এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ৫২ (২)
নুসরাত ফারিয়া
অর্ধাঙ্গিনীর মুখ থেকে অপ্রত্যাশিত কিছু বাক্য শোনা মাত্রই আধারের পুরো দুনিয়া থমকে যায়। সে ফ্যালফ্যাল করে মেয়েটার উদরের মাঝে তাকিয়ে রয়৷ তারপর আস্তেধীরে জামা সরিয়ে কোমল পেট ছুঁয়ে দিল এবং বলল,
-“আমার সন্তান! এখানে আমার অংশ রয়েছে। এখন থেকে আমাকেও কেউ পাপা বলে ডাকবে?”
আলো মুচকি হেঁসে দু’হাতে স্বামীর গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
-“হ্যাঁ, এখন থেকে আমার মতো আরেকজনও আপনাকে জ্বালাবে। এবং সারাক্ষণ পাপা পাপা বলে পিছু ছুটবে।”
একটু থেমে পুনরায় বলল, -“আপনি খুশি হয়েছেন?”
প্রতিত্তোরে আধার মাথা নুইয়ে অর্ধাঙ্গিনীর নগ্ন পেটের মাঝে মুখ ডুবিয়ে অজস্র ভেজা চুমুতে ভরিয়ে দিল।
-“পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর উপহারটা দিয়েছো আমাকে। আমি হয়তো কিছুটা সময় চেয়েছিলাম, কিন্তু…এখন মনে হচ্ছে সবচেয়ে বড় ভুল করেছি। এই সুখটা আরো আগে পাওয়ার দরকার ছিল।”
আলো নিঃশব্দে হাসল। আধার আবারো ফিসফিসিয়ে বলল, -“আমি আজ অনেক খুশি জান, অনেক। যেটা তোমাকে মুখে বলে বোঝাতে পারব না।”
আলো স্বামীকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বিরবির করে বলে ওঠে, -“আপনার সুখেই আমার সুখ!”
দীর্ঘ এক সুন্দর রাত পেরিয়ে নতুন সকালের আগমন ঘটে। রহমান পরিবারের সবাই ভীষণ খুশি। এত বছর পর পরিবারে ছোটো নতুন সদস্য আসতে চলেছে, এটা ভাবতেই মনের মাঝে প্রশান্তির সুখ বয়ে যাচ্ছে। সকল দুঃখের মাঝে এক টুকরো সুখের দেখা আবারো মিলেছে৷ সকাল থেকেই দুই জা মিলে আলোর পছন্দ মতো রান্না করতে শুরু করেছে। মতিউর রহমান ও মাহবুব রহমান গিয়েছেন বাজারে৷ ওখান থেকে মিষ্টি এনে মসজিদে ও পাড়াপ্রতিবেশিদের দিয়েছে। ছায়া, মায়া একটু পরপরই আপুর কাছে গিয়ে ঘুরঘুর করছে। কিন্তু…দুলাভাই থাকার কারণে বেশি যেতে পারছে না। মানুষটাও বউকে ছাড়া নড়ছে না। সবার আনন্দ দেখে আলো অনেক খুশি হয়েছে। এবং বোনদের কান্ড দেখে খিলখিল করে হেসেছে। আর মা, চাচির হাতের মজার রান্না খেয়ে বমি করে ভাসিয়েছে। তবে এতকিছুর মধ্যেও সে সুখ অনুভব করছে। মাতৃত্বের প্রথম অনুভূতি বুঝি এমনই হয়।
বাপের বাড়িতে কিছুদিন থেকে নিজের সংসারে ফিরে এসেছে আলো। তার মা হওয়ার কথা শুনে সোবহান খান খুশিতে কেঁদে দিয়েছেন। তিনি একসময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, এ জীবনে আর নাতির সন্তানের মুখ দেখতে পারবে না। কিন্তু উপরওয়ালার উনার ইচ্ছেটা পূরণ করেছেন। খবরটা পাওয়া মাত্রই নামাজ পড়ে সৃষ্টিকর্তার নিকট লাখো শুকরিয়া আদায় করেন। এবং বলেন, তার নাতির সংসার যেন সুখে-শান্তিতে ভরে ওঠে।
