Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৯

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৯

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৯
সুহাসিনী

“কি.. কি করতে চাইছেন আপনি?”দূরে থাকুন বলছি আমার থেকে।”
রাহি উঠতে নিলে প্রেম রাহির কোমড় জাপটে ধরে। নেশালো কণ্ঠে বলল,
“দূরে যাওয়ায় জন্য তো কাছে ডাকিনি তোমায় বেগমজান।আজকে যে তোমার সাথে বড্ড খারাপ কিছু হতে চলেছে।তার জন্য প্রস্তুত হও।এই হসপিটালের কেবিনের প্রতিটি কোণ, জিনিসপত্র, জানালা, ইট সবাই আজ আমাদের মিলনের সাক্ষী হতে চলেছে।”
“আপনি তো আমাকে বউ বলে মানেনই না আবার ভালোও বাসেন না তাহলে এসব করতে চাইছেন কেনো,খারাপ লোক।”
“মুখে হাজার বার তোমাকে অস্বীকার করলেও বাস্তবে তো তুমি আমার বউ, আর বউ এর সাথে ইন্টিমেট হতে ভালোবাসার দরকার হয় না, কবুল বললেই চলে।”
“আপনি কি সত্যিই আমাকে একটুও ভালোবাসেন না এমপি সাহেব।”
অসহায় সুরে বলল কথাটা রাহি।প্রেম রাহির কপালে পড়ে থাকা ছোট ছোট চুল গুলো খুব সযত্নে কানের পিঠে গুঁজে দিতে দিতে বলল,

“না বাসি না,একটুও ভালোবাসি না তোমাকে।সেটার প্রমাণই এখন দিতে যাচ্ছি আমি।”
রাহি প্রেমের কথার মানে বুঝতে পেরে চিবুক গলায় ঠেকালো।প্রেম লাইট অফ করে ডিম লাইট অন করলো।রাহি তা দেখে বললো,
“আপনি লাইট কেনো অফ করলেন বদ লোক?”
“তুমি কি পরিষ্কার লাইটের আলোতেই নিজেকে আমার কাছে সমর্পণ করতে চাইছো?আচ্ছা ঠিক আছে ,তোমার অধিকার আছে আমার সবকিছুও ফকফকা আলোতে দেখা,আবার আমারও অধিকার আছে।সমস্যা নেই আমি লাইট অন করে দিচ্ছি।”
প্রেম লাইট অন করতে নিলে রাহি বাধা দেয়।প্রেম রাহির কাণ্ডে মুচকি হাসে। রাহি আমতা আমতা করে বলল,
“আ.. আমি তো এখনো বাচ্চা। আমার স.. সাথে এসব করতে আপনার লজ্জা করবে না এমপি সাহেব?”
“বাচ্চারা বুঝি এসব করা বুঝে?”
“আপনিই তো বলেন আমি বাচ্চা,আমি কি বলেছি নাকি যে আমি বাচ্চা।”
“তাহলে স্বীকার করছ তুমি বাচ্চা না,তাহলে তো ওসব করায় যায়।”¹
রাহি আজকে কীভাবে প্রেমের হাত থেকে বাঁচবে তাই ভাবছে,এই লোক তো নাছোড় বান্দা।তবুও তো একটা শেষ চেষ্টা করায় যায়,

“আমার পিরিয়ড চলছে।”
প্রেমের কোনো পরিবর্তন দেখা গেলো না। স্বাভাবিক কন্ঠে বললো,
“জানি, তো??”
“তো মানে কি? আমার পিরিয়ড চলছে আর এই সময়ে এসব করা হারাম।”
প্রেম রাহির চুলের সুবাস নিতে নিতে উত্তর করলো,
“হুম ”
“তাহলে এখন ছাড়ুন আমাকে।”
আবারও একই ভাবে বললো,
“হুমম ”
রাহি এবার রেগে গেলো,
“কিসের হুম হুম লাগিয়েছেন।কথা বলা ভুলে গেছেন নাকি ”
প্রেম আবার,
“হুম ”
রাহি রাগ সামলাতে না পেরে বলে উঠে,
“আপনার বালের হুমম।”
প্রেম হালকা ঠোঁট বাকালো।

প্রেম রাহিকে আর বাড়তি কথা বলতে না দিয়ে নিজের কাজে লেগে পড়লো।রাহিকে বিছানায় ফেলে নিজে তার উপর ঝুঁকে গেলো।রাহি খিঁচে চোখমুখ বন্ধ করে ফেললো।প্রেম রাহির গলায় নাক ঘষলো কয়েকবার। এতে রাহি মিরকি রোগীর মতো বেঁকে গেলো।প্রেম বুঝতে পারল রাহির আবার কাতুকুতু লাগছে।প্রেম বিরক্তি হলো এবার।হাতের কাছে কিছু না পেয়ে নিজের পেন্টের বেল্ট খুলে রাহির হাত দুটো খাটের সাথে বেঁধে দিলো । রাহির চোখ বন্ধ থাকায় সে প্রথমে খেয়াল করেনি।যখন বুঝল তখন দেরি হয়ে গেছে।
রাহি মুখ কিছু বলতে নিবে তার আগেই প্রেম রাহির ঠোঁট নিজের দখলে নিয়ে নিলো।রাহি ছোটার জন্য ছটফট করছে কিন্তু কোনো লাভ নেই।শেষে না পেরে রাহি নিশ্চুপ হয়ে গেলো। সে বুঝে গেছে প্রেমের সাথে জোরজবরদস্তি করা মানে নিজের শক্তি অপচয় করা।তাই ছেড়ে দিলো। রাহিও প্রেমের এমন স্পর্শে কেমন বিমোহিত হতে শুরু করেছে। যতোই বয়সে ছোটো হোক, ধর্মীয় দিক দিয়ে তো প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে। এই ধরনের সকল অনুভূতি তার মাঝেও আছে। যতোই বাচ্ছামো করুক,নিজের ব্যক্তিগত পুরুষের এমন ব্যক্তিগত স্পর্শ নিজের মধ্যেও সেই সকল অনুভূতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে।

