Home এক মুঠো চাঁদের আলো এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৮

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৮

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৮
নুসরাত ফারিয়া

ঘড়ির কাঁটায় সকাল আটটা ছুঁইছুঁই। ড্রয়িংরুমে চিন্তিত মুখে পায়চারি করেছেন সোবহান খান। সকাল সকাল উনার এত চিন্তার কারণ হচ্ছে উনারই বড় নাতি। সকালে ছেলেটাকে দেখতে না পেয়ে কল দেন। কিন্তু ফোন বন্ধ। তারপর দারোয়ানের থেকে জানতে পারেন আধার রাতেই বেরিয়েছে। এটা শোনার পর থেকে উনার অশান্ত মনটা কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না। এত সময় হয়ে গেল, অথচ ছেলেটার বাড়িতে ফেরার কোনো নামগন্ধ নেই। আজ আসুক খালি! তারপর আচ্ছা মতো বকা দিবেন। ছেলেটা দিন দিন ভীষণ অবাধ্য হচ্ছে।
উনার ভাবনার মাঝেই দরজার কলিং বেল বেজে উঠল। তিনি দ্রুত পায়ে সেদিকে ছুটলেন। দরজা খুলে কিছু কঠিন বাক্য বলার আগেই এক মূহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলেন। চোখের সামনে কলিজা টুকরো নাতির ছন্নছাড়া রূপ দেখে বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। ছেলেটার পুরো শরীর ভেজা, কাদামাটি-তে মাখামাখি অবস্থা প্রায়। চেহারা, চোখদুটো ভীষণ লাল হয়ে আছে। উনার বুঝতে একটুও বাকি রইল না, এই ছেলেটা সারারাত কোথায় ছিল। মাঝরাতে বৃষ্টি এসেছিল আর ছেলেটা বাইরে থেকেছে। এটা ভাবতেও কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে সোবহান খানের। তিনি এগিয়ে এসে ধরতে গেলে আধার বাঁধা দিয়ে বলল,

-“উঁহু…আমি নোংরা দাদাজান।”
-“কে বলেছে তুমি নোংরা? তুমি ভীষণ পবিত্র।”
নাতির কথায় ঘোর আপত্তি জানিয়ে সোবহান খান ছেলেটার শরীরে হাত রাখলেন। তারপর দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। তিনি ঠিকই ধরেছেন, জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। অথচ ছেলেটা নির্বিকার! আধার জুতা খুলে পাশ কাটিয়ে এলোমেলো পায়ে হেঁটে দোতলায় উঠে গেল। সোবহান খান নাতির যাওয়ার পথে তাকিয়ে থেকে আবারো দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। তারপর পাঞ্জাবির পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করে পরিচিত ডাক্তারের কাছে কল দিলেন। কারণ এই সময়টাতে ছেলেটার জ্বরের সাথে সাথে মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথাটাও ওঠে।
ডক্টর এসে আধারকে চেক-আপ করে কিছু মেডিসিন লিখে দেন। সেগুলো ড্রাইভারের হাত দিয়ে আনিয়ে নেন সোবহান খান। ছেলেটার ১০৫° জ্বর এসেছে। তিনি চিন্তিত মুখে দোতলা থেকে নামার সময় খেয়াল করলেন তাহমিনা খান কোথাও যাওয়ার জন্য বেরিয়েছে।

-“কোথাও যাচ্ছো ছোট বউমা?”
শশুরের কথায় থেমে যান তাহমিনা। পিছনে ফিরে তাকিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল,
-“জী বাবা। রাতের নানু বাড়িতে যাচ্ছি। ছেলে-মেয়ে দুটো ওখানেই আছে। বাবা বারবার করে যেতে বলছে। এতগুলো বছর পর ছেলেটা দেশে ফিরেছে এইজন্য ওখানে কিছুদিন থাকবে। আপনি চিন্তা করবেন না, আমরা জলদিই ফিরে আসব। আর শেফালিকেও বলেছি যত দ্রুত সম্ভব গ্রাম থেকে যেন চলে আসে। আশা করছি আপনাদের কোনো সমস্যা হবে না।”
ছোট বউমার কথা শুনে আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন সোবহান খান। একদিকে বড় নাতিটা অসুস্থ আর এরা মা-ছেলেরা মিলে ঘোরাফেরা নিয়ে ব্যস্ত। তিনি কিছু বলতে চেয়েও বললেন না৷ যেখানে নিজ থেকে কিছু জানার প্রয়োজন মনে করেনি, সেখানে যেচেপরে কিছু বলার দরকার নেই। তাই তিনি কথা ঘুরিয়ে শান্ত গলায় বললেন,
-“ঠিক আছে বউমা। সাবধানে যেও!”

