এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৫
ফাতেমা তুজ জোহরা
রুশভিয়ান ইনানের ন*র*ম অ*ধ*র ডুবে আছে। এভাবেই কতটা সময় কেটে গেল….
রুশভিয়ান কেবলই গোসল করে বের হলো। কো*মড়ে জড়িয়ে আছে তোয়ালে। আরেকটা তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে এগিয়ে এলো ঘরের দিকে। কিয়তক্ষন দাঁড়িয়ে রুশভিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে বারান্দার দিকে তাকাতেই দেখলো ইনান তার ভেজা চুল গুলো ছেড়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। রুশভিয়ান রা*গী কন্ঠে হাঁক ছেড়ে বলল,” ওই ছেমরি ওখানে কি করস? দেখতে পাস না তোর ভা*তা*র গোসল কইরা আইছে কই তুই জামা কাপড় বাইর কইরা রাখবি তা না করে,, জমিদারের মাইয়ার মতো বইসা আছিস? বলেই ইনানের দিকে তাকায়।
ইনান হকচকিয়ে গিয়ে তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে তাকালো। । ইনানের পরনে হলুদ সুতির শাড়ীর, বড় হাতের ব্লাউজ।
রুশভিয়ান রা*গ*টা আরো বেড়ে গেল। মেয়েটাতো এতোটা কচি খুকি না। স্বামী গোসল করতে গিয়েছে কই জামা কাপড় গুছিয়ে রাখবে। স্বামীর জন্য খাওয়ার নিয়ে আসবে। তা না করে বারান্দায় বসে আছে। রুশভিয়ান দাঁ*তে দাঁ*ত চেপে বলল , ” কি কইলাম শুনতে পাসনি বা*ন্দি*র ঘরে বা*ন্দি ?
ইনানের পুরো শরীর কেঁপে উঠলো ভ*য়ে।সে কিছুই বুঝতে পারেনি কি বলেছে এতক্ষণ ধরে। তবুও মনে ভ**য় নিয়ে এগিয়ে এলো রুশভিয়ানের দিকে। ইনান সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। বার বার মনে হচ্ছে আবার তাকে চা*বু*ক দিয়ে আ*ঘা*ত করবে না তো। ইনানের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো। ইনান ইতিমধ্যে রুশভিয়ানের সামনে এসে দাঁড়ালো।
রুশভিয়ান ভ্রু কুচকে বলল,” এই খানে ক্যান আইলি, তোকে যেটা করতে কইলাম সেটা কর?
ইনান এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো। কোন কিছু বলল না।
রুশভিয়ান এগিয়ে গিয়ে ইনানের চো*য়া*ল শক্ত করে আকড়ে ধরলো। ইনানের মনে হলো তার দাঁত গুলো ভে*ঙে যাবে। ইনানের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো। রুশভিয়ান চি*ৎ*কা*র করে বলল,” তোরে কি কইলাম বল আমারে, বল না হইলে তোরে আজ মা*ই*রা ফালাইমু? ইনান শব্দ করে কেঁদে উঠলো। সে তো রুশভিয়ানের কোন কথা শুনতে পায়নি তাহলে কি বলবে। ইনান কে কাঁদতে দেখে রুশভিয়ানের মনটা একটু নরম হলো।সে চো*য়া*ল ছেড়ে দিয়ে শান্ত গলায় বলল, ” আমার কথা শুনতে পায়ছিত? ইনান নিচ দিকে মুখ করে মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো।
রুশভিয়ান জোরে জোরে শ্বাস টেনে আবারো বলল,” আলমারি থেইকা লুঙ্গি আর শার্ট লইয়া আয়? ইনান কথাটা শোনামাত্র গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেল আলমারীর দিকে। আলমারির কাছে দাঁড়িয়ে চোখের পানি গুলো মুছে কাঁপা কাঁপা হাত দিয়ে আলমারী খুলতেই নজরে এলো, আলমারীর একসাইডে শুধু সাদা লুঙ্গি রাখা আছে, আরেক সাইডে রাখা আছে কালো শার্ট। ইনান একটা লুঙ্গি আর শার্ট নিয়ে পুনরায় আলমারী লাগিয়ে এগিয়ে আসলো রুশভিয়ানের দিকে।
রুশভিয়ান হাতের তোয়ালে রেখে ইনানকে বলল,” হাতে নিয়ে দাঁড়াইয়া থাকবি নাকি পরিয়ে ও দিবি? ইনান চমকে গেল রুশভিয়ানের কথা শুনে। বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলো রুশভিয়ানের দিকে। রুশভিয়ান গলার জোর দিয়ে বলল,” কি হইলো?
ইনান কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,” আমি পারবো না?
পারবো না শুনে ইনানের সারা শরীর কেঁপে উঠলো রাগে এগিয়ে গিয়ে ইনানের চু*ল গুলোকে শক্ত করে আকড়ে ধরে হি*স*হি*সি*য়ে বলল, ” আমাকে পরাবি ক্যান, তোর ওই না*গ*র কে পরাবি পোশাক, না হইলে ধানক্ষেতের মতো কইরা শা*ড়ী, ব্লা*উ*জ, খু*ই*ল্লা বইসা থাকবি না*গ*রের সামনে?
ইনান আর স*হ্য করতে পারলো না। সে আ*র্ত*না*দ করে বলল,” প্লিজ আমাকে এমন কইরা বলবেন না?আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। উনি জোর করে আমার শাড়ি খু….. ইনান আর বলতে পারলো না ডুকরে কেঁদে উঠলো।
রুশভিয়ান বলল,” আমি বিশ্বাস করি না তোরে?আমি প্রথম বারের মতোন আর ভুল করমু না। সব মাইয়া মাইনষ চ*রি*ত্র*হী*ন? রুশভিয়ান কথা গুলো বলে চোখ বন্ধ করে নেয় রা*গ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। ইনান আর কিছু বলল না। সে শুধু রুশভিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো শান্ত দৃষ্টিতে। এই পুরুষের মন মা*ন*সি*ক*তা*র সব নোং**রা হাজার চেষ্টা করলে ও বদলাতে পারবে না। তাই ইনান নিজেকে নির্দোষ প্রমান করার চেষ্টা করলো না। রুশভিয়ান চু**ল ছেড়ে বলল,” এবার পরাইয়া দে?
ইনান মাথা নিচু করে নেয়। অতঃপর লুঙ্গিটাকে বিছানার এককোনে রেখে শার্টের বোতাম গুলো খুলতে লাগলো। ইনানের আঙ্গুলের ডগা গুলো কাঁপছে। বুকের ভেতরের হৃদপিণ্ডটা জোরে জোরে বিট করছিলো। যেন একছুটে বেরিয়ে আসবে বুক থেকে । ইনান ধীর পায়ে এগিয়ে এসে রুশভিয়ানের সামনে এসে দাঁড়ালো। চোখ দুটো তুলে একবার ও রুশভিয়ানের দিকে তাকালো না। ভ*য়ে, লজ্জায় আরো সিটিয়ে গেল ইনান। রুশভিয়ান স্থির দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। এতক্ষণ রাগে জ্ব*ল*তে থাকা চোখ হঠাৎ যেন এক মুহূর্তের জন্য অন্যরকম কোমলতা খেলে গেল। ইনানের কাঁপতে থাকা হাত, ভেজা চোখ আর অপ্রস্তুত মুখটা তার দৃষ্টি এড়িয়ে গেল না।
ইনান শার্ট মেলে ধরলো রুশভিয়ানের সামনে। রুশভিয়ান একহাত মেলে দেয়। ইনান শার্টের একহাতা হাতে ভরে, পিছনে দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে আরেকটা হাত পরিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে গেল। রুশভিয়ানের নাকে নাসারন্ধ্র হলো ইনানের শ*রী*রে*র সুমিষ্ট সুঘ্রান। রুশভিয়ান প্রানভরে নিঃশ্বাস টাকে টেনে পুরুষালি হাত দ্বারা আকড়ে ধরলো ইনানের কো*ম*ড়। আছরে ফেলল তার বুকের উপরে। রুশভিয়ানের স্পর্শেই ইনান যেন বি*দ্যু*ৎ*স্পৃ*ষ্ট হয়ে উঠলো।বুকের ভেতর অজানা অনুভূতিতে কেঁপে উঠলো ইনানের । তড়িঘড়ি করে মাথা উঁচিয়ে রুশভিয়ান দিকে তাকালো। রুশভিয়ানে বাঁকা হেঁসে ইনানের ঠোঁটে শুকনো চু*মু খেয়ে বলল,” হ্যাবলার মতো কইরা না তাকাইয়া বোতাম গুলা লাগাইয়া দে?
ইনান সম্বিত ফিরে পেয়ে মাথা নিচু করে নেয়। রুশভিয়ানের এত কা*ছে আসার জন্য ইনানের সারা শরীর থ*রথ*র করে কাঁপছে। কপাল দিয়ে দরদর করে ঘাম বেরিয়ে আসছে তার। ইনান শুকনো ঢোক গিলে শার্টের দুটো বোতাম লাগাতে পারলে ও বাকি গুলা লাগাতে পারলো না রুশভিয়ানের জন্য। রুশভিয়ান তাকে চে*পে ধরে রাখার জন্য সে নিচের বোতাম গুলোর নাগাল পেল না। ইনান মিনমিনে স্বরে বলল,” আমাকে ছা*ড়ু*ন, শার্টের বোতাম লাগাতে পারছি না ” ইনান কাঁপা কন্ঠস্বরের কোনরকমে কথাটুকু বলে দীর্ঘশ্বাস টানলো। রুশভিয়ান তাকে ছাড়লো না, আরো কাছে টে*নে এনে ইনানের ভে*জা চু*লে না*ক ডু*বিয়ে বলল,” লাগানো লাগবো না, তুই এইভাবে দাঁড়াইয়া থাক? ইনান আর কিছু বলল না। সে একভাবে দাঁড়িয়ে রইলো। রুশভিয়ান ইনানের গ*লা*য় ছো*ট চু*মু খে*তে লাগলো। ইনান কে কাছে পেয়ে রুশভিয়ান ভুলে গেল তাকে আজকে পার্লামেন্টে যেতে হবে। সেখানে মিটিং আছে।
রুশভিয়ান চু*মু খে*তে গিয়ে ইনানের কাঁধে কা*ম*ড় বসিয়ে দেয়। ইনান রুশভিয়ানের হাত ধরে আ*র্ত*না*দ করে উঠে। রুশভিয়ান ইনানকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে গ*লা*য় মু*খ ডু*বা*লে। ইনান আস্তে আস্তে নিজের শরীরের ভারসাম্য হারালো। রুশভিয়ান নে*শা*ক্ত চোখে ইনানের গোলাপি অ*ধ*র গুলোর দিকে তাকিয়ে,, এগিয়ে যেতে নিলেই এমন সময় ঘরের দরজায় কড়া নাড়লো। রুশভিয়ান হুঁশ ফিরলো। তড়ি ঘরি করে মাথা উঁচিয়ে বলল, ” আমির!
আমির বাইরে থেকে জোরে বলল,” ভাই তাড়াতাড়ি করেন, অনেক দেরি হইয়া যাইতাছে?
রুশভিয়ান ইনানকে ছা*ড়তে ছা*ড়তে বলল,” আমি আইতাছি, তুই গিয়া বস গাড়িতে?
রুশভিয়ান আর ইনানকে লুঙ্গি পরিয়ে দিতে বলল না। নিজেই লুঙ্গি পড়ে, পারফিউম ছিটিয়ে দিলো শরীরে। চুল গুলোকে হাত দিয়ে ঠিক করে, চোখে কালো চশমাটা পরে এগিয়ে গিয়েও আবার ফিরে তাকালো ইনানের দিকে।
ইনান নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মনে মনে আমির কে ধন্যবাদ দিচ্ছে,সময় মতে না এলে আবার তার উপরে এই নোং**রা লোক অ*ত্যা*চা*র করতো!
রুশভিয়ান ইনানের দিকে তাকিয়ে বলল, ” এদিকে আয়? ইনান কথাটা শোনামাত্র এগিয়ে এলো রুশভিয়ানের কাছে। রুশভিয়ান তার ব*লি*ষ্ঠ হাত দ্বারা ইনানের পা*ত*লা কো*ম*ড় টাকে আকড়ে ধরলো। ইনানের শরীর আবার কাঁ*প*তে লাগলো। রুশভিয়ান ইনানের কাঁ*পুনি দেখে বলল,” এত কাঁপা_কাঁপি করোস ক্যান, এর থেইকা কত গ*ভী*রে তোরে ছুঁ*ই*য়া দিয়েছি। তা হইলে আমার স্প*র্শে ক্যান কাঁপবি তুই।
রুশভিয়ানের কথা শুনে ইনানের কান গরম হয়ে গেল। ইনান মনে মনে বলল, ” অ*স*ভ্য বাঁ*দর, হনু*মান, ই*ত*র, লুচ্চা।
রুশভিয়ান ইনানের কো*ম*ড় ধরে এগিয়ে গেল নিচে। ইনান অ*স্বস্তি মাথা নিচু করে আছে। ঘরের বাইরে থেকে একদম নিচ পর্যন্ত লাঠিয়াল গুলো দাঁড়িয়ে আছে সে জন্য ইনান মাথা নিচু করে নেয়।
ড্রয়িংরুমে টেবিলে খাওয়ার দিচ্ছে তুবা। যে মেয়েটিকে আমির নিয়ে এসেছিলো তার নাম তুবা। তার থেকে কিছুদূরে সোফায় বসে আছে আমির। মুখটা বেজায় ধমধমে হয়ে আছে তার। এরইমধ্যে রুশভিয়ান ইনানের কো*ম*ড় ধরে নিচে নেমে এলো। আমির একবার কোনরকমে তাকিয়ে বাইরে চলে গেল। রুশভিয়ান ইনানের দিকে তাকিয়ে বলল,” খাওন নিয়া আয়, আমারে খাইয়া দিবি? ইনান যেন আকাশ থেকে পড়লো। সে তো নিজেই খেতে জানে না। মাছের কাঁটা কিভাবে ছাড়াতে হয় সেটায় জানে না আর এই দামড়া বুড়া লোককে খাইয়ে দিবে। ইনান ভ*য়ে কিছুই বলতে পারলো না। না হলে এই দামড়া বুড়া পা*গ*ল ষাঁড়ের মতো হাম্বাহাম্বা শুরু করবে।
রুশভিয়ান চেয়ারে বসে গেল। আর ইনান কাঁপা হাতে হাতে প্লেটে ভাত তুললো। তারপর মাছ তুলতে নিলেই রুশভিয়ান তার হাত ধরে নেয়। ইনান মনটা কেঁপে উঠলো। আবার কোন ভুল করলো নাকি সে। রুশভিয়ান লাল চোখ করে বলল,” স্বামীরে খাইতে দিবি, আর স্বামী কি খায় জানোস না? কিয়তক্ষন থেমে বলল,” আমি খায় মাছ না, ওটা বাদে অন্য গুলা দে?
ইনান যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। পটলের ভাজা আর লালশাক তুলে নেয়। ইনান ভাত মাখতে শুরু করলো। ইনানের ভাত মাখানো দেখে রুশভিয়ান বিরক্তির নিঃশ্বাস ফেলল। এই মেয়ে ভাত মাখছে নাকি ভাত একে মাখছে বোঝা যাচ্ছে না। রুশভিয়ান কপালে দুই আঙ্গুল দিয়ে কপাল ঘষে বলল,” হয়েছে আর মাখতে হইবো না। এবার খাইয়ে দে!
ইনান কাঁপা কাঁপা হাতে অল্প একটু ভাত তুলে রুশভিয়ানের মুখের সামনে ধরলো। হাত এতটাই কাঁপছিলো যে কয়েক দানা ভাত টুপ করে প্লেটে পড়ে গেল।
রশভিয়ান ভ্রু কুচকে বলল,” হাত কাঁপতাছে ক্যান?
ইনান চমকে উঠলো , তারপর ফিসফিস করে বলল,” আমি… আমি আগে কাউকে খাওয়ানি তো?
রুশভিয়ান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে পুনরায় বলল,” আজকে থেইকা অভ্যাস কইরা, প্রত্যেক দিন আমার খাইয়ে দিতে হইবো? কথাটুকু বলে ইনানের লোকমা টুকু মুখে পুরে নেয়। ইনান হাত গুলো রুশভিয়ানের ঠোঁটের ছোঁয়া পাওয়া মাত্র ইনানের সারা শরীরের শিহরণ বয়ে গেল। ইনান হাতটা সরিয়ে এনে আবারো ভাতের লোকমা মাখতে শুরু করলো। এভাবে ইনান পুরো ভাতটুকু রুশভিয়ানকে খাইয়ে দিলো।
এই দৃশ্য আমির দরজার আড়াল থেকে দেখছিলো।তার চোখ দিয়ে টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো। ভাইটা জীবনে অনেক ক*ষ্ট পেয়েছে, এবার যেন আল্লাহ তাকে সুখের মুখটুকু দেখায় । সে আবারো এসেছিলো ভাইকে ডাকতে এসে এমন দৃশ্য দেখে আমির চোখের পানি টুকু আটকে রাখতে পারলো না। আমির আর ভিতরে প্রবেশ করলো না চলে গেল বাইরে।
রুশভিয়ান বলল,” আমার মুখটা মুছিয়ে দে? ইনান তার ছোট শরীরটাতে কত আর শক খাবে আজকে বুঝতে পারছে না। দামড়া বুড়া লোককে খাইয়ে দিয়ে আবার মুখ মুছিয়ে দিতে হবে। ইনান হাতটা প্লেটে ধুয়ে আস্তে আস্তে বলল,” আমি তোয়ালে নিয়ে আসি ” বলেই সামনে এগিয়ে যেতে নিলেই রুশভিয়ান হেঁ*চ*কা টানে তার বু*কে*র উপরে আছরে ফেলল। ইনান দুই হাত দিয়ে আকড়ে ধরলো রুশভিয়ানের শার্ট। রুশভিয়ান শান্ত গলায় বলল, ” তোর মাথায় কি গোবর আছে শা**লী? জামাইরে কি দিয়া মুখ মুইছা দিতে হয় জানোস না।
ইনান ভয়ডর ভুলে অবোধ বালিকার মতো ঘাড় নাড়িয়ে না বোঝালো। রুশভিয়ান একঝটকায় তার শাড়ীর আঁ*চ*ল তু*লে ইনানের হাতে ধরিয়ে বলল,’ এইটা দিয়া মুছতে হয়, ধর মুছে দে ” বলেই র**ক্তজবার মতো চোখ করে ইনানের দিকে তাকালো।
ইনান বাধ্য মেয়ের মতো স্বামীর মুখ মুছতে লাগলো। ইনান রুশভিয়ানের মুখ মুছে দিয়ে উঠতে নিলেই রুশভিয়ান আবারো ইনানের কো**ম*ড় চেপে আটকে বলল,” চু**মা দে? ইনানের মনে হলো সে এবার মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যাবে। সে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো রুশভিয়ানের মুখের দিকে।
রুশভিয়ান একঝটকায় ইনানের মাথার চু*ল গুলোকে চেপে ধরে মুখটা উঁচু করে আকড়ে ধরলো ইনানের ঠোঁ**ট জো*ড়া। ইনান ভ্যাবলাকান্তের মতো করে এখনো তাকিয়ে আছে। আর রুশভিয়ান ইনানের ন*র*ম অ*ধ*র গুলোতে ডু*বে আছে। এভাবে কতটা সময় পর রুশভিয়ান ই*নানের ঠোঁ*ট ছে*ড়ে দিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে ঠোঁট মুছে ইনানকে কোল থেকে নামিয়ে এগিয়ে গেল বাইরে। আর ইনান এখনো ঘোরের মধ্যে ডুবে রুশভিয়ান কে দেখে যাচ্ছে। রুশভিয়ান গাড়িতে উঠে রত্নকুঞ্জ থেকে চলে যাওয়ার পর ইনানের ঘোর কাটলো। দুই হাত দ্বারা ঠোঁ*ট গুলোকে মুছতে লাগলো ইনান।
ম্যাডাম আপনাকে খাবার দেবো। ইনান কারো কন্ঠস্বর শুনে ঘুরে তাকাতে নিলেই দেখলো একজন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে লাল সুতির থ্রিপিচ, চুল গুলো বেনুনি করে রাখা আছে। বয়সে তার থেকে বড় হবে । ইনান তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টে সে মেয়েটাকে বলল,” আপু আপনার নাম কী? মেয়েটা চোখ দুটো ছলছল হয়ে গেল। এত বড় বাড়ির মালকিন তাকে আপু বলছে সে কয়েক পা এগিয়ে এসে বলল, ” আমার নাম তুবা ম্যাডাম, আপনাকে খাওয়ার দেবো?
ইনান খাওয়ারের কথা শুনে বুঝতে পারলো সত্যি তার প্রচুর খিদে পেয়েছে। ইনান বলল,” দিন” বলেই চেয়ার টেনে বসে পড়লো।
তুবা এগিয়ে এসে প্লেটে খাবার বেড়ে দিতে লাগলো। ইনান তুবার দিকে তাকিয়ে বলল,” আপু আপনি এখানেই থাকেন।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৪
তুবা খাওয়ার দিতে দিতে বলল,” জি!
ইনানের মনটা খুশি হয়ে গেল। এবার আর তাকে এই ভুতের বাড়িতে একা একা থাকতে হবে না।
ইনান এক লোকমা ভাত মুখে দিতেই নিলেই কেউ এসে তার গাল বরাবার থা*প্প*ড় মে*রে দেয়। ইনান চেয়ার থেকে নিচে ছিঁ*ট*কে প*ড়ে গেল। তুবা এগিয়ে এসে ইনানকে আকড়ে ধরে সামনে তাকালো
