Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪৩

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪৩
সুহাসিনী

সকাল সাতটা,
আজকে মনে হচ্ছে সূর্য একটু তাড়াতাড়ি তার তেজ দেখিয়ে দিচ্ছে।সকাল সকাল আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ উঠে গেছে।রোদ এর তাপ ও একটু প্রবল।
রাহি পিটপিট করে চোখ খুললো। রাতের ঝুম বৃষ্টিতে খুব ভালো ঘুম হয়েছে রাহির।এমন ঘুম হয়েছে যে তার স্বামী যে তার সাথে ছিল না এটাও খেয়াল নেই।সেই খেয়াল থাকলে এতক্ষণে যায় হোক একটা ঝামেলা সে পাকিয়ে ফেলতো।
প্রেমের কথা ভুলে রাহি উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে গেলো ।রাহি মনে করেছিল প্রেম হয়তো নাস্তা করতেই গেছে।কিন্তু তার ভাবনা ভুল।প্রেম বাড়িতে নেই।আজকে আমজাদ খানও নাস্তা না করেই অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছে।আজকে নাকি অফিসে কিসের জরুরী মিটিং আছে।
তাই আজকে সকালের নাস্তাটা রাহি,আয়েশা, ফিরোজা বেগম আর আফরোজা খান মিলেই করেছে। আশা এখনও না ফেরায় ধৈর্য্য হারা হয়ে ফিরোজা বেগম সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন।
রাহি নাস্তা শেষ করে রুমে এসে রেডি হচ্ছে।আজকে একটু নিপার সাথে দেখা করতে যাবে।বাড়ির গাড়ি নিয়ে যাবে এইবার, মনে মনে ঠিক করেছে এইবার আর বেশি পাকামী করবে না।

চারদিকে রক্ত দেখা যাচ্ছে। মেঝে রক্তে লাল হয়ে গেছে।প্রেম আর লিয়ন এখন অবস্থান করছে তাদের গোপন গুডাউনে। রক্ত দেখেই বুঝা যাচ্ছে সারারাত এখনে ভয়ানক কিছু হয়েছে।প্রেম কেমন দৃষ্টিতে যেনো সামনে পড়ে থাকা খণ্ড বিখণ্ড লাশগুলোর দিকে তাঁকিয়ে আছে। মুখভঙ্গি তার শান্ত।লাশ দেখে বুঝার উপায় নেই লোকগুলো কারা।প্রেম তার দৃষ্টি স্থির রেখেই লিয়নের উদ্দেশ্যে বললো,
“ওই শুয়োরের বাচ্চা গুলারে কই রাখছিস লিয়ন।ওই কুত্তার বাচ্চা গুলারে নিয়ে আয়,ওদের কলিজা আজকে আমি নিজে টুকরা টুকরা করে কাটবো।”
“ওদের পাশের ঘরে ড্রাগস দিয়ে রাখা হয়েছে ভাই।”
সামনে পড়ে থাকা লাশের দিকে দেখিয়ে বলল প্রেম,
“এগুলোকে এমন জায়গায় ফেলবি যেনো শেয়াল কুকুর কোনো ঝামেলা ছাড়াই খেতে পারে।”
“জ্বি ভাই।”

প্রেম আর লিয়ন গেলো পাশের ঘরে। এখানে গুণ্ডা মতো কয়েকটা লোক চেয়ারের সাথে বাঁধা।তাদের দেখেই বুঝা যাচ্ছে তারা পুরোপুরি হুশে নেই।
প্রেম তাঁদের মাথায় নিজের পিস্তল ঠেকলো। দাঁতে দাঁত পিষে শক্ত কণ্ঠে বললো,
“তোদের বাপ কে হারামির বাচ্চা? তোদের কোন বাপ আমার ক্ষতি করার জন্য তদের পাঠিয়ে ছিল বল জানোয়ার।”
লোকগুলো কিছু বলল না।লিয়ন প্রেমকে বললো,
“ওদের এখন হুশ নেই ভাই, ড্রাগসের রিয়েকশন শেষ হতে আরও ঘন্টা খানেক সময় লাগবে।তখন না হয়..”
প্রেম কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো। জামা কাপড় বদলে নিজের রূপ সম্পূর্ণ পরিবর্তন আগের মতো ভদ্র ছেলে হয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ির উদ্দেশ্যে।

চোখ লাল করে এক দৃষ্টিতে মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে সাঈদ। তার সামনে বসে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ।সবাই কেমন কানাঘুষা করছে।এখনো তার পরণে রফিক সাহেব এর পায়জামা ফতুয়া। রফিক সাহেব এর চোখ ছলছল করছে পানিতে। বৃষ্টিকে ঘিরে রেখেছেন পাড়ার মহিলারা।কিছুক্ষণ আগেই এখানে ধর্মীয় ভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে তার আর সাঈদের।
গ্রামে ফজরের নামাজের পর থেকেই সকাল শুরু হয়ে যায় সবার।যে যার কাজে বেরিয়ে পড়ে। তেমনি আজকেও রফিক সাহেবের মা ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে বেরিয়ে ছিলেন বৃষ্টি না থাকায়।এটা তার রোজকার অভ্যাস। হাঁটতে বেরিয়ে তিনি খবর পান তার বড় নাতির ঘরে নতুন সদস্যের জন্ম হয়েছে।তাই তিনি আর বাড়িতে না ফিরে সোজা ওই বাড়িতে চলে গিয়েছিল। এইদিকে ঘরের দরজা চাপিয়ে গেছেন তিনি। প্রতিদিন সকালের মতো আজকে সকালেও একজন প্রতিবেশী মহিলা এসে ডাকছে বাইরে থেকে বৃষ্টিকে।কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে মহিলাটি ঘরের মধ্যে ঢুকে গেলো ডাকতে ডাকতে। বৃষ্টির রুমে তাকে না পেয়ে অন্য রুম গুলো খুঁজে দেখে মহিলাটি।এই মহিলাটি প্রতিদিন সকালে এসে বৃষ্টিদের বাড়ির কাজ করে দিয়ে যায়।সে জন্যই সব রুমে যাওয়ার অনুমতি আছে তার। মেয়েটি একটা রুমে ঢুকে হঠাৎ চমকে যায়। কোনো কথা না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আরও কয়েকজন মহিলাকে ডেকে নিয়ে আসে।

সবার চিল্লাচিল্লিতে ঘুম ভাঙে সাঈদ বৃষ্টির।তারা নিজেদের আবিষ্কার করে এক ঘরে। সাঈদ বিছানায় শুয়ে আছে আর তার ঠিক পাশেই খাটের সাথে হেলান দিয়ে শুয়ে ছিল বৃষ্টি।দুজন যুবক অবিবাহিত ছেলে মেয়েকে এভাবে এতো সকালে এক বিছানায় দেখাটা মোটেও সহজ ভাবে নিবে না গ্রামবাসী। সাঈদ বৃষ্টি হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের চারপাশের লোকদের দিকে। তাদের এই বিষয়টা বুঝতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগে।
যখন বুঝতে পারে ততক্ষণে মহিলারা নানান কথা বলা শুরু করে দিয়েছে। বৃষ্টি উঠে যেই কিছু বলতে নিবে অমনি মহিলারা রুম থেকে বেরিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় আর গ্রামের মানুষদের ডাকতে যায়। সাঈদ বৃষ্টি অনেক ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা খুলে না।ভয়ে বৃষ্টির হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।

এতক্ষণে সারা পাড়ায় একটা হুলুস্থুল বেঁধে গেছে এই বিষয় নিয়ে। কোথাকার এক ছেলে এসে রফিক সাহেবের মেয়ের ঘরে রাত কাটিয়েছে। রফিক সাহেবও চলে এসেছে এতক্ষণে।তিনি বাকরুদ্ধ কাউকে বুঝানোর মতো কোনো কথা উনার মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না। সাঈদ আর বৃষ্টিকে বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। সাঈদ আর বৃষ্টি অনেক বুঝানোর চেষ্টা করছে যে তাদের মধ্যে ওরকম কোনো কিছু নেই।কিন্তু তাদের কথা কেউ শুনছে না।
আসল কাহিনী হচ্ছে রাতে রফিক সাহেব চলে যাওয়ার পর খাওয়া শেষে অনেক জ্বর এসেছিল সাঈদের। জ্বরে বেহুশের মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল।তার উপর আবার শাসকষ্ট শুরু হয়। রফিক সাহেব চলে যাওয়ার পর পরই বৃষ্টি শুরু হয় ভোর রাতে সেই বৃষ্টি থামে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪২

সাঈদের অবস্থা দেখে বৃষ্টি ঔষুধ দিতে যায় ঔষুধ দিয়েও যখন জ্বর কমছিল না তখন জলপট্টি দেওয়া শুরু করে সে। একপর্যায়ে অনেক রাত হওয়ায় বৃষ্টিও পাশে হেলান দিয়ে নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ে। যার করুণ এখন এই অবস্থা। সকলে এখন অন্য কিছু ভাবছে।অনেকে অনেক কথা শুনাচ্ছে বৃষ্টিকে।এতো বয়সে এত জঘণ্য কাজ কিভাবে করতে পারলো মেয়েটা এসবই বলাবলি করছে সবাই।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here