তাহমিনা খান বিদায় দিয়ে চলে যায়। একবারের জন্যও বড় ছেলেটার খোঁজ নিলেন না। কারণ উনার জানা মতে এই সময়টাতে আধার ভার্সিটিতে থাকে। আর উনি ঘরে থাকায় খেয়ালও করেননি বাড়িতে ডাক্তারও এসেছিলেন।
ভার্সিটিতে এসে আলোর কেন জানি ভালো লাগছে না। এর পিছনে হয়তো স্যারকে দেখতে না পাওয়ার কারণ রয়েছে। মানুষটা কখনো অহেতুক ছুটি কাটায় না। খুব বেশি প্রয়োজন হলে ছুটি নেয়। নয়তো উনি বেশ দ্বায়িত্বশীল নিজের পেশার ওপর। কিন্তু আজ হঠাৎ এমন কি হলো যে বিনা নোটিশ এ-ই ভার্সিটিতে এলেন না? গতকাল তো মানুষটাকে ভালোই দেখেছিল, তাহলে এক রাতের মধ্যে কি হলো? ধুর! সে কেন এসব ভাবছে? ওই বদ লোকটা শুধু একদিন কেন? একশো দিন না আসুক। এতে তার কী?
আলো আকাশপাতাল ভাবতে ভাবতে দোতলার করিডোর দিয়ে হেঁটে নিচে আসছে। তখন খেয়াল করল তূর্ণ স্যার ফোনে কথা বলতে বলতে যাচ্ছে। সে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় লোকটার বলা কিছু বাক্য শুনে হঠাৎই থমকে গেল।
-“নো, নো দাদাজান! আপনি চিন্তা করবেন না একদম। আমি এইদিকের ব্যাপারটা সামলে নিয়েছি৷ আর ওর ক্লাসগুলোও আমি নিয়েছি। আপনি আপনার নাতির খেয়াল রাখুন। এসব নিয়ে ভাবতে হবে না। ও যতদিন না সুস্থ হচ্ছে ততদিন নাহয় আমি সবকিছু দেখে নেবো। এই নিয়ে স্যারের সাথে কথা হয়েছে। উনি আধারের ছুটি মনজুর করেছেন।”

অপর প্রান্ত থেকে কি বলল সেটা শুনতে পেল না আলো। তবে যেটুকু শুনতে পেয়েছে এতেই বোঝা হয়ে গেল, লোকটা অসুস্থ! যার জন্য আজ আসতে পারেননি। আলো এলোমেলো পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতে শুরু করল। এমনিতেই তার মনটা ভালো ছিল না, আর এখন আরো বিষাদে ভরে গেল। মন ভালো করার জন্য ক্লাস মিস দিয়ে একা একা টইটই করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভুল করেছে। আলো ক্যাম্পাসে এসে ভাবল—স্যারকে একবার দেখতে যাবে। সামনে পা বাড়াতে আবার পরক্ষণে কিছু একটা ভেবে থেমে গেল। যেখানে কেউ তাকে কিছু জানায়নি, সেখানে সে কেন যাবে? দাদাজান তো একটিবারের জন্য তাকে বলতে পারত। অথচ মানুষটাও তাকে পর করে দিয়েছে। আলো জোরে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উল্টো ঘুরে ভেতরে চলে গেল। যাবে না সে কাউকে দেখতে!
ঘড়ির কাটা তখন দুপুর বারোটার ঘরে! নিরিবিলি রান্নাঘরে একা দাঁড়িয়ে থেকে সোবহান খান টুকটুক করে রান্নার যোগাড় করছেন। ছেলেটার দুপুরের ঔষধ রয়েছে। এখনো জ্বর কমেনি, উল্টো ধীরে ধীরে বাড়ছে। ডক্টর বলেছেন সময়ের সাথে সাথে কমে যাবে, হয়তো একটু সময় লাগবে এই। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ আধারের এমন জ্বর প্রায়শই হয়।

