Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩২

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩২

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩২
সুহাসিনী

“নাও চোখ মুছো।”
অপরিচিত পুরুষালি কন্ঠে রাহি কেমন কেঁপে উঠলো।তাড়াতাড়ি চোখ মুছো সামনে তাকালো। অপরিচিত কাউকে নিজের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে তার দিকে টিস্যু বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাহি কিছুটা ভরকে গেলো।
“কে আপনি? এভাবে ভেবলার মতো করে তাকিয়ে আছেন কেনো?”
রাহির এমন চঞ্চলতায় আবারও যেনো মুগ্ধ হলো দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা।বাকা হেঁসে বললো,
“তো মিস আপনার কি এই ভেবলাকে চয়েছ হয়েছে?”
“আপনাকে পছন্দ করার কি আছে?আমি কি আপনাকে বিয়ে করবো নাকি যে আপনাকে পছন্দ হতে হবে? ওই তো থোবরা আপনার, তামিল ভিলেনের মতো।”

রাহির কথায় লোকটা হো হো করে হেসে দিলো। যার জন্য শত শত মেয়ে পাগল,যার বউ হওয়া কিনা হাজার মেয়ের স্বপ্ন তাকে নাকি এই বাচ্চা মেয়ের কাছে তামিল মুভির ভিলেনের মতো লাগছে।
“হাউ ফানি,আমাকে তোমার ভিলেনের মতো লাগছে? সী, চারপাশের প্রায় সব আনমেরিড গার্লস আমার দিকে কীভাবে তাকিয়ে আছে আর সেখানে আমি তোমার মতো লিলিফুটের সাথে নিজে থেকে কথা বলতে এসেছি।”
“এসেছেন কেনো? আমি কি আপনাকে নিমন্ত্রণ করেছি আমার সাথে কথা বলার জন্য,আজব। আর ওরা আনমেরিড আমি না।আপনার মতো ওই সাপের চোখ ওয়ালা এবং শ্যামলা লোকের উপর ক্রাশ খাওয়ার সময় বা ইচ্ছা কোনোটায় আমার নেয়।আমার কালো চোখ ওয়ালা ফর্সা জামাই পারফেক্ট আমার জন্যে।”
বলেই লোকটাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো রাহি। লোকটা হতভম্ভ।তার এই দেহের গড়ন নিয়ে তাকে আজ পর্যন্ত কখনো অপমানিত হতে হয়নি বরং সবাই সবসময় প্রশংসা করেছে। বলেছে, ওর মতো ছেলে নাকি লাখে একটা। আর এই মেয়ে কিনা নিখুঁতভাবে তাকে শ্যামলা বলে খোটা মেরে চলে গেলো। বিশেষ করে ওর বাদামী রঙের চোখের জন্য সব জায়গায় প্রশংসিত।এই মেয়ের নাকি তার চোখ জোড়া সাপের মতো লাগে। এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ আর একটা কথা মাথায় আসল তার,

“ওয়েট ওয়েট ও আনমেরিড না,তার মানে কি ও মেরিড?নাকি আমার কাছ থেকে বাঁচার জন্য এমনটা বললো মেয়েটা। আর এই বাচ্চাকে কে বিয়ে করবে?”
এরপর কপালে দুই আঙ্গুল দিয়ে ঘষলো।বাকা হেসে বলল,
“ইন্টারেস্টিং, একটা বাচ্চা মেয়ের এতো অ্যাটিটিউড। নো প্রবলেম আই লাইক অ্যাটিটিউড”
সামিট গ্রুপ (Summit group), বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী। এই শিল্প প্রতিষ্ঠান এর বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব আজিজ চৌধুরীর এক মাত্র ছেলে সাঈদ চৌধুরীকে ইগনোর করলো এই বাচ্চা মেয়ে।সমস্যা নেয় যেই মেয়ে সাঈদ চৌধুরীর ভবিষ্যৎ বউয়ের একটু অ্যাটিটিউড না থাকলে কি চলে?
সাঈদ তার পিএ কে ডাকলো।

“অল ইনফর্মেশন কালেক্ট হয়েছে?”
“ইয়েস স্যার”
“গুড”
কিছু একটা ভেবে সাঈদ আবার বলল,
“আচ্ছা রিফাত দেখো তো আমার চোখ কি সাপের মতো?”
“স্যার,এমন চোখ কয়জনের হয়, আপনার চোখ যে দেখবে সেই ফিদা হয়ে যাবে।”
রিফাতের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে গেল সাঈদের।যদি রিফাতের কথা সত্যি হয় তাহলে ওই মেয়ে তাকে খোটা দিলো কেনো?
“আচ্ছা মেয়েদের কি শ্যামলা ছেলে পছন্দ না?আমি কি দেখতে খারাপ?”
“এক এক মেয়ের টেস্ট এক এক রকম, কারো ফর্সা পছন্দ, কারো কালো,আবার কারো শ্যামলা।আপনি তো স্যার সুদর্শনের দিক দিয়ে প্রথম সারিতে।”

“তাহলে ও আমাকে পছন্দ করলো না কেনো?”
“কে পছন্দ করেনি আপনাকে ,একবার শুধু বলুন।”
“তোর ম্যাডাম”
রিফাত কি বলবে বুঝবে না।এই লোক যে বিয়ে করবে এটা তো স্বপ্ন মনে হচ্ছে তার কাছে।কারণ কয়েক বছর যাবৎ সবাই অনেক জোরাজোরি করেছে বিয়ের জন্য কিন্তু রাজি হয় নি।শুধু একটা কথায় বলতো,
“আমার মনের মতো মেয়ে পেলে আমি নিজে থেকেই বিয়ে করবো।”
এখন মনে হচ্ছে বিয়েটা করেই নিবে। অন্যের বিয়েতে এসে নিজের বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
“রিফাত প্লাস্টিক সার্জারি করে কি কোনোভাবে গায়ের রং চেঞ্জ করা যায় না? আই মিন শ্যামলা থেকে ফর্সা হওয়ার কোনো উপায় নেই?”

“আছে তো,তিন বেলা খাওয়ার মতো নিয়ম করে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ক্রিম মাখলেই আপনি কাগজের মতো সাদা হয়ে যাবেন স্যার।”
“তুই জানিস কি করে?তুই মাখিস নাকি?”
“দেখেন না বিজ্ঞপ্তিতে বলে,আমি এখনও ট্রাই করিনি তবে ভাবতেসি করবো।”
“আচ্ছা আগে তুই ট্রাই করে দেখ ফর্সা হওয়া যায় কিনা,পড়ে আমি মাখবো। নয়তো সবসময় মেকআপ করে সবসময় আমাকে ফর্সা সেজে থাকতে হবে।”
সাঈদের মাথায় ফর্সা হওয়ার ভূত কেনো চাপলো বুঝলো না রিফাত। সাঈদ বলল আজিজ চৌধুরীকে কল দিতে।
“ড্যাডি, এনগেজমেন্ট এর অ্যারেঞ্জ করো।”
“কার এনগেজমেন্ট?”
“তোমার ছেলের।”

“তুমি বিয়ে করতে চাও? তোমার এঙ্গেজমেন্ট?”
“নাহ্ তুমি আরও কোথাও ছেলে জন্ম দিয়ে এসেছিলে তার এনগেজমেন্ট।”
“সবসময় হেঁয়ালি পছন্দ না আমার। মেয়ে কে?”
“ফটো পাঠিয়েছি দেখো।”
আজিজ চৌধুরী ফটো চেক করলেন। রাহির ফটো দেখে বিশ্ব জয়ের হাসি দিলো।এরপর সাঈদ কে বলল,
“একদম পারফেক্ট চয়েজ। একদম বাপের ছেলের মতো কাজ করেছ বেটা। যাকে বলে,বাপ কা বেটা, সিপাহী কা ঘোড়া”
“সবকিছুর ব্যবস্থা কর।”

রাহি আয়েশার কাছে গিয়ে গজগজ করছে।আয়েশা তা খেয়াল করে বলল,
“কি হয়েছে ?ভাইয়া কিছু বলেছে?”
“তোমার ভাইয়ের চেয়েও আরও অসভ্য লোক এর অভাব নেই এই পৃথিবীতে।”
“ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছে?”
“নাহ্,দেখা হয়েছিল।”
তখনই পেছন থেকে প্রেম এসে রাহির হাত ধরে বলে,
“বাড়িতে চলো,আয়েশা শান্ত আর আব্বুদের সাথে আসবে।”
“আমি একা একা বাড়িতে গিয়ে কি করবো,আপনার সাথে একা একা গেলে আমার ভয় করে।”
“কেনো?আমি বাঘ না ভাল্লুক?”
“আপনি একটা হাতি।”
“বেশি বকবক না করে চলো। বেশি কথা বললে এর ফল কিন্তু হসপিটালের মতো হবে।”
রাহি চুপসে গেলো।প্রেমের পিছু পিছু হাঁটতে লাগলো। প্রেমের সামনে সাঈদ চৌধুরীকে দেখে প্রেমের পা থেমে গেলো।প্রেম দেখেই চিনে ফেললো সাঈদ চৌধুরীকে। সম্মানের সহিত দুজনে দুজনের সাথে কুশল বিনিময় করলো। এরপর সাঈদ বলল গেটের বাইরে তার গাড়িতেই প্রেমের গাড়ি ধাক্কা মেরেছিল।এর জন্য প্রেম দুঃখ প্রকাশ করলো।রাহিকে প্রেমের পিছনে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল,

“মিস রাহি আপনার কি হয় মিস্টার প্রেম?”
“মাই কাজিন।”
“গুড, আপনার কাজিন কিন্তু কিউট আছে।”
প্রেমের রাগ হলো কিছুটা কিন্তু প্রকাশ না করে কোন রকমে তা হজম করল। এই লোকের সাথে লাগতে যাওয়া মানেই বোকামি, খুব দাপটে লোকের। এদের মত বড় লোকেদের হাত অনেক উপর পর্যন্ত থাকে।
প্রেম রাগটাকে গিলে কোনরকমে বলল,
“কমপ্লিমেন্ট এর জন্য থ্যাংকস। বাট আজকে আপনাকে সময় দিতে পারছি না তার জন্য দুঃখিত, আমাদের যেতে হবে।”

“অফ কোর্স মিস্টার প্রেম, প্লিজ গো। লাস্ট আরেকটা কথা, আপনার কাজিনটাকে একটু সামলে রাখবেন।”
প্রেম কোন কথা বলল না, রাগে দাঁতে দাঁত চেপে সামনে এগিয়ে গেল রাহীর হাত ধরে। রাহী প্রেমের পিছনে থাকায় যাওয়ার সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাঈদ চৌধুরী রাহির শোনার মত করে বলল,
“আই লাইক ইউ মিস রাহি”
রাহিও সাঈদের শোনার মত করে বলল,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩১

“আপনাকে দেখলেই কেনো যেনো আমার গা গুলিয়ে আসে মিস্টার কাইল্যা পাডা ”
“দেয়ার’স নাথিং এবাউট ইউ আই ডিজলাইক, আই লাভ এভরিথিং এবাউট ইউ”
শেষের কথাটা একটু জোরেই বললো সাঈদ।প্রেমের কানেও তা এলো।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৩