Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৭

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৭

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৭
সুহাসিনী

“দূরে যান খারাপ লোক। ছুবেন না আমাকে। আপনার উদ্দেশ্য ভালো না।”
“খারাপ লোকেরা কি আর ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কাছে আসে বেগমজান,তুমি তো আমার শাস্তিকে ভয় পাও না,তাহলে কাছে আসতে একটি সংকুচ কিসের।”
“আমি এত কিছু জানি না,আপনাকে আমার কাছে আসতে নিষেধ করেছি মানে আসবেন না।”
“সহাস এতো বেড়ে গেছে যে আমাকে নিষেধ আজ্ঞা দিতে শিখে গেছো?”
“আ.. আপনিই তো বলেন আমি আ.. আপনার বেগমজান,আমার সব হুকুম আপনার শিরোধার্য তাহলে এটা মানছেন না কেনো? আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন কেনো?”
রাহির সাথে কথা বলতে বলতে ধীরে ধীরে প্রেমও এক পর্যায়ে খাটের উপর উঠে রাহিকে ধরে ফেলে।রাহির কথার প্রতিউত্তরে বলে,

“তখন তোমার কোনো ভুল ছিল না কিন্তু এখন তুমি ভুল করেছো তাহলে শাস্তি তো তোমাকে পেতেই হবে।”
“এটাকে শাস্তি বলে নাকি,এটা তো আদর।”
“আমার বাচ্চা বউ দেখা যাচ্ছে স্বামীর আদরও বুঝে, তাহলে স্বামীর আদরটা নিতে সমস্যা কি?”
রাহি ভয়ে আর কিছু বলতে না পারে বাচ্চাদের মতো কিছুটা শব্দ করে কেঁদে দিলো।
“থাকবো না আমি আপনার সাথে, আয়েশা আপুর কাছে ঘুমাবো আমি।”
প্রেমের কিছুটা রাগ হলো। কীভাবে বাচ্চার মতো কেঁদে আবদার করছে।প্রেম শক্ত কণ্ঠে বলল,
“ওকে, গো, তুমি আয়েশার সাথে ঘুমাবে আর আমি আমার গার্লফ্রেন্ড এর সাথে বাইরে রাত কাটাবো।”
রাহির কান্না থেমে চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেলো।প্রেমের গার্লফ্রেন্ড এর কথা শুনে মাথা চক্কর দিলো তার। শরীর জ্বলে উঠলো।

“আপনার এতো বড় সাহস আপনি ঘরে বউ রেখে বাইরে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে রাত কাটাতে চাচ্ছেন?দাঁড়ান আমি এক্ষুণি নিউজ চ্যানেল খবর পাঠাচ্ছি, এমপি তাহির খান প্রেম ঘরে সুন্দর পুতুলের মতো বউ রেখে বাইরে ডাইনি রাক্ষসী গার্লফ্রেন্ড এর সাথে রাত কাটাচ্ছে।”
“বউ আর ঘরে থাকবে কই,বউ তো এখন তার ননদের ঘরে চলে যাবে। নিউজ রিপোর্টারদের আমিও বলব আমার বউ আমার আদর সহ্য করতে পারে না তাই আমি বাইরের মেয়ের কাছে গিয়েছি।”
রাগে রাহির নাকের পাটা ফুলে উঠে।দু হাতে প্রেমের শার্ট খামচে ধরে বলে,
“আমি আপনার আদর সহ্য করতে পারি না কে বলেছে? আপনিই তো ঠিক করে আদর করতে পারেন না।”
“হ্যাঁ ঠিক বলেছো,তাই তো ওইদিন হসপিটালে একবারের আদরেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল।”
রাহি মাথা নিচু করে ফেললো, আর কোনো কথা বললো না।রাহির মুখ বন্ধ করাতে পেরে খুব খুশি হলো প্রেম, আর সময় নষ্ট না করে নিজের কাজের দিকে এক ধাপ করে এগোতে লাগলো। লজ্জায় রাহি এবার আর বাধা দেওয়ার সাহস পেলো না।লজ্জার চেয়েও তার ভয় বেশি,যদি সত্যি সত্যি প্রেম বাইরে চলে যায়,তখন তার কি হবে,সে তো এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারবে না।
প্রেম রাহিকে নিজের জালে ফাঁসিয়ে এখন নিজের পাওনা বুঝে নেওয়ার ব্যস্ত। রাহিকে বিছানায় শুইয়ে নিজেও রাহির উপর ঝুঁকে অতি নিখুঁত ভাবে নিজের কাজ সারছে।
সময় যত পার হচ্ছে রাহি মনে হচ্ছে প্রেম তত উগ্র হচ্ছে, ছাড়ার কোনো নাম নেই।এদিকে রাহি আর সহ্য করতে পারছে না।মিন মিন করে বলল,