বৃদ্ধ মানুষ একা একা সবকিছু কীভাবে সামলাবেন বুঝতে পারছেন না। একবার ভেবেছিলেন নাতবউকে আসতে বলবে। কিন্তু পরে বিবেকে বাঁধল! এমনিতেই তার জন্য মেয়েটার সুন্দর জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেছে। সেখানে আবার শুধু শুধু মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে কী লাভ? ওই মেয়েটা যদি ভাবে? তাকে শুধু বিপদের সময়ই প্রয়োজন হয়! তাছাড়া সে এই বাড়ির কেউই না। মেয়েটির মনে যেন কোনোরকম ভুল ধারণা না জন্মায় সেজন্য তিনি নাতির অসুস্থতার কথা বলেননি৷ কারণ তিনি ভয় পান নাতবউকে হারিয়ে ফেলার। তিনি মনে মনে খুব করে চান, তার ছন্নছাড়া নাতির জীবনে ওই মেয়েটাই থাকুক। তিনি চাইলে পারতেন সব অতীত মেয়েটাকে বলতে! কিন্তু তারপর কি হতো? মেয়েটা নিশ্চয়ই দয়া করে কিংবা খারাপ অতীত জেনে থেকে যেত। কিন্তু তিনি তো এমনটা চান না। শুধু চান, আলো কিছু না জেনেও যেন আধারকে মন থেকে ভালোবেসে আগলে নেয়। নয়তো তার অদ্ভুত নাতিটা কখনোই ভালো হবে না। এসব ভেবে শব্দ করে নিঃশ্বাস ছাড়লেন সোবহান খান। শরীর না চললেও নাতির জন্য এইটুকু কষ্ট করাই যায়। কারণ তার খুব আদরের নাতি যে!
সবজিগুলো টুকটুক করে কাটার সময় দরজার কলিং বেল বেজে উঠল। এই অসময়ে আবার কে এল ভাবতে ভাবতে ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন সোবহান খান।

-“ন…নাতবউ তুমি?”
চৌকাঠের বাইরে দাঁড়ানো মেয়েটাকে দেখে বিস্মিত হয়ে অস্ফুটস্বরে বলে উঠেন সোবহান খান। আলো কপালের ঘাম মুছে আমতাআমতা করে বলল,
-“এই রাস্তা দিয়ে বান্ধবীর বাড়িতে যাচ্ছিলাম। তখন ভাবলাম তোমার সাথে একটু দেখা করে যাই আরকি।”
সোবহান খান চোখ জোড়া ছোট ছোট করে মেয়েটার চোখের দিকে তাকায়। এই মেয়েটা নির্ঘাত মিথ্যে কথা বলছে। কারণ তার জানা মতে এই রাস্তা দিয়ে কোনো বান্ধবীর বাড়িতেই যাওয়া যায় না। অন্যদিকে, দাদাজানকে নিজের দিকে এমন সন্দেহের চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে আলো কপাল চুলকিয়ে বলল,
-“এখন কী বাহিরেই দাঁড়িয়ে থাকব?”
-“ভেতরে এসো।”
সোবহান খান দরজা থেকে সরে গেলেন। আলো গুটিগুটি পায়ে ভেতরে ঢুকে আড়চোখে আশেপাশে তাকায়। তারপর জিজ্ঞেস করল,

-“সবাই কই দাদাজান?”
-“ছোট বউমা তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে গিয়েছে। আর শেফালি তার গ্রামের বাড়িতে।”
-“ছেলে-মেয়ে মানে? আধার স্যারও গিয়েছে? কিন্তু উনি তোমাকে একা রেখে যেতে পারল?”
-“আধার নয়! রাত।”
আলোর কপাল কুঁচকে গেল। এই রাত ব্যাডা আবার কে! পরক্ষণে মনে পরল তার ছোট শাশুড়ীর আরেকটা ছেলে রয়েছে। মানে নিজের ছেলে আরকি। তাই সে আর মাথা না ঘামিয়ে খোলা রান্নাঘরে উঁকি মে’রে বলল,
-“বাই এনি চান্স….তুমি কি রান্না করছিলে?”
সোবহান খান রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে ধীর কণ্ঠে বললেন,
-“হুম! ছেলেটা অসুস্থ৷ আর দুপুরে ঔষধ রয়েছে।”
আলো একবার দোতলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“কী হয়েছে উনার দাদাজান? গতকালই তো সুস্থ ছিলেন।”
-“জ্বর এসেছে আর মাইগ্রেনের ব্যথা উঠেছে এই।”
একটু থেমে পুনরায় বলল,

-“এসে ভালোই করেছো। এখন তোমার স্বামীর কাছে যাও!”
আলো কাঁধের ব্যাগ সোফার ওপর রেখে ছুটে এসে বলল,
-“তুমি তোমার নাতির কাছে গিয়ে বসো। আর উনার কপালে জলপট্টি দাও। আমি রান্না করছি।”
-“সমস্যা নেই নাতবউ। আমি পারব।”
-“ওওও তাই নাকি? ঠিক আছে। তাহলে পাঁচ রকমের ঝাল ঝাল ভর্তা জলদি বানিয়ে ফেলো। সাথে ইলিশের লেজের ভর্তাও। উনার যেহেতু জ্বর এসেছে, তাহলে মুখ তেঁতো হয়ে আছে। এমনিতেই তোমার নাতি সারাক্ষণ তেঁতো তেঁতো কথা বলে। আর এখন তো দিগুণ বলবে। এইসময় ঝাল ঝাল ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে মজা লাগে। মুখের রুচিও ফিরবে। সো…তাড়াতাড়ি বানাও!”

নাতবউয়ের কথা শুনে সোবহান খানের চোয়াল ঝুলে পড়ল৷ তিনি তো ভেবেছিলেন মাছ দিয়ে সবজি রান্না করবেন। কারণ তিনি রান্নাবান্না খুব বেশি জানেন না। আগে যা জানত সেগুলোও ভুলে বসেছে। তবুও নাতির কথা ভেবে এই রিস্কটা নিতে হয়েছে। অবশ্য এটা আধার জানে না। যদি জানত তাহলে কখনোই তাকে রান্নাঘরে আসতে দিত না, দরকার হলে অসুস্থ শরীর নিয়ে ও নিজেই সব করত।
আলো মিটমিট করে হেঁসে একটা পাত্রে পানি ঢেলে ওটা দাদাজানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
-“স্যারের কাছে যাও দাদাজান। আমি এইদিকটা দেখে নিচ্ছি!”
সোবহান খান অপলক নয়নে মেয়েটার মাসুম মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখের পানি আড়াল করে চলে গেলেন। আর আলো কোমরে ওড়না বেঁধে দ্রুত রান্না করতে শুরু করে দিল। সে তখন যতই বলুক এখানে আসবে না, কিন্তু পরে ঘুরেফিরে সেই এখানেই এল। কারণ তার মনটা দিন দিন বড়োই অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে। কিছুতেই তার কথা শুনতে চাইছে না। ফলস্বরূপ না চাওয়া স্বত্ত্বেও সে এখন সশরীরে খান বাড়িতে উপস্থিত!
নিজের উষ্ণ কপালের মাঝে শীতলতা টের পেয়ে আস্তে করে রক্তিম চোখ জোড়া মেলে তাকায় আধার। সোবহান খান নাতির পাশে বসে থেকে কপালে জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছেন। আধার কিছু না বলে চুপচাপ শুয়ে থাকল।
-“সবসময় কেন এমন করো দাদুভাই? নিজের ওপর কি তোমার একটুও মায়াদয়া নেই?”
আধার ছাঁদের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীর কণ্ঠে বলল,

-“দয়ামায়া আছে বলেই এখনো এই আমিটার অস্তিত্ব পৃথিবীতে রয়েছে। নয়তো কবেই….
-“চুপ! চুপ করো। এমন অলক্ষুণে কথা কখনো কইবা না। তুমি দীর্ঘজীবী হও! আর আমার সমস্ত আয়ু তোমার হোক।”
নাতির কথার বিপরীতে কঠোর গলায় প্রতিবাদ করলেন সোবহান খান। আধার আনমনে হেঁসে চোখ বুজে নিল। মাথাটা ব্যথায় ছিঁ’ড়ে যাচ্ছে তার! সোবহান খান আর কিছু না বলে চুপচাপ নিজের কাজ করতে লাগলেন।
ধীরে ধীরে সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। পুরো রুমের পিনপতন নীরবতাকে ভেঙে দিয়ে এক জোড়া নূপুরের রিনঝিন শব্দ ভেসে এল। মৃদু শব্দ কর্ণধারে পৌঁছাতেই চট করে চোখ মেলে তাকায় আধার। কোনোভাবে কী ওই ত্যাড়া মেয়েটা এখানে এসেছে? কিন্তু ও এখানে কীভাবে আসবে? তাহলে কি সে ভুল অনুভব করছে? উমমম….হয়তো!
আধার নিজের ভাবনাকে ভুল ভাবল। কিন্তু পরক্ষণেই তার অনুভবকে সত্যি প্রমাণিত করে দিয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল আলো। আধার কপাল কুঁচকে মেয়েটার লালচে চেহারার দিকে তাকায়। জ্বরের ঘোরে ভুল দেখছে ভেবে নজর সরিয়ে চোখ বুজে নিল। কারণ এই মেয়েটার এখানে আসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

-“স্যারকে খাবার ও ঔষধ খাইয়ে দাও দাদাজান। আমি গোসল নিয়ে আসছি। গরমে অবস্থা খারাপ!”
আলো বিছানার পাশে থাকা টি-টেবিলের ওপর প্লেট রাখতে রাখতে কথাগুলো বলে। মেয়েটার কণ্ঠস্বর শুনে আধার আবারো চোখ মেলে তাকায়। তখনই মেয়েটার সাথে চোখাচোখি হয়ে যায়। তবে আলো বেশিক্ষণ না তাকিয়ে থেকে ওখান থেকে সরে গেল। আধার উঠে আধশোয়া হয়ে বসে হেড বোর্ডে হেলান দিয়ে কপাল কুঁচকে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইল। আলো আলমারির সামনে এসে থম মে’রে দাঁড়িয়ে থাকল। এখান থেকে বাপের বাড়িতে যাওয়ার সময় সবকিছু নিয়ে যায়নি। তার অর্ধেক জিনিসপত্রই এখানে থাকার কথা। সে শুধু নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিয়েছিল। বাকীটা এখানেই রেখে গিয়েছে। কিন্তু এখন সেগুলো আদৌ আছে কিনা বুঝতে পারছে না। কারণ তাদের ডিভোর্স হওয়ার কথা ছিল। সেখানে তার জিনিসপত্র রাখার তো কোনো কারণই নেই। তবুও সে একরাশ দ্বিধা নিয়ে আস্তে করে আলমারি খুললো। উদ্দেশ্যে ছিল, নিজের পোশাক না পাইলে আজ ইচ্ছে মতো ধুয়ে দিবে স্যারকে। কিন্তু তার আশায় এক বালতি জল পড়ে গেল। কারণ তার সবকিছুই সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা রয়েছে। যেমনভাবে সে রেখে গিয়েছিল।
আলো চুপচাপ নিজের পোশাক নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। ঘামে ভেজা শরীরটা চিটচিট করছে!

-“ও এখানে কই থেকে উদয় হলো?”
-“যেখান থেকেই উদয় হোক, তাতে তোমার কী?”
সোবহান খান ভর্তা দিয়ে ভাত মাখতে মাখতে জবাব দিল। আধার চোখমুখ কুঁচকে ফেললো। তার ত্যাড়ামি করা ঠিক আছে, কিন্তু অন্য কেউ তার সাথে ত্যাড়ামি করুক সেটা মোটেও পছন্দ না। ওই যে কথায় আছে না? নিজের বেলা ষোল আনা আর পরের বেলায় চার আনা! ঠিক তেমন আধার খানও।
-“তুমি ওকে আমার অসুস্থতার কথা বলেছো?”
-“না!”
-“মিথ্যে বলবে না দাদাজান।”
-“আমি কোন দুঃখে মিথ্যে বলব আশ্চর্য!”
-“তাহলে মেয়েটা এখানে কি করছে?”
-“আমাকে মিস করছিল। তাই এসেছে।”
আধার ফোঁস করে তপ্ত শ্বাস ফেলে আর কিছু বলল না। সোবহান খান ভাতের লোকমা তুলে ধরেন নাতির মুখের সামনে। আধার বিরবির করে বলল,
-“আমাকে দেখে বাচ্চা মনে হচ্ছে তোমার?”
সোবহান খান হেঁসে বললেন,

-“দামড়া ছেলে হলেও তুমি আমার কাছে সবসময় ছোট বাচ্চাই থাকবে।”
আধার কিছু না বলে চুপচাপ খাবার মুখে নিল। এতদিন পর আবারো মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ পেয়ে আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। কারণ সে একটু হলেও এই রান্নাগুলো মিস করেছিল।
আলো লম্বা গোসল নিয়ে মাথার চুলগুলো মুছতে মুছতে বেরিয়ে এল। পরণে সবুজ রঙা সুতির সেলোয়ার-কামিজ!
-“এখানে এসো নাতবউ।”
দাদাজানের ডাকে আলো তোয়ালে কাঁধে নিয়েই বিছানার কাছে এগিয়ে এল। সোবহান খান ইশারা করে বিছানায় উঠে বসতে বললেন। আলো আড়চোখে স্যারের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ উঠে বসল। সোবহান খান মুচকি হেঁসে পরের লোকমা মেয়েটার মুখের সামনে ধরল। এতে আলোর চোখদুটো বড়বড় হয়ে গেল।
-“হা করো!”
আলো কিছুক্ষণ চুপ থেকে মুখে ভাত নিয়ে স্যারের দিকে তাকায়। মানুষটা চুপচাপ বসে থেকে খাবার চিবোতে। ভেবেছিল তাকে খাইয়ে দেওয়াতে মানুষটা রিয়াক্ট করবে। কিন্তু কিছুই বলল না। বরং একমনে খেতে থাকল। আলোর কেন জানি চোখদুটো ভরে উঠল। তার চোখে পানি দেখে হকচকিয়ে উঠলেন সোবহান খান। তড়িঘড়ি করে পানির সামনে ধরে বললেন,

-“কি হয়েছে? কাঁদছো কেন? ঝাল লেগেছে? নাও পানি খাও।”
আধার ঘাড় ঘুরিয়ে মেয়েটার অশ্রুসিক্ত নয়নের দিকে তাকায়। আলো নাক টেনে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“আমি কখনো নানা-নানি, দাদা-দাদির আদর ভালোবাসা পাইনি। তাদের ভালোবাসা খুব মিস করতাম। কিন্তু তোমাকে পেয়ে আমি সবার ভালোবাসা, আদর অনুভব করতে পারি দাদাজান।”
মেয়েটার কথা শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন সোবহান খান। তিনি তো এইটা ভেবেছিলেন মেয়েটাকে অজান্তেই ঝাল খাইয়ে দিয়েছে। তাই তো ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন কান্না করার আসল মানে বুঝতে পেরে হাসলেন। মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে কণ্ঠে বললেন,
-“আমিই তোমার নানা-নানি, দাদা-দাদি সবকিছু। বুঝলে?”
আলো হেঁসে দিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“খুব করে বুঝলাম দাদাজান!”

ড্রয়িংরুমে লাগাতার ফোন বেজে চলেছে। আলো সিঁড়ি বেয়ে ছুটে এসে ব্যাগ খুলে নিজের ফোনটা বের করে নিল। স্ক্রিনে জ্ব’লজ্ব’ল করছে একটি নাম। আলো দ্রুত কল রিসিভ করে সালাম দিয়ে বলল,
-“হ্যাঁ বাবা, বলো!”
মতিউর রহমান মেয়ের কণ্ঠস্বর শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন,
-“বাসে উঠেছো মামণি?”
-“না বাবা।”
-“কেন?”
-“আসলে বাবা আমি….নামে মানে আমি এখন খান বাড়িতে আছি।”
আলো আমতাআমতা করে বলল। ওইদিকে মতিউর রহমানের কপাল কুঁচকে যায়। তিনি জানতে চাইলেন,
-“হঠাৎ ওখানে গেলে যে? কোনো সমস্যা?”

-“তেমন কিছু না বাবা। আসলে স্যার খুব অসুস্থ। আর বাড়িতে শুধু দাদাজান ছাড়া কেউ নেই। এমনকি শেফালি চাচিও নেই। এমন অবস্থায় বয়স্ক মানুষটা একা একা কীভাবে সবটা সামলাবেন বাবা? উনি আমাকে আসতে বলেননি, আমি নিজ থেকেই এসেছি। আর আমি এখানে কিছুদিন থাকতেও চাই। উনার ছোট মা কিংবা শেফালি চাচি ফিরলেই আমি চলে যাবো বাবা।”
মতিউর রহমান কিছুক্ষণ চুপ থেকে শান্ত গলায় বললেন,
-“ঠিক আছে সোনা। তোমার যেটা ভালো লাগে সেটাই করো। বাবা সবসময় তোমার পাশে আছে।”
আলো হেঁসে বলল,
-“লাভ ইউ বাবা!”
-“লাভ ইউ ঠু সোনা।”

বাবার সাথে কথা বলে ফোন রেখে দেয় আলো। তারপর ব্যাগ নিয়ে দোতলায় ছুটে গেল। রুমে এসে পড়ার টেবিলের ওপর ব্যাগ রেখে বিছানার দিকে তাকায়। আধার স্যার আধশোয়া হয়ে শুয়ে আছে। কপালের মাঝে চারটে ভাজ দেখা যাচ্ছে। হয়তো মাথা ব্যথা করছে। কারণ সে দাদাজানের কাছে শুনেছিল লোকটা মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে। আলো গুটিগুটি পায়ে বাতি নিভিয়ে বিছানায় এল। বেলকনি, জানালা ভেদ করে আসা রোদ্দুরে পুরো ঘর আবছা আলোময় হয়ে আছে। তখন বাজে দুপুর দুইটা।আলো লম্বা শ্বাস নিল, তারপর এক বুক সাহস নিয়ে স্যারের কপালে হাত রাখল। এর জন্য না আবার তাকে কথা শুনতে হয়! কিন্তু মানুষটার মধ্যে কোনো হেলদোল নেই। উনি আগের মতোই চোখ বুজে রয়েছে।
আলো আস্তে করে হাত সরিয়ে নিল। মানুষটার শরীর ভীষণ গরম। হয়তো এখনো জ্বর কমেনি। সে গালে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকল। তারপর ধীর কণ্ঠে ডেকে উঠল,
-“স্যার?”
আধার কোনো জবাব দিল না। আলো আবারো ডাকলো, কিন্তু আগের মতোই নিশ্চুপ আধার।

-“কান কি চিলে নিয়ে গেছে? নাকি ভেজে খেয়েছেন?”
-“………..”
আলো বিরক্ত হয়। সে এবার বাহুতে গুঁতা দিয়ে বলল,
-“ওই ঠসা স্যার…!”
আধার তড়াক করে চোখ মেলে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
-“আমার মাথা না খেলে বুঝি তোমার শান্তি হয় না?”
আলো গোমড়া মুখে তাকায়। সে তো এই লোকটার ভালোর জন্যই ডাকছিল। অথচ মাথা মোটা লোক সবসময় দুই লাইন বেশি বোঝে!
মেয়েটার থমথমে চেহারা দেখে আধার তপ্ত শ্বাস ফেলে বিরবির করল,
-“কী চাই?”
-“আপনার মাথা!”
-“হোয়াট!!”
-“মানে আপনার মাথা চাই।”
মেয়েটার এহেন কথা শুনে আধার অদ্ভুত চোখে তাকায়। আলো বিছানার হেড বোর্ডের সাথে হেলান দিয়ে সোজা হয়ে বসে পা জোড়া মেলে দিল। তারপর নিজের কোলের দিকে ইশারা করে বলল,

-“আপনার মাথা ওখানে রাখুন।”
-“কেন?”
-“ঢোল বাজানোর জন্য হাত দুটো নিসপিস করছে।”
-“আমার মাথা কোনো ঢোল নয় যে তুমি বাজাবে।”
-“আমিও কোনো পেটুক রাক্ষসী না যে, আপনার মাথা মটকে চিবিয়ে খেয়ে নিবো।”
আধার হাল ছেড়ে দিল। এই বাচাল মেয়েটার সাথে তর্কে যাওয়া মানে মাথা নষ্ট করা। তাই সে কিছু না বলে চুপ করে থাকল। আলো মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। সে তো চেয়েছিল মানুষটার কপালে ম্যাসেজ করে দিতে। কিন্তু লোকটা বুঝল না। আলো আবারো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পা গুটিয়ে নিতেই অনুভব করল—মানুষটা তার কোলে মাথা রেখেছে।
আলো আনমনে হেঁসে স্যারের ঘন চুলের ভাঁজে দু’হাত গলিয়ে দিল। যত্ন সহকারে দুই হাতের আঙুল দিয়ে কপালের দুই রগের কাছে বৃত্তাকারে খুব আলতো করে চাপ দিয়ে ম্যাসেজ করে দিতে লাগল। অন্যদিকে, নরম তুলতুলে হাতের শীতল স্পর্শ পেয়ে আধারের চোয়াল শক্ত হয়। তবে কিছু না বলে চোখ বুজে শুয়ে থাকল। এবং ধীরে ধীরে ঘুমের দেশে হারিয়ে গেল।

একসময় আধার ঘুমের ঘোরে কাত হয়ে দু’হাতে মেয়েটার পাতলা কোমর জড়িয়ে ধরে নরম পেটে মুখ গুঁজে দিল। এতে মেয়েটার নিঃশ্বাস আঁটকে গেল। মানুষটার গরম নিঃশ্বাস, শরীরের গরম ছোঁয়া অনুভব করে তার সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল। পেটের কাছটায় জামা ভেদ করে উষ্ণ নিঃশ্বাস পৌঁছে ত্বক ঝলসানোর উপক্রম। আলো জোরে শ্বাস ফেলে ঠোঁট কামড়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকল।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল ও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। আশেপাশে থেকে মৃদুস্বরে ভেসে আসা আযানের শব্দে আধারের ঘুম ভাঙল। হালকা নড়েচড়ে উঠে আস্তেধীরে চোখ মেলে তাকায়। এত কাছ থেকে মেদহীন পেটের উঠানামা দেখে এক মূহুর্তে চোখের ঘুম ছুটে যায়। সে তড়াক করে সোজা হয়ে মাথা তুলে উপরে তাকায়। সঙ্গে সঙ্গে চোখের সামনে ঘুমন্ত মেয়েটার মাসুম চেহারা ভেসে উঠল। মেয়েটা হেড বোর্ডে মাথা ঠেকিয়ে ঘাড় কাত করে ঘুমাচ্ছে। হাতদুটো এখনো তার মাথার চুলের ভাঁজেই রয়েছে।
আধার এক মূহুর্তের জন্য থমকায়! তারমানে সে এত সময় এইভাবেই মেয়েটার পেটে মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে ছিল? সিরিয়াসলি? আধার বেকুবের মতো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তড়িঘড়ি করে উঠে চলে গিয়েও আবার পর মূহুর্তে ফিরে এল। ঘুমন্ত মেয়েটাকে টেনে বিছানায় ভালো করে শুয়ে দিয়ে মাথার নিচে বালিশ গুঁজে দেয়। তারপর সে ওয়াশরুমে চলে যায়।

দু’দিন পর গ্রাম থেকে ফিরে এসেছেন শেফালি চাচি। আলো এই দুই দিন ভার্সিটিতে যায়নি। আধার স্যার আগের থেকে সুস্থ। জ্বর ছেড়ে গিয়েছে। আগামীকাল থেকে হয়তো ভার্সিটিতেও যাবে। আলো সবার সাথে সকালের নাস্তা খেয়ে দাদাজানের উদ্দেশ্যে শান্ত গলায় বলল,
-“শেফালি চাচি তো এসে গিয়েছে। তাই ভাবছি আজ চলে যাবো দাদাজান। আমি বরং ব্যাগ নিয়ে আসি।”
একথা বলে আলো চলে গেল। সোবহান খান থমথমে মুখে নাতির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
-“মেয়েটাকে কি তুমি এখনো আটকাবে না?”
আধার কিছু না বলে এক নিঃশ্বাসে কফি শেষ করে উঠে দাঁড়াল। তারপর হনহনিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যায়।
আলো রুমে এসে ব্যাগে বইপত্র ঢুকিয়ে নিল। কিছু বাড়তি বইও নেয়। সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে পিছনে ফিরতেই স্যারের সাথে চোখাচোখি হয়। তবে কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার সময় অনুভব করল ব্যাগে টান পড়েছে। ভাবল, কোনোকিছুতে মেবি আঁটকে গেছে। তাই সে পিছনে না ফিরেই ব্যাগে টান মা’রল। কিন্তু পরক্ষণেই সে হুড়মুড় করে উল্টো হয়ে ধপাস করে পড়ে গেল।
ব্যথায় কোমর চেপে ধরে চোখমুখ কুঁচকে আলো ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকায়। অসভ্য লোকটা দু’হাত পিছনে রেখে ভর দিয়ে হেলে, পায়ের ওপর পা রেখে আরাম করে বিছানায় বসে আছে। যেন কিছুই হয়নি। আলো রাগে খেঁকিয়ে উঠল,

-“এ্যাই আপনি আমাকে ফেলে দিলেন কেন?”
আধার কপাল কুঁচকে বলল,
-“নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোটা বন্ধ করো মিস. কালো!”
আলো দাঁতে দাঁত চেপে উঠে দাঁড়ায়। রাগে তার শরীর জ্বলছে। কারণ সে জানে এই শয়তানটা তাকে ইচ্ছে করে ফেলেছে। নয়তো ওইভাবে কেউ ব্যাগ টান মা’রে? সে রাগে গজগজ করতে করতে নিচ থেকে ব্যাগ তুলে বলল,
-“আর জীবনেও আসব না আপনার কাছে। আপনি থাকুন আপনার বাড়ি নিয়ে।”
একথা বলে আলো চলে যাওয়ার জন্য সামনে পা বাড়াতেই শুনতে পেল,

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৭

-“না গেলে হয় না?”
আলো চট করে পিছনে ফিরে জিজ্ঞেস করল,
-“আপনি চান, আমি এখানে থাকি?”
প্রতিত্তোরে আধার কিছু বলল না। আলো তপ্ত শ্বাস ছেড়ে সামনে ফিরতেই আধার ধীরে কণ্ঠে বলে উঠল,
-“থেকে যাও আলো!”

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৯