এক মুঠো চাঁদের আলো শেষ পর্ব
নুসরাত ফারিয়া
অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটা চলেই এল। আজ মৃন্ময় এবং ছায়ার বিবাহ। সেলিব্রিটি গায়ক হওয়ায় পুরো ধুমধামে, জাঁকজমকভাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। মৃন্ময় নিজে সবাই দাওয়াত দিয়েছে। সে নিজের বিয়ের জন্য কোনোরকম ক্রুটি রাখেনি। তাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই ঠিক হয়েছে। আলো যখন খবরটা পায় তখন শুধু বোনকে জিজ্ঞেস করেছিল, সে কি চায়! ছায়া নির্দ্বিধায় জবাব দিয়েছিল, সে তার গায়ক সাহেব কে চায়। এরপর আর কোনোরকম বাক্যব্যয় না করে আলোও মন থেকে বিয়েটা মেনে নিয়েছে। যেখানে তার বোন খুশি, সেখানে সে নিজেও খুশি।
মৃন্ময় সয়ং তিশার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রথম কার্ড দিয়ে দাওয়াত করেছে। তিশা ভদ্রতার খাতিরে তখন যেতে রাজি হলেও পরবর্তীতে যায়নি। টিভির পর্দায় শুধু দুজনের এনগেজমেন্টের ভিডিও দেখেছিল। এমনকি পুরো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। প্রিয় গায়কের বিয়ের কথা শুনে হাজারো রমণীর হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়েছে। আবার কেউ কেউ খুশি হয়েছে। শুরুতে তিশা ঠিক করেছিল, সে যাবে না বিয়েতে। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু একটা ভেবে মেয়েকে ন্যানির কাছে রেখে, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে৷ ওখানেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
নবরাত্রি হল জুড়ে তখন রাজকীয় আয়োজন। প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ভেতরের মণ্ডপ পর্যন্ত পুরো ভেন্যু সাজানো হয়েছে সাদা আর অফ-হোয়াইট থিমের হাজার হাজার বিদেশি টিউলিপ, অর্কিড আর সুগন্ধি রজনীগন্ধা দিয়ে। ওপরের বিশাল সিলিং থেকে ঝুলে আছে ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি, যার আলোয় চারপাশটা মায়াবী রূপ নিয়েছে।
হলের একপাশে মিডিয়া আর পাপারাজ্জিদের জন্য আলাদা জোন করা হয়েছে, যেখানে ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানি আর সাংবাদিকদের ব্যস্ততা। দেশের টপ সব সেলিব্রিটি, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির চেনা মুখ আর এলিট ক্লাসের অতিথিদের উপস্থিতিতে চারদিকে তখন উপচে পড়া ভিড়।
আলো নিজ হাতে বোনকে বিরিয়ানি, মাংস খাওয়াচ্ছে। মেয়েটা নার্ভাসে সকাল থেকে তেমন কিছুই মুখে তোলেনি। তাই এখন সুযোগ পেয়ে একটু খাইয়ে দিচ্ছে। আর একটু পরই বিয়ে শুরু হবে। ছায়া নতুন বউয়ের রূপে তৈরি হয়ে আছে। পরনে অফ হোয়াইট গার্জিয়াস লেহেঙ্গা। নামীদামী পার্লার থেকে লোকজন এসে একদম পুতুলের মতো সাজিয়ে দিয়েছে। মেয়েটা আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই টাস্কি খেয়েছে। নিজের এমন নতুন লুক দেখে বিস্মিত হয়েছে। সে কখনো কল্পনাও করেনি, বিয়ের সাজে তাকে এতটা সুন্দর লাগবে।
ছোট বোনকে প্রথম দেখায় আলো মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিল। তারপর সে বোনের সাথে অনেকগুলো ছবি তোলে। তাদের দলে মায়াও ছিল। মিরা দেশের বাইরে থাকার ফলে আসতে পারেনি। তবে মেয়েটা ভীষণ খুশি। সে দূর থেকেই ভাই, ভাবীকে দোয়া দিয়েছে। এবং ওপরওয়ালার কাছে হাজারো শুকরিয়া আদায় করেছে। অবশেষে ওর ভাইটার সুবুদ্ধি হয়েছে। হয়তো একটু দেরিতে, তবে শেষমেশ সঠিক পথে এসেছে।
-“আর খাবো না আপু।”
ছায়া পানি খেয়ে ধীর কণ্ঠে বলে। আলো কপাল কুঁচকে বলল, -“গত চারদিন ধরে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছিস না। নিজের শরীরের কি হাল করেছিস, একবার দেখছিস?”