“প্লীজ এমপি সাহেব, আজকের মতো এখানেই থাক। আমি আর পারছি না, খুব ব্যা…”
“প্লীজ ডোন্ট আস্ক মি টু স্টপ নাউ বেগমজান, আই এম অলমোস্ট ডান।”
প্রেমের কথায় আর কিছু বলল না রাহি,মুখ দিয়ে শুধু ব্যথাতুর শব্দ বের হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর প্রেম রাহিকে ছেড়ে দিলো। আর একটু হলেই রাহি অজ্ঞান হয়ে যেতো। দুর্বল হয়ে রাহি অভাবেই গায়ে ব্লাঙ্কেট জড়িয়ে শুয়ে রইলো।প্রেম কিছুক্ষণ রাহির উপর শুয়ে থেকে নেমে ওয়াশরুমের দিকে হাঁটা ধরলো আর রাহিকেও ওয়াশরুমে আছে ফ্রেশ হতে বললো।প্রেম যাওয়ার কিছুক্ষণ পর প্রেমের ফোন বেজে উঠলো।রাহির মাথার কাছেই ফোন রাখা ছিল,প্রেমের ফোন বিধায় সে পাত্তা দিলো না।পর পর আরও তিনবার রিং হলো।এবার না পেরে রাহি মোবাইলটা হাতে নিলো,ফোনের স্ক্রিনে একটা মেয়ের নাম জ্বলজ্বল করছে ‘ সুপ্তি ‘।
মুহূর্তেই রাহির কপাল কুঁচকে গেলো।এতো রাতে একটা মেয়ে তার জামাইকে ফোনের উপর ফোন করে যাচ্ছে, বিষয়টা তো ভাবার।
আবার প্রেম তার গার্লফ্রেন্ড এর কাছে যাওয়ার কথা বলেছে,এই মেয়ে আবার প্রেমের সেই গার্লফ্রেন্ড না তো।ভাবতেই রাহির মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো।তখনই মেয়েটা আবার কল করলো,এবার রাহি আর কিছু না ভেবে কল রিসিভ করে ফেললো। ওপাশ থেকে মিষ্টি সুরে একটা মেয়ের কণ্ঠ ভেসে এলো,

“হ্যালো!”
রাহি কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো,তার মানে সত্যি সত্যি তার জামাই এর গার্লফ্রেন্ড আছে।
এপাশ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে মেয়েটা আবার হ্যালো বললো।তখনই প্রেম ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে রাহিকে নিজের ফোন কানে ধরে থ মেরে বসে থাকতে দেখে ফট করে রাহির হাত থেকে ফোন নিয়ে রাহিকে বললো ওয়াসরুমে যেতে।প্রেম ফোন কানে নিয়ে বারান্দায় চলে গেলো, যাওয়ায় আগে বারান্দার গ্লাস লক করে রাখতে ভুললো না।
রাহির চোখ ছলছল করছে।যার সুখের জন্য সে এত কষ্ট সহ্য করলো,যাকে সে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে সে অন্য মেয়ের সাথে..সে আর ভাবতে পারলো না। দ্রুত উঠে গায়ে চাদর জড়িয়ে বারান্দার কাচে বাড়ি দিতে লাগলো।প্রেম বিরক্ত হয়ে ফোন কেটে গ্লাস খুলে দিলো।
“প্রবলেম কি তোমার?বললাম তো ফ্রেশ হতে।”
রাহি কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
“মেয়েটা কে? এটায় কি আপনার সেই গার্লফ্রেন্ড?”
প্রেম কপাল কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে শান্ত কণ্ঠে বলল,
“হুমম,এখন এভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে ওয়াশরুমে যাও,নয়তো আমি কিন্তু আবার কিছু একটা করে ফেলবো,তখন আমাকে দোষ দিতে পারবে না,তোমাকে খুবই হট লাগছে এভাবে।চলো আরেক রাউন্ড শুরু করি।”
শেষের কথাটা রাহির কাছে এগিয়ে আসতে আসতে বলল প্রেম।
“একদম নাহ্ এমপি সাহেব”

