Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩১

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩১

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩১
সুহাসিনী

ছেলেটার এমন কথায় আয়েশা আর রাহি দুজনেই তড়িৎ গতিতে তাঁকালো। তাঁদের সামনে কবির দাঁড়িয়ে আছে।আয়েশা কবিরকে চিনে,কিন্তু সে বুঝতে পারছে না যে কবির রাহিকে চিনলো কীভাবে।আবার রাহিকে এভাবে সম্বোধন করার মানে টা কি। আয়েশা অবাকের তরে ভুলে বসেছে প্রেম যে লাইনে আছে। ওদিকে রাগে প্রেমের চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে।
কবিরের কথা শুনে রাহি চোখ ছোট ছোট করে প্রশ্ন করলো,

“এইযে মিস্টার কোন ক্ষেতের করলা আপনি? আমাকে এভাবে ডাকলেন কেনো? কলিজা কই হাত লম্বা হয়েছে আপনার?”
“ততটা লম্বা যতটা লম্বা হলে তোমাকে ছোয়া যাবে।”
“আপনার তো অকাল মৃত্যু হবে মিয়া, দোয়া করি যেনো একটু শান্তিতে মরতে পারেন।”
“অকাল মৃত্যু মানে?”
রাহি উত্তর দেয়ার আগেই আয়েশা ভ্রু কুঁচকে কবিরকে বললো,
“তুমি রাহিকে চিনো ভাইয়া?”
“হুম চিনি তো, ওকে তো আমি নেংটা কাল থেকে চিনি এবং খুব ভালোওবাসি।”
পেছন থেকে শান্ত হায় হায় করতে করতে বলল,
“এই শালা বলে কি?আমার বোনকে তুই ভালোবাসিস?”
“ও তোমার বোন হয় শান্ত ভাই?”
“আমার রাজকুমারীর আই মিন আয়েশার কাজিন হলে তো ও আমার কাজিন শালী হয়,সেই অনুসারে বললাম আরকি।”
“হুম ”
ওইদিকে প্রেম রাগে টেবিলের উপর থাকা পানির গ্লাস এতক্ষনে খণ্ড বিখণ্ড করে ফেলেছে।রাগে গজগজ করতে করতে বার বার আয়েশাকে ডেকেই যাচ্ছে।যখন শুনল কবির রাহিকে ভালোবাসে তখন আর শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারল না। হন্তদন্ত পায়ে বেরিয়ে গেলো। কল কেটে চিল্লিয়ে বলল,
“আজকে তোর দাফন আমি নিজে হাতে করবো শুয়োরের বাচ্চা।তোর ভালোবাসার শখ যদি আজকে না মিটিয়েছি আমার নামও প্রেম না। জাস্ট ওয়েট ”

“এইযে মিস্টার ভাইয়া,আপনি আমাকে চিনেন কিভাবে আগে সেটা বলেন,তারপর না হয় আপনার ওই তিতা ভালোবাসার গল্প শুনবো।”
রাহির এমন কথায় কবির মুচকি হেসে বলল,
“আরে বোকা আমি তো তোমাকে ছোটবেলায় টিউশন করাতাম,তুমি হয়তো ভুলে গেছো। ভাইয়া ভাইয়া বলে মাথা খারাপ করে দিতে আমার।পড়ে আমার ভার্সিটিতে চান্স হওয়ার পর আর তোমাকে পড়ায়নি, তখন মে বি তুমি ক্লাস ফোর এ পড়ো।”
রাহির মনটা কেমন খারাপ হলো।
“হয়তো ভুলে গেছি ভাইয়া।”
আয়েশা কবিরের উদ্দেশ্যে বললো,
“তাহলে তুমি রাহিকে আগে থেকেই চিনো।”
“হুম”
রাহির উদ্দেশ্যে বললো,

“আন্টি কেমন আছে রাহি?”
“নেই”
বলেই রাহি অন্যদিকে চলে গেলো।কবির কিছু বুঝল না। আয়েশার দিকে তাকালে আয়েশা কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,
“ওর আম্মু মারা গেছে একটা একসিডেন্টে ।”
আয়েশাও আর কথা বাড়ালো না।
কবির হয়তো বুঝলো সে ভুল সময় ভুল প্রশ্ন করে ফেলেছে।কারো ডাকে সেও অন্যদিকে চলে গেলো।এক কাজে তাকে বাইরে যেতে হলো।
প্রেমের গাড়ি গেটের কাছে আসতেই হঠাৎ একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা খেলো। সামনের গাড়িটা দেখে মনে হচ্ছে অনেক দামি ব্র্যান্ডের একটা গাড়ি।প্রেম সে দিকে পাত্তা না দিয়ে গাড়ি ভেতরে ঢোকাতে বললো।
গাড়ি ঢোকাতে গেলে হঠাৎ সামনের গাড়ির সামনের সিট থেকে একজন নেমে খুব সম্মানের সাথে পেছনের দরজা খুলে দিলো, পেছন থেকে একটা সুঠাম দেহের পুরুষালি অববয় নেমে এলো। লম্বায় প্রেমের সমান হবে নিশ্চিত।প্রেমের ভ্রু কুঁচকে গেলো। কে হতে পারে লোকটা আইডিয়া করতে পারলো না।

লোকটা প্রেমের গাড়ির দিকে ইশারা করতেই সামনের সিট থেকে নামা লোকটা প্রেমের গাড়ির গ্লাসের কাছে এসে টোকা দিল।প্রেম গ্লাস নামিয়ে দিলো।লোকটা বলল,
“আমার স্যার আপনাকে ডাকছেন।”
প্রেমের রাগ আরও বেড়ে গেলো।লোকটাকে দেখে তার কাছে দেখে একটু দাপুটে লাগলো,সেও দাপুটদের সাথে দাপট দেখাতে ভালোবাসে।
“তোর স্যার কে বল আসতে,আমি আমার বাপের কথায় শুনি না । আর রাস্তার কোনো লোকের কথা তো প্রশ্নই আসেনা।”
প্রেম তার ড্রাইভারকে গাড়ি নিয়ে তাড়াতাড়ি ভেতরে যেতে বললো। ড্রাইভারও লোকটাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।
প্রেমের এমন আচরণে পুরুষালী অববয়টা রাগ না করে বরং হালকা ঠোঁট বাকাল। আর বললো,
“ছেড়ে দাও,বাচ্চা তো।”

প্রেম ভেতরে এসেছেই রাহি খুঁজছে।কিন্তু রাহির কোনো পাত্তা নেই।প্রেম রাহিকে না পেয়ে আয়েশাকে খোঁজার জন্য চোখ ঘোরালো।এতো লোকের ভিতরে একজনকে খুঁজে পাওয়া একটু টাফ।কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আয়েশাকে খুঁজে পেয়ে গেলো প্রেম।আয়েশার কাছে গিয়ে কটমটিয়ে বলল,
“ওই শুয়োরের বাচ্চা কোথায়?”
আয়েশা বুঝলো না প্রেমের রাগের কারণ আর প্রেম কার কথা বলছে। আয়েশা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“তুমি কার কথা বলছ ভাইয়া?”
“যেটা ওই বাচ্চামেয়েটাকে বলল ভালোবাসে।আজকে অর ভালোবাসা আমি পাছা দিয়ে ভরে দিবো।”
আয়েশা বুঝলো প্রেম কবিরের কথা বলছে। প্রেম যে তখন সব কথা শুনেছে এটাও বুঝতে বাকি রইলো না তার।প্রেম জেলাস।প্রেমকে আর একটু জ্বালানোর জন্য বললো,
“কবির ভাই তো রাহিকে নিয়ে কোথায় যেন গেলো দেখলাম। রাহিও খুব আনন্দে আছে দেখলাম।”
প্রেমের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো।কোনদিকে না তাকিয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে চাইলো হঠাৎ চোখ পড়লো খাবারের কর্ণারের দিকে।রাহি এক মনে একা বসে বসে খাচ্ছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে মন খারাপ। রাহিকে দেখে প্রেমের কপালের ভাঁজ শিথিল হয়ে এলো।

রাহির দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো সে।রাহির পাশে চেয়ার টেনে বসলো। রাহির মনোযোগ অন্যদিকে থাকায় রাহি খেয়াল করলো নাহ্।প্রেম রাহির প্লেটে আরও মাংস তুলে দিচ্ছে। রাহি অন্যমনস্ক হয়ে প্রেমের দিকে না তাকিয়েই বলে ফেললো,
“আর দিও না আম্মু,খেতে পারব না তো।”
কথাটা বলেই রাহি তড়িৎ গতিতে সামনে বসা প্রেমের দিকে তাঁকালো। মুহূর্তেই রাহির চোখজোড়া ভিজে উঠলো।খাবার রেখে উঠে চলে গেলো।প্রেম এক নাগারে তাকিয়ে রাহির কষ্ট বুঝার চেষ্টা করছে। রাহি কি কান্না করছে?এটা ভাবতেই প্রেমের কেমন বুকে ব্যথা অনুভব হলো।কেনো কান্না করছে তার বেগমজান? কে কষ্ট দিয়েছে তার বউকে,তাকে সে ছাড়বে না।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩০

রাহি এক কোনায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি আটকাতে চাইছে। কিন্তু পারছে না।মা হারানোর কষ্ট বুঝি এমনই হয়। চাইলেও লুকিয়ে রাখা যায় না।যার মা নেয় সে বুঝে এর কষ্ট। আর বাবা হারানোর কষ্ট?বাবা না থাকার যন্ত্রণা কি আদৌও হয় রাহির?সেটা সে জানে না।রাহি একা দাঁড়িয়ে নিজের জীবন নিয়ে হতাশ প্রকাশ করতে ব্যস্ত কিন্তু সে জানে না।তার চেয়ে কয়েক হাত দূরে দাঁড়ানো বাদামী চোখের একজন তার দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে কতদিনের তৃষ্ণা মিটাচ্ছে। লোকটা রাহির দিকে দৃষ্টি স্থির রেখেই কাকে যেন কল করে,
“আমি বিয়ে করবো।মেয়ের ফটো পাঠাচ্ছি, লাস্ট হাফ ওয়ারের মধ্যে আমার এই মেয়ের সকল ডিটেইলস চাই, ইমিডিয়েটলি।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩২