এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৯
ফাতেমা তুজ জোহরা
তার চোখ মুখ জুড়ে আছে ইনানের নে*শা। সে নে*শা*ক্ত হয়ে ইনানের
রুশভিয়ান ঘোরের ন্যায় ইনানের ঠোঁ*টের দিকে তাকিয়ে আছে।বৃষ্টির পানি গুলো ঠোঁটে উপরে পরে গিয়ে মুক্ত দানার মতো নিচে টপটপ করে গড়িয়ে পড়ছে । ইনান ভ*য়ে দুই চোখ বন্ধ করে রেখেছে, এই বৃষ্টিতে চোখ খুলে রাখা সম্ভব ও না। রুশভিয়ান আস্তে আস্তে করে এগিয়ে এলো ইনানের ঠোঁ*টে*র, এসেই জি*ভ বের করে ইনানের ঠোঁ*ট থেকে গড়িয়ে পড়া পানি গুলো লে*হ*ন করতে লাগলো ধীরে ধীরে। ইনান হকচকিয়ে উঠলো সাথে পুরো শরীর কেঁ*পে উঠলো আচানাক। না চাইতে ও ধীরে ধীরে চোখ খুলতেই রুশভিয়ানের শান্ত দৃষ্টির সাথে তার দৃষ্টি মিলিত হলো। ইনান পুরো শরীর কাঁ*প*ছে রুশভিয়ানের জি*ভে*র ছোঁয়ায়। রুশভিয়ান কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে ইনানকে নিঃশব্দে দিঘীর কংক্রিটের সিঁড়িতে শুয়োই দেয়। ইনান বুঝতে বাকি রইলো না, সে বুঝতে পারছে আবারো তাকে এই জা*নো*য়া*রে*র শি*কা*র হতে হবে। তার চোখ দিয়ে নোনা পানি গড়িয়ে পড়ছে । কিন্তু চোখের পানি গাল স্পর্শ করার আগেই বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।
রুশভিয়ানের এতটা ধৈর্য্য নেই, যে এখন বোতাম খুলবে একটা একটা করে।তাই একটানে তার শরীর থেকে শার্টটা ছিঁ*ড়ে নেয়। সাথে সাথে শার্টটা দুইভাগ হয়ে নিচে পড়ে গেল। বোতাম গুলো গড়িয়ে পড়লো দিঘীর পানিতে। রুশভিয়ান ইনানের দিকে তাকাতেই দেখলো ইনান অন্যদিকে মুখ করে রেখেছে, এবার সে চোখ সরিয়ে ইনানের ভেজা শ*রী*রে*র দিকে তাকাতেই চোখ আটকে গেল উদরে, বিদ্যুৎ এর আলোর ঝলকানিতে যা যা থেকে স্পষ্ট হচ্ছে সাদা ধবধবে উ*দ*র। রুশভিয়ানের ঠোঁটে ফুটে উঠলো বাঁকা হাসি, ভেজা চুলে হাত বুলিয়ে একটু নিচু ইনানের ডান পা ধরে হেঁ*চ*কা টা*ন দিতেই ইনানের শ*রী*র টা রুশভিয়ানের আয়ত্বে চলে এলো। ইনান হকচকিয়ে গেল সাথে পিঠের ব্যা*থা*য় কুঁকড়ে গেল মেয়েটা মুখ দিয়ে বের হলো আ*র্ত*না*দ ।
চারদিকে পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে ঝড় বৃষ্টি, সাথে বিজলির টাশ টাশ শব্দ। টাশ শব্দে পুরো পৃথিবীর বুক কাঁপিয়ে দিচ্ছে কিন্তু রুশভিয়ানের এতে কোন ভ্রুক্ষেপ। তার চোখ মুখ জুড়ে ছড়িয়ে আছে ইনানের নে*শা, সে নে*শা*ক্ত হয়ে ইনানের পায়ে চু*মু খেতে খেতে পা থেকে শা*ড়ী*টা উপরে উঠাতে লাগলো। ইনান পিঠের ব্যা*থা ভুলে রুশভিয়ান কে দুইহাত থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলো। রুশভিয়ান পা ছে*ড়ে ইনানের পুরো শ*রী*রে