এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩০
সুহাসিনী
পিট পিট করে চোখ খুললো রাহি। শরীরটা কেমন যেনো মেচমেচ করছে। কোমড়ের নিচের অংশ মনে হচ্ছে অবশ হয়ে গেছে।রাহির কিছুক্ষণ সময় লাগলো নিজের অবস্থান বুঝতে।যখন বুঝতে পারলো সে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে তখন রাতের সকল ঘটনা তরতর করে মনে পড়ে গেলো।কিছুটা রাগ হলো প্রেমের উপর আবার মুহূর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। মুচকি হেসে এক টানে ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে মাথা সহ পুরো শরীর ঢেকে নিলো।
ওইসময় প্রেম শাওয়ার নিয়ে কোমড়ে একটা তোয়ালে পেঁচিয়ে বের হলো ওয়াশরুম থেকে।রাহিকে এমন করতে দেখে ভ্রু কুঁচকে থমথমে গলায় বলল,
“তোমার কি মাথায় সমস্যা আছে?পাগলের মতো একা একা হাসছো কেনো?”
রাহি প্রেমের কথায় নিজের মুখ থেকে কাপড় সরালো।প্রেমকে এই অবস্থায় দেখে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো।
“সমস্যা আমার না আপনার মধ্যে আছে।এভাবে সং সেজে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? কোনো লজ্জা সরম নেই?”
“রাতে তোমার এই লজ্জা সরম কোথায় ধার দিয়ে এসেছিলে।তখন তোমার রিয়েকশন দেখে মনে হচ্ছিল তো খুব উপভোগ করেছো।”
লজ্জায় রাহির চিবুক গিয়ে ঠেকলো গলায়।সে এই বিষয়ে কথা না বাড়িয়ে মিনমিনে গলায় বলল,
“গিয়ে কাপড় পড়ে আসুন। কেমন বিচ্ছিরি লাগছে।”
“এখন তো তবুও টাওয়াল আছে ,রাতে তো এটাও ছিল না,তখন কীভাবে দেখেছো?”
“তখন রুম অন্ধকার ছিল।”
“নাহ্,ডিম লাইট এর আলোয় তো তোমাকে আমি স্পষ্ট দেখেছি। তোমার ওই ফর্সা কোমড়, ফর্সা বু….”
“চুপ করুন অসভ্য লোক।”
রাহি কান হাত দিয়ে চিৎকার করে বলল কথাটা।প্রেম রাহির এই অবস্থা দেখার জন্যই এতক্ষণ এসব বলছিল।প্রেম ঠোঁট কামড়ে মুচকি হাসলো।
মুহূর্তেই আবার স্বাভাবিক গলায় বলল,
“যাও শাওয়ার নিয়ে আসো। অবশ্য তুমি চাইলে আরেক দফা বাসর সেরে একে বারেই শাওয়ার নিতে পারো।”
“মুখে লাগাম দিন বদ লোক কোথাকার।আমি এখন শাওয়ার নিলে কি পড়বো ?এখানে তো আমার কোনো জামাকাপড় নেই।”
“আমার সামনে কিছু পড়তে হবে না।কাল রাতে তোমাকে কাপড়বিহীন দেখে তো এখন ঐভাবেই দেখতে মন চাইছে সবসময়।”
“আল্লাহ আমাকে তুমি এই লোকের কাছ থেকে তুলে নাও। কোন নির্লজ্জের পাল্লায় পড়লাম আল্লাহ মালুম।”
“কাপড় আনিয়ে রেখেছি।ওয়াশরুমে আছে।শাওয়ার নিয়ে আসো।বাড়িতে ফিরব।”
রাহি আর কথা বাড়ালো না। গুটিগুটি পায়ে হেঁটে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।যদিও একটু কষ্ট হচ্ছিল হাঁটতে।তবুও সমস্যা নেই,এই লোকের সামনে থেকে এখন পালাতে পারলেই সে বাঁচে।