ছায়া মিনমিনিয়ে বলল, -“ভয় হচ্ছে তো।”
-“কিসের ভয়? বিয়েই তো করছিস, পালিয়ে যাচ্ছিস না কোথাও। আমি কি নিজের বিয়ের সময় ভয় পেয়েছিলাম?”
-“ভয় পাওয়া তো দূরে থাক, তুমি বিদায়ের সময় সামান্য কান্না পর্যন্ত করোনি।”
বোনের কথা শুনে আলো হেঁসে উঠল, -“তখন শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার ভুত চেপেছিল, তাই।”
কথা বলতে বলতে বোনের মুখের সামনে খাবারের লোকমা ধরল। ছায়া ঠোঁট উল্টে তাকায়। আলো স্বাভাবিক গলায় আওড়াল,
-“নাটক না করে চুপচাপ খেয়ে নে। নয়তো পরে শরীরে এনার্জি পাবি না। তখন তোর গায়ক সাহেব আফসোস করবে।”
-“কেন?”
-“বিয়ের পর কি রাত ভুলে গেলি?”
-“কি রাত?”
-“বাসর রাত।”
অতিরিক্ত নার্ভাসের ঠেলায় ছায়া সব ভুলে গেছিল। কিন্তু এখন বড় বোনের মুখে এমন কথা শুনে লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেল,
-“ধুর আপু। কি যে বলো না!”
আলো বোনের লাজুক চেহারা দেখে খিলখিল করে হেঁসে উঠল, -“হয়েছে, হয়েছে। আর লজ্জা পেতে হবে না। চুপচাপ খাবার শেষ কর। ওইদিকে তোর দুলাভাই কি করছে কে জানে।”
ছায়া আর কথা বাড়াল না। আস্তেধীরে সম্পূর্ণ খাবার খেয়ে নিল। আলো এঁটো প্লেট নিয়ে উঠতেই দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল, এক রমণী। অচেনা মেয়েটাকে দেখে আলোর ভ্রু কুঁচকে গেল। এই রুমে আপাতত অন্যের প্রবেশ করা নিষেধ ছিল। কারণ ছায়া অচেনা মানুষদের সামনে ভীষণ অস্বস্তি অনুভব করছিল। তাই মৃন্ময় কে বলে আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু হুট করে মেয়েটাকে দেখে আলো জিজ্ঞেস করল,
-“কে আপনি? আর এখানে কি করছেন?”
রমণী এগিয়ে এসে একপলক নববধূবেশে বসে থাকা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল, -“আমি ছায়ার সাথে কিছু কথা বলতে চাই।”
আলোর কপাল আরো কুঁচকে গেল। অন্যদিকে, মেয়েটাকে চিনতে একটুও অসুবিধা হয়নি ছায়া আর মায়ার। কারণ তারা দুজনই মেয়েটাকে দেখেছিল মৃন্ময়ের ইভেন্টে।
-“যা বলার আমাদের সামনেই বলুন।”
আলোর কণ্ঠস্বর গম্ভীর শোনালো। মেয়েটা এতে বেশ বিরক্ত হলো, -“সামান্য কথা বলতে চেয়েছি, মে’রে ফেলতে নয়।”
-“মুখ সামলে কথা বলুন। নয়তো জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো।”
মেয়েটার কথা শেষ হতে না হতেই আলো গর্জে উঠল। রাগে চোখমুখ লাল হয়ে যায়। শুরুতেই মেয়েটাকে পছন্দ হয়নি তার, কেমন করে অদ্ভুত চোখে তার বোনটার দিকে তাকিয়ে আছে। ওই ঈর্ষান্বিত নজর তার কাছে মোটেও ভালো লাগছে না। পরিস্থিতি উল্টো দিকে যাচ্ছে দেখে ছায়া দু’হাতে ভারী লেহেঙ্গা সামলিয়ে উঠে দাঁড়াল,
-“আপু শান্ত হও। আর আমি উনাকে চিনি।”
আলো চট করে বোনের দিকে তাকাল, -“কে এই মেয়ে?”
ছায়া মাথা চুলকিয়ে আমতাআমতা করল। এখন যদি তার আপু জানে এই মেয়েটা মৃন্ময়ের এক্স প্রেমিকা! তাহলে ছোট্টখাট্টো একটা ঝামেলা সৃষ্টি হবে। আর সে সেটা চায় না।
-“তোমাকে একটু পর বলি? উনি কি বলতে এসেছেন সেটা আগে শুনি।”
আলো কিছুক্ষণ বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে হনহনিয়ে চলে গেল। ওর পিছু পিছু মায়াও ছুটল। বড় বোন রাগ করেছে ভেবে আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ছায়া। তারপর মেয়েটার উদ্দেশ্যে বলল,
-“বলুন, কি বলবেন?”
তিশা সোজা ছায়ার মুখোমুখি দাঁড়াল, -“তুমি জানো, আমি কে?”
-“ওমা, জানব না কেন? আপনি আমার স্বামীর এক্স। যে কিনা টাকাপয়সার জন্য নিজের বয়ফ্রেন্ডকে ধোঁকা দিয়েছিল।”
তিশা দাঁত কিড়মিড় করে উঠল, -“ও এখনো তোমার স্বামী হয়নি। সো…স্বামী বলার অধিকার রাখো না তুমি।”
ছায়া হেঁসে বলল, -“আর কয়েক ঘন্টা পর উনি আমার স্বামীই হবেন। উমম…শুধু আমার ব্যক্তিগত পুরুষ।”
তিশা মনে মনে রাগ-ক্ষোভে ফুসলেও নিজেকে আপাতত শান্ত রাখার চেষ্টা করল,
-“এই বিয়েটা কেন করছো? মৃন্ময় তোমাকে নয়, আমাকে ভালোবাসে। সে আজও শুধু আমাকে চায়।”
-“তাহলে আপনাকে রিজেক্ট করে উনি আমাকে বিয়ে করছেন কেন? এতোই যদি ভালোবাসে, আপনাকে চায়, তাহলে তো বিয়েটা আপনাকেই করা উচিত ছিল। আপনি কি জানেন? উনিই সর্বপ্রথম আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব রেখেছেন। আমি যাইনি।”
-“তুমি কেন রাজি হলে? দুনিয়ায় কি ছেলের অভাব পড়েছিল? নাকি বড়লোক ছেলে দেখলে আর অমনি গলায় ঝুলে পড়লে?”
-“আপনি আপনার মতো লোভী নই। আর না তো উনার টাকাপয়সা দেখে বিয়ে করতে রাজি হয়েছি।”
-“তাহলে কেন রাজি হলে? কি কারণ?”
ছায়া চোখ বুজে জোরে শ্বাস নিয়ে অস্ফুটস্বরে বলে উঠল,
-“আমি আমার গায়ক সাহেব কে ভালোবাসি, ভীষণ রকমের ভালোবাসি।”
তিশা এমনটা আগেই সন্দেহ করেছিল। সে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, -“মৃন্ময় কি তোমাকে বলেছে, সে তোমায় ভালোবাসে?”
মূহুর্তেই ছায়া দমে গেল। মুখটাও কেমন ফ্যাকাসে হয়ে যায়। সেটা তিশা লক্ষ্য করে দুই হাতে মেয়েটার বাহু ধরে বোঝানোর চেষ্টা করল,
-“লিসেন ছায়া! মৃন্ময় তোমাকে নয় আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু ও সেটা স্বীকার করছে না। অতীতের একটা ভুলের জন্য আমরা দুজন এখন দুই দিকে। তবুও আমাদের মনটা একে অপরের সাথে জড়িয়ে আছে। মৃন্ময় আমার ওপর রাগ করে শুধু এই বিয়েটা করছে। ও দেখাতে চাচ্ছে, আমাকে ভুলে গেছে। কিন্তু….সত্যি এটা নয়। ও আজও আমাকে ততটাই চায়, যতটা অতীতে চেয়েছিল। আমি নিজের ভুল স্বীকার করছি। আবেগের বশে ভুল করে ফেলেছিলাম। মৃন্ময়ের এক আকাশসম ভালোবাসাকে পা ঠেলে দিয়েছিলাম। আর এর শাস্তি পেয়েও গেছি। যার জন্য আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে ছেড়ে ছিলাম, ওই মানুষটাই অন্যের জন্য আমাকে ও আমার সন্তানকে ছেড়েছে।
আমার কথা না ভাবো, তবে আমার মেয়েটার কথা একবার ভাবো৷ ও মৃন্ময়কে বাবা হিসেবে পেতে চায়, আর আমিও চাই আমার ভালোবাসার মানুষটিকে স্বামী হিসেবে। আমার, আমার সন্তানের মৃন্ময় ছাড়া কেউ নেই। দোহাই লাগে তোমার, আমার মেয়েটাকে আরেকবার এতিম করে দিও না। আমি একজন মা হয়ে তোমার কাছে নিজের সন্তানের সুখ ভিক্ষা চাচ্ছি। প্লিজ তুমি এই বিয়েটা করো না। আমার মৃন্ময় কে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। ও শুধু আমাকে ভালোবাসে, আর আমাকেই চায়। ওর জীবনে তুমি নামক কোনো অস্তিত্ব নেই।”