আলো ভয়ে ভয়ে তার শ্বাশুড়ি মাকেও খুশির খবরটা দেয়। এক মূহুর্তের জন্য ভেবেছিল, এই বুঝি জিজ্ঞেস করেন—এটা কার সন্তান! কিন্তু তাকে অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে তাহমিনা খান এই প্রথম মেয়েটাকে দোয়া দেন। কারণ তিনি একটু হলেও এ বাড়ির বংশধরকে পেয়ে খুশি হয়েছেন। হয়তো নিজের এক পা হারিয়ে, বিছানায় পড়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। মানুষের অহংকার সারাজীবন থাকে না। একদিন না একদিন অহংকারের পতন ঘটবেই। সেটা হোক আগে কিংবা পরে।
পড়ন্ত দুপুর বেলায় শাড়ি পরে, সেজেগুজে একটা ক্যাফেতে এসেছে ছায়া। মূলত ওর হবু বরের সাথে দেখা করতে এবং কথা বলতে। হুট করে কই থেকে মতিউর রহমান একটা সম্বোধন ধরে এনেছেন। সে শুরুতে এসবের আশেপাশেও ছিল না। এবং সাফসাফ জানিয়ে দিয়েছে, সে এখন বিয়ে করবে না। কিন্তু তার মা জননী আজ ধরে বেঁধে নিজ হাতে সাজিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে ছেলের সাথে দেখা করতে। মায়াকেও নিয়ে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু মেয়েটা আবার নাচতে নাচতে বান্ধবীর বাড়িতে গেছে। সে বিরক্তিতে চোখমুখ কুঁচকে ক্যাফের সামনে এসে দাঁড়ায়। বাড়িতে দেখা করার বদলে লাট সাহেব বাইরে দেখা করার প্রস্তাব রেখেছেন। একদৃষ্টে ভালোই হয়েছে। সে সোজাসাপ্টা না করে দিবে। দরকার হলে নিজেকে পাগল প্রমাণ করে হলেও সে আজ বিয়েটা ভাঙবে। নয়তো সেও আলোর বোন ছায়া নয়!
-“আরে কে বাল! চোখে দেখেন না?”
ছায়া একহাতে নিজের কপাল চেপে ধরে খেঁকিয়ে উঠল। এমনিতেই সকাল থেকে মনমেজাজ ভালো নেই, তারপর একজন এসে তার সুন্দর কপালটা ফাটিয়ে দিল।
হুডি, মাক্স পরিহিত যুবকটি কাঁচের ভারী দরজাটা বন্ধ করে বলল, -“আলোর ছায়া যে! তা আপনি এখানে কি করছেন?”
অনাকাঙ্ক্ষিত জায়গায় অপ্রত্যাশিত কণ্ঠস্বর শুনে ছায়া চমকে উঠল। তড়িৎগতিতে মাথা তুলে সামনে দাঁড়ানো যুবকের দিকে তাকায়৷ ভালো করে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে নিয়ে অস্ফুটস্বরে জিজ্ঞেস করল,
-“আপনি এখানে কি করছেন?”
মৃন্ময়ের গরম লেগেছে অনেক। তাই সে ভেতরের দিকে ইশারা করে বলল, -“কোথাও একটা বসে কথা বলি?”
অন্য সময় হলে মেয়েটা নাচতে নাচতে চলে যেত। কিন্তু আজ কেন জানি মানুষটার কাছাকাছি যেতে ইচ্ছে করল না। কারণ এই লোকটা এখন অন্য কারোর ব্যক্তিগত পুরুষ। আর সে এমন মেয়ে নয় যে, অন্যের ভালোবাসা জেনেও নজর দিবে। তাই সে নিজের আবেগ কে সামলিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল,
-“আপনি গিয়ে বসুন। আমি একজনের জন্য ওয়েট করছি।”
মৃন্ময় কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, -“কার জন্য?”
ছায়া আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে ওঠে, -“আমার হবু স্বামীর জন্য।”
-“ওয়াও! আপনি অপেক্ষা করছেন আপনার হবু বরের জন্য, আর আমি গরমে ম’রছি আমার হবু বউয়ের জন্য। বাই দ্য ওয়ে…কংগ্রাচুলেশনস।”
ছায়া মলিন হেঁসে বলল, -“আপনাকেও নতুন জীবনের অনেক শুভেচ্ছা।”
মৃন্ময় আর দাঁড়ায় না। দরজা ঠেলে ভেতরে চলে যায়। গরমে তার জান টা যাচ্ছে। ওইদিকে ওই মেয়েটারও আসার খবর নেই। এমন লেট লতিফাকে সে কিছুতেই বিয়ে করবে না। আজ আসুক শুধু! তারপর সময়ের মূল বুঝিয়ে দিবে। অন্যদিকে, ছায়া পায়চারি করছে আর অচেনা লোকটাকে ইচ্ছে মতো গালিগালাজ করছে। তার ভুল হয়ে গেছে নিজের ফোনটা ফেলে এসে। লোকটার একটা ছবিও দেখেনি। আলেয়া রহমান বারবার দেখাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সে রাগে-দুঃখে মুখটাও দেখেনি। যাকে সে চায় না, তাকে দেখে কি করবে? এইদিকে গরমে ঘেমে যাচ্ছে। সে আর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না৷ বাধ্য হয়ে ক্যাফের ভেতরে প্রবেশ করে মৃন্ময়ের সামনের টেবিলে বসল।
-“কই ওই কচ্ছপের ছাও? ওই কচ্ছপের জন্য আধঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি, তবুও দেখা নেই। দেখ…আমার ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিস না। আমি কিন্তু চলে যাবো।”
মৃন্ময় দাঁতে দাঁত চেপে কথাগুলো বলে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে মিরা কি বলল বোঝা গেল না। তবে মৃন্ময় ভ্রু চুলকিয়ে বিরবির করল,
-“তাড়াতাড়ি ছবি পাঠা, নয়তো ওই মেয়ের মুখের নকশা পাল্টে দিবো। একটা কচ্ছপ কোথাকার!”
বলেই খট করে লাইন কেটে দিল। ছায়া কফি খেতে খেতে সবটাই শুনল। হঠাৎই সে জিজ্ঞেস করল,
-“আপনি তো আপনার প্রেমিকাকে চেনেন, তাহলে ছবি চাচ্ছেন কেন?”
মৃন্ময় মুখের মাক্স ঠিক করে বলল, -“আমার কোনো প্রেমিকা নেই। আই অ্যাম সিঙ্গেল। তবে একসপ্তাহ পর বিবাহিত হয়ে যাবো।”
-“মিথ্যে কেন বলছেন? ওইদিন আমি, মায়া সব দেখেছি এবং শুনেছিও।”
মৃন্ময় কিছু বলতে যাবে তখনই ওইদিনের কিছু দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠল। এত ঝামেলার মধ্যে সে ওটা ভুলেই গেছিল। তাই সে কপাল কুঁচকে জানতে চাইল,
-“তুমি ওইদিন কেঁদেছিল কেন?”
ছায়া একপলক তাকিয়ে বলল, -“চোখে বিষাক্ত পোকা পড়েছিল তাই।”
প্রতিত্তোরে মৃন্ময় কিছু বলার আগেই ফোনে নোটিফিকেশন এল। সে লক খুলে সোজা হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকলো। মিরা ছবি পাঠিয়েছে। তাও বিশটার মতো। অথচ সে একটা চেয়েছিল। এতগুলো ছবি কেন দিয়েছে বুঝতে পারল না। তবে রাগে দাঁত কিড়মিড় করল। শুধু শুধু তার গ্যালারি ভরে গেল ওই কচ্ছপের ছবি দিয়ে। মৃন্ময় একরাশ বিরক্তিতে মিরার আইডিতে ঢুকে ছবিগুলো দেখতেই থমকে গেল। সে অবিশ্বাস চোখে প্রতিটা ছবি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। তারপর থমথমে মুখে সামনে বসা শাড়ি পরিহিত রমণীর দিকে তাকাল।
-“মেয়ে পছন্দ হয়নি? উপ্স সরি…মেয়ে নয়, আপনার হবু কচ্ছপকে পছন্দ হয়নি?”
ছায়ার কথা শুনে মৃন্ময় কোনো জবাব দিল না। সে মাক্সের আড়ালে ঠোঁট কামড়ে কিছু একটা হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছে৷ কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
-“তুমি তোমার হবু বরকে দেখেছো?”
-“ওই পাগলকে দেখলে এখানে একা বসে থাকতাম?”
মৃন্ময় আনমনে বিরবির করল, -“পাগল আমি?”
-“আরে আপনাকে বলি নাই তো। আমি ওই সেকেন্ড কচ্ছপকে বললাম। যাইহোক, আমাকে একটা সাহায্য করবেন?”
-“কি সাহায্য?”
-“ওই লোকটা যখন আসবে, তখন আমি আপনাকে আমার বয়ফ্রেন্ড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিবো৷ আপনি শুধু একটু নাটক করবেন। আসলে আমি এই বিয়েটা ভাঙতে চাই।”
-“কেন? বিয়ে করলে কি সমস্যা?”
-“এখন বিয়ে করতে চাই না।”
-“বাট….আমি চাই।”
মৃন্ময়ের কথা শুনে ছায়া কফির মগে চুমুক দিতে দিতে বলল, -“তো করুন না, কে আপনাকে বাঁধা দিয়েছে।”
-“তুমি!”
ছায়ার কপাল কুঁচকে গেল। সে আবার কি করল? মৃন্ময় তপ্ত শ্বাস ফেলে উঠে এসে সোজা ছায়ার পাশের চেয়ারে বসল। হঠাৎ করে মানুষটাকে নিজের এত কাছে দেখে ছায়া ভরকে গেল। সে কিছু বলতে যাবে তার আগেই মৃন্ময় নিজের ফোনটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
-“আমার ফিউচার ওয়াইফ!”
ছায়ার ভেতরে কষ্ট হলেও সে বাইরে নিজেকে শক্ত রাখল। যেন কিছু হয়নি তার। অথচ ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সে জোরে শ্বাস নিয়ে ফোনের দিকে তাকায়৷ এবং সঙ্গে সঙ্গে চোখদুটো বড়বড় হয়ে গেল। সে ভুল দেখছে ভেবে কয়েকবার চোখের পল্লব ঝাপটিয়ে ফোনটা কেঁড়ে নিল। তারপর এক এক করে নিজের ছবি দেখতে লাগল। তারমানে সে আজ যার সাথে দেখা করতে এসেছিল, সেই ব্যক্তি সয়ং মৃন্ময় আহমেদ? অবিশ্বাস্য!
-“আমি কখনো ভাবতে পারিনি, ওই কচ্ছপটা তুমি হবে।”
-“আমিও!”
ছায়া আনমনে বলে৷ মৃন্ময় কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
-“আমাকে বিয়ে করতে তোমার কোনো অসুবিধা আছে?”
-“আপনার তো গার্লফ্রেন্ড আছে।”
-“ওটা আমার অতীত ছিল।”
অতঃপর মৃন্ময় সবকিছু খুলে বলে দেয় ছায়াকে। কারণ সে চায় না, কোনো সম্পর্ক মিথ্যে দিয়ে শুরু হোক। সবটা শুনে ছায়া বলল,
-“বুঝলাম। কিন্তু…আপনি তো মন থেকে বিয়ে করছেন না। নিশ্চয়ই জেদের বশে করতে চাচ্ছেন, রাইট?”
-“নিজের এলোমেলো জীবনটা আবারো নতুন করে শুরু করতে চাচ্ছি শুধু৷ এতগুলো বছর তো একাই পার করলাম, এখন না-হয় বাকী জীবনটা তোমার সাথে পার করব।”
-“আমিই কেন?”
-“আমার পরিবার চেয়েছে তোমাকে। আর….!”
-“আর?”
মৃন্ময় মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,
-“আমি নাহয় নিজের প্রথম ভালোবাসা পাইনি। তবে আমি চাই, তুমি তোমার প্রথম ভালোবাসা পাও!”
মানুষটার কথা শুনে ছায়া চমকে উঠল। মৃন্ময় আনমনে হেঁসে ধীর কণ্ঠে বলল, -“আই নো ছায়া! তুমি আমাকে ভালোবাসো।”
ছায়া চোখের পানি আড়াল করার জন্য মুখ ঘুরিয়ে নিল। কি থেকে কি হয়ে গেল, ঠিক বুঝতে পারছে না।
-“বিয়ে করবে আমায়, ছায়া? আমি কথা দিচ্ছি, তোমাকে কখনো নিরাশ করব না। পৃথিবীর পারফেক্ট স্বামী হতে না পারলেও তোমার মনের মতো হওয়ার চেষ্টা করব। তুমি হয়তো আমার প্রথম ভালোবাসা নও, কিন্তু….তুমিই হবে আমার শেষ ভালোবাসা। এবং আমার একমাত্র অর্ধাঙ্গিনী! তোমার গায়ক সাহেবের একটু সময় প্রয়োজন হলেও সে সারাজীবন শুধু তোমারই থেকে যাবে। আমাকে কি দ্বিতীয় বার ভালোবাসার সুযোগ দিবে? এবার অন্য মেয়েকে নয়, বরং নিজের বউকে ভালোবাসতে চাই। তুমি কি আমার নতুন জীবনের সাথী হবে? সারাজীবনের জন্য মৃন্ময়ের ছায়া হয়ে পাশে থাকবে?”
অজানা কারণে ছায়ার হাতপা কাঁপছে। সে ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকিয়ে রাখার বৃথা চেষ্টা করছে। মৃন্ময় চাতক পাখির ন্যায় মেয়েটার জবাবের আশায় বসে আছে। ছায়া আড়ালে চোখের পানি মুছে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-“বাড়িতে যাবো, ড্রপ করে দিন।”
মৃন্ময় কিছু না বলে উঠে দাঁড়ায়। তারপর বাইরে এসে গাড়ির ডোর খুলে দিল। ছায়া চুপচাপ ভেতরে বসল। মৃন্ময় ড্রাইভিং সিটে বসে, পাশে ঝুঁকে এসে মেয়েটার সিট বেল্ট বেঁধে দিল। তারপর গাড়ি স্টার্ট করে রওনা দিল!
কাঙ্ক্ষিত জায়গায় এসে পৌঁছাতেই ছায়া নেমে পড়ল। এত সময়ের মধ্যে তারা কেউই কারোর সাথে কথা বলেনি। মৃন্ময় মেয়েটাকে চলে যেতে দেখে বলে উঠল,
-“আমি এখনো উত্তর পেলাম না।”
ছায়া পিছনে ফিরে ধীর কণ্ঠে বলল, -“আপনার জীবনে খুব শীঘ্রই কচ্ছপ আসতে চলেছে। তার জন্য নিজেকে রেডি রাখুন।”
মৃন্ময় ঠোঁট কামড়ে হেঁসে সিটে শরীরটা এলিয়ে দিয়ে আওড়ায়,
-“পাগলকে সারাজীবন সামলে রাখার জন্য, তুমিও নিজেকে প্রস্তুত রেখো।”
ছায়া মনে মনে হাসলেও বাহিরে ভাব নিয়ে বলল, -“বেশি বাড়াবাড়ি করলে, পাবনায় রেখো আসব হুহ্।”
-“পাবনাতে নয়, আপনার হৃদয়ের মাঝে থাকতে চাই।”
-“আমার হৃদয়ে আপনি বহু বছর আগে থেকেই রয়েছেন, গায়ক সাহেব। এখন শুধু আপনার মনে একটু ঠাঁই পেলেই হবে।”
এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ৫২
-“আজ, এই মূহুর্ত থেকে আমার পুরো জীবনে তোমাকে ঠাঁই দিলাম। মৃন্ময়ের অস্তিত্ব জুড়ে শুধু তুমিই থাকবে।”
ছায়ার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। অবশেষে সে নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের করে পেতে চলেছে। এর থেকে সুখের কিইবা আছে? এক জীবনে প্রিয় মানুষটাকে পেলেই তার যথেষ্ট। আর ভালোবাসা না পাওয়ার আফসোস রইল না। বরং তার এতদিনের একতরফা ভালোবাসা পূর্ণতা পাওয়ার পথে….
