এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৩
সুহাসিনী
প্রেমের গাড়ি এসে থামলো বাড়ির সামনে। সারা রাস্তা প্রেম কোনো কথা বলেনি। সিটে হেলান দিয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে শুয়ে রয়েছে সারা রাস্তা।রাহি একবার জিজ্ঞেস করেছিল প্রেমের শরীর খারাপ কিনা কিন্তু প্রেমের কোনো রেসপন্স না পেয়ে রাহিও আর কথা বাড়ায়নি।
গাড়ি থামতেই প্রেম দরজা খুলে নেমে রাহির নামার আগেই রাহির পাশের দরজা খুলে এক টানে রাহিকে কোলে তুলে নিলো। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটনা ঘটায় রাহির কিছুটা সময় লাগলো বুঝতে।যখন বুঝল সে শূন্যে ভাসছে ততক্ষণে প্রেম হাঁটা ধরেছে।রাহি প্রেমের গম্ভীর্যতা দেখে কিছু বলেনি,চুপটি করে প্রেমের কোলে ঘাপটি মেরে ছিল। আর আজকে ছটফট করার মতোই কিছু নেই কারণ বাড়ি আজ ফাঁকা,কেউ দেখবে না,তাই রাহিরও লজ্জা পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
রুমে এসে রাহিকে এক প্রকার বিছানায় ছুঁড়ে ফেললো প্রেম।রাহি প্রেমের এরূপ আচরণে কিছুটা হকচকিয়ে গেল। ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কি হয়েছে কি আপনার,এভাবে যখন ছুঁড়েই ফেলবেন কোলে নিয়েছিলেন কেনো? এত টুকু ওজন নেওয়ার ক্ষমতা নেই আবার হিরোগিরি দেখাতে আসে, অক্ষম লোক।”
প্রেম আর নিজের ভেতরের রাগ চেপে রাখতে পারলো না। রাহির কাছে গিয়ে হালকা ঝুঁকে রাহির গাল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“আমাকে এখন অক্ষম মনে হচ্ছে? ওই শালা সাঈদ চৌধুরীর সাথে এতো পিরিত কিসের তোর? ফিসফিস করে কি বলছিল তোকে? কলিজা কতো বড় হয়েছে তোর আজ দেখব আমি।”
রাহিও রেগে গেলো।সে কি ইচ্ছে করে ওই লোকের সাথে কথা বলতে গিয়েছিল নাকি।খুব রাগ হলো তার ওই গায়ে পড়া লোকটার উপরে।ওর জন্যই এখন প্রেমের কাছে বকা খেতে হচ্ছে তাকে।
“আমি কি ইচ্ছে করে ওই কাইল্লার সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম নাকি।ওই লোকই তো আমার সাথে গায়ে পড়ে মাখামাখি করতে এসেছিল।”
“তোর সাথে কথা বলতে আসলেই তোর কথা বলতে হবে। জানিস না জামাই থাকার পরও পরপুরুষের সাথে রং তামাশা করা হারাম।”
“হ্যাঁ জানি তো, দেখলেন না তাই জন্যই তো ওই কাইল্যা পাডার সাথে কোমড় দুলিয়ে দুলিয়ে নৃত্য করে আসলাম।”
“আমার সাথে ত্যাড়ামী চুদায়তে আয়শো না চান্দু। পাছা দিয়া একদম ত্যাড়ামী ছুটায় দিমু।”
“আমি কি বসে বসে আঙ্গুল চুষমু নাকি? আমিও ত্যাড়া জামাই এর ত্যাড়া বউ।”
“ওফ, আমার বাপ এই কোন টেপ রেকর্ডার এর সাথে আমারে কট দিলো। এখন দেখি আমার বিড়াল আমারেই কই মেও।”
“নিজে এতো বড় একটা হাতি হয়ে আমার মতো বিড়ালের নাদান ছোট্ট কিউট বাচ্চার উপর যে এতক্ষণ যাবৎ চেপে বসে আসেন আপনার কি একটুও দয়া হচ্ছে না।”
প্রেম রাহির উপর থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দু আঙ্গুল দিয়ে কপাল ঘষলো। তারপর ফোস করে শ্বাস ছেড়ে বললো,
“এতো আজব আজব নাম কোথা থেকে আবিষ্কার করো?”
নিজেকে নিজে বাহবা দেয়ার মতো করে মাথা দেখিয়ে রাহি বললো,
” এটা দেখেছেন,এর মধ্যেই সব কিছু আবিষ্কার হয় এমপি সাহেব।”
“ওই শিল্পপতির ছেলেকে যে এতক্ষণ যাবৎ আজব নাম ধরে ডাকছিলে ওই লোক যদি জানতে পারে কি হবে ভেবেছো।এই দেশের মধ্যে অন্যতম ধনী ব্যক্তি সে।”
“সে যেই ক্ষেতেরই মূলা, করলা হোক না কেনো আমি কি তাকে ভয় পায় নাকি।আমি তো ওই শালার মুখের উপর বলে এসেছি সে যে কাইল্যা।”
প্রেম কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলো না।এতো বিচ্ছু মেয়ে তার বউ এটা ভাবতেই তার কেমন লাগে।যে লোক বাদরামি একদম পছন্দ করত না তার কপালেই আল্লাহ্ এমন এক পিস জুটিয়েছে।ভেবেই তার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো।
আর কিছু না ভেবে রাহিকে চেঞ্জ করতে বলে নিজে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো ফ্রেশ হতে।
বিশাল এক রুম। সাধারণ মানুষ দেখেলে ভাববে এটা একটা ফ্যামিলি থাকার বাসা।কিন্তু এটা ভুল।এটা শুধু একজনের থাকার একটা রুম।পুরো রুমে আধুনিকতার ছোঁয়া। সারা ঘর বিদেশি দামি দামি শোপিস দ্বারা সুসজ্জিত।যে কারো দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে।
রুম অন্ধকার করে বসে আছে সাঈদ চৌধুরী।হাতে তার কম বয়সি এক রমণীর ফটো। রাহির ছবি বুকে জড়িয়ে চেয়ারে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে একটা গানের লাইন টানলো,
” তুই কবে যে বুঝবি বল,
পাগল মনের উথাল পাথাল
হলো বানজারা বানজারা
হলো বানজারা বানজারা
হলো বানজারা বানজারা
এই মন ”
দরজায় কারো করাঘাত ধ্যান ছুটে গেলো তার।ফোস করে শ্বাস ছেড়ে রুমের লাইট অন করে দরজা খুলে দিলো। রিফাত দাঁড়িয়ে আছে। রিফাত বলল,
“স্যার ম্যাডামের সকল ডিটেইলস এই ফাইলে আছে। আবার এই চিপে সবকিছু আছে।”
“হুম, আর একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবি?”
“কি স্যার?”
“হোয়াট ইজ কাইল্যা পাডা?”
সাঈদের মুখে এই শব্দ শুনে রিফাতের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। চোয়াল ঝুলে যাওয়ার অবস্থা।
“এটা কোথা থেকে শুনলেন আপনি?”
“তোকে যেটার আনসার দিতে বলছি সেটার আনসার দে।”
“স্যার, কাইল্যা মানে হলো কালো আর পাডা মানে….”
“মানে?”
“পাডা মানে হচ্ছে মুসলমানী ছাড়া ছেলে ছাগল।”
“হোয়াট ”
গর্জে উঠল সাঈদ। রিফাত কেঁপে উঠলো।দাঁতে দাঁত চেপে বললো সাঈদ,
“তোর মাথা ঠিক আছে রিফাত।তুই কি বলছিস জানিস?”
রিফাত ভয়ে ভয়ে কাপা কণ্ঠে বললো,
“আপনি যেটা জিজ্ঞেস করেছেন আমাই সেটার উত্তর করেছি মাত্র স্যার,আমি এখন আসি।”
বলেই কোনো রকমে পালালো।নিজে বাঁচলে বাপের নাম।
সাঈদ রাগে দেয়ালে ঘুষি বসালো।রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো,
“হাউ ডেয়ার ইউ? তুমি আমাকে এই জঘন্য তম নামে সম্বোধন করতে পারলে বেবস।”
মুহূর্তেই মুখের ভঙ্গিমা বদলে বললো,
“নো প্রবলেম পুতুল, বিয়ের পর বুঝাবো তোমাকে আমি পাডা নাকি পুরুষ। যাই হোক বিয়ে তো আমি তোমাকেই করছি।”
দুই দিন পর,
আমজাদ খান আজ খুব খুশি। বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান কোম্পানির মালিক আজ নিজের ইচ্ছেতে তার বাসায় বেড়াতে আসছেন।তার উপর নিজের ইচ্ছেতে উনার কোম্পানির সাথে পার্টনারশিপ করেছে।উনার খুশি আজ দেখে কে ।
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩২
আজ বিশাল আয়োজন হচ্ছে খান বাড়িতে। সবকিছুর তদারকি নিজ দায়িত্বে করছেন আমজাদ খান।প্রেম বাড়িতে নেয়। রাহি গেছে আয়েশার সাথে হাসপাতালে চেকআপ এর জন্যে। সন্ধ্যার দিকে মেহমান আসবে সবাই যেনো তার আগেই বাড়ি ফিরে আসে এটা আমজাদ খানের হুকুম।আজ সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান এর পরিবারের প্রায় সকল সদস্য আসবেন খান বাড়ির মেহমান হয়ে।