ছায়া শুধু পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিটা কথা শুনে গেল। তিশা আবারো বলল,
-“আমাকে দেখানোর জন্য তোমাকে বিয়ে করলেও কখনো মৃন্ময় তোমাকে স্ত্রীর অধিকার দিবে না। সবার সামনে তোমার স্বামী হওয়ার অভিনয় করলেও কখনো একান্তে তোমাকে চাইবে না। তুমি শুধু ওর দায়িত্ব হবে, ভালোবাসা নও।”
ছায়ার শরীরটা মৃদু কাঁপলো। কাজল রাঙা আঁখি জোড়া
ভরে উঠল। না চাইতেও মেয়েটার বলা কথাগুলো খুব বাজেভাবে আঘাত করল তার হৃদয়কে। হয়তো মেয়েটা সত্যিই বলছে। মৃন্ময় তাকে কখনোই কাছে টানবে না। ছায়ার বুক চিঁড়ে বেরিয়ে আসে একটা দীর্ঘশ্বাস। সে মুখ তুলে কিছু বলবে, তখনই এক জোড়া রক্তিম চোখের সাথে দৃষ্টি বিনিময় ঘটল। তবে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকল না, চট করে নজর সরিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
-“বিয়ের আয়োজন নিচে, তুমি আমার বউয়ের কক্ষে কি করছো?”
আচানক মৃন্ময়ের গম্ভীর কণ্ঠস্বর শুনে তিশা পিছনে ফিরে তাকায়। ছেলেটা এখনো রেডি হয়নি, পরনে শুধু এলোমেলো টিশার্ট ও ট্রাউজার। সকাল থেকে এদিকওদিক
ছুটতে ছুটতে শরীরটা ক্লান্ত হয়েছে। যার রেশ লালচে চোখেমুখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। মৃন্ময় দুই হাত পকেটে গুঁজে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,
-“আমার বউকে দেখা হলে, এখন তুমি আসতে পারো।”
-“কেন? আমি কি এখানে থাকতে পারি না?”
-“আমার বউয়ের সাথে কিছু পার্সোনাল কাজ আছে।”
মৃন্ময়ের মুখে বারবার “আমার বউ” শুনে তিশা আহত চোখে প্রিয় পুরুষের দিকে তাকায়,
-“ও এখনো তোমার বউ হয়নি, রাজ।”
-“আর একটু পর হয়ে যাবে।”
তিশাকে পাশ কাটিয়ে মৃন্ময় ছায়ার সামনে দাঁড়ায়। নিজের কাছে অতি পরিচিতি মানব দেহের অস্তিত্ব অনুভব করে ছায়া ধীরে ধীরে মুখ তুলে উপরে তাকাল। সঙ্গে সঙ্গে ওর ললাটের মাঝে শক্ত চুমু এসে পড়ে।
-“মাশাআল্লাহ।”
মৃন্ময় মাথা ঝুঁকিয়ে মুগ্ধ চোখে হবু বউয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে বিরবির করল। এই প্রথম ভালোবাসার মানুষের থেকে স্পর্শ পেয়ে ছায়ার শরীর অদ্ভুত ভাবে শিউরে উঠল৷ সে অবাক চোখে মানুষটার সুন্দর মুখশ্রীর দিকে তাকায়।
-“ভেবেছিলাম, বিয়ের আসরে তোমাকে দেখব। কিন্তু ছোট শালীকার মুখে তোমার প্রসংশা শুনে আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। তাই লুকিয়ে চলে এলাম আমার বউকে দেখতে। তোমার স্বামী আবার বড়োই অধৈর্য মানুষ।”
চোখেমুখে গরম নিঃশ্বাস আছড়ে পড়তেই ছায়া দুই কদম পিছিয়ে গেল। মৃন্ময় আনমনে হেঁসে চট করে কোমর চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে আনল। একহাতে রমণীর কোমর ও অন্য হাতে রমণীর বাম হাত ধরে, অনামিকা আঙুলের মাঝে তাকায়। সেথায় তার পরিয়ে দেওয়া ডায়মন্ডের রিং চিকচিক করছে। মৃন্ময় মাথা নুইয়ে আংটির ওপর ঠোঁট ছুঁয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“তুমি তো আমার বাগদত্তা। আর আজ আমার হালাল বউ হয়ে যাবে। সো….এখন তো একটু অবাধ্য হতে পারি!”
মৃন্ময়ের কথা বুঝল না ছায়া। সে তো ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। মৃন্ময় সহসাই মেয়েটার দুই গালে, চোখের পাতায়, কপালে, নাকে, থুতনিতে চুমু খায়। তাদের এই ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখে তিশা জ্বলেপু’ড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। সে পারলে চোখ দিয়েই ছায়াকে ভস্ম করে দেয়।
তিশা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। সে একটু আগে বলেছিল মৃন্ময় মেয়েটার কাছে আসবে না, কিন্তু এখন তারই সামনে ছেলেটা একান্তই মেয়েটার কাছে এসেছে। যেটা ওর মোটেও সহ্য হচ্ছে না। তাই রাগে, দুঃখে, কষ্টে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
-“আপনার এক্স চলে গিয়েছে, এখন অভিনয় করা বন্ধ করুন।”
তিশাকে চলে যেতে দেখে ছায়া মুখ সরিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল। মৃন্ময় গলার ভাঁজ থেকে মুখ তুলে চোখের দিকে তাকিয়ে আওড়াল,
-“হুঁশ, আমি যা করি তা মন থেকে। নিজের বউকে আদর করব না তো আর কাকে করব, হুহ্?”
ছায়া কিছু বলল না। মৃন্ময় মুখটা ধীরে ধীরে ছায়ার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ঠোঁটের মিলন হতেই মৃন্ময় কিছু একটা টের পেয়ে চট করে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকায়। এবং দেখে আলো বড়বড় চোখে হা করে তাকিয়ে আছে। আপুকে দেখে লজ্জায় ছায়া দূরে সরে গেল। মৃন্ময় সোজা হয়ে বলল,
-“ভুল টাইমে এসে পড়েছেন শালী সাহেবা।”
আলো থমথমে মুখে জবাব দিল, -“আপনাকে সবাই খুঁজছে।”
-“সবাইকে বলুন ওয়েট করতে, আমি আমার বউকে চুমু খেয়ে আসছি।”
আলো লজ্জায় চলে যেতে যেতে বিরবির করে বলে উঠল,
-“ওর সাজ যেন নষ্ট না হয়, নয়তো আপনাকে নর্দমার পানিতে ডোবাবো।”
মৃন্ময় হেঁসে ছায়ার দিকে তেড়ে গেল। আঁধার মৃন্ময়কে খুঁজতে খুঁজতে উপরে চলে এসেছে। একটা রুম থেকে বউকে বের হতে দেখে জিজ্ঞেস করল,
-“মৃন্ময়কে দেখেছো?”
-“হ্যাঁ, ভাইয়া এই রুমে আছে।”
আঁধার প্রতিত্তোরে রুমের দিকে এগিয়ে গেলে আলো চিল্লিয়ে উঠল, -“আরে, আরে….ভেতরে যাবেন না।”
আঁধার থেমে গিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে জানতে চাইল, -“কেন?”
আলো মাথা চুলকিয়ে আমতা আমতা করল, -“না মানে, ওখানে ছায়াও রয়েছে। আর ওরা দুজন একটু কথা বলছে এই।”
আঁধার বুঝতে পারল আসল ঘটনা। তাই সে ভেতরে না গিয়ে অর্ধাঙ্গিনীর কাছে এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে, কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“আপনার বোনের মতো আপনিও তো একটু স্বামীকে সময় দিতে পারেন।”
আলো দৃষ্টি নুইয়ে নিঃশব্দে হাসল, -“আপনাকে সময় দিতে দিতে বাচ্চার মা হয়ে গেলাম, তবুও মন ভরেনি আপনার?”
-“একটা নয়, আমার আরো ন’টা বাচ্চা চাই।”
-“তাহলে আমি আবারো কোমায় চলে যাবো। তখন আপনি নিজেই বাচ্চা পয়দা করেন। এখন ছাড়ুন!”
আঁধার মেয়েটাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে, শক্ত বাহুডোরে আবদ্ধ করল, -“আজকেও নিশ্চয়ই ঠোঁটে সস্তার লিপস্টিক দিয়েছো?”
আলো কপাল কুঁচকে জবাব দিল, -“মোটেও নয়। আমি যথেষ্ট ভালো ব্র্যান্ডের লিপস্টিক দিয়েছি।”
-“ওয়েল, আই অ্যাম টেস্টিং ইট!”
বলেই অর্ধাঙ্গিনীর লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল আঁধার। আর বেচারি শুধু হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে রইল।
সময় গড়িয়েছে, বিয়েও শুরুর পথে। ঠিক রাত নয়টায় হলের ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে উঠল লাইভ ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক, ভায়োলিন আর সেতারের এক যুগলবন্দী সুর। আসরের ঠিক মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে এক রাজকীয় স্টেজ, যা দেখতে অনেকটা থিয়েটারের গ্র্যান্ড সেটের মতো। চারদিকের হইচই এক নিমেষে থেমে গেল যখন ঘোষণা করা হলো বরের আগমন। চারপাশে সিকিউরিটির কড়া কর্ডন ভেদ করে হলের মেইন গেট দিয়ে ভেতরে পা রাখল দেশের হার্টথ্রব গায়ক এমএ। পরনে নিখুঁত কাজের শুভ্র শেরওয়ানি। স্টেজে ওঠার পর সবার নজর চলে গেল প্রবেশদ্বারের দিকে, যেখান থেকে লাল গালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে আসছে কনে। লেহেঙ্গার দীর্ঘ ট্রেইলটা মেঝে ছুঁয়ে যাচ্ছে, আর তার ধীর পায়ের ছন্দে পুরো হল জুড়ে তখন এক পিনপতন নীরবতা বইছে।
আসরে মৃন্ময়, ছায়া বসার পর শুরু হলো মূল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ক্যামেরার ক্লিক আর হাজারো ফিসফাসের মাঝে যখন কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানো শেষ করলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে পুরো হল জুড়ে এক আনন্দধ্বনি বয়ে গেল। বরের বন্ধু, কাজিনরা আর ব্যান্ডের সদস্যরা একসাথে চিৎকার করে অভিনন্দন জানাল। তখনই উপর থেকে ঝরে পড়তে লাগল সোনালী কনফেটি আর গোলাপের পাপড়ি, আর ভেন্যুর বাইরের খোলা আকাশে শুরু হলো বর্ণিল আতশবাজির রোশনাই!
মাঝরাতে বউকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরেছে মৃন্ময়। গাড়ি থেকে নেমে সকলের সামনে অর্ধাঙ্গিনীকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল। এবং সোজা দোতলায় উঠে যায়।
ছায়া ভারী লেহেঙ্গা চেঞ্জ করে, মুখের মেকআপ তুলে, লম্বা শাওয়ার নিয়ে একটা পাতলা সুতির শাড়ি পরেছে। মৃন্ময় পাশের ঘর থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে বউকে দেখতে না পেয়ে বারান্দায় গেল।
-“কি ভাবছো?”
ছায়া একমনে দাঁড়িয়ে থেকে খোলা, জোৎস্না ভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। সেসময় মৃন্ময় গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ধীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে। ছায়া স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলল,
-“ভাবছি, এই বিয়েটা বাস্তব নাকি আমার কল্পনা।”
-“হঠাৎ এমন মনে হওয়ার কারণ?”
-“কখনো ভাবিনি আমি আপনাকে পাবো। কিন্তু…সবসময় চেয়ে এসেছি আপনাকে। আর আজ আমি আপনাকে পেয়ে গেছি।”
মৃন্ময় আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, -“আমি আর অতীতে ফিরে যেতে চাই না ছায়া। নিজের এই নতুন জীবনটার মাঝে রয়ে যেতে চাই। শেষ নিঃশ্বাস অবধি শুধু তোমারই হয়ে থাকতে চাই। তুমি কি আমার হয়ে থাকবে?”
-“থাকার জন্যই তিন কবুল বলে বিয়ে করেছি।”
মৃন্ময় চোখ বুজে ঠোঁট কামড়ে হাসল। অতঃপর প্রিয়তমাকে আলিঙ্গন করে, কাঁধে মুখ গুঁজে দিল বলে উঠল,
-“আপনাকে আপনার গায়ক সাহেবের জীবনে স্বাগতম। আজ থেকে শুরু হলো মৃন্ময়, ছায়ার নতুন জীবন, নতুন সংসারের পথচলা। আই হোপ, আমাদের শেষটাও সুন্দর হবে!”
বহু মাস পর একটা বিদেশি আননোন নাম্বার থেকে কল আসে ঈশিতার। রাতের শেষ প্রহরে এসে ঘুম ভেঙে গেল। একরাশ বিরক্তিতে ফোনটার দিকে একপলক তাকিয়ে রিসিভ করল না। পর মূহুর্তে আবারো একই নাম্বার থেকে কল আসে। উপায় না পেয়ে কল ধরে, কানে গুঁজে ঘুমু ঘুমু কণ্ঠে আওড়াল,
-“আসসালামু আলাইকুম, কে বলছেন?”
অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিশ্চুপ। শুধু ভারী নিঃশ্বাসের মৃদু আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। ঈশিতা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আস্তেধীরে উঠে বসল,
-“রাত….?”
অপর প্রান্তের যুবকের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল,
-“বুঝলে কীভাবে, এটা আমি?”
এতদিন পর প্রিয় মানুষটির কণ্ঠস্বর শুনে ঈশিতা একটু নড়েচড়ে উঠল। তারপর ধীর কণ্ঠে বলল,
-“তুমি আমাকে ভুলে গেলেও আমি তোমায় ভুলিনি।”
-“যদি ভুলতাম, তাহলে এত রাতে কল দিতাম?”
-“তা কি মনে করে এতদিন পর কল দিলে?”
-“শুধু তোমার কণ্ঠস্বর শোনার জন্য।”
-“কেন? ওখানে কি মেয়ের অভাব পড়েছে?”
-“মেয়ের অভাব না থাকলেও তোমার মতো চাশমিসের অভাব রয়েছে।”
ঈশিতা আর কিছু বলল না। দুজনেই নিশ্চুপ থেকে একে অপরকে অনুভব করল। একসময় সকল পিনপতন নীরবতা ভাঙল রাত,
-“তোমার সুন্দর ঘুম নষ্ট করার জন্য সরি। তুমি ঘুমাও, আমি রাখছি।”
একথা বলেও রাত কল কাটল না। ভেবেছিল ঈশিতা নিজ থেকে লাইন কা’টবে, কিন্তু মেয়েটাও কিছু করল না। শুধু বলল,
-“দেশে কবে ফিরবে, রাত?”
-“দুই বছর পর।”
-“ঠিক আছে, আমি অপেক্ষায় থাকব।”
-“কেন? আমার জন্য কেন অপেক্ষা করবে তুমি?”
-“তুমি আমার অতি মূল্যবান কিছু চুরি করে নিয়ে গেছো। আর সেটা ফিরে এসে আমাকে দিবে।”
মেয়েটার কথা শুনে রাতের কপালে চারটে ভাজ পড়ল। সে আবার কি চুরি করেছে, আশ্চর্য!
-“আমি আবার কি চুরি করলাম তোমার?”
-“করেছো তো, আমার হৃদয় চুরি করেছো।”
রাত কিছু বলতে চেয়েও থমকালো। সে বিস্মিত কণ্ঠে শুধাল, -“তারমানে তুমি আমাকে…..!”
-“ভালোবাসি।”
ব্যস! একথা শোনা মাত্রই রাত চেয়ার নিয়ে উল্টে পড়ে গেল। সে অফিসে বসে থেকে কাজ করছিল। সেসময় মেয়েটাকে খুব মনে পড়ছিল, তাই তো সব ইগো একদিকে রেখে কল দিয়েছিল। কিন্তু…এমন কথা যে শুনতে পাবে সেটা কখনোই কল্পনা করেনি। সে মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই চোখদুটো বড়বড় করে জানতে চাইল,
-“ওহ, রিয়েলি?”
ধপাস করে পড়ে যাওয়ার শব্দ ঈশিতা শুনতে পেয়েছে। সে মিটমিট করে হেঁসে বলল, -“ইয়েস, ইট’স ট্রু!”
রাত চোখ বুজে জোরে শ্বাস নিয়ে মেঝেতে চিত হয়ে শুয়ে পড়ল। তারপর ধীর কণ্ঠে আওড়ায়, -“তুমি তো আমার অতীত জানো। তাহলে আমিই কেন?”
ঈশিতা বিছানায় শুয়ে জবাব দিল, -“জানি না, আমি জানি না কবে কখন, কোন সময় আমার মনটা তোমাকে চেয়ে বসল।”
একটু থেমে পুনরায় আওড়াল, -“তোমার অতীত নিয়ে কোনো সমস্যা নেই রাত। আমি শুধু তোমার বর্তমান দেখব, এবং আমাদের ভবিষ্যৎ।”
-“অপেক্ষা করবে আমার জন্য, ঈশিতা? আমি কথা দিচ্ছি, খুব ভালো স্বামী হয়ে দেখাব।”
ঈশিতা কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল,
-“তোমার জন্য শুধু দুই বছর কেন? আমি সারাজীবন অপেক্ষা করতে পারি, রাত। শুধু তুমি একবার ফিরে এসো। তারপর তোমাকে বোঝাবো, আমাকে অহেতুক কষ্ট দেওয়ার ফল।”
রাত হেঁসে ছাঁদের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে ওঠে,
-“প্রেয়সীর সকল শাস্তি মনজুর।”
আলোর সাত মাস চলছে। সে আপাতত বাপের বাড়িতে রয়েছে। পড়ন্ত বিকেল বেলায় টুনা-টুনিকে নিয়ে বাগানে বসে আছে। শূন্য দৃষ্টি তার অদূরে থাকা দুটো প্রিয় মানুষের কবরের দিকে। এত এত সুখের মাঝেও কোথাও না কোথাও দুঃখ রয়েই গেল। জীবন হয়তো এমনই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আফসোসটা থেকেই যায়। আর এটাই নিয়তি।
আধার আজ ভার্সিটি থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছে শ্বশুর বাড়িতে। হাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপ ও দোলনচাঁপা। পরনে নীল স্যুটবুট! আজকাল মেয়েটার রঙে নিজেকে রাঙাতে পছন্দ করে। সেই সাথে অর্ধাঙ্গিনীর ছোটো ছোটো সকল আবদার পূরণ করার চেষ্টা করে। তার যদি ক্ষমতা থাকত, তাহলে হয়তো আকাশের চাঁদ টাও এনে দিত। আধার এগিয়ে এসে অর্ধাঙ্গিনীর সামনে এক হাঁটু গেড়ে বসল,
-“আমার জানের জন্য তার প্রিয় ফুল!”
আলো একগাল হেঁসে স্বামীর হাত থেকে ফুলগুলো নিয়ে বলল, -“প্রিয় ফুল আর প্রিয় পুরুষ আপনি।”
আধার প্রতিত্তোরে অর্ধাঙ্গিনীর বেড়ে ওঠা পল্লবের মাঝে মুখ ডুবিয়ে, চুমু একে দিল,
-“আমার আরেকটা জানপাখি! তুমি কবে তোমার পাপার বুকে আসবে? তোমার পাপার যে তোমার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”
আলো কিছু বলতে যাবে তখনই একহাতে পেট খামচে ধরে ব্যথায় চোখমুখ কুঁচকে ফেলল,
-“উফফফ….আপনার পঁচা বাচ্চার লাথি খেতে খেতে আমার জীবনটা গেল।”
বেবি কিক মে’রেছে জেনে আধার অর্ধাঙ্গিনীর পেটে হাত রাখল। তখনই বাচ্চার নড়াচড়া ও লাথি মা’রা অনুভব করল। ওই মূহুর্তে নিজেকে সবচেয়ে বেশি ভাগ্যবান মনে হলো আধারের। এরাই তো ওর জীবনের এক মুঠো সুখ।
-“সোনা আমার! মাম্মাকে হার্ট করে না, জান। তোমার মাম্মা এমনিতেই অনেক কষ্ট পাচ্ছে। পাপা তোমার মাম্মার কষ্ট সইতে পারছে না। তুমি আর মাম্মাকে হার্ট করো না, চুপচাপ ভাদ্র বাবুর মতো থাকো। নয়তো তুমি আসার পর তোমার সব চকলেট তোমার পেটুক মাম্মাকে দিয়ে দিবো।”
প্রথমের কথাগুলো ভালো লাগলেও শেষের কথাটা আলোর পছন্দ হলো না। মানছে সে, চকলেট একটু বেশিই পছন্দ করে। তাই বলে সন্তানের কাছে তাকে পেটুক বলে পরিচয় করে দিবে? এটা কেমন কথা? হুম? হুম?
-“আমি পেটুক হলে, আপনিও ভুড়িওয়ালা গোপাল ভাঁড়!”
-“আর তুমি আমার গিন্নি।”
এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ৫২ (২)
না চাইতেও আলো ফিক করে হেঁসে দিল। আধার ওই হাসির দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থেকে বলে উঠল,
-“হাজারো অপূর্ণতার মাঝে এই তোমরাই আমার পূর্ণতা এবং আমার ভালোবাসা। আধারের জীবনে সুখ বয়ে নিয়ে আসা এক মুঠো চাঁদের আলো তুমি। সেই আলো করেছে আমার অন্ধকার জীবন আলোকিত। তোমাকে পেয়ে আধার খানের জীবন সার্থক ও পরিপূর্ণ! সর্বশেষে বলব, ভালোবাসি প্রিয়তমা। অসম্ভব রকমের ভালোবাসি!”
~সমাপ্ত~
