এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৮
সুহাসিনী
রাহি ছাড়া পাওয়ার জন্য হাসফাঁস করছে। বাইরে আমজাদ খান দাঁড়িয়ে।এই লোকের তো লজ্জা বলতে কিচ্ছু নেই, নিজের বাবা কখন থেকে ডেকে যাচ্ছে গিয়ে কোথায় দরজা খুলবে তা না করে বউকে পিষে মারতে বেস্ত।রাহি অপারক হয়ে বললো,
“ছেড়ে দিন বলছি,নয়তো আমি কিন্তু চিৎকার করবো এবার।”
প্রেম ভাবলেশহীন ভাবে জবাব দিলো,
“কিছু করার আগেই চিৎকার করবে? বাহ্,ভালো ভালো,করো।”
“আপনার কি লজ্জা সরম বলতে কিচ্ছু নেই এমপি সাহেব?”
“নাহ্ নেই, আর এখানে লজ্জা পাওয়ার কি আছে? তুমি চিৎকার করবে আর বাইরে সবাই শুনবে, এটায় তো আমার প্রাপ্তি বউ।”
“ধুর আপনার সাথে তর্ক করায় ভুল।”
“তাহলে চলো অন্য কিছু করি।”
রাহি এবার আমতা আমতা করে বলল,
“অ.. অন্য কিছু মা.. মানে?”
প্রেম কিছু বলতে নিবে অমনি আমজাদ খান আবার খ্যাক খ্যাক করে ডেকে ওঠেন,
“প্রেম আমি শেষ বারের মতো বলছি দরজা খোলো।”
প্রেম এবার না পেরে রাহির উপর থেকে উঠে গেলো।রাহি ছাড়া পেয়ে জামাকাপড় ঠিক করে তাড়াতাড়ি এসে দরজা খুলে দিলো।আমজাদ খান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে একবার দেখলেন রাহিকে পরপর প্রেমের দিকে কয়েকবার তাকালেন।এর পর রাহিকে বললো,
“তোমাকে কি মেরেছে এই বজ্জাত ছেলে? একে তো বিশ্বাস নেই,এই ছেলে শুধু ওৎ পেতে থাকে আমাকে জ্বালানোর জন্য আর তোমাকে মারার জন্যে।”
রাহি যেনো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পেয়ে গেলো।কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
“উনি খুব বাজে বাবা।আমাকে অনেক ব্যথা দিয়েছে।আমাকে দরজাও খুলতে দিচ্ছিল না।আমাকে হুমকি দিয়েছে আমি যেনো ওনার আঘাতের কথা কাউকে না বলি।”
রাহির এই রূপ দেখে প্রেমের চোয়াল ঝুলে যাওয়ার অবস্থা।কি ধড়িবাজ মেয়ে ভাবা যায়।প্রেম গম্ভীর স্বরে বলল,
“তা কোথায় কোথায় আঘাত করেছি সেটাও বলে দাও তোমার শ্বশুরকে।উনি তো আবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস না করলেও তোমাকে ঠিকই করবে।বলো তোমাকে কীভাবে আটকে রেখেছিলাম, আঘাত গুলো দেখাও উনাকে।”
প্রেমের কথায় আমজাদ খান বিচলিত হয়ে রাহিকে বললো,
“কোথায় মেরেছে ওই বেতমিজ তোমাকে?আমাকে দেখাও আম্মু,চলো নার্সের কাছে যায়,উনি ব্যথার ঔষুধ দিবে।তারপর এই হারাজাদাকে সাইজ করবো আমি।”
রাহি এবার মিথ্যা বলে বিপদে পড়ে গেলো।কোথায় চেয়েছিল প্রেমকে ফাঁসাতে মাঝখান থেকে নিজেই ফেঁসে গেলো।
“তেমন ব্যথা দেয় নি।শুধু হাত শক্ত করে চেপে ধরেছিল যেনো দরজা খুলতে না পারি। আর প্রথমে একটা জোরে থাপ্পড় মেরেছিল।”
প্রেম চোখ বন্ধ করে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিলো।রাহির কথা শেষ হতেই লিয়ন বললো,
“আমরা তো কোনো থাপ্পড়ের শব্দ পায়নি ভাবি।”
রাহি তড়িৎ গতিতে লিয়নের দিকে তাকালো।রাহির এভাবে তাকানো দেখে লিয়ন বললো,
“আসলে আপনি তো বললেন জোরে থাপ্পড় মেরেছে ভাই আপনাকে।যদি থাপ্পড় বেশি জোরেই হতো তাহলে তো আমরা বাইরে থেকেই শব্দ শুনতে পেতাম।আমি তো জানি ভাইয়ের জোরে থাপ্পড়ের শব্দ এবং ব্যথা কেমন।কারণ সেটা হজম করার অভ্যাস আছে আমার।”
শেষের কথাটা খুব হতাশার সুরে বলল লিয়ন। রাহি বিড়বিড় করে বলল,
“ভাইয়ের চামচা।সারাদিন কিছু না খেয়ে মনে হয় শুধু তার ভাইয়ের গুই খায়।”
রাহির কথা কারো কানে এলো না।আমজাদ খান বললো,
“থাপ্পড় যেমনই হোক।মেরেছে তো। ও জ্ঞান ফেরার সাথে সাথে রাহিকে ডেকে এনে থাপ্পড় মারল কেনো এর জবাব ওকে দিতেই হবে।”
প্রেম ভাবলেশহীন ভাবে বললো,
“আমার বউ আমার যা মন চায় তাই করবো।আমার বউকে আমার যখন মন চাইবে তখন থাপ্পড় দিবো আবার যখন মন চাইবে তখন চুমু দেবো, তাতে তোমার এতো জ্বলছে কেনো?তোমার মন চাইলে তুমিও তোমার বউ এর উপর অধিকার খাটাও,যদি তোমার বউ অধিকার খাটাতে না দেয় তাহলে দরকার পড়লে আর একটা বিয়ে করে তার উপর অধিকার খাঁটাও।শুধু শুধু আমাকে ডিস্টার্ব করো না তো আব্বু।”
আমজাদ খান ছেলের কথা শুনে রাগে তেতে উঠলেন।তিনি ভেবে পেলেন না একজন হার্ট ব্লক হওয়া রুগী কীভাবে হাসপাতেলের বেডে শুয়ে নিজের বাবার সাথে এভাবে কথা বলতে পারে।এটা শুধু তার এই নির্লজ্জ ছেলের দ্বারাই সম্ভব।
“তুমি আর ভালো হলে না প্রেম।”
“এতে আমার কোনো দোষ নেই,হয়তো তোমার ডিএনএ তে কোনো প্রবলেম ছিল তাই আমি এমন।”
প্রেমের উত্তর শুনে তিনি বাকহারা হয়ে গেলেন।এই ছেলেকে তিনি যায় বলবেন না কেনো এই ছেলে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শেষে তার ঘাড়েই দোষ চাপাবে।
প্রেমের কথা শুনে লিয়ন ফিক করে হেসে দিলো।মুহূর্তেই আবার সেই হাসি গিলে নিলো।আমজাদ খান বুঝলেন এই ছেলের সাথে কথা বাড়ালে নিজেরই মানসম্মান ক্ষয় হবে তাই তিনি গম্ভীর গলায় বললেন,
“ডাক্তার বলেছে তোমাকে কিছুদিন রেস্ট নিতে।অতিরিক্ত চাপে এমন হয়েছে।আজকে রিলিস দিবে না। কাল হয়তো দিবে।আজকে তোমাকে এখানেই থাকতে হবে।তোমাকে দেখে তো সুস্থই মনে হচ্ছে।তুমি আর লিয়ন আজকে এখানেই থাকবে,আমি আর রাহি আম্মু চলে যাচ্ছি।”
আমজাদ খানের কথা শেষ হতেই প্রেম বললো,
“তুমি চলে যাও তোমাকে আমি ধরে রাখিনি। আর সাথে লিয়নকেও নিয়ে যাও,আমি আর আমার পার্সোনাল মোমেন্টে কারো ডিস্টার্ব চাইছি না।”
আমজাদ খান ছেলের কথার মানে বুঝলেন না।
“তুমি কি একায় থাকবে তাহলে?”
“আমি কখন বললাম একা থাকবো। স্বামী অসুস্থ থাকলে বউ তার সেবা করে।তাহলে আমার বেলায় এর উল্টো হবে কেনো?আমার সেবা লিয়ন কেনো করতে যাবে?সে কি আমার কবুল বলে বিয়ে করা বউ?”
“রাহিকে রাখতে চাইছো তোমার সাথে?”
“নিজের ইচ্ছেতে কবুল বলি আর অন্যের জোরাজোরিতে,কবুল তো বলেছি,তাহলে আমার বউই থাকবে আমার সাথে।”
আমজাদ খান বুঝলেন তিনি শত চেষ্টা করেও এই ছেলের মুখ দিয়ে সোজা কথা বের করতে পারবেন না।সবসময় ঘাড়তেড়ামি করতেই হবে ওকে।
রাহি বললো,
“আমি থাকবো না এখানে,আমি উনার সাথে থাকলে উনি আবার আমার সাথে যদি কিছু করে?”
“কি করবো আমি তোমার সাথে?”
“য..যদি তখনকার মতো মা.. মারেন।”
“একদিন না হয় তখনকার মতো মার সহ্য করলে। স্বামীর জন্য এতটুকু করতে পারবে না?তাহলে জান্নাতে যাবে কি করে?”
রাহি কিছু বলল না।এই লোককে কিছু বলে কোনো লাভ নেই ।যেটা একবার চিন্তা করবে সেটায় করবে এই খবিশ লোক।
আমজাদ খান আর লিয়ন চলে গেলো রাহিকে রেখে।তবে যাওয়ার আগে সাবধান করে গেলো প্রেমকে যেনো সে রাহির কোনো ক্ষতি বা আঘাত না করে।যার।উত্তরে প্রেম বিড়বিড় বলেছিল,
“তোমার বউমার ক্ষতি যদি না করি তাহলে তো আমাদের বংশ এখানেই শেষ হয়ে যাবে।আমার ডিএনএ তো কারো মাঝে যাওয়ার অপেক্ষা করছে,সে তো আর ছোটো বড় মানতে চাইছে না।”
আমজাদ খান প্রেমের এই কথা না শুনলে লিয়ন ঠিকই শুনেছিল। আর প্রেমকে চিয়ার আপ করে গেছে।
লিয়ন চলে যাওয়ার আগে নার্স কে দিয়ে রাহি আর প্রেমের জন্য খাবার পাঠিয়ে দিয়ে গেছে।রাহি প্রেমকে খাইয়ে দিয়ে নিজে খেতে বসেছে।এর মধ্যে একজন মধ্যবয়স্ক লোক এলো নার্সের সাথে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে উনি ডাক্তার।লোকটার বয়স আমজাদ খান এর সমান হবে।প্রেমকে চেকআপ করে যাওয়ার সময় চোখ পড়ে সোফায় বসে মনোযোগ দিয়ে খাওয়ায় বেস্ত রাহির দিকে। তিনি রাহিকে ভালো করে পরখ করে প্রেমের উদ্দেশ্যে বললেন,
“এটা কে প্রেম?”
প্রেম কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
“আমার কাজিন”
প্রেমের উত্তর শুনে রাহির কাশি উঠে গেলো।লোকটা তাড়াতাড়ি পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললেন,
“একটু আস্তে খাও মা।”
রাহি পানি খেয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করলো।লোকটা আবার বলল,
“তোমার বিয়ে হয়েছে?”
রাহি সাথে সাথে উপর নিচ মাথা নাড়ালো।পরক্ষণেই চোখ গেলো প্রেমের দিকে,সাথে সাথে আবার না সূচক মাথা নাড়ালো।রাহির এমন করা দেখে ডাক্তার ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।উনার এমন দৃষ্টি ভঙ্গি দেখে রাহি বললো,
“আ..আমি পড়াশোনা করছি।”
ডাক্তার মুচকি হেসে রাহির মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেলেন।রাহি খাওয়া শেষ করে দরজা লাগিয়ে দিয়ে আবার সোফায় গিয়ে বসলো।
প্রেম বললো,
“কি হয়েছে?”
“আজকে নিপাকে নিয়ে এসেছিলাম বাড়িতে কিন্তু আর সাথে তো সময়ই কাটাতে পারলাম না।সকাল হলেই চলে যাবে,আবার কবে না কবে দেখা হয়।”
“জামাইকে সময় দিতে না পারলে তো এত মন খারাপ হয় না, আর এখন বান্ধবীর জন্য দুঃখ বিসর্জন দিচ্ছ।”
রাহি কিছু বলল না।প্রেম আবার বলল,
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৭
“কাছে এসে বসো।”
“নাহ্, তখন কার মতো আপনি আবার খারাপ কিছু করবেন।”
“তখন কার মতো কিছুই করবো না।”
রাহি গিয়ে বসলো প্রেমের পাশে।
প্রেম দু হাত দিয়ে রাহির কোমড় জড়িয়ে ধরে বলল,
“তখনকার মতো কিছু করব না তবে তখনকার চেয়েও খারাপ কিছু করব বেগমজান , লেটস স্টার্ট।”