প্রেমের মা জানে না প্রেমের অসুস্থতার খবর।তিনি জানেন প্রেম তার এক বন্ধুর বাড়িতে গেছে দাওয়াতে,রাত হওয়াতে রাহিকে নিয়ে সেখানেই থেকে গেছে।
আয়েশা বসে বসে টিভি দেখছে ড্রয়িংরুমে।তখন ফিরোজা বেগম এসে তার পাশে বসে রিমোটটা ছো মেরে নিয়ে নিলেন। আয়েশা শারুখখানের হিন্দি একটা মুভি দেখছিল। আর ফিরোজা বেগম এসেই সেটা বদলিয়ে তার পছন্দের ইন্ডিয়ান সিরিয়াল ধরলো।আয়েশার প্রচণ্ড রাগ হলো।কিন্তু মুখে কিছু প্রকাশ না করে সেখান থেকে রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো।ফিরোজা বেগম বুঝলেন আয়েশা রাগ করেছে।কিন্তু তিনি সে সবে পাত্তা দিলেন না। সিরিয়াল দেখায় মনোযোগ দিলেন।তার দুনিয়া এক দিকে আর সিরিয়াল এক দিকে।
প্রেম আর রাহি বাসায় ফিরেছে দুপুর বারোটার দিকে। ফিরেই প্রেম ঘুমিয়ে পড়েছে। ডাক্তার তাকে কিছুদিন বেড রেস্টে থাকতে বলেছেন।তাই কিছুদিনের জন্য পার্টি অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে সে।
রাহি এসেই আয়েশার রুমে ঢুকেছে আর মাথা নিচু করে মুচকি মুচকি হাসছে।আয়েশা শতবার জিজ্ঞেস করেও কোনো উত্তর পায়নি ।শেষে উত্তরের আশা ছেড়ে দিয়ে সেও বই পড়ায় মনোযোগ দিলো।এই মেয়ের সাথে এখন কথা বাড়িয়ে লাভ নেই,যখন মন চাইবে তখন নিজে থেকেই গরগর করে সব বলে দিবে।
সন্ধ্যা ছয়টা। খান বাড়িতে আজ মেহমান আসবে। আমজাদ খান এর বন্ধু। সাথে আরও কয়েকজন।তাই নানারকম আয়োজন হচ্ছে।
কিছুক্ষণ এর মধ্যেই মেহমান চলে আসলো।তারা মূলত এসেছে বিয়ের দাওয়াত দিতে। আমজাদ খান এর বন্ধুর মেয়ের বিয়ে আগামী শুক্রবারে। তিনি যেনো পরিবার সমেত সেখানে যান তাই নিজ দায়িত্বে তার বন্ধু তাকে ইনভাইট করতে এসেছে।
দুনিয়ার কম বেশি সবাই নাকি সুবিধাবাদী।উনার বন্ধুও তার সুবিধার জন্যই এসেছে।নিজের মেয়ের বিয়েতে যদি দেশের একজন এমপি উপস্থিত থাকে তাহলে যেকোনো কাজ করতে সুবিধা হবে।
আমজাদ খান এর বন্ধুর সাথে প্রেমের চেয়ে একটু কম বয়সি আর একটা ছেলে এসেছে। ড্রয়িং রুমে বসে সবাই গল্প করছে। হঠাৎ ছেলেটার কল এলো।সে সেখান থেকে সরে গেলো কথা বলার জন্য।কথা বলতে বলতে আয়েশার রুমের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ছেলেটা।
রাহি বিকালে ঘুমিয়েছে এখনও উঠেনি।আয়েশা নিচে আছে।রুম একদম ফাঁকা। দরজা আটকানো না শুধু একটু ভিড়ানো।
বাইরে দাঁড়ানো ছেলেটার চোখ পড়লো বিছনায় ঘুমন্ত এক পুতুলের দিকে। রাহির মুখ ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। ছেলেটার রাহিকে চেনা চেনা লাগলো।তাই কৌতূহল বশত দরজাটা হালকা ধাক্কা দিয়ে খুলতে গেলো।
কিন্তু তার আগেই প্রেম এসে তার হাত ধরে ফেলে।রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বলে ,
“হো আর ইউ রাসকেল?এখানে কি চায় তোর?কার পারমিশন নিয়ে আমার বোনের রুমে ঢুকছিলি?”
ছেলেটা প্রেমের রাগের কারণ বুঝতে পারে।অপরিচিত বাড়িতে কারো অনুমতি ছাড়া রুমে প্রবেশ কেউই ভালো চোখে দেখবে না।তার উপর যদি সেটা হয় একটা মেয়ের রুম।প্রেমের সাথে তার প্রথম ফার্স্ট ইমপ্রেশন টায় খারাপ হলো। ছেলেটার নাম কবির।কবির মাথা নিচু করে বলল,
“সরি,আসলে আমারই ভুল।আমি বুঝতে পারিনি ভাইয়া।”
“নেক্সট টাইম যেনো এমন ভুল না হয়। আউট।”
কবির চলে গেল।প্রেম রুমে ঢুকে দেখলো ঘুমন্ত রাহিকে।বাচ্চাদের মতো হাত পা ছড়িয়ে ঘুমোচ্ছে।কিন্তু প্রেমের তা সহ্য হলো না।ছেলেটা যদি এসে তার বউকে এভাবে দেখে ফেলতো।মুহূর্তেই রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো তার।
রাহির কাছে গিয়ে এক হ্যাঁচকা টানে বসিয়ে দিল রাহিকে। ঘুমের মধ্যে এভাবে বসিয়ে দেওয়ায় রাহি ভয় পেয়ে গেলো।প্রেমকে নিজের দিকে রাগে তাকিয়ে থাকতে দেখে কিছুটা থতমত খেলো।মনে মনে ভাবলো,
“এই অসভ্য লোক এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো?আমি আবার কি করলাম?”
তার মধ্যেই প্রেমের কণ্ঠ শুনতে পেলো,
“গেট আপ”
“আর কোথায় উঠবো? বিছানায় উঠে তো বসেই আছি,এখন কি আপনার কোলে উঠতে বলছেন?”
“চুপ বেয়াদব।এভাবে মরার মতো এখানে ঘুমাচ্ছিলে কেনো? এটা কি তোমার রুম?”
“মানুষ তো বিছানাতেই ঘুমায়। তাই আমিও বিছানায় ঘুমাচ্ছিলাম।আমি তো আর আপনার মতো গণ্ডার না যে বাথরুমের ফ্লোরে শুয়ে ঘুমাবো।”
রাহির তেড়া কথায় প্রেমের রাগ তরতর করে বেড়ে গেলো।এক টানে রাহিকে কোলে তুলে নেয় সে।এরপর নিজের রুমে নিয়ে চলে যায়। রাহিও কিছু বলে না।তার তো ভালোই লাগে যখন সে তার এমপি সাহেব এর রাগের মধ্যেও নিজের জন্য ভালোবাসা দেখতে পায়।কয়টা মেয়ের কপালে এমন ভালোবাসা জোটে।যদিও তার অসভ্য জামাই ভালোবাসার কথা স্বীকার করে না।তবুও সে ঠিকই বুঝতে পারে।আবার মাঝে মাঝে অনেক ভয় হয়,যদি সে অতীতের সবকিছুর মতো বর্তমানের এই আনন্দ ভালোবাসা আবার হারিয়ে ফেলে।
শুক্রবার,
সবাই বেরিয়ে পড়লো আমজাদ খান এর বন্ধুর মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে।রাহি যেতে চাইছিল না আমজাদ সাহেব জোর করে নিয়ে গেছেন।উনার এক কথা,তিনি রাহিকে একা বাড়িতে রেখে যাবেন না।প্রেম যাবে না আগেই বলে দিয়েছে।তাই সে অনেক আগেই পার্টি অফিসে চলে গেছে।
বিয়ে বাড়িতে পৌঁছে সবাই কুশোল বিনিয়ম করতে বেস্ত। রাহির কথা অনেকে জিজ্ঞেস করলে আমজাদ খান বলছেন রাহি উনার এক বড় ভাইয়ের মেয়ে,আয়েশার কাজিন। শান্তও এসেছে বিয়েতে।
রাহি আয়েশার সাথে বসে আছে।চারদিকে বড় বড় চোখ করে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে। হঠাৎ একটা ছেলেকে তার দিকে আসতে দেখে ভ্রু কুচকে গেলো তার।ছেলেটা এমন ভাবে এগিয়ে আসছে যেনো রাহিকে অনেক আগে থেকেই চিনে।
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৯
আয়েশার ফোন বাজছে।প্রেম কল করেছে। আয়েশা কল রিসিভ করলো।প্রেম খোঁজ খবর নিয়ে যেই ফোন কাটবে অমনি তার কানে ভেসে এলো এক পুরুষালি কণ্ঠস্বর।
“হাই,কেমন আছো রাহি বেবস?কতদিন পর তোমার সাথে দেখা।”