প্রেম ধীরে ধীরে রাহির ঠোঁট ছেড়ে গলায় নেমে এলো। রাহিও এবার বাধা না দিয়ে নিজেও এই পবিত্র খেলায় মেতে উঠলো, অনুভব করতে লাগলো প্রেমের সকল স্পর্শ।এবার র কোনো কাতুকুতু অনুভূত হলো না রাহির।প্রেমের প্রেমময় স্পর্শে এসব যেনো ভুলে বসেছে।
প্রেম রাহির গলায় নিজের রাজত্ব চালানোর সাথে সাথে তার হাত রাহির সমস্ত পেট জুড়ে বিচরণ করছে। রাহি যেনো কোনো ঘোরের মধ্যে আছে।সময় যত গড়াচ্ছে প্রেমের স্পর্শ ততো গভীর হচ্ছে রাহিকে এমন স্থির হয়ে থাকতে দেখে প্রেম এক পর্যায়ে তার হাতের বাঁধন খুলে দিলো। রাহি ছাড়া পেয়ে নিজের অজান্তেই প্রেমের পিঠ খামচে ধরলো।প্রেম নিজের গায়ের কাপড় অনেক আগেই খুলে ফেলেছিল।

প্রেম ধীরে ধীরে চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলো। বিসমিল্লাহ্ বলে হারিয়ে গেলো সবচেয়ে সুখপূর্ন মুহূর্তে। রাহির চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো কয়েক ফোঁটা।এই পানিতে মিশে আছে ব্যথা, সুখ, পরম প্রেম।
রাত গভীর হচ্ছে,এই রুমে এখন শুধু শোনা যাচ্ছে দুজনের গরম নিঃশ্বাসের শব্দ। সাথে চাপা কাতরতা।
অনেক সময় পরে প্রেম যখন নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে রাহির উন্মুক্ত বুকে মুখ গুজলো বুঝল রাহির নিঃশ্বাস কেমন থেমে থেমে চলছে।কোনো নড়াচড়া নেই।প্রেম কিছু একটা আন্দাজ করে তাড়াহুড়ো করে রাহির উপর থেকে উঠে রাহির গায়ে কাথা জড়িয়ে নিজেও পেন্ট পরে নিয়ে রুমের লাইট অন করলো।
দেখলো বেডের উপর রাহির দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। প্রেম রাহির এই অবস্থা দেখে হাতের দু আঙ্গুল দিয়ে কপাল স্লাইড করতে লাগলো।নিজে নিজেই বিড়বিড় করল,
“শিট, প্রথম দিনেই এত প্রেশার দেওয়া উচিত হয়নি। বাচ্চা মেয়ে সয়তে পারেনি।আমার কি দোষ,এতো বছর ধরে জমিয়ে রাখা ভালোবাসা একদিনে বের করলে তো এমন হবেই।”
এরপর রাহির কাছে বসে রাহিকে কয়েকবার ডাকলো কিন্তু কোনো সাড়া পেলো না। পানিও দিলো চোখে,কোনো লাভ হলো না।শেষে উপায় না পেয়ে রাহিকে কোনমতে জামা পড়িয়ে ওই হাসপাতালের একজন মহিলা ডাক্তারকে ডাকলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাক্তার আসলো। ডাক্তার প্রেমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল,

“আমি তো শুনেছি আপনি অসুস্থ,তাহলে এই মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে আর আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?”
“অর জন্যই আপনাকে ডাকা হয়েছে।দেখুন ওকে।”
“কি হয়েছে উনার?অজ্ঞান হলো কি করে?”
“রাতের ওভার ডোজে।”
“মানে?কে হয় আপনার এই পিচ্চি মেয়ে?”
“আমার কাজিন।”
“আপনি দেশের এমপি হয়ে রেপ করেছেন? ছিঃ,আপনাকে তো ভালো ভেবে আমরা ভোট দিয়েছিলাম।আপনারা যদি এভাবে অন্যায় করেন তাহলে দেশের কি হবে।”
“ধুর বাল, কাজিন কি বউ হতে পারে না।শুয়ে থাকা মহিলা আমার তিন কবুল পড়া বউ।”
ডাক্তার জিভ কাটলেন।
“এটা কি উনার প্রথম বার ছিল?”
“হুম”

“প্রথম তো তাই এত চাপ সহ্য করতে পারেনি।আপনারও খেয়াল রাখা উচিত ছিল।এইরকম একটা বাচ্চার সাথে আর পর থেকে নিজেকে কন্ট্রোল করে কাজ শেষ করবেন।”
প্রেম কিছু বলল না। ডাক্তার আবার বলল,
“আমি পেইনকিলার দিয়ে যাচ্ছি,সাথে কি অন্য কিছু ঔষধ ও দিয়ে যাচ্ছি। জ্ঞান ফিরলে কিছু খাইয়ে ওষুধগুলো খাইয়ে দিবেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরবে আশা করছি।”
“হুম।”
ডাক্তার চলে যেতে যেতে বিড়বিড় করলো,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৮

“জামাই অসুস্থ দেখে হাসপাতালে জামাই এর সেবা করতে এসে জামাই এর আদরের ওভার ডোজে বউ এখন নিজেই রোগী।”
ডাক্তার মুচকি হেসে চলে গেলো।ডাক্তারের বলা সব কথায় প্রেমের কানে এলো।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩০