Home এমপি তামিম সরকার এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৭

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৭

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৭
কায়নাত খান কবিতা

” আমি তিন অব্দি গুনবো তার আগে যদি আমার জাও’রা পোলাপান গুলো বের না হয়, সরকার বাড়ির পিছনে প্রত্যেকের কবর দিবো!”
তামিম ওর্য়ানিং দিয়ে গুনা শুরু করে,
” এক”
” ভাই আসসালামু আলাইকুম! ”
এক বলার সাথে সাথে কালা মানিক এবং মফিস ঝোপের আড়াল থেকে বের হয়ে আসে না! তাদের শরীরে মাথা, কানে ঘাস লেগেছিল, খানিকটা গরুর মতোই লাগছিল তাদের!
তারপর তামিম দুই গুনে!

” দুই”
” আছি ভাই আছি!”
দুই বলার সাথে সাথে রফিক পুল থেকে উঠে আসে ভেজা শরীরে তামিমের পায়ের কাছে এসে বসে! সময়টা মোটামুটি ঠান্ডা হওয়ায় থরথর করে কাপতে থাকে রফিক!! তর শরীরের থেকে বেশি বোধ হয় তার মাথার টাকটি কাঁপছিল!
” এই কেউ একটা তয়লা নিয়ে আয় তো!”
তারপর তামিম তিন গুনার জন্য যখনই মুখ খুলবে সাথে সাথে মাহির এবং সাকিব এসে হাজির হয়! তিন গুনা অব্দি ও তারা অপেক্ষা করে না! দু-জন এসেই রফিকের সাথে মাটিতে বসে পড়ে! তাদের তিনজনকে মাটিতে বসতে দেখে মানিক এবং মফিস ও যোগ দেয়!
একটা ঠান্ডা নীরাবতা বয়ে চলে সরকার বাড়ির গার্ডেনে! পঞ্চ পান্ডব মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে! তাদের রেজাল্ট এতোটাই ভালো হয়েছে, সেগুলো নাম্বার কম ফোন নাম্বার বেশি! তারা ভয়ে কেউ তাকাতে পারছে না! কারণ তাদের নেত্রী গায়েব! পঞ্চ পান্ডব বের হলে ও সুবহা এখন ও বের হয়নি! সে এখন ও পলাতক!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

” তোগো নেত্রী কই?”
তামিমের ধমকে পঞ্চ পান্ডব একসাথে উপরে মাথা তুলে তাকায়!
” ভাই! নেত্রী পলাতক! ”
তামিম চেয়ারে বসে পড়ে! আর বন্দু’ক হাতে নেয়!
” এখানে গুলি আছে পাঁচটা!
তিন মিনিটের মধ্যে তোগো নেত্রী বাইরে না আসলে, সব গুলো তোগো পা’ছায় চালান করবো!”
পঞ্চ পান্ডব একজন আরেকজনের পিছনে তাকায়! তারপর যে যার পা’* হাত দিয়ে বসে পরে!
” তাইলে ভাই পা’দ মারমু কেমনে?”
সাকিবের কথাতে উপস্থিত সকলে খুব জোড়ে জোড়ে হেসে উঠে! এই সময় ও সে পাদ কীভাবে দিবে সেটার চিন্তা করছে! মাহির চিমটি কেটে বলে…

” শা’লার ভাই , পা’ছা থাকলে তো পাদ দিবি!”
তামিম নিজের ব’ন্দুক ঠিক করে গু’লি করার জন্য! আর সাথে সাথে পঞ্চ পান্ডব চিৎকার করে উঠে!
তাদের চিৎকারে সুবহা ও মাথা নিচু করে বাইরে আসে!
” তো নেত্রী, কী খবর আপনার? ”
সুবহা লজ্জায় নিজের মাথা নিচু করে রাখে! সকলের সামনে এভাবে তামিম তাকে কথা শুনাবে বুঝতে পারে নি!
তামিম কিছু বলতে যাবে তার আগেই পঞ্চ পান্ডব উঠে সুবহার পিছনে দাড়িয়ে পড়ে! তামিম ফোন নিয়ে জোড়ে জোড়ে পড়া শুরু করে!
” ইতিহাস করা রেজাল্ট! এমন রেজাল্ট সহজে দেখা যায় না! মফিস ২.০১, মানিক ২.০৩, মাহির, ২.০০ রফিক, ২.০৯, আরেকজন তো ইতিহাসের সব রেকর্ড ব্রেক করছে রে, ১.৮৯! বাহহহ! জিওওও! সাবাস সাকিব! তুই সব রেকর্ড ভাঙ্গোস!”

পঞ্চ পান্ডব একজন আরেকজনের দিকে তাকায়! তারপর খুশিতে লাফিয়ে উঠে!
” দেখছোস আমরা পাস কইরা গেছি! এতো ব্রেন ও খারাপ না!”
” হো সাকিব ঠিক কইছোস, বুকে আয়!”
ইতিহাস করা রেজাল্ট করে ও পঞ্চ পান্ডবের হাসি যেনো শেষ হয় না! তারা আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকে!শুধু সুবহা ছাড়া, কারণ তার রেজাল্ট তো তামিম বলেই নি! তার আগেই পঞ্চ পান্ডব নিজেদের আনন্দ উদযাপন করতে ব্যস্ত হয়ে পরে!
তামিম শুরু দাড়িয়ে দাড়িয়ে সকলের তামাশা দেখে! এরা যে কোনোদিন ও মানুষ হবে না এটা আবার ও প্রমাণিত হয়ে গেলো!
পঞ্চ পান্ডব আনন্দ উল্লাস করতে করতে হঠাৎ থেমে যায়, কারণ সুবহা চোখ বড় বড় তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে! সারা বছর একসাথে চু’রি করে, এখন একাই আনন্দতে মেতে আছে! সাথে সাথে চুপসে যায় তারা!

” অনেক জা’ওরা দেখছি, কিন্তু তোগো মতো শরম ছাড়া দেখি নাই! ”
তামিম শুধু রাগে ফুলতে থাকে! এতো বেশরম এরা! এতো জঘন্য রেজাল্ট করে ও বিন্দু মাত্র অনুতপ্ত নেই!
” ভাই, ভাবি মা’র রেজাল্ট কী?”
” নেত্রী, ৩.৪৫ পেয়ে আমাকে উদ্ধার করছে!”
সুবহা সহ পঞ্চ পান্ডব একসাথে আনন্দে মেতে উঠে! আয়েশা সরকার ও খুব খুশি হয়ে যায়! তিনি সোজা সুবহাকে জড়িয়ে ধরে!
” আমি জানতাম তুই ভালো রেজাল্ট করবি!”
” থ্যাঙ্ক ইউ মা!”
পঞ্চ পান্ডব, সুবহা, আয়েশা সরকার এমন ভাবে আনন্দ করছে,তাদের দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ব কাপ জিতেছে! ঠিক সেরকমই আনন্দ তাদের!!

” এতো বাজে রেজাল্ট করার পর মুখ দেখাচ্ছি কীভাবে তোরা!”
সুবহা কপাল কুঁচকে তামিমের দিকে তাকায়! এতো কিছুর পর ও তারা পাশ করে গেছে আর তামিম তাদের তুলোধুনা করছে! মানবতা কোথায়?
সুবহা একদম তামিমের সামনে গিয়ে দাড়ায়! তামিম ও খানিকটা সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায় তার দিকে! একটু আগে ভয়ে লুকাচ্ছিলো আর এখন একদম সামনে এসে দাড়ালো!
সুবহা পঞ্চ পান্ডবের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে!

” আমি কার!”
পঞ্চ পান্ডব একসাথে বলে উঠে!
” তামিম ভাইয়ের!”
” তাহলে আমার দোষ কার?”
পঞ্চ পান্ডব নিজেদের হাসি আটকে রেখে বলে!
” তামিম ভাইয়ের!”
তামিম পুরো ভ্যাবাচেকা খেয়ে বসে! দিন দিন তার শান্ত শিষ্ট বউ কেমন লেজ বিশিষ্ট শয়তান হয়ে যাচ্ছে!! অবশ্য সুবহার কথায় লজিক ও রয়েছে! সে যেহেতু তামিমের, তার দোষ ও তামিমের!
” আম্মা! দিন দিন আপনার মেয়ে কেমন বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে না!”
” আমি বেয়াদব? ”
” তার নানী!”

সকলের সামনে বেয়াদব বলায় সুবহা রেগে বাড়ির ভিতরে চলে যায়! তামিমের সাথে আর কোনো কথা বলবে না বলে ঠিক করে! শুধু একটু রেজাল্ট ই তো খারাপ করেছে, ফেল তো আর করেনি! এতে এতো রাগার কী আছে? মানুষ কী এমন রেজাল্ট করে না?
তামিম সহ সকলে গার্ডেনেই দাড়িয়ে থাকে! আজকে সকলে বুঝে গেছে, তামিমের কপালে শনি রয়েছে! বাইরে যতই বাঘ হয়ে ঘুরুক, ঘরের ভিতরে তো বেড়ালই সে!
” কিছু কইলেই ছ্যাত কইরা উঠে!”
তামিমের কষ্ট দেখে পঞ্চ পান্ডব খুব কষ্ট করে নিজেদের হাসি থামিয়ে রাখে! কারণ হেসে দিলে তাদের জন্য ও অনেক কষ্ট হয়ে যাবে!

” ৫’৪, আমার কাধ অব্দি ও আসে না ঠিক মতো, তেজ এতো আমার মতো একশো টা তামিম সরকার হার মেনে যাবে! শান্তিতে বি’ড়ি ও খাইতে পারি না! “‘
এতোক্ষণ যাবত নিজেদের হাসি থামিয়ে রাখলে ও, তামিমের শেষের কথা শুনে আর হাসি থামাতে পারে না সকলে! হো হো করে হেসে উঠে! তামিম চোখ রাঙ্গিয়ে তাকায়, তাদের দিকে, কিন্তু কোনো লাভ হয় না! সকলে হেঁসে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়ার মতো অবস্থা!
তামিম ও কিছু না বলে হনহনিয়ে বাড়ির ভিতরে চলে যায়! বউয়ের রাগ ভাঙ্গানো জরুরি! না-হলে রাতে কাছে আসতে দিবে না!
তামিম সোজা নিজেদের রুমে চলে যায়! দরজার সামনে দাড়িয়ে হাত তুলে মোনাজাত করে!

” ইয়া আল্লাহ, বউয়ের রাগ ভাঙ্গানোর মতো তৌফিক দান করুন, আমিন!”
মোনাজাত শেষ করে তামিম পিন টাইপ করে আস্তে আস্তে ভিতরে ঢুকে যায়! তারপর এদিকে ওদিকে উকু দেয়! এদিক ওদিক তাকাতেই দেখে ঝাড়ু হাতে সুবহা দাড়িয়ে আছে! শুকনো ঢোক গিলে তামিম! শেষ মেষ বউয়ের হাতে ঝাড়ুর বা’রি খাবে?
সুবহা কিছু না বলে চুপচাপ জোড়ে জোড়ে বিছানা ঝাড়তে থাকে! সে এতোটাই জোড়ে জোড়ে বিছানা ঝাড়তে থাকে যে, মনে হচ্ছিল সামনে কোনো মানুষ রয়েছে, আর তাকে পিটানো হচ্ছে!
” বুঝলাম না, ওই বিছানায় মারতাছে, আর সকল বা’রি আমার পিঠ ক্যান ফিল করতাছে! ”
তামিম আস্তে আস্তে সুবহার পিছনে গিয়ে দাড়ায়, তারপর তাকে জড়িয়ে ধরে!

” ছেড়ে দে শয়তান ছেড়ে দে!”
” তোরে ছাড়লে আমার লস হয়ে যাবে বউ!”
” কিন্তু আমি তো বেয়াদব, কথা শুনি না!”
”’ যে বলছে তার বাপ….!”
পুরো কথা শেষ করার আগেই তামিম নিজের মুখ বন্ধ করে ফেলে! কারণ তামিমই সুবহাকে বেয়াদব বলেছিল!
” তার বাপ কী?”
” কিছু না বউ, মুরুব্বি মানুষদের টানা ঠিক না আল্লাহ গুনা দেয়!”
” আর বউকে বকলে দেয় না?”’
তামিম সুবহাকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে ধরে!
” ও বউ, ”
” আমি কারো বউ না! ছাড়ুন!”
সুবহা প্রচন্ড মেজাজ দেখানো শুরু করে! সে যে রেগে আছে এটা স্পষ্ট! তামিম ও বুঝে গেছে আজকে আর রক্ষা নেই!

” ছাড়ুন তামিম!”
” উফফ, আমার সুন্দরী বউ! ”
” শুকনো কথায় চিড়া ভিজবে না সরুন!”
” রাগ করলে অন্য মানুষের বউদের লাগে পেত্নী আর আমার বউকে রাজ রানি! ”
” আপনি সরুন তো ভাই!”
” এমন করিস না বইন! তোরে দেখলেই আমার চরিত্র খারাপ হয়ে যায়! ”
সুবহা কপাল কুঁচকে তাকায় তামিমের দিকে! ঝগড়ার মাঝে ও তামিম ফ্লাটিং শুরু করেছে সুবহার সাথে!
” আপনি একটা..!
” উফ কী সুন্দর ঠোঁট! ”
” তাম…!’
” আহহ কী সুন্দর কথার সাউন্ড! ”
” আজব তো..!”
” এতো সুন্দর কেন তুমি বউ?”

তামিম সুবহার গলা থেকে ওড়না ফেলে দিয়ে চু’মু খাওয়া শুরু করে! সুবহা বারন করলে ও শুনে না! তামিম একটু একটু করে সুবহাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়!
”সকাল! তোকে খুব ভালোবাসি আমি!”
প্রচন্ড আবেগ নিয়ে তামিম নিজের ভালোবাসার কথা বলে সুবহাকে! সুবহা ও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না!
” আমি ও আপনাকে খুব ভালোবাসি তামিম!”
” কাছে আয়!”
” কাছেই আছি!”
” আরো আয়, মিশে যা, আমার সাথে!”
তামিমের কথা শুনে সুবহা হেসে উঠে! সুবহাকে হাসতে দেখে তামিম ও সুযোগ লুফে নেয়! সে সুবহার ওষ্ঠে নিজের ওষ্ঠ চেপে ধরে! একটু একটু করে বিলীন হতে থাকে সুবহার মাঝে, সুবহা ও তাই! সে ও তামিমের সাথে বিলীন হতে থাকে!

এভাবে প্রায় তারা সারা বিকেল ঘনিষ্ঠ সময় কাঁটায়!
সন্ধ্যার সময় তামিম সুবহা একজন আরেকজনকে ধরে শুয়ে থাকে! কারো মুখে কোনো কথা নেই! সুবহা তামিমকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে! তারপর হঠাৎ সুবহার মনে পরে সে তো ঝগড়া করছিল, তামিমের সাথে, তাহলে ঝগড়া থেকে হঠাৎ ১৯/২০ কীভাবে হলো?
পরক্ষণেই নিজের দিকে তাকায় সুবহা! সে তো রেগেছিল, কিন্তু এখন তামিমের উপরে! আজব বিষয় তো! তার তো ঝগড়া করার কথা ছিল!
চট করে উঠে পরে সুবহা! তামিম ও উঠে বসে! সুবহাকে রাগতে দেখে তামিম হাসতে শুরু করে!

” কী বউ রাগ কমলো?”
” শয়তান সরকার, আপনি ইচ্ছে করে এমনটা করেছেন! ”
” কী করলাম আমি?”
” আমাকে ম্যানুপেল্ট করে ১৯/২০ করেছেন!”
” কিন্তু তুমি তো নিজের ইচ্ছেতে আমার কাছে এসেছো বউ!”
” এ্যা?”
” আমি কী তোমাকে জোড় করেছি?”
তামিমের কথা শুনে সুবহা বেআক্কল হয়ে যায়! সত্যিই তো! তামিম তো জোড় করেনি!

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৬

” নাহ, আমি স্বেচ্ছায় গেছি!”
” তাহলে আমার দোষ কেন দাও পরী?”
সুবহা খুব রাগি দৃষ্টিতে তাকায় তামিমের দিকে! একটা মানুষ ঠিক কতটা শয়তান হলে ঝগড়া করতে এসে বউকে ভুলিয়ে ১৯/২০ করে চলে যায়?

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৮