নিজের ভর ছেড়ে গলায় জি*ভ দিয়ে লে*হ*ন করতে করতে বলল,” আজকে অনেক সুখ পাবি তুই ” বলেই ইনানের বুক থেকে শা*ড়ী*টা সরিয়ে বু*কে মুখ গুঁ*জে দেয়। ইনান পুরো শরীর শি*র*শির করছে তার। ইনান কিছু করার ক্ষমতাও নেই রুশভিয়ান তার হা*ত দুটোকে শক্ত করে সিঁড়ির সাথে চে*পে ধ*রে আছে। ইনান তার ধৈর্যের বাধ ভেঙে বলল,” আমাকে যে… বাকি কথা শেষ করার আগে রুশভিয়ান ইনানের ঠোঁ*ট জোড়া নিজের দ*খ*লে নিয়ে নেয় তার।সাথে একহাত দিয়ে ইনানের শ*রী*র থেকে কা*প*ড় টু*ক*রো গুলো খু*ল*তে ব্যাস্ত হয়ে গেল,ম*ত্ত হলো ইনানের সাথে।
চারদিকে ঝড় বৃষ্টি কমে গিয়েছে ইতিমধ্যে। রাতের আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তারা দের মেলা। কোথাও কোথাও ইতিমধ্যে ফজরের আজান দিতে শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রায় তিনঘন্টা পর রুশভিয়ান ইনানের শ*রী*র থেকে সরে এসে হাঁ*পাতে লাগলো। এদিকে ইনান জ্ঞা*ন হা*রি*য়ে পড়ে আছে সেদিকে রুশভিয়ানের কোন হুঁশ জ্ঞান নেই।
কিয়তক্ষন শুয়ে থাকার পর রুশভিয়ান পাশ থেকে ভে*জা লু*ঙ্গি*টা তুলে কো*ম*ড়ে জড়িয়ে ইনানকে স্বাভাবিক ভাবেই তার কা*লো ভে*জা শা*র্ট*টা প*রিয়ে দেয়। ইনান শরীরে রুশভিয়ানের শার্টটা হাঁটু অবধি গিয়ে ঠেকলো। রুশভিয়ান ইনানের ফ্যা*কা*শে ঠোঁটে গাঢ় করে চু*মু খেয়ে কোলে তুলে এগিয়ে গেল ঘরের দিকে। তার বাহুডোরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে রইলো ইনান। ভেজা চুল গুলো গালের সঙ্গে লেপ্টে আছে। ঠোঁট জায়গা জায়গায় র**ক্ত বের হয়ে শুকিয়ে আবারো ঠোঁটে লেগে আছে, মুখটা অস্বাভাবিক ভাবে ফ্যা*কা*শে হয়ে আছে।
ঘরের দরজা খুলে রুশভিয়ান ভেতরে প্রবেশ করেই ইনানকে খুব সাবধানে বিছানায় শুয়ে দেয়। বালিশটা ঠিক করে ইনানের মাথার নিচে রেখে কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। ইনানের সারা শরীর ঠান্ডায় কাঁপছে।
রুশভিয়ান নিচু হয়ে তার শ*রী*র থেকে ভে*জা শা*র্ট খু*লে, পাশ থেকে কম্বলটা দিয়ে দেয় ইনানের শ*রী*রে। আলমারী খুলে একটা শুকনো তোয়ালে বের করে ইনানের চুল গুলো মুছতে লাগলো। যে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ আগে ক*ঠো*র*তা প্রকাশ পেয়ছিলো, সেই হাতে এখন অদ্ভুত সর্তকতায় ইনানের মাথার চুল গুলো মুছতে লাগলো। ইনান অ*ব*চে*ত*ন অবস্থা তার শুকনো ঠোঁট নেড়ে কিছু একটা বলতেই রুশভিয়ানের হাত থেমে গেল। সে ভ্রুকুচকে ইনানের দিকে তাকালো।ইনান আবারো কিছু বলল কিন্তু রুশভিয়ান কিছু বুঝতে পারলো না।
রুশভিয়ান ইনানের গালে আলতো করে হাত রেখে বলল,” ইনান!
কোন উত্তর নেই ইনানের সে একদম স্থির হয়ে শুয়ে আছে। রুশভিয়ান কয়েক সেকেন্ড বসে আবারো ডাকলো কিন্তু কোন উত্তর নেই। রুশভিয়ান হাত থেকে তোয়ালেটা ফেলতে গিয়ে ও ফেলল না। এগিয়ে গেল ওয়াশরুমে দিকে। আর পিছনে জ্ঞা*ন হী*ন ইনান পড়ে রইলো।
রাতের ঝড় বৃষ্টির রেশ তখন ও পুরোপুরি কাটেনি। ভোরের শেষ বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ছাদের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। আকাশের কালো মেঘ অনেকটাই সরে গিয়েছে পূর্ব দিগন্তে ম্লান সোনালি আভা ফুটে উঠছে। ভেজা বাতাসে মাটির সোঁদা গন্ধ, আর চারপাশে পাতায় জমে থাকা পানির ফোঁটা গুলো সকালের নরম আলোয় ছোট ছোট কাঁচের দানার মতো ঝিলমিল করছে। রত্নকুঞ্জের বিশাল ড্রয়িংরুমজু্ড়ে অস্বাভাবিক ভাবে নীরব হয়ে আছে। দেওয়ালের বড় ঘড়িটা ঠিক সাতটা বাজার জানান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের নীরবতা ভেঙে টুং করে শব্দ বেজে উঠলো।
ড্রয়িংরুমের মাঝখানে রাখা বিশাল কাঠের টেবিলের সামনে গম্ভীর হয়ে বসে আছে রুশভিয়ান। তার পরনে একেবারে সাদা,পরিষ্কার লুঙ্গি আর ফুল হাতা সাদা শার্ট। শার্টের হাতা দুটো কুনই পর্যন্ত গোটানো।একহাতে কালো কলম, অন্য হাতটা টেবিলের ওপর রাখা কয়েকটি কাগজের পাশে শক্ত করে রাখা। কপালে গাঢ় ভাঁজ। চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে সামনের ছড়িয়ে থাকা নথি গুলোর দিকে। মাঝে মাঝে কলমের নিব কাগজের উপরে ছুটে যাচ্ছে। আবার হঠাৎ করে হাতটা থেমে যাচ্ছে তার।
কোন হিসাব মিলছে না তার। রুশভিয়ান সামান্য ঝুঁকে কাগজটা আবারো পড়লো। তারপর ভ্রুকুচকে খুব ধীরে বলল,” এটা সম্ভব না ” গম্ভীর স্বরে কথাটা বলার সাথে সাথে কাগজটা ছুড়ে ফেলল টেবিলের উপরে। তার আঙ্গুলের ডগা গুলো টেবিলে ধীরে ধীরে টোকা দিতে লাগলো। চোখের সামনে শুধু হিসাবের কাগজ নয়, তার এতদিনের সব পরিশ্রম এগুলো। মাথার ভেতর তার নানা ধরনের চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে তার। তিয়াসা রহমান এই স*ম*স্যা*র মুল হোতা।
নামটা মনে পড়তেই রুশভিয়ান পকেট থেকে তাড়াতাড়ি করে ফোন বের করতেই একটা মেসেজ এলো তার মোবাইলে।
রুশভিয়ান সাথে সাথে ফোনটা আ*ছ*রে ফেলল মেঝেতে। পুরো ড্রয়িংরুমটা জোরে কেঁপে উঠলো। এমন সময় ছুটতে ছুটতে এলো আলী সাথে আমির। দুজনের মুখে উৎকন্ঠার ছাপ। হাঁপাতে হাঁপাতে এসে দরজার কাছে থেমে গেল৷। কিন্তু রুশভিয়ানের দিকে চোখ পড়তেই দুজনের পা আটকে গেল মেঝের সাথে। কারন তারা জানে রুশভিয়ানের রা*গ ভ*য়ং*ক*র। তবে আজকের মুখটা ক*ঠি*ন না। তারচেয়ে ও ভ*য়ং*কা*র কিছু জমাট বেঁধে আছে।
রুশভিয়ান ধীরে ধীরে মাথা তুললো। কপালে গাঢ় ভাঁজ আরও গভীর হয়ে আছে। চোখ দুটো স্থির। চোয়ালের পেশি শক্ত হয়ে আছে তার। কয়েক মুহূর্ত আগে ও যে হাত কাগজের ওপর হিসাব মিলাচ্ছিল।, সে হাতের আঙ্গুল গুলো শক্ত মুঠো হয়ে আছে।
আলী শুকনো ঢোক গিলে সাবধানে এগিয়ে এসে বলল,” স্যার… কথাটা বলতে গিয়ে আলীর হৃদযন্ত্র থেমে যাওয়ার জোগার। রুশভিয়ান কোন উত্তর দিল না।সে পিছন ফিরে আলীর দিকে তাকালো। আলী ভনিতা ছাড়াই হরহর করে বলল,” স্যার ডেভিড রত্নকুঞ্জ আইবো একদিন পর, হের নাকি আরো মা*ই*য়া লাগবো?
রুশভিয়ান কিছু বলল না। সে ধীরে ধীরে নিচু হয়ে মেঝে থেকে ফোনটা তুলে নেয়। স্কিনের কয়েক জায়গা ফেটে গিয়েছে তবুও মেসেজ টা স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে । সে আবার মেসেজটির দিকে তাকালো। একবার, দুবার, তারপর ঠোঁট শক্ত করে বলল,” মা*ই*য়া এখন কই পাইবো, তাকে আসতে বারন কইরা দাও আলী?
আলী ভেতরটা আবারো মাঘ মাসের ঠান্ডার মতো কেঁ*পে উঠলো। সে আমতা আমতা করে কিছু বলার আগেই আমির এগিয়ে এসে বলল,” ভাই ডেভিড ঢাকায় আছে??
রুশভিয়ান ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আমির দিকে তাকালো। চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে তার, সে স্ফু*লি*ঙ্গে*র ন্যায় বলল,” ফোন কইরা আসতে বারণ কর!
এরইমধ্যে রুশভিয়ানের ভাঙা ফোনটা কর্কশ শব্দ করে বেজে উঠলো। আমির আর আলী দুজনেই হকচকিয়ে গেল ফোনের বি*ক*ট শব্দে। দুজনের দৃষ্টি গেল ভাঙা ফোনের দিকে। রুশভিয়ান ফোনের দিকে তাকাতেই দেখলো ফোনে লেখা আছে হাবিব। সময় ব্যয় না করেই ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে হাবিব তাড়াহুড়ো করে বলল,” স্যার তিয়াসা ম্যাডাম সব প্রমান একজায়গায় করে আপনার বিরুদ্ধে মা*ম*লা করতে যাবে বলছে , আপনি তাড়াতাড়ি করে ঢাকায় আসুন।
হাবিবের শেষ কথাটা কানে যেতেই রুশভিয়ান কিছুক্ষন নিরব থাকলো,উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। ভাঙা ফোনটা তখন ও তার কানের কাছে ধরা। ওপাশের কন্ঠ থেমে গিয়েছে, অথচ রুশভিয়ানের চোখের দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে ড্রয়িরুমের বিশাল জানালার বাইরে।
সকালের আলো ততক্ষণে আর ও উজ্জল হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া বাগানের পাতা গুলো রোদের প্রথম স্পর্শ চকচক করছে। সেই আলো গুলোতে রুশভিয়ানের কোন ভ্রু ক্ষেপ নেই তার কানের কাছে হাসিবের কথাগুলো বাজচ্ছে তিয়াসা মা*ম*লা করেছে। তার থেকে ও বড় কথা ডেভিড এই রত্নকুঞ্জে আসবে একদিন পর।
রুশভিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। ডেভিড তার অপরিচিত কেউ না। বহুদিনের পরিচয়,বহুবার দুজনের নানা ধরনের কাজ করেছে। অসংখ্য গো*প*ন লেনদেনের সাক্ষী তারা দুজন। রুশভিয়ান জানে ডেভিড হাসিমুখে এমন কাজ করতে পারে, যেগুলোর কথা প্রকাশ্য উচ্চারন করা ও যায় না। তবুও লোকটাকে রুশভিয়ানের শ*ত্রু মনে হয়নি কিন্তু আজকে সব কেমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। একদিকে তিয়াসার ষ*ড়*য*ন্ত্র আরেকদিকে ডেভিডের আগমন তাকে বে*চা*ই*ন করে তুললো।
রুশভিয়ান ধীরে ধীরে কান থেকে ফোনটা নামিয়ে আনলো। তার চোখে ফুটে উঠলো অদ্ভুত এক দ্বি*ধা। যেন নিজের কাছে প্রশ্ন করছে ডেভিডকে সে কতটা বিশ্বাস করতে পারে। পরক্ষণেই তার দৃষ্টি উপরে সিঁড়ির দিকে চলে গেল। উপরের তলায় ইনান আছে। মেয়েটা এখনো অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। রুশভিয়ানের বুকের ভেতর অচেনা এক অস্বস্তি জমাট বাঁধলো। সে ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যেতেই পায়ের গতি শ্লথ হয়ে গেল তার। ডেভিড আর তিয়াসা ইনানের কোন ক্ষ*তি করার জন্য আসছে না তো। তিয়াসা তো তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে সে রোষানলে ইনানের ক্ষ*তি করতে চাই ” নিজের মনে প্রশ্নটা করতেই রুশভিয়ান কপালে গাঢ় ভাঁজ পড়লো। পরবর্তীতে মনে হলো হয়তো ব্যবসায়িক লেনদেন করতে আসছে ডেভিড তিয়াসার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তবুও রুশভিয়ান নিজের যুক্তি নিজের কাছে ঘোলাটে লাগলো।
মাথার ভেতর তীব্র চা*প সৃষ্টি হলো তার। এখন তিয়াসাকে আটকাতে যাবে নাকি ডেভিড কে মেয়ে খুঁজে দেবে। রুশভিয়ান কপালে দুই আঙ্গুল দিয়ে ঘষা দিয়ে আমির দিকে
তাকিয়ে বলল,” তাড়াতাড়ি কইরা গাড়ি বাইর কর? এক্ষুনি আমি ঢাকা যামু? বলেই উপরে এক চলে গেল একহাতে লুঙ্গিটাকে ধরে।
আমির তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে এগিয়ে গেল গাড়ি বের করতে। আর আলী নিশ্চুপ হয়ে একজায়গায় দাঁড়িয়ে গালে হাত দিয়ে চিন্তায় বিভোর হলো। ডেভিড কে মেয়ে না দিলে দ*ক্ষ*য*জ্ঞ বাঁধবো আর স্যার যাবে তিয়াসাকে আটকাতে।
রুশভিয়ান ঘরে প্রবেশ করতেই দেখতে পেল ইনান কোলবালিশে একপা উঠিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছে। সাদা শার্টটা উরুর উপর থেকে কিছুটা সরে গিয়ে ফর্সা উ*রু দৃশ্যমান হয়ে আছে সাথে শার্ট সরে গিয়ে উ*ন্মু*ক্ত হয়ে আছে ব*ক্ষ*বি*ভা*জ*ন। পুরো আ*বে*দ*ন*ম*য়ী হয়ে ইনান বিছানায় পড়ে আছে। রুশভিয়ান ইনানকে এই অবস্থা দেখে খানিকটা বি*চলিত হয়ে গেল, আনমনেই শুকনো ঢোক গিলে ইনানকে না দেখার ভান করে এগিয়ে গেল আলমারীর দিকে এগিয়ে গেলে ও মন ধ্যান পড়ে থাকলো ইনানের পানে। রুশভিয়ান আলমারী খুলতেই তার সামনে শার্ট প্যান্টের বদলে দৃশ্যমান হলো ইনানের উ*ন্মু*ক্ত ব*ক্ষ*বি*ভা*জ*ন। তাল হারালো রুশভিয়ান আচানাক চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল তার। মনোমুগ্ধকর নয়নে সেদিকে তাকিয়ে থেকে এক হাত বাড়িয়ে ছুঁতে যাওয়ার চেষ্টা করতেই উধাও হয়ে গেল।রুশভিয়ান কপাল বেয়ে দরদর করে ঘাম বের হলো।হৃদযন্ত্র ঘোড়ার ন্যায় চলতে লাগলো । চোখ দুটো বড় বড় তাকিয়ে রইলো জামাকাপড়ের দিকে।
রুশভিয়ান চোখ বন্ধ করে বিরবির করে বলল,”এই মাইয়া আমারে শান্তি থাকবার দিবে না মনে হয় ” রুশভিয়ান কথাগুলো বলে আবারো চোখ খুলে সামনে তাকাতেই জামাকাপড় আবার উধাও হয়ে এবার ইনানের গো*লা*পি অ*ধ*র জোড়া দৃশ্যমান হয়ে আছে। রুশভিয়ান তাকাতে পারলো না ঝট করে ঘুরতেই এবার চোখ গেল ইনানের দিকে।
রুশভিয়ান কি করবে বুঝতে পারলো না।একবার ইনানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই পা থেমে গেল তাকে এইমাত্র ঢাকা যেতে হবে। কোন উপায় না পেয়ে আবারো চোখ দুটো বন্ধ করে আলমারীর দিকে ঘুরে চোখ বন্ধ অবস্থা আরেকটা ফোন বের করে ঘর থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল। সাথে দরজাটা সশব্দে লাগিয়ে দেয়। ইনান ঘুমে এতটাই কাঁদা হয়ে আছে যে তার কানে সে শব্দ টুকু পৌঁছে গেল না।
রুশভিয়ান বাইরে চোখ দুটো খুলে জোরে জোরে শ্বাস টানতে লাগলো । রুশভিয়ান মোবাইল টাকে শক্ত করে চেপে এগিয়ে গেল নিচের দিকে।
আলী তখনোও চিন্তিত অবস্থা দাঁড়িয়ে আছে সে। এমন সময় কারো পায়ের শব্দ পেয়ে মাথা তুলে উপরে তাকাতেই দেখলো রুশভিয়ান এগিয়ে আসছে তার দিকে। আলী ভয়ে তটস্থ হয়ে রইলো। ভালো করে রুশভিয়ানের দিকে তাকাতেই আলী ভ্রু জোড়া কুচকে গেল। স্যারকে আগের থেকে অনেক চিন্তিত লাগছে এখন। আলী সাহস করে এগিয়ে এসে কিছু বলতে যেতেই রুশভিয়ান তাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল রান্নাঘরের দিকে গটগট করে। আলী বোকা বনে দাঁড়িয়ে রইলো একজায়গায়।
রুশভিয়ান রান্নাঘরে ঢুকেই থমকে দাঁড়াল। এতক্ষন ধরে বুকের ভেতর জমে থাকা অ*স্থি*র*তা*টা যেন হঠাৎ আরো তীব্র হয়ে উঠলো। চোখের সামনে ইনানের অ*ঙ্গ গুলো ভেসে বেড়াতে লাগলো। রুশভিয়ান চোখ দুটো আরো অ*স্থির হয়ে উঠলো। সে চোখ ঘুরিয়ে কিছু একটা খুঁজতে লাগলো। কি যেন খুঁজছে সে, অথচ নিজের মনেই ঠিক করতে পারলো না, কি প্রয়োজন তার। কাউন্টারের কাছে গিয়ে একের পর এক ড্রয়ার খুলতে লাগলো। প্রথম ড্রয়ারে কিছু না পেয়ে সেটি বিরক্তির সঙ্গে বন্ধ করে দ্বিতীয় টিতে হাত দিলো। কাচের জিনিসপত্রের হালকা শব্দে নীরব রান্নাঘর কেঁপে উঠলো। একটা তাক খুলে আবারো বন্ধ করলো। তারপর অন্যপাশে গিয়ে আলমারীর দরজা টেনে খুলে ভেতরের জিনিসগুলো একনজর দেখে আবার অস্থির হাতে সরাতে লাগলো।
তার কপালে ভাঁজ ক্রমশ গভীর হচ্ছে। কয়েকবার নিজের চুলের মধ্যে হাত চালিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। হঠাৎ একটা ড্রয়ার খুলে রুশভিয়ান কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলো। সে এতক্ষণে কাঙ্ক্ষিত জিনিস টা পেয়েছে। সে ড্রয়ার থেকে বের করলো মরিচের গুড়া। মরিচের গুড়া দেখে রুশভিয়ানের ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটলো। পাশ থেকে ফ্রিজ খুলে বের করলে এক বোতল ঠান্ডা পানি, পানিতে প্রায় অনেকখানি মরিচের গুড়া মিশিয়ে হালকা ঝাঁকিয়ে বিরবির করে বলল,” এবার আমি শান্তি পাবে, তুই আমাকে আর জ্বালাতন করতে পারবি না বা*ন্দি*র বাচ্চা ” কথাটুকু শেষ করেই বোতলে মু*খ ঠেকিয়ে এক চু*মু*কে মরিচের গুড়া মেশানে পানি গিলতে লাগলো অনায়াসে।
আলী বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে রুশভিয়ানের দিকে। একজন জলজ্যান্ত মানুষ কি করে মরিচের গুড়ো মেশানো পানি খেতে পারে তার জানা ছিলো না। আজকে সেটাও দেখে নিলো।
রান্নাঘরের জিনিসপত্রের আওয়াজ শুনে আলী ড্রয়িংরুমে ছুটে এসে দেখলো রুশভিয়ান রান্নাঘরের সবকিছু এলোমেলো করতে ব্যাস্ত। আলী ভাবলো এগিয়ে যাবে কিন্তু যাওয়ার আগেই মরিচ গুলানো পানি খেতে দেখে তার হৃদয় থ*ম*কে গেল।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১৮
রুশভিয়ান পানির বোতল মুখ থেকে সরিয়ে আনতেই ঝট করে খসে পড়লো। হাত দিয়ে কানদুটো শক্ত করে চেপে ধরলো। মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো ভ*য়ং*ক*র আ*র্ত*না*দ। রুশভিয়ানের ঠোঁট দুটো লাল টকটকে হয়ে গেছে, চোখ গুলো এতটাই লাল বর্ন ধারন করেছে যেন র*ক্ত ঝরবে চোখ দিয়ে। রুশভিয়ানের লাল টকটকে ঠোঁ*টে বাঁ*কা হাসি ফুটে উঠলো। চোখের সামনে আর ইনান কে দেখতে পাওয়া যায় না। সে সফল হয়েছে, তাকে মস্তিষ্ক থেকে সরিয়ে। রুশভিয়ান অস্ফুটে স্বরে বলল, ” যতটা ঝাল আমি খেলাম রাতে এর থেইকা দ্বিগুন ক*ষ্ট দিয়া তোরে আমার করমু… কথাটুকু বলেই গটগট করে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল
