প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫৮
ইনান হাওলাদার
এই শেষ কয়েকটা দিন যেন কাটতেই চাইছে না। তার উপর বাড়ির বড় কর্তা বলেছেন এই তিন দিন তূর্য-আহির যেন কোনো দেখা-সাক্ষাৎ না হয়।একই বাড়িতে থাকার দরুন খাওয়ার টেবিলে বা হাঁটাচলার সময় যেটুকু দেখা হবে সেটুকুই।তাছাড়া আর কোনো বাড়তি দেখা বা কথা বলা পুরোপুরি নিষেধ।কড়া করে বলেছেন তিনি। তিনদিনের দুইদিন ইতোমধ্যে পার হয়ে গিয়েছে।মাঝে আর মাত্র একটা দিন — তারপরই সকল অপেক্ষার অবসান।
ইতোমধ্যে বাড়িতে অতিথি আসতে শুরু করেছে।মহলের কোণায়-কোণায় সাজসজ্জার প্রস্তুতি চলছে। বাড়ির তিন কর্তা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ডেকোরেটরদের ডিরেকশন দিচ্ছেন। বিয়েতে আসা মেহমানেরাও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
এত আয়োজনের মধ্যে কোথাও আহি নেই। হয়তো আছে কোথাও ঘাপটি মে’রে।আকবর চৌধুরী নিষেধ করার পর তার দেখা পাওয়া-ই দুষ্কর হয়েছে।এটা নিয়ে তূর্য বেজায় বিরক্ত ওর উপর।বাড়ির সবাই মানা করতেই পারে ,সেটা অক্ষরে-অক্ষরে পালন করার কোনো মানে দেখছে না সে। মেয়েটা বাড়ির লোক থেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে — সে টোটালি দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। সামান্য কল করলেও রিসিভ করে না।আর করলেও একাজ-ওকাজ। যদিও ও ইচ্ছা করে এমন করে না।হয়তো ফোনের কাছে থাকে না ,নাহয় সত্যিই কোনো কাজে থাকে। তবে তার এসব সমস্যা সম্পর্কে তূর্য অবগত না। অবশ্য না জানালে তার জানার কথাও না।
ঘুম থেকে উঠে বেশ খানিকক্ষণ রুমে কাটিয়ে কফির উদ্দেশ্যে কিচেনে গেল তূর্য। ইনিয়ে-বিনিয়ে আহির খোঁজ করলো মায়ের কাছে।সেখান থেকে জানতে পারলো সে ভার্সিটি গিয়েছে।অথচ,মেয়েটা আরো এক সপ্তাহ আগে থেকে ভার্সিটি যাওয়া বন্ধ করেছে।হঠাৎ কি এত জরুরি প্রয়োজন ওর জানা নেই। মায়ের কাছ থেকে কফি নিয়ে ছাদে গেল সে। একবার ভেবেছিল বাগানের দিকে যাবে।কিন্তু সেখানে ডেকরেশনের কাজ চলছে।ফলস্বরূপ কোলাহলে পরিপূর্ণ থাকবে জায়গাটা। বেশি হট্টগোল তার কোনো কালেই পছন্দ না,তাই নিরিবিলি জায়গা খুঁজছে। কিন্তু ছাদে গিয়ে দেখলো সেখানেও সাজানোর কাজ চলছে। এখানে ডিরেকশন দিচ্ছেন আহির মামাতো বোনের বর — ইবাদ হোসাইন।একটু আগেই এসেছে ছেলেটা।আর এখনই কাজে লেগে পড়েছে। খুবই মজার মানুষ সে। যখন এসেছিল ওর সাথে টুকটাক কথা হয়েছিল।
তূর্য সময় নিয়ে পুরো ছাদটায় একটু নজর বুলিয়ে নিচে যাওয়ার জন্যে উদ্যত হলো, তখন ইবাদ পিছু ডাকলো। ডেকরেটরদের পরবর্তী কাজ বুঝিয়ে দিয়ে তাদের থেকে একটু দূরে চেয়ার টেনে বসল।সাথে তূর্যকে বসার জন্যে বললো। বসলো তূর্য। বয়সের দিক দিয়ে হয়তো তূর্যের ছোটই হবে । ইবাদ কিছুক্ষণ কথা শেষে হাসতে হাসতে বলল,
” আপনি আমার বউয়ের ক্রাশ ছিলেন জানেন?”
তূর্য কিছুটা ইতস্তত বোধ করলো।অথচ ছেলেটা কি সহজে কথাটা বলে দিলো।ও হলে হয়তো এই বিয়ের অনুষ্ঠানেই আসতো না।আর আসলেও জীবনেও বউয়ের ক্রাশের মুখোমুখি হতো না।সৌজন্যমূলক হাসলো সে। এরপর আরো নানান কথা বললো ইবাদ। তূর্যও টুকটাক অনেক কথা বললো।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধ্যে লাগিয়ে দিলো আহি। ও যখন গেইট পেরিয়ে বাড়ি ঢুকছিল তূর্য ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সকালে বেরোবার সময় লোকজনকে কাজ করতে দেখে গিয়েছে।এখনো তারা কাজ করছে।অন্দরমহলে ঢোকার পূর্বে আসলাম চৌধুরীর সাথে দেখা হলো।বাবা-মেয়ে কিছুক্ষণ কথা বলার পর ভিতরে প্রবেশ করলো।মেয়েটা ড্রয়িং রুমে আসতে না আসতেই জেরার মুখোমুখি হলো।
” ভার্সিটি গিয়েছিলি তুই?”
ট্রাউজারের পকেটে দুই হাত গুঁজে সটান দাঁড়িয়ে আছে তূর্য। আহি অবলা মুখ করে বললো,
” না তো..!”
তূর্য এবার ঘাড় ঘুরিয়ে মায়ের দিকে তাঁকালো। পারভিন বেগম গো বেচারা মুখ করে ছেলের দিকে তাঁকিয়ে রইলেন। আহি যে ভার্সিটি যায়নি জানতেন তিনি , এমনকি বাড়ির সকলেই জানতো। তখন তিনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন।তাছাড়া তূর্যকে যদি তিনি সত্যি কথা বলতেন ছেলেটা প্রশ্নের ভান্ডার নিয়ে বসত, ‘ কেন গিয়েছে?’ ,’ কার পারমিশনে গিয়েছে ?’ , ‘ যেতে দিয়েছ কেন ?’ — হাজারটা প্রশ্ন! এতগুলো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এক কথা বলে দিয়েছিলেন তিনি — ভার্সিটি গিয়েছে । জানতেন ভার্সিটির কথা বললে আর দ্বিতীয় কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না তিনার। হতে হয়ও নি। তবে ছেলের মুখ দেখে তিনি বুঝলেন হয়তো আহি কোথায় গিয়েছিল কিছু আন্দাজ করতে পেরেছে সে। তিনি ‘ না ‘ বোধক মাথা নাড়িয়ে ছেলেকে অনুরোধ করলেন মেয়েটাকে কিছু না বলতে। কিন্তু তূর্যের মুখের কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল না।ও মায়ের দিক হতে নজর সরিয়ে পুনরায় আহির দিকে তাঁকালো।বুঝলো পারভিন বেগম ইচ্ছা করেই সবটা লুকিয়েছেন।হয়তো বাড়ির বাকিরাও জানে।ও দৃষ্টি শক্ত করে আহির হাতের কব্জি চেপে ধরে বলল,
” চল ,আমার সাথে ”
আহি বাঁধা দিলো।তূর্যের পায়ের তালে পা না মিলিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।ওর হঠাৎ রা’গের কারণ বুঝছে না মেয়েটা।একবার হাতের দিকে তাঁকালো।তারপর অবুঝ ভঙ্গিমায় জিজ্ঞেস করলো,
” কি হয়েছে তূর্য ভাই? ”
সে কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো না তূর্য। বাঁধা দেওয়ায় ভাবলো হয়তো এখনো আকবর চৌধুরীর কথা মান্য করছে।ও উল্টে প্রশ্ন করলো,
” তোর চাচার পারমিশন লাগবে?তাকে এক্সপ্লানেশন আমি দিবো।এখন চল ”
ব্যস! দ্বিতীয় কোনো কথা হলো না ড্রয়িং রুমে। পারভিন বেগম ছেলেকে বারবার পিছু ডাকলেন।কিন্তু কোনো কাজ হলো না।পারলেন না ছেলেকে আটকাতে।কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ছেলেকে বকলেনও ।ড্রয়িং রুমে শুধু মাত্র তিনিই উপস্থিত।
মেয়েটাকে এক প্রকার টানতে-টানতে নিয়ে গেল সেখান হতে তূর্য। রুমে গিয়ে দরজা লক করলো আগে।এখনো আহির হাত শক্ত করে ধরে আছে ও।মেয়েটা ব্যথাতুত দৃষ্টিতে হাতের দিকে তাঁকালো।তূর্য ওকে ছেড়ে শান্ত কন্ঠে বলল,
” কোথায় গিয়েছিলি? কেন গিয়েছিলি ?”
আহি কিছুক্ষণ তূর্যের মুখের দিকে তাঁকিয়ে রইলো। চোয়াল শক্ত করে তাঁকিয়ে আছে ওর দিকে।আহি স্বাভাবিক গলায় বলল,
” তারিনদের বাসায় গি…” বাকিটা শেষ করতে দিলো না তূর্য।ওকে শুধরে দিয়ে বলল,
” উহু,মেহেদীর বাসায়। হ্যাঁ,তারপর ? কেন গিয়েছিলি ?”
” ইনভাইট করতে ” মাথা নিচু করে অপরাধীর মতো করে বলল আহি।
” ইনভাইট দিতে! আমি যতদূর জানি বাড়ি থেকেই তোর সকল ফ্রেন্ডসহ তাদের ফ্যামিলিকে ইনভাইটেশন কার্ড পাঠানো হয়েছে।তাহলে তোর যাওয়ার রিজন ?”
আহি প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করলো।হাস্যোজ্বল মুখে তূর্যের ক্রো’ধে পরিপূর্ণ মুখের দিকে তাঁকালো।মনে সাহস যুগিয়ে বলল,
” তাইতো ! বাড়ি থেকে তো সবাইকে ইনভাইটেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে তাহলে নাবিল ভাইয়া,পিংকি আপু,আলিয়া আপু.. তারপর তাসিন ভাইয়া কখন আসবে? ”
” একদম কথা ঘোরানোর ট্রাই করবি না আহি ”
আহি লক্ষ্য করেছে তূর্য যখন ওর উপর রেগে যায় বা খুব নমনীয় হয় তখন শুধু নাম ধরে কথা বলে।নাহলে শুধু কথাই বলে
নাম – টাম কিছু উল্লেখ করে না।
” মেহেদী ভাইয়া তারিনকে বলেছেন আমি নিজে কার্ড না দিলে উনি বিয়েতে আসবেন না । ”
সত্যি উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তূর্য জেরা করেই যাবে জানে ও ।তাই লুকিয়ে আর কোনো লাভ নেই।
” ওকেই! আর আমি যে তোকে ওর সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ রাখতে মানা করেছিলাম ? সেটা? সেটার কি হলো? আমার কথার কোনো ভ্যালু নেই তোর কাছে তাই তো?”
খুব শান্ত কন্ঠে বললো তূর্য। আহি এবার দৃষ্টি স্বাভাবিক করলো।এতক্ষণ ধরে থাকা ভয়ের ছাপ সেখানে নেই।স্পষ্ট কন্ঠে আ’র্তনাদ করলো,
” উনি এখন তারিনের হাজবেন্ড তূর্য ভাই।আপনি এমন কেন করছেন?আশ্চর্য!”
” কার হাজবেন্ড, কার কি, আমি জানতে চাইনি তোর কাছে।কেন গিয়েছিস সেটা বল আহি ” মেয়েটার দুই বাহু ধরে ঝাঁকিয়ে উঠলো তূর্য। কন্ঠে হুংকার স্পষ্ট।আহি মুখে সামান্য আ’র্তনাদ করে উঠলো।তারপর নিজেকে সামলে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে বলল,
” আপনি ….আপনি কি শুরু করলেন তূর্য ভাই। জাস্ট একদিন লোকটা আমাকে প্রপোজ করেছিল, তাও ভদ্রভাবে। ঐদিন প্রথম এবং ঐদিনই শেষ।আপনার ভাষ্য মতে উনি আমার জন্যে বাড়ি ছেড়েছিলেন,কোচিং সেন্টার খুলেছিলেন।আমি জানি না সেটা কতটুকু সত্যি বা মিথ্যা। কিন্তু ,আমাকে কোনোদিনও একটা….” থামলো সে।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফের বলল,
” যাক গে সেসব। বলতে গেলে রাত পোহালেই আমাদের বিয়ে। এমন ভাব করছেন যেন মেহেদী ভাইয়ার সাথে আমার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক আছে বা পূর্বে ছিল। নাকি আমার ক্যারেক্টারে ঝামেলা আপনি সেটা ভাবেন ।বলুন কোনটা? ”
অদ্ভুদভাবে আজ আহি ন্যাকা কাঁন্না কাঁদছে না।ওর এরকম উত্তরে মুখের আদলের বিকৃতি ঘটলো তূর্যের। এসব ও কখন মিন করলো ? কিসব বলে চলেছে স্টু’পিডের মতো। এবারে তূর্যের পালা ।ও আ’র্তনাদ করে উঠলো,
” পাগল হয়ে গেছিস তুই?”
আহি কিছুক্ষণ কোনো কথা বললো না।তারপর রাগ দেখিয়ে বলল,
” আপনার কাছে তো আমি পা’গল ,স্টু’পিড,ই’ডিয়ট ।আর এখন তো …..”
বাকিটা শেষ করলো না ও।থেমে গিয়ে নিজের বাহুদ্বয় হতে হাত সরালো তূর্যের। অতঃপর সরে যেতে নিলে তূর্য বাঁধা দিলো।প্রেয়সীর মুখ আজলা করে ধরে আ’হত দৃষ্টিতে তাঁকালো তার পানে। নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করলো সে।যদিও ইতোমধ্যে রাগ-ক্ষো’ভ ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছে।
ও আহির ভুল ধারণা ভাঙার চেষ্টা করলো,
” আমি এসব কিছুই মিন করিনি জা’ন। তুই ভুল ভাবছিস।মেহেদী তোকে বাড়ি অবধি রেখে গিয়েছে দেখে রাগ উঠেছিল আমার।আমাকে বলতিস তুই,আমি তোকে ড্রপ করে দিতাম পরে আবার পিক করতাম।তোকে আগেও বলেছি ওই ছেলের পাশে তোকে সহ্য হয় না আমার। ব্যস, এইটুকুই। আর তুই পাগলের মতো প্রলাপ বকে গেলি এতক্ষণ।”
” হ্যাঁ,বুঝেছি ” থমথমে কন্ঠে বললো আহি।ওর এই কন্ঠস্বর চেনা তূর্যের।বুঝেছে ঠিকই কিন্তু মানে নি । ও বলল,
” দেখ,আমি সবটা এক্সপ্লেইন করেছি তোকে।এখনো যদি রাগ করে থাকিস আমার আর কিছুই করার নেই। ”
” বুঝেছি, যান আপনি ”
ফের থমথমে কন্ঠে বললো আহি।
যদিও এবারের রাগটা নাটকীয়।তূর্য যখন রাগ ভাঙ্গায় ওর খুব ভালো লাগে।যদিও নিজের ঠাঁট বজায় রেখে সবটা করে।তবুও লোকটাকে তখন অন্যরকম লাগে ওর কাছে। তবে তার জানা নেই ওর সত্যিকারের রাগের বলা কথা আর নাটকীয় রাগের বলা কথার তফাৎ তূর্যের জানা। সে ইচ্ছা করেই দুষ্টুমিতেরত প্রেয়সীর ভাঙা রাগ পুনরায় ভাঙাতে থাকে।নিজেও মজা পায়। এখনো বুঝলো তার নাটক।তবে আজকে আর প্রশ্রয় দিলো না। গম্ভীর গলায় বলল,
” রাগ না পড়লে নাই।এই দুইদিন তাহলে রাগ করেই থাকা হোক।পরশু রাতে ব্যাপারটা দেখবো ”
বলে চোরা হাসলো তূর্য।তার বলা শেষ কথাটা বুকে গিয়ে বাড়ি খেল আহির। ও দ্রুত এদিক – ওদিক এলোমেলো চাহুনি ফেললো।তড়িঘড়ি করে সত্যিটা স্বীকার করলো,
” আমি সত্যিই রাগ করিনি তূর্য ভাই ”
” স্যিউওর ?” ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো তূর্য।আহি সাথে সাথে সম্মতি জানালো,
” হ্যাঁ, হ্যাঁ স্যিউওর ”
” তাহলে আসি?”
” জ্বি,আসুন ”
ঠোঁট টিপে হাসতে হাসতে বেরিয়ে যাওয়া ধরলো তূর্য। তারপর আবার কি মনে করে পিছু ঘুরল।আহিকে সাবধান করে বলল,
প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৫৭
” বাই দ্যা ওয়ে,আর মাত্র দুই দিন ! যত খুশি ভাই-ভাই করে নে। তারপর যদি একবারের জন্যও ভাই ডেকেছিস তোর হাল বেহাল করে ছাড়বো আমি।মাইন্ড ইট !” বলে চলে গেল সে।
আহি তড়িৎ বেগে ঠোঁটে দুই হাত রাখলো।চোখে – মুখে ভয়ের ছাপ।কি একটা হু’মকি দিয়ে গেলেন তূর্য ভাই।এত বছর ধরে ভাই-ভাই করে আসছে ,হুট করেই কীভাবে কি! একটু তো সময় লাগবে।মনে মনে একটু সময় চেলেও সারা জীবনেও অভ্যাস পাল্টাতে পারবে কিনা জানে না সে।