রাহি এক দৌঁড়ে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো।
শাওয়ার সেরে রাহি বেরিয়ে দেখে প্রেম কোথাও যাওয়ার জন্য রেডি হয়েছে।এতো রাতে কোথায় যাবে।তখনই মনে পড়ল ফোনের মেয়েটার কথা।তার মানে সেই মেয়ে প্রেমকে যেতে বলেছে তাই প্রেম রেডি হয়ে যাচ্ছে।
প্রেম যেই বাইরে যেতে চাইবে ওমনি রাহি গিয়ে দরজায় দাঁড়ায়।প্রেম ভ্রূ কুঁচকে বলল,
“হোয়াট হ্যাপেন্ড? দরজা আটকে দাঁড়িয়ে আছো কেন? সর বাইরে যাব।”
“যেতে দিবো না আমি আপনাকে ওই ডাইনি রাক্ষসীর কাছে।আপনি পরকীয়া করেন সবাইকে বলে দিবো আমি।”
“ওকে যাও বলে দাও।”
বলেই রাহিকে কোমড় ধরে এক পাশে সরিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে প্রেম।পেছন থেকে রাহি বললো,
“যান আপনি আমার কোনো সমস্যা নেই।আমিও ওই কাইল্যা সাঈদকে বিয়ে করে নিবো।আমি এক্ষুণি বাবা কে গিয়ে বলবো কিন্তু যে আমি ওই কাইল্যা পাডাকে বিয়ে করতে রাজি।”
“ট্রাই করে দেখতে পারো।”
প্রেমের গাঁ ছাড়া ভাব দেখে রাহি বাচ্চাদের মতো দরজায় বসেই কাদতে লাগলো।প্রেম এতক্ষনে চলে গেছে। রাহির গলার আওয়াজ পেয়ে আয়েশা আর আফরোজা খান বেরিয়ে এসেছে রুম থেকে।রাহিকে এভাবে দরজার সামনে বসে শব্দ করে বাচ্চাদের মতো কাদতে দেখে আফরোজা খান চিন্তিত স্বরে বলল,

“কি হয়েছে? এভাবে এতো রাতে এখানে কাদছ কেনো তুমি?”
কান্নার তোপে রাহি কথা বলতে পারছে না।
“আ.. আপনার ছেলে প.. পরকীয়া করছে শাশুড়ি আম্মা।”
রাহির কথা শুনে আফরোজা খানের চোয়াল ঝুলে গেলো।
“প্রেম কোথায়?”
“উনার গার্লফ্রেন্ড এর কাছে চলে গেলো,আমি অনেক আটকানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু শুনলোই না।আমি এর বিহিত চাই”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৬

রাহির চেঁচামেচিতে আমজাদ খান ও বেরিয়ে আসলেন।রাহিকে ফ্লোরে বসে কাদতে দেখে অবাক হলেন কিছুটা।তিনি কিছু বলার আগেই উনাকে দেখে রাহি উঠে উনার সামনে গিয়ে বলল,
“আপনার ছেলে ঘরে বউ রেখে বাইরে পরকীয়া করছে বাবা।আপনি কিছু বলবেন না? সুপ্তি নামের মেয়ের সাথে পরকীয়ায় আছেন উনি।ওই মেয়ে একটা কল করাতেই সবকিছু ছিটকে বেড়িয়ে গেলো আপনার বজ্জাত ছেলে।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩৮