এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৮
ফাতেমা তুজ জোহরা
বৃষ্টির পানিতে দুজনেই ভিজে গেল। রুশভিয়ান ঘো*রের ন্যায় তাকিয়ে থাকলো ইনানের ঠোঁ**টে*র দিকে……
আমার ছোট মাইয়াটার অনেক বড় রো*গ হইছে। ডাক্তার বলেছে অনেক টাকা লাগবো চিকিৎসা করানোর লাইগা।তিয়াসা ম্যাডামের লগে আমার বেশ খাতির। তিয়াসা ম্যাডাম কে বললাম আমারে কিছু টাকা ধার দেন তখন তিনি বললেন ছোট গিন্নি মাকে রত্নকুঞ্জ থেইকা বের করতে হইবো।স্যার বিশ্বাস করেন আমার কোন উপায় ছিল না, আমার মাইয়াটাকে বাঁ*চা*নোর লেইগা আমি আপনার লগে বিশ্বাস ভাঙছি ” মাইনুল কথা গুলো বলে কান্না ভেঙে পড়লো ধুলো মাখা রাস্তায়।
রুশভিয়ানের চোখ মুখের কোন পরিবর্তন হলো না। শ*ক্ত মুখ করে তাকিয়ে থাকলো মাইনুলের দিকে। রুশভিয়ান তার হাতটা বাড়িয়ে দেয় তুবার দিকে। তুবা একটা সোনালি কালারের ব*ন্দু*ক ধরিয়ে দেয় হাতে। রুশভিয়ান গমগমে স্বরে বলল,” তোর টাকার দরকার হইলে আমাকে বলতি, তাই বলে আমার ক*লিজায় হাত দিবি তুই। উঁহু, তোর মতো বি*শ্বা*স*ঘা*ত*ক রে আমার রত্নকুঞ্জ ঠাঁই পাবো না। তোরে আজকে আমি ওই উত্তরের জঙ্গলে ক*ব*র দিমু।চিন্তা নাই তোর পরিবারের দায়িত্ব আমার, কিন্তু তোরে বাঁ*চতে দিমু না। তুই ওই নোং*রা হাত দিয়া আমার বউরে স্প*র্শ করেছিত সে হাত আমি জ্বা*লি*য়ে দিমু ” রুশভিয়ান কথাগুলো বলে ইনানকে কোলে নিয়ে গাড়ি দিকে এগিয়ে যেতে নিলেই মাইনুল দৌড়ে এসে রুশভিয়ানের পাদুটো আকড়ে ধরে ভাঙা গলায় বলল,” স্যার আমি আরএইরকম করমু না… মাইনুলের কথা শেষ হওয়ার আগেই রুশভিয়ান মাইনুলের বু*ক বরাবর দিলো এক লা**থি।
মাইনুল লা**থি খেয়ে উল্টো পড়লো। রুশভিয়ান ইনান কে বুকে জড়িয়ে ধরে তে*ড়ে ফুঁ*ড়ে গিয়ে আরেকটা লা**থি বসিয়ে দেয় মাইনুলের বুকে। মাইনুলের গলার কাছে ডা*ন পা টা শ*ক্ত করে চে*পে ধরে হি*স*হি*সি*য়ে বলল,” তোরে আমি এমন শা*স্তি দিমু যা কল্পনা করতে গিয়া তোর বুক কাঁ*পা*ই*য়া উঠবে, আর তুই আমার কাছে মাফ চাস ” বলেই পাটা আরো শ*ক্ত করে চে*পে ধরলো। মাইনুলের মুখ দিয়ে র*ক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগলো, শ্বা*স*রো*ধ হওয়ার কারনে চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল । দুই হাত দিয়ে রুশভিয়ানের পা সরানোর চেষ্টা করলো কিন্তু এতটুকু ও সরাতে পারলো না।
রুশভিয়ান মাইনুলের চোয়াল বারবর শক্তপোক্ত লা*থি মে*রে গাড়ির দিকে এগিয়ে ইনানকে রাখতে। আর মাইনুল ছ*ট*ফ*ট করছে চেয়ালের আর গলার ব্যা*থা*য়।
রুশভিয়ান কে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসতে দেখে একজন গার্ড নিঃশব্দে গাড়ির দরজা খুলে সরে গেল।ইনান কে সযত্নে গাড়ির পিছনের সিটে শুয়েই রেখে ইনানের মুখের উপর৷ থেকে চুল গুলোকে সরিয়ে দেয়। রুশভিয়ান তার শরীর থেকে শার্টটা খুলে ছোট একটা পোটলা তৈরি করে ইনানের মাথার নিচে রেখে দেয়, যেন মাথায় ব্যা*থা না পায় । একপল ইনানের ফ্যা*কা*শে মুখের দিকে তাকিয়ে গাড়ির দরজা আস্তে করে লাগিয়ে দেয়।
রুশভিয়ানের পরনে এখন সাদা স্লিভলেস গেঞ্জি, আর সাদা লুঙ্গি। লুঙ্গিটাকে উঁচিয়ে বেঁধে নেয়। রুশভিয়ান সগৌরবে এগিয়ে এলো মাইনুলের দিকে। তার এগিয়ে আসার সাথে সাথে একজন গার্ড দৌড়ে এসে একটা চা*পা*তি এগিয়ে দিলো।
রুশভিয়ান রা*গে ফোঁ*স ফোঁ*স করতে করতে চা*পা*তি টাকে হাতে নিয়ে এগিয়ে এলো মাইনুলের সামনে। মাইনুল পিছন পিছিয়ে যেতে থাকলো ভ*য়ে তার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠছে। মাইনুলের মনে হচ্ছে তার সামনে স্বয়ং আ*জ*রা**ই*ল দাঁড়িয়ে আছে। মাইনুল কাঁদতে কাঁদতে বলল,” স্যার আমারে ছাইড়া দিন?
রুশভিয়ান এগিয়ে গিয়ে মাইনুলের ডান হাত বরাবর দিলো এক কো” প। সাথে ডান হাতটা ছিটকে পড়লো অদূরে। মাইনুল গগন বি*দা**রী চি*ৎ*কা*র দিয়ে উঠলো। রুশভিয়ান কা*টা হাতের দিকে এগিয়ে গিয়ে কাঁ*টা হাতটায় অনবরত কো**প দিতে দিতে বলল,’ এই হাত দিয়া আমার বউরে স্পর্শ করছিত শা*লা, এই হাত আমি পৃ*থি*বী থে*ই*কা স*রা*ই*য়া দিমু “রুশভিয়ানের সাদা লুঙ্গি, আর গেঞ্জি র*ক্তে লা*ল টকটকে হয়ে গেল। তাকে দেখতে একদম র*ক্ত মানবের মতো লাগছে। তবুও তার থামাথামির নাম নেই।
মাইনুল চি*ৎ*কা*র করে বাচ্চাদের মতো করে কান্না করছে। আর প্রত্যেকটা গার্ড ভ*য়ে তটস্থ হয়ে আছে তাদের স্যারের। সকলে ভ**য় পেল ও তুবার চোখে মুখে এতটুকু ভ*য় নেই। সে গাড়ির উপরে বসে ফোন টিপছে।
রুশভিয়ান আবারো এগিয়ে এলো মাইনুলের দিকে। মাইনুল এবার আর সরলো না । সে বুঝতে পারছে হাজার আকুতি মিনতি করলে ও আজকে তাকে কেউ বাঁ*চা*তে পারবে না। রুশভিয়ান দাঁত গুলো বের করে বি*চ্ছি*রি ভাবে হাসতে হাসতে বলল,” এই পৃথিবীতে তাকে ছোঁয়ার অনুমতি আমি কাউরে দেয়নি আর তুই ” কথাটুকু বলেই আরেকটা হা*ত আলাদা করে দেয় শ*রী*র থেকে। মাইনুল এবার মাটিতে গড়াগড়ি করতে করতে আ*র্ত*না*দ করে উঠলো দুইহাত নিয়ে।
রুশভিয়ান হাতের ইশারায় করতে দুজন গার্ড কে*রা*সিনের ড্রাম নিয়ে এসে রেখে দেয়। আরো দুজন গার্ড এসে মাইনুলকে কে*রা*সি*নের ড্রা*মে চু*বি*য়ে দেয়। মাইনুল ধ*ড়*ফ*ড়ি*য়ে উঠলো একটু বাঁচার জন্য। কিন্তু পারলো না কা*টা হাতের জন্য। যত ছ*ট*ফ*ট করতে লাগলো ততই তলিয়ে যেতে লাগলো ড্রা*মে*র নিচে। নাকে মুখে কে*রা*সি*ন ঢু*কে গে*ল তার।
রুশভিয়ান হাতের চা*পা*তি টা নিচে ফেলে দেয়। একজন এসে সি*গা*রেট ধড়িয়ে রুশভিয়ানের ঠোঁট দিলো। রুশভিয়ান র*ক্ত মাখা একহাত দিয়ে সি*গা*রে*টে সুখ দেয়। সাথে সাথে সি*গা*রে*ট আগায় দগদগে আ*গু*ন জ্ব**লে উঠলো। ঠোঁটে ফুটে উঠলো বাঁকা হাসি দিয়ে সি**গা*রে*ট ছুড়ে মা*র*লো কে*রা*সি*ন ভর্তি ড্রামের মধ্যে। মুহুর্তের মধ্যে দা*উ*দা*উ করে আ*গু*ন জ্ব*লে উঠলো। মাইনুলের আ*র্ত*না*দে রাতের আকাশ বাতাস একপ্রকার নিস্তব্ধতা নেমে এলো।
রুশভিয়ান ঘুড়ে দাঁড়িয়ে সকল গার্ডের উদ্দেশ্য চি*ৎ*কা*র করে বলল,” সকলে কান খুইল্যা শুইনা রাখ, বি*শ্বা*স*ঘা*ত*কতার শাস্তি একমাত্র মৃ*ত্যু হইবো । আর আমার কলিজার গায়ে যে এতটুকু আঁ*চ*ড় দিবে তার অবস্থা এমন হবে” কথাটুকু বলে গাড়ির দিকে চলে গেল রুশভিয়ান। সকল গার্ড কেঁপে উঠলো ভ*য়ে।
তুবা একবার জ্ব*ল*ন্ত ড্রামের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে সে আরেকটা গাড়িতে করে চলে গেল।
দুজন নর নারী একই বিছানায় নি*ষি*দ্ধ কাজে লিপ্ত হয়ে আছে। শ*রী*রে উপরে পাতলা চাদর দু”জনের, দিন দুনিয়ার কোন হুঁশ নেই তাদের।কিয়তক্ষন কেটে যাবার পর যুবক না*রী*র শ*রী*রে*র উপর থেকে সরে এসে হাঁ*পা*তে লাগলো। মেয়েটার চোখে দু*ষ্ট*মির ঝলক। মেয়েটা উঠে এসে যুবকের কো*লে বসে আ*বে*দ*নময়ী স্বরে বলল,” বে*বি আজকে আমি অনেক খুশি, তোমার মতো কেউ আমাকে এতটা সু*খ দিতে পারিনি?
যু*বকের ঠোঁটে ফুটে উঠলো বাঁ*কা হাসি। মেয়েটার পাতলা কো*ম*ড় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে বিছানায় পড়ে গিয়ে ঠোঁ*টের কাছে ঠোঁ*ট ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলল,” তাহলে চলো বে*বি আরেক বার শুরু ক*রি? বলেই চোখ টিপ দেয়।
মেয়েটা নাকোচ করে বলল, ” না, আমি অনেক ক্লান্ত আজকে না অন্য আরেক দি… মেয়েটার কথা শেষ হওয়ার আগেই দরজা খুলে কেউ প্রবেশ করলো ঘরে। যুবকের কপালে চিন্তার ভাঁজ সে বুঝতে পারলো কে এইসময় আসতে পারে। তার থেকে বড় কথা সে দরজা লক করে এসেছিলো।
যুবক ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো পরিচিত একমুখ। সে আর কেউ না তার গার্লফেন্ড অনু। পরনে কালো মলিন থ্রিপিচ, চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে, হাতে জীর্নশীর্ন একটা ব্যাগ। মুখটা বেজায় শুকনো হয়ে আছে মেয়েটার, মেয়েটা এতবড় শ*ক স*হ্য করতে পারলো না কয়েক পা পিছিয়ে গেল।
যুবকের শ*রী*রের সাথে লে*প্টে থাকা মেয়েটা যুবক ছেড়ে কাপড় ঠিক করতে করতে অনুর সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হেঁসে বলল, ” খুব তো বলেছিলি তোর ব*য়ফ্রেন্ড অনেক ভালো, তোকে ছাড়া কিছুই বোঝে না তাহলে আজকে প্রমান পেলি তো গরীব ঘরে জন্ম নিয়ে কখনো বড়লোকের ছেলের গার্লফেন্ড হওয়া যায় না” কথাটুকু বলেই মেয়েটা চলে গেল। আর অনু অশ্রু ভেজা চোখে সামনের মানুষটাকে দেখছে। সে নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না, সত্যি এগুলো নাকি কোন খা*রা*প স্বপ্ন যে চোখ খুললেই সব উধাও হয়ে যাবে।
যুবক ধীরে সুস্থে এগিয়ে এসে দা়ঁড়ালো অনুর সামনে। পরনে আ*ন্ডা*রও*য়্যা*র প্যান্ট, পুরো শরীর থেকে ওই মেয়েটার শ*রী*রে*র ঘ্রা*ন ভেসে আসছে। অনু স*হ্য করতে পারলো না এই বি*ষা*ক্ত ঘ্রান কয়েক পা পিছিয়ে যুবকের চোখে চোখ রেখে বলল,” তুমি খু**নি ছিলে তবুও আমার এতটুকু আফসোস ছিল না, কিন্তু তুমি প*র*না*রী*র সাথে একবিছানায় আমি কিভাবে এটা মানবো আরিয়ান” কথাটুকু শেষ করার আগেই মেয়েটার গাল বরাবর থা*প্প*ড় পড়ে গেল। মেয়েটা সামনে তাকাতেই নি*র্দয় পুরুষটাকে দেখলো।
আরিয়ান দ*ম্ভের সাথে বলল,” এই আরিয়ান মির্জা তোর মতো এ*তি*ম মেয়েকে বিয়ে করবে ভেবেছিস। দুই একবার বিছানায় শু*য়ে*ছি*স তাই বলে ভাবছিস মির্জা মহলের বউ হবি? কথাটুকু বলেই অনুর দিকে তাকালো।
অনু চোখে পানি নিয়ে ঠোঁটে ক্ষীন ফুটিয়ে বলল,” তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আরিয়ান মির্জা আমাকে মনে করানোর জন্য যে আমি এ*তি*ম এই পৃথিবীতে আমার কেউ নেই , তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাকে এত যত্ন করে ক*ষ্ট দেওয়ার জন্য। আমাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলে এতিম মেয়েদের কেউ কখনো ভালো বাসে না। কিন্তু আজকে আরেকটা কথা শুনে রাখো আরিয়ান মির্জা একদিন তুমি ঠিক আমার মর্ম বুঝবে সেদিন পা*গ*লে*র মতো কেঁদে বেড়াবে বাট পাবেনা ”
বর্তমান,,অনু তুমি যেওনা অনু, আমি ভালো ছেলে হয়ে থাকবো, তোমার সব কথা শুনবো তুমি যেওনা অনু ” আরিয়ান কথাগুলো বিছানা থেকে পড়ে গেল। আইয়ুব মির্জা আরিয়ানের পাশে শুয়ে থাকার কারনে সে তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়িয়ে আরিয়ান কে বুকে চেপে ধরলো। আরিয়ান এখনো ছ*ট*ফ*ট করছে, চোখ দিয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়ছে তার।
আইয়ুব মির্জা হাঁ*ক ছেড়ে নার্সকে ডাকলো। নার্স ছুটে এলো তাড়াতাড়ি করে। আরিয়ানে মুখ দিয়ে ইতিমধ্যে র*ক্ত বের হতে শুরু করেছে। আইয়ুব মির্জা বড় নাতীর এমন করুন দশা দেখে চি*ৎ*কা*র করে কেঁদে উঠলো। নার্স একটা ইনজেকশন নিয়ে এসে পুশ করার সাথে সাথে আরিয়ান ঠান্ডা হয়ে গেল। মুখ দিয়ে আর র**ক্ত বের হলো না তার।
নার্স টিস্যু এনে আরিয়ানের মুখ মুছতে মুছতে আইয়ুবের উদ্দেশ্য বলল,” কাউকে ডেকে আনুন, নিচে থাকলে আরো অবস্থা খা*রা*প হয়ে যাবে তার।
আইয়ুব অন্ধকারের মধ্যে চলে গেল কাউকে ডেকে নিয়ে আসতে। আর আরিয়ান ঘোরের মধ্যে এখনো বিরবির করে অনু অনু বলে ডাকলো।
রাত দুইটা,, রুশভিয়ান সরাসরি ইনানকে নিয়ে রত্নকুঞ্জের দিঘীতে নেমে গেল। দীঘিটা বাইরে কোন খোলা মাঠে তৈরি করা নেই, এটা তৈরি করা আছে ছাদের উপরে। ইনানকে নিয়ে একসাথে পানিতে ডুব দিয়ে উঠতেই ইনান খুক খুক করে কেশে উঠলো। আনমনেই রুশভিয়ানকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো। রুশভিয়ান তাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে ইনানের সারা শরীর ঘষে দিতে লাগলো জো*রে জো*রে। ইনান চোখবন্ধ থাকা অবস্থায় আ*র্ত*না*দ করে উঠলো। তবুও রুশভিয়ান থামলো না, সে ইনানের শরীর থেকে শাড়ী খুলে দিঘীর পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে লাগলো তাকে। ইনান কিয়তক্ষন বাদে পিটপিট করে চোখ খুললো সে চোখের সামনে রুশভিয়ান কে দেখে তখনকার স্মৃতি গুলো মস্তিষ্কে হানা দেয় ইনান দিকভ্রান্ত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো রুশভিয়ানের বুকে। রুশভিয়ান ইনানকে জড়িয়ে ধরলো অযাচিত ক্ষু*দ্ধ*তা*য় তার চোখ খুলে লাল হয়ে উঠলো যা ছাদের আলতে স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠলো।
রুশভিয়ান ইনানকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ইনানের ডান গাল বরাবর দিলো এক থা*প্প*ড়। ইনান পানিতে পড়তে নিলেই রুশভিয়ান তার একহাত ধরে তার দিকে ঘুরিয়ে ঝাঁঝালো স্বরে বলল,” শা**লী বা**ন্দি তোর বুকে এতটুকু সাহস নাই, তোকে জঙ্গলে ফালাইয়া দিবো বলছে আর তুই অন্যর আঁচলের নিচে লুকাইয়া কান্দোস”? বলেই আরেকটা থা*প্প*ড় দিলো।
ইনান আর চুপ থাকলো না মাথায় তার রা**গ উঠে গেল। সে নিজের হাত ছাড়িয়ে দুইহাত দ্বারা রুশভিয়ানকে দিলো এক ধা**ক্কা। রুশভিয়ান পিছনে দুই পা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হলো। ইনান চি*ৎ*কা*র করে বলল,”আপনি আমার জীবনে কাঁদা ছাড়া আর কি রেখেছেন বলবেন প্লিজ, নিজেই লোক পাঠাচ্ছেন আমাকে জঙ্গলে ফে**লে আসার জন্য আর এখন আপনি বলছেন কেন আমি প্রতিবাদ করিনি? কিয়তক্ষন থেমে বলল,” আমি প্রতিবাদ করি আর আপনি আমাকে এসে চা*বু*ক দিয়ে মা*র*বে*ন, ভ*য় দেখাবেন, এমনকি শা*রী*রি*ক নি*র্যা*ত*ন করবেন ” ইনান কথাগুলো ফেলল বেচারী হু়ঁশ হারিয়ে কি বলে ফেলেছ নিজের ও মনে নেই।
রুশভিয়ান ভ্রুকুচকে ইনানের দিকে তাকিয়ে আছে। শান্ত চোখে ইনানের দিকে তাকিয়ে রইলো। এই মেয়ে তাকে রীতিমতো শাঁ*সা*লো।
ইনান কিয়তক্ষন বাদে উপরে মাথা তুলতেই রুশভিয়ানের মুখ দেখে ভ**য়ে অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো। মনে পড়তে লাগলো কিছুক্ষণ আগের কথাগুলো। ইনান ভ**য়ে শুকনো ঢোক গিলে মনে মনে বলল,” পালা ইনান, পালা, এই ষাড় আবার ক্ষে**পে যাবে ” কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ইনান পিছনে পিছিয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু দীঘির পানিতে থাকার জন্য য্যুৎ করতে পারছে না। তবুও থামলো না সে । ইনান কয়েক পা এগিয়ে যেতেই রুশভিয়ান তার পিছু নিলো। ইনান এবার পায়ের গতি বাড়ালো।সে একপা সিঁড়িতে রাখতে নিলেই রুশভিয়ান তার ডান হাত আকড়ে ধরে ইনান না চাইতে ও রুশভিয়ানের বুকে আছরে পড়লো।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৭
রুশভিয়ান ইনান কে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বলল,” কি বললি ” বলেই ইনানকে নিজের বু*কের সাথে জড়িয়ে ধরলো। ইনান ভ**য়ে কেঁপে উঠলো মনে মনে আফসোস করতে লাগলো কেন যে কথাগুলো বলল। এমন সময় আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে মেঘ গর্জন করতে লাগলো সাথে ঝড়ো বাতাস হচ্ছে ।সাথে সাথে ঝমঝমিয়ে মিষ্টি নেমে এলো। ছাদের আলো গুলো একঝটকায় নিভে গেল। মেঘ গর্জন শুরু হলো, রুশভিয়ান কিছু না বলেই ইনানকে কোলে তুলে নেয় ।ইনান হকচকিয়ে রুশভিয়ানের গলা শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো, বৃষ্টির পানিতে দুজনেই ভিজে গেল। রুশভিয়ান ঘোরের ন্যায় ইনানের ঠোঁ*টের দিকে তাকিয়ে আছে…..
