোপ করবে। কিন্তু বুঝল কিভাবে?
“ কিরে এমন সিরিয়াস হয়ে গেলি কেন! সত্যিই কি তোকে খাবার দেয়না নাকি? ”
কৃশানের কণ্ঠে ভাবনায় ছেদ পড়ল হুমায়রার। তৎক্ষনাৎ সেদিকে ধ্যান দিল। দেখল তার দিকেই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে মানুষটা। তাহলে এতক্ষন মজা করছিল উনি! ধুর, সেও না!
নিজের সকল ভাবনার ইতি টানল হুমায়রা। নিজেকে ধাতস্ত করে বলল,
“ আমাকে তো রাতেও নিজের হাতে খাইয়ে দিল দেখলেন! তাহলে আমাকে কেন খাবার দিবে না? ”
“ হুঁ সেটাই, দেখলাম তো সবই। আচ্ছা এখন যা বলেছি সেটা কর। ”
কথাগুলোর আড়ালে কেমন যেন রহস্য রহস্য লাগল হুমায়রার। তবে কথা বাড়ল না সে। চুপচাপ ব্যাগ থেকে বোরকা আর হিজাব নিয়ে চলল মিররের সামনে। অতঃপর ব্যাগপত্র গুছিয়ে তৈরি হয়ে গেল মিনিট দশেকের মধ্যেই। হুমায়রাকে পরিপাটি দেখতেই বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো কৃশান। পরপর হাঁটা দিলো বাইরের উদ্দেশ্যে।
“ একটু দাঁড়ান, মামনি কে বলে আসি। ”
তার কথার মাঝেই সেখানে উপস্থিত হলেন রেখা বেগম। এমন সাত সকালে হুমায়রা, কৃশানকে বেরোতে দেখে চোখ বড় বড় হয়ে গেল তার। বিস্ময় নিয়ে বলল,
“ এমা এতো সকালে কোথায় যাচ্ছিস তোরা! ”
“ বাসায় চলে যাচ্ছি মামনি। আপনারা নিজেদের খেয়াল রাখবেন। অর্না কি ঘুমায়? ”
“ হ্যাঁ, একেবারে খেয়েদেয়ে যাস? এটা কোনো যাওয়ার সময় হলো নাকি! ”
“ না মামনি, আপনি অর্নাকে বলে দিয়েন। ”
বলেই হাঁটা দিলো হুমায়রা। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল কৃশান। হুমায়রা আসতেই তার হাতে পাঁচশ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিল। বলল,
“ এটা অর্নাকে দিয়ে আয়। ”
বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেল মেয়েটার। তৎক্ষনাৎ টাকাটা ফিরিয়ে দিতে উদ্যত হলো। বলতে নিল,
“ এসবের কি দরকা..!
“ তোকে বলেছি এতো বেশি বুঝতে! ”
কৃশানের ধমকের পৃষ্ঠে আর কিছু বলা হয়ে উঠলো না হুমায়রার দ্বারা। বাধ্য সৈনিকের মতো আবারও ঘরের ভিতর ঢুকল সে। মামনির হাতে টাকাটা ধরিয়ে দিয়ে বলল,
“ এটা অর্নাকে দিয়েন। ”
মুখ দেখে মনে হলো না ভদ্রমহিলা সন্তুষ্ট হয়েছেন। তবে মুখে মেকি হাসি ঝুলিয়ে বললেন,
“ আরে এসবের কি দরকার ছিল? ”
“ সমস্যা নেই মামনি,আচ্ছা আসি। ভালো থাকবেন। আসসালমুআলাইকুম। ”
বাড়ির মূল ফটক পেরিয়ে দেখা মিলল কৃশানের। বাইক নিয়ে অপেক্ষারত অবস্থায় বসে আছে সে। ভিতরে প্রশ্নের ঝুলি বেঁধে এগিয়ে এলো হুমায়রা। বলল,
“ আপনি কবে বাইক কিনলেন? ”
“ আমার না আমার বন্ধুর। আমার বাইক কলেজে থাকতেই জলিল মির্জা পুড়িয়ে ফেলেছে। ”
কলেজ লাইফে একবার রাতে মাতাল হয়ে ফিরে আসার সময় এক্সিডেন্ট হয়েছিল কৃশানের। এখনকার মতো তেমন মদ খেত না সে। তবে যেদিন খুব বেশি পেইনের মধ্যে থাকতো সেদিন খেত। ঐ দিনটাও ছিল তেমনি। ভাগ্য ভালো মধ্যরাত হওয়ায় রাস্তায় অন্য গাড়ি তেমন ছিল না। যার দরুণ খুব বেশি ক্ষতি হয়নি তার। তবে পুলিশের হাতে ধরা পড়ায় এসব নিয়ে অনেক হাঙ্গামা হয়েছিল। তাই ছেলের উপর রেগে নিজের টাকায় কিনে দেওয়া বাইকটা সেদিনই নিজ হাতে পুড়িয়ে ফেলেছিলেন জলিল মির্জা। কৃশান অসুস্থ থাকায় কিছু করতে পারেনি। কিন্তু যখন সুস্থ হলো তখন ঘরের খাবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। মানুষের সাথে তো বহু আগেই করেছে। সেদিন থেকে এই অব্দি ঘরে খাবার খায়না ছেলেটা। উছিলাটা বাইকের হলেও প্রধান কারণ হলো ভাত নামক খাবারটা তার একদমই পছন্দ না। ইয়াসমিন বেগম প্রথম প্রথম ছেলের এমন পরিণতি দেখে বলেছিলেন বাইক কিনে দিবেন তবে জলিল মির্জা কিছুতেই রাজি হননি। অতঃপর এভাবেই চলতে লাগল কৃশানের জীবন। একটা সময়ে সে পরিনত হলো পাক্কা বখাটে রূপে। তবে সেই সময়ের অন্তরালে চাপা পড়ে রইল হাজারও ক্ষোভ,অভিযোগ আর অভিমান- যার খবর রাখেনি কেউ।
বাইকে না উঠে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল হুমায়রা। চোখে মুখে তার স্পষ্ট দ্বিধার ছাপ। তাকে এক পলক অবলোকন করে কৃশান প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ তুই কি এখানে দাঁড়িয়েই থাকবি? তাহলে থাক আমি চলে যাই। ”
“ কিভাবে উঠবো? ”
জীবনে কোনোদিন বাইকের ধারে কাছেও যায়নি হুমায়রা। যার দরুণ কিভাবে উঠে বসবে সেটাই মাথায় ঢুকছে না তার। দীর্ঘশ্বাস ফেলল কৃশান। চোখ দিয়ে ফুটপেগ ইশারা করে বলল,
“ এখানে পা দিয়ে আমার কাঁধে ভর রেখে উঠে পর। ”
কৃশানের কথামতোই দুরুদুরু বুকে বাইকে উঠে বসল হুমায়রা। সাথে সাথেই বাইক স্টার্ট করল কৃশান।
অন্ধকার চিরে প্রকৃতিতে নেমে এসেছে হালকা আলোর রেখা। আলো আঁধারের সংমিশ্রণ এক অপূর্ব সৌন্দর্য তুলে ধরেছে প্রকৃতির মাঝে। মৃদু হওয়ায় থেমে থেমে দুলে উঠছে গাছের পাতারা। রাস্তা ঘাট তখন মানবশূন্য। হাতে গণা দু একটা দোকান খোলা হয়েছে। তবে সেখানে ক্রেতাদের বালাই নেই। আশেপাশের এমন নীরবতা যেন সৃষ্টি করছে অজানা এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। কিন্তু সেই অনুভূতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না হুমায়রার মাঝে। কিছুদূর যেতেই শোঁ শোঁ গতিতে বয়ে চলা ঠান্ডা বাতাস এসে গায়ে লাগতেই শরীর কাঁটা কাঁটা দিয়ে উঠছে মেয়েটার। হেলমেটের ফাঁক দিয়ে বের করে রাখা চোখগুলো বারবার বুঁজে আসতে চাইছে তীব্র বায়ুর সংস্পর্শে।
ভিউ মিররে হুমায়রার অবস্থা চোখ এড়ালো না কৃশানের। তৎক্ষনাৎ স্পিড কিছুটা কমিয়ে দিল সে। স্বস্তি মিলল মেয়েটার। সন্তুষ্টিকর হাসি ফুটলো ঠোঁটে। তবে তা দৃষ্টিগোচর হলো না কৃশানের। সহসা নীরবতা ভেঙে মিররের দিক তাকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ তোর বাবা- মা কবে মারা গেছে? ”
ওপাশ থেকে খানেক সময় নিয়ে উত্তর এলো,
“ আমার যখন পাঁচবছর ছিল তখন আম্মু মারা গেছেন। বাবা এখনও জীবিত। ”
শেষের বাক্যটা কর্নপাত হতেই চমকাল কৃশান। কিছুক্ষণ অপলক চিত্তে তাকিয়ে রইল মিররে প্রতিফলিত হওয়া রমণীর পানে। বিস্ময় নিয়ে জানতে চাইল,
“ সে কি বিয়ে করে ফেলেছে? ”
“ হুম। ”
“ কখন করেছিল? ”
“ আম্মু মারা যাওয়ার তিন মাস পর। ”
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২০
উত্তর দেয়ার মতো কোনো শব্দ খুঁজে পেলো না কৃশান। থম মেরে রইল কিছুপল। পরপর শান্ত কণ্ঠে বলল,
“ তাহলে কি তুই পাঁচ বছর থেকেই মামা বাড়িতে থাকিস? ”
“ হুম। ”
ছোট উত্তর হুমায়রার। এরপর আর কোনো কথা শুনা গেল না মানুষটার। একেবারে নিশ্চুপ হয়ে রইল সারাটাপথ। কিছু কি ভাবছে সে?
